প্রতিদিন বাংলাভাষা. স্রোত/ ত্রিপুরার নয়ের দশকের কবিতা সংখ্যা ১৪:১২:২০২০

প্রতিদিন বাংলাভাষা. স্রোত 
ত্রিপুরার নয়ের দশকের কবিতা সংখ্যা 
১৪:১২:২০২০

বাংলাভাষা ডট স্রোত কথা

মহাকালের কাছে দশ বছর খুব দীর্ঘ সময় না হলেও কবিতার জগতে এক দশক নিতান্ত কম সময়ও নয়।বিশেষত আধুনিক বাংলা কবিতা,যার বয়স দেড়শো বছরেরও কম,এবং আরও নিখুঁত ভাবে বললে,ত্রিপুরায় আধুনিক বাংলা কবিতার বয়স যেখানে টেনেটুনে বড়োজোর অর্ধ-শতাব্দীর কিছু বেশি,সেখানে দশ বছর অনেকটাই সময়।
নানা কারনে এই বিচিত্র ভূমিতে টিকে থাকা মানুষের যে বিপন্নতা,তা এই দশকে আরও বেশি জটিল অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে।এই বিস্ময় ও বিপন্নতার কথা লিখে ফেলতে পারেন এমন দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী কলম এখানে খুব বেশি নেই,তবে যে ক'জন আছেন তারা যথেষ্ট সক্ষম। সক্ষম এই একদল 'নতুন' কবির ভাবনার মানচিত্র ধরার চেষ্টা করেছি এই সংখ্যায়।

ত্রিপুরার নয়ের দশকের 
কবি ও কবিতা
চৈতন্য ফকির 

ত্রিপুরার কবিতা আলোচনা করতে হঠাৎ করে নয়ের দশক নিয়েই কেন লিখতে হবে সে এক অন্য ইতিহাস।নয়ের দশকের গুটিকয়েক কনিদেরকে বারবার বিশেষ মর্যাদার আসান দিতে গিয়ে অনেকেই অনালোচিত অনালোকিত বৃহত্তর বাংলাসাহিত্যের পাঠকের নিকট তাদের পরিচিতি তেমন ঘটেনি।
আশির দশকের শেষে আসা কয়েকজন কবি এসে নম্বই দশকের কবি বলে দাবি করেন।অথচ সেসকল কবিরা আশিতেই লেখালেখি শুরু করেছেন।বইও বেরিয়েছে। তাই তাদেরকে এই তালিকায় আমি রাখবো না।
অনেকেই কিছুই না জেনে তিন দশক চারদশক কিংবা উত্তরপূর্বাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ কবিতা সংকলন, ত্রিপুরার কবিতা সংকলিত, উত্তর পূর্বের কবিতা সংকলিত করেন।অথচ প্রতিটি সম্পাদনাই সুসম্পাদিত নয়।নির্বাচনে অদক্ষতা, সুচয়ন নয়।আর নিজেদের বন্ধুময় সংকলিত এই সকল কবিতা সংকলন তাই সকল অংশেরও নয়।সকল পাঠকের নয়।বুদ্ধদেব বসুর মতো ততটা সময় উপযোগী নয়।আমাদের স্বপন সেনগুপ্তের দ্বাদশ অশ্বারোহী ব্যতীত অন্যটি তাই তেমন উৎরোয়নি।আরো বেশ কিছু যৌথ সম্পাদনাও বারবার সমালোচনার উর্ধে উঠেনি।কবিতা নির্বাচন করা হয় নির্বাচিত সংকলন হলে।সেখানেও নিরপেক্ষতার অভাব পক্ষপাতিত্ব বারবার কবিতাকেই হেয় করা হয়েছে।কবিতা পাঠককে সঠিক বার্তা দেওয়াও সম্ভব হয়নি সেসব সংকলনে।সম্প্রতি কনি অপাংশু দেবনাথ অসীম ধৈর্য্য ও মায়াবী উচ্চারণে ফেইসবুক লাইভে এসে আমাদের ত্রিপুরার কবিতাকে কবিকে পরিচয় করাতে সহযোগিতা করেছেন।অপাংশু দেবনাথ নয়ের দশকের কবিদের কবিতাও পড়েছেন।সেই কবিদের একটি তালিকা ও কবিদের কাব্য সংকলন ও লিটল ম্যাগাজিনের নামের তালিকা উল্লেখ করলাম।

