হিংসা ধর্ষণ বিরোধী কবিতা সংখ্যা :১১:১২:২০২০

হিংসা -ধর্ষণ বিরোধী সংখ্যা :১১:১২:২০২০





হেমন্তের প্রতিবেশী
           ।। কল্যাণব্রত চক্রবর্তী ।।

রাস্তা পেরিয়ে গেলে
       হেমন্তের এক অঢেল শূন্যতায়
           আমার প্রতিবেশীরা বাস করেন ।

সবার মুখে কিংবা কারোর মুখই আমার
ঠিকঠাক চেনা নেই। এ সমস্ত বাড়িতে
জং-ধরা নম্বর প্লেটে দূরবর্তী
নির্বাসনের ঠিকানা লেখা থাকে ।

কুয়াশার ভেতর কোনও প্রতিবেশীর স্মৃতি নেই
  এবং হেমন্তের রাত দিগ্বলয়ের মতো অকারণে
     দীর্ঘ হলে কখনও মনে হতে থাকে

আমার সঙ্গীরা নির্বাসনের মতোই
                         দূরে চলে গেছে ।
ব্যবস্থাপত্র
-----------------------
©সুনীতি দেবনাথ

তোর মাংস শরীর হলো আপনার বৈরী
তোকে ঘিরে উন্মত্ত শকুনীরা হিংস্র হয়ে নাচে
ভ্যাপসা শীতল কবর কিংবা আগুন শ্মশান
মুক্তি নেই কোনখানে কোনকালে কোনদিন
এই ফাগুনের রক্তিম পলাশ কত যে ঝরলো
তোর রক্তের ফোয়ারা লালে লাল করে দিলো
ফ্যাকাসে শরীর মাংস তীক্ষ্ণ নখদন্তে বিদীর্ণ হলো
ধুলো ঝেড়ে চশমা নাকে সংবিধানের পাতা উল্টে
সুবিজ্ঞ আইনজ্ঞের কপালে পড়ে ভাঁজের সারি
পচা মাংসের ব্যবস্থাপত্র আদৌ আছে কি লেখা

কাজরী,
২৫ মার্চ, ২০১৭

হাতকড়া এবং প্রতিবাদের প্রার্থনা ][ সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল

[জর্জ ফ্লোয়েডের হত্যার প্রতিবাদে]

আমেরিকার পায়ের বুটজুতার নিচে আমাদের টুটি।
গলা থেকে গল গল করে বেরিয়ে আসছে রক্ত আর রক্ত
রক্তে ভিজে যাচ্ছে অঙ্গরাজ্য....

বঙ্গদেশ, বার্মা, বেলজিয়াম, ভুটান, বুলগেরিয়া, বসনিয়া...
আমেরিকার চাকার নিচে আমাদের মাথা, মস্তক।
খুলি থেতলে বেরিয়ে ছিটকে পড়ছে মগজ!

কন্ঠের আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়ছে অঙ্গরাজ্যে...
ভারতে, দক্ষিণ আফ্রিকায়, উত্তর কোরিয়ায়, পশ্চিম সামোয়ায়...

আমেরিকার হাঁটুর  নিচে চাপা পড়া বুকফাটা চিৎকার।
শ্বাসরুদ্ধ শেষ নিঃস্বাসের আগে শাদাবাড়িতে শাদা-শাদা থুতু দিচ্ছি
বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বর্ণমালার চিৎকার ছড়িয়ে পড়ছে-

ইংরেজিতে, আরবিতে, উর্দুতে, হিন্দিতে, ম্যান্ডারিনে, স্প্যানিশে।
.........
টরন্টো ৩১ মে, ২০২০।

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল

যে যা করতে চায়, করতে দাও ][ সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল

যে জাদুকর হতে চায়, তাকে জুয়েল আইচ হতে দাও,
যে গান গাইতে চায়, তাকে মাহফুজুর রহমান হতে দাও।
~
যে নেশা করতে চায়, করতে দাও
যে কবিতা লিখতে চায়, লিখতে দাও
যে ঘুমাতে চায়, তাকে ঘুমাতে দাও
যে দাস হয়ে চায়, তাকে ক্রীতদাস হতে দাও।
~
যে ধনী হতে চায়, তাকে বেল গ্রেড হতে দাও
যে শিল্পী হতে চায়, তাকে পিকাস্যু হতে দাও
যে ভুলে যেতে চায়, তাকে ভুলে যেতে দাও
যে আত্মহত্যা করতে চায়, করতে দাও
যে প্রধান মন্ত্রি হতে চায়, হতে দাও
যে যা করতে চায়, করতে দাও।
~
শুধু ধর্ষককে ধর্ষণ করতে দিওনা।
তার জন্য খুনের শাস্তি বিধান পাশ হোক জাতিসংঘে!
------
টরন্টো, এপ্রিল ২০, ২০২০।


দিলীপ দাস 

আত্মবিক্রয়েও আজকাল গর্ব মিশে থাকে
প্রতিবাদের  নেপথ্যেও থাকে আপসের দুরভিসন্ধি
অজুহাতের নির্লজ্জতার মাঝেও থাকে
নগ্ন বিজ্ঞাপন -বিলাস 

নগ্নতার এরকম জারুল-বিলাপ যেভাবে মার্কেট পাচ্ছে
দু-চার বছর পর বিলাপই হবে
মহাকবির অমৃত উপহার,  আর
নগ্নতাই হবে এযুগের উজ্জ্বল পোশাক

বৎস,  স্ব-কুচকিতে তপ্ত দু-হাত রেখে নির্বিকার ঘুমাও
আর আত্মকণ্ডূয়নের ধূপকাঠি পোড়াও ------

------ দিলীপ দাস


জ্যোৎস্না বেগম/ আমি বুদ্ধিজীবী

পৃথিবী যখন অমানবিকতার আগুনে পুড়ছে,
আমি অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছি তখন...
সে আগুনের লকলকে জিহ্বা তো,
                                ছুঁতে পারেনি আমায়!

আমার মেয়েটা যখন সারারাত গণধর্ষণের পর পুড়িয়ে ছাই করা হলো,
সকালেই ঐ ছাইভস্মে চাপা দিয়ে বিবেক,
আমি পলাশের রঙ মাখি গায়!
পৃথিবীর সেরা নির্লজ্জের মতো,
সুখানুভূতি ছড়িয়ে যাই কবিতার শব্দে শব্দে
আমি এক বিকারগ্রস্ত বুদ্ধিজীবী মা!

আমি কলম বিক্রি করেছি পদকের লোভে,
বুদ্ধি জমা রেখেছি রাজভাণ্ডারে,
আমার রূপানলে পুড়ছে---
তাবড় তাবড় সাহিত্যের ঠিকাদার,
আমি এক লাস‍্যময়ী রাজকীয় কবি!

মান্টি অধিকারী দত্ত বৃত্ত 

আকার বিহীন বৃত্ত
 বিন্দুতে বিন্দুতে শব্দ খেলা চলে,

বারবার মুছেছি শব্দ 
  পরিধি পেরলে কেন্দ্র ঘিরে ধরে,

ঘিরে ধরে এক মায়াবী জলহীন স্রোত,
ঘিরে ধরে ছেঁড়া শিকড়ের  নষ্ট শোক,

আমি সেই শব্দ সুখে শরীর কুঁকড়ে থাকি,

       তোমার মাংসের মায়ায় হারতে হারতে
     পুরনো বিন্দু দিয়ে নতুন বৃত্তে ঘর বাঁধি।


অর্পনা সিনহা / আধপোড়া ঐ গন্ধটা

না না, একটুও অবাক হতে নেই!
বাসাতে স্তনপোড়া গন্ধ থাকবেই।
সদ্যযুবতীর লাশ বেঁকে পড়ে আছে মাঠে
তাতে কী? কাজ ছেড়ে স্নান করে নিও।

এদেশে গঙ্গা বইছে এখনও
এখনও তো কাশী বৃন্দাবন রাত জাগে
না হয় কিছু গঙ্গাজল ছিটিয়ে নিও গায়ে,
অথবা না হয় একবেলা নামাজ!
চন্দনে তিলক এঁকে নিও
মাংসপিপাসু কপালে ,বাস্  হয়ে গেলে শুদ্ধ!

না হয় মন্দির মসজিদ আছে অগুন্তি
এদেশে গুরুদুয়ার গীর্জারও অভাব নেই।
রাম আছেন, উনি দেখে দেবেন সব
গীতার বাক্য পালন করে যেও তোমরা।

কর্মের কোনও কু-সু নেই, কর্মই ধর্ম
ওহে ধার্মিকগণ, অন্ধকারে লজ্জা কীসের?
হাত বাড়িয়ে লুফে নাও সুযোগ!
এমন চুল উড়িয়ে অর্ধেক আকাশ চলবে?

তোমাদের পুরুষত্ব জাগবে না বুঝি?
আলবৎ জাগবে, কখনও এককে, না হয়
দলবলে ঝাঁপিয়ে পড়ো ঐ নীল আকাশে!

আধপোড়া গন্ধ ছড়িয়ে বিজয়পতাকা উড়িও!
পাশবিক বলে কিছু নেই এখন আর
বনে তো সু-শাসনই চলছে, জীবন আছে তাতে।

সুশাসন নেই সভ্যতায়, আছে শরীর-ক্ষুধা
শরীরের কী দোষ বলো?
পেট আর ঐ যন্ত্রই সার মানুষের !

না না অবাক কেন হবো বলো?
আকাশ এখন কালচে আভায় স্নাত
রক্ত এখন শুষ্ক কালো, পুড়িয়ে দাও
বাসাতে এমন সুধা, কোন দেশে আছে?

আহারে জন্মভূমি আমার, তুমি দেখ
তোমার স্বাধীনতায় কেমন গর্ব আজও!
বাতাস ভরে উঠুক প্রতিবাদহীনতায়,
চাঁদপোড়া গন্ধে নিঃশ্বাস নিতে পেরে
নিঃশ্চয়ই তোমাদেরও ভালোই লাগবে!



শ্যামৎপল বিশ্বাস 
*
পোড়াও পোড়াও আরো পোড়াও 
সব পুড়ে ছাই হয়ে যাক।
চামের দেশ কামের দেশ 
সব পুড়ে করে ফেলো খাক।
শোষক রেখে শাসক পোড়াও 
ভেজাল সত‍্য বলা যাক।
আত্মার দরজায় খিল দিয়ে দাও 
তোমার সন্তান অবিচার পাক।
মায়ের পেট চিরে তুমি ধর্ম আনো 
সৎকর্ম চুলোয় যাক।


বিশ্বজিৎ দেব 
গায়ে মাখা অপবাদগুলি
....................................
 
পুরোনো গেন্জীর ভেতর যে
গলে যাচ্ছে এত সহজেই 
সে আমার প্রত্যঙ্গের ব্যথা, অনঃশ্বর
ন্যুনতম কোন বাসনা ছাড়াই 
 
অসমাপিকার ক্রিয়াপদগুলি জানে
এই পরিমিতিবোধ ,জানে তীব্র ডিটারজেন্টেও
থেকে যাওয়া তিতিক্ষার দাগ
তেল চিট্ চিটে আবরনস্তর.....
 
ন্যুনতম কোন বাসনা ছাড়াই
সে ঝেড়ে ফেলছে নস্টালজিক 
দেহের বাকল, গায়ে মাখা 
অপবাদগুলি  
 
(*বিশ্বজিৎ দেব)


সঞ্জীব দে 

বুকের ভিতর অনর্গল হতাশার রিংটোন 
বেজে যায় -- বন্ধ চোখেও ভেসে ওঠে 
দিকবিদিক রক্তে ভেজা রাস্তার ছবি!  

জীবন্ত কুমারীর গায়ে জ্বলে ধর্ষকের আগুন 

মিথ্যার ফুলকিতে যত আকাশ ছেয়ে যায় 
অসহায়ের বুকে তত ক্রোধের পাল্লা ভাড়ি হয় 

আজকাল মানুষের ভীড়ে মুখোশ পড়া 
জানোয়ারও বিচরণ করে! 

এখন ভূতের ভয়, বাঘের ভয়, না কোনটাই নেই!! 
আছে মানুষের ভিতর মানুষের ভয়! 
একে কি আধুনিকতা বলে? 
নাকি আদিমতা বলে! জানা নেই !


উমা মাহাতো
।।ষষ্ঠসতী এবং।।

১।অহল্যা

ঘাস,পাথর,মাটি.. 
এসো মিশে যাও আমার সঙ্গে
 ছলনা তো চিরকাল স্বর্গীয়।আছে কিংবা নেই।
প্রকৃতি পুরুষের অহঙ্কার হোক। 

২।দ্রৌপদী

যুদ্ধ পরবর্তী দিনগুলো প্রেমহীন
প্রস্তুতিও   ছিল তথৈবচ
আগুণে ঝলসে যাইনি বলে আজও আমি কৃষ্ণা
'সখা হে এলে না…..' 

৩।কুন্তী

কাউকে কিচ্ছু লুকোতে চাইনি কোনদিন
কেবল জমে থাকা অনেক অনেক কালো,সূর্যের নেপথ্যে.. 
মেয়ে কালো,মা কালো,স্ত্রী  কালো…এবং নারী আলো
হে কর্ণ,হে কুরুক্ষেত্র..
আমার কেবল বলতে চাওয়া

৪।তারা

জয় শ্রীরাম!!
ব্যঙ্গার্থে নয়।ভালোবেসেই উচ্চারণ করছি।
আগামী দিনের অযোধ্যার রাজনীতি
লিখে গেলাম আমি ই।

৫।মন্দোদরী   

জন্মই যদি এমন অভিশপ্ত হয়, হে দেবাদিদেব..
 

