প্রতিদিন বাংলাভাষা. স্রোত
ত্রিপুরার অণুগল্প সংখ্যা
১৬:১২:২০২০
ত্রিপুরায় অণুগল্প চর্চা
চিরশ্রী দেবনাথ
অণুগল্প আজকাল খুব চলছে, এ কথাটি বর্তমানে খুব শোনা যায়, আসলে অণুগল্প ব্যাপারটি বহুদিন ধরেই চলছে। বিদেশ এবং স্বদেশের স্বনামধন্য সাহিত্যিকরা অণুগল্প লিখে গেছেন এবং লিখছেন। ছোটগল্পের চাইতে বেশ কিছু ছোট গল্পকেই অণুগল্প বলা হচ্ছে। দুইশ বা আড়াইশো শব্দের মধ্যে হতে হবে তাকে। আয়তন স্বল্প হওয়ার জন্য প্রত্যেকটি লাইন মেধাবী, সংবেদী এবং তীক্ষ্ণ হওয়া দরকার। অতি অল্পের মধ্যেই বিশাল একটি চিন্তার অবকাশ রেখে সে শেষ হয়ে যাবে। যাতে পড়ার পর প্রাণ থেকে খুব সহজেই বের হয়ে আসে “আহ্ “।
তবে অণুগল্প এবং মুক্তগদ্য এক নয়। মুক্তগদ্য কবিতা ভাবনার বা গদ্য ভাবনার একটি ভাবগম্ভীর স্বাধীন প্রকাশ, নিটোল একটি গল্প বা কবিতা পাঠককে উপহার দেওয়ার তাড়না এখানে লেখকের নেই। তিনি তার ইচ্ছানুসারে ভাবনাটি এখানে বিস্তৃত করতে পারেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মুক্তগদ্য নির্দিষ্ট বিষয়কেন্দ্রীক হয় না, প্রসঙ্গ থেকে প্রসঙ্গান্তরে যান লেখক। তাই মুক্তগদ্যকে কখনই অণুগল্প বলা যায় না। অথচ প্রায়শই আমরা দেখি আবছা একটি ধারণাকেই অনেকে অণুগল্প বলে প্রকাশ করছেন। অবশ্য সত্যিকার অর্থে অণুগল্প, গদ্যকবিতা এবং মুক্তগদ্য তিনটির মধ্যে কোন পার্থক্য করা যায় না, লেখকরাও বাধ্য নন তাদের চিন্তাকে এতটা সীমান্ত মেনে লিখতে। এখন সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যানে আমরা প্রায় প্রতিদিনই অণুগল্প পড়ার সুযোগ পাচ্ছি। আর এইসব অণুগল্পের মধ্যে কিছু কিছু গল্প একদম চমকে দেয়, হীরকখন্ডের মতো দ্যুতি ছড়ায় গল্পের মূল সুরটি। মানুষের হাতে সময় কম, ট্রেনে, বাসে যেতে যেতে, কাজ করতে করতে টুকটুক করে পড়ে ফেলা যায় এই গল্পগুলো, কোন কোনটার রেশ থেকে যায় অনেকদিন, কয়েকটি পড়ার পরই মন থেকে মুছে যায়।
কাফকার মেটামরফোসিস বা রূপান্তর কে অনেকে অণুগল্পের প্রথম সূচনা মনে করেন, বাংলা সাহিত্যে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় বা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অণুগল্পের জনক বলা হলেও, তাঁদের লেখা গল্পকে তাঁরা অণুগল্প ইত্যাদিতে আখ্যায়িত করেননি। এই নাম পরবর্তীতে দেওয়া হয়, গল্পের আয়তনের ওপর নজর রেখে। যদিও এখনো অণুগল্প ঠিক কত বড়ো হবে, দুশো না আড়াইশ না পাঁচশ এই ধারণা একদমই স্পষ্ট নয়। আমার ব্যক্তিগত মত হলো অণুগল্প দুশো থেকে আড়াইশো শব্দের মধ্যে হবে।
পদার্থবিজ্ঞানে অণু বলতে পদার্থের সেই কণার কথা বলা হয়েছে যেখানে পদার্থের সকল গুণ বর্তমান এবং তার নিজস্ব স্বাধীন অস্তিত্ব আছে।
সুতরাং অণুগল্পও সেইরকম। গল্পের সকল গুণ থাকবে, ছোট হলেও সে স্বয়ংসম্পূর্ণ, একক চেতনা বিস্তারে সম্পূর্ণ সফল।
এবার আসি মূল বিষয়, ত্রিপুরার অণুগল্প চর্চা।
প্রত্যেক গল্পকার বা কবিই আজকাল জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে অণুগল্প লিখছেন, সেই গল্পগুলো সফল না অসফল সেটা বলে দেওয়ার কোন পাঠক বা সম্পাদক নেই, সকলেই বিতর্ক এড়িয়ে চুপচাপ দেখতে ভালোবাসেন, নিতান্তই জলো অস্পষ্ট ভাবনাকে অণুগল্প বলে ছাপিয়ে দেন প্রায় সকল সম্পাদকই।
