কী লিখি কেন লিখি দীপশিখা পোদ্দার

কী লিখি কেন লিখি 

দীপশিখা পোদ্দার


কী লিখি কেন লিখি 

দীপশিখা পোদ্দার 

কিছুই লিখি না। মানে এখনও পর্যন্ত কিছুই লিখে উঠতে পারিনি। এটা খুবই সত্যি এবং খুব সচেতনভাবেই আমার মনে হয় যে এ পর্যন্ত স্মরণযোগ্য একটি লাইনও আমি লিখে উঠতে পারিনি। কখনও পারবো কিনা তাও জানিনা।
             প্রশ্ন উঠতেই পারে তাহলে নতুন লেখার কাছে যাই কী করে! আর কেনই বা যাই। এ বেশ জটিল একটা প্রশ্ন। এ প্রশ্নের কাছে আমি একেবারে মুখ থুবড়ে পড়ি। উত্তর হাতরাই। খুঁজি। মনে হয় একটু চেষ্টা করলেই এ বিষয়ে অনেক কিছু বলতে পারবো। কিন্তু লিখতে বসলেই কথা হারিয়ে যায়। কেন যে লিখি, কেন যে লেখা আমাকে টেনে নিয়ে তার কাছে বসায় ! মাঝে মাঝে মনে হয় অনেক কিছু শেখার আছে। অনেক অনেক কিছু। বুকের ভেতরে হাজারটা লেখার উপাদান গজগজ করে। নানান শব্দ, নানান বাক্যের তোড়জোড় শুরু হয়ে যায় ভেতরে। আসলে আমি ভে দেখেছি , আমরা যারা কলমচর্চা করি, কলমচি--- তারা এই কলমটাকেই কাজে লাগাই জীবনের বা সমাজের বিভিন্ন অনুকূল বা প্রতিকূলতার পক্ষে বা বিপক্ষে। কেননা আমরা তো আর কিছু পারি না। কেউ যদি অপমান করে, কেউ যদি ভালোবাসে বা কেউ যদি জীবনকে শূন্যতায় ডুবিয়ে দিয়ে চলে যায় ---- সেই কষ্ট বা আনন্দের পুরো চাপটাই গিয়ে পড়ে লেখার ওপরে। ব্লটিং পেপারের মতো আমার ভেতরের সব ভার তখন শুষে নেয় আমার লেখা। আমি নির্ভার হয়ে উঠি। 
একজন লেখকের চোখ চলে যায় সমাজের কত শত ঘটনা তথা সামাজিক ন্যায়নীতি বিধিনিষেধের ওপর। মন বিদ্রোহ করে ওঠে। মনে হয় চাবুক চালিয়ে দিই। মনে হয় ভেঙে চুরমার করে দিই মনুষ্যত্বকে হত্যা করা যত বিধিনিষেধ। মনে হয় আগুন জ্বালিয়ে দিই মানুষের তৈরি করা ভন্ডামির সব আটচালায়। কিন্তু একজন লেখকের হাতে তো কোনও অস্ত্র থাকে না, ছুরি কাঁচি বারুদ বন্দুক কিচ্ছু চালাতে জানে না সে। সে জানে শুধু কলম চালাতে। সে তাই চালায়। সে যুদ্ধ করে কলমে। সে ভালোবাসা জানায় কলমে। ঘৃণা, প্রতিবাদ, মারের বদলা মার সবই সে উগড়ে দেয় তার নিজস্ব কলমে। কলম দিয়ে সে মারে, কলম দিয়ে সে ভেঙে খানখান করে দেয় অসাম্য আর বিভেদের প্রাচীর। কলম দিয়েই সে তৈরি করে মানুষের সুস্থ সুন্দর চেতনা।
আমিও তো একজন লেখক। সামান্য লেখক। আমার হৃদয়ের কথাও আমি ব্যক্ত করি আমার কলমে। আমার জীবনদর্শন, আমার মতাদর্শ, সমাজ সংসারকে বলতে চাওয়া আমার বক্তব্য --- সবই পৌঁছে দেয় আমার কলম। 

না, কলম মানে কিন্তু নিছকই একটা পেন নয়। কলম মানে একজন লেখকের সত্তা। তাঁর জীবনদর্শন। তাঁর আদর্শ। তাঁর চেতনা। কলম মানে মনুষ্যত্ব। শুভবোধ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

