প্রতিদিন বাংলাভাষা ডট স্রোত
কৃষক আন্দোলন সংখ্যা
১৪:১২:২০২০
মৃত্তিকা চাকমার কবিতা
কাঁটাঝাড়
( মূল চাকমা ও অনুবাদঃ মৃত্তিকা চাকমা)
আমি দেখেছি *ফুরোমোনের চিন্তা
আমি দেখেছি *জম'চুকের মায়া
আমি দেখেছি কেউক্রাডঙের কান্না
আমি দেখেছি কর্ণফুলীর পাপড়ি মেলানো ডানা।
আমি দেখেছি *চেঙেই মেয়োনী
*লৌগাং *পুজগাং এবং শংখ নদী
যৌবনদীপ্ত
তারা বয়ে যায় কুলকুল
আমি দেখেছি
ফুরোমোন পাহারা দিচ্ছে শত বর্ষ
জমচুক মায়ার বাঁধনে বেঁধেছে চারিদিক।
আর এখন উত্তরে *চেঙেই ফুয়াং
দক্ষিণে *বড়গাং
পূর্বে *কাজলং
পশ্চিমে ফুরোমোন
তারা সব চিন্তিত,
অবিরাম খোয়ানো হচ্ছে দেহ
কাটা হচ্ছে বাঁশ আর বুনো লতা
পাখীরা নেই, কোলাহল থেমে গেছে
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ পাহাড়ের ভূমি-নদী-নালা।
আমি অভ্যস্ত নই পাহাড় ছাড়া বাঁচার
এবং নদী-নালা-ছড়া-ছড়ি, গাছ-বাঁশ, মাটি-বায়ু
আমার নিশ্চিত যেতে হবে পানিতে
ধুয়ে ফেলতে হবে অপরিচ্ছন্ন শরীর এবং অন্তর
পান করতে হবে ঝর্ণার নির্মল পানি
জীবন বাঁচাতে হবে সতেজ
তাই গাছ আমার প্রয়োজন
ফুলে ফলে ভরাতে হবে মাটিও
আমার প্রয়োজন
পুস্পের পাপড়ি বিছানো
অরণ্যভূমি।
ভালোবাসা মায়ামমতা অনেক দূর চলে যাচ্ছে--
কেওক্রাডং ফুরোমোন আর জম'চুক
কেমন যেন পাথর হয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন
তারা কথা বলে না একে অপরের সাথে, প্রেম করে না পরস্পর
তারা হাসি-ঠাট্টা
বা কান্নাও করে না।
একে অপরের সুখে-দুখে সহানুভূতি নেই
কী অদ্ভুত
যাদের নিয়ে আমার বাঁচার কথা--
স্ত্রী-পুত্র এবং সব।
ওরা
ওৎ পেতে বসে আছে
আমার তিন পর্বতকে
মুড়ে ফেলতে চায় নিমেষে।
টিকাঃ
* ফুরোমোন- আদিবাসীদের কাছে রাঙামাটির পশ্চিমদিকের সর্ব্বোচ্চ পাহাড়
*জম'চুক-রাঙামাটির পূবদিকের সর্ব্বোচ্চ পাহাড়। কাপ্তাই বাঁধের দুইপাড়ে এই দুই পাহাড়।
*চেঙেই-কর্ণফুলীর একটি উপনদী
*মেয়োনী-কর্ণফুলীর উপনদী
*পুজগাং- চেঙি নদীর শাখা নদী
*লৌগাং-কর্ণফুলী থেকে উৎপত্তি হয়ে স্থান অনুসারে নাম পরিবর্তন
* চেঙেই ফুয়াং-কর্ণফুলীর শাখানদী
* বরগাং-বড় নদী
* কাজলং-কর্ণফুলীর উপনদী
**এই কবিতাটি 'অর্কিডের উৎসব ' নামে "এখনো পাহাড় কাঁদে" কাব্যগ্রন্থে (২০০২) প্রকাশিত হয়েছিল। বর্তমানে কবিতাটি কবি কর্তৃক শিরোনামসহ সংশোধন করা হয়েছে।
0 মন্তব্যসমূহ