সৈয়দা আঁখি হকের
মুখোমুখি
একুশে বইমেলায় এক বিকেলে
গোবিন্দ ধর
সৈয়দা আঁখি হকের মুখোমুখি একুশে বইমেলায় এক বিকেলে
গোবিন্দ ধর
সৈয়দা আঁখি হকের সাথে খুব সল্প সময়ের পরিচয় হলেও তাঁর লোকজ গবেষণা বিষয়ে অবগত হলাম।তাঁর সাধনার প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।বাংলাদেশের গন্ডি ছাড়িয়ে তিনি পরিচিত হোন বাংলা সাহিত্যের ভূগোলে, এরকমই চাই।তিনি খুব মাটির কাছের লোক।তাই লোকজ আউল বাউল ফকিরদের নিয়ে তাঁর সাধনা পাঠক হিসেবে আমাকে টানে।আমি তাঁর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি।
সম্প্রতি গত ১৬ই ফেব্রুয়ারী:২০১৯ একুশে বইমেলায় এক ঝটিকা সফরে যাই। ঢাকার বাংলা একাডেমী চত্বরে একুশে বইমেলায় আমি সঞ্জীব দে ও গোপালচন্দ্র দাসসহ উৎস প্রকাশনার স্টলে। মোস্তাফা সেলিম উৎসের কর্ণধার।আমাদের সাথে ছিলেল সিলেটের উল্লেখযোগ্য বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও গবেষক অপূর্ব শর্মা মহোদয়ও।তিনিও বাংলাদেশ ও বাঙালির আত্মশ্লাঘা বাড়াচ্ছেন সারা বাংলাসাহিত্যের আঙিনায়।
কথা বিনিময় উৎসের কাজকর্ম দেখা, পুঁথি নিয়ে মোস্তফা সেলিম ভাইয়ের কাজগুলোও প্রাণিত করে আমায়।অপূর্বদা পরিচয় করিয়ে দিলেন লোক গবেষক আঁখির সাথে।
তাঁকে জানতে আমার সে সময়ের তাৎক্ষণিক কয়েকটি প্রশ্ন ছুড়ে দিই।আঁখি মহোদয়াও ঝটপট একুশে মেলার ভিড়ে আমাকে আশ্বস্ত করেন।আমি ঋদ্ধ হই।
একুশে বইমেলায় ত্রিপুরার প্রকাশনাকে যুক্ত করার আন্তরিক প্রয়াস নেওয়ার দিকটিও তাঁর সাথে কথায় উঠে আসে।তিনিও চান ত্রিপুরার বইপত্র বাংলাদেশের বইমেলায় প্রবেশের আইনানুগ ছাড়পত্র পাক ত্রিপুরা। বই পাঠকের কাছে এ দায় তো আমাদেরই।আমাদের মেলায় তো বাংলাদেশের প্রকাশকরা আসছেন।তো আমরা একুশে বইমেলায় কেন নয়?আমরাও চাই ত্রিপুরার বই বাংলাদেশের পাঠকের কাছে পৌঁছাতে।
এবছর তাঁর চারটি বই প্রকাশিত হয়।তাঁর কাছে জানতে পারা বিষয় গুলো আমার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করলাম।আমার বিশ্বাস আঁখির কাজের সাথে পরিচিত হতে সহজ হবে।
১. আপনার কি কি বই এখন অব্ধি প্রকাশিত?