এখন পর্যন্ত ত্রিপুরার লেখকদের কোন অণুগল্প সংকলন প্রকাশিত হয়নি আমার জানা মতে। মৌমিতা প্রকাশন দীর্ঘদিন আগে অণুগল্প চেয়েছিল, সংকলন প্রকাশের জন্য, তা প্রকাশিত হয়েছে কিনা জানি না সঠিক, কোন কপি বা সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয়ে নতুন কোন আপডেট দেখতে পাইনি। ত্রিপুরার স্রোত প্রকাশনা শুনেছি একটি অণুগল্প সংকলন প্রকাশ করবে, এ বিষয়ে সংগ্রহ ও সম্পাদনার কাজ করছেন গোবিন্দ ধর ও পদ্মশ্রী মজুমদার।
স্রোত প্রকাশনা থেকে গল্পকার সঞ্জয় পুরকায়স্থ এর একক অণুগল্প সংকলন বেরিয়েছিল কয়েকবছর আগে।গল্পকার দীপঙ্কর গুপ্তেরও একটি একক অণুগল্প সংকলন রয়েছে।
সম্প্রতি দিব্যেন্দু নাথ তার লিটিল ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিকতম সংখ্যাটি করছেন অণুগল্পের ওপর।
দৌড় এবং উত্তরপূর্বের লিটল ম্যাগাজিন যাপনকথা বের করেছেন বিশেষ অণুগল্প সংখ্যা। সেখানে ত্রিপুরার বহু লেখকলেখিকা অণুগল্প লিখেছেন। “দৌড় “ এর এই সংখ্যাটিতে প্রত্যেক লেখক লেখিকার ছবি, নাম, ঠিকানা ও পরিচয় সহ চারটি করে দুশো শব্দের মধ্যে অণুগল্প প্রকাশিত হয়েছে। যেখান থেকে ত্রিপুরার সাম্প্রতিক অণুগল্প সম্বন্ধে একটি ধারণা পাওয়া গেছে। এই সংখ্যাটিতে অণুগল্প লিখেছেন ত্রিপুরার পদ্মশ্রী মজুমদার, পৃথ্বীশ দত্ত, হারাধন বৈরাগী, দেবাশ্রিতা চৌধুরী, গোবিন্দ ধর, অভীক কুমার দে, অমলকান্তি চন্দ, তমা বর্মণ, দেবীস্মিতা দেব, চিরশ্রী দেবনাথ।
এছাড়াও মধুমিতা নাথ, অভিজিৎ চক্রবর্তী, অর্পিতা আচার্য, বিল্লাল হোসেন, চিত্তরঞ্জন দেবনাথ, বর্ণালী দাস বন্দোপাধ্যায়, শান্তশ্রী মজুমদার, রাধা দত্ত, রীতা শিব, রিয়া দেবী, সুমন পাটারী, তমালশেখর দে, বিভাবসু দে, নবীন কিশোর রায়, সোনালী রায় বাগচী, সঞ্জীব দে, সম্রাট পাল তাদের লেখা অণুগল্প মাঝে মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং দৈনিক কাগজে পড়তে পাই।
এইসব অণুগল্পগুলোতে সবাই স্বকীয়তা এবং মেধার ছাপ রাখতে চেয়েছেন, কতটুকু প্রতিভাত হয়েছে, তারা তাদের সৃজনশীলতার ব্যপ্তি কতখানি প্রসার করতে পেরেছেন বলতে গেলে বলতে হয়, আমরা আশাবাদী, ততটা উজ্জ্বল দ্যুতি সবার ক্ষেত্রে না দেখা গেলেও বলা যায় তারা অণুগল্প চর্চা করছেন এবং করবেন।
আর একটু পিছিয়ে গেলে সময়ের দিক থেকে, ত্রিপুরার কিশোর রঞ্জন দে, হরিভূষণ পাল, অশোক দেব, সদানন্দ সিংহ, দীপঙ্কর গুপ্ত, সত্যজিৎ দত্ত, শ্যামল বৈদ্য, বিমলেন্দ্র চক্রবর্তী, অশোক সিনহা, সন্তোষ রায়, অশোকানন্দ রায়বর্ধন, সুনীতি দেবনাথ, হৃষিকেশ নাথ, অমিতাভ কর, নন্দিতা দত্ত, গৌরী বর্মণ, পার্থ ঘোষ, সঞ্জয় পুরকায়স্থ, সবাই বহু সার্থক অণুগল্প লিখেছেন।
ত্রিপুরার বহুল প্রচারিত দৈনিক সংবাদ পত্রিকায়
অণুগল্প পাঠানোর জন্য সংবাদ বিচিত্রা বিভাগে বলা হয়, এবং সেখানে প্রায়শই সুন্দর অণুগল্প, পাঠ করার সৌভাগ্য হয়, ত্রিপুরার নানান জায়গার নবীন ও অভিজ্ঞ উভয় লেখকদের কাছ থেকেই।
সাম্প্রতিককালে পঠিত কিছু প্রিয় অণুগল্প সম্বন্ধে সংক্ষেপে বলে শেষ করছি,
যাপনকথায় পেলাম পৃথ্বীশ দত্তের “জলপড়া “ গল্পটি। কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েও অণুগল্পের সমস্ত দিক বজায় রেখে শেষ পর্যন্ত একটি নিটোল গল্প, উপদেশ নয়। এই সংখ্যাটিতেই আছে, “লোকটাকের কইমাছ “,কিশোর রঞ্জন দে “র লেখা। গল্প রচনায় তার মুন্সিয়ানা পাঠকের মনে অব্যর্থ লাথি চালায়।
আর সহজাত মেধাবী দক্ষতায় ত্রিপুরার অন্যতম গল্পকার সত্যজিৎ দত্তের লেখা, “ভোর “। সুনীতি দেবনাথের লেখা, “সোনা বউয়ের একদিন “
তরুণ কবি সুমন পাটারীর লেখা “বিকেলবেলা”, তমালশেখর দে এর, “হরিণী “ইত্যাদি।
