প্রতিদিন বাংলাভাষা ডট স্রোত বুধুদাস পানিকা

প্রতিদিন বাংলাভাষা ডট স্রোত 


ছাপা.ই-ম্যাগাজিন.ইউটিউব - ত্রিধারায় 

প্রতিদিন বাংলাভাষা.স্রোত:০১:০২:০২০২১

বুধুদাস পানিকা সংখ্যা 

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বিগত ২০০৩ সাল থেকেই স্রোত, বাংলাভাষা.স্রোত অনলাইন লিটল ম্যাগাজিন ওয়েবসাইটেও সরব ছিলো।এই করোনাক্রান্তিকালে গত জুন (২০২০) মাস থেকে পুনরায় প্রতিদিন ছাপা ই-ম্যাগাজিন ইউটিউব ভিডিও এই তিনটি ধারায় নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসছে।অচিরেই স্রোত সাহিত্য সংস্কৃতির বিকাশে ওয়েবসাইটও পুনরায় আসছে নতুনভাবে। 
এই অন লাইন ই-ম্যাগাজিন ও স্রোত সাহিত্য সংস্কৃতি পরিবারের প্রধান উপদেষ্টা বাংলা সাহিত্যের অহংকার কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। উপদেষ্টা মণ্ডলীতে আছেন রবীন্দ্র গবেষক উষারঞ্জন ভট্টাচার্য, গবেষক পবিত্র সরকার,তপোধীর ভট্টাচার্য, অমিতাভ দেবচৌধুরী, শ্যামল ভট্টাচার্য, রামকুমার মুখোপাধ্যায়, তন্ময় বীর,দেবব্রত দেব,বিকাশ সরকার মহোদয়।

সম্পাদক গোবিন্দ ধর। 
সহ সম্পাদক পদ্মশ্রী মজুমদার। 
সহযোগিতায় সঞ্জীব দে ও বিজন বোস,সংগীতা গুপ্ত,রঞ্জু সিনহা,অর্চনা সিনহা।

পথ চলতে আরো অনেকের সহযোগিতা আমরা পেয়েছি।পাচ্ছিও।

পড়ুন:http://banglabhasha.srot.online/2020/09/blog-post_27.html

লেখা পাঠান:ই-মেল:boibari15@gmail.com
হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর :+৯১৯৪৩৬১৬৭২৩১

কবি বুধুদাস পানিকা সংখ্যা 

উল্লেখযোগ্য প্রত্যেক কবি ছড়াকার অণুগল্পকারদেরকে নিয়ে প্রতিদিন  বাংলাভাষা.স্রোত এর সংখ্যা প্রকাশ করা হবে।কবির কবিতা ভাবনা,একগুচ্ছ কবিতা যাঁদের বই আছে বইটি নিয়ে আলোচনা এবং কবি পরিচিতি নিয়েই সংখ্যাটি সেজে উঠবে।
প্রথম সংখ্যা কবি বিশ্বজিৎ দেব সংখ্যা। দ্বিতীয় সংখ্যা কবি কচি রেজা সংখ্যা। তৃতীয় সংখ্যায় একজন তরুণকে নিয়েই করে নিলাম সংখ্যাটি।কবি লিটন শব্দকর সংখ্যা। চতুর্থ সংখ্যা কবি ও কথাকার হারাধন বৈরাগী সংখ্যা। পঞ্চম সংখ্যা লোককবি বুধুদাস পানিকা সংখ্যা। এই সংখ্যা সমীর ধর ও বিপ্লব উরাং এর সৌজন্যে সম্ভব হয়েছে প্রকাশ করা।না হয় অসম্ভব ছিলো।কৃতজ্ঞতা সমীরদা ও বিপ্লবদাকে।
আসুন পাঠ হোক কবিতা।পাঠ হোক সাহিত্যের মুণিমুক্তো।

বুধুদাস পানিকা সংখ্যা 




লোককবি বুধুদাস পানিকা
সমীর ধর

লোককবি বুধুদাস পানিকা-র ২৪ তম প্রয়াণ দিবসের প্রাককালে তাঁকে স্মরণ করছি। গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। এখানে "আর কত সবই জ্বালা" বইটার প্রখ্যাত কার্টুনশিল্পী ফণিগোপাল মোদক (ভোলা ময়রা) -কৃত প্রচ্ছদ, শ্রদ্ধেয় অনিল সরকারের ভূমিকা এবং আমার লেখা লেখক পরিচিতি তুলে ধরছি বইমুখ-বন্ধুদের জন্য।    