আঁখি : ২০১৭ সালে ‘শোভা প্রকাশ’ থেকে প্রকাশতি হয়েছে ১. আরকুম শাহ: জীবনর্দশন ও গীতিবিশ্ব, ২. পল্লিগীতির সুধাকণ্ঠ: রুপালি সুরের আল্পনা। ২০১৮ সালে ‘বাবুই’ থেকে এসেছে ‘ছোটদের রকীব শাহ’। বইটি পাণ্ডুলিপি পুরস্কার পেয়েছে। ২০১৯ সালে ‘অক্ষরবৃত্ত প্রকাশন’ থেকে এসেছে ‘গল্পে গানে শাহ্ আবদুল করিম’। এটিও এবার পাণ্ডুলিপি পুরস্কার পেয়েছে।
২. আপনার লেখালেখি নিয়ে কিছু বলুন।
আঁখি : লেখালেখির কথা বলতে গেলেইে আম্মার কথা বলতে হব। শিশুকালে আম্মার কণ্ঠে মরমি গান শুনতে শুনতইে মরময়িাদরে প্রেমে পড়েছি। আজীবন তাঁদের প্রেমেই ডুবে থাকতে চাই, জানতে চাই। তবে আম্মা না হলে আজ আপনওি আমার সাক্ষাতকার নিতেন না। আমার লেখালেখি শুরু থেকে শেষ সবটুকুই আম্মার জন্য।
৩. লোকসংস্কৃতির কোন দিক আপনার প্রিয়?
আঁখি: লোকসংস্কৃতির একটি অংশ লোকগান। লোকগান আমায় প্রচন্ড টানে শিশুকাল থেকেই। তাই গানই আমার প্রিয়।
৪. আপনার লোকবিষয়ক ভাবনাগুলোর সাথে পরিচয় হতে চাই।
আঁখি : লোকগান, লোকসংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্যই আমাদরে শেকড়। নাগরিক জীবনে আমরা যতই ব্যস্ত সময় কাটাই কিন্তু শেকড় অস্বিকার করতে পারি না। তাই শেকড়ে ফিরতেই হবে। কিন্তু কালের আর্বতে হারিয়ে যাচ্ছে বসছেে আমাদের লোকসংস্কৃতি, বিকৃত হচ্ছে লোকগান। জীবিকার তাগিদে মানুষ বাপ-দাদার পেশা পরিবর্তন করছে। গ্রামগুলো শহরে রুপান্তরিত হচ্ছে। এ বিষয়গুলো আমাকে পীড়া দেয়। কিন্তু পরিবর্তন আটকানোর সুযোগ নেই। তবে এখনও যেটুকু আছে আমরা চাইলে অনকেকছিু করতে পারি আগামী প্রজন্মরে জন্য। কারণ, আমার বাবা যা দেখেছেন আমি তা দেখিনি। আমি যা দেখছি আমার সন্তান তা দেখবে না। কিন্তু আমার সময়ের সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং পেক্ষাপট যদি লিখে রাখতে পারি তা বাংলা সাহিত্যে রসদ জোগাব। তাই লোকজ বিষয়গুলো নিয়ে সাধ্যমত কাজ করতে চাই।
৫. সিলেটের কোন জায়গায় বেড়ে উঠেছেন?
আঁখি : জন্মসূত্রে আমি চট্টগ্রামের। ওখানইে শৈশব, কৈশোর কেটেছে। এরপর বিয়ে হয়ে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছি। তবে আমার শ্বশুর বাড়ি সিলেটে।
৬. জীবনরে উল্লযেোগ্য ঘটনা বলুন?
আঁখি : ২০১১ সালে প্রচুর বই কিনে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম র্পযন্ত পৌঁছার র্পযাপ্ত টাকা না থাকায় কুমল্লিা র্পযন্ত ট্রেনের টিকেট করেছি। কুমিল্লায় গিয়ে সিট ছেড়ে দেই, ট্রেন ছেড়ে দিল। যিনি আমার সিটে বসলেন তিনি জানতে চাইলেন নামিনি কেন? বললাম, আমি তো চট্টগ্রাম যাব কিন্তু টিকেট পেলাম কুমিল্লা র্পযন্ত। ভদ্রলোক সঙ্গে সঙ্গে ওঠে বললনে, ‘নিজের বোনকে তো দাঁড়িয়ে থাকতে দিতাম না, দয়া করে এই ভাইকে ছোট করবেন না। আপনি বসুন।’ সেদিন মিথ্যা বলেছিলাম। কিন্তু আমার একটি লেখা সেই সব ভাইদের প্রতি উৎর্সগ করেছি, যারা নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এখনও ট্রেনে উঠলে আমার চোখ সেই ভাইকে খুঁজে বেড়ায়। যদি কখনো দেখা হয় সত্যি কথাটি বলতে চাই।
৭. কোন বিষয়ে লেখাপড়া?
