কবি ও এই সময়ের কবিতামুখ অপাংশু দেবনাথমুখোমুখি গোবিন্দ ধর

কবি ও এই সময়ের কবিতামুখ
অপাংশু দেবনাথ
মুখোমুখি 
গোবিন্দ ধর



কবি ও এই সময়ের কবিতামুখ
অপাংশু দেবনাথ
মুখোমুখি 
গোবিন্দ ধর

উৎসব আমাদের জীবনের পরতে পরতে রন্ধ্রে রন্ধ্রে। আনন্দে আন্দোলনে।স্মরণে স্মৃতি তর্পণে। শোকে।সুখে।উৎসব মানে শুধুই আনন্দ নয়।উৎসব তো মানুষের মিলনও।উৎসব আমাদের কৃষ্টি,কৃষিকে রক্ষার চিরায়ত লৌকিক,ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানও।উৎসব শুধু আনন্দ বিহার করারই একমাত্র অনুষ্ঠান নয়।তাও উৎসব বললেই মানুষের মন আনন্দ উৎসব এরকমই  মগজের তীব্র নৈঋতে লেগে থাকা গৃরহণকাল।যুগ যুগ ধরে এই রকমই আমাদের মেধায় এই ঘুণপোকা কেটে কেটে খাচ্ছে। তা থেকে উত্তরণ হয়তো অসম্ভব। আমাদের মন মস্তিষ্ক এই সমাজ থেকেই তৈরী।কিন্তু তবুও কি উৎসবের মাধ্যমে আমরা পিতৃপুরুষদের শ্রদ্ধা জানাতে পারি না?শহীদের রক্তঋণ শোধ করতে পারি না শ্রদ্ধা উৎসবের মাধ্যমে?ভাষা শহীদদের স্মরণ করা যায় না কোন মহৎ পরবের মাধ্যমে বেদনার অনুষ্ঠানে? শহীদের রক্ত ঋণ কি শুধু দূঃখে দিয়েই পরিশোধ হয়?শহীদের স্মৃতি  রক্ষায় শুধুই দূঃখবোধ থাকবে?থাকবে না স্মরণ? কিংবা কেন আমরা অনুষ্ঠানকে উৎসব বলতে পারি না?
এই চৈতন্য জারিত বিষয়কে নিয়ে গিয়েছিলাম কয়েকজন কবি সাহিত্যিক,প্রাবন্ধিক এবং লোক গবেষক ও সন্তপুরুষের কাছে সামাজিক মাধ্যমের ম্যাসেঞ্জারে।কেউ কেউ উত্তর দিয়েছেন। কেউ কেউ শীতকাতর থেকেছেন।কেউ কেউ ধরি মাছ না ছুঁই পানি করে উত্তর দিয়েছেন। আমি ক্রমশ এই বিষয়ক আলোকপাতগুলো সামাজিক মাধ্যমেই আলোকপাত করবো।হয়তো আমার ভাবনার সাথে কারো ভাবনা মিলে যাবে।আবার কারো কারো ভাবনা মিলবে না।তবুও উৎসব তো উৎসবই থাকবে।আমি বিশ্বাস করি শ্রাদ্ধও উৎসব।শোকও উৎসব।আনন্দ প্রকাশই উৎসবের একমাত্র বৈশিষ্ট্য নয়।উৎসব শব্দের গভীরে লুকিয়ে আছে অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্মৃতিতর্পন যেমন যায় তেমনি আনন্দের প্রকাশও সম্ভব।উৎসব মানে পরস্পর শুঊু মিলন নয়।শ্রদ্ধাশীলদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনও উৎসব কথাটির গভীরে উপস্থিত। তাও যাদের সময় এই বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রশ্ন থেকে প্রশ্নের দিকে আমাকে নিবিষ্ট করেছে এবং উত্তরও এসছে তাঁদের উত্তরগুলো এবং আমার কৌতুহলগুলো সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরবো।হয়তো ক্রমশ কয়েকদিন এই পর্বগুলো চলতে থাকবে।আরো চর্চা হবে।মথ ভিন্ন হতে পারে।আমার কৌতুহল হয়তো দূর হবে।হয়তো হবে না।তাও উৎসব তো উৎসবই থাকবে।আমি না উৎসবের সাথে স্মৃতিতর্পন কিংবা শ্রদ্ধা যোগ করলাম।আপনি আপনারা না হয় উৎসবে শুধু আনন্দই করলেন।তাতেও উৎসবের কোন কালীমা লাগবে না।শহীদের কোন অশ্রদ্ধাও হবে না।আমাদের শ্রদ্ধার জমিনে থেকেও চর্চা হতে পারে।কারো প্রতি অসম্মান না জানিয়েও চর্চা হতে পারে।

