প্রতিদিন বাংলাভাষা. স্রোত
ভারত বাংলাদেশের ১০০ বাংলা কবিতা সংখ্যা
২৪:১২:২০২০
পিঙ্কু চন্দের একগুচ্ছ কবিতা
অস্পষ্ট
এতটা অস্পষ্ট আমি
দর্পণে বিম্বিত হয়না
আত্ম প্রতিকৃতি
একাএক দীর্ঘ পথ
জোয়ারের ছবি
আমাকে ছায়া ভেবে
প্রীতিভোজ সেরে নেয়
উৎসবের রাত
এতটাই অস্পষ্ট আমি
কলিংবেলে শব্দ হলেও
দরজা খুলে না আজ
****
লাল নীল হৃদয়
চা বাগানে সবুজ সজ্জা পেরিয়ে এক নদী
নদীর ঢেউয়ের তালে ঝুমুর নাচের ছন্দ
পাহাড়ি প্রপাত হয়ে নামে মাদলের বোল
ওপারে সবুজ প্রান্তরে জল ডাহুকের ডাক
ওড়ে যায় সাদা বক বৈধব্যের ক্লিষ্ট শোক
নিষাদ ধনুকের ছিলায় লেখে কার নাম
ভালোবাসার ঘ্রাণ ছড়ায় পদ্মগন্ধা নারী
হেঁটে যায় মনের ভেতর রেশমের শরীর
উচ্ছল শরীরে ভরা স্বপ্নের ঢেউ তোলে
সবুজ বাগানে হেঁটে যায় লাল নীল হৃদয় । *******
পায়ের চিহ্ন
পশরা সাজিয়ে রেখেছি আমি
ধাপে ধাপে আলো আসে
এই মেয়ে আলতা নেবে
পায়ের চিহ্ন রেখে যাবে
আমার দোকানে ।
******
সময় এখন গভীর রাত্রি
আলোর শহর ঘুমিয়ে আছে
তীব্র অন্ধকার ধেয়ে আসে
হাজার ওয়াট আলোর বিপরীতে
পুলিশের সার্চলাইট আলো ফেলে
আপার ডিপার হেডলাইট জ্বালিয়ে
ভিআইপি গাড়ি ছুটে রেড লাইট এরিয়া
শহরে ঘুমিয়ে আছি অস্থির শয্যা
নাকি ওষুধ খেয়েছে ভেলিয়াম টোয়েন্টি
সময় এখন গভীর রাত্রি ।
********
অশ্বমেধের অশ্ব
অশ্বমেধের অশ্ব ছুটছে দ্রুত থেকে দ্রুততর
দেখি এক বরাভয় অথবা প্রলয়
আমি এক অনার্য বালক
রক্তের বিশুদ্ধতা বলে যা ছিল অবশিষ্ট
সেও যেন অপসৃয়মান কালের কল্লোল
অযাচিত উপহার উচ্ছিষ্টের মত
অশ্ব ছুটছে দ্রুত রাশহীন লাগামহীন
কোন এক পরাক্রমে রাজার নির্দেশে
তর্জনী উঠিয়ে রেখেছে কেউ
রাজাধিরাজের স্বপ্ন
অশ্বমেধ যজ্ঞ হবে বধ হবে অশ্ব
মৃত অশ্বের সাথে সহবাস করবে রানী
এইটুকু বুঝি তার সান্তনা বারি
তৃষ্ণার ভৃঙ্গার খুঁজে ধু ধু বালুচর ।
**********
বাঘের গল্প
খাঁচার ভেতর এক লাস্যময়ী নারী
পাশে এক ডোরাকাটা বাঘ
বাঘ লেজ নাড়ে গোঁফ নাড়ে
পায়ে পায়ে পাশেএসে দাঁড়ায়
বাঘটা শুয়ে পড়ে ধীরে ধীরে
নারীর পায়ের কাছে
রয়েল বেঙ্গল টাইগার ।
*******
মোমের আলো
উষ্ণায়নের সাথে পাল্লা দিয়ে
গলছে শরীর মোমের মত
মোমের আলো ক্ষীণায়ু হলেও
কবিতা লেখা হয় এখনো ।
********
এতটা বছর পর
আমার একপাশে এখন এক মরুভূমি
জল হীন প্রেমহীন শুধু মারিও মড়ক
অন্যপাশে চলমান জীবনের ব্যস্ততা
ব্যস্ত শহর গাড়ির হর্ন শব্দ দূষণ
আর মধ্যিখানে সাংসারিক অবিশ্বাস
গোপন কলহ ভাঙ্গনের চোরাস্রোত
এখানেই থেমে গেছি আমি
সামনে বিশাল নদী আমাজান
পেছনে নিবিড় অরণ্য আফ্রিকা
মাথার উপর জেট বিমান
পায়ের তলায় মাইন
ধুরু ধুরু বুকের ভেতর সন্ত্রাসী কামান
এতটা বছর পর এমন হবে জানলে
বয়সটা চুপিয়ে রাখতাম
টাইম মেশিনে পুরে ।
*********
মোবাইল টাওয়ার
মোবাইল টাওয়ারের নিচে
ব্যাঙের ছাতার মতো
কিছু অসুখ
তবে নিরালায় কথা বলে
কিছু প্রেম নিরুপম মন্ত্র
বৃষ্টির মত কিছু জল
ভেজায় হৃদয় ।
সুখ অসুখের গোল্লাছুট
গলি পেরিয়ে রাজপথ
যতদূর যাওয়া যায়
ততদূর ছায়া পড়ে
মোবাইল টাওয়ারের ।
*******
প্রতিরোধ
নদীর মন্ত্র শিখে
সাপের সামনে দাঁড়াই
বিশ্বের মন্থন হয়
কালের প্রজ্ঞায়
চারণের কন্ঠ জুড়ে
মানুষের অনুনাদ
মানুষ এ্যমিবা নয়
রূপান্তর মাত্র
সৈকতে বেলাভূমে
পাঠ শিখি দহনের
নিজস্ব অনুষঙ্গে
কাটে তরঙ্গ প্রহর ।
*******
Pinku Chanda. P.0. Lakshmi bazar.
DIST. Karimganj. Pin . 788709.
Phone 6003400714.
বিরান শ্মশান-গোরস্তান
মাশরুরা লাকী
রাঙাচোখ মেলে চারিদিকে দেখছি অশনি ধ্বনি
ঝুরঝুরে ধুলির স্ফুলিঙ্গে ঘুরছে ছোট্ট জীবাণুবীজ
অনাহারীর শোকে কেন হবেন মহাশয় কাতর ?
রাজার খাদেমগণ চিরকালই স্ট্যান্টবাজী লোক
রাতজাগা কুকুরগুলোর আর বীরত্ব দেখিনা
পেটের ক্ষুধায় রাক্ষসও নিরন্তর অনুচর হয়
উন্মাদ মানুষ জানেনা ব্যথা ও অমঙ্গল জ্ঞান
চারিদিকে হাহাকার দলে দলে নিরন্ন লোক
জানালার শার্সিতে বিন্দু বিন্দু ঠান্ডা জল
আঙুলের আঁচড়ে ফুটে ওঠে দুর্ভিক্ষ-দুরাশা
এ যেন এক কঠিন স্বার্থপর সমর সময়
সকলেই ব্যস্ত নিদানের একমাত্র অভিজ্ঞান-সম্বল
হায় সখি, অবশেষে বিভীষিকাময় !
এই ধরনিতলে, বিরান শ্মশান- গোরস্তান
লাবণ্য-কিরণে-তারুণ্যে হেসে হেসে মহাখুশি।।
হাতী মা দেশ
সন্দীপ সাহু
মা তো ধারক,দেশ বা নারি বা হাতী ...
করোনায় লকডাউন নেই সন্তান-জঠরে।
হাতী কাঁদছে, মা কাঁদছে, কাঁদছে দেশ।
গ্রামে কাঁদছে, রাস্তায় কাঁদছে, কাঁদছে শহরে...
প্যাকেট প্যাকেট আনারস আসছে
দিল্লি থেকে, কোলকাতা থেকে।
লক্ষ্য কোটি টাকার!
নেতা মন্ত্রীরা এখন সেই মজারু কেরালিয়ান!
দেখছে মৃত্যুর অতলে দাঁড়ানো হাতীকে, মাকে, দেশকে!
[18/06, 4:25 pm] GOBINDA DHAR: প্রাকৃতিক রমণ-ছবি
সন্দীপ সাহু
তোমার ঠোঁটে ঠোঁট রাখার কথা মনে হলে,
দিগন্তরেখা মনে আসে।
আকাশ ও মাটি হৃদয় থেকে হৃদয়ে
উষ্ণঝর্ণা বিনিময় করে!
কূজন সাদামেঘ কাশ ফুল,
কিংবা হরিনীর চকিত চাহনির মতো
দামিনী,পাহাড়-ঝর্ণা সব,সবই
গাঁথা হয় রমণ-মালায়!
সমুদ্র আকুল হয়ে হাত বাড়ায় নীলে
নীলও আকুল নীলে!
আকুলতা তল পায় না!
তোমার ঠোঁট আমার থেকে,আমার ঠোঁট তোমার থেকে
সরে সরে যায়,রমণ-সৌন্দর্য তৈরী হয়।
দূরত্ব না থাকলে সৌন্দর্য বাঁচে কি?
বাসি হয়ে যায়, অবিক্রীত
খালের জলে ভেসে যাওয়া গেঁদার মতো!
ভালোবাসা শব হয়, পচে যায়।
পাড়ায় পাড়ায় মানুষ মানুষীও,
পচনের অনুসারী হয়ে অসুন্দর হয়ে ওঠে।
আকাশের মতো অতৃপ্তিতে আকুল হলে,
সমুদ্রের মতো অতৃপ্তিতে আকুল হলে,
প্রাকৃতিক রমণ-ছবিতে সুন্দর হয়ে উঠবো আমি তুমি!
[18/06, 4:25 pm] GOBINDA DHAR: আগাছার বাড়বাড়ন্ত
সন্দীপ সাহু
পৃথিবীতে এখন আগাছার কদর!
নদী পাহাড় বাতাস
সর্বত্র শিহরণ খেলা করে।
টেথিস থেকে উঠে আসা হিমালয়ে
এখন শ্যাওলা।
চারদিকে চৌষট্টিকলার ভীড়---
শ্যাওলায় মুখ ডোবায়।
ভালোবাসা হারিয়ে যায় রক্ত-মাংসে!
যন্ত্রণা-পারদ উর্দ্ধমুখি হয়!
সমুদ্র আকাশ খণ্ডিত হয়!
শকুন্তলা দুষ্মন্ত নেমে এসেছে
ভিক্টোরিয়ার গন্ধর্ব বিবাহের আসরে,
আগাছার বাড়বাড়ন্তে!
[18/06, 4:25 pm] GOBINDA DHAR: ভবিষ্যৎ ভাসে
সন্দীপ সাহু
এখন তো চৌষট্টি কলার বাজার
খরিদ্দার কে নয়---রাজা মন্ত্রী উজির।
প্রজাদের কেউ কেউ রাজা হতে চায়!
নিদেন পক্ষে উজির তো বটেই!
এই বাজারে যে চৌষট্টি কলা
বেচতে চায় না, খরিদ্দার
কলঙ্কে তাকে ষোলকলায় পূর্ণ করিয়ে
ঝোলায় মগডালে কিম্বা পোড়ায় !
অসহায় বিপন্ন দেশ-ছবিতে ভবিষ্যৎ ভাসে!
[18/06, 4:27 pm] GOBINDA DHAR: জামলো মাকদম
নিয়তি রায় বর্মন
পরিযায়ী লঙ্কা শ্রমিক
জামলো মাকদম।
তেলেঙ্গানার মরিচ খেতে
সকাল সন্ধ্যা একদম।
ছত্তিসগড় নিজ রাজ্য
জেলা বিজাপুর।
বারো বছরের জামলো মাকদম
অপুষ্টিতে ভরপুর।
তিন দিন তিন রাত্র জলাশয় হে৺টে
পাড়ি দেয় লম্বা পথ।
সবাই মিলে হা৺টতে হা৺টতে
এগোয় বাড়ির পথ।
অনাহারে অর্ধাহারে
শরীর যায় শুকিয়ে।
মুখ থুবড়ে পড়ে যায় সে
শরীর যায় গুটিয়ে।
বাড়ির কাছে এসেও জামলো
পারেনি ফিরতে বাড়ি।
লক ডাউনের কাছে হার মানে সে
দেহ ফিরেছে বাড়ি।
জীবীত জামলো গাড়ি না পেলেও
শব পেয়েছে দামী এম্বুলেন্স।
নিষ্পাপ বালিকার শব্দ যাত্রায়
কচি কাঁচারা পেয়েছে লজেন্স।
শব্দ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সে
করোনা ছিল না দেহে।
পথের ধকল সইতে না পেরে
পৌঁছাতে পারেনি গৃহে।
করোনা থাবায় দেশ দিশেহারা
লক্ষ লক্ষ হারায় কাজ।
পরিযায়ী শ্রমিক গাড়ি না পেয়ে
মাথায় তাদের বাজ।
(২২ এপ্রিল ২০২০)
(পরিযায়ী শ্রমিক ১২ বছরের জামলো মাকদম ১৮ এপ্রিল ২০২০ বাড়ি ফেরার পথে দেড়শ কিলোমিটার পথ হা৺টতে হা৺টতে মারা যায়।)
[18/06, 6:01 pm] GOBINDA DHAR: বিরান শ্মশান-গোরস্তান
মাশরুরা লাকী
রাঙাচোখ মেলে চারিদিকে দেখছি অশনি ধ্বনি
ঝুরঝুরে ধুলির স্ফুলিঙ্গে ঘুরছে ছোট্ট জীবাণুবীজ
অনাহারীর শোকে কেন হবেন মহাশয় কাতর ?
রাজার খাদেমগণ চিরকালই স্ট্যান্টবাজী লোক
রাতজাগা কুকুরগুলোর আর বীরত্ব দেখিনা
পেটের ক্ষুধায় রাক্ষসও নিরন্তর অনুচর হয়
উন্মাদ মানুষ জানেনা ব্যথা ও অমঙ্গল জ্ঞান
চারিদিকে হাহাকার দলে দলে নিরন্ন লোক
জানালার শার্সিতে বিন্দু বিন্দু ঠান্ডা জল
আঙুলের আঁচড়ে ফুটে ওঠে দুর্ভিক্ষ-দুরাশা
এ যেন এক কঠিন স্বার্থপর সমর সময়
সকলেই ব্যস্ত নিদানের একমাত্র অভিজ্ঞান-সম্বল
হায় সখি, অবশেষে বিভীষিকাময় !
