কবি বিপ্লব উরাং
মুখোমুখি
কবি গোবিন্দ ধর
কবি বিপ্লব উরাং
মুখোমুখি
কবি গোবিন্দ ধর
ত্রিপুরা রাজ্যে ছিলোমিলো ভাষা বিকাশে সম্প্রতি আপসহীন সংগ্রামীচেতনায় এক ঝড়ের নাম বিপ্লব উরাং। আমরা এই রাজ্যের সাহিত্য মহলে টনিদা নামে একবাক্যে যাকে জানি চিনি তিনিই বিপ্লব উরাং। টনিদা মানে টনিলাল পাঁড়ে।তাঁর স্বপ্ন চা শ্রমিকসহ হিন্দুস্থানী সমাজের বিকাশ।ছিলোমিলো ভাষার প্রসার।নতুন সমাজ গঠনে নিজেকে নিয়োজিত করে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
ত্রিপুরার প্রকাশনা ও লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনেও তাঁর স্বাক্ষর রেখেছেন।
ঝুমুর সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ ১৯৮৭ ও উত্তরবার্তা সাহিত্য সাময়িকী ১৯৮৪।
জন্ম ঈশানপুরে।পূর্ব পুরুষকে আনা হয়েছিল বিহারের হাজারীবাঘ জেলা থেকে ত্রিপুরার চা বাগানে কাজ করার জন্য। আসেন মা- বাবাও সঙ্গে এক ভাই দুই বোন।জীবন সঙ্গিনী,দুই মেয়ে,এক ছেলেসহ।
(১)আপনার পরিচয় দিন
জন্ম --1961 12ফেব্রুয়ারী।সদর মহকুমারের(বর্তমান
মোহনপুর মহকুমা কমিট)ঈশানপুর গ্রামে।বাবা প্রয়াত
মদন পাঁড়ে।মা প্রয়াত মালতি পাঁড়ে।বন্ধু কথা সাহিত্যিক জয়া গোয়ালা প্রয়াত।দুই মেয়ে রেশমা,রোশনী।এক ছেলে
উত্তরণ।
সরকারী কাগজ পত্রে নাম টনিলাল পাঁড়ে।বিপ্লব
উরাং নামে লেখালেখি করছি।
(২)আপনি তো ত্রিপুরা পুলিশের একজন কর্মচারী ছিলেন?
2
হ্যাঁ,1981তে পুলিশ দপ্তররে যোগদান।2021 এর ফেব্রুয়ারি মাসে অবসর।
(৩)সাহিত্যের প্রতি আপনার ভালোবাসার প্রতি আমরা অবগত ছিলাম।কিন্তু চর্চার কথা তেমন জানতাম না।কখন থেকে আপনি সাহিত্যচর্চায় আসলেন?
3
দেখুন সাহিত্য চর্চা বলতে কি শুধু লেখালেখিকে বুঝায় কি?এবং এটা কি ধারাবাহিকতা থাকবে?যদি এইটা হয়ে থাকে তবে আমার সাহিত্য চর্চা 2019 থেকে হবে।না হলে আশির দশক থেকে হবে।কেন না আমি আশির দশক থেকই কম বেশ লেখা পড়ার সঙ্গে যুক্ত।বিভীন্ন পত্র পত্রিকায় বিশেষ বিশেষ বিষয়ের উপর আমার লেখা বেরি
য়েছে।
(৪)ঝুমুর সাহিত্য সংস্থা কিংবা লিটল ম্যাগাজিন কবে থেকে শুরু করেন?
4
ঝুমুর সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ 1987 ও উত্তরবার্তা সাহিত্য
সাময়িকী 1984।
(৫)তারপর ঝুমুর তো প্রকাশনায় এলো।এ যাবৎ কি কি বই প্রকাশিত হয়েছে ঝুমুর থেকে?
