প্রতিদিন বাংলাভাষা. স্রোত

আমার ভাষা তোমার ভাষা
প্র|ব|ন্ধ|নি|ব|ন্ধ

টলোমলো পায়ে উঠে দাঁড়াচ্ছে ছিলোমিলো
বিপ্লব উরাং 

২১ ফেব্রুয়ারি  মাতৃভাষা দিবস।এই শব্দটি শুনলে সংবেদন
শীল প্রত্যেক মানুষের নিজ নিজ মায়ের ভাষার কথা মনে
পড়ে যায়।
আমার মায়ের ভাষা কি?জিজ্ঞেস করলে--সঠিক ভাবে
বলতে পারিনা। কি বলব আমি।আমার পূর্বপুষদের মাতৃ
ভাষা ছিল হিন্দি।এসেছিলেন বিহারের হাজারীবাগ জেলা
থেকে।এসেছিলেন নয় আনা হয়েছিল-প্রলোভন দেখিয়ে।
চা-গাছ--ঝাড়লেই টাকা  পাওয়া যায়।ঘন অরন্য ত্রিপুরায়।
সালটা সম্ভবত  1915-1916 হবে।

শুধু বিহার থেকে নয়।উড়িষা,পশ্চিম বাংলার পুরুলিয়া,
উওর প্রদেশ,মধ্যপ্রদেশ,বিভিন্ন রাজ্য থেকে।কারও মাতৃ
ভাষা হিন্দি,কারও উড়িয়া,কারও ভোজপুরী,  কারও বা নাগপুরী,কারও সাঁওতালী।বাগানের ম্যানেজার বলত বাংলা।ইংরেজের কর্মচারীরা বলত ইংরেজী।,কেউ কারও
ভাষা বুঝত না।মনের ভাব প্রকাশ করা ছিল দুঃসাধ্য।সব
ভাষা মিলে চা-বাগানে এক ধরনের কথ্য ভাষা সৃষ্টি হল।
কিন্তু কি বলবে এই ভাষাকে।তখন কেউ ততটা মাথা ঘামায়
নি।কিভাষা বলা হবে এটাকে।কেউ বলত জংলী কেউ বলত বাগানীয়া।এই সমস্যা শুধু ত্রিপুরায় নয়। আসাম,
বাংলাদেশ--যেখানে চা-বাগান  কিংবা কোন শিল্প কারখানা
তৈরী হয়েছিল--ঐ সমস্ত জায়গার মানুষেরা এই সম্যায়
পড়েছিল।এই সব জাতি গোছষ্ঠীর নিজস্ব মাতৃ ভাষা আছে।
যা নিজ গোষ্ঠী  ছাড়া অপরের কাছে দুর্বোধ্য।কোন কোন
আদিবাসী  জনগোষ্ঠী  নিজস্ব  মাতৃভাষা  বর্জন  করেছেন
কিংবা ভুলে গিয়েছেন।এই সমস্ত মানুষেরা মিশ্র ভাষা ব্যাব
হার করেন।ভাষাবিদরা এই ভাষাকে লিঙ্গুয়া ফ্রান্কা(Lingua frnca)বা সংযো
গস্হাপন কারী ভাষা বলেন।

সংযোগস্হাপন কারী ভাষা গুলোর মধ্যে সবচাইতে বেশী সাদরী ভাষায় কথা বলা হয়।সাদরী ভাষা স্হান ভেদে বিভীন্ন নামেও পরিচিত।যথা (লুইসের মতে)সাদানি,সাদানা,সাদতি,সদরী,সাধন,সদনা,সদরিক,সিদ্দ্রী,স্রাদি,সাধারি,সদন,সান্ত্রী,নাগপুরি,নাগপুরিয়া,ছোটা
নাগপুরি,দিক্কু কাজি,গাওয়ারি,গাঁওয়ারি,ঝাড়খন্ডি।