এই ধরনিতলে, বিরান শ্মশান- গোরস্তান
লাবণ্য-কিরণে-তারুণ্যে হেসে হেসে মহাখুশি।।
[18/06, 6:01 pm] GOBINDA DHAR: শিখা অর্নিবাণ
মাশরুরা লাকী
আকস্মিক রেড সিগন্যাল ষোলকোটি বাঙালির বুকে,
শ্বাসরুদ্ধ তারুণ্যের উত্তাল গণমিছিল
পুলিশের লাঠিচার্জ,বিধিনিষেধের ব্যারিকেড আর হায়েনার হুংকার,
রক্তপাত-
রাজপথে তাজা খুনের সমষ্টি।
মুক্তি ছিনিয়ে আনতে সংগ্রামী প্রজন্ম গর্জে উঠেছে আরেকবার_
আরেকটিবার বিশ্ব মাতাবে স্বাধীনতাবিলাসী অপরাজেয় তারুণ্য। তাই রক্তশপথে অগ্রযাত্রা। স্বপ্নীল সম্মোহনে গর্জে ওঠে অবিসংবাদিত মুক্তিদাতার আঙ্গুল 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। রক্ত যখন দিয়েছি...।
হলুদ চরাচর জুড়ে সবুজের দেয়াল, রক্তের সিড়ি মাড়িয়ে ছিনিয়ে আনতে সদ্যজাত স্বাধীন সূর্য। মরনপণ অঙ্গীকার।
প্রজাপতির রঙীণ প্রফুল্লতায় দোলাতে বাংলা মায়ের মুখ, বিজয় পতাকার জন্য উন্মুখ ।
বাতাসে বারুদের গন্ধে মৌ মৌ নীলসন্ধ্যা
অতঃপর ধেয়ে আসছে বুঝি ঘন অন্ধকার,মার্চের কালরাত-গণহত্যা
সভ্যতা ডুবে যাবে সেই কৃষ্ণ গহ্বরে?
সব শূন্যতা ও হতাশার চিতা জ্বালিয়ে
একাত্তরে, ভালবাসার মুক্ত বাতাসে দেখা হলো কোটি আত্মার টানে
এবং তারুণ্যের হাত ধরে জ্বলে উঠলো শিখা অনির্বাণ। জয় বাংলার অগ্নিমশালের দূর হলো অন্ধকার; ভরে উঠলো ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল।
'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি', তোমার স্বপ্নে তোমার বিরহে-স্বর্গের সুখ ভাসি।
[20/06, 7:21 pm] GOBINDA DHAR: ।।দিনযাপন,জন্মযাপন।।
ভোর
ঘুম না ভাঙতেও পারতো।
নারিকেল ও সুপুরির হাওয়ায়
পূর্বজন্মের আষাঢ় ফলেছে,নোনা ধরা স্বপ্নের গাছে।
ঘুম ভাঙলেই গোটা আকাশ, আলো ও জল।
ভোরের স্বপ্ন সত্যি হওয়ার গল্প।
..তাই এখনো নিয়ম করে ঘুম ভাঙে।
সকাল
জল ও আলো ছায়ামাখামাখি।
নরম, স্নিগ্ধ;জন্মাবধি বড়ো কাছাকাছি।
ক্রমশ দূরত্ব বাড়ে,
সকালেই শুরু হয় বাঁধানো ঘাটের নির্জন,আয়নার মুখ দেখাদেখি।
দুপুর
প্রৌঢ়ত্বে প্রেম পলাশে -বাদলে মিশে যায়
সন্তানের মৃতমুখ দেখে
সুউচ্চ দূরত্বে নিজের ছায়ার সঙ্গে মিশে থাকা।
তীক্ষ্ণ সায়ক ধেয়ে আসে দিনদেবতার চেতনা ফুঁড়ে।
অন্ধত্বে রক্ত ফোটাতে চায় বলে
দুপুর, বড় নির্মম।অলস।অপারগ।
সন্ধে
সবটুকুই মলিন নয়।
নিজের গতিবেগ বড্ড বেশি হলে
আলো তো তাড়াতাড়ি ফুরোবেই।
নিজেকে কতটা প্রস্তুত করেছি নির্মম অন্ধকারের জন্য...
বিষাদ বাউলের কাছে, অবেলায় সেই গান শোনাবে পাখি।
রাত্রি
কোথাও আলো খুঁজে পাইনা অথচ কত ঘনঘোর বাঁচি।
ফুল,পাতা,জল, আকাশ সবই কালো।
তবু স্বপ্নের বিস্ফোরণে অপূর্ব জেগে ওঠে মহাঘুম জগৎ।
রাত্রি ও মৃত্যু সমমানের কিন্তু সমার্থক নয়।
২০/০৬/২০২০
উমা মাহাতো
কলকাতা
চলভাষ-৯৪৭৬৩০৬১১
'স্রোতে'র জন্য পাঠালাম।
[20/06, 8:27 pm] GOBINDA DHAR: মহানৈশব্দের সুর
গোপালচন্দ্র দাস
পাহাড়ের আঁকাবাঁকা ঢাল বেয়ে নামছি
বন্য ফুলের ঝাঁজালো গন্ধ
উত্থাল ঠান্ডা হাওয়ায় পাপড়িরা এলোমেলো
একটানা গেয়ে চলেছে গ্রিলিডা পরিবারের সদস্যরা
গান্ধী কাটুই ঘুগরি তুরকুলা উড়ছে
সবুজ বনানীর আছোঁয়া বড়বড় গাছগুলো যেনো প্রকৃতির লুঙ্গাযাযক।
আমার বুকে জেগে আছে সবুজ বাতাস।
উপরে আকাশটা ঝুলে আছে গাছের উপর
বৃষ্টির বড়বড় ফুটাগুলো যেনো হাতুড়ির ঘা
আমার একপাশে দু'শ ফুট গভীর খাদ
আরেক পাশে পুরো পাহাড়ে ধ্বশ নেমে আসছে
একটু আগে যে খারাঙ মাথায় ভুবি নিয়ে কুকি মেয়েটিকে দেখেছিলাম
এখন ভূলে গেছি তার নিটোল যৌবন।
গলাটা কেঁপে উঠলো ফ্যাকাশে শ্বাস।
ন্যানো সেকেন্ডে ভেসে উঠলো পুরো জীবনের অংক।
ছায়াহীন গাড়িটা ভাসছে গহীন ধোঁয়ায়।
বাকী ছিলো জীবনের অনেক চাওয়া পাওয়া
তাই নির্বান হয়নি।
তারপর নির্জন হিম নিরবতা।
বন্ধুরা সব বিদায় দিয়ে বলছে
তুমি আবার বেঁচে ওঠো।
মহানৈশব্দের তীর থেকে ভেসে আসে
ঝর্ণার একটানা বয়ে চলা সুর।
G.c.das.
17/06/2020
10/07 pm
Saidabari.
[22/06, 7:04 pm] GOBINDA DHAR: সূর্য
অপন দাস
""""""""""""""""
প্রতিদিনই যাও কোথায়?
বল দেখি, বিকেল বেলা
পাড়া বেড়াতে?
কেন আসো না
কোথায় এত কাজ যে তোমার
এত রাতে !
--------*****-------
রাত্রি
রাত্রি হলেই আমি আসি
অন্ধকারকেই ভালবাসি।
**********
ভোর
ভোরের বেলা
একটু একটু উঁকি দিয়ে তুলি মাথা
একটু আলো, আরো আলো
হাসতে থাকে গাছের পাতা।
"""""""""""""""
ভয়
কেমন যেন গাছের পাতা
থমকে আছে,
আলোও নেই এই আকাশে
বাতাস জুড়ে ভেসে বেড়ায়
খারাপ খবর
কেমন যেন মৃত্যুগন্ধ...
***********+********
@অপন দাস
২১/৬/২০২০
[19/07, 4:43 am] GOBINDA DHAR: সীমাবদ্ধ
পাঁজরের উপর শূন্যতা সাজিয়ে
আপনি যখন ঠা-ঠা করে হেসে উঠলেন,
দেখলাম , মিডিয়ার সে কী নাচানাচি ,
কর্পোরেট হাউসের বিজ্ঞাপনে
চনমনে শৃঙ্গার - ভাষা ।
অথচ একদিন , এই আপনি ,
খোলা প্রান্তর দেখলেই ছুটে যেতেন , ধানখেতের কাছে গানের ভুলে যাওয়া সুর
জানতে চাইতেন ,
মেঘের কানাৎ ছিঁড়ে উঁকি মারতেন আকাশে ,
সমুদ্রের পার থেকে হেঁটে হেঁটে
খুব গভীরে চলে যেতেন একা -----
আত্মার নিঃসীম সান্নিধ্যে ।
আজ সমুদ্র নয় ,
আকাশ নয় ,
খোলা প্রান্তর নয় ,
আপনার চারপাশে পরিকীর্ণ
বেড়া তুলেছেন ।
বেড়ার আড়াল থেকে
বেড়াকে সত্যি ভেবে
এখন শুধু চাতুর্যের ঘুঁটি সাজাচ্ছেন ।
সীমাবদ্ধ আঁতলামোয় আপনি
আজ , নিজেকেই ফতুর করেছেন ।
---- দিলীপ দাস
[28/07, 1:46 am] GOBINDA DHAR: খাদ্যের জন্য একটি আস্ত আন স্মার্ট কবিতা
চৈতন্য ফকির
চিমতে হালাম বিদ্যাজয় রূপিনী
এবং তিতরাম রিয়াং
তিনটি নাম।
শুধু নাম নয় যদিও তিনটি নাম
এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ
খাদ্যের অভাব বলতে বলতে কিছু হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়।
সমবেত হয় কিছু মানুষ।
পুলিশ গুলি ছাড়ে শান্তিপূর্ণ ভাতের দাবীর উপর।
একটি পতাকার ভেতর থেকে আওয়াজ
ভাত চাই।
খাদ্য চাই
সকলের জন্য ভাত।
মন্ত্রী মোস্তাফা রফিকুল ইসলাম গনি খান
কারো কথা শোনার সময় নেই।
খাদ্যগুদামে সমবেত অনাহারী মানুষ।
খাদ্য চাইতে হাত মুষ্টিবদ্ধ করা অপরাধ।
আগামীর বীজ সমেত মায়ের শরীরে বুলেট গুলিবৃষ্টি হয়।
মায়ের পেটে বীজপত্র সবুজ আনবে বলে
পেটের খিদেয়
আগামী শিশুটির কথা ভেবে এই দাবী করেছিলো।
একটু ভাত চাই মন্ত্রী
আমরা ভাত খামু মন্ত্রী।
তিনজন মানুষ গুলিবিদ্ধ।
ভাত চেয়েছিলো এই অপরাধ।
সত্যি অপরাধ?
খাদ্য চাইতে গিয়ে শতকের পর শতকেও
গুলিতে ঝাঁঝরা মা
এবং বৃক্ষ অথবা বৃক্ষদেবী।
সবুজের বড় অভাব এই আন স্মার্ট কবিতায় ঝরে পড়ে
টুপটাপ ভাতের গন্ধ জুঁই ফুলের মতো ঝরে পড়ে!
২৭:০৭:২০২০
রাত:১২:৪৫মি
কুমারঘাট ।
[12/10, 12:50 pm] GD JIO NUMBER: অদিতী তাঁতী
ঘৰ ডিব্ৰুগঢ়
শিৱসাগৰ সাহিত্য সমাজৰ উপদেষ্টা
বাবা সৰ্বেশ্বৰ তাঁতী
মা ৰঞ্জু প্ৰভা তাঁতী
মই সেউজীয়াৰ প্ৰেমিক কবিতা লিখি ভাল পাওঁ
কবিতাত মনৰ ভাল লগা কথাবোৰ কবিতাৰ আকাৰে লিখোঁ।
[30/10, 2:40 pm] GOBINDA DHAR: গীতশ্রী ভৌমিক
না চাইলেও দূরে যায় সব
করুনা আর ভাবনার রব।
অনেক কিছুই সরে যায় কিছু শব্দে
আবার অনেক কিছু ই ভেংগে যায় নিঃশব্দে।
কেউ বলে অলীক ভাবনা,কেউ বলে শব্দ না
সয়ে যাও,দেখে যাও,মরে যাও...
তবুও কাছে এসোনা.. এখন করো করুনা..।
জানিনা কি হবে কাল,কি লিখে রেখেছে মহাকাল?
তবুও বাঁচার কি অদম্য আশা
সব গেলেও শেষ চেষ্টায় বাঁচিয়ে ভালোবাসা।
উদাস হয় মন,যখন তখন... যত জ্বালা এই মনের ঘরেই
কেন অসার সংসার ছেড়ে যাবো ভেবেও
আবার ভয়ে থাকি.. ভালোবাসা হারাবার।।
[30/10, 2:44 pm] GOBINDA DHAR: ।।স্বপ্ন দর্পণ।।
#অনুরাগ ভৌমিক
হাতে হাত রাখার একটা স্বপ্ন আছে,
সিঁড়ি ভেঙে উঠে গেলে উপরে।
সময়ের জানলা উন্মুক্ত করে দেখি-
দূরের দিগন্ত,মুক্ত মাঠ,ঘুমিয়ে থাকা অতীত;
টুপটাপ ঝরে পড়ে শিউলীরা।
এই সব সহিষ্ণু বেলায়
চাঁদ হয়ে উঠে প্রেমের দর্পণ।
আজ ও জ্যোৎস্না রাতে-
অনেকগুলো খরগোশ আসে।
আমি ডুবে থাকি ঐ গালে
গাল রাখার তীব্র ইচ্ছায়...
[30/10, 2:45 pm] GOBINDA DHAR: ভাগশেষের অবিরাম ইস্তাহার
------খোকন সাহা/বিলোনীয়া
জীবনের দিনগুলি হারিয়ে এ- কোথায় এলাম
নিশিকান্ত! মনে পড়ে? ভূবন পাঠকের সেই
বিখ্যাত গ্রন্থ। 'আমার মৃত্যুর জন্য কেহ দায়ী নয়,'
শুধু সুবন্ধু সুনীলের
হত্যা-আত্মহত্যার ব্যবধান খুঁজতেই -----
ধোপদূরন্ত সকাল এক কাপ এগিয়ে দেয়
শান্ত প্রতিবাদে। তুমুল ঝড়ের ধূমায়িত স্বর্ণসীতা
হাসতে থাকে --- শহরে বন্দরে
রাষ্ট্রীয় টেবিলের উৎকোচ অন্ধকারে।
যেখানে অনেক অস্ত্রফলক থেকে
প্রাণ খুলে এসেছে মানুষ,
ভূবনপাঠকের দরবারে;
চৈতন্যের চিড়িয়াখানায় স্বাগত সূর্যোদয় ------
তবু নিরাবরণ সত্যের কাছে
এখনও এতটা দুর্বল যে ---
আবরণজনিত দোষ,আর মার্জনার অপরাধে
ডুবে যায় কর্মের ভাগ অংক,
ভাগশেষের অবিরাম ইস্তাহারে।
------------------------
[30/10, 2:46 pm] GOBINDA DHAR: গীতশ্রী ভৌমিক
এমনি একটি পরন্ত বিকেলে তোমায় দেখেছিয়াল
তুমি সাইকেলে চড়ে কোথাও যাচ্ছিলে..