আসি “দৌড় “এর বিশেষ অণুগল্প সংখ্যায় প্রকাশিত ত্রিপুরার কয়েকজন গল্পকারের লেখা,
এখানে তমা বর্মণের, “ঈর্ষা “,পদ্মশ্রী মজুমদারের “শাড়ি “,অমলকান্তি চন্দের, “কাকচাংতি “, হারাধন বৈরাগীর “বাবা লংতরাই, শঙ্কতাড়িনী ও তাদের সন্তান “, দেবাশ্রিতা চৌধুরীর, “স্বাধীনতা কারে কয় “, অভীককুমার দে র, “অবসরপ্রাপ্ত মা “ ইত্যাদি অণুগল্প বিষয়ের বৈচিত্র্য ও বলার ভঙ্গিমায় গল্পপাঠের রেশ রেখে যায় ।
ত্রিপুরার বেশীর ভাগ অণুগল্পই সুঠাম, সুন্দর ও বুদ্ধিদীপ্ত বলে আমার মনে হয়, এই
রাজ্যের অন্যতম কবি ও গদ্যকার অশোক দেবের লেখা, “পুরুষ “অণুগল্পটি যেটি আন্তর্জালে সার্চ করে পেলাম, বাংলা ট্রিবিউন শারদ সংখ্যা, ২০১৮, তে মুগ্ধ করেছে।
এখন পর্যন্ত বিশেষ কোন অণুগল্প সংকলন প্রকাশিত না হলেও, ত্রিপুরায় প্রচুর অণুগল্প লেখা হচ্ছে এ রাজ্য এবং বহির্রাজ্য থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিন, আন্তর্জাল পত্রিকায় ত্রিপুরার লেখক লেখিকাদের উজ্জ্বল উপস্থিতি এটাই প্রমাণ করে। আর বর্তমানে ফেসবুকেও প্রতিদিন পাচ্ছি নানান স্বাদের অণুগল্প।
অণুগল্পের ধারণক্ষমতা ছোট বলে অল্পতেই বিষ, অল্পতেই অমৃত, প্রথমদিকে টানটান হলেও শেষদিকে যদি ঢলে পরে কবিতার ভাবালুতা নিয়ে তবেই গল্প মাটি, এ বিষয়টি ছাড়া ঘটনার বৈচিত্র্যে, পরিবেশনের সৌকুমার্যে ত্রিপুরার অণুগল্প বিশিষ্টতা এবং মেধাবী সৃজনশীলতার পরিচয় বহন করছে।
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1889701191169236&id=100003881196587
বিদুরী
অমলকান্তি চন্দ
“এই টোকা তু কন-আ করুছু? জলদি কিনা ইয়ারে আ ।”-মায়ের ডাকে বোধিয়া পিছ পা হল। আবার পালিয়ে অনেক দূর।
“টোকাটা মনদেই কি পড়িলে ভল হব। টোকাটা সবোটু ভল হব। “--বিদুরী চায়ে চুমুক দেয়।
“দেখোছিতো। কিমতি হব ভল। এত টংকা কটে পাইবি? --বোধিয়ার চাপা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ।
“চিন্তা করে না আমরি বিহারী বাবু অছি। বিহারী বাবু টংকা দেব কইলা। “-বিদুরী স্বামীকে সান্ত্বনা দেয়।
মুখিয়া মুখে কোন শব্দ করল না। উঠোনে বেড়ে উঠা গাজা গাছটার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
“বিদুরী গঞ্জার ছিলিমটা নগইকি আনি কি দে? -কথা বলতে বলতে মুখিয়ার সারা শরীর কাঁপতে থাকে। কেমন রহস্যময় নেশা। ধোঁয়ার ভাঁজে ভাঁজে পা ফেলে সে। ছুটতে থাকে আকাশের দিকে… .।
বাগান লাগোয়া বাঁচালির ধারে একটি গাড়ি ব্রেক কষে দাঁড়াল। গলায় টাই দুলছে। সাদা টুপির আড়ালে বুধিয়া মুখ।
“এ মা চল টাউনগো যিবা। “
বিদুরী ছেলের মুখের দিকে কেবল তাকিয়ে থাকে আর মনে মনে বলে -“এ বা মু হেলে যিবি। “
ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠল বিদুরী। ছেলেকে কাছে না পেয়ে খুঁজতে বের হল। সারাটা বৃদ্ধা আশ্রম তন্ন তন্ন করে খুঁজল। বুধিয়ার কোন খোঁজ মিলল না।
--”এই বাপু বুধিয়া কোয়াডে গেলা জানুছু? “
--বাগানের মালি বার দুয়েক মাথা নেড়ে উত্তর দিল “না। “
বিদুরী পাগলের মত নিজের ঘরে ছুটে আসল। ছিলিমে গাজার পুটলি। বারুদ ছোঁয়াতেই কেবল ধোঁয়া আর ধোঁয়া। ধোঁয়াগুলো কুণ্ডলী পাকিয়ে স্বর্গের পথে… ..।
নসিব
গোপালচন্দ্র দাস