(১)জাফর সাদেক:

(২)আব্দুল আলিম:সুরভী ও লাঙল লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক।

(৩)শঙ্খ সেনগুপ্ত:রোদ সম্পাদনা করতেন।

(৪)কৃষ্ণধন আচার্য:

(৫)রূপন রায়:উত্তরমেঘ সম্পাদনার সাথে যুক্ত। 

(৬)গোবিন্দ ধর :অনেকগুলো লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনার সাথে যুক্ত। ত্রিপুরার লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের সাথে যুক্ত। উল্লেখযোগ্য সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন স্রোত।
তার এযাবৎ সাতটি কবিতা সংকলন প্রকাশিত।সংকলন গুলো হলো:জলঘর,সূর্য সেন লেন,মনসুন মাছি,দ্রোহবীজ পুঁতে রাখি, একা,শ্রীচরণেষু বাবা,আনোয়ারা নামের মেয়েটি,দেওনদীসমগ্র।এছাড়াও কবির গদ্য ও প্রবন্ধ সংকলিত। পাশাপাশি তিনি সম্পাদনা করেন আরো উল্লেখযোগ্য অনেকগুলো গ্রন্থ। 

(৭)সাঁচীরাম মানিক:আগুনটা উসকে দাও,কোথাও কেউ নেই দুটি কবিতা সংকলন তাঁর।

(৮)খোকন সাহা (বড়):

(৯)সমীর সিংহরায়:মুক্তি সম্পাদনা করেন তিনি।

(১০)লক্ষ্মণ কুমার ঘটক:অভিনয় ত্রিপুরা সম্পাদনা করেন কবি।নাট্যচর্চায় তিনি প্রাণ খোঁজেন।

(১১)কাকলি গঙ্গোপাধ্যায়:ভাষাসাহিত্য সম্পাদক মণ্ডলির সাথে যুক্ত।ত্রিপুরার আবৃত্তির কবিতা সংকলন তিনি সম্পাদনা করেন।

(১২)মণিকা চক্রবর্তী:প্রয়াস সম্পাদনা করতেন।জন্ম ১৯৬৯। 
সংকলন একটাই:পরাগের কামনা।
 চর্চা অল্পবিস্তর শৈশব থেকেই আছে।
প্রকাশ কলেজ জীবন  থেকে শুরু  হয়।

(১৩)সুতপা রায়:আবৃত্তি চর্চার সাথে জড়িত।।১৯৬৮ সালে জন্ম।সংকলন (যৌথ) বেশকিছু আছে। নিজের কবিতার বই মাত্র তিনটি। দহনের দিনগুলি, নদীর নাম বেহুলা, পাথর নও নারী(স্রোত প্রকাশনা)। সচেতনভাবে তিনি ৮৯থেকে সম্ভবত লেখেন।

(১৪)বিধাত্রী দাম:আবৃত্তি ও সঞ্চালনা করেন।সবলার জলছবি তাঁর একমাত্র কাব্য সংকলন। 

(১৫)শেফালী দেববর্মা:বাংলা ও ককবরক ভাষায় লেখেন কবি।ত্রিপুরী মিথ তাঁর কবিতায় অনায়াসে আসে।

(১৬)আলপনা দেবনাথ:1969/6/16
 মেঘ পুড়ে যায়,এখন বাতাসে হৃদয়, রাধাকলি, কেমন আছো তুমি,তেজপাতা রংএর বিষাদ।ক্লাস নাইন থেকে।ইতিমধ্যে তিনি কবিতার আকাশে পরিচিত।

(১৭)সুমিতা ধর বসু ঠাকুর:আকাশের ছাদ সম্পাদনা করেন।কাব্য সংকলন প্রকাশিত।

(১৮)মীনাক্ষী ভট্টাচার্য:প্রবন্ধ চর্চায় তিনি সাবলীল। তাঁর কবিতা সংকলন।

(১৯)ক্রাইরী মগ চৌধুরী:মূলত মগ ভাষা চর্চা তাঁর মূল বিষয়।সময়ে সময়ে কনিতাও লেখেন।