5
ঝুমুর প্রকাশন থেকে 4(চার)টি বই প্রকাশ হয়েছে।কথা
সাহিত্যিক জয়া গোয়ালার---বাবু সাহিবদের বলছি।
বুধুদাস পানিকা--র---আর কত সইব জ্বালা।বুধুদাস স্মরণ
সংখ্যা।বিপ্লব উরাং এর --এক বিঘত জমিন।
(৬)সম্প্রতি আবার উত্তরবার্তা আপনি সম্পাদনা করছেন।কেন আবার লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনেই এলেন?
6
প্রথম লিটন ম্যাগ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।1984
সনে আমরা উত্তরবার্তা সাহিত্য সাময়িকী বের করি।তিন
বছর পর 1987 সনে দ্বিতীয় সংখ্যা বের করি।তারপর দীর্ঘ
34 বছর তৃতীয় সংখ্যা 2021সনে বের করি।বিভীন্ন
অসুবিধার জন্য বের করতেপারিনি।যুক্ত থাকলেও
ধারাবাহিকতা ছিল না।আবার নতুন করে যুক্ত হললাম।
তার কারন বিশেষ করে আমরা নতুন লেখকদের প্রাধন্য দেই।তাছাড়া আপনি জানেন আমরা ছিলোমিলো ভাষার
উপর গুরুত্ব দিচ্ছি লক্ষ করছি ছিলোমিলো ভাষার উপর
নতুন প্রজন্মের চা শ্রমিকের ছেলমেয়েরা লেখালেখি
করছেন তাঁদেরকে উৎসাহিত করার জন্যই আবার এই আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছি।সেই ক্ষেত্রে অষ্টম উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয়
লিটন ম্যাগাজিন সম্মেল অনুঘটকের কাজ করেছে।
(৭)উত্তরবার্তা কখন প্রথম প্রকাশ হয়?
7
1984সনে।
(৮)আপনি একজন সফল স্বামী।সফল বাবা।সফলতার উৎস কোথায়?
8
সফল কিনা বলতে পারব না।তবে চেষ্টা করে গেছি।চেষ্টা
করছি।প্রেরনা পেয়েছি মা-বাবার কাছ থেকে।দেখেছি।অভাব অনটন থাকা সত্বেও কত ধর্য নিয়ে আমাদের বড় করেছে।
(৯)কথাকার জয়া গোয়ালার সাথে আপনার প্রথম পরিচয় থেকে পরিণয় অব্দি জার্নি বলুন?
9
প্রথম দেখা আমাদের গ্রামের পাশে আমগাছিয়া বস্তিতে।
সালটা সম্ভবত 1978 হবে।মনসা পুজার গানের আসরে।বড়দিদিদের সঙ্গে গানে গলা মেলাচ্ছে।প্রথম দেখায়
ভাল লেগেছে।তিন বছর পর আবার দেখা-কথা।মনতলা
চা বাগানে(বর্তমান-নরেন্দ্রপুর চা বাগান)।জয়াদের বাড়ীতে।তারপর যাতায় বহুবার।ওর ছোটদা ছিল আমার
স্কুল সহপাঠী।DYFi এর সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে বাগানে
ঘন ঘন যাওয়া আসা করতাম।জয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা
বাড়তে লাগল।একসময় দুজনায় সিদ্ধান্ত নিলাম এক
সঙ্গে থাকার।আগরতলার বাধারঘাটের শ্রীপল্লীতে ঘর
ভাড়া করলাম।একদিন কামান চৌমহনী থেকে শাঁখা,সিঁদুর কিনে রিক্সয় বসলাম।জয়া রিক্সয় বসেই হাতে শাঁখা,কপালে সিঁদুর লাগাল।বিয়ে নয়।কোর্টে রেজিষ্টারও নয়।শুধু বলল কেমন লাগল।বললাম-খুব সুন্দদর।হাসল।
সামাজিক বৈধতারজন্য এইটা করতে হল।
(১০)জয়াদির কাজগুলো আপনি যত্ন করে রাখতেন।কথাসাহিত্যিক জয়া গোয়ালার সাহিত্যকে এত ভালোবাসতেন কেন?