কিন্তু হঠাৎ ই তোমার বাহন রাস্তা ছেড়ে
খালি মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা....
৷৷৷ প্রায় আমার ঘাড়ের উপর...।
অল্পেতে প্রান তো রক্ষা পেলো,কিন্তু মন পেলোনা রক্ষা...এমনই একটা কিছু ছিল তোমার চোখে
যা আমায় যখন তখন তাড়া করে বেড়াতো।
অতি বিনয়ি হয়ে সেদিন পা অব্দি ঝেড়ে দিয়েছিলে।
তোমার খেয়ালই ছিল না,একটি অপরিচিত মেয়ের
পায়ে এভাবে হাত দেয়া শোভনীয় নয়....
সেই স্পর্শ, সেই আকুতি , সেই ব্যাকুলতা..
আমার মন অব্দি স্পর্শ করে গিয়েছিল..
কিন্তু তারপর আর কোন দিন তোমায় কোথাও দেখিনি...এই অল্প পরিচয়ে ফোন নং নেয়ার
প্রয়োজন ও পরেনি...কিন্তু কোথায় গেলে তুমি?
আমি এখনো যে গোধুলীর আলোতে তোমায় খুঁজি।
গীতশ্রী
[30/10, 2:47 pm] GOBINDA DHAR: ভাগশেষের অবিরাম ইস্তাহার
------খোকন সাহা/বিলোনীয়া
জীবনের দিনগুলি হারিয়ে এ- কোথায় এলাম
নিশিকান্ত! মনে পড়ে? ভূবন পাঠকের সেই
বিখ্যাত গ্রন্থ। 'আমার মৃত্যুর জন্য কেহ দায়ী নয়,'
শুধু সুবন্ধু সুনীলের
হত্যা-আত্মহত্যার ব্যবধান খুঁজতেই -----
ধোপদূরন্ত সকাল এক কাপ এগিয়ে দেয়
শান্ত প্রতিবাদে। তুমুল ঝড়ের ধূমায়িত স্বর্ণসীতা
হাসতে থাকে --- শহরে বন্দরে
রাষ্ট্রীয় টেবিলের উৎকোচ অন্ধকারে।
যেখানে অনেক অস্ত্রফলক থেকে
প্রাণ খুলে এসেছে মানুষ,
ভূবনপাঠকের দরবারে;
চৈতন্যের চিড়িয়াখানায় স্বাগত সূর্যোদয় ------
তবু নিরাবরণ সত্যের কাছে
এখনও এতটা দুর্বল যে ---
আবরণজনিত দোষ,আর মার্জনার অপরাধে
ডুবে যায় কর্মের ভাগ অংক,
ভাগশেষের অবিরাম ইস্তাহারে।
------------------------
[30/10, 2:47 pm] GOBINDA DHAR: শ্রাবন
..........................
বিশ্বজিৎ দেব
শ্রাবনের বিচ্ছেদের গান নিয়ে
সন্ধ্যের দাওয়ায় বসেছে
একটি সেলাই মেশিন,
খট খট আওয়াজের দিকে
নেমে আসছে সুতো
জুড়ে দিচ্ছে অঝোর সাটিন,
বাতাসে আর্দ্রতার তারতম্য অনুযায়ী
তার পাশে এসে বসে
এক নিরুপায় হাতপাখা
খানিকটা উপরিতল নিজের জন্য রেখে
এর দুদিকেই উপচে পড়ছে জলের মরশুম
শ্রাবনের বিচ্ছেদের টানে কে তাকে বিলিয়ে দিচ্ছে ঢালু,গোটা ভাটিদেশ ...
মাছভেরী আর জোয়ারের টান
[30/10, 2:47 pm] GOBINDA DHAR: মরন নিংশ্বার খেলা
******************
নাগৈ নাগৈ এ আধার
হামেসা নাথার।
কালা চিঙ্খেইর পরে
বিয়ান ফুয়ার।
রাতিকার মাকু ডাকে
সুপ না ডরেই,
মুঙে কাকেই কারানি
সুপ না জিরেই।
নিশানা থৈইস হাগে
সাচাকর ঙালে,
সর চেয়া নুকুলিস
ঊষা যাত্রা কালে।
পথর মেরাকে আয়া
না চেইস পিঠি,
আটাউটি করের হে
কত শত তিথি।
আশার ঘর না পাতি
কাকেয়ে কাকেয়ে,
দিদিনর হারৌ তর
পথর কামেয়ে।
এরে ঠাচা নেই জিনা
অতিত গ হে তি,
মরন নিংশ্বার খেলা
পাহুরর কতি।
,,অর্চনা সিংহ,,
[30/10, 2:50 pm] GOBINDA DHAR: কবিতা খেলা:অনুরোধের কবিতা
"অন্য আমি"
প্রনব চৌধুরী
সমুদ্রের রঙ মেখে আকাশের বুকে মেলেছিল ডানা
একটা মাছ রাঙা পাখি।
আমি তখন বিষন্ন দুপুর।।
আমি অবাক চোখে দেখলাম
আকাশ প্রত্যাখাত মাছরাঙা জীবন।
আমার আকাশ আকাশ প্রেম
সেদিন থেকেই ছুঁয়েছে মাটি।
অবশেষে আমি বিপন্ন বিকেল।
ধীরে ধীরে আমি সন্ধ্যার মেঘ বরন চুল।।
যখন কবর খোঁড়া হয় গভীর গোপনে
মানুষ পাখি আর প্রেমিক প্রজাপতির
তখন আল্লা গড ঈশ্বর
বিঞ্ঙান প্রযুক্তি যুক্তিবাদ
সকলেই গভীর ঘুমে।
আমিও তখন নিদ্রাহীন গা ছম ছম রাত।
অন্ধকারের ক্যানভাসে দেখি
সেই কবে, কারা যেন আমার সত্তা থেকে
আমাকেই করে গেছে উৎখাত।।
Khowai. Tripura.
Presented to করুনা ।জওহরলাল ।দীপেন ও এই উদ্যোগের সকল লেখক কবিদের।।
[30/10, 2:50 pm] GOBINDA DHAR: নীল যন্ত্রনার গরল প্রবাহ
বিজন বোস
কালো কাজলের আড়ালে
বিষন্ন দুটি অশ্রু- সরোবর, পদবি পতিতা ।
মহাবীর দ্রোণ মাতা - ঘৃতাচী
কুমারী পুত্র কৃষ্ঞ দ্বৈপায়ন
স্বর্গ হতে পতিতা গঙ্গা ভীষ্মমাতা ।
যীশুর কী পিতৃ পরিচয় ?
সাধা- সিধে গ্রাম্য মেয়ে কমলা
অন্তর দহনের উত্তপ্ত ধোঁয়া তার প্রতিটি দীর্ঘশ্বাসে ! /
অনিচ্ছায় হাত থেকে হাতে ফিরে প্রতিরাতে
হাতওয়ালা দিনের আলোয় ইন্দ্রভূষণা ।
দেবতার দেবত্ব ক্ষুণ্ণ হয়নি শত পাপেও ।
প্রতিটি পেশা মহান ; মহত্ সমাজসেবী
অথচ কমলাদের স্বীকৃতি দূরে থাক
ওরা অচ্ছুত্ অস্পৃশ্য ঘৃণ্য দিনের আলোয় !
শরীরে প্রবাহিত হয় রক্তের বদলে
নীল যন্ত্রনার গরল প্রবাহ, বারবণিতা ।
--------------------------
[30/10, 2:54 pm] GOBINDA DHAR: অপরাধ ভালবাসা
পল্লব সেনগুপ্ত
অপরাধ ভালবাসা
অপরাধ স্বপ্ন দেখা
অপরাধ মানুষের কাছে যাওয়া,
মানুষের কথা বলা,
অপরাধ পড়া, জানা শোনা আর বলা,
অপরাধ প্রেমে পড়া নিজের ভালবাসার
অপরাধ নিজের ভাস্কর্য ভেঙে নিজের আলোতে গড়তে চাওয়া,
অপরাধ পাল্টে যাওয়া সময়ে নিজেকে বদলে ফেলা,
অপরাধ প্রশ্ন তোলা, অপরাধ উত্তর জানাও,
অপরাধ চারদিকে সাজানো আঁধার মেনে না নেয়া
অপরাধ জেগে থাকা
প্রতিবাদ অপরাধ
প্রতিরোধ অপরাধ,
ভালবাসা অপরাধ।
অক্টোবর ৩০ ২০২০
[30/10, 2:54 pm] GOBINDA DHAR: তথাপি তথাপি ধানফুল আমি
তোমার দিকে যেতে যেতে যেতে বাতাসের নীলঠোঁটে
ঝুলে থাকি
তুমি পালকগুলো চুলের খোপায় গুঁজে
উড়ে যাও, পরাগায়নের কাম'নায়
আর মাঠে চাষারা কাম করে, খুব কাম করে
বাবুইপাখির হেজিমনি ছিঁড়ে ছিঁড়ে
আমি ফুল, ঝরে পড়ি, পড়ি
প্রেগন্যান্ট ধানের প্রসবকালীন ব্যথা মেখে
তুমি ধাই হয়ে এসো কালে কালে দাদনের ঝুড়ি কাঁধে
বিকজ, আমার গন্তব্যের পথে পথে ভিনদেশি আগাছায়
প্রেম ও মায়া'বী ফল, মরমী ভ্যালুজের আকার
ফলে, আকারে বিকারে আমি, নাম মাত্র মূল্যে
আমি বিক্রি হই, হাতে হাতে অতএব__প্রেমও এক শস্যের বেসাতি
যৌনতায় চাপখাওয়া প্যারাডক্স
ধানফুল প্যারাডক্স | মাসুদ পথিক
[30/10, 3:01 pm] GOBINDA DHAR: হেমন্তের টোটকা
বীরেন মুখার্জী
..
শস্যহীন ক্ষেত, কুয়াশার কোমল পর্দা সরিয়ে- সামনে দাঁড়াই; নিষ্পন্দ, নির্মল সবুজ সাক্ষ্য দেয়; এ-পথে এগিয়ে গেছে অগণন হিম, আর ব্যথিত নৈঃশব্দ্য পেরিয়ে যেতে যেতে, সমূদয় উৎপাদন নীতি সাক্ষী রেখে বলতে চেয়েছে, স্তব্ধতার আড়ালেই, যুগে যুগে সংগঠিত হয়েছে পরিবর্তনের পুষ্পবিধি-
মানো কিংবা না-ই মানো; ঋতুর তাগিদে, ক্ষেতের আলে, শস্যের ভূমিকায় উপচে ওঠা ওই বিবর্ণ হলুদ, তোমার চোখে ঈর্ষার টোটকা পরিয়েই দেবে; তখন নিকট ভবিষ্যেও তোমার দৃষ্টি ভেদ করতে পারবে না স্বচ্ছ গোলক; কেননা, প্রকৃতির বিপক্ষে দাঁড়িয়ে, প্রকৃতি জয়ের কোনও ইতিহাস অতীতবিজ্ঞানে মেলেনি...
২.
জলকাদা-মেঘে, আমিও ক্ষ্যাপাটে বহুকাল; ভাঙনের পাশে, শূন্যতার পাশে- অনুভূতিময়; যেমন তোমাকে দেখি, তৃণশোভা হয়ে বর্তমান! তুমিও জানতে, এই চক্রে পা-বাড়ালেই নদী, শ্যাওলারঞ্জিত জরাজীর্ণ সুখ, যার উপটানে নিঃশ্বাসের অলিগলি কেঁপে ওঠে; তখন আমিও অদৃশ্য দেবদারু, প্রচল গৃহের একমাত্র অবলম্বন!
কোনটি সত্য- অশ্রু নাকি নির্বাণ? প্রক্ষালনে তুমিও মেদুর; তবুও এইসব দিন, যখন সুচতুর বয়ে যায় আর দু’কূল ছাপিয়ে তুলে ধরে না-বলা অতীত; শূন্যতার মধ্যেও আমার এই প্রথাবিরুদ্ধতা আজকাল বড় বেশি একা করে তোলে; যেমন তোমাকে দেখি, জলকাদা-মেঘে এক সুদূর অভিজ্ঞান!
৩.
তোমার ধারণা থেকে ভেসে আসা প্রণয় গুঞ্জন- আমূল বিদ্ধ করে; হোঁচট খেতে খেতে আমিও সম্মোহিত হই বিশ্ব জনপদে। কিন্তু আমার অভিযাত্রা সেই জনপদের দিকে, যেখানে মুক্তির বাসনা স্তব্ধতাকেই প্রভু মেনেছে; স্বীকার করো, তুমিও এই কুশীলবের সঙ্গী ছিলে; বর্ষামুখী হেমন্ত সাক্ষ্য দেবে, প্রথম নবান্নে চেঁচিয়ে উঠেছিল- অপ্রাপ্তির আক্ষেপ;
এখন আস্ত একটি স্মৃতি-সাম্রাজ্যের অধীশ্বরী তুমি, প্রতিদিন রাঙিয়ে তুলছো নতুন গুঞ্জনে; আর আমার স্বয়ংক্রিয় বাস্তবতাও যেন আফিমবিদ্ধ; সংশয়বাদী চিত্রকল্পে ফুটিয়ে তুলছে তোমার স্তব!
[30/10, 3:02 pm] GOBINDA DHAR: #ধর্মের গান
(বদধার্মিকের হাতে সদ্য নিহত #শহিদুন্নবী #জুয়েল স্মরণে)
সাকিল মাসুদ
শিক্ষা-দীক্ষা পেলে এখন
পশুও মানুষ হয়
তোদের মতো মানুষেরা
ক্যান যে পশু রয়
জ্যান্ত মানুষ আগুন পোড়া
ধর্ম বলে মারলি
মানুষ হয়েও সাজতে পশু
কি করে রে পারলি
তোদের কাছে ধর্ম কি রে
মারবি মানুষ জন্য
নাকি তোরা লাভের আশে
বানিয়ে নিলি পণ্য
যে যাই করুক ধর্ম পালন
তোর কি আসে যায়
দেখছে কি কেউ স্বর্গ-নরক
মরা মানুষ পায়
সৃষ্টিকর্তা মহান তিনি
ধর্ম মনেই থাক
নিজের মানা নিজের কাছে
অন্যে গোবর খাক
ধর্ম মানা নয় রে খারাপ
নয় রে কোন পণ্য
মানুষ হতেই ধর্ম পালন
সাজতে নয় বন্য
[30/10, 3:03 pm] GOBINDA DHAR: রতন আচার্য
মাটির ঢেলা
***********
মন মাতানো সাজ পোষাকে আকৃষ্ট করে
মানুষের আকৃতিতে গৃহস্থ আঙিনায় নিয়ে এলে রমনীরা শাঁখ বাজায়, উলুধ্বনি দেয় ৷
#
আনন্দ বিহ্বলা জমিদার নারী
শুদ্ধ রংবাহারী শাড়ি পরে হাসে
আবেগ উচ্ছ্বাসে ৷ ত্রস্ত প্রতিটি দূর্বাঘাস
তাদের নাভিশ্বাস কখন নিজেদের অঙ্গ টুটে নিতে
অকুন্ঠ আদেশ আসে
ব্রতীদের রাঙা আঙুলডগায় ৷
#
আম্রমুকুল একচুল ভুল করেনা
ঘটের শীর্ষে বসে যেতে ৷
অশোক,অশ্বত্থ,ডুমুর তার
অঙ্গ বিচ্ছেদের জ্বালা সহ্য করে ,
সহ্য করে তুলসী ৷
#
তবু ভ্রুক্ষেপ আছে কার ?