(২০)সুস্মিতা চৌধুরী:গোপনস্তব একমাত্র কবিতা সংকলন।গুহাচিত্র লিটল ম্যাগাজিনে লেখালেখি শুরু করেন।বর্তমানে তাঁর লেখা আর পাওয়া যায় না।

(২১)প্রদীপ মজুমদার:কাগজের নৌকা সম্পাদনা করেন।

(২২)শ্যামলকান্তি দে:ঝিলিমিলি ভাষায় কবিতা চর্চা করেন তিনি।

(২৩)স্বপ্না নাথ:মেঘ জ্যোৎস্নার ছায়াযুদ্ধ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য সংকলন। নৈবেদ্য সম্পাদনা করেন। 

(২৪)আশিস ভট্টাচার্য:মানসী সম্পাদনা করেন।তাঁর তিনটি কবিতা সংকলন ইতিমধ্যে প্রকাশিত। 

(২৫)তন্দ্রা মজুমদা:জন্মসাল-১৯৬৬ ইং।
কাব্য সংকলন-স্বপ্নরোদ্দুর ছুঁয়ে।
নিয়মিত চর্চা১৯৮৪ ইং।

(২৬)সংগীতা দেওয়ানজী:কবিতার খেয়া সম্পাদনা করেন।

(২৭)শিউলী শর্মা:

(২৮)বিনয় সিনহা:জলকলমী ও জলপথ তাঁর দুটি সংকলন আছে।

(২৯)তপন দেবনাথ:অবশেষে বাড়ি ফিরে যাবো তাঁর একমাত্র সংকলন। জন্ম:১৪ই আগষ্ট ১৯৭০সাল।প্রয়াণ:১লা এপ্রিল ১৯৯৯ সাল।

(৩০)আকবর আহমেদ :তৃণতট সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন।জলে ভাসে বনজ মুকুট সংকলিত।উত্তর-পূর্ব ভারতে গুটিকয়েক কবি হৃদয়ের সঙ্গে বোধকে মিশিয়ে দেন কবিতায়। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য  ত্রিপুরার আকবর আহমেদ। তাঁর কবিতার প্রতিটি শব্দে মিশে থাকে সমকালীন ভাবনা, ফুটে ওঠে সমাজজীবন। কবি চিরে চিরে দেখান প্রগতিশীল মানুষের অন্তস্থল। আর আমরা পড়তে থাকি অনুপম কাব্যভাষা।বামপন্থী মনোভাবটি তাঁর কবিতায় পরিলক্ষিত। তাঁর একটি কবিতা 

শূন্যের নামতা

মুসলমানেরা নিজেকে নিরপেক্ষ পরিচয় দিতে ড্রইংরুমের অ্যাকোরিয়ামে কাছিমের বাচ্চা পালে। হিন্দুরা বলে, আমরা এসব কিছুই মানি না। আমাদের রান্নাঘরের ডাইনিং টেবিলে বসে মুসলমান বন্ধুরা ভাত খায়। আসলে যে খায় সে পালে না, যে পালে সে খায় না। এসব সুশীল শয়তানেরা ডাংগুলি খেলে, সরলমতি হৃদয়ে পাগলা ঘণ্টি বাজায়। আমি শুধু রান্নাঘর থেকে কাছিমের দূরত্ব পরিমাপ করে দেখেছি কয়েক লক্ষ বর্গকিলোমিটার। বর্গমূলের নিয়ম মেনে কাটাকাটি করতে থাকলেও বর্গফল একটা থেকে যায়। পাটিগণিতের এই ফল = সুমিষ্ট গন্ধম = এই উপমহাদেশ = মানুষ
কবে হবে জানি না।

রূহের মাগফেরাত

আমার মাতাল সন্ন্যাস জেগে উঠলে আমি বহুবার গিয়েছি মায়াবী
মসজিদে। ভেতরের অনন্তগামিতার পথে পথে আল্পনার রঙিন চিহ্ন। 
গোলাপমাখা, এই চিহ্ন আঁকা কলব রূহ, আত্মা এসবে তোমাকে ধারণ
করতে রপসীমানায়, নিরাকার জেনেও নত হয়েছি সিজদায়। কণ্ঠস্থ
করেছি নিরানব্বইটি নাম, প্রতিটি নামের প্রতীকের আদিতে সাজিয়েছি
ফুলের বিগ্রহ। 
এখন এই নির্ঘণ্টে প্রতিটি প্রদীপ দেখি আম, কাঁঠাল, চামল, জামরুল,
জায়ফল, গোলাপজাম, সফেদা, আনারি এবং টেওরা ফলের মতো গাছে
গাছে ঝুলে আছে। 

স্তন্যপায়ী উত্তরপুরুষ আমি, জয়স্তু বলে লাফিয়ে পড়ি জঙ্গলে। আমার 
কি আর মসজিদে যাবার প্রয়োজন আছে !