বুধুদাস পানিকা-র  ৩০টা গান নিয়ে এই চটি বইটা বার করার সিদ্ধান্ত করা থেকে সম্পাদনা সমেত সব কাজই করছিলাম আমরা তিন বন্ধু একসঙ্গে। প্রখ্যাত লেখিকা  জয়া (গোয়ালা) , তাঁর স্বামী  টনিলাল আর আমি (তখন ডেইলি দেশের কথা-র বার্তা সম্পাদক)। নেপথ্য-প্রণোদনা ছিল কবি অনিল সরকারের। অন্তরের দায় পালনের তাগিদ আমাদের যতটা ছিল, ততটা  প্রকাশন-সৌকর্য নিয়ে সার্বিক চিন্তা, দক্ষতা আর আর্থিক সামর্থ্য ছিল না। তাই, প্রচ্ছদশিল্পীর নাম বাদ পড়ার মতো ভুলও রয়ে গেছে। ভেবেছিলাম দ্বিতীয় সংস্করণে এসব ত্রুটি দূর করা যাবে। 

কাজ যখন শেষ পর্যায়ে, বুধুদা তখনও বেঁচে। তাঁর উপস্থিতিতেই ৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮ মেঘলিবন্দ চা বাগানে বইটা উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু ১ ফেব্রুয়ারি কবি প্রয়াত হন। কাজ স্থগিত রেখে আমরা  ছুটে যাই মেঘলিবন্দ বাগানে কবির শেষ কৃত্যে। ফিরে এসে ০২-০২-১৯৯৮ তারিখ রাতে চোখের জল মুছে  লেখক পরিচিতি-টা লিখেছিলাম। অনিলদা-ও সেদিনই "ভূমিকা নয়" বলে অতলান্ত গভীর ভূমিকাটা লিখেছিলেন। এইসব নানান কারণেই চটি বইটার সঙ্গে আমাদের কতটা আবেগ জড়িয়ে, হয়তো বোঝাতে পারিনি, বোঝানোর ক্ষমতা নেই বলে।


তাই, যখন দেখি, কে বা কারা "দ্বিতীয় সংস্করণ"-এর নামে বইটার নাম বদলে, শ্রদ্ধেয় অনিল সরকারের ওইরকম একটা অমূল্য  ভূমিকা পেছনে নিয়ে, আমার লেখা 'লেখক পরিচিতি' বই থেকেই  সম্পূর্ণ  ভ্যানিশ করে দিয়ে, আবোল তাবোল লিখে কার্যত লোককবিকেই অপমান করেছেন, তখন প্রতিবাদ করতেও কষ্ট পাই। রুচিতে বাধে। ব্যথা পাই এটাও ভেবে যে, এতে আত্মমগ্ন বাউল-মানুষ  বুধু-দাকে না বিড়ম্বিত হতে হয়। জয়া  বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই এর যোগ্য প্রতিবাদ করতে পারতেন।  

মূল বই-তে প্রকাশকের রীতিমাফিক ঘোষণায় লেখা হয়েছিল, "ঝুমুর প্রকাশনীর পক্ষে জয়া গোয়ালা কর্তৃক প্রকাশিত "। ঝুমুর সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ, যার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন বুধু-দা, তার সঙ্গে সাযুজ্য রাখতেই শুধু এটা করা হয়েছিল, কারও নাম কামানো কিংবা কোনো প্রকাশন ব্যবসা খোলার জন্য নয়। প্রসঙ্গত, মূল বইয়ের দাম ছিল পাঁচ টাকা।