9 মন্তব্যসমূহ

  1. লেখকসত্তা একদিক দিয়ে যেমন ব্যক্তি নিরপেক্ষ তেমনি অন্যদিকে ব্যক্তিকে অস্বীকার করে লেখকের আইডেনটিটি অর্থহীন ৷ তবে একটা কথা এখন মনে হয় ব্যক্তি নিজে যাতে শান্তি পায় তার সেটাই করা উচিত ৷ সেখানে রসগোল্লা খাওয়া আর কবিতা লেখা সমান ৷ আমার ভেতরে লেখা নেই কিন্তু নিজেকে সার্কিটে ভাসিয়ে রাখার জন্য বাধ্য হয়ে লিখতে হবে এটা নিজেকে ঠকানো বলে মনে করি ৷ তা তুমি পারবে বলে আমার মনে হয় না ৷ যখন মনে হবে লিখে নিজে সন্তুষ্ট নই তখন জোর করে লেখার মত নোংরা কাজ করব না ৷ আশাকরি তুমিও এটা স্বীকার করবে ৷ আমার পাঠক চায়—— এ জাতীয় ন্যাকামোকে আমি ঘৃৃৃৃৃণা করি ৷

    উত্তরমুছুন
  2. লেখকসত্তা একদিক দিয়ে যেমন ব্যক্তি নিরপেক্ষ তেমনি অন্যদিকে ব্যক্তিকে অস্বীকার করে লেখকের আইডেনটিটি অর্থহীন ৷ তবে একটা কথা এখন মনে হয় ব্যক্তি নিজে যাতে শান্তি পায় তার সেটাই করা উচিত ৷ সেখানে রসগোল্লা খাওয়া আর কবিতা লেখা সমান ৷ আমার ভেতরে লেখা নেই কিন্তু নিজেকে সার্কিটে ভাসিয়ে রাখার জন্য বাধ্য হয়ে লিখতে হবে এটা নিজেকে ঠকানো বলে মনে করি ৷ তা তুমি পারবে বলে আমার মনে হয় না ৷ যখন মনে হবে লিখে নিজে সন্তুষ্ট নই তখন জোর করে লেখার মত নোংরা কাজ করব না ৷ আশাকরি তুমিও এটা স্বীকার করবে ৷ আমার পাঠক চায়—— এ জাতীয় ন্যাকামোকে আমি ঘৃৃৃৃৃণা করি ৷

    উত্তরমুছুন
  3. আপনার বক্তব্য অত‍্যন্ত কম কথায় সাবলীলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। একজন লেখকের কাছে কলমই হলো হাতিয়ার (যদিও বৈদ‍্যুতিন মাধ্যমে কলমের চল নেই তবু এখানে কলম আলম্বন বা মাধ্যম হিসেবে ব‍্যবহৃত হয়েছে) যাকে অবলম্বন করে নিজেকে তুলে ধরতে পারেন স্বাধীনভাবে। ছোট পরিসরে চিহ্নিত বক্তব্য সুন্দর ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। ধন্যবাদ লেখিকা দীপশিখা পোদ্দারকে।

    উত্তরমুছুন
  4. আপনার বক্তব্য অত‍্যন্ত কম কথায় সাবলীলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। একজন লেখকের কাছে কলমই হলো হাতিয়ার (যদিও বৈদ‍্যুতিন মাধ্যমে কলমের চল নেই তবু এখানে কলম আলম্বন বা মাধ্যম হিসেবে ব‍্যবহৃত হয়েছে) যাকে অবলম্বন করে নিজেকে তুলে ধরতে পারেন স্বাধীনভাবে। ছোট পরিসরে চিহ্নিত বক্তব্য সুন্দর ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। ধন্যবাদ লেখিকা দীপশিখা পোদ্দারকে।

    উত্তরমুছুন
  5. প্রকৃত ভালো লেখা যেমনি লেখককে তেমনি পাঠককে এক স্বচ্ছ আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়, যতক্ষণ না সেটা ঘটছে ততক্ষণ কোন লেখা সার্থক হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। আপনার লেখা বরাবরই সেই মাত্রা পূরণ করে চলেছে। যখনই পড়ার সুযোগ হয়েছে পড়ার পর মনে হয়েছে আমি যে বিন্দুতে দাঁড়িয়ে ছিলাম সেখান থেকে সত্যের দিকে একপা এগিয়ে গেলাম।