সুন্দরবনের জনজাতি মানুষষদের(ছোট নাগপুর থেকে
আগত সাঁওতাল,মুন্ডা,ওরাওঁ,ভুমিজ,)মধ্যে সাদরী ভাষায় কথা বলে।শুধু সুন্দর বনেই নয়,উত্তর বঙ্গের বিস্তীর্ন এলাকায়(চা-বাগান এলাকায়)কিংবা বাঁকুরা,পুরলিয়া,চব্বিশপরগণা,মানভুম,মালদহ প্রভৃতি
জেলার মানুষ এইভাষায় কথা বলেন।,এছাড়াও বিহার
ওড়িশা,আসাম,ঝাড়খন্ড,ছত্তীশগড়,মধ্যপ্রদেশ,আন্দামানওনিকোবর,ত্রিপুরার আনুমানিক 2(দুই)কোটির বেশি মানুষ
এইভাষায় কথা বলেন।বাংলাদেশেও বিশেষ করে চা-বাগান এলাকায় এই ভাষায় কথা বলেন।

আমাদের রাজ্যেও এক লাখের বেশি মানুষ সংযোগ স্হাপনকারী ভাষায় কথা বলেন।কিন্তু এই ভাষার নিদৃষ্ট
নাম ছিলনা।কেউ জংলী বলত কেউ বলত বাগানীয়া।
1987সালে সিমনার নরেন্দ্র পুর চাবাগানে ঝুমুর সাহিত্য
সংস্কৃতি  সংসদের এক সভায় এইভাষা নিয়ে আলোচনা
হয়।সভায় উপস্থিত  ছিলেন লোক কবি বুধুদাস পানিকা,কথা সাহিত্যীক জয়া গোয়ালা,সংসদের উপদেষ্টা
টনি লাল পাঁড়ে,সভাপতি বিরষা সাঁওতাল,সহ সভাপতি প্রমোদ কেউট,মোহন ঘাটুয়াল,রন্জিৎ নায়েক,অরুন গোয়ালা প্রমুখ।জয়া গোয়ালা প্রস্তাব রাখেন-যেহেতু বিভিন্ন  ভাষার সংমিশ্রণে  একটা  মিলিঝলি ভাষা সৃষ্টি  হয়েছে-
এটাকে ছিলোমিলো ভাষা বললে কেমন হয়? সংগে
সংগে বুধুদাস পানিকা সহ সবাই সহমত পোষণ  করেন
এবং এই রাজ্যে এই ভাষাকে ছিলোমিলো ভাষা হিসাবা
আখ্যায়িত করা হয়।

1984 সালে প্রথম লোক কবি বুধুদাস পানিকা ছিলোমিলো ভাষায় গান লিখেন।পরবর্তী সময় জয়া গোয়ালা।বুধুদাস
পানিকা,জয়া গোয়ালার গান কবিতা রাজ্যে,বর্হিরাজে এমনিক বাংলাদেশেও সমাদৃত।জয়া গোয়ালা তাঁর উপন্যাস,গল্পে ছিলোমিলো ভাষা ব্যাবহার করেছেন যা
পাঠক সমাজে সমাদৃত হয়েছে।এর পর বিপ্লব উরাং লিখছেন।পাঠক সমাজ গ্রহন করছেন।

ইদানিং  নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা লিখতে শুরু  করেছেন যা ছিলোমিলো ভাষীদের কাছে গর্বের।এঁদের
মধ্যে আছেন অজয় সুরেন সাঁওতাল,অনন্ত উরাং,নান্টু
উরাং,শীলা সাঁওতাল,সুশীল মুন্ডা,মামুনি সাঁওতাল,বিদ্যুৎ
বারাইক,মধুমিতা বারাইক,পৃজা বারাইক,রিমা গোয়ালা।অজয়,শীলা,মামুনিরা সাঁওতালী ভাষায়ও লিখছেন।

আশার কথা বাংলা ভাষী লেখক,কবি নাট্যব্যক্তিত্বরাও
ছিলোমিলো ভাষা বিকাশে এগিয়ে আসছেন।
 বিশিষ্ট  সাংবাদিক,গনসংগীত শিল্পী  সমীর ধর বুধুদাস
পানিকা-র গান নিয়ে (ডর ক্যানে অন্তরে)গানের ক্যাসেট
বাহির করেছেন।এই ভাষা নিয়ে লেখা লেখি করছেন সমীর
ধর,কবি দিলীপ দাস,কবি বিমল চক্রবর্তী,সমর চক্রবর্তী।ছিলোমিলো ভাষায় কবিতা লিখছেন মধুমিতা নাথ,শ্যামল কান্তি দেব।যারা কবিতা লিখছেন তাঁদের প্রতি অনুরোধ,উচ্চারন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে নজর রাখবেন।
পুরুলিয়া অন্চলের ভাষার সঙে মিলিয়ে নেবেন না।ছিলো
মিলো ভাষার সঙে মিল থাকলেও উচ্চারণে  প্রার্থক্য আছে।