লোক কবি বুধুদাস পানিকার 23 তম মৃতু বার্ষিকী ১,লা ফ্রেব্রুয়ারী।। তিনি মারা যান-১৯৯৮র ১লা ফেব্রুয়ারী মেঘলীবনধ চা বাগানে। জন্মে ছিলেন 1930 সালে কালাছড়া চা বাগানে। বুধুদাস পানিকার পুর্ব পুরুষরা এসেছিলেন মধ্যপ্রদেশের বিলাস পুর থেকে।আবাল্য চা শ্রমিকের কাজ করেছেন ত্রিপুরার বিভিন্ন চা বাগানে।এ ছাড়া কখনো দিন মজুরী বা ঘরকামলা।প্রথম দিকে বাগান ম্যানেজার তাকে ব্যবহার করেছে শ্রমিক বিরোধী
নানা কাজে।পরবর্তী সময় সুসংঘঠীত শ্রমিক আন্দোলনে সামিল হন। ছেলে বয়স থেক কন্ঠে ছিল সুর,মনে ছিল গভীর অনুভূতি আর ছন্দ।  ঝুমুর গান বানানোর আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল। 45-46বয়সে লিখতে শুর করলেন গান,কবিতা।যে গানে ছিল দুঃখ,যন্ত্রনা,আশার কথা,লড়াই
আন্দোলনের কথা।দুন্দুভী নিয়ে শোষন মুক্তির যুদ্ধে সামিল হলেন    বুধুদাস পানিকা।প্রানের চেয়েও প্রিয় হয়ে গেল লাল পতাকা,হলেন লোক শিল্পী সংঘের সিমনা অন্চল সভাপতি।গড়ে তুললেন-ঝুমুর সাহিত্য সংস্কৃতি
সংসদ।বুধুদাস পানিকার তিনটি বই প্রকাশিত হয়।
প্রথম বই সহে নালো ঝিঙাফুল 1987 সনে।প্রকাশক
নব চন্দনা প্রকাশনি।দ্বীতিয় বই 'আর কত সইব জ্বালা',
1998 সনে,প্রকাশক ঝুমুর সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ।বইটির
দ্বিতীয় সংস্করন বের হয় 2019 সনে বুধুদাস পানিকার-কবিতা নামে।প্রকাশক হারাকীরি প্রকাশনি।
এছাড়া ঝুমুর সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ কবির গানের
ক্যাসেট  'ডর ক্যানে অন্তরে'প্রকাশ করে2002 সনে।পরিচালক ছিলেন বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী সমীর ধর।ক্যসেটে গান গেয়েছেন রাজ্যের
বিশিষ্ট শিল্পী-শিব প্রসাধ ধর,রন্জনা বরুয়া,সমীর ধর, উত্তম সাহা,ডালিয়া দাস,বাচ্চু পাল, স্বপন মিয়াঁ।

বুধুদাস পানিকার  গান,কবিতা আজও প্রাসঙিক।
বর্তমান সমাজ ব্যবস্হায় যে ভাবে শ্রমজীবি মানুষের
রুটি,রুজির উপর আক্রমন হচ্ছে,যে ভাবে গনতান্ত্রিক
আন্দোলনের উপর বর্বরোচিত আক্রমন করছে,এই সময়ে তাঁর গান,কবিতা আগামী প্রজন্মকে নতুন পথের আলো দেখাবে।

প্রমোশান
বুধুদাস পানিকা

হামাদের পূর্বপুরুষ
কেউ বা ছিল রাজস্হান
রাঁচি বিহার মধ্যপ্রদেশ উড়িষা আর বর্ধমান।

অথায় জমিদারের চাপে
পেটের জ্বালায় জ্বলতো
সেই সুযোগে দালালেরা
মিঠা মিঠা বলতো
আনল তাদের ফাঁকি দিয়ে
কয়লা খনি চা বাগান।।

ঘানির বলদ হয়ে তারা রক্ত করে জল
সাজল তারা পুঁজিপতির উৎপাদনের কল
ঘাম ঝরতো দিন-রাতে
থাকুক বা না থাকুক জান।।

সব জাতে  এক জাত বানায়ে
আগে বলত কুলি
এখন ওরা লেবার বলে
শুনি নতুন বুলি

বাবুদের দয়ায় হলো
হামাদের এই প্রমোশান।।


অন্তর্জালা যেখানে অনন্ত আশার উদ্ভাস
জয়া গোয়ালা

সেই আমি-ই বুধুদা'র প্রয়াণের ক'দিন বাদে মেখলি বনধে গেলাম শোকসন্তপ্ত পরিজনদের সান্ত্বনা জানাতে, বুধুদা'র
সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে। তাঁর প্রতি আমার সেই শ্রদ্ধাঞ্জলি  কি সত্যিই শ্রদ্ধার নাকি লোক দেখানো, আমি ঠিকঠিক বুঝে উঠতে পারিনি আজও।জীবিতের প্রতি চরম
ঔদাসীন্যের পর,মৃত্যুপথযাত্রী অতৃপ্ত আত্মার প্রতি নিদারুন অবিচার করার পর কি আমার এ অধিকার থাকে
তাঁকে----প্রয়াত মানুষটিকে শ্রদ্ধা জানানোর!এর উত্তর অবিরাম খুঁজে ফিরছি আমি।