    উত্তরমুছুন
  6. দীপশিখা-দির যে কোন লেখাই আমি একনি:শ্বাসে পড়ে ফেলি। অপমানের জবাব দিতে, ভালোবাসার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে, অন্যায় বৈষম্য এর প্রতিবাদে কলম চালনাই কলমচির একমাত্র ভরসা ,এমনকি মারের বদলা মার দিতেও এ কলম দ্বিতীয় বার ভাবে না। তাই দীপশিখা-দির কলম এ অভাজনের খুব প্রিয়। আর লিখনশৈলী র তো তুলনা নেই। সহজ কথায় গভীর ও সংববেদশীল সদর্থক মূল্যবোধের আকর তাঁর লেখা।

    উত্তরমুছুন
  7. দীপশিখা-দির যে কোন লেখাই আমি একনি:শ্বাসে পড়ে ফেলি। অপমানের জবাব দিতে, ভালোবাসার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে, অন্যায় বৈষম্য এর প্রতিবাদে কলম চালনাই কলমচির একমাত্র ভরসা ,এমনকি মারের বদলা মার দিতেও এ কলম দ্বিতীয় বার ভাবে না। তাই দীপশিখা-দির কলম এ অভাজনের খুব প্রিয়। আর লিখনশৈলী র তো তুলনা নেই। সহজ কথায় গভীর ও সংববেদশীল সদর্থক মূল্যবোধের আকর তাঁর লেখা।

    উত্তরমুছুন
  8. লেখালেখি একটি আত্মপ্রকাশের বারান্দা। লেখা সভ্যতার একটি এমন বিকাশ যা ভাষাকেন্দ্রিক ; একটি চলমান ভেহিকেল। মানুষের বেঁচে থাকা একটি ব্যাপক লড়াই। সেখানে যুদ্ধ থাকে, জয়-পরাজয় থাকে। থাকে ভালবাসা, অপমান, লাঞ্চহনা এমনি নানাকিছু। মানুষ তার ক্ষোভ-বিক্ষোভকে প্রকাশ করতে চায়। এটা স্বাভাবিক লক্ষণ। ভাষা আসার পর থেকে মানুষ ধীরেধীরে কলম তুলে নিল হাতে। তারপর সভ্যতার সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে লেখালেখি এখন ক্রিয়েটিভ সাবজেক্ট। অর্থাৎ প্রতিটি মানুষই এক একটি বই। দীর্ঘদিন আগেই শেক্সপিয়ার এইকথা বলে গেছেন।এখন যিনি কলম ধরতে জানেন, তিনি লিখবেন। লিখতে তাকে হবেই।তার মন তাকে দিয়ে লিখিয়ে নেয়,নেবে।
    সভ্যতার এইসময়ে লেখা এখন একটা এক্সক্লুসিভ ম্যাটার। এখন সারাবিশ্বেই কবি /লেখক/ লেখিকারা একটি আলাদা সম্মান পান সমাজে।এদের বলা হয় বুদ্ধিজীবি। এখান থেকেই পথ গেল ঘুরে। অর্থাৎ জনপ্রিয়তা ও পাঠকপ্রিয়তার মধ্যে একটা অদৃশ্য দেয়াল দাঁড়িয়ে গেল।পৃথিবীর বহু কবি বা লেখক রয়েছেন যারা জনপ্রিয় হননি কিন্তু পাঠকপ্রিয়। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি কবি শ্রীজাতকে সাধারণ মানুষও চেনেন কিন্তু তার দু-একটি লাইন ছাড়া কিছুই বলতে পারেন না। কিন্তু পাঠকপ্রিয়তা এক অনন্য সম্মান স্বীকার করতেই হবে। এটাও ঠিক জনপ্রিয়তা অনেকটাই নির্ভর করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের উপর। আগে যেমন রাজদরবারে কবিরা সম্মান পেতেন।
    এবার, আপনার কথা বলি। আপনি একজন সাহিত্যপ্রেমিক, সাহিত্যসেবিকা। দীর্ঘজীবন লেখালেখিতে যুক্ত। আপনাকে বাংলা পাঠক চেনেন, জানেন। আপনি আপনার কলমকে স্বাধীন রাখুন। আনন্দে লিখুন।বিষাদে লিখুন। আপনার লেখা আপনাকে সমৃদ্ধ করুক ; আমরাও প্রীত হই। আপনার কলমে উঠে আসুক আপনার মন, মনসুখ, মনবেদনা। আমরাও জড়িয়ে আছি,আরো আরো জড়িয়ে থাকি আপনার লেখার সাথে, আপনার সৃষ্টির সাথে।

    উত্তরমুছুন