(৩১)সুরঞ্জন কুন্ডু চৌধুরী:মূলত ককবরকভাষী হলেও বাংলা তাঁর পিতৃভাষা।জরা সম্পাদনা র সাথে যুক্ত। জরা পাবলিকেশন রাজ্যের অহংকার। সুরঞ্জন কুণ্ড চৌধুরী। কুমুদকুণ্ডু চৌধুরীর সন্তান সুরঞ্জন কুণ্ড চৌধুরী। তার জরা লিটল ম্যাগাজিন তারপর প্রকাশনায় আসে।ত্রিপুরার ককবরক প্রকাশনা জগতে সুরঞ্জনদের অবদান প্রাণিত করে।ও আমাদের বন্ধু। সহজ সুন্দর সুরঞ্জন।আকাশবাণীর ককবরক সংবাদ পাঠকও।

(৩২)অনন্ত সিংহ:গুহাচিত্র সম্পাদনা করে হাতে খড়ি। স্নানঘরের কবিতা কাব্য সংকলন সংকলিত। বর্তমানে অন্তঃকরণ সম্পাদনা করেন শুভেশ চৌধুরীর সাথে।

(৩৩)নির্মল দত্ত:উন্মেষ সম্পাদনা করেন।কবিতা,প্রবন্ধ গল্প ও উপন্যাসও লেখেন।

(৩৪)বিমল চক্রবর্তী :বিমল চক্রবর্তী জন্ম ১৯৭৩, ত্রিপুরা রাজ্যের বারভাইয়া গ্রামে।দুই দশকের বেশি লেখালেখির মধ্যে ;ত্রিপুরার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিক।সাত শতাধিক কবিতা, চল্লিশটি ছোটগল্প,দুইটি অগ্রস্থিত উপন্যাস এবং পাঁচ শতাধিক প্রবন্ধ লিখেছেন। সম্পাদনা করেছেন, নানা পত্রপত্রিকার বিশেষ সংখ্যা। উল্লেখযোগ্য সম্পাদনা 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় শতবর্ষ স্মারক গ্রন্থ ',ত্রিপুরা বিধানসভার সুবর্ণজয়ন্তী স্মারক গ্রন্থ ' 'মুখাবয়ব'সাহিত্য পত্রিকার অদ্বৈত মল্লবর্মন সংখ্যা '।ত্রিপুরা সরকারের গোমতী পত্রিকার ডি এল রায় সার্ধ শতবর্ষ সংখ্যা, গীতাঞ্জলি শতবর্ষ সংখ্যা।পেয়েছেন ত্রিপুরা সরকারের অদ্বৈত মল্লবর্মন স্মারক সম্মান। সাহিত্য অকাদেমির' তরুণ সাহিত্যিকদের জন্য ভ্রমণ 'প্রকল্পে ওড়িশায় সাহিত্য -ভ্রমণ করেছেন । ওড়িশার সমস্ত প্রতিথযশা সাহিত্যিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। অদ্বৈত মল্লবর্মন এবং জ্যোতিরিন্দ্র নন্দীর উপর উল্লেখযোগ্য গবেষণা গ্রন্থ রচনা করেছেন।বর্তমান গ্রন্থটিও তাঁর ব্যতিক্রমী চিন্তার সংযোজন।   তাঁর মোট গ্রন্থ সংখ্যা ১৪টি।

(৩৫)নবীনকিশোর রায়:সময় সংকেত সম্পাদনা করেন।

(৩৬)অলক দাশগুপ্ত :

(৩৭)সিদ্ধার্থ চক্রবর্তী :

(৩৮)পার্থ ঘোষ:

(৩৯)অপাংশু দেবনাথ:


