আমার ছোটবেলা :বিমলেন্দ্র চক্রবর্তী
ডিম।ছোটোবেলায় একটা আস্ত ডিম খেয়েছি বলে মনে পড়ে না।মাছ খেয়েছি প্রচুর কিন্তু ডিম! যেদিন ডিমের ঝোল হতো সেদিন মজাটাই ছিল অন্য রকম
আনন্দের।একটা কড়াইয়ে ডিমগুলো সেদ্ধ করে নামালে আমরাই ছুটে যেতাম খোসাটা ছাড়াবার জন্য। সেদ্ধ ডিমটা শক্ত জায়গায় টুক টুক করে
ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে একটু আঘাত করে নোখ দিয়ে কি দারুণ খোসা ছাড়িয়ে ডিমটা আলাদা করে ফেলতাম। সবগুলো ডিম খোসা ছাড়াবার পর
চুল্লীর আগুনে দা গরম করে ডিমগুলো খুবই
সতর্কতার সাথে অর্ধেক করে করে একটা বড় থালায় রাখা হতো। গরম দা এ ডিমগুলো কাটার
স ম য় কি সুন্দর মনভুলানো একটা আওয়াজ হতো
স্যাঁ..এ এ এ ত।একদিন লাকড়ির চুল্লী বন্ধ হয়ে গেলে ডিম কাটা হতো সুতো দিয়ে। এর জন্যেও পাক্কা হাতের বাহাদুরি চাই। থালায় রাখা সাজানো ডিমগুলো দেখলেই কচুরিপানার ফুল গুলি দুইচোখে ভেসে উঠতো।আহা,কি মিল, আবার যখন
ডোবার জলে শত শত কচুরিপানার ফুল আমার দিকে তাকিয়ে হাসতো তখন মনে হতো আহা এ যেন ময়ুরের পাখা।
আহা ডিম।লোভটা ছিল হলুদ কুসুমটার প্রতি। কিন্তু যখন খাবার সময় ডিমের অর্ধেক টা সবাইকে
প রিবেশন করা হতো তখন পিঠালির ভেতর একদমই বোঝা যেতো না এর ভেতরে কতটা গুপ্তধন রয়েছে। যার ডিমের কুসুমটা বড় থাক তো
তার সেদিন ছিল বাঁধ ভাঙা আনন্দ।আর যার ডিমের কুসুমটা থাক তো ছোট্ট তার মুখটা হয়ে যেত
ব র্ষার থমথমে আকাশ। যার পাওয়া ডিমে বড় কুসুম থাকতো সে প্রায় স ম য় কুসুম টা থালের এপাশ ওপাশ করে সব ভাত শেষ করে একদম
শেষে কুসুম টা একটু একটু করে ভেঙে তাড়িয়ে
তাড়িয়ে খেতো।এর প্র তিশোধ নেবার জন্য ডিমে
বড় কুসুম পেলে আমিও ভাইবোনদের মতো নাড়িয়ে চাড়িয়ে শেষ টায় তাড়িয়ে তাড়িয়ে খেতাম।এবার বোঝ মজা।ডিমের ছড়াটা এবার থাক।
এখন প্রায় প্রতিদিনই আস্ত আস্ত ডিম, রকমারি কত ডিম, ওম্লেট,
সেদ্ধ,ঝোল। কিন্তু ছোটোবেলার আর্ধেক ডিমের
সেই মজাটা?
0 মন্তব্যসমূহ