এই রাজ্যের প্রকাশকরাও এগিয়ে আসছেন।এঁদের মধ্যে নব
চন্দনা প্রকাশনী,অক্ষর প্রকাশন,সৈকত প্রকাশন,ত্রিপুরা
দর্পন প্রকাশনের নাম উল্লেখ করতে হয়।ব্যাক্তি বিশেষের 
নাম ও উচ্চারণ  করতে হয়।বিশিষ্ট কবি রাতুল দেববর্মণের সহযোগীতা ছাড়া আমার প্রথম কবিতার বই--এক বিঘত
জমিন।প্রকাশ করা সম্ভব হত না।

পরিশেষে বলব আসাম,বাংলাদেশ,পুরলিয়া,ত্রিপুরার স
ংযোগস্হাপন কারী ভাষীরা যাতে এই ভাষায় বেশি বেশি
করে সাহিত্য চর্চা করে এই ভাষাকে আরও সমৃদ্ধ  করেন।

ঋণ স্বীকার -----ঝন্টু বড়াইক।
সহকারী অধ্যাপক ও সাদরি ভাষার গবেষক,রবীন্দ্রভারতী
বিশ্ববিদ্যালয়।
সন্জয় কুমার তাঁতী---বিশিষ্ট লেখক,আসাম।
মাতৃভাষা শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম নয়
পহেলি মুখোপাধ্যায় 

মাতৃভাষা জিনিষটায় তো গর্ব বোধ করার মতো।মাতৃভাষা নিয়ে সবাউ গর্ববোধ করে,আমিও করি।তা বলে মাতৃভাষায় শিক্ষার একমাত্র মাধ‍্যম হওয়া উচিৎ,তাতে আমি একমত হতে পারছি না ।
   কারণ,বাঙালি পরিবারের ছেলেমেয়েরা সকালে ঘুম থেকে উঠেই রাত্রে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত মাতৃভাষা বাংলাতেই কথা বলবে,সেটা স্বাভাবিক।সুতরাং একটা বাঙালি পরিবারে জন্মানোর দৌলতে বাংলা ভাষাটা তো এমনই শিখে যাবে।
    মাতৃভাষার পাশাপাশি সব ভাষাও শিখা খুবই জরুরী।কেবলমাত্র মাতৃভাষাটাকে আকড়ে ধরে অন‍্যান‍্য ভাষাকে অবজ্ঞা বা অপ্রয়োজন মনে করলে চলবে না।
   অন্ততপক্ষে আমাদের রাষ্ট্রীয় ভাষা হিন্দী এবং আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরাজীটা ও শেখা খুবই প্রয়োজন।
     এই যেমন ধরেন-অনেকেই ভাবেন যে ,নিজের ছেলে মেয়েরদেরকে বাংলা মিডিয়াম স্কুলে পাঠালে ইংরাজীতে দুর্বল হবে আর ইংরাজী মিডিয়াম স্কুলে পাঠালে বাংলায় দুর্বল হবে! এই রকম কিছু সমস‍্যা একটু-আধটু তো থাকবেই।
   বর্তমান যুগে সব খানেই ইংরাজী ভাষাটা প্রধান ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।যদিও আমার মাতৃভাষা ইংরাজী নয় ,তবুও আমাকে ইংরাজী ভাষাটা শিখতে হবে!
নাহলে আমি কেমন করে সরকারি বা বেসকারি চাকুরির জন‍্য দরখাস্ত করতে পারবো?তাছাড়া আজকাল যেকোন বিশষ অনুষ্ঠানেই বিশিষ্ট বক্তারা ইংরাজীতেই বক্তব‍্য রাখেন।আমি যদি ইংরাজী ভাষা বুঝি না তাহলে আমি বক্তার বক্তব‍্য কিই বা বুঝবো?
    তাছাড়া আজকাল ইংরাজী ভাষাটা শৌখিনের ভাষা হিসেবেও চলছে।নিজের মাতৃভাষা এক কোণায় রেখে ইংরাজীতে দু-একটা বাক‍্য বলেও মানুষ বড় হতে চায়।যদি আমার ইংরাজী জানা থাকে,তাহলে কেউ যদি  আমাকে ইংরাজীতে কিছু একটা জিজ্ঞেস করে,তাহলে আমি কি বোঝে কি উত্তর দেবো?
হ‍্যাঁ, মাতৃভাষায় অধ‍্যয়ন বা শিক্ষা এমনভাবে করা উচিৎ ,যাতে ছাত্র ছাত্রীরা নতুন কিছু শিখতে পারে।
    তা,আমার মতে মাতৃভাষায় শিক্ষা একমাত্র মাধ‍্যম হওয়া উচিৎ- সেটা ঠিক নয়।