গোবিন্দ :(১)উৎসব অর্থ কি শুধু আনন্দ? নাকি অন্য কিছুও?
উৎসব মানে কি শ্রদ্ধা, স্মরণ, শ্রাদ্ধও নয়?
কিংবা দূঃখে কি স্মরণ উৎসব করা যায়?

আপনার /তোমার মতামত বলুন?

অপাংশু :আসলে উৎসবের সঙ্গে আনন্দ এমনভাবে মানুষের মাথায় রক্তে মিশে আছে তাকে অন্যভাবে ভাবতে গেলেই এলোমেলো মনে হবে।
আর উৎসব মানেই একটু ঘটা করে কিছু পালন করা বলে মনে হয়।
উৎসব যেন কিছু পাবার আকাঙ্ক্ষা থাকে আর স্মরণে যেন সমর্পণ ।
ফলে স্মরণাঞ্জলি হলে যেমন মানায় ঠিক তেমনি স্মরণোৎসব মনে দোলা দেয় না।
আমার তো এমনই মনে হলো----


গোবিন্দ :(২)ভাষা শহীদ স্মরণ উৎসব এই রকম বললে কি শহীদদের অশ্রদ্ধা করা হয়?

অপাংশু::না ঠিক অশ্রদ্ধা নয়। ওই যে বললাম উৎসবের পেছনে কি যেন একটা পাবার আকাঙ্ক্ষা থাকে। শহীদ দের স্মরণ মানে তো কিছু পাওয়া নয় ব্যক্তির একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সমর্পণ করা ।


গোবিন্দ :(৩)তাহলে শ্রাদ্ধ কি অনুষ্ঠান কিংব অনুষ্ঠান নয়?

অপাংশু:শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান কিন্তু উৎসব নয়।

গোবিন্দ :(৪)শ্রাদ্ধ মানে কি?

অপাংশু:ও আচ্ছা।আমি অতটা বুঝি না।তবে তা বুঝি শ্রাদ্ধ মানে হৃদয়ের সামগ্রিক চেতনার দ্বারা সমর্পিত শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের অনুষ্ঠান।

গোবিন্দ :(৫)তাহলে তোমার কথায়ই বুঝা গেলো শ্রাদ্ধও অনুষ্ঠান?

অপাংশু:হা অনুষ্ঠান তবে উৎসব নয়।

গোবিন্দ :(৬)অনুষ্ঠান আর উৎসবের বস্তুগত পার্থক্য তোমার দৃষ্টিতে কেমন?

অপাংশু:আসলে উৎসবের সঙ্গে আনন্দ এমনভাবে মানুষের মাথায় রক্তে মিশে আছে তাকে অন্যভাবে ভাবতে গেলেই এলোমেলো মনে হবে।
আর উৎসব মানেই একটু ঘটা করে কিছু পালন করা বলে মনে হয়।
উৎসব যেন কিছু পাবার আকাঙ্ক্ষা থাকে আর স্মরণে যেন সমর্পণ ।
ফলে স্মরণাঞ্জলি হলে যেমন মানায় ঠিক তেমনি স্মরণোৎসব মনে দোলা দেয় না।
আমার তো এমনই মনে হলো----

গোবিন্দ :(৭)একই কথাই বললে?আমি ব্যাখাা চাইছি?

