যে জীবন ফড়িং-এর
নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর
যে জীবন ফড়িং-এর
নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর
রাত দশটায় রুমে ফিরে এসে আমার মনে পড়ছিল গতকাল কিংবা পরশু অর্থাৎ তারও আগের দিন কিংবা রাতের মতোইÑ আমার জীবনানন্দকে মনে পড়ছিল...যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা...।
ইদানিং জীবনানন্দ সারাবেলা আমার পিছু পিছু হাঁটে। আমি যেখানে যাই সে যায়, আমি যা ভাবতে চাই সে ভাবায়। আমি ভেবে পাই না কী ভেবে, কেন সে আমার পিছু নেয়? আমি তাকে বলি, আমার প্রেম নেই, ভালবাসা নেই, আর বধু তো কথাই নেই, তবু তার ভূত আমার সঙ্গে...।
নিত্যরাতের মতো হাতমুখে জল ছিটিয়ে আজও ডাইনিং-এ যাই। দীঘল টেবিলের উপুড়করা থালা, গামলায় সাদাভাত, আরেকটিতে তরল ঘোলাজল যার নাম ডাল, ডালের গামলায় নৌকার বৈঠার মতো ঢাউস চামচের হাতলের মাথায় আরশোলা, আরেকটা ছোটো বাটিতে নলা মাছের অর্ধেক মাথা, মাছের মরা চোখ আমাকে স্বাগত জানায়। প্রতি রাতে আমাকে সাদা ভাতের সৎকার করতে হয়। আমি সে কাজে মনোনিবেশ করি।
ভাতের ওপর ঘোলাজল ঢালতে ঢালতে থাকলে জীবনানন্দ দাস আমাকে মনে করিয়ে দেয়- যে জীবন ফড়িঙের...। আর তখন আমি দেখি, একটা তেলাপোকারও সাধ হয়, পাখি হয়ে উড়বে। থালার ওপর কয়েক চক্কর দিয়ে সেটা থালার কিনারে এসে বসে; লম্বা দুটো গোঁফ নেড়ে কী বলে আমি তা বুঝি না। তবু আমি সহসা যেন বুঝে ফেলি, তার সাথে আমার কত মিল! আমার হাসি পায়। মনে মনে বলি, সারাদিন বুঝি কিছুই পেটে পড়ে নি? আবার একটা বিশাল ছায়া আমার চারপাশ ঘিরে চক্কর দিতে থাকে। আর তখন একটা জান্তব শব্দ আমার কানে আসে। ভাতের গ্রাস গলাধঃকরণ করতে করতে আওয়াজটা টেবিলের কোণের দিক থেকে আসছে আন্দাজ করতে চাই। মনে মনে ভাবি, রাত বেড়ে গেলে হলের ডাইনিং-এ আর কার কার আনাগোনা চলে। তেলাপোকা আর চামচিকা তো চাক্ষুষ করা গেল। আরও মনে পড়ে গন্ধমুষিক, মুষিক, বিড়ালছানা, বেওয়ারিশ কুকুর- এদেরও কি সহজে উদরপুর্তি হয়? ‘ওদের নিয়ে আমার না ভাবলেও চলবে। নিজের উদর পূরণ করে ঘুমোতে যাও।’- কে যেন আমাকে তাগিদ দেয়। আমি নাক-কান বন্ধ করে দলায় দলায় ভাত গিলতে থাকি। তবু জন্তুটা কঁকিয়েই যাচ্ছে। শব্দটা জান্তব হলেও পরিচিত নয়। অঁ অঁ অঁ ধরণের- না পাশবিক না মানবিক। রাতের স্তব্ধতা আমার কানটা একেবারে শব্দটার কাছে টেনে নেয়। কান টানলে মাথা সঙ্গে চোখ যায়Ñ শৈশবের সেই শিক্ষকের মতো দেখিয়ে বলেÑ দেখ্ তুই।
টেবিলের পাশে একটা নোংরা চাদর জড়িয়ে হাঁটুভাঙা দ হয়ে কাত হয়ে কঁকাচ্ছে একটা মানুষেরই বাচ্চা।
আমি মনে মনে বলি, খাবি নাকি? ভাত আছে, আর ডালও। ইচ্ছে করলে খেতে পারিস ওঠে। খাবি? রাতটা কাটবে ভাল। আমার তো ক্ষিধে থাকলে ঘুমই আসে না। তখন মনে পড়ে, যুবকের ঘুম না আসার আরও কত কত কারণ না কি থাকে।
আমার ভাবনায় ওর কিছু আসে যায় না। ও বেহুঁশ হয়ে পড়ে আছে। আমি ওর দিকে তাকিয়ে থাকি। তখন নিজের শৈশবের কথা মনে পড়ে।
এই খাবি? ভাত খাবি, ভাত?