নারীর সম্মানে যুদ্ধ জয়,আর এক নারী কে লাঞ্ছিত করে
 আমি ধর্ষণের যোগ্য
কেননা, আমার নারীত্ব তোমার শ্রেষ্ঠ পুরুষকারের পরাজয়ের কারন হতে পারে!! 

৬।সীতা
পঞ্চ-তালিকায় নেই তো কী হয়েছে!
আমার মন-মা-টিই আমার স্বদেশ।
প্রতিবাদ বহু ভাবে করা যায়
কাগজও তো আসলে গাছ-ই
প্রতিবাদী শিকড় মাটি থেকেই উঠে আসে।
শাখায়, পাতায়, ফুলে তার মুক্তিসৌরভ!
সুঘ্রাণ নাও।খোঁজ নাও, সে অন্তরে পরবাসী কি না!

এবং পুনশ্চ।  তালিকা বানাও।
 ৬,৭,৮,৯…..অযুত শুদ্ধস্বর নাম, নারীদিন ছুঁয়ে যাক..

উমা মাহাতো
(প্রকাশিত/টেক টাচ টক)


মৌসুমি রায়
ছায়াশরীর ~

হাওয়ায় আঁচল ওড়ে
আমি আঁচলে আড়াল দিই মুখ
পায়ে পায়ে ঢেউ ভাঙে
আমি ঝিনুকের ভিতরে পাই
আমার কষ্ট কষ্ট সুখ।
বুকের মধ্যে তোলপাড় করে কবিতা
কবিতা নেমে আসে চোখ বেয়ে
কি করে বোঝাই নিজেকে যে যায় সে যায়,
সে ফেরেনা রে বোকা মেয়ে।
জল থৈথৈ মাথার বালিশ
বালিশ গল্প শোনায় অ-সুখের
দেওয়াল চুঁয়ে রাত নামছে
দেখ কেঁদে কেঁদে ক্লান্ত পাঁজর বুকের।

বেহাগ
মৌসুমী ভৌমিক 
***************
ক্রমশঃ সংলাপহীন হয়ে গেলে
নির্জনতায় দুঃখ আসে
ভাটিয়ালির পরে শান্ত জলে
নিগূঢ় নীরবতা। 
জেনে গেছি এখানে কিছু পাওয়ার নেই
তবু এক আশ্চর্য তৃষ্ণা 
বড় হাহাকার
এ বিপন্নতা মিথ্যে ভাবায়
কেবল ছল কেবল আশা
অকারণ সমারোহে নির্লিপ্ততা আসে না
বলেই বোধহয় সংলাপহীনতা।
এও মায়া
দুঃখমায়া, জড়িয়ে নেই আষ্টেপৃষ্ঠে 
আজ আর ভয় হয় না
হঠাৎ যদি ডুবে যেতেও হয় -

(প্রকাশিত)
:

অপাংশু দেবনাথ 
আজন্ম খোঁজ
--------------------
প্রতিটা মানুষের ভেতর একেকটি পশু উৎ পেতে থাকে
প্রতিটা মানুষের ভেতর একেকটা দেবতা জেগে থাকে

পশুর কারণেই দেবতা পূজিত হয়।
পশুরা না হয় অরণ্যচারী বুনোগন্ধা, 
মানুষ তো আদিমতার পরিণাম জানে।

মানুষকে তবু শ্বাপদস্বভাবী হতে দেখি বুনোগন্ধ মেখে শরীরে।
পশু নয়, দেবতা নয়,মানুষের মাঝে তোমাকেই আজন্ম খুঁজি!


একটা মৃত্যু  আমার হাতকে জুতোর দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে 
তমালশেখর দে

একটা মৃত্যু আমাকে আরেকটা মৃত্যুর দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।
একটা মৃত্যু আমাকে আরেকটা চিৎকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
একটা মৃত্যু আমাকে আরেকটা কবিতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
একটা মৃত্যু আমাকে আরেকটা গালির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
একটা মৃত্যু আমাকে আরেকটা প্রশ্নের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
একটা মৃত্যু আমার হাতকে আমার জুতোর দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে!
এবার একটা সঠিক মঞ্চের অপেক্ষা। 
এবার আরও একটা সঠিক ঠিকানার অপেক্ষা। 
লহরী বিদায় নিল, একটা মিছিল কোথায় যেন হারিয়ে গেল!
লহরী বিদায় নিল, অভিভাবকেরা একরাশ উপদেশ গিললেন!
মুকেশভাই,  সালাম। সালাম !  একটা সেলফি হতে পারে?  বেচারা খুশি হবে!
লহরী বিদায় নিল, সমাজবিজ্ঞানীরা নানা গবেষণাপত্র দাখিল করলেন।
বীণা মার্ডার হল। যারা এনিয়ে একটু লেখালেখি করলো, থানা থেকে বাড়িতে ফোন  এলো।
শিল্পী সুকান্তকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হল। 
তিনজন পুলিশকর্মী সাময়িক সাসপেন্ড ।এই সান্ত্বনা -- 
গ্রেট! 
ছোট একটা ছেলেকেও দেখলাম, লাঠি চালাতে!
গ্রেট! 
খাকি পোশাকে কারা যেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলো।
গ্রেট! 
শিক্ষার মান উন্নয়ন চলছে।
গ্রেট!
সব আপনে্ আপ্ হো জায়গা ।
গ্রেট! 
রেলবিভাগের “১৮২” হেল্পলাইন নাম্বার কবে থেকে বিকল, কর্তৃপক্ষ জানে না। 
গ্রেট!
ষাট দিনের সময় থাকলেও, ২০১৬ সালে দাখিল করা অভিযোগের উত্তর আজও আসেনি ।
গ্রেট! 
সেদিন আমার প্রতিবন্ধী স্ত্রী হাজার যাত্রীর হাসির খোরাক হয়ে উঠতে পারতো।
গ্রেট!
একমাত্র মানুষের বিপদে চিরকালই মানুষ হেসেছে।মনিপুরে  গায়ে কেরোসিন ঢেলে মরতে চাইলে, ভিড়ের মধ্যে থেকে কে-যেন  এগিয়ে দিয়েছিল আগুন।
গ্রেট!
আমার সব অভিযোগের ভিতর আমি সব রাজনৈতিক দলকে পেয়ে গেছি।
গ্রেট!
আমি কোন দলের নই। 
আমি কোন ব্যবসা করি না। 
আমি কোন চাকরি করি না।
আমি আপদমস্তক বেকার।
আমি কেবল মৃত দেহ গুণে রাখি। 
শ্মশানে তাঁদের সাথে হেঁটে যাই।
তাঁদের শরীর থেকে  কপাল তুলে নিয়ে আসি আমার ব্যাগে।
সেদিন যেমন একটা ছিটকে পড়ে পেসমেকার তুলে নিয়ে এসেছিলাম।
ধক্ ধক্ ধক্ ধক্ করছিল তখনও যন্ত্রণায় ! 

আমার বদ অভ্যাস --
আমি পালিয়ে আসা কোন নকশালদের সাথে  কথা বলি না।
আমি পালিয়ে আসা বৈরাগীর সাথে কোন সম্পর্ক রাখি না।
যে সাধু পকেটে পিস্তল নিয়ে ঘুমায়।  
আমি তার সাথে ঘুমাই না।     
আমি তিনতলা বাড়িওয়ালা কমরেডের পাছা মুছে দিই না।
 বরং আমি নিজের পুঁদে নিজে লাথি মারতে ভালোবাসি ! 
আমিই আমার ডান গালে চড় মেরে, বাম গালকে খিস্তি দিই। 
আমি  একা হাঁটি ।  আমার খিস্তি আমিই গিলি।
এতে সাহিত্য ভাল থাকে।  
নোংরা হয় না সাদাপৃষ্ঠা।  
তুলসীপাতায়  ধোয়া থাকে বিশুদ্ধ  কবিতা ! 

একটা মৃত্যু আমাকে কাল থেকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। 
একটা জতুগৃহ কাল থেকে আমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
‘আমাকে কি কেউ বিরোধী দলের ভাবছে ?’
এই ভাবনা আমাকে পাগলের মতো অসহায় করে তুলছে।। আমার মাথা ব্যথা করছে। 
আমি এখন বিরোধী দলের, এই ভাবনা আমাকে থানার সামনে দিয়ে গেলে, ভয় পাইয়ে দিচ্ছে।
একটা চড়ের ভয় আমাকেও আচ্ছন্ন করে রাখে।
পুলিশকে আমিও বাঘের মতো ভয় পাই। 

আমার কবিতা লেখার কলম ইনবক্সের ভিতরে ঢুকিয়ে রেখে দিয়েছি। 
এখন দুঃখের সব কথাও ইনবক্সের ভিতরে ঢুকিয়ে রেখে দিয়েছি।
হাতের হাতুড়িটাও ঢুকে গেছে ।
মরিচের পোঁটলা,  তাও! 
এখন,  প্রতিবাদের কথা বলা বারণ।

সিগারেট জ্বালাবার জন্য দেশলাই জ্বালিয়ে ছিলাম।
সেটাও এখন আগুনশুদ্ধ প্যান্টের পকেটে পুরে নিয়েছি। 
কে যেন ভি ডি ও করছে! 
সুকান্তের মৃত্যু দৃশ্য যে আনন্দে লোকগুলো মোবাইলে  ভি ডি ও  করেছিল। 
যে আনন্দে কিশোরগুলো লাথি মারছিল।
অভুক্তের মতো ঝরঝর করে পড়া রক্তের দিকে মানুষ গুলো তাকিয়ে ছিল । 
চোখে লেগে ছিল গিলে ফেলার নেশা !  
ইস্ কি উদ্ভ্রান্ত সে নেশা।

নির্ঘাত ফেইসবুকে ছাড়বে !
আমার প্যান্টের পকেটে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। 
এ' নিয়ে লোকে হাসছে।
 তরুণ ভাইটি আমার,  যা দেখার দেখে ফেলেছে! 
এখন   শত শত শেয়ার হবে।লাইক পড়বে! 
মিডিয়া চলে আসবে  আমার বাড়ি।
 ক্যামেরা অন, রেডি ! চিৎকার করে বলবে -- 
"এ্যা ক শা ন্ "
তারা আমার ছেঁড়া জাঙ্গি দেখে ফেললো!
জাঙ্গির ভিতরে দেখে ফেললো  বিপ্লবী চেতনা।
চেতনার  ভিতরে দেখে ফেললো  সম্ভাবনাময় কোটি কোটি শুক্রাণু। 
এখন আমার  সমূহ বিপদ ! চেতনা ডিনামাইট থেকেও ভয়ানক। 

তারা আমাকে মেরে ফেলতে পারে । 
চেতনার বীজকে শোষকেরা বড় ভয় পায়।
 আমার বাড়ি ঢিল মারতে পারে! 
আমার পেছনে লেলিয়ে দিতে পারে শত শত কুকুর। 
আমার ডান হাতের কলমে চিক্ চিক্ রাম দা বসাতে পারে! 
আমার ইনবক্সে ঢুকিয়ে দিতে পারে পুলিশের লাঠি! 
তারা জেনে গেছে আমার পাইলসের প্র্যাবলেম।
 
একটা মৃত্যু আমাকে কাল থেকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। 
একটা জতুগৃহ আমাকে কাল থেকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
 একটা মৃত্যু আমাকে আরেকটা মৃত্যুর দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।
একটা মৃত্যু আমাকে আরেকটা চিৎকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

একটা মৃত্যু আমার হাতকে  আবার জুতোর দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে !
আপনারা আপনাদের নিরাপত্তা বলয় আরও বাড়িয়ে দিন। 
মঞ্চ থেকে দূরে থাকুন। আরও দূরে।  আরও..

জেগে উঠার সময় 
সঞ্জীব দে

দাঙ্গাবাজরা শুকরের লেজের মতো 
চঞ্চল হয়ে উঠছে! রক্তের গন্ধ শুকে 
কুকুর ছুটছে পেছন পেছন! 
অনৃতবানীতে বায়ুমন্ডল ছাপিয়ে যাচ্ছে 
আজকাল! 
উষ্ণতা বাড়তে বাড়তে 
মানবতা হাল্কা হয়ে
বায়ুর মতো উপরের 
দিকে ছুটছে প্রতিদিন! প্রতিক্ষণ!
মানুষ হারাচ্ছে দেশ! হারাচ্ছে মাটি! হারাচ্ছে প্রিয়জন! 
মা হারাচ্ছে সন্তান! সন্তান হারাচ্ছে বাবা! 
সব হারানোর দেশে—
আমরা সব–হারা বে-না-গ-রি-ক! 
মানুষের মনুষ্যত্ব লুট হচ্ছে সুকৌশলে! 
প্রতিদিন বলাৎকার হচ্ছে সং বিধান! 
গনতন্ত্র নয়! বরং ধর্মতন্ত্রের রথে চড়ে 
চালক দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে —
কেওড়া তলার জমাট স্তব্ধতায়!
হে শুভানুভব —
চুপ থেকোনা! থাকার সময় নয় এখন! 
সমস্ত স্তব্ধতা ভেঙে —
অনৃত মায়া ভেদ করে
শোক পালন না করে! জেগে উঠার সময়!