ক|বি|তা

ভাষা
প্রবালকুমার বসু

কেউ কেউ অনুবাদের ভাষা বলে
কেউ বলে সীমান্ত পারের
কেউ কেউ শীতকালের ভাষা বলে
কারো ভাষা শুধু বিকেলের
কারো কারো ভাষা ভালোবাসা
কেউ তাকে ভাবে প্রতিবাদ
কারো ভাষা রাজনীতি হলে
অনবধানে ভাঙ্গে তা বিশ্বাস
কেউ বলে পাখিদের ভাষা 
কেউ কেউ দুর্বিপাকের
নদীর ভাষায় কেউ বলে
কারো ভাষা শুধুই শোকের
সমুদ্রের ভাষা বলে কেউ
কেউ কেউ নিয়ম মাফিক
কেউ শুধু বলে সেই ভাষা
যেই ভাষা আন্তর্জাতিক
কেউ কেউ সাংকেতিক বড়
কারো ভাষা ভীষণ অচেনা
অনেকে এমন ভাষা বলে
যেন তার ভাষাই ছিল না

আমি তো চেয়েছি সেই ভাষা
যে ভাষায় ফুল ফুটে ওঠে 
ভাষার আড়ালে খুঁজে দেখি
নিজের ভাষাই সংকটে


একুশে ফেব্রুয়ারি
প্রবীর সরকার 

ভাষালগ্ন প্রেমের মাস 
প্রেমলগ্ন ভাষার মাস 
মাতৃমুখে আত্মভাষা 
আত্মসুখে মাতৃভাষা ।
সার্বজনীন ভাষাতৃষা
ভাষাবুকে দীপ্তসুধা
দীপ্ততেজে অগ্নিলিখা 
অভ্রভেদী বহ্নিশিখা ।
গর্বসিক্ত গর্ভমাস 
গর্ভসিদ্ধ গর্বমাস 
গর্জমান উর্ধাকাশ 
উর্ধাকাশে তেজোচ্ছ্বাস।
মুক্তডানা মধুমাস
মধুমাসে মুক্তশ্বাস 
মুক্তদিশা দিগদিশারী
ভাষামাস ফেব্রুয়ারি ।
ফেব্রুয়ারির একুশে 
তুমি আমি এবং সে
মাতৃভাষা ভাতৃভাষা 
সর্বভাষার বিকাশে ।
মাতৃভাষার প্রেমগানে
ভাতৃভাষার উত্থানে
সর্বভাষার সলমাজরি 
অমর একুশ ফেব্রুয়ারি ।

একুশ
রাজীব মজুমদার 

ছোটবেলায় মা হাত ধরে অক্ষর আঁকা শেখাতেন।
বলতেন— বাবা, এ তোমার মায়ের ভাষা। 
প্রতিদিন বড় হতে-হতে মায়ের মুখ যেন মিলেমিশে
আমার ভাষা হয়ে ওঠে। আমি ফারাক বুঝি না,
আমার মা আর মায়ের ভাষা যেন একত্রিত 
শরৎ-হেমন্ত, শিকড়-মাটি, নদী-নৌকো,
আমি ভেসে যাই অমায়িক জীবন নিয়ে, 
মায়ের শেখানো অক্ষর আজ অবধি একমাত্র সম্বল।