না, কোনো সাড়া নেই। আমার খটকা লাগে, কোনো ক্ষুধার্ত প্রাণী, বিশেষ করে, সে যদি ভুখা মানবসন্তান হয়, ভাত শব্দ ওকে জাগিয়ে তোলার কথা। ক্ষুধাকাতর কাউকে জাগিয়ে তোলবার জন্য ভাতের চাইতে উপযুক্ত কোনো শব্দ পৃথিবীতে আছে না কি!
আবার ডাকি, এই ওঠ। ওঠ।
ছেলেটা তবু সাড়া দেয় না। আমি ততক্ষণে খাওয়া শেষ করে ভালো করে একবার ওর দিকে তাকাই। নিদ্রিত কুকুর শাবকের মতো ওর শরীরটা কাঁপছে। এরপর আমার কী যেন হয়ে যায়।
ছেলেটার গা যে পুড়ে যাচ্ছে! আমি তখন অপ্রস্তুত হয়ে পড়ি, কেন যে ওর মুখটা দেখতে চাই। আমি বসে থাকি। আমার ভেতরের বরফ গলতে থাকে। আমি মনে মনে জীবনানন্দকে পেয়ে যাই-যে জীবন দোয়েলের, মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা...।
আমি ছেলেটার পাশে বসে জীবনানন্দকে নিয়ে অথবা ওকে নিয়ে ভাবতে থাকি। আমার মনে পড়ে...আমার মনে আছে, মাথায় পানি পট্টি... মার চোখ ছলছল, চুড়ির টুংটাং, কী মধুর। আমার স্মৃতির ফড়িঙ উড়তে থাকে, কেবল উড়তে থাকে আর ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উড়তে উড়তে একসময় তেলাপোকা হয়ে যাই যেন। আমি ওর কপালে হাত না রেখে পারি না। তখন সে চোখ মেলে।
আমি ভাত খাব, ভাত...উঁ উঁ...।
আমি ভাত খাব, ভাত...উঁ উঁ...।
থালায় ভাত আর ডাল নিয়ে আমি ছেলেটার সামনে রাখি। আমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে থাকিÑ একটি মানবশিশু হাপুস হুপুস করে ভাত খাচ্ছে। আমার মনে পড়ে মোরলা মাছের ঝোলে মেশটাপাতার টক দিয়ে এমন জ্বর থেকে সেরে উঠলে আমিও ভাত খেতে চেয়েছিলাম।
দু’দিন পর ওর মুখে বোল ফুটল। ফড়িঙের পিছু পিছু দৌড়ায় সে। আমি তাকিয়ে দেখি আমার শৈশব নিয়ে সেও খেলা করে।
আমি ওকে জিজ্ঞেস করি, কী নাম?
ফারুক।
বাড়ি কই?
নাই। গাঙে ভাইঙ্গা লয়া গিয়েছে।
কোথায় ছিল বাড়ি?
ডাকাইত্যা গাঙের ধারে। হ্ইামচরত।
তারপর?
বাজান কইছিল, একটা বিহিত অইলে আমি হগলতেরে লইয়া যামু।
কোথায় লই যাবে?
ঢাকাত।
তারপর?
