প্রতিদিন বাংলাভাষা ডট স্রোত /আমার মেয়েবেলা ছেলেবেলা সংখ্যা :১৩:১২:২০২০

প্রতিদিন বাংলাভাষা ডট স্রোত 
আমার মেয়েবেলা ছেলেবেলা সংখ্যা 
১৩:১২:২০২০

জীবন দর্পণ:১:আব্দুল হালিম

আজ পর্যন্ত এই জীবনের যকটুকু সময় চলে গেছে, তাতে অনেক কিছুই শিখেছি। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি মূহুর্তেই কিছু না কিছু শিখছি। অতএব, অনেকের মত আমিও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষক হল সময়। যেমন আজকাল সময় আমাকে উপহাস করে। কেউ আমার বর্তমান সময় নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন, কারো চোখে করুনা আবার কারোর চোখে আমার অসহায়ত্ব পরম তৃপ্তিদায়ক। আর এটাই স্বাভাবিক কেননা ঐ যে বললাম সময়। কেউ জিজ্ঞেস করলে যদি বলি ভালো আছি তখন তারাও বলে যেন ভালো থাকি। আবার কেউ আছেন তারা মানতেই চায়না যে আমি ভালো আছি। তাদের মতে আমার পক্ষে ভালো থাকাটা কিছুতেই সম্ভব নয়। তার পেছনে তারা আমায় একটি "বিশেষ নম্বরের" কথা মনে করিয়ে দেয়। অর্থাৎ এই নম্বরযুক্ত হওয়ার কারনে ভালো থাকাটা আমার পক্ষে বেমানান। তখনই নিজেকে প্রশ্ন করি, আদতে কি এটাই সঠিক? তারপরেই সময়ের কানে যাদুমন্ত্র ঢেলে দিই, আর বলি যে যাই ভাবুক আমি ভালো আছি। হতে পারে আমার ঘর মাটি দিয়ে ঘেরা, তবে এই ঘরে ঘুমিয়ে পরম আনন্দ পাই। নিয়ম করে সাধ্য অনুযায়ী স্বপ্ন দেখি। হতে পারে সেই মনলোভা রসনা সবসময় হয়ে উঠেনা, তবে মা-বাবাসহ সবাই নিয়ে খুব মজা করে শাক-ভাতে উদরপূর্তি করি। হতে পারে হাওয়াই জাহাজে করে বিদেশে কোথাও ভ্রমণের সামর্থ্য আমার নেই, তবে আমার বিস্তীর্ণ সবুজ ফসলের মাঠে হাঁটার সময় ফুরফুরে বাতাসে নিজেকে সতেজ রাখি আর উপর আকাশে পাখিদের মুক্ত বিচরন দেখি। সর্বোপরি সময়কে আরও বলে রাখি, তুই যতই আমায় মন খারাপের গল্প বলবি ততই তুই ব্যর্থ হবি। আমার কলিজার টুকরো মামণির হাসির কাছে এই পৃথিবীর সকল যন্ত্রণা আমার কাছে তুচ্ছ।

জীবনদর্পণ_২

এই মোচড় দেওয়া সময়ে দাঁড়িয়েও, জীবনের প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই।  আর থাকবেই বা কেন, আজ অব্দি যতকিছু দেখেছি,পেয়েছি এবং শিখেছি তা সবটুকুই এই জীবনের আশীর্বাদ। তাই আমি জীবনের প্রতিটা মূহুর্ত উৎযাপন করি। অনেক সময় ফল-মূল কাটতে গেলে হাত কেটে ফেলি। ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়। ব্যাথায় বুঝে আসে চোখের পাতা। এতসব পরেও আমি জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা বোধ করি। কেননা ঐ সময় আমার হাতটার আরও বেশি কিছু খারাপ হতে পারতো, এমনকি ভেঙ্গেও যেতে পারতো। তাই কোনকিছুতে একেবারে নিরাশ হওয়া কেমন জানি জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা বলেই মনে হয়। জীবনে চাইলেই আনন্দ বা সুখ চলে আসেনা। তার জন্য পরিকল্পনা করতে হয়। সকল বিষয় থেকে সুখ বা শান্তি কে খুঁজে নিতে পারাটাই ক্রেডিট। যেমন চাইলেই হিরে পাওয়া যায়না। তার জন্য কয়লা খনির অনেক গভীরে গিয়ে খনন কার্য চালাতে হয়।  আজ কেউ হয়তো আমার বর্তমান সময় নিয়ে উপহাস করে, আমার দুঃসময়ে মুখ লুকিয়ে হাসাহাসি করে। আমি শুধু চেয়ে থাকি। আর নিজে নিজে ভেতর থেকে আরও শানিত হই, নিজেকে সঠিকভাবে আরও বাস্তবায়ন করার মত উপযুক্ত করে তুলি। তবে যারা আমাকে এমন ভাবে, তাদের প্রতি আমার বিন্দুমাত্রও অভিযোগ নেই। কেননা তারা আছে বিধায় হয়তো আমি নিজেকে আরও জানতে পারি, বুঝতে পারি। আর এই শিক্ষা আমি আমার জীবনের কাছেই পেয়েছি।

----------------------------------------
© আব্দুল হালিম

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