'আর কত সইব জ্বালা'------বুধুদা'র এ কথা যে শুধু মাত্র
ঘন্টির বাড়ি--র জ্বালার কথাই বলেন নি।গরীবির জ্বালা,
'ভুখমারী'--র জ্বালা, 'বেরোজগারী'----র জ্বালা-----সব জ্বালা
মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে এ-জ্বালার সঙে।তাঁর সুর,গান,ছন্দ,,শোষণমুত্তির জন্য ক্ষুরধার লড়াকু লেখনি
আমাদের বিস্মিত,রোমান্চিত করে।লোক কবি থেকে মহাকবি,আনর্তজাতিক কবির আখ্যায় তাঁকে ভূষিত করি
আমরা।কিন্তএ-কথাটি মনে হয় ষোল আনা খাঁটি যে চা--
বাগিচার কুঁড়েঘরের সেই কবির সমস্ত জ্বালা--যন্ত্রণা অবসানের চিন্তা করেছে একমাত্র অমোঘ মৃত্যই।

কথায়-কথায় একদিন বলেছিলেন বুধুদা, 'গানের লাগিই
চাকরী গেল জোট আমলে।দেখি এই গান হামার লাগি কিছু করে'।

বুকের গহীনে,আশাদীপ সর্বদাই জ্বলত বুধুদা'র' কিছু পাওয়ার প্রত্যাশাত স্বভাব কবি জাল বুনতেন সপ্নের।

আজ বুধুদা নেই।ওঁর অন্তিম স্বপ্ন ওঁর দ্বিতীয় বই-'আর কত
সইব জ্বালা'এখন মানুষের হাতে--হাতে।বুধুদা'র শাণিত চেতনার প্রকাশ অসংখ্য মানুষের মনের মণিকোঠায়। তাঁর
সৃষ্ঠ দুর্লভ গীতিমালায় ঘাম-কান্না-রত্তের আশ্চর্য সংমিশ্রণ,সুবাস।জানি,একদিন সেই সৌরভ হয়ত ছড়িয়ে
যাবে বন-বনান্তর পেরিয়ে,পার্বতীর সীমানা ছাড়িয়ে সুদূরে।
তাঁর অখ্যাত 'ঝিঙাফুল' হয়ত বা পাবে ফুলের মর্যাদা।

আমি আজ তাই হৃদয়ের এক কোণে  উপলব্দির আলোক
বৃত্তে যেন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি আরও অনেক বুধুদাস।পার্বতীর বুকের কোরকে এই বুধুদাসেরা ছড়িয়ে আছে
ঘাস ফুলটির মতো,অবজ্ঞাত,অনাদৃত,অবহেলিত,পদদলিত।একটু
পরিচর্যা,একটু মমতার জন্য উদগ্রীব,আকুলিত---হৃদয়।
সামান্য বারিধারাতেই উদ্বেল হয়ে উঠবে ওরা।জ্বলে
উঠবে,ফুঁসেউঠবে আকাশ ছোঁয়া হয়ে।জাগিয়ে তুলবে
সুপ্ত চেতনাকে,ঘুমন্ত'গণদেবতা'কে।তাদের প্রতি ওকটু
সহৃদয়তা'একটুখানি মায়ালু পরশ ছড়িয়ে দিতে হবে
আমাদের।দৃঢ় বিশ্বাস'এটাই হবে লোক কবি বুধুদাস
পানিকার প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধাঞ্জলি।

সৌজন্যে  "জয়া গোয়ালা রচনা সমগ্র"।

আসতে যেতে না দেখলে
সেটা তোরই ভুল !
কাটা ডালে ঝুলে আছে
 সাদা চায়ের ফুল !!
                            (  গ্রন্থ আলোচনা )