জরিনা বিবি- ভোজপুরী ও বাংলার সংমিশ্রনে কথা বলেন,প্রকাশ্যেই বুঝলাম বিহারী ও বাঙালীর সংগমস্থলে বসবাস। আলাপ করে বজানলম,উনি ঝাড়খন্ডের জসিডি'র বাসিন্দা। ট্রেনের আমার কামরার সবচেয়ে বয়স্ক মহিলা । সমস্থ শরীরে থলথলে জালের মতো বলিরেখা। ঝুলন্ত পেটের মাংশপিন্ডে গভীর মাতৃত্বের ছাপ। পৃথিবীর সমস্থ ফল্গোধারা যেন বলিরেখা হয়ে বয়ে চলেছে জরিনা বিবির সমস্থ শরীর -জঠরে । মনে হয় জীবনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের সাক্ষি আজ্ঞাচক্রের এই অসহ্য ভাজরেখা ।
কথাবার্তা ও কাপড়েচোপড়ে জাত ভিক্ষুক বলে মনে হয় না । কারণ আর যাই হোক আমাদের মনোবিদ্যার প্রাতিষ্টানিক শিক্ষা থাকুক আর না থাকুক ষষ্টেন্দ্রিয়ে আমরা কম যাই না।। আলাপ করে জানলাম, জরিনা বিবির মরদ টাঙ্গা চালাতো। টাঙ্গার ঘোড়ি ডাক ধরেছিলো, সময় মতো ঘোড়া না পাওয়ায়, ঘোড়ি পাগলী হয়ে বোল মানেনি- চোখ বন্ধ অবস্থায় পুল থেকে স্থানীয় জাড়োয়া নদীতে সলীল সমাধি হয়েছিলো । চার ছেলে দুই মেয়ে, মেয়েদের অনেক আগেই নিকা হয়েছে। ছেলে মেয়েরা নাতিপুতি নিয়ে ঘড়-সংসার করছে। মাকে কেউই দেখে না। গত কদিনের সর্বনেশে ঝড়ে , মকই ভূট্টার বাঁশের ঘড় কোথায় উড়িয়ে নিয়ে গেছে পাওয়া যায়নি। এখন কাঞ্চণজঙ্গা ট্রেনে গৌহাটি যাচ্ছেন ,কাজের ওছিলায়।
মালদাহ্ এসে পনের মিনিট রেষ্ট । ক্রসিং আছে । জরিনাবিবি কিভাবে যে ট্রেনে উঠলেন সেটাই আশ্চর্য ।আরেকটি ট্রেন মিসিং থাকায় এখানে তিল ধারনের জায়গা নেই। লোক গড়গড় করে দৌড় ঝাপ করে যে যা পাচ্ছে ঘপাঘপ গলদকরন করছে।জলের অভাবে কারও ভিষম লেগে-বেহাল,কার পাঁজর পিঠ কে মালিশ করে।
কোনমতে জরিনা বিবি নীচে এলেন। একটি ছেলে বিষম খেল। জরিনা বিবি ছেলেটির মাথায় হাত দিয়ে বলছেন,' থুড়ি নুন কি সাথ থড়িছি পানি পিলে বেটে' কাট যায়েগী ।
উনি নিজেরও খাওয়া দাওয়া হয়নি। মলিন কাপড়ের খুঁট থেকে তিরিশ চল্লিশ টাকায় খাবার হয়নি। কিছু লোক দশ পাঁচ টাকা খুচরো না নিয়ে দান করলেন। খাবার মুখে দেবেন, এমন সময় ট্রেনের নিষ্টুর হর্ণ বেজে উঠলো । এক ফেরীওয়ালা ডেকে বলছে, '' হে মাই - খানা টেরেইনমে লইকে যা-টেরেইন ছোড় দেয়গী ''অগত্যা জরিনা বিবি কাপড়ের আঁচলে খাবার ঠোঙ্গা বেঁধে ফেরীওয়ালার সহযোগীতায় কোনমতে ট্রেনের দরজায় দস্থখত দিলেন। কিন্তু বিধি বাম-মানুষের শরীরের ঘর্ষণে যেন একশ দশ ভোল্ট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। জরিনা বিবির জীর্ণ কাপড় ছিড়ে শরীরের সাথে খাদ্য পেষ্ট হয়ে গেছে ।
আমি ট্রেনের নিদ্রাযান শ্রণীর টপ শ্লিপারে। বাথরুম হোক আর ঝালমুড়ি, রাঁচীর ভাট্টা শ্রমিক আদিবাসি হোক আর মাড়োয়াড়ী , সবার ত্যাগগন্ধের উর্ধচাপে আমি অতীষ্ট। তবুও মুখ বের করে বললাম কি হলো ? জরিনা বিবি বললেন, ''অর কি হবি ''খানে কে লিয়ে তকদীর চাইয়ে-- যো মেরী নসিব মে নেইয়ে '' দানে দানে মে লিক্কি হে খানে ওয়ালীকী নাম ।
বিচার-সভা ও একটি জবানবন্ধী
হারাধন বৈরাগী
একদিন সন্ধ্যাবেলা সাদ্রু মগ এসে-- বলল,- তার সাথে একটি নারীঘটিত বিচার-সভায় যেতে।খুব অসুবিধা না-থাকলে এমন ব্যাপারে -- সর্বদা রাত থাকতেই প্রস্তুত থাকি।তাই সাপ্রুর কথা মতো----।
মগপাড়ার জমিলার ঘরে কেন্দ্রীয়-রিজার্ভবলের সাহেব ছাড়াও পাঁচ-ছয়জন মুরুব্বি উপস্থিত।একজন সেপাই মাথা হেট করে বসে আছে একটি পিঁড়িতে ,সাথে জমিলাও---।জমিলার জামাইকে দেখলাম --একখণ্ড মেঘের মতো।
মুরুব্বী --- জামাইকে বললেন, তার বক্তব্য-বলার জন্য। সে-- প্রনাম করে বলল,-আমার বউকে সেপাই অনিরুদ্ধ বলাৎকার করেছে-তথাগত!--- তারপর, জমিলাও প্রণাম করে বললো,-সেপাই আমার ঘরে চুয়াক খাইতে আইছিল।হে ---খারাপ কিছু করছে না--তথাগত-!