আমরা মানুষ ?
অথবা অবতার ?
জগদীশ বসু প্রমান দিল কার ?
#
মানুষের অঙ্গ ছেদনের কোন বিধান
বলেনা পুরোহিত ৷
পৈতে আর নামাবলী
বড় শক্ত ভীত !
পঞ্চপল্লব একত্র হয়ে শিক্ষা দেবে জেনে নিও সমুচিত !
#
মাটিকে কাঁদা বলে
যারা করেনা শ্রদ্ধা-
তাদের শির নত করে দিতে
সোজা চলে আসে
মানবের মত দেহ নিয়ে
সকলের আরাদ্ধা হয়ে ৷
@রতন আচার্য
নুতননগর
আগরতলা
ত্রিপুরা ৷
[30/10, 3:26 pm] GOBINDA DHAR: সেই ফুল চাই
রাখাল মজুমদার
#
প্রজাপতি ব্রহ্মা প্রজাপতি প্রতি পাড়ায় ভিন্ন রঙ রূপে
মুগ্ধতায় খুঁজি একান্ত প্রিয় স্বজন
যার বুকে আছে মমতা সাতজনম এবং
নদীর কলতানে শান্তির কলকল শব্দ যৌবন।
#
সবুজ শাড়ির আঁচল উড়ে ঝড়ো হাওয়ার আলিঙ্গন
শুধু হাবুডুবু খাওয়া বন্যার জলে
তোমাকে খুঁজে ফিরি- ভাসমান কাঠের গহ্বরে ইতিউতি
নির্ভিক প্রজাপতি তুমি, যাকে ভালোবাসি
সেই ফুল চাই সাতজনম।
#
যাইও না
#
রাখাল মজুমদার
#
যাইও না। বলিতে পারি নাই।
তোমাকে কেন বলিব যাইও না।
#
তোমাকে আমি ভালোবাসি। আমাকে তুমি ভালোবাসো এনিয়ে কোন আলোচনা নেই
অনেক অনেক কথা ছিল দু'জনে
কিন্তু ফুলবাড়ীতে হৃদযন্ত্রের ওঠানামা ছিল
প্রজাপতির মেলা ছিল
একান্ত গভীর নিঃশ্বাসের ভেতরে ডুবুডুবু খেলা ছিল
বিশ্বাস ছিল
ভালোবাসা ছিল।
#
বলতে পারি নাই-
যাওয়ার সময় যাইও না।
[30/10, 3:26 pm] GOBINDA DHAR: - চিঠিখানিই চাই
-------অমল চক্রবর্তী।
বইমেলাতে যে বইটি দিয়েছিলে
সেটা এখনো পড়া হয় নি,
তবে প্রচ্ছদখানি দেখেছি
পাথরে চাপা একখানি চিঠি
বর্ণ বুঝা গেলেও শব্দ বুঝা যায় না।
বইটির পিছন দিকে কবি পরিচিতি
আরো সাতখানি লেখা বই এর নাম
যেগুলি আগেই পড়া হয়ে গেছে।
ভাবছি পাথর চাপা চিঠিখানি
ডাকঘর থেকে হাতে পৌঁছলেই
বইখানি পড়বো।
তাইতো আছি অপেক্ষায়
আমার যে চিঠিখানিই চাই ,
বাকিগুলো যে সবার পড়া হয়ে গেছে !
-------------------------×-----------------------
[30/10, 3:26 pm] GOBINDA DHAR: আমি এক শব্দচাষি
রঞ্জিত চক্রবর্তী
তুমি রক্ত মাংসের শরীর না হয়েও
এই হাতের ছোঁয়ায় তোমার সৃষ্টি
ভালোবাসায় অন্ধ আমি
নিন্দার গয়না পরে
ডুবে থাকি তোমাকে নিয়ে।
দেহ ঢাকা অবিশ্বাসের ময়লা চাদরে
নির্মাণে উঠে আসে অন্য মুখ
ঘুম নাই চোখে কত প্রহর কাটে
একান্তে তোমার সাথে
চোখের নাওয়া হয় নোনা বৃষ্টিতে।
নতুনের গন্ধ নিপুণ গিলে খায়
কষ্টের দাগ লেগে আছে মনের গভীরে
সৃজনীশক্তি দিয়ে
আবার শব্দের মালা গাঁথি
আমি এক শব্দচাষি।
[30/10, 3:46 pm] GOBINDA DHAR: লাই মিল্লক
শ্যামল কান্তি দে
বাবু যি ক্ষুধার্ত পৃথ্বীবীর কথথা
বইলেছিলে ইকদিন হামদের ,
আইজ হামসব আবাক পৃথ্বীবীর
অব্যক্ত যইন্ত্রনার ছাড়পত্র ইক ৷
মহাজইনের অট্টহাসিতে দিনকটাই
ইকটা দেশলাই কাঠি মিল্লক লাই ,
হামদের ডেরা ইখনও আইন্ধার ৷
বাবু যি রানার টকা লিয়ে ছুইটত
পিঠ্য থলি সাঁঝ বিহানে ,
আইজও রানার ছুইট্টে চইলে
টকার বদ্দলে খাওন লিয়ে মাল্লিকের
রানার ভুখা পেইট আগুন জ্বইলে ৷
তব্বে ইটা ঠিইক বট্য বাবু
তহর মুখেই শুইনে ছিলম ,
যুদ্ধ, বিদ্রোহ,দুর্ভিক্ষ,ঝড়
আইজ হামদের মৃত্যুজয়ী গান ৷
হামসব ভুখা শ্রমিকের কাইছে
তহর একটি মোরগের কাহিনী ,
শোষক অর শাসকের বিরুদ্ধে
হামদের একতা , হামদের সংগ্রাম ৷
আঠারো বছর বয়স উঁকি দিলেক
বাগগানে পাততা গুলান উইড়ে উইড়ে
তুফান তুইল্ল লীরব শ্মশানে ৷
লিকিন হামরা ইখনও বোঝা টানিলই
হামদের ক্ষুধার রাজ্যে সংগ্রাম
ইখন ঝল্ সানো রুটিটর মতত বাবু ||
[30/10, 4:04 pm] GOBINDA DHAR: নারীর চাওয়া
শিমুল পারভীন
নারী কেমন পুরুষ চায় কেউ জানতে আগ্রহী হয়নি কোনদিন। তবু ব্যাখ্যার আছে প্রয়োজন।
নারী মাত্রই একটা টাকার গোডাউন চায়না, পায়ের উপর পা তুলে সে রাজরানী হতে চায়না। সিক্স প্যাকওয়ালা বডিবিল্ডারও তার চাওয়া না। আলমারী ভর্তি গয়না শাড়ী বেশীরবাগ নারীই এগুলোর কিছু চায়না!
- তবে কি চায় নারী?
নারী চায় সম্মান, নারী চায় ভালোবাসা, নারী চায় নির্ভরতা। আর তাই হয়তো ভালো আছো, বা ভালোবাসির মতো শব্দটাতে তার তৃষ্ণা থাকে আজন্ম। সে সন্মানের কাঙাল, তবে সোনায় মোড়ানো সম্মানপত্র না, সেটা খুব সাধারণ কিছু!
একটু বোঝাপড়া, একটা ছোট্ট উপহার। একটা চিরকুটে দু'লাইন ভালোবাসার কবিতা।ভালোবাসার কোন টেক্সট ম্যাসেজ যাতে লেখা, দুপুরে খেয়েছা,কেমন আছো আজ,কি করছো এখন- এমন সব সাধারণ কিছু বাক্য। সোনার গহনা নয়, একটা বেলীফুলের মালা,একটা রজনীগন্ধার তোড়া তার বড্ড প্রিয়। কোন একদিন ঘরের সব কাজ থেকে ছুটি,শুধু দুজনে ঘোরা। প্রতিদিনের চাকরির রুটিন ভেঙে একদিন না হয় হাত ধরে নির্জন রাস্তায় হাঁটা। মিথ্যে করে হলেও বলা - সুন্দর লাগছে আজ।
এতো সাধারণ কিছু?
-হ্যা আরো সাধারণ কিছু চাওয়া- নারী চায় কেউ একজন তাকে বলুক তোমাকে বড্ড প্রয়োজন। অতি সাধারণ খবর জানতে চাক কেও নিত্যদিন। অথবা একদিন চমকে দিয়ে রোমান্টিক গলায় কেও বলুক-আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে দেখতে আমি পাইনি তোমায়।
তাজমহলের মতো রাজকীয় সমাধির প্রয়োজন নেই তার, নেই মোনালিসার মতো অমরত্বের ফ্রেমে বন্দী হবার বাসনা। বরং মনের একটা খোলা বারান্দা তার কাছে অনেক দামী। নির্ভরতায় মাথা রেখে দু'টো সুখ দুঃখের কথা নারীকে দেয় স্বস্তির নিশ্বাস।
রোমিও হয়ে প্রান দিক কেও,মজনু বা দেবদাস হয়ে ঘুরুক কেও তা সে চায়না।
তবে কি চায় নারী?
-সে চায় একটি পুরুষ তাকে বলুক তুমি সুন্দর, তোমায় ভালোবাসি নারী।
[30/10, 4:08 pm] GOBINDA DHAR: অন্ধকার নামলে যে এত আনন্দ,
কে আগে জানত?
অন্ধকারের পুত্রকন্যা পথে বেরোলে
এত যে উল্লাস
আগে কি দেখেছি তেমন?
অন্ধকার, অন্ধকারই শেষ কথা হে,
তোমার ওই সেক্যুলারিজম, ডেমোক্রাসি আর দলিতইজম
কিছুই নয়!!
অন্ধকারের গরল-গহ্বরে এসো,
সমূলে ডুবি!
----- দিলীপ দাস
[30/10, 4:23 pm] GOBINDA DHAR: পঞ্জরে ।। অতনু ভট্টাচার্য
যেটুকু গান তোমার দান পঞ্জরে
চ্যুত চরণ ওহে মরণ মধ্যযাম
যত আঘাত যেন স্বখাত সন্ধ্যাদীপ
ওড়ে বাতাস ঝরে পাতার দিনগুলি
বলা কি যায় রক্ত খায় কেয়ারি সুখ
এত বিপুল তোমার চুল তরঙ্গ !
যদি কথার গোপন ধার অরণ্যে
পাথরজল স্রোতের ফল পাগলটি
এসো আকাশ মাঠের ঘাস শ্রাবণঘ্রাণ
সেই বনের এ জীবনের যেটুকু গান
[30/10, 4:31 pm] GD JIO NUMBER: খোলা চকুৰে
************
খোলা চকুৰেই সোমাই আহে আন্ধাৰবোৰ
কাৰখানাত যেতিয়া হাড়বোৰ ভাঁজ কৰা হয়
এটা গুলি সোমাই ওলাই যোৱা হ'লেই ভাল আছিল
নাঙঠ দুখবোৰ পিছত ভৰি গ'ল হৈ কলিজাটোত
খোলা চকুৰে পোহৰবোৰ সোমাই আহিব পৰা নাই
' কিৰিয়া ' খাই দূৰতে থাকে অঘৰী হয়
' মুৰ্গী ' এটাই ওপজিয়েই স্বাধীনতাৰ মাটি আঁচুৰে
বুধন তোৰ চকুত এতিয়াও পৰাধীনতাৰ জালি
কিমান দ গাতত পুতি থৈছে তোৰ মন-মগজু
মৰিশালিৰ পৰাওতো কেতিয়াবা শৱ দেহ চিঞৰে
চিঞৰ চিঞৰ চিঞৰ অ' বুধন
দোঁৱাই থকা মূৰটো দাঙি খোলা চকুত ৰচি থ ইতিহাস...
বি: দ্ৰ:--- কিৰিয়া-- শপত খোৱা
মুৰ্গী--- কুকুৰা
[30/10, 4:31 pm] GD JIO NUMBER: রীতা ঘোষাল
[30/10, 5:03 pm] GOBINDA DHAR: অন্য কোনোখানে
তুষারকান্তি সাহা
অন্য কোনোখানে যখনি চলে যেতে চাই
চারিদিকে রব ওঠে পালাই পালাই
বুকের মধ্যিখানে জেগে ওঠা দ্বীপ
লো- ব্যাটারির মোবাইলে করে বিপ্ বিপ্
ভালোবাসা প্রণয় ঢাকি গোপন অাঁধারে
শুকপাখি ঠোঁট নাড়ে আহা রে ...আহা রে!
একদা ছিল সখ্য যাহাদের সাথে
কোজাগরি জোছ্না গায়ে মেখে হেঁটেছিলাম পথে
কী কথা উদ্বৃত্ত আছে জানিনা তো আজ
বিষণ্ন অসুখে ধুয়ে গেছে আমার রাজসাজ।
[30/10, 5:04 pm] GOBINDA DHAR: বৃষ্টির তালে তালে
~ রাজা দেবরায় (আগরতলা, ত্রিপুরা)
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
মুড়ি, চানাচুর চাই
সঙ্গে দু'কাপ চা পেলে
আনন্দে গান গাই
"আবার এসেছে আষাঢ়"
বা "ঝড়ো ঝড়ো বরিষে"
গীত কিংবা গজল হলে
মন ভরে ওঠে হরিষে
মাঝেমাঝে সুমন হোক
নচি আসুক অহরহ
"রিমঝিম গিরে সাবন"
আরোহ এবং অবরোহ
বৃষ্টির তালে তালে
ছন্দে ছন্দে কবিতা
প্রেম আসুক ফিরে ফিরে
না হলে বেকার সবই তা
[30/10, 5:05 pm] GOBINDA DHAR: দুঃসময়
এলো যে বড়ো'ই দুঃসময় !
চতুরদিকে শুধু মৃত্যুর কলরব !
হে বিধাতা !কেন ফেলেছো এই অস্তিত্বের
সংকটে?
বিত্তবান কিংবা দরিদ্র বলে নেই তো কিছু ;
বদ্ধ হয়ে আছি ডানাবিহীন বিহঙ্গের মতো |
আশা নেই, ভাষা নেই, আছে ধরায় ক্রন্দন !