অপাংশু:প্রথমত আয়তন গত দিক থেকে  অনুষ্ঠান ছোট আকারের হয় ,উৎসব অনেকটা বড় আকৃতির হয়ে থাকে, যেখানে অসংখ্য মানুষের মেলবন্ধন ঘটে কিন্তু তুমি অনুষ্ঠানে খুব বেশি মানুষের মেলবন্ধন ঘটে থাকে না। আর ওই যে বললে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান ওখানে যে সকল মানুষের সমাগম ঘটে তাদের প্রত্যেকের মনেই একটা অজান্তেই কি যেন বেদনাবোধ দুঃখ বোধ ক্রিয়া করে।  উৎসব সবকিছুর ঊর্ধ্বে। যেখানে মানুষ সমস্ত দুঃখ ভুলে বেদনা ভুলে কষ্ট ভুলে পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হয়, ভাব বিনিময় করে।
 আমি এভাবেই উৎসব এবং অনুষ্ঠানকে পৃথক করতে চাই।

গোবিন্দ :(৮)স্মরণকে কেন অনুষ্ঠান বলা যাচ্ছে না?কিংবয় স্মরণোৎসব বলা যাবে না বলে মনে হয়?

অপাংশু:স্মরণানুষ্ঠান বলা যেতে ই পারে উৎসব কেন বলা ঠিক হবেনা উপরে আলোচনা য় বলতে চেয়েছি

গোবিন্দ :(৯)আমি একমত হতে পারিনি বলেই বারবার বিরক্ত করছি।তবুও শেষমেষ বলি আমার নিকট স্মৃতি তর্পন যেমন উইসব শ্রাদ্ধানুষ্ঠানও উৎসব।উৎসব মানে শুধু আনন্দানুষ্টানই নয়।শোক জ্ঞাপন করাও অনুষ্ঠান। শোক জ্ঞাপন করাও উৎসন্ব।প্রেক্ষাপট ভিন্ন।শহীদ স্মরণেও উৎসব করা যায় শহীদের স্মৃতিকে স্মরণ করার জন্যেই।তেমনি পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যেও স্মরণ উৎসব করা অসঙ্গত নয়কথা হলো কতটুকু গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন হলো।আর যদি উৎসবে আন্তরিক শ্রদ্ধা প্রদর্শন হয় তাহলে শোকে নয় কি?

অপাংশু:আরে না না উৎসবে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা সম্ভব নয় উৎসবে উল্লাস হয় আনন্দ হয় আনন্দের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা প্রকাশ করাটা মৃত ব্যক্তিকে কখনোই সম্ভব নয়।

গোবিন্দ :(১০)উৎসব শব্দের আভিধানিক অর্থ কি শুধুই আনন্দ প্রকাশ?

অপাংশু:(১১)আমাদের ত্রিপুরায় একসময় ভোট হলে প্রচুর মানুষকে রাজনৈতিক হিংসার বলি হতে হতো।এমন এক সময় রাজ্যে বামপন্থী সরকারের শিক্ষামন্ত্রী কবি অনিল সরকার ভোটকে প্রথম বললেন "ভোটউৎসব"। আমরাও ধীরে ধীরে এই শব্দের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধাবোধে জারিত হতে থাকলাম।আমাদের রাজ্যে তারপর ধীরে ধীরে ভোটের সময় আর রাজনৈতিক বলি হতো না।চেতনায় উৎসবের গভীর দায়িত্বশীল দিক গেঁথে গেলো।তাহলে তুমিও কি মনে কর আমাদের ভোট উৎসবের মেজাজে হওয়া উচিত?

অপাংশু :


(১২)তোমার কবিতায় লেখালেখিতে উৎসব কিরকম ধরা দেয়?

অপাংশু:


২৯:০৩:২০১৯

বিঃদ্র:১০, ১১,১২ এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর তিনি দেননি।উত্তর এলে আমরা যুক্ত করে নেবো।আমরা এখন  রকমই ছাপলাম।-সম্পাদক।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