জমিলার জামাই দাঁতে দাঁত ---চাপছিলো! সেপাইকে বলতে বলা হল।সে হাত-জোড় করে বললো,- জমিলার--- সাথে আমি একমত তথাগত!একজন মুরুব্বি জমিলার বরকে বললেন,তোমার কী কোন প্রমাণ আছে?
অষ্টমবর্ষীয়া মেয়েটি তার বাবার পাশে ছিল।-----আমার মেয়ে--- কিছু বলতে চায়--------!অনুমতি দেওয়া হল।তর্জমাটা এরকম,--আমি মা’র সাথে--ছিলাম,সেপাই আঙ্কেল-- পেন্ট খুলে লম্বা একটা কুইচ্চা-মাছের মাথা বের করলো।বিছানার পাশ থেকে ---- মার তলপেটে গাঁথলো!---পাছা নাচতে লাগলো।মা মরামাছের মতো তাকিয়ে রইল।----ভয়ে কাঁদতে লাগলাম------।
কুইচ্চা--- মা’র কোলের উপর বমি করলো--- টাকা দিয়ে আঙ্কেল চলে গেলো!----মা--বাইরে গেলো---!এসে আমাকে আদর করে বললো, --তোর আঙ্কেল কতো ভালো।-- বমি করলেই টাকা দেয়--! আরও এসে---করাবে---আরও ---দেবে।তুই কাঁদলে অন্য বাড়ি গিয়ে---।কাউকে---বলবে না---মিস্টি কিনে দেবো!
ক্যাম্পের সাহেবসহ সেপাইকে উদ্বিগ্ন দেখা গেলো!---মুহুর্তেই ব্রুইফাঙের মতো জমিলা---ভেঙে-- পড়লো!
বরাক:সন্ধ্যা নামার মুহূর্ত
চৈতন্য ফকির
সইন্ধ্যা অইযার।রূপসীবাড়ি এখনো আসেনি।ফুটাইল চানা লইয়া হকার রেলর ডাব্বায় ডাব্বায় ঘুরের।আদিমা,য়ুথিকা কেউ চানা খাইতে চাননা।অপূর্ব নিরাই রূপসীবাড়ির রূপ দেখছেন।লাল সূর্য বরাকে টুপ করে ডুব দিতেই রেল গিয়ে করিমগঞ্জ থামলো।দিকশূন্য।রাইত রাইত লাগের সারা বরাক।কাইল থাইক্কাই অপূর্বের দু:স্বপ্ন বরাক নিয়া।উত্তর পূর্ব নিয়া।ইকান থাকবোনি ইন্ডিয়াত।ইন্দন আর বিদেশ থাকি।স্বাধীনতার ইন্দন।ভয় গলায় আটকে আছে।সইন্ধ্যা কালঅই মনঅ ওর মাইঝ রাইত। রেলের ডাব্বায় গোল্লু অইয়া চুপ মারি জান আতঅ লইয়া অপূর্ব ভাবের। গৌআটি যাওয়ার লাগি তার রেলের টিকিট কাটা অনেক আগর।না হয় কেব ঝামেলার সময় কোনভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়ার কথা আছলো না।
সূর্য ডুবতেই ভয় আইয়া গলা চিবা মারি ধরছে।অপূর্ব মনে মনে আজকের এরকম পরিস্থিতির লাইগা দায়ি করে সময়কে।তাও তার,যাইতে অইবো। টিকিট আগের কাটা।তা ছাড়া এন আর সি'র নাম তুলার ডাক।না গেলে ইন্ডিয়াত থাকা যাইত নায়।শেষ ইয়ারিং।
চিন্তা করতে করতে গভীর অন্ধকারের পেটঅ ট্রেন ঢুকে গেছে।কখন ঘুমে অচেতন অপূর্ব।পরদিন হাইকোর্টে শুনানিতে তার নাম বাদ পড়ে।সরাসরি ডিটেনশন ক্যাম্পে সে।এখন তার রাইতদিন হকল সময় ঘুটঘুটে আঁধারে কাটে।মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্ন দেখে।রূপসী বাড়ি রেল যেমন হঠাৎ অন্ধকার করে রাইত নামতেই চারদিকে জোনাকি ছাড়া আর কিছুই দেখা যায়নি ঠিক ডিটেনশন ক্যাম্পে রাতে চোখ মুদলো অপূর্ব।সে জোনাকির আলো অনুভব করে প্রতিরাত।
১৪:১২:২০১৮
বেলা:৪:৪৫মি
নিলামবাজার
নামহীন
পদ্মশ্রী মজুমদার
-"দেশবাড়িত কত বড় ঠাকুরদালান। দূর্গাপূজা,কালীপূজা,মনসাপূজা,কীর্তন হকলতাউ ওউ ঠাকুরদালান(অ) অইত।"
শহরের ছোটো ঠাকুরঘরে পূজো দিতে দিতে বললেন মা।মায়ের মুখে এই গল্প অনেক শুনেছে সায়ন্তনী।দেশবাড়ি মানে বাংলাদেশ।এটাও জানে সায়ন্তনী।তবু জিজ্ঞেস করে-"মা,দাদু কুন গ্রামর জমিদার আছলা"? -"ইটারপঞ্চেশ্বর গ্রাম।মুলইবাজার।পাচটা ছুটো ছুটো গ্রাম লইয়া ইটারপঞ্চেশ্বর গ্রাম।দূর্গাপূজার সময় রাইঅত হকলে সবজি,চাউল,ফল সব আনিয়া দিত।"
গল্প শুনতে শুনতে সায়ন্তনীর চোখে ভেসে উঠে পূর্ববঙ্গের এক অবস্থাসম্পন্ন জমিদারবাড়ি।জমিদার গোপেশরঞ্জন সেনকানুনগো যাকে কোনোদিন চোখে দেখেনি।শুধু জানে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজের স্নাতক।তিনি মায়ের বাবা,তার দাদু।
-"মা,তুমরা মুক্তিযুদ্ধর সময় আইছলায়?"