আমার জিভ'কে তুলে দিয়েছিলাম মায়ের হাতে।
মা একে একে এতে খোদাই করলেন বর্ণমালা।
আমি কথা বলতে পারতাম না। এখন অনর্গল
বলে বোঝাতে পারি, আমি কাউকে ভালোবাসি। 
বর্ণের সরলতায় সেও আমাকে ভালোবাসে।
এভাবে
আমি
আমার প্রেমিকা 
উদ্ধত আবেগে মায়ের ভাষায় প্রেম করি। 



বাংলাদেশ: প্রাণের ভাষা 
মাসুদা তোফা

অনাদরে  অবহেলায় চলছে মায়ের  ভাষা
লিখছি  বানান যে যার মতন খেলছি যেনো পাশা।
সালাম বরকত রফিক জব্বার জীবন দিল আশায় 
ভাষা  হবে, বলবে কথা বাংলা  মায়ের   ভাষায়। 

শিমুল পলাশ ফুলে হলো বর্ণমালার  মালা
বায়ান্নতে  রক্ত ঢেলে  গাঁথলো ভাষার মালা।
শহিদদের সে  রক্তের দামে  বাংলা ভাষায় লিখি
ভালোবাসা কৃতজ্ঞতায়   তাঁদের স্মরণ  রাখি। 

প্রাণের ভাষা  পেলাম যখন রাখি তারে প্রাণে
বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস  মানে।
ভাষা এলো , স্বাধীন দেশের স্বপ্ন আশা এলো, 
রক্তের দামে  সোনার দেশের  স্বপ্ন পূরণ হলো।
বিশ্ব সেরা  হবে  এদেশ স্বপ্ন শুধু  দেখি
বুকের মাঝে এই ছবিটি সারাক্ষণই রাখি । 
বাংলা আমার প্রাণের ভাষা, প্রাণ জুড়ানো দেশটা
জনম জনম  থাকুক মাগো ভালবাসার রেশটা
গর্ব যত ঋণ যে তত তোমার  তরে  আমার 
বিপদ এলে রাখবো তোমায় বুক পকেটে  জামার।

একুশের গান
শ্যামল কান্তি দে
এবার একুশ হকের জন্য
এবার একুশ সংগ্রাম ,
এবার একুশ শতকের
এবার একুশ লক্ষ মা ৷
এবার একুশ রক্ত কনা 
এবার একুশ মুক্তি ,
এবার একুশ সর্বহারার
এবার একুশ তুমি সুর্য ৷
এবার একুশ অনন্য অনন্যা
এবার একুশ শক্তি ,
এবার একুশ স্বাধীনতা
এবার একুশ একুশের প্রেরণা ৷

একুশের গান
পুলিন রায়
একুশের গান-এক.

কোকিলের ডাক
নদীর কলতান
পাতা ঝরার শব্দ
সবুজের আলপনা
দিগন্তের রঙিন ঝালর
দখিনা বাতাসের কলধ্বনি
কিংবা 
মেঘেদের নিপুন ছন্দে---ভাষার গান
মায়ের মুখে মর্মরিত কলহাস্যময় সুরের ঝংকার।

একুশের গান-দুই.

দূর আসে কাছে রোদের সাথী হয়ে
চোখের তারায় নীল প্রত্যাশা করে খেলা
নদী ছুটে সাগরপানে
জনতার কল্লোলিত গুঞ্জরণ
আরো দৃঢ় হয়
পাখির পালকে আকাঁ স্বপ্ন হয় আরো উজ্জ্বল
পৃথিবীর পথে পথে লালসবুজের উঁকিঝুঁকি 
হাসছে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
হাসুক তাবৎ প্রাণ
একুশের চেতনায়
অভিমান
পুলিন রায়

অভিমানে জড়ানো আরো কিছু কথা ছিলো 
আরো কিছু প্রেম চেয়েছিলে
সোনাঝরা দিনের নিরাভরণ মুহুর্তে 
সাক্ষী ঝলমলে রোদ আর পাতার আড়াল থাকা কোকিলের ডাক
হারানো দিনের স্মৃতিরা আনে
অবিমিশ্র অনুভূতির আনন্দাশ্রু
আরো কিছু অভিমান জমা থাক 
কিছু অভিমান ছুড়ে দেই বসন্তদিনের শরীরে...