10
দারুন প্রশ্ন।এতটা ভাল বাসতাম কেন?আপনি কি করে
জানলেন এতটা ভালবাসতাম।হ্যাঁ বাসতাম।কারন ওর লেখালেখি ভাল লাগত।ভাল লাগত একজন চা শ্রমিক
পরিবারের মেয়ে লেখালেখি করছে।এটা ভাবা যায়?কেন না তখন সারা রাজ্যে খোঁজে এক দুজন মেয়ে মাধ্যমিক পাশ করেছে বলে জানা ছিল না।সেই জায়গায় একটি মেয়ে
লেখা লেখি করছে স্বাভাবিক ভাবেই ভাল বাসতেই হয়।তা ছাড়া তার প্রতিভা আমাকে মুগ্ধ করেছিল।
(১১)জয়াদির গল্প উপন্যাস কিংবা কবিতা সংকলনগুলোর নাম বলুন?
11
গল্প সংকলন
1 সনিয়া(ত্রিপুরা দর্পণ)1998
2ছড়া জলের ছবি(সৈকত)2001
3গল্পগুচ্ছ(রাজ্য উপকরণ কেন্দ্র )2001
নভেলেট
পারবতীয়া(একলব্য)1998
উপন্যাস1.অন্যমানুষ ভিন্ন রঙ((অক্ষর)2003(দেয়াল ও তবূও
মাদল বাজে)
2 মুর্গাঝুঁটির লাল ধুল(একুশ শতক)2010
কবিতা সংকলন
বাবুসাহিবদের বলছি(ঝুমুর পুকাশনী)2003
রচনা সমগ্র
জয়া গোয়ালার রচনা সমগ্র(মুখাবয়ব)2019
(১২)বুধুদাস পাণিকার সাথে আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কি?
12
বুধুদাস পানিকা আমার দাদা,বন্ধু,সহযোদ্ধা।
(১৩)বুধুদাস পাণিকার জীবন ও সাহিত্যচর্চা নিয়ে আলোকপাত করবেন?
13
বুধুদাস পানিকা--র জন্ম কালাছড়া চাবাগানে।1930
সনে।পিতা দুকালো পানিকা।তিন ভাই দুইবোন।এক ছেলে
এক মেয়ে।বর্তমানে নাতি নাতনিও আছে।ছিলেন চা শ্রমিক,ঘরকামলাদিনমজুর ইটভাটার শ্রমিক।রাবার বাগানের পাহাড়াদার।এক সময়ে মালিকের দালালীও
করেছে।বৈচিত্রে ভরা জীবন।তাই লেখাতেও ফোটে ওঠেছে
বৈচিত্র পুর্নভাবনা।তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে---ঝুমুর
প্রকাশনী র --আর কত সইব জ্বালা।নবচন্দনা প্রকাশনার
--সহে না লো ঝিঙ্গা ফুল।হারাকিরী প্রকাশনার--বুধুদাস
পানিকা--র কবিতা।গানের ক্যাসেট বের করেছেন গনসংগীত শিল্পী সমীর ধর---'ডর ক্যানে অন্তরে'।বুধুদার
গান কবিতার সংখ্যা ত্রিশ পঁয়ত্রিশটা হলেও তার প্রসার
সুদুর প্রসারী।মূত্যু মেঘলী বনধ চা বাগানে।1998 সনের
1(পয়লা ফেব্রুয়ারি )ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
(১৪)ত্রিপুরার চা বাগানে যাত্রা নাটক পালাগান নিয়ে শুনবো?