নূপুর
সময় ফুরায়

আমি বিপ্লবী, আমি প্রতিবাদী
আমি সমাজ সচেতন!
না আমি কিছুই নই, আত্মকেন্দ্রিক!
কেবল বাঁচতে চেয়েছি, সংগোপনে!
বাঁচাতে নয় কেন! একাকীত্ব কিসের!
শ্বাসবায়ু রোধ করে আর কতকাল,
আমার আমি যে নি্ঃশ্বেসিত হয়ে এল,
সময় ডেকে যায়, জাগ্ৰত উত্থিষ্ঠিত!
অবোধ শিশুর লাশ মৃদুহেসে ধিক্কার জানায়!
আমি পারি না গর্জে উঠতে! আমি কুন্ঠিত!
আমি শঙ্কিত আমার সজ্জিত বৈভবে!
আমি শঙ্কিত আমার যাপনের সীমানায়!
আমি সাবধানী আমার আমিত্বের কাছে!
আমার আমিকে বাঁচাতে হলে,
ভুলে গেছি―
তোমাকেও যে চাই―হে প্রিয়।

নূপুর


সংগীতা শীল
ধর্ষক

নির্বোধ পাপী
পাপ করছো দিবানিশি
বলপ্রয়োগে লুন্ঠন করছো
শিশু থেকে বৃদ্ধার দেহ,
নারীর পবিত্র শরীরে 
নোংরা দাগ লাগিয়ে
ঠান্ডা মাথায় খুন করছো
দলবদ্ধ হয়ে কখনো আবার এককভাবে।

ধর্ষিতারা নয়,
অসভ্য নির্যাতক পিশাচ
নষ্টামির কদার্য্যে কুলুষিত সমাজের কলঙ্ক প্রতিটি ধর্ষকবৃন্দ।

সভ্যতাও কাঁদছে ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত আতঙ্কিত জ্বালায়
পৃথিবীর কালচক্রে এভাবেই কি চলবে ধর্ষনবাদের ধর্ম?


 আমি শালা শুয়োরের বাচ্চা  * 
 তমালশেখর দে 

 
আজ বড় ক্লান্ত দেখাচ্ছে তোমাকে।
এক কাপ চা খাও! 
 আশ্রিত ঠোঁট রাখো আশ্রিতের  ঠোঁটে! 

আমি তো এভাবেই  ভালো থাকতে চেয়েছিলাম! 
জীবনের জানালায় এভাবেই চেয়ে চেয়ে জন্মের কাছে ফিরে যেতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু একটা ধর্ষণের ঘটনা, 
ধর্ষণের পর একটা হত্যা 
 হত্যার পর গায়ে আগুন লাগিয়ে  পুড়িয়ে মারার ঘটনা আমাকে ভালো থাকতে  দিল না।
চা খেতে দিল না।
ভাত খেতে দিল না। 
স্ত্রী-র দিকে তাকাবার মতো সময় দিল না।
মেয়েকে কাছে টানার স্ফূর্তি দিল না।

" রাঙ্গাছড়ায় যুবতীর অগ্নিদগ্ধ দেহ" সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় এমন  দুঃসংবাদ আমাকে দাঁড়াতে দিল না।
আমার খুব কান্না পাচ্ছিল।
আমি আমার মেয়ের ঘরের দিকে দৌঁড়ে গেলাম। 
আমি আমার মেয়ের দিকে তাকাতে পারছিলাম না!
কোনদিন এভাবেই যদি আমার মেয়ে হারিয়ে যায়!
কিংবা আমার বন্ধুর
কিংবা আমার বান্ধবীর
কিংবা  কোনো নেতা- মন্ত্রীর 
কিংবা  
কিংবা

আমার খুব ভয় করছে।
ফেইসবুকে কে বা কারা তরুণীটির পোড়া দেহ পোস্ট করলো! 
অবিকল আমার মায়ের ঘুমন্ত দেহের মতো
অবিকল আমার বউয়ের নিদ্রাচ্ছন্ন দেহের মতো 
অবিকল আমার মেয়ের দেহের মতো
অবিকল দিল্লির ধর্ষিত মেয়েটির মতো
অবিকল ধর্মনগরের মেয়েটির মতো
অবিকল আগরতলার মেয়েটির মতো 
অবিকল পৃথিবীর সব মানবীর মায়াবী দেহের মতো!

আমি আমার পুরুষাঙ্গের দিকে আজ তাকাতে পারছি না। 
ভোট দেয়ার সময় আঙুলে যে কালো দাগ দিয়েছিল
সেই বালের দাগ কেনো-যে এখনও পিছু ছাড়ছে না! 
আমি জানি না । 
ধর্ষিতআগুনেপোড়ামেয়েটির সারা শরীরও আজ আমার আঙুলের মতো কালো হয়ে পড়ে রয়েছে। 
মেয়েটিও নিশ্চয়ই ভোট দিয়েছিল?
মেয়েটি  নিশ্চয়ই মিছিলে মিছিলে জ্বালামুখী স্লোগান দিয়েছিল -'চলো পাল্টাই ' !
তালে তালে -- চলো পাল্টাই!
আরও জোরে - চলো পাল্টাই!  
আরও আরও জোরে…
বন্ধুগন, আমি কোনো রাজনীতির কথা বলছি না।
আমি একটি মেয়ের কথা বলতে এসেছি!
তার শরীরে দিতে এসেছি কাপড়। 

হে রাত, আজ ঢেকে রাখো তোমার নগ্নতা! 
আমি আজ উলঙ্গ হবো না। 
আমি তোমার যোগ্য নই।
হে প্রিয়, আজ আমাকে  ভালোবাসার কথা বলো না!
আমি তার যোগ্য নই।
হে আমার প্রিয় নেতৃবৃন্দ,  আমাকে আর প্রতিশ্রুতিপত্র বিলেয়ে দিতে  বলো  না। 
আমি তার যোগ্য নই ।
আমার বারবার মনে হয় -- 
রাত শেষে আমিও এক  বীভৎস ধর্ষক!  
রাত শেষে আমিও এক প্রতিশ্রুতিভঙ্গকারী
রাত শেষে আমিও এক মিথ্যাবাদি, মুখোশধারী লম্পট
রাত শেষে  আশ্রিতকে গিলে ফেলা আমিই সেই অজগর!

একটি মেয়ের পোড়ে যাওয়া  দেহ দেখেতারেরও আমি আতকে ওঠি! 
ফেইসবুকে তার পোড়াদেহ ফেরিওয়ালার মতো ফেরি করি।
রাত আরও গভীর হলে কী-করে যে সব ভুলে ঘুমিয়ে যাই?

আসলে, ঘুরেফিরে আমি শালা একটা  শুয়োরের বাচ্চা!  
 আমার থেকে অনেক ভালো রোদ্দুর রায়!
বোকাচোদা, বিকৃত করে কেবল গানটাই  তো গায়!
[14/03, 6:57 pm] GOBINDA DHAR: বিবর্তন 
সেলিম ঠাকুর 

সজোরে লাথি মেরে 
মানবিক দরজা খুলে 
ষাঁড়েরা ঢুকে পড়েছে কাঁচ-ঘরে 
ক্ষুধাত্ব পঙ্গপালের মতো --- 
চূর্ণবিচূর্ণ করে শুকরের থুতনির 
মতো চেটে নোংরা করেছে সব! 
মায়াবী জালের মোহ কাটেনি এখনো 
এই শতাব্দীর মানুষ এখনো ছুটে পতঙ্গের 
মতো  অগ্নিকুণ্ডে! 
দেবসত্বা অন্ধকারে মুড়িয়ে কামনার তীব্র টানে 
মৃত্যু অভিযাত্রী হ্যায় অন্ধ প্রাণ! 

তবুও নিরাশায় সাঁতার কাটিনা 
হতাশায় অশ্রু ঝরাই না! 
কারণ 
আজো প্রতীক্ষা শেষে সাহসেরা মাথা তুলে 
ওঠে দাঁড়ায়, বজ্রমুষ্টি ছোড়ে ---
শুভানুভবের  সৌরভ হাসনাহেনার মতো 
উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে ---

সবুজের  স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ে 
তারুণ্যের উচ্ছ্বাস জেগে ওঠে 
প্রতিক্ষার বারুদ উষ্ণ হতে হতে 
  আলোর ফোয়ারা ছড়িয়ে ছড়িয়ে 
পেঁচার চঞ্চলতা স্তব্ধ করে দেয়! 

এটাই বিবর্তন! সভ্যতার বিবর্তন!


সঞ্জীব দে 
বিবর্তন

সজোরে লাথি মেরে 
মানবিক দরজা খুলে 
ষাঁড়েরা ঢুকে পড়েছে কাঁচ-ঘরে 
ক্ষুধাত্ব পঙ্গপালের মতো --- 

চূর্ণবিচূর্ণ করে শুকরের থুতনির 
মতো চেটে নোংরা করেছে সব! 

মায়াবী জালের মোহ কাটেনি এখনো 
এই শতাব্দীর মানুষ এখনো ছুটে পতঙ্গের 
মতো  অগ্নিকুণ্ডে! 
দেবসত্বা অন্ধকারে মুড়িয়ে কামনার তীব্র টানে 
মৃত্যু অভিযাত্রী হ্যায় অন্ধ প্রাণ! 

তবুও নিরাশায় সাঁতার কাটিনা 
হতাশায় অশ্রু ঝরাই না! 
কারণ 
আজো প্রতীক্ষা শেষে সাহসেরা মাথা তুলে 
ওঠে দাঁড়ায়, বজ্রমুষ্টি ছোড়ে ---
শুভানুভবের  সৌরভ হাসনাহেনার মতো 
উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে ---

সবুজের  স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ে 
তারুণ্যের উচ্ছ্বাস জেগে ওঠে 
প্রতিক্ষার বারুদ উষ্ণ হতে হতে 
  আলোর ফোয়ারা ছড়িয়ে 
রাতের আধারে পেঁচার চঞ্চলতা স্তব্ধ করে দেয়! 

এটাই বিবর্তন! সভ্যতার বিবর্তন!


ভারতীয় ধর্ষক বলছি !
'অনিন্দিতা দেবনাথ'

পোড়া গন্ধে বড্ড নেশা হয় আমার,
এক নতুন পৃথিবীতে
প্রবেশ করি ।
পোড়া স্তন,পোড়া যোনি,পোড়া জরায়ু 
আহা ! লোভনীয় ।

শুনেছি, দেশে নাকি করোনার ভয়ে,
রোস্টেড্ চিকেন বন্ধ হয়েছে ।

যদিও আমি রোস্টেড্ নারীকে খেতেই ভালোবাসি,
তাই করোনার কবলে পড়বো না !

আর ফাঁসি?
সে তো দূরেই থাক ।।


নীরবতাও নৃশংসতার প্রতীক
--------------------------------------

ফসল কাটা শেষ। ঘরে তুলে নিয়ে গেছো লক্ষ্মী কবে?
পাতা ঝরা কালে জ্বলন্ত মেয়ের আর্তি কেউই শুনিনি।
যে মাটিতে প্রণাম জানিয়ে শুরু হতো মৌন চাষাবাদ!
সে ঘরের মাটির প্রতিমায় নির্জনতার হাহাকার শুনি।

শব্দের ব্যবহারে ঝড়ে যাওয়া আকাশ আজ প্রায়ান্ধ।।
ঝলসে যাওয়া মা খুন হয়ে যাওয়া মা আর ফিরবে না।
তদন্তের স্বার্থেই আইন পথ ধরে এগিয়ে যাবে সত্যের।
ফসল কাটা শেষ। রক্ত তুলে নিয়ে যাচ্ছি এই শবের।

অপরাধী ধরা পড়বে ঠিক! মৃত্যু হবে হয়তো ঠিকানা!
চেনা গ্রাম গঞ্জের ফিরবে হয়তো পুরোনো চেহারা!
তার আগে বলে রাখা শ্রেয়। যে জীবন ফিরলো না।
তার প্রতি সকলের মতো আমারও সমবেদনা আছে।

দু-চার দিন। কিংবা কয়েক মাস। খুব বেশি হলে বছর।

নতুন একটি ধর্ষণ এবং খুন 
শুধু সেইসব পুরোনো ক্ষতকে 
ফের জাগিয়ে তুলবে আবার.....


অরণি বসু
উপহার

অপেক্ষা করো, তোমায় আমি ফুল উপহার দেবো।
কাগজের নয়, প্লাস্টিকের নয়, এমনকি
সত্যিকারের ফুলও নয়।

আমি তোমায় উপহার দেবো পাথরের ফুল
যা প্রয়োজনে তোমার হাতে অস্ত্র হয়েও
ফুটে উঠতে পারে।


মৃত্যুর পরওয়ানা 
রণজিৎ রায় 

পরওয়ানা শুনলেই হৃদয়ে নিরন্তর রক্তক্ষরণ 
মৃত্যু যোগ হলে সুনামির তাণ্ডব
বুকের পাঁজর মর্মর ধ্বনিতে চূর্ণবিচূর্ণ ;
আজকাল ভেজাল মিশে সব ফ্যাকাসে 
পরওয়ানা শুনে মুচকি হাসে 
মৃত্যু যোগ হলেও তর্কবিতর্কের পথ ধরে 
দিব্যি হাসি তামাশায় রঙ্গরসে গল্পগুজব !

হাকিম নড়লেও হুকুম নাকি একদম নড়ে না 
এসব সেকেলে প্রচলিত অতিকথন ;
এখন সূর্য নিজের বৃত্তে নিজেই কসরত করে 
সভ্যতা যত এগিয়ে আধুনিক হবে 
নিত্যনতুন ম্যাজিক আত্মপ্রকাশ করবে ! 