কথাবার্তা

চৈতন্য ফকির
বর্ণমালা

বাংলা অক্ষরের শরীর জুড়ে জ্যোস্না ও উষ্ণতা।

এ দল ছেড়ে সে দলে নাম লেখাতে রাজনীতির মতো সাহিত্যিকদেরও জুড়ি নেই।কোন কোন প্রকাশক তো মওকা মারার মতো দল ভারি করেই আনন্দে আছেন।আবার কেউ কেউ দল ত্যাগ করে আনন্দ পান।বেশ জমছে খেলা।
আমি হাসবো না কাঁদবো না করে সম্মানীয়দের শ্রদ্ধাই করি।
নিজেকে আরো শাণিত করে কলম তরবারিতে শান দিই।
ঢেঁকি নরকে গেলেও ধানই কুটবে এ বিষয়টা আমার নিজস্ব। 
দলবল হলো না বলে আমি দলীয় নয়।

লিখতে এসে জানি কার কেমন পিপাশা।কে কতটুকু। 
কলম তাই খাপছাড়া তরবারি।যেদিন
কলম আর চলবে না নিজেই পরিয়ে দেবো 

সীমাবদ্ধতার দেওয়াল।

কত কত ডান হাত বাম হাত হয়ে যায়।
বাপুরাম তবু হেঁটে হাটে হেঁটে আসে যায়।

বনতট হাতে নিয়ে তবু  কেউ মিটমিটে চায়।
হারাধন পটাপট ক্লিক মেরে ছবি করে দেয়।

আমি বলি
প্রকৃত মানুষ খুঁজি
তাই
মাটি থেকে তুলে আনি কিছু
মানুষ।

আমি প্রকৃত মানুষ খুঁজবো
বারবার 
তাই ডাকবো
মানুষদের।

২০:০২:২০২১
রাত:০৭:৪৮মি
কুমারঘাট
বাংলা মানে কী
সিমু দাশপুরকায়স্থ
  
বাংলা 
         মানে সৃষ্টি ।
বাংলা 
         মানে এক পস্ লা বৃষ্টি। 
বাংলা 
         মানে বাউল গান ।
বাংলা 
         মানে আড্ডা, রস-গান ।
বাংলা 
         মানে মায়ের ভাষা।
বাংলা 
        মানে সংগ্রামী ভাষা।
বাংলা 
         মানে একুশে ফেব্রুয়ারি 
বাংলা 
      ভাষাকে ভুলতে নাহি পারি   
বাংলা 
        মানে  কবির ভাষা ।
বাংলা 
        মানে জাগায় প্রত্যাশা ।
 
            

ইক হপন
শ্যামল কান্তি দে

বাবুরা ,
কাইল রাইতে ইক হপন দিখি গাঁ
লাই কুন টকা পাইবার লাই ৷
হপনটা ইকবার শুনি লও বাবুরা ,
মু ইকটা কবর লগে দড়াই আছি ৷
কবর পাথ্যরটার ইখানে ওখানে
শ্যাওলা ছড়াই গিছে অন্যক পুরান ৷
কটা লিপি খুদ্যই আইছে পাথ্যরটায় ,
পইড়তে চাইলম লিখ্যটা , পারি লাই
লিজে সাফ কইরতে লগি পাথ্যরটা ৷
ইবার পইড়তে পাইরলম লিখ্যটা ,
      " আমার ভাই এর রক্তে "
পাথ্যরটা বার বার সাফ কইরতে লগি
বাবুরা অর কুন্ন লিখ্য পইড়তে
লাই পাইরলক মুর ডাগর দুই চুখ ৷
মইনের মইঝে যন্ত্রনা লিয়ে
কবর পাথ্যরটা ঘুইরতে থাকি ৷
কান ঠেকাইলম পাথ্যরটার গায়ে
বাবুরা , শুনলম কেউ কথা বইলছে ,
   " মুক্তি চাই , আমারে মুক্ত কর "
তখ্যন দূরের কুন্ন মিছিল থেইকে
ভেইসে আইল একুশের মনের কইন্ঠ
 " আমার ভাই এর রক্তে রাঙানো
          ২১শে ফেব্রুয়ারি
      আমি কি ভুলিতে পারি "
মু কবর পাথ্যরটা ভেইঙে চুড়মার
কইরে কইরে দিখি বাবুরা
মুর অ আ ক খ কথা বইলছে ||
অমর একুশ
আব্দুল হালিম