বাজান আয়ে না। ফারুক বলে যায়। আইজ মনে অয় আয়ে, তাও আয়ে না। কাইলও না।
ঘাটে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফারুক প্রতিদিন ভাবে, ওর বাপ আসে। দেখে সে, জাহাজ আসে, জাহাজ যায়। তবু বাপ তো আসে না। কিন্তু মায়ের যে অসুখ বাজান কেন বোঝে না? কেন টের পায় না বাজান? আমার অসুখ মায়ে ত টের পায়।
আবুল হোসেন ফারুকের কথায় বেশ মজা পায়। এসব গল্প আবুল হোসেন রসিয়ে রসিয়ে বলে মজা পায়।
ফারুক ভাবে একদিন সে ঢাকা যাবে। বাপকে খুঁজে বের করবে। কাউকে না জানিয়ে জাহাজে উঠেছিল। সারারাত জাহাজের ডেকে ঘুমিয়ে ভোরে হৈচৈ শুনে ঘুম ভাঙে। সে ঢাকা চলে এসেছে। ঘাটে (সদরঘাটে) নেমে সে বাপকে খোঁজে। না পেয়ে আশপাশে সারাদিন কাটায়। সন্ধ্যে হলেও না পেয়ে ফিরে যেতেও চেয়েছিল। কিন্তু খালাসিরা টিকেট ছাড়া ফের জাহাজে উঠতে দেয় নি। যাত্রীদের সঙ্গে হাঁটতে শুরু করে। এ গলি সে গলি পাড়ি দিয়ে সে বিশ্ব বিদ্যালয়ে এসে পৌঁছায়। সন্ধ্যা হলে হলের শেডের তলে বসে ছিল। ঝড় আর বৃষ্টি শুরু হলে ডাইনিং-এ এসে আশ্রয় নিয়েছিল।
ফারুকও এখন হলের বাসিন্দা। সে আমাদের ফুটফরমাস খাটে। সিগারেট এনে দেয়। কেন্টিন কিংবা দোকান থেকে নাস্তা এনে দেয়। টিফিন বাটিতে করে সময় মতো ভাত এনে রাখে। সে টিভিও দেখে। তারপর একদিন দেখি, সিনেমার গানও গায়। সে নীলক্ষেত চেনে।
ফারুক হলের গেটে, ক্যাম্পাসে, টিএসসি চত্বরে, পাবলিক লাইব্রেরির সামনে, বই মেলায়-কোথায়ই বা নেই সে? তবু মাঝে মাঝে দেখি- ফারুক নেই। মাঝে মাঝে টিফিনবাটি আছে, কখনো বা ভাত নেই। আবার হঠাৎই সিনেমার গানÑ দোয়েলের শিস-আবার শুনি ফারুকের গলা।
কিরে, কোথায় থাকিস আজকাল?
ক্যান, স্যার আছিলাম ত।
ফারুক মাথা চুলকায়। আমতা আমতা করে বলে, অমুক স্যারে ডাকছিলেন। কারো কারো নাম শুনেই আমি চমকে উঠি। আমার চোখে তখন নেকড়ের ছবি ভেসে ওঠে। আমি নিজেকে সামলে নিতে গিয়ে প্রসঙ্গ পাল্টাই।
কিরে, বাড়ি যাবি না? তোর মাকে মনে পড়ে না?
বাজানেরে আগে পাইয়া লই, তহন যামু।
তার পর উত্তাল সব দিন এল। সভ্যতার চিতা রাজপথে জ্বলে দাউ দাউ। লেলিহান শিখার পাশে দেখি, অসংখ্য ফারুক কিংবা অসংখ্য পতঙ্গ। টিএসসি পার হয়ে সোহরাওয়ার্দির শ্যামলিমায় ঢুকে দেখি সক্রেটিস যেন বসে আছে বেদীতে। বসে শিষ্যদের কাছে আঁধারের স্বরূপ উন্মোচন করে চলেছেন। তিনি বলছেন, সমস্ত সবুজ হারিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে। আর তোমাদেরই আলো জ্বালাতে হবে। আরও বেশি আলো। যত আঁধার তত আলো। আমার মনে পড়েÑ অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে আজ/ যারা অন্ধ ...
