হারাধন বৈরাগী
উজানমাছমারা-রিজার্ভ-ফরেস্ট-২
ছন কাটতে গিয়েছিল
জঙ্গলমায়া তাকে টেনে নিয়ে গেল
লাশ আর খুঁজে পাওয়া গেল না।
ছিল ,তার কেউ ছিল না
অভুক্ত সন্তানেররা কোথায় হারিয়ে গেল
কেউ খবর রাখলো না।
জানা গেল,রাজা আর সমুদ্রপুত্রদের
শোষণ নিপীড়নে খাওয়াখাদ্য অনটনে
মায়াগুলো ধীরে ধীরে মানুষখেকো--!
এতোই দূর্বল হয়ে পড়েছে যে
একা একা শিকার সম্ভব নয়
তাই তারা যৌথ নেমেছে শিকারে
দিনে গা-ডাকা দেয় জঙ্গলে
রাতে খাবারের সন্ধানে হন্যে হয়ে
ঝাঁপিয়ে পড়ে লোকালয়ে
পরের ইতিহাস সকলের জানা
শুরু হল মায়াদাঙ্গা বা মানুষবন্যা
যেমন প্রতিবছর মাছবন্যা হয় গণ্ডাছড়ায়!
জঙ্গল ভুলে গেল পাখিদের কথা
পাখিরা মরে হয়ে গেল ভুত
মঙ্গল ভুলে গেল মায়াগাঁথা
রাজা,পাট ছেড়ে কবিরাজ বনে গেল
আর এমন এক মোদক বানালো
মায়া মরলো ছিটেফোঁটা
মানুষ হল মান্দাই ফোটামাটি পাতিছড়া
কিছুমায়া গাঢাকা দিল আরেক জঙ্গলে
কিছুমায়া কালচার করলো সুযোগসন্ধানীরা
নিয়ে আসা হল লঙ্গরখানায়, আসলে-নকলে
রাজার লঙ্গর বলে কথা
আর লেহ্য পেয়ো খেয়ে--
ফুলে ফেঁপে উঠলো
ফুলে ফেঁপে উঠলো
সুযোগসন্ধানীরাও!
লোকালয় কানাঘোষা করলো শুধু
চিনতে পারলেও
প্রকাশ্য কিছু বলতে পারলো না কেউ
মায়ারা ধীরে ধীরে বৈষ্ণব হয়ে গেল
অবশ্য গুরুর নির্দেশ মতো
মাঝে মাঝে ওঙ্কার দিতো
বৈষ্ণব হয়ে গেলে সবই ঈশ্বরময়
অনেকদিন প্রায়- জঙ্গলে আর
ওঙ্কার শোনা গেলো না
ইদানিং ফের শোনা যেতে লাগলো --
মঙ্গল থেকে জঙ্গলে
প্রভারাম পাড়া থেকে মালদাপাড়ায়
চারজন নিখোঁজ হয়েছে
বিশেষজ্ঞরা বলবেন
নিশাজঙ্গলে এখন তো আর মায়া নেই
তবে এ-কোথা থেকে এলো
বলছি অবগতি--
এবার মায়া এসেছে জাদুঘর থেকে
যেখানে কোরবানি করা হয়েছিল
গুরু রতনমণিকে!
অনেকদিন ধরে
জাদুঘরে রাখার পরিকল্পনা ছিল
একমাত্র পিস
হলেই যে হস্তিসম
এতো শত্রুও জানে !
কেউ কেউ বলছে মায়া একলা নয়
সাথে অবশ্যই মায়াবী কিংবা মায়াবিনী আছে
খুব দূরে নয়, কাছেই কোথাও ওৎপেতে--
কেউ-- জোর গলায় বলছে, দূরে হোক
আর কাছে -সে অবশ্যই সমুদ্রপুত্র
কিংবা সমুদ্রপুত্রী হলেও হতে পারে!
গুরুভাই !ভূমিপুত্র!
বাঘ সবেমাত্র জঙ্গলে প্রবেশ করেছে
খুব দূরে নয়-উজানমাছমারা রিজার্ভফরেস্ট!
মাফ করবেন,ভুল করে বলে ফেলেছি
ভূমি কিংবা স্থল নয়,তুমিও-সমুদ্রপুত্র!
0 মন্তব্যসমূহ