-"না,না বাবা আগেউ আইছইন।আমরার এক গ্রাম আছিল মুসলিম রাইঅত---লামুকিত্তা গ্রাম।তারানু হুমকি দিছিল সবরে মুসলমান বানাইলাইব।অউ তর দাদুয়ে আর দেরি করছইননা।হকলতা ফালাইয়া আইলা।"
একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ে মায়ের হৃদয় থেকে।একটু পরে আবার বললেন-" তবু একটা কথা শুনিআ কিছু শান্তি পাইছি।তর বড় মামা পরে গেছলা দেশবাড়িত।দাদায় দেখিআ আইছইন।আইয়া কইছইন আমরার ঠাকুরদালান(অ) তারা অখন নামাজ পড়ে।ভালাউ অইছে।ঠাকুরর কাজউ তো করের------।"
মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে সায়ন্তনী টের পেল সৃষ্টির উৎসের কোনো নাম হয়না।
থিয়েটার ডট কম
বিল্লাল হোসেন
ওফ,নাটুকে মুখগুলো কী অসাধারণ।যদি গোটা রাত চলত এই থিয়েটার.....।প্রথমেই এলেন রাজা।বড় মায়ামায়া চোখ।ভাস্কর যেন যাবতীয় শৈল্পিক নিপুণতা উপুড় করে দিয়ে গড়েছেন ঠোঁটগুলো। কী রঙ, আহা, শরীরি গ্লেমার! তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছেন প্রমিলা দর্শকরা।পর্দার আড়ালে মিউজিক। দক্ষ মিউজিসিয়ানরা রাজার সম্মোহনী কলা আরও আঠালো করে ছড়িয়ে দিচ্ছে দর্শক আসনের দিকে।
হুহু করে, হাহা করে,মিহি করে হাসে বহুজন জমাতিয়া।কখনও দু'গাল ফুলিয়ে,কখনওবা একগালে,দাঁত বের করে ভেঙচি কেটে কিম্বা ঠোঁট লম্বা করে।আবার দুঠোঁট একসঙ্গে চেপে বুশ-বুশ শব্দ করে।ভেতরের বহুজনকে বের করে পাশে বসায় বহুজন।দুইজন বহুজনে গলাগলি মঞ্চের সামনে।
ওফ,নাটুকে মুখগুলো কী অসাধারণ। গোটা রাত যদি চলত এই থিয়েটার.....।সামনের মানুষগুলোর মনে অনেক জমা আছে অভিযোগ।নাটুকে ভেল্কির সামনে সবাই কেমন ভুলে আছে এই মুহূর্তে। সম্মোহনী শক্তি তাদের কষ্ট ভুলিয়ে রেখেছে। বহুজনের কাছে বহুজন জানতে চায়,
"সম্মোহনী শক্তি কতদিন ভুলিয়ে-ভালিয়ে রাখতে পারে?"
"ল্যাবে আছো।অপেক্ষা করো,জবাব নিজেই খুঁজে পাবে।
দর্শক আসনে কোন তাড়া নেই।হা-হুতাশ নেই,কষ্ট নেই,ক্ষুধা নেই,বিস্বাদ নেই,অপ্রেম নেই অসুখ নেই......।
আসলে কী নেই? সব আছে,সব কষ্ট,সব অভিযোগ।একটা পরমাণুঘটিত রোগ এটা।এই রোগ হলে সমস্তরকম অভাব অভিযোগ ভুলে থাকা যায়।ডাক্তার বলেন, বিপদেরও গুরুতর ঝুঁকি থাকে কেননা এসব পরমাণু পিঠেকরে স্ফুলিঙ্গ বইতে পারে।শান্ত মনে হলেও এরা আসলে শান্ত নয়,ভয়াবহ অশান্ত। দর্শকদের পায়ের তলায় চেয়ে দেখো,মোটা চামড়া তিরতির করে কাঁপছে। আবার তাদের সামনের গেলাসে বিস্বাদ নোনাজল। মুখে নেওয়া যাচ্ছেনা সাঁই।মঞ্চের তীব্র আলো তাদের চোখের কলাজালের রন্ধ্রেরন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে।দৃষ্টিবল বিকল করে দিচ্ছে।চোখ ফেরালে সব অন্ধকার। বিষন্নউৎফল্লতার ওয়েব বইছে।
ওফ,নাটুকে মুখগুলো কী অসাধারণ! যদি গোটা রাত চলত এই থিয়েটার.......।বহুজন জমাতিয়া গর্জন করে।মঞ্চে এবার রানী এবং একঝাঁক নারী মুখ।কী অদ্ভুত রঙ শরীরের! একেকজনকে যেন লেড বিচ্ছুরিত আলোর ফুল্কি দিয়ে বানিয়েছেন ভাস্কর।নরম চোখ,নরম ঠোঁট,নরম চাহনি......। যেন একঝাঁক রহস্যঘন অবয়ব।লেড বিচ্ছুরিত আলোর মতো।রানীজি হাসলেন,এরপর কোরাস হাসি।রানীজি কাঁদলেন, এরপর কোরাস কান্না।সবার ভালবাসায় কাঁপল সবার বুক;দুরুদুরু। বুকের প্রেমকলা চিরহরিৎ বৃক্ষের মতো গ্রিনিজ মোহ ছড়াল শরীরের প্রতিটি কলা কৌশলে মিছিল করে পৌঁছোল প্রেমঢেউ।হরমোনজনিত নিস্কৃতির আকাঙ্খা তীব্র হয়ে ওঠল।এই মুহূর্তে নারীপুরুষ কোন আসনেই ক্ষুধা নেই।কামবাসনা এসে সপাটে লাথি মেরে সরিয়ে দিল ক্ষুধার মতো সাদামাটা বিষয়!একেবারে পিছোতেপিছোতে একশ যোজন দূরে। যথেষ্ট নিরাপদ দূরত্বে এই মুহূর্তে 'ক্ষুধা '।এখন প্রেম, কেবল প্রেম,রসনা তৃপ্ত করো।শরীর খুবলে খেয়ে কষ্ট নিবৃত্ত করো।মঞ্চের শরীরি ঝলক দর্শক আসনে শরীরগুলোতে বৈদ্যুতিক শক্ খেয়ে যায়।শরীর,শরীর,আহা শরীর.....!