তারপর কালো নদীর তীরে বহমান আলোকিত স্রোত। সাঁতরে পাড়ি দিয়ে ওপাড়ে গিয়ে দেখি, অক্ষম কামনা নিয়ে অসহায় দাঁড়িয়ে আছেন ন্যায়দ-। তাঁর পাশে বসেছে অন্ধদের মেলা। আর ভিক্ষুকের জিকিরের ধ্বনি হাতে বাজে ঝনঝন। আমি আরও স্রোত কাটিয়ে গিয়ে কড়া নাড়ি।
কি যে পড়াও! ওর সঙ্গে বাংলা বল কেন? ইংরেজি না জানলে তোমাকে দিয়ে পড়ানো চলবে না।
আপনাদের ছেলে তো ইংরেজিতে খারাপ করছে না।
ওকে বাইরে পাঠিয়ে দেব। ইংরেজি ভালো জানতে হবে।
বাইরে না পাঠলে কী হবে?
মানুষ হবে না।
আমি ফের অন্ধকারে বেরিয়ে পড়ি। হাঁটতে হাঁটতে ভাবতে থাকি, ইংরেজি ভালো না জানলে মানুষ কেন হবে না? আর আমার ভাবনার সঙ্গে জীবনানন্দ তাল মেলায়, যে জীবন ফড়িঙের দোয়েলের মানবের সাথে তার হয় না কখনো দেখা।
স্যার, অত দেরি করছেন?
ফারুক কোথা থেকে ফিরে এসেছে। টিফিনবাটি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমার খাবার আনবে বলে।
টাকা দেন, গরম ভাত লইয়া আহি।
বুঝতে পারি আজ সারাদিন কিছু জোটে নি। জানতে চাই, কোথায় ছিলি, সারাদিন?
খাওয়ার পর টিভি দেখতে দেখতে ফারুকের জবান খোলে। সারাদিন কোথায় কী ঘটেছে। কোথায় ক’টা বোমা ফেটেছে, কয়টা গাড়িতে আগুন দিয়েছে, কে কী বলেছে। ফারুকের বর্ণনা তবু টিভির পর্দায় নেই। সে যা দেখেছে রিপোর্টার তা দেখে নি।
শুধু শুধু বাইরে যাবি না। পুলিশ ধরবে কিন্তু।
হ, জানি। কয়ডারে ধরছে। ভ্যানে তুইলা লয়া গেছে। আমারে কিছু জিগাইলে কমু, স্যারগো কাম করি। ভাত-নাস্তা আনি।
আবার বাতি নেভানোর আয়োজন হয়। গাঢ় অন্ধকার নেমে আসে ক্যাম্পাসে। হলের গেটে তালা ঝুলে। বাতাসে বারুদের গন্ধ। তবু বিপন্ন রাত নামে বুঝি চারদিকে দীপাবলী উৎসবের সাজে। বহুতল কবরের মত নগরের ভাজে ভাজে হিমায়িত কাফনের মতো ক্লান্তি জমা হয়। মশারির আড়াল নিয়ে নিয়ে জীবন্ত লাশগুলো মৃত আত্মার মতো ব্যর্থজীবনের খোঁজে আলিঙ্গনে মেতে ওঠে। পিচঢালা পথের বুকে তবু জ্বলতেই থাকে চিতা। কে নেভাবে? কে-ই বা নেভাতে পারে?
সহসা সচকিত করে ঘড়ঘড় শব্দে কালো রাস্তার পিঠের ওপর দিয়ে দু’টো শকট ভারী চাকা মাড়িয়ে সোনারগাঁও রোড কাঁপিয়ে দিয়ে যায়। পেছনে শোনা যায়Ñ ধর, ধর। তারপর শ্লোগানÑ নিপাত যাক। নিপাত যাক।
হলের মাঠে নৈশপ্রহরী রহিমের লাল গাভিটি গলায় দড়ি নিয়ে তবু নির্বিকার ঘাস খেয়ে যায়। কোথায় সেই বাছুরটা, যে শুধু লাফায়? তবে কি ওটার বন্দী জীবন শুরু হয়ে গিয়েছে? জন্মের পর বন্ধন কেবল মানব সন্তান নয়, প্রাণীজগতের সকলের জন্যই সমান প্রযোজ্য!