14
যাত্রা পালার কথা বললে- ষাট-সত্তর দশকে চা বাগান
গুলিতে চুটিয়ে যাত্রা পালা হত।আমাদের এখানে নরেন্দ্র পুর চাগান,মেঘলীবনধ,কালাছড়া
চা বাগানে দুর্গা পূজার সময় তিন চার দিন ধরে যাত্রা
গান মঞ্চস্ত হত।আগরতলা থেকে যাত্রাদল অংশ গ্রহন করত।স্হানীয় যাত্রা দলও ছিল। এমনকি চা-শ্রমিকদের
মধ্য থেকে দু একজন যাত্রা পালায় অংশ গ্রহন করত।
দু এক জনের নামও মনে পড়ছে।ভাস্কর নায়েক,ভানু তাঁতী,
সুবোধ তাঁতী,মোহন ঘাটুয়াল,ধর্ম কর্মকার।
পালা গানেরকথা বললেন---পালাগান বাগান গুলোতে
হত না তবে গ্রামে হত। নিমাই সনন্যাস,রাধার মানভন্জন,নৌকা বিলাস দেখেছি।মজা হত।এখনত
এসব ইতিহাস।ইতিহাস?
(১৫)ত্রিপুরার চা বাগানের দুর্গাপুজো কেমন ছিলো?
15
চা বাগানে দুর্গা পূজা। হ্যাঁ,বাগানে আনন্দ উৎসবের একমাত্র মাধ্যম ছিল দুর্গা পূজা। পুজার চারদিন পূজায় মেতে থাকতেন।তবে আগে পুজাটা হত বাবুদের বাংলোর সামনে।বাবুদের পরিবারের লোকজন যতটাআনন্দ উপভোগ করতেন শ্রমিকরা পেতেন না।পরবর্তী সময় বাগানের লাইন গুলোতে শ্রমিকদের ছেলে মেয়েরা চাঁদা
সংগ্রহ করে নিজেরাই পৃজা করতেন।এটা এখনও চলছে।
(১৬)ত্রিপুরার চা বাগানে টুসু পুজো?
16
টুসু পূজো।এই পূজা মকর সংক্রান্তির সময় হয়।আমাদে রাজ্যে
ঊণকোটি,উত্তর জেলার চা বাগান গুলোতে এই পূজা
হয়ে থাকে এইটা মুলত লক্ষী পূজা।এই পূজা মুলত
বাউরী,পুজহর,ঘাটুয়ালরাই করে থাকেন।যারা পশ্চিম
বাংলার পুরলিয়া অঞ্চল থেকে এসেছেন।
(১৭)ত্রিপুরার চা বাগানে করম পুজো নিয়ে বলুন?
17
করম পূজা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।
---করম মানে কাজ,কর্ম।এটাকে ভিত্তি করেই এই পূজা করা হয়। কর্মপ্রবন মানুষরা করমের উপর বিশ্বাস রেখে
এই পুজা করেন।ভাদ্র মাসের একাদশী তিথীতে এই পুজা করা হয়।করম পূজা নিয়ে লোক কাহিনী আছে।সেই দিকে
যাচ্ছি না।।এক সময় ঘটা করে এই পূজা করা হত চাবাগান
গুলোতে।সাত দিন ধরে চলত।রাত ভর চলত ঝুমুর নাচ।
ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে কালের গতিকে।আক্ষেপ হয়।
(১৮)ত্রিপুরার চা বাগানে বিয়ের গীত নিয়ে কিছু বলুন ?
18
চা বাগানে বিয়ের গীতের কথা বলছেন।দেখুন চা বাগানে
বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন যেমন সাঁওতাল,
মুন্ডা,উরাং,উরিয়া,গোয়ালা বাউরী।ওদের প্রত্যেকরই সাদী
বিয়ের নিয়ম আলাদা আলাদা।বিয়েতে সবাই গান গায়।স্নান করা,
গায়ে হলুদমাখা,বিয়ের জন্য আলাদা আলাদা গান আছে।
সাঁওতালরা বিয়ের গীতকে বাপলা সিরিঞ বলে।
(১৯)ত্রিপুরার চা বাগানে সামাজিক উৎসব অনুষ্ঠান জন্ম মৃত্যু বিয়ে আচার নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া বলুন?