বিচারের মূল্যায়ন নিয়ে যতই হাসি তামাশা 
এক শ্রেণির বিশারদ বুক ফুলিয়ে বলে,  
এ দেশের মূল্যায়ন উন্নত আধুনিক 
ধর্ষক-খুনির বাঁচার অধিকার কত সুরক্ষিত ! 

গণদেবতার রক্তচক্ষুতে একদিন কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙবে 
ঝাঁজরি মেরামতের শলাপরামর্শ চলবে 
বিশেষজ্ঞ কমিটির সভাপতি করা হোক সে উকিলকে 
ঝাঁজরির অসংখ্য অদৃশ্য ফাঁক যাঁর নখদর্পণে 
নির্যাতিতার মাকে মুখ্য পরামর্শদাতা 
যাঁর হৃদয়ে আগ্নেয়গিরির মুহুর্মুহু অগ্নোত্পাত 
কন্যার আত্মার বিলাপের হাহাকার কত সেলসিয়াস 
শীতাতপে থেকে অন্যের উপলব্ধির বাইরে 
অন্যরা কেবল বেশভূষা রঙ্গতামাশা ফাসাফুসা !! 


সোনালী রায় বাগচি 
নারীমেধ

আগুন জ্বলছে কোথাও ।
দাউ দাউ করে পুড়ে যাচ্ছে একটা শরীর ।  
পুড়ছি আমি । আমি...নারী ।
একে একে পুড়ে যাচ্ছে আমার চুল , 
যে চুলে মুখ ডুবিয়ে একদিন জীবনের স্বাদ নিয়েছিল পুরুষ । 
পুড়ে যাচ্ছে চোখ , 
একদিন তোমরাই যাকে বলতে...মীনাক্ষী । 
পুড়ে যাচ্ছে ঠোঁট , গাল , চিবুক...
ছাই হয়ে যাচ্ছে তোমাদের সোহাগের সবটুকু রক্তিম আভা । 
এবারে আগুন ছুঁয়েছে আমার স্তন । 
একটু একটু করে গলে যাচ্ছে দুগ্ধ ভান্ডার ।
তীব্র দাহে ছটফট করছে নাভি ।
জ্বলে যাচ্ছে আমার যোনি পথ । 
যে পথে হে পুরুষ , একদিন তুমিও প্রথম পা রেখেছিলে 
এই অমানবিক গ্রহে । 

এখন আমি নিথর একটা অগ্নি পিন্ড মাত্র ।
ক্রমশঃ ছাই হতে হতে অভিশাপ দিলাম তোমায় হে পুরুষ...
একদিন আর কোনো নারীর জন্ম দেব না আমরা ।
ভ্রূণেই হত্যা করব সে সম্ভাবনা ।
আর রঙহীন , সৃষ্টিহীন সেই পৃথিবীর একাকী অধীশ্বর হয়ে ,
প্রতিটা দীর্ঘশ্বাসে সেদিন শুধুই তুমি খুঁজে ফিরো 
তোমার পাপস্খালনের চরমতম উপায়টি ।

              একটি শিশিরবিন্দু...।


পৃথিবীর শেষ স্টেশন
প্রসেনজিৎ রায়

পৃথিবীর শেষ স্টেশনে দাঁড়িয়ে ব্যস্ত মুঠোফোনে এক ছবিমুখ দেখি,
সে আমার প্রাক্তনী কলেজ প্রেম...
কলেজের প্রথম দিন,কলেজ ফেষ্ট সব ভেসে উঠে
দুচোখের সামনে...
অণুরণিত হয় দু-কানে সে ভাঙ্গা কন্ঠস্বর,
আনমনে আওড়াই তোমার সেই জাহ্নবী নাম,
হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ঘোর ভাঙ্গে,
ঈশান কোণের জমা মেঘ ঝরতে শুরু করে,
তোমার বিষাদ কান্না হয়ে...
সেই রাত,সেই  বাইপাস, সেই ফাঁকা রাস্তা..
সিনেমা থেকে ফেরার পথে কে তোমার মুখে
অ্যাসিড ছুঁড়লো...
পুড়ে যাওনি সেদিন শুধু তোমার তুমিত্বটাই...
হারিয়ে গেছিলে আমার তুমি, আর সেই থেকে সঙ্গী
ভীষণ একাকীত্ব ,
তোমার সেই প্রবল আর্তনাদে,
আজও আঁতকে উঠি পৃথিবীর শেষ স্টেশনে দাঁড়িয়েও |


সকাল ভোর ও পাখিদের কিচিরমিচির
গোবিন্দ ধর

সকাল হলেই সারা মন ভোর ভোর লাগে তাই 
বাইরের হাওয়া গিলে খেতে থাকি।সবুজ গিলি।
ভোরের শিউলির ঘ্রাণ খাই।
আজ শুধু খাই খাই করছে, দেশ।

সকাল খেলাম।সকালের সবুজ খেলাম।কিচির মিচির পাখি ডাক
ভোর হতেই ধরে ধরে খেতে খেতে আমি খাদক হয়ে গেলাম।
আর সকালের পাখি ধরে ধরে একই সাথে কিচিরমিচির ও তার দেহ খেতে থাকলাম।
পাখির গান পাখির বাচ্চা পাখির কিচিরমিচির সব গিলে খেয়ে
প্রতিদিন সকালের কাছ থেকে ভোর আমি হত্যা করেছি।

আমার বাবা বললেন একী করলাম
আমার মা আমাকে বললেন এমন কেন করলাম।
শুধু পরিবেশ মন্ত্রী হারু মণ্ডল বাহাবা দিলেন 
আর সবুজবিশ্ব সম্মানে আমাকে পুরস্কৃত করলেন।
পাখি নিধনে দেশের পুরোধা তাই সম্মানিত আমি।

কারণ সকালে পাখিদের কিচিরমিচির হলে
শহরের অনিদ্রা বেড়ে যায়।সকাল থেকে পাখি হারিয়ে
আমাদের মা দেশ পরিবেশ মন্ত্রীর দখলে।
আর ধ্বনি উঠছে আমার নামে শ্রী শ্রী গোবিন্দ ১০৮।

আমিই ভোরকে কৃত্রিম করেছি সকালকে হত্যা করেছি
ভোর থেকে কিচিরমিচির ডাক নিকেশ করেছি
একই সাথে পাখি ও পাখির গান খেয়েছি মাংস খেয়েছি।

বিনিময়ে আমি পরিবেশ বান্ধব পুরস্কারে পুরস্কৃত। 

১৫:০৩:২০১৯
সকাল:০৬:৫০মি
কুমারঘাট।

মনুষ্যত্ব বনাম পশুত্ব 
রণজিৎ রায় 

মানুষের ভেতর দু'টি সত্তা সতত বিদ্যমান 
একটি মনুষ্যত্ব অন্যটি পশুত্ব 
সাধারণত একটি সত্তা জেগে থাকলে 
অন্যটি নিস্তেজ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে ;
মনুষ্যত্ব জেগে থাকলে তার মানবিক আচরণ 
পশুত্ব জেগে মনুষ্যত্ব ঘুমিয়ে পড়লে 
ধর্ষক, খুনি কিংবা মনুষ্যত্ব হত্যার আততায়ী ! 

দু'টি সত্তা একসাথে জেগে থাকলে দ্বন্দ্বযুদ্ধ 
পরিবেশ যার সহায়ক সে ক্ষমতাশালী 
অপরকে কাবু করে ঘুম পাড়িয়ে রাখে 
শরীর আর মনের ওপর নিরঙ্কুশ আধিপত্য । 

মনুষ্যত্ব আর পশুত্ব উভয়েই ঘুমিয়ে থাকলে 
সমাজে বেঁচে থেকেও সে মানুষ জীবনমৃত ! 

তারাপ্রসাদ বণিক 
তোমাদের প্রতি

এখনও নিশুতিরাত, গভীর নিদ্রাচ্ছন্ন প্রাণীকূল
আরও ভালো থাকার মিছে স্বপ্নে বিভোর হয়ে
 আলো ভেবে  ঝাঁপ দেয় এক অতল অন্ধকারে।

কিছু কিছু আটপৌরে লোক, যাঁরা মানুষের মতো ছিলেন। বিদ্যাসাগরের মতো আলোকিত হতে, আমাদের সন্তানদের শিক্ষিত আর সাহসী করে তুলবার কথা বলতেন। 

আমাদের শিশুদের বৃক্ষের মতো ঋজু, আমাদের মেয়েদের পূর্ণ স্বাধীকারে বুক চিতিয়ে দাঁড়াবার কথা বলতেন, তাঁদের জুড়ে নিয়েছি হৃৎস্পন্দনে।
 
তোমাদের নৈঃশব্দ্য-মুখর রাজপথেরা আজ
বুক পেতে শুষে নিচ্ছে উদ্ধত আসুরিক আস্ফালন। 

কিছু কিছু নকল মানুষ ফেরি করছে ক্রীতদাসের কাল। অন্ধকার বীজতলায় জল সেঁচে নিষ্ঠুর  রাষ্ট্রদানব।

অনন্ত নিদ্রায় শায়িত থেকো না আর, জেগে দ্যাখো
লুট হয়ে যায় যুগযুগান্তরের অনন্ত শুভ চেতনা। 

আমার স্নিগ্ধ শ্যামল অরণ্য জুড়ে  অচেনা শ্বাপদ
ছিঁড়ে খায় জায়া জননী কন্যার শরীর 
মাটি মায়ের সন্তান তোমরা কবে জাগবে আর?
চেয়ে দ্যাখো ওই লুট হয়ে যায় মানুষের অধিকার। 

তারাপ্রসাদ বণিক 
১৫/০৩/২০২০


 রাজীব মজুমদার 

একটু ধৈর্য ধরুন। আপনিও ভাগে পাবেন। 
কালো রঙের ঝলসানো চর্বি হাড়,
কালো রুমাল, কালো হরফ
ডট ডট ডট
যেমনটি পেয়ে আসছেন তর্জনীর নখে 
মতদানের সৌজন্যে কালো কৌতুক।

একটু ধৈর্য ধরুন। সেই সুযোগ আসছে।
আপনিও মৃতদেহ শুকোতে দেবেন -
আপনার দশের, আপনার নিজের
ডট ডট ডট
যেমনটি দেখছেন ইহ ভিটেমাটির বুকে
সাজানো অন্ধ চোখে মৃতের দেহ সুখ । 

একটু ধৈর্য ধরুন। আপনি নির্বাচিত হবেন।
আপনার ক্ষমতা তখন সর্বোচ্চ -
বদলের নয়, মীমাংসার নয়
ডট ডট ডট
যেমনটি নয় সৎসাহস - এ বচনবদ্ধ মুখে,
ক্ষমতা থাকবে, তাতে আত্মরতির অসুখ। 

ধৈর্য ধরুন। সংগমের স্বাদ আপনিও পাবেন।
চার স্তম্ভের আড়ালে আপনি মোহন্ত -
ভোরে সংবিধান, রাতে স্বীয় বিধান 
ডট ডট ডট 
যেমনটি স্বাদ ছিল সভ্যতার আদি সম্ভোগে।
ধৈর্য ধরুন, লাশগুলো একত্রে কান্না বাঁধুক। 
.

ঘৃণা 
সঞ্জীব দে

আমাদের সবার সামনে
দাঁড়িয়ে আছে একটি অশুভ পাহাড়! 
তুমি বেঁচে আছো বলে 
এটা ভেবোনা সবাই বেঁচে আছে! 

নিজের দাস হয়ে বাঁচতে পারে 
কয় জন! দাসত্ব করে 
জীবন্ত লাশ হয়ে বাঁচার চেয়ে 
মৃত্যু অনেক অনেক শ্রেয়!  

সব পাহাড় কি আর দেখা যায়! 
পাহাড় দেখতেও সাধনা লাগে!