সমর চক্রবর্তী 

ডিজিট্যাল সময়ে  দূরত্ব  আজ ঢুকে গেছে এই হাতের মুঠোয় । মনে হয় সব আমার জানা ।
অথচ পরিধি(সমষ্টি)র দূরত্ব বাড়ে । নইলে এক বছর, মানে 2020-জানু:'তে  হারাকিরি-প্রকাশিত   ছিলমিল  ভাষায়-রচিত , বুধুদাস পানিকা'র  কাব্য গ্রন্থটি যখন 2021-জানু:তে হাতে আসে তখন, বর্তমান এই ডিজিট্যালকে কি নামে সম্বোধন করি ? এ কি তবে আলিশান বাড়ির বারান্দায় ঝুলিয়ে রাখা কোন সুদৃশ্য অর্কিড ! 
শ্রদ্ধেয় পাঠক! নামকরণটি আপনারা স্হির করুন । শাসকবর্গের -- আধিপত্যকে নিশ্চিত করার উপযোগী ভাবনার প্রতিফলিত সময়ে, যে প্রতিফলন বা কেন্দ্রীকতা(ব্যক্তি)কে ভেঙে দিতে, 32 পৃষ্ঠার এ ক্ষুদ্র (!) কাব্য গ্রন্থটি আমাকে আজ বড়ো তাড়িত করে ।
গ্রন্থের প্রতি ছত্রে ছত্রে ভাবনা ও আঙ্গিকে (কথা সুরে ) , বর্তমান পরিধির এক উজ্জ্বল ' আর্কিড ' হলো কি না তা আপনারা ( যারা পাঠ করেছেন) পাঠ পুনর্পাঠ করে স্হির করুন ।
আর আমি , " আর কত সইব জ্বালা সয় না লো ঝিঙে ফুল/ ঘন্টিটা কলিজায় মারে বারি । / ভোর সকালে উঠে আমি চা-পানি বানাই / রুটিটা সিদ্ধ হবার সময় দিল নায় ---" (5পৃষ্ঠা) । " তবে কেনে উপাস করে মাছির মতো মরব ।। / ভূতের মুখে রাম নামে আর কেন রে  ভুলব ।। / সবাই মিলে হালটা ইবার শকতায় করে ধরব ।। " (5--6 পৃষ্ঠা) । " ওরে বাবুধন আজোলে দুখায়েছে হামদের মন / --- বাপের ছিল লেংটি পিন্ধা মায়ের ছিল গামছা / তোরা বাবু মুচকি হাসে করতিস কত তামসা / --- হাতের চাবুক তাদের পিঠে চালাতিস রে ঘনে ঘন ---- /" ( 6 - 7 পৃষ্ঠা) । " বেজান দাগা দিল ব্যাপারি । হায় গো !/ মিতা পাতায়ে মোকে বানায়ল ভিখারী গো / ---- এখন মোকে যাতে হয়ল ঘরের ভিটা ছাড়ি গো ।।" ( 16-17পৃষ্ঠা ) । " হামি ছৈয়াল , নই কবিয়াল, পেশা মোর দিন-মজুরি/ সকাল সন্ধ্যা পেটের দায়ে বাড়ি বাড়ি ফিরি ঘুরি -- " (22 পৃষ্ঠা) , যারা এই কাব্য গ্রন্থটি পাঠ করেন নি --- তাদের এটি সংগ্রহ করার অনুরোধ জানিয়ে আমি আজ যাচ্ছি চা-বাগানে । ফিরে এসে শুনবো , না দেখবো , আপনারা কে কি বল্লেন । কারন কথাইতো কথার জন্ম হয় ।



মেঘলিবন্দ বাড়িতে লোককবি বুধুদাস পানিকা-র ঘরের সামনে তাঁর 
বন্ধু (আমারও) টনিলাল পাঁড়ে-র এই ছবিটা তুললাম ০১-০২-২০২১ তারিখে, বুধুদা-র ২৪ তম প্রয়াণ দিবসে। 

সনীর ধর



বুধু-দা বেঁচে থাকতে (বাড়িতে থাকলে) যে ঘরে "হারাবার নির্ভয়ে " থাকতেন, সেটা এই খানেই ছিল। এই ঘর সেই ঘর নয়। সেই ঘর সত্যিই ছিল তাঁর ভাষায়  "রাতে চাঁদের আলো সাথী" করে ঘুমনোর ভাঙা 'পর্ণকুটির'। 

এখনও, এই ঘর কোনো স্বর্ণকুটির নয়। দেখে মনে হলো, আধপাকা হয়েও পাকতে পারছে না বহুদিন । ছেলে বাবুল অসুস্থ। কোনও কাজকর্ম করতে পারে না। ১৯ বছরের  নাতি রুবেল দাদুর মতোই কার্যত ইশকুলে যায়নি কখনও। সে-ও সুস্থ নয়। যা হোক করে চিকিত্সা চলছে। হায় রে...!

'হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান, দিয়াছ তাপস' - নজরুলের মতো বুধুদাস বলেননি । তাঁর বংশধররা তো সেই  'তাপস"-এর দেখাই পাননি। তাই ধারও ধারেন কম। এ যে কী দারিদ্র্য, অন্তরে-বাহিরে, বাড়িতে আর নাড়িতে, ডাবাও কঠিন। বংশ পরম্পরায় চা বাগান, ইটভাটা-তে মুটেগিরি কিংবা বাড়ি-বাড়ি ছইয়ালগিরি করতে লেখাপড়ার কোনো প্রয়োজন পড়ে না। এই জীবনসত্য বদলায়নি এঁদের জীবনে , কেউ বদলাতে আসেনি। অদলবদল উপরে, তলায়  তলানিও মালুম হয় না। বুধুদা-র ঝুমুর তাই বুঝি চিকন চাবুকে গেয়েছিল--,
"দিনে দিনে রঙ বদলে, 
মন বলো বদলে কার ?"


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