1 9
বিয়ের গীত প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেছি।বাগানে বিভিন্ন
সম্প্রদায়ের বিয়ের গান নিয়েও ভিন্ন মত আছে।তেমনি জন্ম মৃত্যু সামাজিক অনুষ্ঠানে আলাদা আলাদা নিয়ম
নিতি আছে।মারা যাওয়ার পর কেউ কেউ কবর দেয়।কেউ
আগুনে দাহ করে।শ্রাদ্ধ কেউ 11দিনে করে কেউ 9দিন কেউ 10দিনেএক মাসে শ্রাদ্ধ করে আমার জানা নেই।
এর কারন হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ একমাস সময় ধরে
নিয়ম পালন করলে খাবে কি।জন্ম হলেও 9দিন11দিনে
ব্রত করে।
(২০)ত্রিপুরার চা বাগানে শ্রমজীবীদের দাবী আন্দোলনে অংশ গ্রহণ কেমন?
20
চা শ্রমিকদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে অংশ গ্রহন
সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।দেখুন ইংরেজ আমল থেকে
এখন অবধি চা শ্রমিকদের অংশ গ্রহন আশা ব্যানজক।
লড়াই করে অনেক দাবি আদায় করেছেন।মজুরী বৃদ্ধি
সহ বাগানের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করতে
গিয়ে রক্তঝড়েছে,জেল খেটেছে এমন কি মৃত্যু পর্যন্ত
হয়েছে।আক্ষেপের বিষয় ঐ সমস্ত আন্দোলনের কাহিনী
লিখিত ভাবে নেই।
(২১)ত্রিপুরার চা বাগানে মে দিবস হয়?
21
বাগানে মে দিবস 2018 থেকে বন্ধ।বি জে পি-আই পি এফ
টি জোট সরকার আসার পর বন্ধ করে দিয়ছে।এমনকি
ছুটি বন্ধ করে দিয়েছে।আগে হত ঘটা করে। ছুটি থাকত বাগানে।
(২২)ত্রিপুরার চা বাগানের ইতিহাস?
22
ত্রিপুরার চা বাগানের ইতিহাস জানতে চেয়েছেন----
ছোট্ট পরিষরে বলা কঠিন।সংক্ষিপ্ত ভাবে বলার চেষ্টা
করছি। ত্রিপুরার প্রথম চা বাগান
কৈলাশহরের হীরা ছড়া।রাজ্যে চা বাগানের সংখ্যা
56টি।এরমধ্যে কো অপারেটিভ 6টি টি ডি সি
3টি।লোক সংখ্যা15000 এর মত সরকারি তথ্যে।
সংখ্যাটি নিয়ে সন্দিহান আছি।বেশি হতে পারে।চা
বাগানের শ্রমিকদের বিহার,মধ্যপ্রদেশ,সাঁওতাল পরগনা
থেকে আনা হয়েছিল।
(২৩)'মুল্লুকে চলো' ত্রিপুরার চা শ্রমিকদের বলিদান বিষয়ে বলুন?
23
মুল্লুকে চল আন্দোলনে অংশ গ্রহন করেছে বলে জানা
নেই।তবে মুল্লুকে চল আন্দোলনের সময় কাছাড়ের
বিভিন্ন বাগান থেকে চা শ্রমিকরাত্রিপুরায় এসেছেন।
(২৪)ত্রিপুরার ছিলোমিলো ভাষার কবিতা সম্পাদনা :বিপ্লব উরাং আপনাকে বললাম নিচে লিখিত কবিদের কবিতা সংকলন করুন।
বুধদাস পাণিকা,জয়া গোয়ালা, শ্যামলকান্তি দে,মধুমিতা নাথ
,বিপ্লব উরাং, অজয় সুরেন সাঁওতাল,নান্টু উরাং,সুশীল মুণ্ডা,অনন্ত উরাং,মধুমিতা বাউরী,মামণি সাঁওতাল,শীলা সাঁওতাল।এদের নিয়ে একটু পরিচিত করবেন আবহমান বাংলাসাহিত্যে?