নিঃস্ব মানুষগুলোর বুক নিংড়ে 
দেখো প্রকাণ্ড এক জগদ্দল পাথর 
কিভাবে চেপে রেখেছে লক্ষ লক্ষ জীবন। 

যাদের বুকে কান নিলে তীব্র বাঁচার চিৎকার 
শুনা যায়। 
এই চিৎকার কি আর সবাই শুনতে পায় ! 
দম্ভ যাঁদের আগলে রেখেছে --
সে হৃদয়-পাথর চোখ কান বধির করে দেয়! 
ধ্বংসের নকশা এঁকে 
একদিন ওরাই নকশা হয়ে যায়। 

অতপরঃ 
ইতিহাসের পথ বেয়ে 
জগদ্দল পাথর ভেদ করে আসা 
মানুষগুলো ঐ নকশায় থুতু ছিটায়! 
এক যুগ ঘৃণায়।
[15/03, 4:31 pm] ঝর্ণা মণি: রক্তপিয়াস
- ঝর্ণা মনি

আমারে চেনো নাই মেম্বরের পুত?
ভালা কইরা চাইয়া দ্যাহ
আ-মি, আমি জয়নব।

আরে ওই যে, লে-ই-স ফিতা লেইস
আবদুল আলীর মাইয়া।
লাল শাড়ি, লাল ফিতায় চুল বাইন্দা
কুতকুত, বউচি খেলতাম।
তুমগো সইয্য হইলনা,
তুমরা ধইরা নিয়া গেলা
রেললাইন পার হইয়া
দূরের আখ খেতের ভিতর।

পয়লা কারে কারে ডাইক্কা চিক্কুর পাড়ছিলাম
আইজ আর মনে পড়ে না।
লাল রক্তে ভাইস্যা গেল
সবুজ ঘাস, দুখিনী বসুন্ধরা।
তুমার শক্ত হাত দিয়া
চাইপ্যা ধরলা গলা
হেরপর দুই একটা হেঁচকি
আর কি”ছু মনে নাই।

অহন আমার অদৃশ্য আত্মা
খুনের নেশায় খালি ছটফট করে
খালি পিয়াস লাগে
রক্তপিয়াস।
ভীম যেমন কইরা রক্ত পিইয়েছিল দুঃশাসনের
তেমন কইরা আমিও 
জোয়ান তাগড়া ছেইলের রক্ত চাই।
শুধু রক্ত চাই, তাজা রক্ত।

আ-মা-র পিয়াস মেটে না।
খালি পিয়াস লাগে।
রক্তপিয়াস।


মধুমিতা নাথ
আক্ষেপ

আবারও ! একই রকম। বদহজম হচ্ছে। বমি পাচ্ছে। নারী-মাংস পোড়া গন্ধ ছড়াচ্ছে! দেহটায় লোলুপ দৃষ্টি স্তূপীকৃত হচ্ছে কতকাল ধরে। কর্ণকুহরে কুকথা জমে মরচে ধরেছে। টিজিং এর পেরেক গাঁথা মস্তিষ্ক ফুটোফাটা।পথ চলতি গায়ে-পড়া ধাক্কাগুলি পা টলিয়ে দেয় এখনও। ভিড় বাসে এখনো পিঠে গরম প্রশ্বাস জ্বালা ধরায়। সুযোগসন্ধানী ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে আর কাহাতক !!

ওরা জানে না , মেয়েদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কতটা প্রখর। গায়ে-পড়া আর অসতর্কতার ধাক্কার পার্থক্য বুঝতে মেয়েদের চেয়ে ভাল কেউ পারে না। তবুও মেয়েগুলি অসতর্ক হয় , বেশি বেশি বিশ্বাস করে , ঠকে আর বিপদে পড়ে । অথবা ঠকিয়ে বিপদে পড়ে। ওরে মেয়ে , ঠকেও যাবিনা , ঠকাবিও না। দু'ভাবেই তোর বিপদ। কারণ তুই আগাগোড়া একটা নারীদেহ বয়ে বেড়াস , যা ভীষণ রকমের ভারী। তা তোর বয়স যতই হোক , নারীদেহ বহন করা সব বয়সেই কঠিন। এটা সমাজ তোকে চোখে আঙুল দিয়ে বারবার দেখায়।

এবার চুলচেরা গবেষণা হবে। তুই পোশাক কেমন পরেছিলি , ক'টা বয়ফ্রেন্ড ছিল তোর , চরিত্র কেমন ছিল তোর , রাতে বেরুতে গেলি কেন , মেয়ে হয়ে একা চলাফেরা কেন করিস , কারো সাথে শরীরী সম্পর্ক ছিল কি না , প্রেমে ব্যর্থ হয়েছিলি কি , সত্যিই কি তোকে ধর্ষণ করা হয়েছিল , কেউ জ্বালিয়েছে , না নিজে জ্বলেছিস ...

একদিকে ভাল। একটা প্রশ্নের জবাবও তোকে দিতে হবে না ...

কি যেন নাম তোর ? নির্ভয়া ? হায়দ্রাবাদ ? কাশ্মীর ? ধর্মনগর ? মোহনপুর ?

শোন মেয়ে , তোর নাম নারীদেহ। এটাই তো  আক্ষেপ!!


ফুলেল ভালোবাসা
গোপালচন্দ্র দাস

যারা ভালোবাসতে জানে
পৃথিবী তাদের,তারা বিপ্লব জানে।
তারা বিশ্বাসী হয়,তারা বিশ্বাস করে।

ভালোবাসায় ধর্ষণ নেই 
দূষণ নেই বিকৃতি নেই
আছে শুধু অনুভব বিশ্বাস।

ভালোবাসায় অন্তর পূর্ণ হবে কোথায়?
অর্থ বিজ্ঞান বাণিজ্য কলা
ভালোবাসার স্কুল কোথায়?
আর‌ও উচ্ছ্বল উজ্জ্বল হতে গেলে
ভালোবাসার স্কুল চাই 
পান থেকে প্রাণী পর্যন্ত।

ভেতরের সূর্যটাকে দাবিয়ে রেখে
সময়ে আলো ছড়াবে যে,
সে ফুল হাতে বসে আছে-
সে জানে না ফুল ম্লান হয়
অথচ ভালোবাসা অম্লান।

ফুলেল ভালোবাসা সংকীর্ণ ভালোবাসা সময়ে সময়ে শুধু কৌণিক উল্লাস সৃষ্টি করে।


আব্দুল হালিম
আহ্বান
----------

আর থেকোনা চুপটি করে
এবার সবাই বাইরে চলো
প্রাণের কথা ছড়িয়ে দিয়ে
আগুন হয়ে নিজেই জ্বলো।

ঢের হয়েছে ভাঙার খেলা
মার খেয়েছে প্রাণের সুর
এবার তবে আঁধার শেষে
উঠবে হেসে আলোর ভোর।

আমার দাবী তোমার দাবী
দাও ফিরিয়ে মোদের হক
সবার হাতেই আবার যেন
শোভা বাড়ায় কলম-চক্।
----------------------------------
১৫-০৩-২০২০


শিখা রায়
চেনা পথ 

সেই আসা যাওয়ার চেনা পথটি আজ 
যেন অচেনা বৃত্তে ঘেরা 
যে মুহুর্তে অজস্র স্মৃতি মানসপটে একে যায় চিহ্নরেখা 
ভোরের কুয়াশার অন্ধকারে নিঃশব্দে 
বিলীন সব আলতো ছুঁয়া 
দিগ দিগন্তে ছড়িয়ে পড়া না বলা বাণীর 
আকুলতা 
হয়তো বয়ে নিয়ে যাবে না সেই অবাধ 
পাখির বিচরণে 
তবু ও ছিলো প্রাণভরা সুর 
যে সুরে ছিলো সুর মেলানোর এক নীরব 
উচ্ছ্বাস

দগ্ধ দেবী
সুমিতা বর্ধন

চারিদিকে পুলিশ আর জনতার ভিড়
দেবী আজ জ্বলছে,পুড়ছে।
লকলকে লাল জিহ্বা আজ 
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে রাখ করে দিলো,
যা দেখে হয়তো 
স্বয়ং ব্রম্মাও লজ্জায় ,ঘেন্নায় মুখ লুকায়।
সিতা,গীতা,রমা বা আরো কেউ,
এরা যে হাজার বছরের মানবী
যাদের ঠোঁটে ঠোঁট রেখে তৃষ্ণা মেটে-
বুক বেয়ে নাভী তারপর আরো কিছু মুহূর্তের স্বর্গ সুখের খেলায় মাতে।
হাজার বছরের মানবী
নাম তার কামনার দেবী।
যার বুক বেয়ে আগুন জ্বলে যুগে যুগে,
শুধু আগুন নয় -
নর পিশাচেরা কামনার দহন জ্বালায় জ্বালিয়ে
সৃষ্টির কারিগরের ঝলসানো দেহটা ছুঁড়ে ফেলে দেয়
কোন এক অন্ধ গলিতে।
আর, ঐ ঝলসানো ,উলঙ্গ সেই দেহটা-
চিৎকার করে বলে,
মেরে ফেল,মাতৃগর্ভ জ্বালিয়ে দে-
চারদিকে অহংকারের  পৌরুষ বীর্য ,
ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাক অসহায়তার পদতলে,
আর , হাহাকারের উল্লাসে মাতোয়ারা-
ধরিত্রী মায়ের জয় ধ্বজা উঠুক এই বিশ্বে।

শাহাদাত রাসএল

নাসিরনগর পুড়ছিলো যখন
ঘরেতে দিয়েছো দুয়ার 
দিল্লী দিল্লী বলে হাহুতাস করে 
চেচিওনা তুমি শুয়ার । 

দিল্লী যখন রক্ত গঙ্গা 
ঘরেতে দিয়েছো দুয়ার 
নাসিরনগরে মায়া কান্না 
দেখিওনা তুমি শুয়ার ।

মোল্লা এবং চাড্ডি দুটোই জাত শয়তানের ভাই 
মানব সমাজে শয়তান তোমার আশু বিলুপ্তি চাই ।

হিন্দু বুঝিনা, ধর্ম বুঝিনা, বুঝিনা মুসলমান 
মানুষ বলতে মানুষ বুঝি, বেদনা সকলই সমান ।  

হিন্দুর দেহে আগুন জ্বালিয়ে খোদার দিচ্ছো দায় 
মুসলমানের রক্ত ঝরালেই স্বর্গ পাওয়া যায় ? 

আমার ঈশ্বর হায়েনা নয়, রক্ত নয় তার প্রিয় 
আমার ঈশ্বর প্রেমের দেবতা, প্রেমটুকু শিখে নিও । 

আমায় তুমি নাস্তিক বলে দিতেই পারো গাল 
আগেও বলেছি আবারও বলবো 'সবারই রক্ত লাল' । 

-শাহাদাত রাসএল

অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ক 
মুস্তাফিজ রহমান

আগুনকে কে কতদূর ঢেকে রাখতে পারে 
ঠোঙায় ভরে? 
শুকনো কাঠ, কাগজ ইত্যাদি  দাহ্যবস্তু 
আগুনের স্পর্শে নিজেই পোড়ে। 

পোড়া মন, লিখে রাখে 
বাতাসের দহন ;
বৃষ্টি এসে দগ্ধলিপি ভাসিয়ে দেবে। 
কাগজের নৌকো কি ভাসতে ভাসতে 
সাগরে পৌঁছবে? 

সীমা ছাড়িয়ে গেলে আগুন 
বৃষ্টির শরীরও পুড়িয়ে দেবে। 

ভেবে রেখেছে মন 
তখন কীভাবে হবে অগ্নিনির্বাপণ?

আশ্রয় ......
...........অনিতা ভট্টাচার্য্য 

পৈশাচিক অত্যাচারে ক্ষতবিক্ষত,
দিশেহারা নারী সমাজ ৷
লোলুপ দৃষ্টিতে বিদগ্ধ সে 
আবদ্ধ গন্ডীতে বাস ৷
অবিশ্বাসের কবলে পড়ে 
বিশ্বাস যখন অন্ধ ৷
মনুষত্ব আজ ধূলায় লুন্ঠিত 
বিবেক কলুষিত ৷
সভ্যতার আড়ালে যত অসভ্যের,
এই সমাজে বাস ৷
ভাল মানুষের মুখোশ পড়ে যত হায়নার দল ৷
ভুলে যায় যে জন্ম কোথায় 
জন্মদাত্রীর কোল ৷
প্রশ্বাস নিতে বড়ই কষ্ট 
বিষাক্ত আকাশ বাতাস 
নারী কি পাবে নির্ভয় আশ্রয় ?
ফেলবে স্বস্তি নিঃশ্বাস ৷

কালবেলা / প্রবীর সরকার 

ভাঙা ঘরের রাঙা মেয়ে 
রাঙাছড়ায় বাস
মডেল স্টেটের সৈনিকেরা
ভেবেছিলো খাস।
ধুলায় মলিন মায়ের আঁচল 
ক্ষুধায় কাতর বাপ
চালের ফুটায় চান্দের আলো
উঠানে কাল সাপ।
সেই মেয়েটি বেজায় রোখা
ঘাড় ঝাঁকিয়ে চলে 
বুকের জোরে অভাব ঠেলে
ঘরে পিদিম জ্বলে।
নিত্য লড়াই ঘরে বাইরে
ফাগুন ছিলো দূর
কালো রাতে প্রাণ হারালো
স্তব্ধ মোহনপুর।
সীতার দেহে চিতার আগুন
ধর্ষিতা সেই মেয়ে
ঐরাবতপ্রায় কিরাত রাজা
দেখেন চেয়ে চেয়ে ।
রত্নাকরের খাসতালুকে
চামড়া পোড়া গন্ধ
পদলেহী মিডিয়াকূল
নোটের ঘায়ে অন্ধ।
আকাশ কাঁদে বাতাস কাঁদে
কাঁদে ভারত মাতা
নারীর ইজ্জত  মডেল স্টেটে
নীরব অশ্রুগাথা।


প্রীতম ভট্টাচার্য 
কবিতা- ছয় 

নক্ষত্র পুড়লে ছাই থাকেনা
যেমন পুড়েছে আমার মন।
আজ নক্ষত্র ও নেই,তাই 
চিরকাল গোপন থেকে গেলো
সবুজ গ্রহের দিন রাত্র।

গোপন অভিধান খুঁজে ও 
শেখা হয় নি বাক্যের গঠন।
স্বপ্ন নিয়ে হয়ত
হাটা যায় না সরল রেখায়, 
এভাবে প্রতিদিনই বাড়ে ঋণ। 
 
মাইলের পর মাইল জুড়ে ক্যানভাস
আমি ধীরে ধীরে হয়ে যাই গল্পহীন,
সেই কবে থেকে তোমার
অপেক্ষায় বসে আছি
তুমি আসবে না জেনেও।

বিশ্বাসের নীল মেঘে চোখ লুকিয়ে
আমি চাই আবার 
অভিনয় শুরু হোক।
এবার আমি থাকব
বিস্বাসঘাতক এর ভূমিকায়।

অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ক 
মুস্তাফিজ রহমান

আগুনকে কে কতদূর ঢেকে রাখতে পারে 
ঠোঙায় ভরে? 
শুকনো কাঠ, কাগজ ইত্যাদি  দাহ্যবস্তু 
আগুনের স্পর্শে নিজেই পোড়ে। 

পোড়া মন, লিখে রাখে 
বাতাসের দহন ;
বৃষ্টি এসে দগ্ধলিপি ভাসিয়ে দেবে। 
কাগজের নৌকো কি ভাসতে ভাসতে 
সাগরে পৌঁছবে? 