(৪০)সুজিত দেব: জন্ম সাল-০৭-১২-১৯৫৯ ইং। যদি কেউ ফিরে চায় (একক কাব্যগ্রন্থ),
এই বিহঙ্গ কাল (যৌথ সংকলন)
কবিতার আকাশ(যৌথ সংকলন),
কবিতার ঝুড়ি (যৌথ সংকলন),
কাব্য কলম(যৌথ সংকলন)
কবিতা দেশ( যৌথ সংকলন)
অক্ষর বর্ণের রেখা(যৌথ সংকলন),
পিতা স্বর্গ পিতা ধর্ম(যৌথ সংকলন),
ফুলে ফুলে ছন্দের গন্ধ(যৌথ সংকলন)। বিদ্যালয় জীবনে ,মহাবিদ্যালয় জীবনে
সাহিত্য পাঠের প্রতি আগ্রহ থাকলেও কাব্য চর্চার প্রতি তেমন আকর্ষণ ছিলো না।  বিভিন্ন কবিতা সম্পর্কিত
লিটল,  ম্যাগাজিন পড়তাম ।তবে কাব্য চর্চার শুরু বলতে পারি ১৯৮৪/৮৫ ইং থেকে । বিশেষ করে "অনার্যে"-র আড্ডাতে থাকতাম। "সন্ধিক্ষণে"-ইত্যাদি পত্রিকার
সাথে যোগাযোগ ছিলো।প্রথম
কবিতা প্রকাশ পায় "অনার্য"
পত্রিকায়।

ত্রিপুরায় বারবার যারাই সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দাদাগিরি করছেন কবি ও কবিতাকে নিয়ে অপাংশু দেবনাথ এর পাঠ সে দাদাগিরিকে চেলেঞ্জ ছুঁড়ে দিলো।আসলেই ত্রিপুরার কবিতাকে নিয়ে কেউ কেউ মাতব্বরি করছেন নিজেদের আখের গোছানোতেই।অপাংশু সে বাড়া ভাতে একটু হলেও ছাই ছিটিয়ে ত্রিপুরার কবি ও কবিতাকে বৃহত্তর বাংলাসাহিত্যের পাঠকের নিকট এক আলোকিত ক্ষেত্র তৈরীতে অক্সিজেন জোগালো।এই অবদানের জন্য ধন্যবাদ তাঁর প্রাপ্য।আশা করি নয়ের দশক উন্মোচনে এই আলোকপাত কিছুটা হলেও নয়ের দশকের কবি ও কবিতাকে আলোকিত করবে।
৩০:০৪:২০২০

বিদ্র:একট সূত্রপাত


আমাদের লেখালেখি 
............................................
বিশ্বজিৎ দেব 

দু ফোঁটা আমিও লিখেছি তুমিও লিখেছো
দু ফোঁটা, এ নিয়েই কি সাগরের মানে
হা করা বারমুডা ট্র্যায়াঙ্গল!

জাহাজের মুনাফা ডুবেছে তবে কার টানে
বানিজ্য লহরী, দু ফোঁটা তুমিও লিখেছো
দু ফোঁটা আমিও 

আমাদের আর কোনো গত্যন্তর নেই
ছাউনির প্রশিক্ষিত অভ্যাস নেই,যুদ্ধ যুদ্ধ 
খেলে জানি যেরকম ছিলো আকাশ তেমনই

আন্টার্টিকা গলে যে বরফের ধারনারা
সামারের দীর্ঘ ছুটিতে কোচিং এর ক্লাসে
যায় তাঁরাও জেনেছে  দু ফোঁটা আমিও
লিখেছি দু ফোঁটা তুমিও.....

 সরলপদ্য-১৬/নির্মল দত্ত 

এখন শব্দ নেই। স্মৃতিকাতর কিছু আলো
জ্বলে আছে শুধু, কয়টি বাড়িতে।
হৃদয় মাংসপোড়া গন্ধ নিয়ে
চলে গেছে শব্দ-আতস-ঘটা জমকালো। 

জীবন অতীত হলে চিতা। দেহাতীত উৎসব
তারপর। পার্বণ সাঙ্গ হলে এমনিভাবেই
হৃদয়পুরের কয়টি বাড়িতে
জেগে থাকে দেহাতীত আলো !
                  