24
ছিলোমিলো ভাষায় কবিতা সংকলন করার পরিকল্পনা আছে।
(২৫)চা শ্রমিকের ভাষা ছিলোমিলো।জয়াদির সাহিত্যেও বাংলাভাষার সাথে এই ছিলোমিলো ভাষার মিশ্রণে এক অন্যরকম সাহিত্য পরিভাষা তৈরী হয় ত্রিপুরার সাহিত্য জগতে। বিষয়টি আপনি কি রকম দেখেন?
25
জয়া গোয়ালা ছিলোমিলো ভাষাকে তার কবিতায়,
গল্পে,উপন্যাসে ব্যাবহার করে বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ
করেছে বলে বিশিষ্ট জনেরা মন্তব্য করছেন।সেই ব্যাপারে
আমি একমত।পরবর্তী সময় এই প্রসঙ্গে আরো আলোচনা
হবে বলে আশা করি।
(২৬)এই সময়ে আপনি তো রীতিমতো ত্রিপুরার সাহিত্যে চর্চিত এক নাম।এই দীর্ঘ স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকার মূল কারণ কী জয়া গোয়ালাকেই এগিয়ে দিতে এক নিরলস সাধনা হিসেবে দেখবো? না কি অন্য কোন কারণ ছিলো এই নির্বাসনের?
26
জয়া গোয়ালাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমার সাহিত্য চর্চায় নির্বাসন,কথাটা সঙ্গে একমত হতে পারছি না।
আসলে আমি সেইভাবে লেখালেখি করব বলে ভাবিনি।প্রয়োজনের তাগিদেই এখন লেখলেখি শুরু করেছি।
(২৭)ত্রিপুরার চা শ্রমিকেরা তো মূলত সাঁওতালি?
27
না,তা ঠিক না। ত্রিপুরায় চা শ্রমিকদের মধ্যে বরং সাঁওতালি
দের সংখ্যা কম।চা বাগানে মুন্ডা,উরাং,উড়িয়া,ভুমিজ,ভীল,বাইরী,গোয়ালা,শবর
আর অনেক সম্প্রদায়ের লোকজন আছে।
(২৮)শান্তিনিকেতনের সাঁওতালদের মতোই তো তাদের উৎসব অনুষ্ঠান?
28
শান্তি নিকেতনে সাঁওতাল বিষয়ে আমার জানা নেই।
(২৯)ত্রিপুরায় চা শ্রমিকদের দাবি আন্দোলন পুজো এসব নিয়ে প্রতিবছর একটি উৎসবের আয়োজন হলে তো বিনোদন সাংস্কৃতিক আদান প্রদান হতো।এতে তো সকল অংশের মানুষের সাথে মিশে তাদের নিজস্ব জীবনকে শিক্ষা স্বাস্থ্য এবং সময়ের সাথে নিজেদেরকে অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাওয়া সহজ হতো।আপনি কী মনে করেন?
29
দাবি আন্দোলন নিয়ে উৎসব না সেমিনার,আলোচনাসভা
করা যেতে পারে।আর উৎসব-ঝুমুর উৎসব,করম উৎসব তো
আগে আমরা করেছি।তিন বছর ধরে বন্ধ।ঝুমুর সাহিত্য
সংস্কৃতি সংসদ ও তথ্যসংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে 2002
সনে দূর্গাবাড়ী চা বাগানে প্রথম ঝুমুর উৎসব অনুষ্ঠীত হয়।
এর পর প্রতি বছর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠিত হয়।
করম উৎসব স্বশাষিত জেলা পরিষদের উদ্যোগে শুরু
হয়েছিল 2005 সনে।এখন ওটাও বন্ধ।
আপনার সঙ্গেএকমত এই সমস্ত কর্মসুচীর মাধ্যমে সংস্কৃতির বিকাশ ঘটবে।
(৩০)আপনার একক বইটি ঝুমুর প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত।বইটির নাম বলুন।এ বিষয়ে বিশেষ কোন স্মৃতি?