সীমা ছাড়িয়ে গেলে আগুন 
বৃষ্টির শরীরও পুড়িয়ে দেবে। 

ভেবে রেখেছে মন 
তখন কীভাবে হবে অগ্নিনির্বাপণ?


সিলেটি আঞ্চলিক ভাষায় ছড়া
মাগী
গোপালচন্দ্র দাস

এক আচল‌অ ব্রজেন্দ্র দাস
শ্যামার চর‌অ বাড়ি
আদতে নাও চালাইত‌অ
খেওয়া নাওর মাঝি।

পাঞ্জাবীরা গুল্লি মারল‌অ
ভাসল‌অ বজাই নদীত
জান বাচাইল‌অ কুলসুমবিবি
মাইনষে কয় পিরিত।

মালাউনর জান বাচাইচস্
খানকি তর অপরাধ
জামাই পুয়ারে গুল্লি ক‌ইরা
কুলসুমরে নিল‌অ ডেরাত।

চৌকর জলে কান্দে কুলসুম
আর কিতা করা যায়
যা গেছে আমার গেছে
আরযেনু কেউর নাযায়।

হাত‌অ ধরি পাও‌অ ধরি
শরীল দিয়া কয় জনাব
এই গাউটা ইন্দু ঠিক‌ঔ
এক্কেবারে নিরপরাধ।

নয় মাস যুদ্ধ অইল‌অ
তিশ লাখ গেল‌অ প্রাণ
সোনার বাংলা স্বাধীন অইল‌অ
টাইল ভরা ধান।

জান দিল‌অ মান দিল‌অ
যে গাউর মাইষর লাগি
কুলসুম অকন ঘরবারৈলে
এরাঔ কয় মাগী।

সুতপা সেনগুপ্ত 
পন্থী ১৯

বাঁকের মুখে সব রাস্তাই খুব খারাপ। চেনা মানুষের মধ্যে থেকে অচেনা রাক্ষস বেরিয়ে আসে। রক্ত গড়ানো মাংসের স্তূপ মাথায় বওয়া ছেলেটার পিছনে পা টিপে টিপে হাঁটি।

ঘুমের আগে জেগে উঠি, ঘুমোতে ঘুমোতে জেগে উঠি, ঘুম ভেঙে ওঠার পর আবারও জেগে উঠি।

কার্পেটে পা ডোবানো দামি কবিরা আত্মপরিচয় খুঁজছে, তাও দেখি। অল্প কেতের জুতোয় আমার মধ্যবিত্ত পা ক্র‍্যাম্প লাগিয়ে দেয়।

রবীন্দ্রনাথ বলতেন, মানবতীর্থ। আমি বলি, বগুলার ডানাঝম্পানি।
বেরোবার আগে বিছানায় শুয়ে কাতরাই।
র-এ রে ব্যান
স-এ সম্মুখগম
গ-এ গ গ গোঙানি

নির্মল দত্ত 
ইশারার সেই শর্ত

কে যেন গিয়েছে চলে, গবাক্ষে
ইশারা রেখে। কারা যেন আকাশপ্রদীপে
জাগতিক অন্ধকার স্বপ্নিল করেছে।
স্বপ্নেরা জন্ম-উড়ন্ত। ক্ষণিক বিশ্রাম তার
বন্ধ-কপাট চোখে।
 চোখের জানালা গলে
স্বপ্ন পালাবে----এই ভয়ে
চোখ বন্ধ স্বপ্নদ্রষ্টাদের।

ঈশারার সেই শর্ত মেনে আকাশপ্রদীপ,
স্বপ্ন ও বিপ্লব----দীর্ঘজীবী তাই !

বিশ্বজিৎ দেব 
যদি এরকম না হয় কখনো
..............................
 
এত রাতকথা ছড়িয়ে রয়েছে পেঁচাদের প্রানে
ছাই মাখা, অন্ধকারে মিশে , আবার উত্তেজনা 
হলেই কি তাদের গান হবে! ফিরে আসবে ছেলে! এসবই অনুমাননির্ভর-
  
যদি সেরকম না হয় কখনো
নিজেই কি তুমি রেলব্রিজ হবে, যেরকম 
রেলব্রিজ হতে চেয়ে হাত-পা ছুঁড়েছি আমিও 
 
যদি সেরকম না হয় কখনো
নিজেই কি বদলে দেবে মিলনের সফল ধারনাগুলি, পাল্টে দেবে মলমাস, বৃষ্টিতত্ত্ব, বিবাহের বিধি!  
 
(*বিশ্বজিৎ দেব 2006ইং)


রক্ত দিয়ে লিখবো।।*
                 প্রণব দাস

আজ আমার কলমের কালি শেষ
আজ আমার হাতে শক্তি নেই
তবুও প্রশ্ন ওঠে বারেবার
আর কত?
আর কত?
সকাল হতেই সংবাদপত্রে
দেখতে পাই নির্যাতনের ঘটনা
কিন্তু কেন?

কত লিখেছি
কত প্রতিবাদের ঝড় তুলেছি
কতবার আগুন হয়েছি,
তবুও শোনেনা কেউ!

হয়তো আমার লেখায় ধার নেই
হয়তো আমার লেখায় বজ্র নেই
হয়তো আমার লেখায় আগুন নেই
যে জ্বলে উঠবে বারেবার আগ্নেয়গিরির মত।

আজ আমার কলমের কালি প্রায় শেষ
তবুও প্রতিবাদী এই মন
লিখতে চায় হাজার কবিতা।

সেদিন লিখেছিলাম প্রিয়াঙ্কার  জন্য
লিখেছিলাম মানুষরূপী জানোয়ারের বিরুদ্ধে,
আজ লিখবো মন্টির জন্য
তবে এর শেষ কোথায়?
 আর কত?
শত প্রতিবাদের পরেও
কাল হয়তো দেখতে পাবো আবার নির্যাতনের শিকার নারী!
দুঃখ আমার,
পারছিনা আমি!

আমার সমাজ জন্ম দেয় হাজার হাজার কবির,
তবুও প্রতিবাদ করতে জানেনা,
করতে পারে রোমান্টিক হয়ে রোমান্টিকতার প্রকাশ,
বাহ্ বাহ্!

আমার চঞ্চল এ মন
অস্থির এই মন,
শুধু লিখে যেতে চাই
লিখে যেতে চায়।

আমার কলমের কালি যে শেষ,
আছে কি অন্য কোন উপায়?
প্রতিবাদী ভাষা লেখার, প্রতিবাদী গান গাওয়ার?

তবে আমি রক্ত দিয়ে লিখবো
আমি রক্ত দিয়ে লিখবো
যতটা লেখার।

মেরুদণ্ড 

অনেকবার ঘুমাতে চেয়েছিলাম কত রাত 
না! না পারিনি। ঘুমাতে পারিনি! 
লাইট অফ করলেই চোখের পর্দায় জ্বল জ্বল 
করে ভেসে ওঠে পোড়া শরীর, 
সন্তানের কফিনের নিচে ফেলে 
কোন বাবাকে পুলিশের লাথি মারার দৃশ্য ---
নিশ্বাসে ভেসে ওঠে অগনিত নিঃস্ব মানুষের 
পোড়া হৃদয়ের গন্ধ! 
ঘুমের ঘোরে ঘাম হয়, কেঁপে কেঁপে ওঠে শরীর! 
ওঠে বসি, এগিয়ে যাই, লাইট অন করি, জলের গ্লাসটা নিয়ে পান করি! 
আবার লাইট অফ করে শুয়ে পড়ি, চারদিক 
অন্ধকার! ঘোর অন্ধকার!  
অন্তঃকর্ণে আবার বেজে ওঠে কোটি মানুষের 
মৃত্যু যন্ত্রণার হাহাকার!  
চোখের পর্দায় ভেসে ওঠে গাছে বাধা  এক উলঙ্গ 
রমণীর মরণ চিৎকার! 
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শত জল্লাদের উচ্ছ্বাস! 
এইভাবে লাইট অফ অন করতে করতে কত 
ভোর আসে, নির্ঘুম চোখে দিনের আলোয় ঘন অন্ধকার দেখি! দিন আর রাত এক হয়ে গেছে কবেই! 
এখন অন্ধকারে হাতরাতে থাকি মেরুদণ্ডী প্রাণী! 
না! পাই না! হাতে পড়ে কতগুলো ভাঙ্গা, আধভাঙ্গা মেরুদণ্ড! 
কারা যেন সব ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে! 
বলুন বার বার  মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিলে, জাতি কি উঠে দাঁড়াতে পারে?
 

বিগুরাই হালামের বাড়ি 
---------------------------অমলকান্তি চন্দ 

মোহময় অন্ধকার ঘিরে উড়াল পাখীর স্বর 
দুপাখায় পৃথিবীর মানচিত্র খেচরের ঘর ।

অভুক্ত সংসার জাগে বেনোজলে নেশা চরাচর, 
খোয়াবী সজাগ  প্রহরে বনো বাঘিনীর আঁচড়। 

সারা দেহে নদী ডহর,ডহরে জোড়া কাস্তে চাঁদ, 
ঘোষ পাড়া দাপিয়ে বেড়ায় গোটা কয়েক জল্লাদ। 

পাহাড়েও সমতলে  তমাল সেপাইয়ের সারি ,
মাঝ রাতে জেগে থাকে বিগুরাই হালামের বাড়ি। 

নৈশরামে বেহুলা পাহাড় শিখরে কুপির শাড়ি, 
 জিভ নাড়ে দোপাটি দাঁতের খাপ ছাড়া তরবারি ।

ভাষণে আসনে রাজার শাসনে কেবলই পরিহাস, 
ভয়ে কেঁপে উঠে কিরাতের ঘর তুমুল সন্ত্রাস। 

ক্ষুধার্ত দেবতা মিছিলের পথে শূন্য থালা হাতে, 
অমন খেলা খেলবে কত রাজা, দেবতার সাথে।


মণিকা চক্রবর্তী 
গৃহী যেজন,

গৃহী যেজন ঘরের আনাচে কানাচে
 ছড়ায়ে বিস্তরজাল,
খুঁজে নেয় নিজস্ব প্রতিমা।
আমি কল্পতরু,নেহাৎ মোহাবেশে
 রচেছি কল্পনার জাল।

স্বপ্নে দেখা কোন এক
হীরের খনি 
খুঁজতে খুঁজতে
আবার সঁপেছি মন
এই চার দেয়ালে।

মাঝে মাঝে 
দেয়ালের ভ্রূকুটি
বেদনা হয়ে বাজে।

কাকজ্যোৎস্না
------------------------
      © সুনীতি দেবনাথ

স্তব্ধতা জমে ওঠে নিঝুম রাতে
কাকজোৎস্নায় অকস্মাৎ
কাক ডেকে ওঠে বনের ওপারে
রাত জেগে পেঁচা ডাকে
কোন গাছের আড়ালে আবডালে
শব্দ সব নিঃসঙ্গ নিঃশ্বাস ফেলে
এমনি রাতে ঘুমোনো যায়না
ঘুম আসে নাতো মোটে
জ্যোৎস্নার অঢেল ঢেউ তরঙ্গে তরঙ্গে
আকাশের আঙিনা পেরিয়ে ছলাৎছলাৎ
ঝরে পড়ে পৃথিবীর আনাচে কানাচে
জ্যোৎস্না সমুদ্রে ভাসে মানব পৃথিবী

কাজরী,
১৬ মার্চ, ২০১৮


তন্ময় বীর 


প্রবন্ধের পাতায় লিখি
শোকাতুর শ্লোকের সারি 
মদিরায় চুবিয়ে খাই
সোনালি অশ্রুর গান

কেউ কিছু বুঝি না আমরা
আমাদের বেদনা কাঁদে
সুরে সুরে আকাশে আকাশে

সব কিছু ঠিকঠাক চলে
গ’লে যায় হিমায়িত অভিমান
মাতাল আকাঙ্ক্ষার তাপে

কিছুই বুঝিনি আমরা
সব কিছু ঠিকঠাক চলে

বাগানের তাজা রক্তজবা
শিরছেঁড়া কামিনী-পলাশ
কৌটোয় লুকোনো ভ্রমর
প্রবালের সাতনরি হার
হেলায় ছড়িয়ে যায়
রাজপথ গলি আঙিনায়

কিছুই বুঝিনি কেউ
না বুঝে কাঁদাই
কবন্ধে ভ’রে তুলি
দিন-রাত দরোজা-জানালা

প্রহসন
দেবাশিস মুখোপাধ্যায়

হঠাৎ বৃষ্টির দিকে হেঁটে যাচ্ছে রাত্রি
পাড়ায় তুলকালাম

 টিভি সিরিয়ালে  মাথুর গাইছে ছবি 
তমালের পাতায় পাতায় দোল
ভিজে যাওয়া

অন্ধকারকে শরীর দিয়ে কোথাও জন্মেছে বিদুর

মহাকাব্য থেকে বেরিয়ে মধুসূদন
বাজাচ্ছেন বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ


মানুষ ঠিক মানুষ নয় মারণাস্ত্র 
চৈতন্য ফকির 

মানুষের মনের ভেতর জৈব ভাইরাস 
কোষ বিভাজনের ফলে
এগিয়ে দিয়েছে জিনগত পরিবর্তন। । 

চারদিকে মানুষের পুড়া গন্ধ। 
মেয়ে মানুষের পুড়া গন্ধ। 
যোনিপুড়া গন্ধ। 
মাংস পুড়া গন্ধ। 
স্তনপুড়া গন্ধ। 
বিবেকপুড়া গন্ধ বাতাসে ম ম করছে
মানুষের মনের ভেতর আর সুচেতনা নেই।

মানুষ করোনা ভাইরাস থেকেও জটিল।
সর্বত্র অবিশ্বাস। 
মানুষই জিন বদলে ফেলে
ভয়ঙ্করদর্শন জীবিত ভাইরাস।

শরীর অবিকল মানুষের মতো
ঠিকঠাক মানুষের মতই-চোখ নাক
রক্তমাংসের লাভডুব আঁকা হৃদযন্ত্র
বদল হয়ে এক একজন মানুষই মারণাস্ত্র।

মানুষ মানুষের নিকট করোনা ভাইরাস। 

১৮:০৩:২০২০
সকাল:০৬:৩০মি
কুমারঘাট। 

নিখোঁজ সংবাদ
চৈতন্য ফকির৷ 

চারদিকের আকাশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে 
ভালোবাসা বিশ্বাস প্রেম।
কেমন মাংস পুড়া ছাই। 

বাতাস ভারী করছে যোনিপুড়া ছাই।
আমরা নীরব।
মুখে সেলোটেপ।

আমার তো কিচ্ছু হয়নি এই গরিমায়
শহর দাপিয়ে হাঁটি।
পড়শি মেয়েটির স্তনপুড়া গন্ধ 
নাকে আসে না ইটের শহরের মানুষের। 

কিরাতদেশের মানুষ হঠাৎ করোনা ভাইরাস হয়ে
মানুষকেই ছোবল মারছে।
আর অবিকল মানুষের রূপ ধরে 
আমরা খাইদাই অফিশ যাই।

নাকে মেয়েমানুষের পুড়া গন্ধ এলে
ত্রিপুরী রিসায় ঢেকে দিই নাসিকারন্ধ্র।

১৮:০৩:২০২০
সকাল:০৬ঃ৪৫
কুমারঘাট।

নির্মল দত্ত 
18 March, 2017-এ লেখা।
সকাল-কাঙ্ক্ষা

অনুভব সঞ্চিত রাখছি
থরে-থরে, সুরে ও ব্যথায়।
প্রণোদিত মঞ্চ দূরে, কোনও এক
অনিবার্য ভয়ে। উচ্চকিত ছবিগুলি
আন্তরিক অভিশাপ সহ, ব্যাপক মর্দনরত
তোমাদের
বন্দিত পশ্চাতে !

এইসব অনুষঙ্গ সহ, প্রকট বর্তমান---
শুধু মেরু, দণ্ডহীন কালখণ্ড এক।
বিরক্ত পতাকা বলে---মুক্তি চাই
মতলবী হাত থেকে। এই দৃশ্য স্থির---
কিন্তু চলমান প্রণত সময় জুড়ে---
শপথ নিচ্ছে এক বিকল্প ত্রাণ,
মঞ্চহীন, সুরে ও সংজ্ঞায়---

সৌমেন চক্রবর্তী 
চিঠি

ওরা চিঠি দিয়েছিল
আজ সিঁদকাটা হবে গুছানো ঘরে 
শাবল আরও ধারালো হবে দেওয়ালের নিচের মাটি খেয়ে 

ছাত্ররা বইয়ের পাতা খুলে তাকিয়ে আছে আকাশে 
জেনে গেছে গুরুদক্ষিণা গ্রহণের হাত বদলে যাচ্ছে এবার

আলোর জন্য লড়তে লড়তে দাঁড়ালাম অন্ধকারের কাছাকাছি 
হামাগুড়ি দিলাম
শেষে রাজপথে শুয়ে দেখালাম বুকের মাটি। 
এমাটিতে শাবল চালাও 
খুঁড়ে নাও দশহাজার তিনশো তেইশ।


শুভ্রশংকর দাশ
আগন্তুক
______


ছবি তোলার কায়দা, ক্যামেরা বন্দী করেও, ফটোগ্রাফারের দর্শন বোঝা যায়।
#
এমনি এক শীতের সকালে, কুয়াশাঢাকা শহরতলীতে, 
ঘরের সাথে আগন্তুকের দেখা হল।
হুডতোলা রিক্সায় বসে , এই দৃশ্য বন্দী করছিল 
এক গন্ধের কারিগর। 
#
গন্ধ শুঁকে, অন্ধ হওয়ার শোক, মেটাতে না পেরে, 
অনেকেই 
দর্শন ও ধর্ষণের মাঝের দেয়াল ভেঙে ফেলে।
নির্ভয়ে, প্রিয় অঙ্কের শূণ্যে ঠুসে দেয় সুখের ইঁদুর। 
#
এইখানে, বাড়ি বানানোর জিনিস পড়ে আছে । মালিক নিখোঁজ। 
অনির্মিত বাড়ির কামরা থেকেও, 
পোড়া পোড়া গন্ধ আসে
#
তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে যারা দহনযজ্ঞ থেকে বিরত থাকে,
 তৃপ্তির পাঠশালায় খুঁজে ফেরে মাংসের ঝিল, তাদের পুরস্কৃত করা হোক। খুলে দেয়া হোক গবেটের তহবিল
#
ইদানিং রাস্তায়, কিছু পাগল 
দুপায়ের সন্ধিতে প্রশ্নচিহ্ন ধরে  বসে থাকে
নাহয় দেয়ালে দেয়ালে লিখে বেড়ায়
" ভেতরে পুরুষ আছে; সাবধান ! "

শুভ্রশংকর দাশ
নার্সিংহোম
__________

Let there be a war before the feast..
Else what shall I eat ?

না-বলা কথার পরত পড়ে ছিল বিছানায়
#
কথারা আহত মৌমাছির প্রতিবিম্ব মাত্র
কর্নকুহরে বাসা বাঁধে, করোটির নিচে 
পেতে রাখে মাইন্স
#
অনেক ত শান্তি শান্তি খেলা হল।
এবার একটু যুদ্ধ হোক ।
#
আমাদের এ নার্সিংহোমে 
একজন আহত সৈনিক আর একজন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল
#
আমাদের এ নার্সিংহোমে 
ছ'টি ঋতুর আদলে সাজানো 
ছ'টি ঘরের চারপাশে মাইন্স বসানো
#
অবশ্য , ভয়ের কোনো কারন নেই..
কাঁপা হাতেই দেয়ালে
একটি বারুদহীন সুরঙ্গ এঁকেছে সৈনিক
তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে ইভ
তার এক হাতে জ্ঞানবৃক্ষের চারা
আরেক হাতে হেমলক


কবি মুন্নি ছেত্রী (এম.সি.মুন)

             কবিতা

         তৃতীয় ঈশ্বর
----------------------------------------

ধর্মের ঠিকাদার,
ধর্ম নিয়ে কথা বললে খুব তো পারো
লাঠি হাতে ঠিকাদারী করতে,
যেকারো জামার কলার ধরে!

কখনো কি পিছন ফিরে দেখেছো
তোমার ওই ধর্ম মানুষের কেমন ক্ষতি করে?!

তোমার সাধু সম্পদ ভোগ বিলাশের লোভে নিরহ মানুষের হাত পা কেটে
আঙুল কেটে ব্যাগে পুরবে!
আর আমি..
আমি যদি বলি ওই অমানুষের বাচ্চা সাধু তুই চোর!

তুমি তেড়ে আসবে আমার দিকে,
তোমার ধর্মে আমি আঘাত করেছি বলে?!

তোমার মোল্লা তোমার ফাদার
প্রার্থনালোয়ে বসে
ধর্মের জিগির তুলে
ওই অপোক্ত নিষ্পাপ শিশুটির
যৌনাঙ্গে ঝরাবে রক্ত!

আর আমি..
আমি যদি বলি ওই শালার বেটা মোল্লা ফাদার তুই ভন্ড মৌলবী!

তুমি তেড়ে আসবে আমার দিকে,
তোমার ধর্মে আমি আঘাত করেছি বলে?!

তোমার পূঁজারী মন্দিরে নারীদেবতাকে পূঁজে,
বাহিরে লাগাবে নারী অপমানের সাইনবোর্ড!

আর আমি..
আমি যদি বলি ওই পূঁজারী
অজ্ঞানী পাপিষ্ট তুই মূর্খ!

তুমি তেড়ে আসবে আমার দিকে,
তোমার ধর্মে আমি আঘাত করেছি বলে?!

তোমার ধর্ম নির্দোষ মানুষের মন্দির মসজিদ গির্জায় ফোটাবে বোমা!
আর আমি..
আমি যদি সওয়াল করি,

এ তোমার কেমন ধর্ম বাপু!
ধর্মের নামে অধর্ম মানব হত্যাই যে ধর্মকে করেছে কাবু?!

তুমি তেড়ে আসবে আমার দিকে
তোমার ধর্মে আঘাত করেছি বলে?!

তোমার ধর্ম যদি অভূক্ত ক্ষুদার্ত ভক্তকে ভোজনালোয়ের বাহিরে ছুঁড়ে ফেলে
কোমর কষে সম্মূখে দাঁড়িয়ে বলে
দূর দূর দূর হো যা..!

তোমার ধর্ম যদি দিনের পর দিন সহায়হীন নিঃস্ব ভক্তদের একলা একেলা ফুটপাতের  প্রখর রোদ তাপ বৃষ্টি ঝড়ে ছেড়ে,
নিজেদের জন্য কেবল বিলাস বহুল পাঁচতলা গড়ে,
সেন্টো কিনে বলেরো কিনে
ডেমো মারে!

তোমার ধর্ম ত্রিশূল দিয়ে অসহায় মায়ের গর্ভ থেকে তার সন্তান ছিনিয়ে আনবে!

তোমার ধর্ম অবাধে কবর থেকে তুলে নারী ধর্ষনের আহ্বান করবে!

তোমার ধর্ম তুলসী রানীর গর্ভে 
লাথি মেরে আল্লাহু আকবার জিগির তুলবে!

তোমার ধর্ম নির্দোষ মানুষদের তুলে নিয়ে অবাধে করবে কতল!

তোমার ধর্ম নৌকা ভরে নিহর মানুষদের ছেড়ে দেবে সাত সমুদ্দুর অতল!

তোমার ধর্ম মানুষে মানুষে করাবে ভেদাভেদ,
নারী লাঞ্চনার দেবে ফতোয়া!

আমি তো বলবোই..
আমি তো বলবোই..

এ তোমার কেমন ধর্ম ছাই!
যে ধর্ম কর্তব্য প্রেম দয়া মায়া
মানবতা ত্যাগ করে
কেবল করছে অধর্ম ভোগ বিলাশতা আর খাই খাই!!

তুমি তেড়ে আসবে আমার দিকে?!
কত দিন আসবে?!

তোমার ধর্মালম্বীরা যদ্দিন
এভাবেই ধর্মের নামে পাপ গুনাহ অধর্ম করবে,
এর দায় তো তোমার ধর্মকেই যুগযুগান্তর ব্যাপী নিতে হবে!!

(মোবাইল নং-6000361522)


আমরা এসেছি
 নিয়তি দাস

শরীরে স্বপ্নের চেতনা
দমকা হাওয়ায় ভাঙে ঘোর
নতুন উচ্ছ্বাসে জেগে ওঠে
সভ্যতা,
এখানে কেউ কাকে হারাতে আসিনি
আমরা এসেছি একই পথ বেয়ে--
আমরা এসেছি বিভেদ ঘুচাতে
আমরা এসেছি  খুন ধর্ষন রুখতে
পৃথিবীর শরীর কোমল তাই এখানে
বিশৃঙ্খল
হে অন্তর্দেবতা কৃপা
করুনা দ্বারা সমাজ
রাষ্ট্রকে-আমাদের পরিবারগুলোকে
অশান্তি বিশৃঙ্খলা আত্ম -
কলহ থেকে  মুক্ত করো
এই আমার প্রার্থনা।
 

বিষ ঘ্রাণের গ্রন্থি
সুশান্ত নন্দী

(১)
দু চোখে মেঘ নদী 
মানচিত্রে বয়ে বেড়াচ্ছে যে শিশু 
ওকে কলঙ্কিত করেছি বার বার
ভুলে গেছি সেইই আমার
চৈতন্য বুদ্ধ মহম্মদ যীশু
(২)
হাজারও ধর্ষিতার চোখে আজ অশ্রুজল
ঈশ্বর এই মুহূর্তে তুলে নাও
যারা কেড়ে নিয়েছে মানবীর শেষ সম্বল
(৩)
এখনও কোনও রং আসেনি যে ভ্রূণে
তবুও হায়নার দৃষ্টি নামে লোলুপ চোখে
ওদের কেন কলুষিত করো মেঘমাখা বিষ ঘ্রানে

সুশান্ত নন্দী
ইসলামপুর
উত্তর দিনাজপুর
(৯৪৩৪১৬৭৩১৫)
[19/03, 11:37 am] 

অপন দাস: একটি মেয়ে 


একটি মেয়ে আংড়া হয়েছে পুড়ে 
একটি মেয়ে আমার মায়ের মত
একটি মেয়ে রাখতে পারিনি ধরে 
একটি মেয়ে শুধুই মনে পড়ে 

একটি মেয়ে বাজার করতে গেছে 
একটি মেয়ে আসবে ঘরে তার আদরের ধন
একটি মেয়ে ঘরে এসে কোলে তুলবে তাকে
একটি মেয়ে আর আসেনি ঘরে 

একটি মেয়ে নপুংসকরা মিলে 
একটি মেয়ে সন্দেহ তো ছিল না তার মনে 
একটি মেয়ে ভাইয়ের মত ছেলেরা সব মিলে 
একটি মেয়ে দুমড়ে মুচড়ে মাটিতে আছে শুয়ে 

একটি মেয়ে কি বীভৎস, আমরা সবাই ছেলে! 
একটি মেয়ে কোথায় পায়ের পাতা
একটি মেয়ে পুড়ে গেছে সব কিছু 
একটি মেয়ে দূর থেকে আজ নত করি মাথা।
 

দিকশূন্য সংকটের দিকে
মনিরুল মোমেন

সেই কবে থেকে গোপন করে চলেছ
বিস্তৃতির ইতিহাস,

কত দৃশ্যপট, দুঃসংবাদ হামাগুড়ি দেয়
লোহার বেলুনে।

ভোরের সংগীত শোনাবেনা বলে
পাখিদের ঠোঁটে কুলুপ দিয়েছ এটে।

সকালের সাথে কী নিদারুণ বিরোধিতা তোমার!