একুশ মানে ঝড়ের নদী
যুদ্ধ জয়ের খাম।
একুশ আমার রক্তে কেনা
বাংলা মায়ের নাম।

একুশ আমার আঁধার হরা
সূর্যোদয়ের ভোর।
আকাশ চিরে ভেসে আসা
হাজার পাখির সুর।

একুশ মানে মন ভোলানো
কাঁচা বাঁশের বাঁশি।
একুশ আমার ছোট্টমেয়ের
ফোঁকলা দাঁতের হাসি। 

একুশ আমার বাংলা হরফ
একুশ কালের গান।
এই একুশের মধুর ছোঁয়া
জুড়ায় কোটি প্রাণ।

একুশ মানে ভোরের মিছিল
এগিয়ে চলার ডাক।
একুশ মানে পালিয়ে যাওয়া
হাজারটা দাঁড়কাক।

একুশ মানে রফিক সালাম
হাজার শহীদান।
অমর একুশ অতুল সেনের
প্রাণ জুড়ানো গান।

আমার একুশ মায়ের কথা
বাবার আদর স্নেহ।
এই একুশের ছায়ায় বসে
জুড়াই মন ও দেহ।

একুশে
রসরাজ৷ নাথ

একুশে বসন্ত এসেছিল
             রক্তগঙ্গায় -
একুশে পেলো
মাতৃ -ভাষার আন্তর্জাতিকতা ।
মহান একুশে
একুশে ই রয়ে গেলো
এ কোন অশনি সংকেত ?
 
বাঁচুক বাঁচুক,বাঁচাবো
তোমার আমার ভালবাসা
মাতৃভাষা মাতৃভাষা ।

মা
চৈতন্য ফকির

ক-তে কাঁটাতার
আটকে আছে
এপার ওপার
দুপারে দুই-মা।

বাংলাভাষা মা
বর্নমালা মা
মাতৃভাষা মা

সব ক'টা তার উগলে চলো
বাংলায় ডাকি -মা।

২১:০২:১৭
বেলা:১১:২২টা
আগরতলা

বর্ণমালা
গোবিন্দ ধর

আমাদের সময় এত কাগজ ছিল না
বাবা দিলেন শ্লেট আর চক।
এই শ্লেট থেকেই উঁকি দিল
ঝকঝকে সাদা বর্ণমালা।


মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্ দ্বিপ্রহর VS আত্মহত্যা
গোবিন্দ ধর

ঠিক তেলে জলে না মেশারঝোঁক যতটা কাম্য ছিলো না
ততটা দূরত্ব নিয়ে, আঁটোসাঁটো
ছবিমানুষ তুমি
কথা না বলে বলিয়ে নাও
নিজের আত্মহনন মুহূর্ত।

তুলির আঁচড় দিলাম হ্যান্ডমেড কাগজ দাও
লিখি অসুখ, নিজের বসন্ত।

২১:০২:২০১৭
আগরতলা
সকাল:৫:৪৫মি।

বাংলাভাষা
চৈতন্য ফকির

এত রক্ত লেগে আছে।
এত রক্ত দিলো আমার ভাই।
আমার মা।
আমার বোনটি পারুল।
আমার ভাইটির রক্তস্নাত বর্ণমালা 
আমার মাতৃভাষা।

২১:২:২০১৮
সময়:১২:৩৯মি
রাজেন্দ্রনগর।

বাংলাভাষা
চৈতন্য ফকির

তুমি আমার একুশ
তুমি আমার বর্ণমালা
তুমি আমার ভাষা
তুমি আমার ফাগুন
তুমি আমার আগুন ঝরাদিন।

তুমি আমার বাহান্ন
তুমি আমার
তুমি আমার
ফাগুনে আগুনলাগা
শিমুল পলাশ রঙ্গিন।

২১:২:২০১৮
বেলা:২:৩০মি
কুমারঘাট।


অমর একুশ
রতন চন্দ 

     একুশ তুমি
         একটি দিন,
     রক্তে-লেখা
          অমলিন।
     একুশ তুমি
          আমার ভাষা,
      বুকভরা মা'র
           ভালোবাসা।
      একুশ তুমি
            নতুন আশা,
      বেঁচে থাকার
             তীব্র নেশা।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