প্রভোস্ট হাউসের আঙিনায় কৃষ্ণচূড়ার ডালে লুকিয়ে থাকা একটি চিল মাঠের সবুজ বুক থেকে কী একটা ছোঁ মেরে তুলে নেয়। কাউকে তোয়াক্কা না করে ইডেনের সংরক্ষিত এলাকায় পাখিটা অদৃশ্য হয়ে যায়। আমার চোখ পাখির বদলে ফারুককে আবিষ্কার করে। ওর হাতে বড় একটা টিফিন ক্যারিয়ার। চোখে চোখ পড়ে গেলে ফারুক স্তম্ভিত।
কিরে, এত বড় টিফিন ক্যারিয়ার কার?
স্যার, আপনের খাওন পরে আইনা দিই?
কেন? একসঙ্গে পারবি না?
ফারুক সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করে। আবার সহসাই সিদ্ধান্ত নিয়েও ফেলে- থাক, পরে না। দেন আগে আপনেরটা আনি।
কেন?
স্যারগো খাওন আনতে নিরব হটেলে যাইতে অনব।
ফারুক টাকা আর বাটি নিয়ে বেরিয়ে যায়। আবার কোথাও ধর ধর, মার মা শোনা যায়। আমি বেরিয়ে দেখতে যা দেখতে চাই তার বদলে দরজার বাইরে নতুন টিফিন ক্যারিয়ারটা দরোজার পাশে দেখতে পাই। বাটিটা ঘরেও রেখে যায় নি দুষ্টুটা। সারাক্ষণ এমন অস্থির থাকে!
আমি ভাবি, টিফিন ক্যারিয়ারটা ঘরে এনে রাখাই ভাল হবে। হাতে তুলতে নিয়ে বুঝি, বাটিটা খাবার ভরতি। কার খাবার আবার রেখেই দৌড় দিল? এত ভারি? ফারুক বলছিল আমার খাবার আগে এনে দিয়ে কার কার আনতে যাবে।
আমার অন্যায় কৌতুহল জাগে। ঢাকনা খুলে দেখি উপরের বাটিটা তবু খালি। অথচ এত ভারি! নীচের...নীচের দু’টিতে দেখতে পাই বালি! কেন? বালি কেন? আঙুলের ডগা নিসপিস করে। বালি সরিয়ে সরিয়ে দেখি আমি। তার পর আমার আঙুল অবশ হয়ে আসে আর আমি বিহ্বল তাকিয়ে তাকিয়ে...স্বপ্ন নয়-সত্য নয় আর কোন বিপন্ন বিস্ময়...
আর তখনই ফারুক হন্তদন্ত ফিরে আসে। ত্রস্তে পা চালিয়ে আসায়...বাটির কিনারে ঝোল আর ডালের চিহ্ন। রাখতে গিয়ে আবার মেঝের উপর ঠুকে দিল। তাতে ঝোল আবারও ছলকে পড়ে গেল।
ফারুক হাঁপাচ্ছে। তবু ওর চোখ মুখে মুক্তির স্বাদ। বিজয়ের উচ্ছ্বাসে সে বলে যেতে থাকেÑ স্যার, পুলিশে ধরছিল। বাটি খুইলা চেক করল। নাম জিগাইল। কার ভাত, কত নম্বর রুমÑ জানতে চাইল। আমি আপনের কথা কইলাম। তখন ছাইরা দিল। বলতে বলতে হঠাৎ ফারুকের বুঝি আরেকটা বাটির কথা মনে পড়ে। ও দরজার পাশে তাকায়।
স্যার?
কী?
হেই বাটিডা কই?
দরজার পাশেই তো ছিল। নেই?
কোনো ইতস্তত না করেই আমি জবাব দিলাম। ফারুক আমার চোখে সেই বাটিটা খুঁজতে শুরু করলে আমি ওকে টেনে ঘরে নিয়ে আসি। জবাব দেবার মতো আর কোনো কথা না পেয়ে এবং ভেবে না ভেবেই ওকে জীবনানন্দর কবিতা শোনাতে চাই। বলি- আয়, তোকে আজ কবিতা শোনাব। শুনবি জীবনানন্দের কবিতা?...যে জীবন ফড়িঙের দোয়েলের মানুষের সাথে তার হয়নাকো দেখা...।
0 মন্তব্যসমূহ