30
ঝুমুর প্রকাশনী থেকে আমার ---এক বিঘত জমিন কবিতার বইটি প্রকাশিত হয়।2019 সনে।
বইটি প্রকাশে শুধু স্মৃতি নয়, স্মরণীয় ঘঠনাও বটে।এই বইটি প্রকাশে বিশিষ্ট কবি রাতুল দেববর্মণের সহযোগিতা
অপরিসীম।কবিতা গুলো রাতুলদাকে দেখানোর পর
উনি নিজেই অক্ষর প্রকাশনায় নিয়ে যায় এবং শুভব্রতদার
সঙ্গে কথা বলে বইটি ছাপানোর ব্যাবস্হা করে দেয়।স্মরণীয় বলছি এই কারনে বইটি প্রকাশের পর পাঠক
মহলে সমাদৃত হয়।আমার লেখার স্পৃহা বেড়ে যায়।লেখা
চলছে।
(৩১)আপনার কবি জীবনের গল্প বলুন।
31
আশির দশকে কবিতা লিখতাম মাঝে মধ্যে।1984 সনে
উত্তরবার্তা সাহিত্য সামযিকীতে প্রথম প্রকাশিত হয়।87তে
আবার উত্তরবার্তাতেই দ্বিতীয় কবিতা।তার পর ত্রিপুরা দর্পণ,ডেইলি দেশের কথায় মাঝেমধ্যে কবিতা প্রকাশিত
হয়েছে।2017 সাল থেকে আবার লিখছি।2020 সাল
থেকে ধারাবাহিক ভাবে ফেইসবুকে লিখছি।মুলত ছিলোমিলো ভাষায় লিখছি।মাঝেমধ্যে বাংলা ভাষায়ও
লিখার চেষ্টা করছি।
(৩২)আপনার জীবনের গল্প বলুন?
32
জীবনের গল্প।কথাটা ছোট কিন্তু তার ব্যাপকতা গভীর।এই
ছোট পরিসরে বলি কি ভাবে।নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম।ঘাত প্রতিঘাতে বড় হয়েছি।টানাপোরেন সংসার।মনে বড় আশা থাকলেও সব আশা পূরন হয়নি তবু যা হয়েছে কম কি।চোখে স্বপন নতুন ভোর।এই লড়াইএ অংশ গ্রহন করার
সাথী পেয়েছিলাম যাঁকে সে তার সাধ্যমত সমাজকে দিয়ে গেছে।
শোষন মুক্ত সমাজ গঠনে প্রতিকুল পরিস্থিতিতিতে কি করে এগুতে হয় সবাইকে নিয়ে তা দেখিয়েছে কলমে কাগজে।তাকে পাথেয় করে এগিয়ে
চলেছি নতুন ভোরের সন্ধানে।
(৩৩)বিশেষ কোন স্মৃতি?আক্ষেপ কিংবা মন খারাপ?