এই দুঃসময়ের দিনে নিতে হয় শুধু,
নিরাপদ জনশূন্য একটু আশ্রয় |
নেই'তো ভরসা করার মতো দুটো হাত
শুধু এ ধরায় দুঃখের হাহাকার !
নেই কোনো অদৃশ্য ঈশ্বরের আশীর্বাদ,
আছি সদা'ই নিরাশায় |
এই দুঃসময়ে আছি বড়ো'ই অসহায় !!
🥢🥢( টুকলু দাস )
মনোসাঙ্গন, করিমগঞ্জ
[30/10, 5:27 pm] GOBINDA DHAR: মলয় রায়চৌধুরী
হাঁপানিরোগ, প্রিয়তমাসু"
এতো মনে রাখো তুমি, কখন হঠাৎ মাঝরাতে এসে টোকা দাও
ঠোঁটের ওপরে ঠোঁট চেপে শ্বাস বন্ধ করে দাও, জেগে উঠি
সঙ্গে আনো হাওয়ায় উড়ন্ত রাতের রঙিন পরাগ
হাইওয়ে দিয়ে ছুটে যে সমস্ত ভারি-ভারি ট্রাক যাচ্ছে
কুরুক্ষেত্রে দুঃশাসনের রক্তপায়ী ভীমের অগ্নিচোখ জ্বেলে
তাদের উন্মাদ ডিজেলের গুঁড়ো ট্যালকম পাউডারের মতো
সারা গায়ে মেখে আসো, অগাধ ঘুম থেকে টেনে তোলো
তোমার নিঃশ্বাসের সাথে আমার প্রশ্বাস মিলিয়ে ছন্দহীন
বাজাও আয়ুসঙ্গীতের ফুলকি ক্ষণে ক্ষণে
তোমাকে ছেড়ে আমি কৃত্রিম প্রিয়াকে হাতে তুলে নিই
তার শ্বাস আমাকে শান্ত করে, তারপর নিশ্চিন্তে ঘুমোই–
জোর করে প্রেম করা যায়নাকো, কতোবার বলেছি তোমায়
সনির্বন্ধ অনুরোধ করেছি সকাল-বিকেল-মাঝরাতে
আমাকে ছেড়ে তুমি চলে যাও, ভালো আমি তোমাকে বাসি না
[30/10, 6:03 pm] GOBINDA DHAR: রীতা গোয়ালা
স্বাধীনতা
*********
পতাকাখনৰ ৰচীডাল খোল খোৱাৰ লগে লগে
ফুলবোৰ সৰি পৰিল চাহাবজনৰ মূৰে-মাটিয়ে
চাহাবজনৰ মুখৰ পৰা স্বাধীনতাৰ বক্তৃতাবোৰ
সুগন্ধি ফুল ,চন্দন হৈ চাৰিওফালে বিয়পি পৰিল
বহু পৰ থিয় দি থাকিব নোৱাৰি মংগলুৱে বহি ল'লে
হাতদুখন আঁঠুত খেজা দি ভাৱিলে-- সঁচাকৈ আমি স্বাধীন হৈছোনে...
সি নিজৰ ভৰি দুখনলৈ চাই পঠিয়ালে
লোৰ পুৰণি খাৰু দুপাত যেন অলপো খহাই নাই
আজিওতো ব্ৰহ্মপুৱাতে বিঙ্গুলৰ মাতে পৰাধীনতাৰ কথা কয়
পুৱাৰ পৰা গধূলিলৈকে হুজুৰৰ ব্ৰজকঠিন মাতে এতিয়াওতো খেদি ফুৰে
পেটত ভোক দেহত অজস্ৰ ৰোগ
স্বাধীনতা ক'ত ? ক'ত স্বাধীনতা ?
মংগলুৱে লঠঙা হাতদুখনৰ ৰেখাবোৰ লিৰিকি চালে
সপোনবোৰ বছৰে বছৰে সপোন হৈয়েই মৰে
সি বতাহত ঢৌ তুলি নাচি থকা পতাকাখনলৈ চালে
স্বাধীনতাৰ বৰষুণজাক চকুলৈ নামি আহিব ধৰিছিল
নাঙঠ শিশু এটি হাতত শুকান ৰুটি এটুকুৰা লৈ সুহুৰিয়াই পাৰ হৈ গ'ল
স্বাধীনতাৰ চৌসত্তৰটা মুকুতা মংগলুৰ চকুৰে লোতক হৈ ট্ পকৈ সৰকি পৰিল ...
[30/10, 6:04 pm] GOBINDA DHAR: আমি মনীষা বাল্মীকি বলছি ।। সুব্রত দেব
আমি মনীষা বাল্মীকি বলছি :
হ্যাঁ, দোষ আমারই ধর্মাবতার ।
আমার প্রথম দোষ- আমি নিম্ন বর্ণের ।
আমার দ্বিতীয় দোষ- আমি গরিব।
আমার তৃতীয় দোষ -আমি একজন নারী ।
এই ত্র্যহস্পর্শ দোষে সত্যি সত্যিই আমি দোষী।
উচিত শাস্তি দিতেই তাই হয়ত রে রে করে
প্রকাশ্য দিবালোকে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল
চার চারজন ঠাকুর।
আমার এইটুকু হুঁশ থাকা উচিত ছিল যে
আমি মূলত সেই রাজ্যের বাসিন্দা
যা এখন মনুভক্তদের জন্য
অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষিত এবং
তাদের সংবিধানে বর্ণিত সবক'টি গুণেই
বিভূষিত ছিল সেই চারজন ।
তারা ছিল উচ্চ বর্ণের।
তারা ছিল ধনী ।
সর্বোপরি তারা ছিল পুরুষ ।
সুতরাং আমাকে তছনছ করে শেষ অব্দি
মৃত্যুমুখে ঠেলে দেবার জন্য
ওদের কোনো দোষ দেওয়া যায় না হুজুর ।
কারণ , নতুন সংবিধান অনুযায়ী ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গের "ঠিক " দিকেই তো তাদের অবস্থান।
প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশকেও দোষ দেওয়া যায় না।
অভয়ারণ্যের জন্য নির্দিষ্ট সবগুলো নিয়মই তো
অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে তারা ।
তাছাড়া ডাবল প্রমোশনের লালসায়
ওভার টাইমও খেটেছে তারা নিজের থেকেই।
এই কারণেই আমার ওপর আক্রমণের সমস্ত প্রমাণ
নিশ্চিহ্ন করে দেবার অদম্য তাগিদে তারা
হিংসা এড়ানোর অছিলায়
মায়ের কোল থেকে আমার দেহ ছিনিয়ে নিয়ে
রাতের অন্ধকারে ডিজেল দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে
হাথরসের সেই মাঠে
যেখানে আমাকে বিধ্বস্ত করেছিল চারজন পুরুষ।
গভীর রাতে মাঠের দূর প্রান্তে আগুন জ্বলতে দেখে
থেকে থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল ,
কী জ্বলছে ওখানে ? কী জ্বলছে ?
আগুনকে ঘিরে থাকা নিষ্ঠ পুলিশবৃন্দ
প্রশ্নের পর প্রশ্নে নিরুত্তর থেকে বুঝিয়ে দিয়েছে,
এমন দেশদ্রোহী দুর্বিনীত প্রশ্নের জবাব হয় না
কোনো। কোনোই জবাব হয় না।
আমার বাস্তবের রামরাজ্যে দিনের পর দিন
সুশাসনের সমস্ত আশা এভাবে পুড়ে ছাই হতে দেখেছি বলেই নিরুপায় আমি স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছি : আমি -ই দোষী ।
এক লাফে একশ' একজনকে ডিঙ্গানোর লক্ষ্যে
ব্যক্তিগত কাণ্ডজ্ঞানকে যদি আপনি বন্ধক রেখে থাকেন তাহলে
বিচারের নামে অযথা সময় নষ্ট না -করে
আমার স্বীকারোক্তিকে ধ্রুব ধরে নিয়ে
আমাকেই দোষী সাব্যস্ত করে ঘরে গিয়ে আপনি বরং আজই
বাক্সপ্যাঁটরা প্যাক করতে শুরু করে দিন ধর্মাবতার।
তাহলে কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি সহ পছন্দমত জায়গায় বদলির অর্ডারও হয়ত কাল কি পরশুই
স্পীড পোস্টে পৌঁছে যাবে আপনার ঠিকানায়।
আর পুলিশের রেডারে কোনোভাবেই ধরা না-পড়া
যুবক চতুষ্টয়ও হয়ত
নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার সংবাদ পাওয়ামাত্র
বিচারালয়েই আবির্ভূত হয়ে আপনাকে মাথায় নিয়ে
মোহিনী রাগে স্লোগান দিতে শুরু করবে :
যুগ যুগ জিয়ো । যুগ যুগ জিয়ো। যুগ যুগ জিয়ো।
আপনার সেই মুহূর্তের গদগদ মুখখানা
নিজের চোখে দেখতে আমিও ভীষণই আগ্রহী
কিন্তু তা যে আজ আর সম্ভব নয় কোনোমতেই ।
৬ অক্টোবর ২০২০
[30/10, 6:05 pm] GOBINDA DHAR: কলম কথা
পিঙ্কু চন্দ
আমার কলম থেকে কোন
সুরভিত ফুল ফোটে না
কালো কয়লার মত আঁচড়
পৃথিবীর বুকে জমে থাকা
কিছু স্তরীভূত পাষাণ ইন্ধন
দহন প্রতীক্ষায় সময় গুনে
এক অসহায় মমত্ববোধ
আমার মিত্রতা বিস্তৃত করে
বুকের ভেতর দুরন্ত ঝড়েরা
সশস্ত্র গেরিলা বাহিনী গড়ে
আর বৃত্তের সীমানা টপকে
ক্ষেপণাস্ত্র হয়ে ঝলসে ওঠে
নীরবতা ভাঙ্গা কলম কথা
অনাসৃষ্টির ভেতর খোঁজে সৃষ্টি
আগুনকে আগুন ভাবি না আমি
কলমকে আগুন ভাবি অজান্তে।
----------------
বুকের নদী
পিঙ্কু চন্দ
অনন্ত পিপাসা নিয়ে নদীর কাছে যাই
নদীর সরে যায় বাঁক ফিরে তাকায়
আমি ছুটে যাই এক বাঁক দু বাঁক
জলের স্পর্শ পেতে পারি না
অনেক ছুটি যখন নদীর কাছে গেলাম
দুহাত অঞ্জলি পেতে জল তুলে নিতে দেখি
এতো জল নয় আমার পাঁজর ভাঙ্গা রক্ত
বহু রক্ত দেখেছি আমি
আশৈশব কত রক্তপাত
কোন দিন মাথা ঘামাইনি
এখন নদী কে মনে হচ্ছে
এক বিশাল রক্ত প্রবাহ
মনে পড়ে যুদ্ধের ইতিহাস
হাজারো রক্ত ক্ষয়
বয়ে চলে বিরামহীন নদী
রক্তচক্ষু শানায়
বুকের ভেতর আরেক নদী
অন্তঃসলিলা বয়
কখন জোয়ার আসবে প্রতীক্ষায় রয়।
---------------------------
যোগাযোগ
ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ 6003400714
[30/10, 6:11 pm] GOBINDA DHAR: অনেকদিন পর হঠাৎ লিখতে ইচ্ছে হোল
------------------------------------------------------
সুজাতা, তুমি এসো
-----------------------
গৌতম চট্টোপাধ্যায়
---------------------------
এই যে প্রখর রোদের তাপে ঝলসানো বুকে তোমাকে সেই কবে থেকে আগলে রেখেছি শস্যদানা'র মত, আর তুমি সেখানে ছটপট করছো কিছু আরো ভাঙচুরের জন্য, তবুও জেনে রাখো আমার মায়া কমেনি এখনও, এখনো এই রোদ্দুরে,
বর্ষায় বা শীত থেকে তোমাকে আগলাতে চাই!
এখনো হিন্দোলিত কাশবন থেকে তোমার জন্য
এক কাশফুল এনে বুলিয়ে দিতে চাই তোমার বুকে।
তুমি হয়তো ক্লান্ত হয়ে গেছো আমার আষ্টেপৃষ্ঠে জড়ানো তে! জানি, তুমি ভবিষ্যতের তোয়াক্কা করো না, তবুও রাত্রির অন্ধকারে মিশে যেতে যেতে অবসন্ন চাষির মত বাঁচতে চাই
অন্ধকারে নিমজ্জিত তোমাকে পৃথিবীর আলো দেখাবো বলে, আরো ভালোবাসবো বলে,
তুমি এসো সুজাতা,
বোধিবৃক্ষের নিচে প্রস্ফুটিত হও !
[30/10, 7:16 pm] GOBINDA DHAR: শতদল আচার্য
লকডাউন
যে শিলচরকে জানি
দ্যখ এখন বদলে আছে
যানজট নেই
যে কলকাতাকে জানি
তাতে নেই যানজট।
পুরো পৃথিবীর রেলস্টেশন ফাঁকা
পুরো আকাশে তারা আর চাঁদের খেলা
কদিন ধরে আকাশে
কোন বিমারু বিমান উড়েনি
এখন আকাশ জুড়ে আছে
মুক্ত বাতাস
যে দড়ি টানাটানি সীমানায় সীমানায়
এখন এক যুদ্ধে নাম লিখেছে
পৃথিবীময় সব দেশ।
এক যুদ্ধ এক আকাশ
এক আশা
যে শহরটা আমার
যে শহরটাকে জানি
তাতে জুড়ে আছে
সব কিছু র পর কিছু মানুষ
যারা আমার প্রিয়, আমার ভালবাসার।
[30/10, 7:19 pm] GOBINDA DHAR: দাম্পত্য
দেবাশিস মুখোপাধ্যায়
বিছানার চোখ খুলে পড়ে আছে
অনেক আঁকা ফুলের ওপর
প্রজাপতি উড়ছে
আঙুলের এই ঘুম সহ্য না হলেও
ঘরকে মানিয়ে নিতে হয়
সব সময় ছক্কা পড়ার কথা নয় ভেবে
এই ক্ষুদে পুঁটকেই
অপেক্ষা একটা বৈশাখীর
এলোমেলোর পর নতুন গন্ধলাগা জামার
[30/10, 7:48 pm] GOBINDA DHAR: ---------- Forwarded message ---------
From: TIMIR DEY <timirdey16@gmail.com>
Date: Wed, 3 Oct, 2018, 7:37 AM
Subject: তিমির দের কবিতা
To: ঐহিক পত্রিকা <aihikpatrika@gmail.com>
Cc: <aihikonline@gmail.com>
১
এই শহরে আমি বেশ ভালো আছি
এই গুয়াহাটি শহরেই আমি বেশ ভালো আছি
রোজ মর্নিং ওয়াকে যাই
ছেলেকে স্কুলবাসে উঠিয়ে দিই
পাণ্ডু বাজারে গিয়ে ছোটো মাছ
সস্তায় কিনে নিয়ে আসি
কলেজে যাই মন দিয়ে ছাত্র পড়াই
কলেজ লাইব্রেরি-তে বাংলা-অসমিয়া
-ইরেজি পত্রিকা দেখি
হেডলাইনগুলি মন দিয়ে পড়ি
'হিন্দুবঙালিক খেদিব লাগিব'
'বাংলাদেশি হিন্দু শরণার্থীক ঠাই দিয়া নহব'
ইত্যাদি রক্ত হিম করা কথাগুলি শুনি এবং পড়ি
আবার সন্ধ্যার সময় ক্লান্ত পাখির মতো নীড়ে ফিরি
স্ত্রী সন্তান সাথে টি.ভি-র সামনে বসি
লোকাল চ্যানেলে অসমিয়া নিউজ শুনি
'এই জুই জ্বলিছে জ্বলিব', 'আ ওই অ আকৌ ওলাই আ', 'বঙাল খেদা আন্দোলন গঢ়ি তুলিব লাগিব।'
----এইসব কথা বিজ্ঞজনের বুদ্ধিজীবীদের প্যানাল ডিসকাশনে শুনি
স্ত্রীর মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকি
সন্তানকে কোলে তুলে নিই হতাশায়। আদর করি।
দেশভাগ,উদ্বাস্তু, শরণার্থী, ভিটেমাটি, দেশবাড়ি
এইসব কথা আমার এই সাত বছরের সন্তান বোঝে না
টি.ভি.-র চ্যানেল পাল্টে দিই,পূর্বপুরুষের কথা ভাবি
বাঙালির কথা ভাবি,ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের কথা ভাবি আর নিজে ক্ষত-বিক্ষত হই।
সবচেয়ে মজার বিষয় এইসব উগ্র জাতীয়তাবাদী কথা
উনিশশো আশি বা তিরাশি সালের নয়
দুহাজার ষোলো-সতেরোর
এইভাবেই দিন চলছে তিন-চার পুরুষ ধরে
বন্ধু
তবু এ শহরে আমি বেশ ভালো আছি!