সান্ধ্যভ্রমণ-৫/অপাংশু দেবনাথ 
------------------
দলবদ্ধ নয় একা হাঁটুন,
ভাবুন,অনাহারক্লিষ্ট সহায়সম্বলহীন মানুষের মুখ। 
অসংখ্য দৃশ্য নিয়ে আসা রঙীন মেঘের কথা ভাবুন।

সরল কবিতার কথাও,
পৃথিবীর সব সরল কবিতাই কালজয়ী।
আর সরল মানুষেরাই বঞ্চিত হয়,
বঞ্চিত মানুষের মুখে শব্দ,ভাষা হয়ে আসা
সরল বোধের দিকে হেঁটে যান।

অনেক তো হলো।

মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার মতো আকাশচুম্বী বাড়ি,
নাম,যশ, কিছু বদনামও হলো।
পৃথিবীতে বদনামীদেরই নাম হয় বেশী
এ কথা জেনেই কেউ কেউ অপবাদ ভালোবাসে।

আপনি যশ ও নাম থেকে দূরে
অন্ধ গলির ভেতর হেঁটে চলেছেন,
এই গলিপথ বুঝি একদিন মিশে যাবে জাতীয়সড়কে।

বৃষ্টি শেষের পরে /পদ্মশ্রী মজুমদার 

বৃষ্টি হয়ে গেছে 
জয়ন্তিয়া পাহাড়ে।
তবু ধূপ গাছের পাতার ডগায়
আটকে থাকে বৃষ্টির ফোঁটা 
মেঘালয়ের আকাশ জুড়ে 
লুকোচুরি খেলা
কিছু মেঘ আর মেঘলা কথার বেলা
কথারা সব ছুটি নিয়েছে কবে,
শুধু রয়ে গেছে শব্দহীন
বৃষ্টির ফোঁটা। 

গোবিন্দ ধর একা অথব শূন্য 
গোবিন্দ ধর

এক.
ধানের দুধে লেখা থাকে হাওয়াকল গান
ইরিবাতাস।
চাষীর মনের মাটিভেজা মোহনধান
লকলকে গেয়ে উঠে ভাবীকাল।
রকমারী মুখোশের পদাবলী কীর্তন থেকে
ভাবতরঙ্গ সমূহ সংকীর্তন শেষে
রচিত বাঁশধানচাল।

দুই. 
সারা সময়ের পদাবলী রচিত আদেশ
ধর্ষিত সময় শেষে জলতল থেকে
উত্থিত আছড়ার ইতিহাস রচিত হবে
সমমনস্ক কিছু ধানের কান্নার কৌশল।

তিন.
বীজতলা থেকে সমূহসংগীত বাজে
হাওয়া মোরগফুলের সুভাষ ছড়ায় মনুউপত্যকায়।

চার.
উপদ্রুত বসন্তদিন নেচে ওঠে 
জঙ্গলের ফাঁক গলে উঁকি দেয়  
পূর্ণিমাচাঁদ।
ধানের পাতায় লেগে থাকা শীতশিশির টুপটাপ পতনের শব্দে লেখে প্রজন্মের উঠোন।

পাঁচ. 
বিরহরচিত ঘাস ধানের আগাচা হলেও
ধানেরই আগাছা। 
সহসা বাছাই জরুরী।
জরুরী পতাকা বহনে সুসময়ে বন্যাস্রোত ঢুকে পড়ে জল।
জল সব জল জল নয় জীবাণুর সংক্রমণ থেকে ক্রমশ টপকে সঠিক আলপথে এগুতেই হয় সরুআল।

ছয়.
মোহনসংগীত ছিলো বাপুরামের সাপের মেজিক।
মেজিকঝাঁপির ভেতর ঠিকানা ছিলে না
মিছেমিছি কেটেছে সময়।
কালখণ্ড পেরিয়ে আসা চার হাজারধানপাতা গেয়ে ওঠে 
বিব্রতরুচী।

সাত.
পথের মাঝে কিছু দূর হেঁটে গেলে 
মাঠের তেপান্তরে অবোধ্য পাটশাক 
সবুজ বিলানো ভুলে
যদি কখনো নড়ে ওঠে শীর্ষবিন্দু 
ধর্ষনের অজানা ইতিহাস সেখানে অপেক্ষা করছে। 
খনার জিব্হা মাটি ভেদ করে
রচিত লণ্ঠনের আলোয়
আর কখন দিক ভুল করে
পুনরায় পাটখেতে যায় না।