ওফ,নাটুকে মুখগুলো কী অসাধারণ। যদি গোটারাত চলত এই থিয়েটার..........। মঞ্চের রমণীরা শরীর খুলে দিয়ে, লেড বিচ্ছুরিত আলোর রোশনাই বিস্তার করে গুরুমন্ত্র শেখাতে শুরু করলেন। কী করে ভাই মারতে হয় শেখালেন। এরপর "ছোঁ-মন্ত্র"। এই মন্ত্র শিখলে কষ্ট,অভাব অভিযোগ,আক্ষেপ, অসুখ,চাওয়া,পাওয়া কিচ্ছুটি থাকেনা,সব হাতের মুঠোয়।এই মন্ত্র শিখলে মহাজগত ঘুরে আসা যায় নিমেষে।এই মন্ত্র শিখলে দুঃখ থাকেনা,কষ্ট থাকেনা।মৃত্যুর আগে নিরাপদ,মৃত্যুর পরও।বহুজন ডাকে বহুজন জমাতিয়াকে-
" মানুষের বাঁচতে গেলে আর কী লাগে?
"গুরুমন্ত্র শিখলে যতটা পাওয়া যায়,এর সিকিভাগও লাগেনা।জীবন স্বার্থক হুজুর।"
"থিয়েটারে কী কী হচ্ছিল মনে আছে তো?বলনা আরও একবার।বহুজন জমাতিয়া।"
"একি! আবার বলতে হবে?"
"যদি ভুলে যাই।"
"রমণীয় শরীর তাও ভুলে যাবি!"
রাতের থাকতেই ঘুম ভেঙে গেল বহুজনের।স্ত্রীর প্রতি খুব রাগ হলো।স্বপ্নটতো শেষ হয়নি।সকালও হয়নি।কী দরকার ছিল জাগিয়ে দেবার।যতদিন ঘুমিয়ে থাকা যায় ততদিনই তো ভাল থাকা।জাগলেই যত অনাসৃষ্টি। ক্ষুধা এসে কামড়ায় খালি পেটে।ভালবাসার দায় এসে কামড়ায়।স্ত্রীর শুকনো মুখ কামড়ায়।স্তন চোষে রক্ত যেন খায় এগারো মাসের ছেলেটা,দুধ পায়না মা'র বুকে।কত প্রকারভেদ কষ্টের!সবাই এসে চেপেধরে জগদ্দল হয়ে।জেগে ওঠলেই 'জেগে' ওঠে জগতসংসারে বিজিত কষ্টবোধ।তার চেয়ে ঘুমিয়ে থাকা মন্দ নয়।আবার মজারমজার স্বপ্নও মঞ্চে এসে স্বপ্ন দেখায়।রাজা আসেন।আসেন লেড বিচ্ছুরিত রহস্যঘন আলো,নারীশরীরের উদগ্র মায়াজাল।ওফ নাটুকে মুখগুলো.......।
২৮/৯/১৮
অরবিন্দনগর
নারী-খেল
গোবিন্দ ধর
না ভালোবেসে ভালোবাসি কথাটা বলে কাউকে ধরে রাখা যায় না। সবাই ছেড়ে যায়। সভা শূন্য হয়।
-দিলীপ দেবনাথ।
বেশদিন এক গভীর দুঃখ বয়ে বেড়ানো মুখ নিয়ে ঘুরছিলো পুরুষটি।কোন সমাধান পাচ্ছিলো না।নারীজন নারী -খেল হয়ে গেলো কেন?