২
ছায়া
আমি আমার ছায়া
নিজেই তৈরি করি
তাই
কারও ছত্রছায়ায় থাকি না
রোদ পড়ুক
বা
বৃষ্টি-ই পড়ুক
তবুও
নিজের ছায়াতেই থাকি।
৩
প্রেম
তোমাকে ভালোবাসার আগেই
কেটে গেছে
কুড়ি বা পঁচিশ বছর
সব মিলিয়ে যা পেয়েছি
তা কেবল
শূন্য বা বিয়োগ
দু-পা মেলেনি একদিনও
কিন্তু হেঁটেছি
হাজারও পথ
ভালো করে মুখখানা
দেখিনি আজও
কিন্তু প্রতিরাতে মৈথুন-উত্সব।
Show quoted text
[30/10, 8:01 pm] GOBINDA DHAR: ।।তিতলি ও করোনা ভাইরাস।।
---------------------মলয় প্রামাণিক
অসুখ অার কত ছোঁয়াচে হলে
জীবন বাজি রেখে
বেঁচে থাকার আগে
দিনলিপি লিখে রাখবো
গাছের পাতায়?
শিকড় সংক্রমিত হলে
জানি তুমি রোদ্দুরের কথা বলবে
বল্কলে ঢেকে ফেলবে শরীর।
শরীর মানে তো কাম-লোভ-মোহ...
তার চেয়ে ভাল বৃক্ষরোপণ।
এসো সবুজ পাতায়
ঢেলে দিই সূর্যালোক,
পাতার প্রতি ক্লোরোফিলে
চলো লিখে রাখি নাম।
ফুলেফলে পৃথিবী আলো পায় যেন,
ভোরের শিশিরে গানের কথারা
দ্রবীভূত হতে হতে মিশে হোক নদী।
পৃথিবীতে সংক্রমিত সব অসুখের নাম
যেন ভালবাসা হয়...
[30/10, 8:33 pm] GOBINDA DHAR: অক্ষর
অপাংশু দেবনাথ #
--------------------------
অক্ষর চিনতে ভুল করেই বর্ণ তুলে এনেছিলাম
অন্ধ কোরিডোরে।
বর্ণ দিয়েই শব্দ হয়,
বাক্য হয়,
যাবতীয় ব্যাকরণ মেনে।
ব্যাকরণের নিজস্ব ভাষাজগৎ
ক'জন ছুঁতে পারে তাকে!
আমি শুধু অক্ষর খুঁজি,
অসংখ্য বর্ণের ভিড়ে।
অনেকেই ভেতরে ভেতরে ফোঁসে,
টের পাই সারা আকাশজুড়ে জমেছে মেঘ।
একটি মৌলিক অক্ষর খুঁজি সন্দিগ্ধ চোখে!
যাতে শুধু তোমাকেই চিহ্নিত করা যাবে।
[30/10, 8:37 pm] GOBINDA DHAR: কীর্তিনাশা চাঁদ
বীরেন মুখার্জী
এইসব ভাঙাচোরা রাতে অপার বিস্ময় ফুঁড়ে
কী দারুণ উঠে আসে চঞ্চলা যুবতী চাঁদ!
আমি খই ভাজা দুপুর ভুলে বাতাসে ভাসতে দেখি
চুলের সঘ্রাণ; তুমি কেন পরিধি খোলো রাত এলে?
এমন প্রশ্নের জালে চিন্তার জড়োয়া খুলে
মৌলিক দৃশ্যের পাশে ঝুলে ছিল তোমার হাসি;
জানতে চাই, কাকে দিয়েছো সেই রত্নপাথর,
উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সুতীব্র মথিত সুর?
শুধু কবি জানে, করোজ্জ্বল শিল্পের খনিজ আর
সোনারঙে ফুটন্ত শরীর ঢেলেছো কার পায়ে?
কেননা, এইসব রাতে কীর্তিনাশা চাঁদও
আমার কাছে কমলালেবুর মতো রসালো হয়ে ওঠে!
[30/10, 8:59 pm] GOBINDA DHAR: হেমন্ত
যা কে ঘৃণা করি তাকে অকপটে বললাম
যা কে ভালোবাসি, তাকে বলে দিলাম সরাসরি
যাকে ছাড়া বাঁচতে চাই না, তাকে বললাম আমরা দুজনে অগাধ
তারপর সব শুকিয়ে যেতে লাগল, বুঝলাম হেমন্ত এসেছে
বুঝলাম ফসল পেকেছে, যদিও বৃষ্টি হয়েছিল অসময়ে
তবুও ধান পূর্ণগর্ভা হয়েছে, আমার কৃত পাপ খুব সাবলীল
পৃথিবী ধারণ করেছে, ভিজিয়ে দিয়েছে চেনা অক্ষ কয়েকবার
কত সহস্র পরিক্রমা শেষেও প্রতিটি উৎসব নতুন থাকে
নির্জন বাড়িতে একাকী মানুষ ছোট্ট একটি দীপ জ্বেলে দেয়
সংক্রান্তির হিমস্নান শেষে কোনও এক পূর্বপুরুষের মনখারাপ
ছায়ার মতো নেমে আসে সকল জীর্ণতায়, ম্লান আলোর কাছে
হেমন্ত আমাদের সেই পুরনো বাড়ি, বয়ামে জমানো ঘি, অকারণ অসুস্থতা, বৃদ্ধকাল
এই বিকেলগুলোতে আমার খুব ভয় করে
মনে হয় যদি মা বাবার কথা, বাড়ির কথা মনে পড়ে যায়,
কিংবা ফেলে আসা অপমান, ঘোলাটে চাঁদের সেই পনেরদিন
গান শুনি। মনে হয়, শিল্পীর সেদিন দুঃখ হয়েছিল
হাত কেটে গিয়েছিল নতুন সেতারে,
তখন ভাবি কোথাও ভীড় হোক খুব, হোক বাঁদর নাচ
ময়লা নোট সব কুয়াশার মতো নীচে পড়ে যাক
কুড়িয়ে নিতে গিয়ে বাঁদরের মালিক আচমকা সম্রাট
হেমন্তের সন্ধ্যায় সে শহরে কানাঘুষো ছড়িয়েছে,
ঢেলেছে কি এক মদ, অন্ধ মানুষেরা জেগেছে হঠাৎ
বেকারজীবন ভুলে চমকে উঠেছে গলির ছেলে
হারানো গীটারের খোঁজ হোক না হয় আরো একবার
"এই রুমকি! রুমকিইই ...জমেছে কেন তোর চর্বি !"
হবে না কি বদছেলেদের আড্ডা, কিছু বারান্দা যেন খুলে যাচ্ছে গোলাপের মত ...চোরা বারুদ গন্ধ।
জরাগ্রস্থ এক ক্যানভাস ছাড়া হেমন্তের আর কোন চিঠি নেই
এইসব দিনে আমাদের কল্পিত ঝগড়া হয়, কম অভিমান,
গভীররাতে দুর্বল নিম্নচাপে ঝড় তার চিবুক কামড়ে ধরে,
তারপর পাতা ঝরারও সময় আসে, ক্লান্ত হয় সন্ধিস্থল
শহরের বেঁচে যাওয়া একটি রিক্সায়
কাল সকালে আবার বাজুক চোঙা মাইক
হলে এসেছে রেখা অমিতাভ বচ্চনের সিনেমা
আমিও তখন বড় হয়ে গেছি, চলছিল অসময়
আসলে সাতানব্বই এ তো শাহরুখ হিট ছিল
বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল সিনেমা হল দু একটি, কেন্দ্রে তখন জোট সরকার, মন্দা অর্থনীতির শুরুয়াৎ
বন্ধ কারখানার সামনে একটি মেয়ে বসে আছে
অপেক্ষার পর আর একটি অপেক্ষা শুরু হয়েছে
হয়তো এই হেমন্তের পরই পৃথিবীর বুকে নেমে আসবে দীর্ঘতম
শীতকাল
মেয়েটির গালে প্রাচীরের ছায়া,
আর কোনদিন কি ও সমুদ্র দেখতে যাবে না, কিনবে না ঝিনুকের মালা !
একজন পুরোহিত আগুন খুঁজতে বেরিয়েছিল ছোটবেলায়
রাস্তার দুপাশে তার দুশো একশ ধার হয়েছে কত !
ফেরত দিতে হয় কে বলেছে?
কিছু ঋণ রেখে যেতে হয়... ধূসর ঋতুর পোস্টার এই, জানো না?
@ চিরশ্রী দেবনাথ
[30/10, 9:10 pm] GOBINDA DHAR: অগ্নুৎপাত
সঞ্জীব দে
আজকাল মাঝে মাঝে ফসফরাসের মতো
জ্বলে উঠে পেট সময়ের কামড়!
নিস্ব কারা সময় না মানুষ?
দ্বন্দ্বের চোরা স্রোত বয়ে যায় নীরবে ---
চোরা স্রোতের মতো চোরা যুক্তি
নীরবতার আধারে ফণাধর সাপ
আকণ্ঠ গিলে নেয় নীরব সমাজ!
সমাজ নীরব হয়ে গেলে
প্রাণীরা পাথর হয়ে গেলে
ক্ষুধার্ত সমাজ নিথর হয়ে গেলে
আরেকটা অগ্নুৎপাত
প্রসূতি রাতের অপেক্ষায়
নীরবে বেদনা সহ্য করে!
[30/10, 10:07 pm] GOBINDA DHAR: মধ্যবিত্ত
গন্তব্য স্থান থেকে কিছুটা পথ যদি হেঁটে যাওয়া যায় কুঁড়ি টাকা বাঁচিয়ে নেওয়া যেত ,
সরাসরি কোনোদিন বলেন নি ঠিক
তবে প্রত্যেক মা বাবার মতো বাবাও চাইতেন
ভালো রেজাল্ট হোক আর পাঁচটা ছেলে মেয়ের মতো ।
সবাই কম্পিউটার কোর্স কমপ্লিট করে নিচ্ছে
দুইটা বছর কাটিয়ে নিলাম
ব্যবসা আর ভালো চলে না ।
শেষে একদিন বাবা ডেকে বললেন
এইবার কিছু টাকা এলো হাতে কম্পিউটারটা শিখে নিতে পারিস
মাস শেষেই স্যারের বেতন ম্যামের বেতন কম্পিউটার ক্লাসে বেতন
দরজার বাইর হইতে শব্দ পেলাম
'আমরা মধ্যবিত্ত '
এতদিন লাটে দিন কাটিয়েছি বুঝতে পারিনি আজ অনেকটা গায়ে লাগে
মা কানে কানে এসে বলে দেয়
বড় হয়েছিস অনেক এখন কোথাও একটা কাজটাজ দেখ, আর কতদিন খাবি বাবার হোটেল এ।
একটা প্রাইভেট কম্পানিতে কাজ পেয়েছি কিছু টাকা যদি দেওয়া যেত
কাজটা হয়ে যেত ।
ও ঘর থেকে একটা গম্ভীর শব্দ
'ও বাড়ির ছেলেরা পড়াশোনা করে
মোটা টাকা কামাই করে ।'
বাবা যানতেন আমি ঐ বাড়ির ছেলে নই তবু শব্দটা বড়ই আঘাত করে ।
ওই বাড়ির ছেলে মেয়ে যখন প্রাইভেট গাড়ি করে কলেজ যেত
তখন আমি কুড়ি মিনিট রাস্তা হেঁটে
ওটো করে ঘাট অব্দি, ঘাট থেকে আবার কিছু রাস্তা হেঁটে রিক্সা করে আবার পনেরো মিনিট হেঁটে কলেজ টিউশন করে বাড়ি ফিরেছি ।
আমি ঐ বাড়ির ছেলে নই ।
তবু একটা স্বপ্ন পুরোনের ইচ্ছে ।
হ্যাঁ আমি মধ্যবিত্ত যার
স্বপ্নআশা রোদেপুড়ে,বৃষ্টি ভিজে
ভূমিতে মুখ তুবরে পরে গেলেও
কেউ উঠাতে আসবে না
তাকে নিজে থেকেই উঠতে হয়।
রুপালী রায়
[30/10, 11:58 pm] GOBINDA DHAR: বিচার
............
মাথার উপর গনগনে তাপ, আগুনের গোলার মত জ্বলছে সূয্যিদেব আর তার চেয়েও বেশী জ্বলছে বুলি র মাথা।
সকাল থেকে ঠাঁই বসে আছে বুলি দুয়ার আগলে, শহরের দিদিমণি রা আসছে হারানের বিচার করতে।
খবর পেয়েছে তারা হারান জানোয়ারের মত মেরেছে বুলিকে।
ঐ এসে গেছে ওরা পাটভাঙা শাড়ি, ভ্যানিটি ব্যাগ চোখে রঙীন কাঁচ,
কি রে বুলি শুনলাম হারান নাকি মদ খেয়ে অমানুষিক মেরেছে তোকে।
আমাকে মেরেছে? তা তুরা জানলি কেমনে? ঝাঁঝিয়ে উঠল বুলি।
আমাদের কাছে বাতাসে খবর আসে বুঝলি? বাতাসে খবর আসে।
ডাক তোর বর কে। দেখি তার ঘাড়ে কটা মাথা!