আঁখি : আম্মা প্রচুর বই পড়তেন। যখন বানান করে পড়তে শিখি তখন থেকেই ওই বইগুলো আমায় বেশি আকর্ষণ করে। পাঠ্যবই ভালো লাগতো না। স্কুলেও পাঠ্য বইয়ের নীচে রেখে রবীন্দ্র, নজরুল, জীবনানন্দ পড়তাম। নিজেও লিখতে চাইতাম, লিখেছিও কৈশোরে। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখায় মন বসতো না। বাংলার ছাত্রী, বিএ পাস করেছি।
৮. পেশা বলুন?
আঁখি : বিয়ে, সংসার, সন্তান আর লেখালেখিতেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি এখন।
৯. সিলেটের মানুষ হয়েও রাজধানীর যানজটে কেমন কাটছে দিন?
আঁখি : আমি সিলেটের বৌ। রাজধানীতে থাকার জন্য থাকা। সত্যি বলতে আমার ভালো লাগে না। চট্টগ্রামের সাগর, পাহাড় টানে আমায়। ওখানের মতো শান্তি কোথাও নেই। তবে সিলেটে সিলেটের মাটিতেই মরতে চাই।
১০. সময় তো প্রবাহমান। সময় ডিঙ্গিয়ে কি রকম টিকে থাকতে চান?
আঁখি : সময় আর জীবন কেউ কাউকে ছাড় দিতে চায় না। জীবনের নানা সময়ে নানা রকম উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এই র্পযন্ত এসেছি অনেকটা যুদ্ধ করে। তাই সময় এবং পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই ভালো কাজের মধ্যে টিকে থাকতে চাই।
১১. আগামী পরিকল্পনা বলুন?
আঁখি : পরিকল্পনা করে সবকিছু করা যায় না, বা হয় না সবসময়। মানুষ ভাবে এক, হয় আরেক। তবে কিছু পরিকল্পনা তো মানুষের থাকেই। লোকসাহিত্য নিয়ে কাজ করতে চাই যতদনি বেঁচে আছি।
১২. সিলেটের হাওর-নদী-নালা-খাল-বিল নিয়ে কিছু বলুন?
আঁখি : এককথায় সিলেটের রূপে, গুণে, গানে আমি মুগ্ধ। প্রকৃতির নিয়মে এখানকার হাওর, নদী-নালা বিভিন্ন রুপ ধারণ করে। বর্ষাকালে এবং সুদিনেও এখানে পর্যটকর ভীড় থাকে। থাকে অতিথি পাখির আনাগোনা। আমার দৃষ্টিতে সবুজের সমারোহে বাংলাদেশের মধ্যে সবচাইতে সুন্দর জেলা সিলেট।
১৩. রাধারমণ নিয়ে সিলেটের উল্লখেযোগ্য কাজগুলো ছাপিয়ে আপনার নতুন কি কাজ করার কোন অভিজ্ঞতা?
আঁখি : ২০০৯ সাল থকেে রাধারমণকে জানার চেষ্টা করছি। বিভিন্ন জায়গায় য়েতে হয়েছে, যাচ্ছি এখনো। তাঁকে জানতে গিয়ে নানা বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। তা নিয়ে অবশ্যই চেষ্টা করবো নতুন কিছু করতে।
১৪. শ্রীহট্টীয় লোকসংস্কৃতির একটি ভিন্ন আঙ্গিক আছে তা বলুন?