আট.
ঘরে ঘরে জেগে যাক মেয়েরা খনা
জিব্হার নৃত্য থেমে গেলে
রচিত ইতিহাস রচনা শেষে 
তুমিই বাঁশমতি বোন
যার ঘ্রাণ বাতাসে ছড়ায়
জেগে থাকে যে জীবনের মোহনবাঁশীহাতে।

নয়.
সামনেই আনোয়াছড়া তারজলে পা ডুবিয়ে
একটি মেয়ে গেয়েছিলো
জীবনের ধারাপাত
কলকল বাহিত জলের সাথে বাঁশমতি ধানের ঘ্রাণ সে 
নিত নিশ্বাস ভরে।
তাতেই আনন্দিত আনোয়ারা।
মিছেমিছি কেটেছে তার যমুনাবেলা।

সমপরিমাণ আতরের কাছে গিয়ে বসে বসে 
মেয়েটি বাঘের ঘ্রাণ পেয়ে
দিলো দৌড় 
পিছে পিছে মোড়ল।

দশ.
সামান্য সংগঠিত সংগীত তাও কত জিগির!
কত আস্ফালন! 
পতাকার ফৎফৎ,ঝঙ্কার,হুঙ্কার! 

এগারো.
সকল ষড়যন্ত্রে বিভক্তিকে ভুলে যায় ধান
আগাছা মাড়িয়ে লাফায় যুবতীবয়স।
সম্মিলিত শুভকামনা ভেবে হাঁটতে হাঁটতে ভুলপথে পাড়ি দেওয়া পা
হঠাৎ থমকে দিলো
ষড়যন্ত্র সময়।

বারো.
বয়স্ক ধান গবেষণা করে মিতালি পাতে নলখাগড়ার সাথে
তখনই বেজে ওঠে পতনের শব্দ। 
সমস্ত পতন শেষে হয় রচিত হয় নতুন পতাকা 
নয়তো ঝড়েই নষ্ট হয় ধানেরফুল।

তেরো.
ধানখেত সবুজ হেলেদোলে হালিচারা।
হয়তো সকাল জেনো পাখিদের কাকলী। 

চৌদ্দ. 
মাঠ যদি পুনরায় ভরে ওঠে কৃষকের শূন্য টুকরিতে ক্রমশ জমে যাবে ধান।
গোলা ভরা থেকে কৃষকের নবান্ন। 
সন্ধ্যা মেয়েটি সংগীত গেয়ে উঠবে।
চারিদিকে আলোকিত উত্থান 
পতাকার হাওয়াদোলন।

ষোলো. 
জীবনের ধারাপাত থেকে ধানজন্ম সার্থক হলে
প্রতিজন মুখমণ্ডল মানচিত্রে 
লেখে রাখে ইতিহাস।
পতন থেকে আছড়াধান ক্রমাগত যুদ্ধ লেখে উত্থানের পাথরে।

সতেরো. 
কত আর কেটে নেবে জিহ্বা বরাহমিহিরের সামান্য সংগঠন!
খনাধান কলমের বুক চাপড়ে লিখে দেবে
আগমনী সময়ের সাথে গন্ধভাত।

ঊনিশ.
রচিত ভূতক্রীয়া শেষে রচিত খণ্ডিত বিচার!
যতবার কৃষকের লাঙ্গল কেড়ে নিতে চায়
পুনরায় মাথা তুলে আগাছা মাড়িয়ে 
জলের তোড়ের ভেতর থেকে 
জেগে উঠে কৃষিকন্যাখনা।

বিশ.
বিন্নির বুক থেকে সুঘ্রাণ ছড়িয়ে 
অচিরেই অর্জন সম্ভব 
কেড়ে নেওয়া ভালোবাসা।

সমূহপতন থেকে সৃজিত হয় উত্থানের চৌকাঠ। 
সিঁড়িগুলো টপকে উঠো বেদনারচিত পিছল পথ টপকে গেলে
পুনরায় ভালোবাসামেয়েটির মতো
আদর করবে বিলিকাটা সকাল।


০৯:১০:২০২০
রাত:০১টা৪০ মি
কুমারঘাট।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