মাথা টা সপাটে ঝাঁকিয়ে বলে ওঠে বুলি সব খবর যায় কেনে তোদের কানে দিদিমণি?
হ্যাঁ যায় ই তো, তাই তো..
কথাটা শেষ করার আগেই এক হ্যাঁচকা টানে বড় দিদিমণি কে নিয়ে ফেলল বুলি তাদের এক চিলতে ঘরে।
এটা কি ধরণের অসভ্যতা বুলি?চিৎকার করে উঠল নীলিমা।
কোন উত্তর না দিয়ে চাল টার দিকে আঙুল দেখিয়ে বলে ঐ দেখ কেনে দিদিমণি ঐ ফুটা টা দেখ, উটা দিয়ে বছর ভোর রোদ ঢুকে, জল পড়ে উটার খবর টো আছে তোদের খাতায়!
কালো পোড়া শুকনো ভাতের হাঁড়ি টা একটানে দিদিমণির পায়ের কাছে সজোরে আছড়ে চিৎকার করে উঠল বুলি "আজ তিনদিন ভাত চড়ে লাই, দিদিমণি ইটার খবর যায় তোদের বাতাসে !
আমার ছেলে গুলান এখন গুগলি আর কলমি সিদ্ধ খেয়ে বাঁচে এ খবর টা তোরা রাখিস তো দিদিমণি?
বুলি আমরা তোর ভালো র জন্যই!
ভালোর জন্য! তবে কর কেনে ভালো , ভালো কর, তবে তার আগে হিসাব টা কিন্তু বুঝে লিতে হবে আমায়।
হিসাব! কিসের হিসাব?
অন্ধকারে এককোনে ভয়ে সিঁটকে
থাকা বলাই এর হাত টা দু'হাত টা নীলিমা ম্যাডামের মুখে তুলে ধরল বুলি।
এই কালশিটে পড়া হাতটার হিসাব তোরা দে কেনে দিদিমণি! দে হিসাব।
আজ পুরা একমাস মানুষ টার কাম লাই, রুজি লাই ইঁট বয়ে বয়ে হাত টা লোহা হয়ে গেছে দিদিমণি লোহা।
ঐ লোহার মত হাত দিয়েই তোকে এমন জানোয়ারের মত মেরেছে আর তুই তার হয়ে লড়াই করছিস? চেঁচিয়ে উঠল নীলিমা।
ও র বিচার তো হবেই। মেয়ে মানুষের গায়ে হাত?
উ আমাকে মারে লাই, উ আমাকে মারে লাই বুকফাটা আর্তনাদ করে উঠল বুলি।
তোদের চোখে রঙীন কাঁচ তো দিদিমণি তাই আসল ছবি টুকু চোখ এড়ায় যায় তোদের।
উ আমাকে লাত্থি মারছে না রে মারছে ঐ সমাজ টা কে যে ওর ছেলের মুখের ভাত টা কেড়ে লিছে।
তোরা শুধু গায়ের দাগের খবর রাখিস দিদিমণি মনের দাগের কোন খবর তোদের কাছে লাই।
হারান আমায় অভাবে মারছে, মনের খেদে মারছে, আর তোরা আমাদের স্বভাবে মারিস দিদিমণি।। তোরা আমাদের স্বভাবে মারিস।
প্রতিদিন তিল তিল করে মারিস। একরাশ উপচে পড়া ঘৃণা বুলির ঐ জীর্ণ শরীরে।
এখন তোরা যা কেনে দিদিমণি, হিসাব টা আগে মিলা কেনে আমায় আসলে মারছে কে?
হারান না তোদের সমাজ?
লিপিকা
[30/10, 11:59 pm] GOBINDA DHAR: ভালবাসি বলেই
........................
এখন বড় দুঃসময়,
তাই ভালবাসার কথা বলতে নেই।
ছিঃ ছিঃ করবে লোকে।
অথচ তোমাকে আর একবার দেখব বলেই তো
বেঁচে থাকতে সাধ হয়।
তোমার হাতে আবার হাত রাখব বলেই তো
গুটিয়ে রাখি হাত।
আরো একবার উষ্ণতা মাখব বলেই তো
শীত জড়ো করি বুকে।
তোমাকে একটা বিশুদ্ধ পৃথিবী দেব বলেই তো
এই নিদারুণ ইচ্ছা নির্বাসন।
তবু ভালবাসি বলা বারণ
কারণ এখন ভীষণ দুঃসময়।
তবু চুপিচুপি বলে যাই
ভালবাসি বলেই সব কিছু করা যায়।।
লিপিকা
[31/10, 3:38 am] GOBINDA DHAR: খেলাঘর
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
_অপর্ণা সিনহা।
সময় বদলে গেছে আর হ্যাঁ রাস্তাও
নেশাগুলোও পুরোনো হতে হতে শেষ
এখন আর নেশা হয় না ওতে
নতুনের আবাহ চারিদিকেই
সংগীতের রাগ বদল হয়েছে
ফুলগুলো পূজার জন্যে রোজ খুন হয়!
চিন্তার বিস্তর ফারাক-
বিনে সূতোর বন্ধন বড়ো দুর্লভ,
আজ তাই মালা গেঁথে রাখা ।
আমি বলি আত্মহত্যা
যা তোমার কাছে মধুচন্দ্রিমা,
মুখে মুখে মুখোশ সাজের বড়ো বাহার
রঙ তুলিতে চাদর আঁকে গায়ে
আসলে উলঙ্গ একটা পৃথিবী সামনে।
কেবল তার ভাগ হয়নি
কেবল সে এক আর অনন্য।
হাতিয়ার হাতে সৈনিক গভীর ঘুমে
এ কেমন যুদ্ধ? চারিদিকে জেন্ত লাশ!
কেবল লতাগুল্মরা জাগে,
বৃক্ষ পলাতক নগর ছেড়ে,
হয়ত সকলের সাথে তাল মেলাতে
ব্যস্ত সেও আমাদের মতই!
মাঝে মাঝে সুতো ছেরা ঘুড়ি
পথ আটকে দাঁড়ায়!
যার নিজের অস্তিত্ব নেই,
সে কারো অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলে,
কী অদ্ভুত খেলাঘর এ পৃথিবী।
[31/10, 3:40 am] GOBINDA DHAR: অপর্ণা সিনহা
একটি বউ
সতের ছুঁই ছুঁই যখন সে হল বউ
কাজ জানে না,বাদ জানে না সে
একদম নতুন কুঁড়ি,এখন কিন্তু বুড়ি।
একটি বউ বাসর সজ্জায় প্রথম রাতে
চাপা যন্ত্রণা সয়,স্বামীর ধর্ষণ বয়
তবু রয়,হ্যাঁ,তবু রয় একা মুখ বুজে ,
কারণ?সে তার নিজের ঠিকানা খুঁজে
একটি বউ পাইনি আজও আপন ঘর।
এদিকে সবাই করছে চিৎকার
তুই মর!হতচ্ছারি,পাঁজি,অলক্ষী মর!
চারিদিকে হৈ হৈ রব আনন্দের উৎসব,
নতুন বউ এর ঘরে,নতুন অতিথি আসছে-
তখনও যন্ত্রণা তার আকাশচুম্বী,
এক সাগর কষ্টের ঢেউ বারে বারে উঠছে
চিঁড়ে ছিড়ে সব কিছু,রক্তের স্রোতে সুখ!
কি অদ্ভুত সুখ নতুন বউটির আহা!
[31/10, 7:16 am] GOBINDA DHAR: কেউ কথা রাখেনি
প্রসেনজিৎ রায়
সেই একদিন শ্রাবণের ঝরঝর বিকেলে
হৃদয়ঙ্গম সন্ধি হয়েছিল বৃষ্টির সাথে....
বৃদ্ধ বুকটার দরিদ্র হৃদয়ে ব্যথা জমলে না বলেই ধুঁয়ে নিয়ে যাবে শান্ত কোনো রাতে...
কই বৃষ্টি তো সে কথা রাখেনি |
আগে যখন হাঁটতে যেতাম মায়ের হাত ধরে,
আকাশটা হেঁটে চলত প্রতি পদক্ষেপে.....
কথা হয়েছিল চরম একাকীত্বেও পাশে থাকবে সে,
কিন্তু আজ বুঝে গেছি সে সবই প্রতারণার বুলি.....
বিশাল আকাশও তো তার দেওয়া কথা রাখেনি |
শৈশবে স্বপ্নের প্রস্ফুরণ ঘটত পেন্সিলের ডগায়,
হতাম রাজা মহারাজা ইচ্ছেমতো কল্পনার রাজ্যের.
আজ বড় হয়ে হারিয়ে গেছে আমার রাজ্য,সৈন্য সামন্ত সব...
দাম নেই তাই আমার অলীক স্বপ্নিল আবেগের,
কথা রাখেনি খোদ আমার নিজের শৈশবটাও |
স্বপ্ন ছিল হবো খুব বড় কিছু.. নেপথ্যে থাকবে কোনো প্রেম,
মহানগরের গলিপথে সব স্বপ্ন লুকিয়ে রেখেছে ময়লার স্তূপ.....
সময়ের গভীরতায় আটকে গেছি কালচক্রের চক্রব্যুহে,
স্বচ্ছ আয়নার বুকেও কেমন ফ্যাকাশে আমার প্রিয়ার মুখ.......
প্রেমের প্রতিশ্রুতিও তো কথা রাখেনি তার |
আমার স্বপ্ন,ইচ্ছা, শখ সব মিলেছে ধূলায়.....
অবুঝ মনের অভিমান বাস্তবের সাথে লড়ে ঠিকেনি,
সবাই ব্যস্ত সবার নিজের মত স্বার্থের জগতে...
তাই কোনোদিন কেউ কারো কথাটুকু রাখেনি |
[31/10, 8:33 am] GOBINDA DHAR: সেই ফুল চাই
রাখাল মজুমদার
প্রজাপতি ব্রহ্মা প্রজাপতি প্রতি পাড়ায় ভিন্ন রঙ রূপে
মুগ্ধতায় খুঁজি একান্ত প্রিয় স্বজন
যার বুকে আছে মমতা সাতজনম এবং
নদীর কলতানে শান্তির কলকল শব্দ যৌবন।
সবুজ শাড়ির আঁচল উড়ে ঝড়ো হাওয়ার আলিঙ্গন
শুধু হাবুডুবু খাওয়া বন্যার জলে
তোমাকে খুঁজে ফিরি- ভাসমান কাঠের গহ্বরে ইতিউতি
নির্ভিক প্রজাপতি তুমি, যাকে ভালোবাসি
সেই ফুল চাই সাতজনম।
যাইও না
রাখাল মজুমদার
যাইও না। বলিতে পারি নাই।
তোমাকে কেন বলিব যাইও না।
তোমাকে আমি ভালোবাসি। আমাকে তুমি ভালোবাসো এনিয়ে কোন আলোচনা নেই
অনেক অনেক কথা ছিল দু'জনে
কিন্তু ফুলবাড়ীতে হৃদযন্ত্রের ওঠানামা ছিল
প্রজাপতির মেলা ছিল
একান্ত গভীর নিঃশ্বাসের ভেতরে ডুবুডুবু খেলা ছিল
বিশ্বাস ছিল
ভালোবাসা ছিল।
বলতে পারি নাই-
যাওয়ার সময় যাইও না।
[31/10, 9:36 am] GOBINDA DHAR: অনিমেশ মণ্ডল
দেবী
প্রতিমার কাঠামোয় মাটি লাগাতে লাগাতে
আমার হাত ক্রমাগত নিজেই হয়ে উঠছিল
ঈশ্বরের ভূখণ্ডের মতো নরম...
মাটি লাগাতে লাগাতে পিতার মতো
তৈরি করছিলাম তার অনন্ত সম্ভবনা,
ফুটে উঠবার জন্য কেঁপে উঠছিল কচি পাতার মধ্যবর্তী মুকুল
আর মুকুলের ভিতর এক অনাঘ্রাত পুষ্প।
মাটি লাগাতে লাগাতে মনে হচ্ছিল
মাটির ভিতরে এত প্রাণ থাকে!
সবিস্ময়ে কেঁপে উঠছিল
আমার নাভিমূল থেকে সহস্রার...
এক অলৌকিক দৃশ্যের জন্য
প্রতীক্ষা করতে করতে দেখলাম
সহসা দিব্য আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে ঘর।
[31/10, 3:27 pm] GOBINDA DHAR: _ কবিতার শিরোনাম _
-অনুভূতির ছোঁয়া -
সকল জীবন তোমার জন্য
কে তুমি ? ওগো প্রাণময় ...!
পথ হারা যেন আমি ব্যকুল হৃদয় ।
কেমনে বলো, আপনারে শুধাই ।
আমার একটু ভালোবাসা -
তাও যদি মরে যায় !
তুমি নিষ্ঠুর না অবুঝ তা জানা নাই !
তুমি অনন্ত সুন্দর -
পবন বাহিত মনোরম দৃশ্য
হার মানে অপরুপ পৃথিবীময় ! ।
নাম:- নির্মল সরকার ।
ঠিকানা:- খোয়াই, ত্রিপুরা ।
তারিখ :- 31-10-2020
[31/10, 3:27 pm] GOBINDA DHAR: _ কবিতার শিরোনাম _
- অনুভূতির ছোঁয়া -
সকল জীবন তোমার জন্য
কে তুমি ? ওগো প্রাণময় ...!
পথ হারা যেন আমি ব্যকুল হৃদয় ।
কেমনে বলো ,আপনারে শুধাই ।
আমার একটু ভালোবাসা -
তাও যদি মরে যায় !
তুমি নিষ্ঠুর না অবুঝ তা জানা নাই !
তুমি অনন্ত সুন্দর -
পবন বাহিত মনোরম দৃশ্য
হার মানে অপরূপ পৃথিবীময় ! ।
নাম:- নির্মল সরকার ।
ঠিকানা:- খোয়াই, ত্রিপুরা ।
তারিখ:- 31-10-2020
[31/10, 6:48 pm] GOBINDA DHAR: টেলিফোন
~
মজনুর রহমান
.............................................