আঁখি : শ্রীহট্টীয় লোকসংস্কৃতির ভিন্ন আাঙ্গিক যেমন আছে, তেমনি সিলেটের অতীত ইতিহাস গৌরবময় এবং চিত্তাকর্ষক। সিলেটে যত মসজিদ, মাজার ও মন্দির আছে চট্টগ্রাম ব্যতীত বাংলাদেশের আর কোথাও এমন দেখা যায় না। হজরত শাহজালাল এই ভূমিতে পদার্পণ করেন, শ্রী চৈতন্যের পিতৃভূমি।। সুফ, বাউল ও বৈষ্ণব একত্রে মিলেমিশে বাস করছে এ মাটিতে। সম্পদ, সৌর্ন্দয, গানে মিশে রয়েছে মানুষের সুখ-দুঃখের অনুভূতি। এখানকার মাটি র্উবর। হাওরাঞ্চলে বছরে সাত মাস পানি থাক।
১৫ . শাহ্ আবদুল করিম নিয়ে একটু বলুন?
আঁখি :শিশুকালেই শাহ্ আবদুল করিমের প্রতি আমার এক ধরনের দুর্বলতা কাজ করে। তাঁর গান গেয়ে আম্মা ঘুম পাড়াতেন আর কাঁদতেন। প্রশ্ন করতাম, গান গাইলে কি ব্যথা পাওয়া যায়? তিনি বলতেন, ‘গানে এমন কিছু কথা আছে যা কান্না করতে বাধ্য করে, বড় হলে বুঝব। রাধারমণ, হাছন রাজা নেই। তুমি চাইলে শাহ্ আবদুল করমিকে প্রশ্ন করতে পারো’। শিশুকাল থেকে অন্তরে জমানো প্রশ্নগুলোর উত্তর পেলাম না। তাই তাঁকে নিয়ে কিশোর উপযোগী ‘গল্পে গানে শাহ্ আবদুল করিম’ লিখলাম। এ বইয়ে তাঁকে জানা যাবে বলে আমি মনে করি।
১৬. ত্রিপুরায় এসেছেন কখনো?
আঁখি : ১২/১৩ বছর বয়সে ত্রিপুরায় এক খালার বাড়ি গিয়ে আটদিন ছিলাম। তবে তেমন কিছু দেখা হয়নি।
১৭. এমন কোন অভজ্ঞিতা বলুন যা ব্যক্তিগত অথচ বই পাঠকের কাজে আসবে।
আঁখি : ব্যক্তিগত উদ্যোগ, ভালোবাসা থেকেই আমি মাঠে-ঘাটে, দিনে-রাতে পরিশ্রম করে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ছুটে যাই। মরমিয়াদের তথ্য ও গানের বাণী সংগ্রহ করে গ্রন্থ প্রকাশ করছি। এটাই পাঠকের কাজে আসবে। এখান থেকেই পাঠক জানতে পারছে অসংখ্য মূল্যবান তথ্য। যা বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
১৮. একুশে বইমলো নিয়ে বলুন?
আঁখি : বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। সারাবছর ধরে লেকক, পাঠক, প্রকাশক অপক্ষো করেন বই মেলার জন্য। প্রতিবছর লেকক বাড়ছে, প্রকাশক বাড়ছে, পাঠক বাড়ছে। কিন্তু মানসম্মত বইয়রে সংখ্যা হাতে গোনা। এর কারণ, যে কেউ চাইলেই টাকা দিয়ে যেমন-তেমন একটি বই ছাপিয়ে লেখকের খাতায় নাম তুলছেন। কিন্তু বার্তাবিহিন বই গ্রহণ যোগ্যতা পায় না। তাই প্রকাশক যদি বই ছাপাতে সচতেন হোন তবে ভালো মানের বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং পাঠক সন্তুষ্ট হবেন।
১৯. একুশে বইমলোয় কেন প্রতিবেশী দেশের বই প্রকাশকদের আমন্ত্রণ করা হয় না?