33
বিশেষ স্মৃতি।এই কথা বললে অনেক স্মৃতি ভেসে আসে।কোনটি বাদ দিয়ে কোনটি রাখব।
মনে পড়ে প্রথমেই আমার প্রিয় মানুষ লোক কবি বুধুদাস
পানিকা-র সঙ্গে স্মৃতির একটি ঘটনা ----তখন শ্রাবণ মাস।চলছে মনসা পূজা।রাত ভর মনসাগান পুঁথি পড়া।চা শ্রমিক
হিন্দুস্তানি সমাজের মানুষরা জাঁকজমজ ভাবে পালন করে।সিমনার প্রতিটি বাগানে হিন্দুস্তানি বস্তিতে আনন্দে মেতে উঠে মানুষ।রাত তখন বারটা পুথিপড়া গান চলছে
নরেন্দ্র পুর চা বাগানে।হঠাৎ করে বুধুদা বলে ওঠে ---এইখিনে নাই জমছে।চল্ বালুগাঙ।এখান থেকে 8-9
কিলোমিটার দুর।যেই কথা সেই কাজ রওনা দিলাম বুধুদা,প্রমোদ কেউট,মোহন ঘাটুয়াল।নালা ডুবা,জঙ্গল
পেরিয়ে যেতে হয়।মাঝ পথে নালায় পড়ে গেলেন বুধুদা।
টেনে তুললাম।বললাম-আর যাইতে নাই লাগবেক।ঘর চল।ধমকিয়ে উঠলেন- ঘর নাই।বালু গাঙ চল্।ভেজা শরীর
নিয়েই গানের আসরে।এমন গানপ্রেমী মানুষের স্মৃতি প্রায়ই
ভেসে ওঠে মনে।
স্মৃতি দুই --- তিন বন্ধুর কথা----কথা সাহিত্যিক জয়া গোয়ালা সাংবাদিক
সমীর ধরের সঙ্গে জয়ার রঙরেজিনী উপন্যাসের একটি অংশ
নিয়ে বাক যুদ্ধ।তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছিলাম আমাদের বাড়ীতে। যুদ্ধের ফসল সফল উপন্যাস রঙরেজিনীর গামলা।
স্মৃতি তিন---লড়াই।ঈশান পুরে স্লূইস গেইট নির্মাণের সময়
1981 সনে ম্যানাজার কতৃক একজন শ্রমিকমেয়ের উপর
অশালীন ব্যাবহারের প্রতিবাদে 10 দিন ধরে ধর্মঘট।মূখ্য
মন্ত্রী নৃপেন চক্রবর্তী এসে মিমাংসা করেন।সে দিনের একটা কথা মনের মনিকোঠায় চির স্মরণীয় হয়ে আছে।
নৃপেন চক্রবর্তী বলেছিলেন---অন্যায়ের প্রতিবাদও কর।কাজও করতে দাও।না হলেত উন্নয়ন মুলক কাজের ব্যাঘাত ঘটবে।
স্মৃতি চার---বন্ধুত্ব।ঊনচল্লিশ বছর চাকুরী জীবনে কোন দিন সহপাঠীদের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়নি।
আক্ষেপ----ছিলোমিলো ভাষা নিয়ে যে কাজটি করছি।সে
কাজটা আর আগের থেকে করলে ভাল হত।
(৩৪)আপনার জন্ম কোথায়? কোথা থেকে ত্রিপুরায় আসেন।পিতা মাতা বা পারিবারিক ইতিহাস জানবো?
34
ঈশান পুরে।পূর্ব পুরুষকে আনা হয়েছিল বিহারের হাজারী
বাঘ জেলা থেকে চা বাগানে কাজ করার জন্য।মা- বাবা।এক ভাই দুই বোন।
জীবন সঙ্গিনী,দুই মেয়ে,এক ছেলে।
(৩৫)আপনি ইদানীং দেখছি অণুগল্প চর্চাও করছেন? কেমন লাগে? কোন পরিকল্পনা আছে?
35
অনুগল্প লেখার হাত দিয়েছি।ছোট গল্পও লেখব।
কেমন লাগে?---বলব ভাল লাগে।ভবিষ্যতে ছোট গল্প
লেখার পর পরিকল্পনা আছে।
(৩৬)সবশেষে আপনার আগামী পরিকল্পনা জানবো।
36
চা শ্রমিক সহ হিন্দুস্থানী সমাজের বিকাশ।ছিলোমিলো
ভাষার প্রসার।নতুন সমাজ গঠনে নিজেকে নিয়োজিত
করা।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। দীর্ঘ সময় আমাকে দিলেন।কৃতজ্ঞতা আমার।আমি আপ্লূত আনন্দিত।
২৭:০৫:২০২১
1 মন্তব্যসমূহ
মুখোমুখি সিরিজের এ যাবৎ সবচেয়ে ভালো আলাপচারিতা।। কুর্নিশ টনি ও গোবিন্দকে
উত্তরমুছুন