শিশুদের চকোলেট লুকানোর মতো করে
কুয়াশায় লুকিয়ে রাখছ গ্রীষ্মের দুপুর।

বাতাসের হাসিগুলো প্রসব বেদনা হয়ে কাঁদে,
ঘ্রাণের মতন ভেসে অাসে দূরাগত মৃত্যু।

নখের ভেতরে মহামারি নিয়ে
রাতকানা পিপীলিকাগুলো
অবিরাম হেঁটে যাচ্ছে দিকশূন্য সংকটের দিকে।
১৩ মার্চ, ২০২০
শাহজাদপুর, ঢাকা।


বাপ্পাদিত্য জানা: রক্তাক্ত কবিতা 
বাপ্পাদিত্য জানা 

সেকেলে শকুন দেখিনি অনেকদিন 
তবু
ফ্রক মেয়েটির বুকে রক্তাক্ত বোতাম 
গোড়ালি ছুঁয়ে নামছে ভাটফুল

মেয়েটি দাঁড়িয়ে। মেয়েটি দাঁড়িয়ে একা।
রক্তে ভরে যাচ্ছে পৃথিবী, কবিতাখাতা

রক্তাক্ত আঁধারে লিখেছিলাম দু'ছত্র সেইদিন 

'আমার কবিতা ধর্ষিত নারীর বুকে 
উষ্ণতা দিতে না পারে যদি
আমায় কবি বলার ধৃষ্টতা নিও না কোনদিন'।

অভীককুমার দে।
মনোসংলাপ

একটা বিশ্বাস উত্তেজকের মতো কামড়ে থাকে ভেতর। ভেতরে কোনো ঘুঘু ডাকা দুপুর। জ্বালাময় রোদ এসে গায়ে পড়লেই আমার টানটান শরীর উত্তপ্ত হয়। দুপাশে গাছেরা ডালপালা বাঁকিয়ে ঠান্ডা করতে চাইলেই আমার বেঁকে যাওয়া শরীর আরো বেশি বেঁকে যায়। আমি আমার মতোই চলতে চাই, অথচ কেউ বোঝে না ! কেন ?
পথ:- কেউ চাইলেই চলন সোজা হয় না। লক্ষ্য ছুঁতে গেলে পথ সুগম হতে হয়।
রাস্তা:- আমি নিজেই নিজের চলন জানি। সুগম কিংবা দুর্গম যাচাই করতে করতে পাথর জীবন অবাঞ্ছিত হবে অসময়ে।
মত:- নিজের বুকে হাত রেখে দেখি-- বিচারক আমি মাথা নিচু করি; কোথাও... 
সিদ্ধান্তের কলম কখনও ছিটকে যাবে মূল্যায়নের কাঠগড়ায়।
পথ:- ঠিক তা-ই।
রাস্তা:- তবে ! এমন সুদীর্ঘ শরীর, এমন সহ্য ক্ষমতা, এমন এমন অনেক কিছু ...
কেন ?
মত:-  উপকরণ মাত্র।
পথ:- সঠিক সিদ্ধান্ত যদি না থাকে সুদীর্ঘ শরীরও অপ্রয়োজনীয়। সহ্য করতে করতেই অক্ষমতা জড়িয়ে ধরবে শরীর।
রাস্তা:- উঁচু- নিচু পাহাড়ের ভাঁজগুলো এদিক- ওদিক ঠেলে বাঁকা চলতে বাধ্য করবে।
মত:- ঠিক। মতামত যদি সহমত হয় সহমর্মিতায়, যত কঠিন কিছু সরলতায় সমর্পণ।

ঘাড় উঁচিয়ে নয়। আমি আমার মতোই চলতে চাই। খাড়া পাহাড়ি ঢাল, উপত্যকার ব্যঙ্গ, মাটির সরণ এসব কিছুই মাথায় থাকে না। মাথা থেকেও মনের সোজা পথ বেঁকে যায়। এমন বেঁকে যায় বলেই বুঝি মনের ভাঙন দেখি অনেক... !

অভীককুমার দে।


 শবদেহ
অর্জুন দাস

স্বার্থপর,চরিত্রহীন,কামুক
মিথ্যেবাদী,মুখোশধারী,অহংকারী,
কাপুরুষ,লোভী...
তুমি দেওয়া এই সমস্ত অপবাদে
ন্যুব্জ হতে হতে
আমার পুরুষত্বকে আর
খুঁজে পাই না ৷
নিজেকে মনে হয়
পচে-গলে যাওয়া এক শবদেহ !

               ------


ক্রিসমাস
.................
অর্জুন দাস

এই ক্রিসমাসের কচি শীত
আমকে তোমার পাশে নিয়ে এলো
আর পরন্ত বিকেলে আমায় বপন করল
তোমার অনুর্বর বুকে
পর্ণ কুটিরের সমস্ত শীতলতা গায়ে মেখে
আমি মেঘ হয়ে ভিজালাম
তোমার সকল অনুর্বরতা ৷

        ........

প্রকাশিত : মে’খানা (গুয়াহাটি)


আমিও ধর্ষক তাদের চোখে                         
     
                                       --- বিদ্যুৎ হোসেন 

আমরা যদি রাস্তায় বের হই 
মেয়েটি পুরুষ দেখলেই ধর্ষক ভাববে 
তাতে আশ্চর্য হবো না
মহামান্য প্রধান বিচারপতিও 
অভিযোগ অস্বীকার করে গেছেন
এই মহান ভারতে...

ক্ষমা করো
মন্টি প্রিয়াঙ্কা আসিফা নির্ভয়া
ক্ষমা করো
ভুল যদি অন্ধকারে হয়
এ দেশ জন্মান্ধ 
বিচারক যদি অপরাধী হয়
এ দেশ অপরাধের মৃগয়া ক্ষেত্র
হয়তো গুজব শুনেছি 
কবে কার কন্ঠ চিরে কেঁপে উঠতো মাটি
এ দেশ এখনও বোবা...

কোনো এক দিন অন্ধকারে আত্মারা
বিদ্রোহী ভাব উগলে দেবে 
ফাঁসির মঞ্চের মুখোমুখি 
জীবিত কিংবা মৃতের উন্মোক্ত হাঁসি-কান্না
এই দেশের কাছে থাকবে কেবল 
নিতান্ত অনুশোচনা...


ইউ কে /অমলকান্তি চন্দ 

করোনা বাড়ি যাও, খেটে খাই দিনভর, 
পায়ে পায়ে হেঁটে তুমি কেন ঘুর তিন ঘর ?

ভয়ে সব জড়োসড়ো তিন হাত দূরে তাই , 
কাছে ডেকে কোলে নাও  এত প্রেম কেন ভাই? 

হাচি তুমি ভালোবাস, কাসিতেই  বাজিমাত, 
শ্বাস ধরে টান দিলে আমি বাপু কোপোকাৎ  ।

আমরাও কম কিসে শুনছি কি কথা কার ?
আড্ডাতে জড়ো হই হাসিতে গলা ভার। 

সাবানে হাত ধোওয়া তাতে কিছু হয় নাকি, 
এই করে রোজ রোজ নিজকেই দেই ফাঁকি। 

ঘরে থাকো বলে সবে বন্দীতো চায় কে? 
করোনায় ধুঁকছে যে বিশ্বটা ইউ কে।


কাটাকাটি ঘুড়ি
গোবিন্দ ধর

উড়াতে চেয়ে লাঠাই হাতে বালক।
তুমি এক কাটাকাটি ঘুড়ি 
মাঞ্জা সূতোয় কেটে গেলে?

২৬:০৩:২০১৯
[01/04, 2:32 pm] GOBINDA DHAR: 

খবর ও দৃশ্যের পূর্ণজন্ম
নির্মল দত্ত

প্রাতরাশের সঙ্গে হজম হয় মৃত্যু।
বিকেলে চায়ের কাপে ধর্ষণ।
অনেক মহানও ডিটেলে ধর্ষণ খায়!
খারাপ লোকেরা খবরের ছবি আঁকে,
তারপর সেই ছবিটিকে পুনর্জন্ম দেয়!
এই সত্যও এক অপ্রিয় ছবি---
বেদনার্ত অক্ষরমালায় এই
বিবরণ অবিরাম। তবুও 
মহান ও ভ্রষ্ট  হাতেই
খবর ও দৃশ্যের পুনর্জন্ম হয়!

অবাক নই / আব্দুল আলীম

আলো দিতে দিতে 
একদিন সূর্যও ফতুর হবে
এবং মৃত্যু হবে কঠিন মৃত্যুরও।

এই কথা সবাই জানি
তবুও একটি রূটির অন্ধকারে 
         ডুবে পুরো পৃথিবী।

যারা আমাদের একা করে দেয়
ধুলো ছড়িয়ে মুছে দেয় পথের দ্রাঘিমা,
আমরা তাদের বন্ধু বলতে পারি না।

সন্তাপ নেই
সাথে আছে কিছু ক্ষীপ্র নদী
এবং এক ঝাক সরল পাখি।

আব্দুল আলীম
01_04_2020
 

শিরোনামহীন /আব্দুল হালিম
------------------

বাতাসের গায়ে ভর দিয়ে ভেসে আসে কানে,
করাত দিয়ে কলিজা কাটার আওয়াজ!
বেদনায় নীল হয়ে উঠে আপাদমস্তক!

পাশে কেউ নেই,
পাঁজর জুড়ে শুধু ছোপ ছোপ রক্ত!

স্বজনেরা মুখ লুকিয়ে কেঁদে যায় নীরবে!
আমার চোখে শুধু মরে যাওয়া শতস্বপ্ন!
অশ্রুও শুকিয়ে গেছে সেই কবে!

আছো কেউ সুহৃদ!
ধার দেবে কয়েক ফোটা চোখের জল!
কেঁদে কেঁদে উপশম করি অব্যক্ত যন্ত্রণা!

করুণ কান্না থেকে মৃত্যুর মিছিল-
এটাই হয়তো চেয়েছিলো কিছু ডোম!
---------------------------------------
আব্দুল হালিম
০২-০৪-২০২০



নিরাময় নিকেতন
গোবিন্দ ধর 

আরোগ্য নেই কোথাও নেই 
শুধু অসুখ শুধু অসুখ 
অসুখ লেগেছে শরীরে
অসুখ মনের অমাবস্যায়। 

তুমি এসো প্রিয় ডাক্তার
নিরাময় বড় দরকার।
অসহায় মানুষের অসুখ
কাটুক গ্রহণ চোখের মায়ায়। 

এত অসুখ চারদিকে 
তুমি চোখ টিপে হাসো।
মনের গ্রহণ কাটুক
রিডে চালাও আঙুল।

অনাবাদি মাটিকে দাও
অকাল কর্ষণ।
অসুখ লেগে থাকা
শরীর জাগুক। 

০৪:০৪:২০২০
সকাল:০৭টা
কুমারঘাট


নুসরাত জাহান রাফি
চৈতন্য ফকির

দুটি পা পুরুষের মুখের দিকে রেখে
সভ্যতাকে ব্যঙ্গ করছে
নুসরাত জাহান রাফি।

এই কি সভ্যতা সমাজ?
এই কি মক্তব?
এই আমাদের পুরুষ শিক্ষক? 

আমাদের মেয়েটির
মাটির
বোনটির জীবন?
যার পুড়া মাংসের গন্ধ 
সভ্যতার নাকে এসে লাগেনি?

শিক্ষাকেন্দ্রেও আমাদের মা সুরক্ষিত নয়।
এমন দেশ এমন সভ্যতা এমন সমাজ
সকলের মুখের দিকে দুটি কচি পা
প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে গেলো-কবে হবে সভ্য মানুষ?

গভীর গভীরতর অন্ধকার চারদিকে শুধুই অন্ধকার।

১০:০৪:২০১৯
রাত:১০:৪০মি
কুমারঘাট।

নুসরাত
চৈতন্য ফকির

সাদা কাপনে ঢেকে থাকা প্রতিবাদ।

১১:০৪:২০১৮
সকাল:০৭:৫৪মি
কুমারঘাট।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