আঁখি : ঢাকার একুশে বইমেলার জন্য বছরজুড়ে কলকাতার মানুষ উন্মুখ হয়ে থাকেন, এটা সঠিক। ওপার বাংলার বই ঢাকার বইমলোতে পাওয়া গেলে পাঠকরে জন্য সুবিধা হতো। অনেকেই পাইরেটেড বই কেনেন। এখানে বইগুলো কিনতে অনেক দাম পড়ে যায়, তাই আমি ও কিছু বই আনিয়েছি ওপার থেকে। মেলা কতৃপক্ষ এ বিষয়টি নিয়ে ভাববেন বলে আমি বিশ্বাস করি। অবশ্য ‘তারা এলে এদেশে কিছু নিম্নমানের প্রকাশনা, যারা কলকাতার বই ফটোকপি ও পাইরেসি করে ছাপিয়ে বিক্রি করেন, তাদের ক্ষতি হবে। সে জন্যই কি তাদেরকে আসতে দেয়া হচ্ছে না?’ এমন প্রশ্ন অনেকে রেখেছেন এর আগে। আমিও প্রশ্নটিকে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছি না।
২০. বইকে তো পাঠকের কাছে বইমেলা নিয়ে যায়। তাহলে প্রতিবেশীদের বইও তো মেলার অংশ হতে পারতো। তা হোক এমন চাইলে কী উদ্যোগ নেওয়া যায়?
আঁখি : প্রতিবেশীদের বই আমরা খুব আগ্রহ সহকারেই পড়ি। শুধু যে কলকাতার বই পড়ি তা কিন্তু নয়, পৃথিবীর তাবদ দেশের লেখক, গবষেক, কবি’র লেখাই আমাদের পড়তে হয়, জানতে হয়। সে ক্ষেত্রে হতে পারে সংখ্যায় কিছুটা কম। তাই ঢাকার বইমেলায় বাইরের বই থাকলে অনেক সুবিধা হতো। সহজেই এসব বইয়ের কাছে যেতে পারতাম। আগামীতে এমন ব্যবস্থা থাকলে অবশ্যই ভালো হবে আমাদরে জন্য। সে ক্ষত্রেে উদ্যোগ নিতে হবে মেলার আয়োজকদের। পাশাপাশি কলকাতার প্রকাশনা সংস্থাদের ও আগ্রহপত্র আদান-প্রদান চলতে পারে। এছাড়া পাঠকদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়টি কতৃপক্ষের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি। আইনানুগ কোনো জটিলতা না থাকলে সেটি নিরসনে উদ্যোগী হয়ে এমন একটি বইমেলা হতেই পারে বাংলাদেশে।
২১. আমাদরে বাঙালীর মুদ্রাদোষ চিরকালই আত্মঘাত। আপনি কি রকম দেখেন?
আঁখি : বাঙালি সাহসী জাতী। মুদ্রাদোষ খুব আছে বলে মনে করি না। তবে গোষ্ঠীগত কিছু গােঁড়ামি আছে। সেসব গােঁড়ামি অনেক সময় খারাপ কিছুর অবতারণা করছে। এমন গােঁড়ামি রোমানদের মাঝেও ছিল। আরবদের মাঝেও কখনো কখনো দেখা গিয়েছে। তবে আমি বলবো, লেখালেখিতে বা সাহিত্যে এমন গােঁড়ামি না থাকাই ভালো।
কথা বলা শেষ করার পর ধন্যবাদ জানাই সময় দেওয়ার জন্য। মেলার এই ব্যস্ততম সময়কে ডিঙিয়ে এই যে আমাকে সময় দিলেন তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বই হোক চিরদিনের। বই হোক যোগাযোগরে সেতু। বই হোক একটি জাতির উন্নয়নের হাতিয়ার।
আঁখি : আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।
১৬:০২:২০১৯
ঢাকা,একুশে বইমেলা:২০১৯
বাংলাদেশ।
0 মন্তব্যসমূহ