হ্যাঁ কম ভালোবাসেনি চৈতন্য। উজাড় করে সব দিয়েছে সে।ফকির হয়ে সব দিয়েছে চৈতন্য। বারবার নারীটি কাছে আসতো।যে কোন ছুতোয় সে আসতো।মাইল মাইল রেলে গাড়িতে অটোতে এমনকি স্কুটিতেও।
কম ভালোবাসেনি চৈতন্য। কম ভালোবাসেনি মেঘপরীও।।
দুজন দুজনের জন্য জান কবুল।একদিন দুদিন চা-পাতায় মিশেও শরীর ছোঁয়নি পুরুষটি।মেঘপরী চায়।ভীষণ রকম চায়।চৈতন্য জানে,বুঝে।কিন্তু ভালোবাসলে তো আর ঝাপটে পড়া যায় না।হামলে পড়তেও মনের তৃতীয় পাণ্ডব নিষেধ করে।মেঘপরীর মুখের, হৃদয়ের বিষন্নতা টের পায় চৈতন্য।
কতদিন কাছে পেয়েও ভালোবেসেছে।ভালোবাসা মানে নিশ্চয়ই পিজিক্যাল রিলেশন শুধু নয়।মেঘপরী মিশে যেতে চায় চৈতন্যে।লীন হতে চায় চায়ের পাতায়।সবুজ রাবারে।পিচঢালা জাতীয় সড়কের মতো তার আহ্বান। টেয় পায় পুরুষটি।রাধিকার মনের গোপন আকুতি জানে সে।আত্মার গোপন মাঠে বারবার নিজেকেই ফুটবল খেলতে খেলতে নারীটি হঠাৎ বেঁকে গেলো কাঁচা হিল বরুয়ার মতো।
এখন সে আইবুড়ো ছেলেটির কনিষ্ঠায় লেগে থাকা বুকের স্বেদ।
পুনশ্চ :১.দিলীপ দেবনাথ আপনাকে ধন্যবাদ। পুরুষটি বুঝতো।কিন্তু নীরব যন্ত্রণায় কুঁকড়ে ছিলে।কেন এমন হয় নিজেকে ক্ষমা করতে পারছিলো না।উত্তর লিখে দিয়ে অব্যক্ত সিমটমই তুলে আনলেন।পুরুষটি পেয়ে গেলো নারী -খেল ট্রপি।
২.
প্রেম বলে কিছু নাই__প্রেম হলো যৌনতার ভান ও ভণিতা
বায়োলজির অরণ্যে মরে গেছে রাম ও সীতা।
-মাসুদ পথিক।
২৬:০৫:২০২০
ভোর:৫:৩৫মি
কুমারঘাট।
ডু
সঞ্চয় পুরকায়স্থ
-----তোমার হোটেলের রান্না এত ভালো যে কী আর বলবো। ধন্যবাদ ডু!
----ধন্যবাদ তোমাকেও। নাম জেনে ফেলেছ দেখছি! সেভেন সিস্টার ওয়াটার ফলস কেমন লাগলো বলো! মেঘের মতো ভেসে ভেসে পড়ছে আর আমাদের দিকে যেন হাত নাড়ছে!
-----ঠিক বলেছো ডু। শিলং সত্যিই অপূর্ব। তোমার সাথে কথা বলে শিলংকে আরও ভালো লাগছে।
------তাই! আবার এসো। তোমরা এলে আমরা খুশী হই! প্রকৃতির এই অতুলনীয় রূপ সবাই মিলে ভাগ করে উপভোগ করতে পারি তাহলে।
------তুমি এত সুন্দর বাংলা বলতে পারো। দারুন!
------আমি রবীন্দ্রনাথের গানও গাইতে পারি! শুনবে? আমি চিনি গো চিনি তোমারে /ওগো বিদেশীনি....
------ওরে বাবা! তোমাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না ডু। কিন্ত দারুন তোমার গানের গলা। তোমার হাজবেন্ড্ কোথায়?
------সেসব অনেক অনেক আগের স্মৃতি। আজ সব ঝাপসা হয়ে গেছে। এখন আমি আমার মেয়ে আর এই হোটেল ও তোমরা-- এছাড়া আমার আর কিছু নেই !
-----বুঝতে পারছি! আসব ডু। তোমার কথা কি ভুলে যাওয়া যাবে বলো! আচ্ছা এত মানুষ আসছে খাচ্ছে সব তুমি খেয়াল রাখতে পারছো কী ! ঐ চারজন তো টাকাপয়সা না দিয়েই চলে যাচ্ছে মনে হচ্ছে! তুমি কিছু বলবে না!
------তাই! যেতে দাও যেতে দাও! এইতো তুমি দিলে। কি করবো বলো! ভাল হতে কষ্ট তো কিছু নেই! আমি ভাল পথ ধরে হাটার চেষ্টা করতে করতে এই এখান পর্যন্ত তো আসতে পেরেছি! তাই যথেষ্ট নয় কি আমার কাছে! আর কী চাই বলো..!
চাবুকের দোকানদার
চিরশ্রী দেবনাথ
সে চাবুকের বিজনেস করে। বিক্রি কম। আসলে জায়গাটা ট্যুরিস্ট স্পট। তাই লোকেরা ঘর সাজানোর জন্য চাবুক কিনে
নিয়ে যায়। সে ভাবে লোকে চাবুক দিয়ে কিরকম ঘর সাজায়... দেখলে হতো। লবনের মতো কুয়াশা পড়ছে আজকাল।
সামনেই ভ্যালেন্টাইনস ডে। এসব খুব মনে রাখতে হয় দোকানদারদের। তাই জানুয়ারি থেকে চাবুক বানানো বন্ধ থাকে, তখন মোমের তাজমহল বানানো হয়। উপরে সুতো । খুব বিক্রি হয়। মোমটা জ্বালিয়ে দুুুজন মানুষ দেখতে থাকে তাজমহল পুড়ে যাচ্ছে। আজ একজন ভদ্রলোক এলো, তাজমহলের সঙ্গে চাবুকের খোঁজ করছিল। ভাগ্যিস দোকানে পুরনো না বিক্রি হওয়া একটি চাবুক ছিল। তিনি তাজমহল আর চাবুক কিনে চলে গেলেন।
সে মনে মনে ভাবতে লাগলো, তাদের সামনে প্লেটে নিশ্চিত একটু মাংস , সুগন্ধি ভাত থাকবে, তাজমহল জ্বলবে, চাবুকের ছায়া দেয়ালে নাচবে।
এবার খুব হাসি পেলো তার, মানুষ কি করে নরকের দাস হয়ে যায় না জেনে।
----------------
0 মন্তব্যসমূহ