আপনাকে বলা হচ্ছে না
আপনি ভুল করে বৃষ্টি ফেলে গেছেন আমাদের বাড়িতে,
ফেরত দেবো দেবো করেও ওদিকে যাওয়া হচ্ছে না।
বাড়িতে অনেক কাজ,
পোষা মেঘগুলো বাচ্চা দিতে শুরু করেছে
গ্রাম থেকে অসুস্থ ঝড়েরা আসে ডাক্তার দেখাতে
দুটো অসুস্থ নদী বিছানায় পড়ে আছে
তাদের সবাইকে সামলাতে হয় একা।
এদিকে আমাদের বুড়ো পাহাড়টা প্রতিবেশীর চাঁদকে আছাড় মেরেছে
সেই প্রতিবেশী মামলা করেছে
মামলার কাজে মাঝে মাঝে আকাশে ছুটতে হয়।
তবু সময় করে আপনার বৃষ্টিকে নাওয়া-খাওয়া করাচ্ছি
উঠানে ছেড়ে দিলে ওরা মেঘের বাচ্চাদের সাথে খেলে,
দেখতে বড় ভালো লাগে
একেক সময় মনে হয়, রেখে দিই।
[31/10, 6:51 pm] GOBINDA DHAR: রাত ও চাঁদ
সুমনা রায়
আমরা ফুকো ও ফ্রয়েডের কথা আলোচনা করতে করতে পেরিয়ে যাই পুরোনো ডাকবাক্স। লাম্পপোস্টেরা তখনও পুরোনো রাতের সম্পাদ্য কাটাছেঁড়া করে যাচ্ছে। আমরা দেখতে থাকি কেমন করে জং ধরা হাওয়ায় আত্মঘাতী হয় সবুজ সংসার। মেঘ ও বৃষ্টির কম্পোজিশন বুকে নিয়ে আকাশটা আমাদের মাথার ওপর উড়ে বেড়ায় ইতস্তত। ফ্যাকাসে সময়ের ওপর দিয়ে বয়ে যায় আমাদের স্মৃতির খড়কুটো।আমাদের অযত্নে জমানো ধুলোর সারেঙ্গি ভেঙে এখন গড়িয়ে পড়ে নদী। আমাদের আলোচনা থেমে যায়। নদীর বুকে রাত ও চাঁদের প্রণয়কৌশল দেখি নীরবে।
[31/10, 7:12 pm] GOBINDA DHAR: বাংলা ভাষা ডট কম
কবিতা শ্যাওলা প্রেম
কলমে তাপসী ভট্টাচার্য্য
বহরমপুর মুর্শিদাবাদ
সত্যের সূত্র ধরে আসে প্রেম
জীবন সাগরের দ্বীপে দাঁড়িয়ে যখন
আকাশের তারায় খুঁজে নেয় আলো
নিশ্চিন্ত জলদি মাঝারে ডুব দেয় তখন।
আশা ভরসার দোলায় দুলিয়ে হাত
প্রলোভিত চন্দ্রা লোকের পূ্র্ণ আশায়
অসীম অবাধ চেতনায় পড়া বাঁধন
একে অপরকে মধূময় করে ভরসায়
দোলা চলে এগিয়ে তীব্র আবেগে
দুটি পাখি গীত গায় আপন সুরে
কোন অজানা বার্তা হতাশ কোনে
ভালবাসা জোলো হতে থাকে যায় সরে।
পৃথিবী চারিদিক ঘুরে ঘুরে দেখে
ভাব,আজও সবার সাথে পারে নি মিলিত হতে
প্রেম আজ উগ্র নিঃশ্বাস প্রশ্বাস এক বিভিষিকা
পাথর ক্ষয়ে,ক্ষয়ে এক সময় পরিণত হয় নুড়িতে।
[31/10, 7:13 pm] GOBINDA DHAR: গভীর জলের চিঠি
নুরুন্নাহার শিরীন
🗂️
প্রিয় অজানা, তোমাকে রোজ চিঠি লিখি
পোস্ট করি না, ঠিকানা জানি না, শুধু লিখি।
আমরা আদতে এই পৃথিবীকে কিছু দিতেই শিখিনি।
আমরা দেবার বেলায় হাড়কিপটে শুধু নিতে জানি।
নিয়েছি জীবনভর মাঠ-নদী বৃক্ষের তাবৎ উৎস থেকে
সর্বংসহ অমল সুন্দর কে অবলীলায় দিয়েছি ঢেকে।
বিষিয়ে দিয়েছি সব সবুজ ঘাসের রূপ বিবর্ণমুখ -
করে দিতে আমাদের আজ কিছুতে কাঁপে না বুক।
প্রিয় অজানা, তোমাকে খুঁজি আর মনেমনে
শব্দবন্ধে বন্দনা করি অযথা বিজন বনে -
অচিরে ফুরোবে সব আমাদেরও পাহাড়সম সম্পদ -
মুহূর্তেই সর্বহারা করতেই ধেয়ে আসবে উল্টোরথ।
চিঠিরা ঠিকানাহীন গন্তব্যে ধর্ষকামী ধর্মান্ধ উল্লাসে -
মত্ত মানুষদের খাবারের পাতে ছাই ওড়াবে বাতাসে।
এমনই একটা স্বপ্ন পেলেপুষে বড় করতে চাইছি -
আমরা তো একদম এতটা মৃত নই বেঁচে আছি -
নাছোড় শব্দে উড়েপুড়ে অবশেষে ঠিকঠাক -
আমরাই অমানুষী ছেড়ে শুনবো আলোর ডাক।
প্রিয় অজানা, তখনই তো ঠিকানাও পেয়ে যেতে পারি
প্রিয় অজানা নতুন সমুদ্রপথে দিয়েছে তো পাড়ি।
৩১-১০-২০২০
[31/10, 7:59 pm] GOBINDA DHAR: ।। মুক্তি চাই এই বন্ধা সময়ের।।
সাচীরাম মানিক
দিল্লীর প্রকাশ্য রাজপথে চলন্ত বাসে
ছয় পিশাচের নির্ভয়াকে দু:সাহসিক গনধর্ষণ
নির্ভয়ার কোমল অঙ্গ ব্যাঘ্রদন্তে ক্ষতবিক্ষত
এবং আগুনে ছেঁকা মাংসপিণ্ড ;
বিশ্ব বাসী হতবাক্ ---মর্মাহত।
তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদের প্রানী চিকিৎসক
সাতাশ বছরের প্রিয়দর্শিনী ডা: প্রিয়াঙ্কা রেড্ডি
পৈশাচিক লালসার শিকার,
পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত অগ্নিচিতা
---এনকাউন্টারে ধর্ষকদের বিচার ।
ত্রিপুরার সিধাই মোহনপুরের রাঙাছড়ার
বি.এ.পাশ বাইশ বছরের যুবতী--
বুল্টি দে কে সাড়া রাত ব্যাপী অত্যাচার,
অবশেষে আগুনে পুড়িয়ে প্রমান লোপাট।
হে ভারত, এই নৃশংসতার দৃশ্য
আর কত কাল দেখতে হবে আমাদের ?
জল্লাদ ধর্ষকদের উল্ল্যাসের রঙ্গমঞ্চে
নর পিশাচদের তান্ডব লীলার
--এই মধ্যযুগীয় বর্বরতা,এই অনাচার
এই ধারাবাহিক প্রবনতা
আর কত দিন সইতে হবে ?
নরখাদক হিংস্র ধর্ষকদের
মৃত লাশের উপর দিয়ে হেঁটে চলার
বন্ধা সময়ের মুক্তি চাই হে ভারতবর্ষ ।
[31/10, 9:13 pm] GOBINDA DHAR: মোক নদীৰ দৰেই হ'বলৈ দিয়া
####################
অদিতী তাঁতী ✍️
মোক নদীৰ দৰেই হ'বলৈ দিয়া
কাৰণ সময় যে কাইটিয়া পোচাক পিন্ধা।
নদীয়ে নকৰে দুখ সুখৰ চিন্তা
নিৰলস ভাৱে বৈ যায়
ভোঁক নাই, পিয়াহ নাই
লাজ নাই হিংসা নাই
সেইকাৰণে মই নদীৰ প্ৰেমিক।
নাজানে অভিমান কৰিব
প্ৰেমৰ তুলাচনীত কেতিয়াও জুখিব নাহে
নদী গাভৰু হয় বাৰিষাত
বৃদ্ধি পায় উত্তেজনা
গুণ গুমাই তুলে হৃদয় কপোৱা গান
বুকুখন বিষাই উঠে
ধোঁৱাৰ আৱৰণ সানি মেৰিয়াই আহে
হেঙুঁলীৰ ফেহুঁজালি ফালি।
মোৰ দৰেই একেই চঞ্চল চলনাময়ী উন্মাদিনী
বাস্তৱ বৈ যায় সময়ৰ সোঁতত
অতীত নথওঁ উলটি চোৱাৰ
মোক নদীৰ দৰেই দিয়া বহল পৰিধি
নতুনত কৈয়ো নতুন বিচাৰি।।
অদিতী তাঁতী ✍️
[31/10, 10:18 pm] GOBINDA DHAR: বসন্ত / নিয়তি রায় বর্মন
------------------------------------
তুমি আসবে জানি--
তবুও অধীর অপেক্ষায় থাকি,
তোমাকে পাই পলাশ শিমুল
কৃষ্ণ চূড়ার আকাশলীনায়।
শীতের ধূলোর আস্তরণ ঠেলে
ছোট্ট টবের শীর্ণ গাছে,
কচি সবুজ শিশু পত্রের
হাসির ঝিলিকে,
ছাদের আম্রপালির মুকুলে,
যেখানে মৌমাছি গুঞ্জন করে
সকাল সন্ধেতে।
---------------------------
[31/10, 10:34 pm] GOBINDA DHAR: ভ্রম
লিসা বিশ্বাস
জীবন পথের নাটকে,
রঙ্গ মঞ্চে; কেবল হাসির পাঠ তোর ...।
হা নিষ্ঠুর পাষাণী ,
কান্না ছেড়ে হাসছিস যে ভারী আজ ও ..!
ওই দেখ,দেখ চেয়ে ,
যন্ত্রণা উপভোগ করছিস??
তোর হৃদপিন্ড উপরে নিয়ে গেলো যে সে।
কষ্ট হচ্ছে না !!!
পাষাণী ....।
এখনো তুই হাসছিস ....!
কতো রক্ত কতো রক্ত,
সারা শরীর ভিজে যাচ্ছে ,
এখন যে নাটকে তুই মৃত ,
ভালোবাসার ধর্ষণ ,
প্রেমের জোরে খুন,
তোর হৃদপিন্ড উপরে নিয়ে গেছে সে ..।
তুই দিয়েছিস ও বটে ..!
শরীর মনন ছিড়ে খুঁড়ে দিলো সে;
পাষাণী কাঁদ তুই ...।
আহা! কাঁদবি কেমনে ??
বিশ্বাস ভরসা ভেঙে,সে যে;
লাশ করে গেছে তোকে,
তোর সব শেষ; জীবিত শব তুই ...।
কাঁদরে, কাঁদ পাগলী...।
আহা, কাঁদবি কেমনে?
লেখক তোর দেওয়া হৃদয় টা যে,
কুপিয়ে, কবর দিয়ে দিয়েছে।
ওরে পাগলী....!
বৈজ্ঞানিক মতে তুই জীবিত,
কাঁদ কাঁদ...,
সব শেষ ...,
এখন ও যে হাসছিস ভারী...!!!
ভ্রমে আছিস ....!!!
তুই আর মননে জীবিত নাই ...,
জীবিত একটি লাশ ..,
হৃদপিন্ড তোর উপরে নেওয়া হয়ে গেছে ...।
শরীর এর মাঝে অশরীরী তুই ..।।
- লিসা।
[01/11, 6:21 am] GOBINDA DHAR: হলুদ ফিল্টারের স্টিক
তনুশ্রী মল্লিক।
প্রতিটা টানেই ক্ষয়ে যায় আয়ুরেখা,
কি দিয়েছে তোমাকে ওই
হলুদ ফিল্টারের স্টিক
এক একটা ধোঁয়ার রিং জুড়ে
তৈরি করো অবয়ব আর দীর্ঘশ্বাসের কড়চা,
কি পাও ওরকম মৃত্যু বিলাসিতায়
একটা দামী ব্রান্ড প্রলোভনে
কাছে ডাকে , বলে টানো দম দেখি
অথচ তুমি বোঝোনা এও একরকম বাজারি কৌশল যত
একটুকরো আগুন দু-ঠোঁটের ভাঁজে জ্বলে যায় দেখি অহর্নিশ ,
যাকে তুমি অহং ভাবো
আমি দেখি প্রতিটা টানে
কমে আসছে জীবনের টান
একটা সিগ্রেট কতটা ধ্বংস
ডেকে আনে তুমি তো জানোনা
প্রতিটি ফুসফুসের গায়ে খোদাই হয়ে চলেছে অন্ধ ভবিষ্যতের লিপি
আর দূরে বেজে ওঠে মৃত্যুর কলস্বর।
[01/11, 6:27 am] GOBINDA DHAR: চাঁদ ও ব্রক্ষ্মপুত্র কথা
সপ্তদ্বীপা অধিকারী
শুতে গেলেই বালিশে দেখি ব্রক্ষ্মপুত্র জোয়ার...
আলো মরলেই বেঁচে ওঠেন ভীষ্ম!
শরীর কাত হলেই বিছানার চাদর কালনাগিনী
দুলে দুলে ফুঁসে ওঠে।চেরা জিভ লকলক করে! পিছনে যে কলকাঠি নাড়েন চ্যাংমুড়ি কানি!
ঘুমোই না তাই কতোকাল। অথচ তোমার বাহুখানা পেলে আকাশের মাঝে চাঁদের মতোই সুখে মরে যেতাম!
সপ্তডিঙা বয়ে যেত যে নদীতে সেখানে তিরতির ঢেউ! শান্ত।সমাহিত!
ধীরে বৈঠা বাও নাবিক! ওই ঢেউএর নীচেই কম্পমান চাঁদ!
[01/11, 8:07 am] GOBINDA DHAR: প্রবীর সরকার
ক্ষমা করো
ক্ষমা করো কুমারী মধুতি রূপশ্রী
ক্ষমা করো অনঙ্গমোহিনী মা মোহিনী
তোমাদের রক্তে ধোয়া কবিতায় ছাওয়া
এই সবুজ সীমানায়
অশ্লীল রাত আঁধারের সামিয়ানা টানায়
খাতক ঘাতকের লালসায় ভাসানের উল্লাসে
গানের লাশ ঝলসায় ক্যামেরার ফ্ল্যাসে।
[01/11, 8:24 am] GOBINDA DHAR: "নতুন সকাল"
গোপেশ সূত্রধর
চিলেকোঠায় রোদের ঝিলিক
পাখনা মেলে এল।
ডাক দিয়েছে নূতন সকাল
খুলো গো দ্বার খুলো।
চোখের পাতায় ঘুম পাড়ানি ,
শিশির ভেজা ফুল ।
শীতের হাওয়া দিচ্ছে দোলা,
দে দোল দে দোল।
আবছা হয়ে স্বপ্ন গুলো;
হঠাৎ করে ফুরিয়ে গেল,
চোখ মেলতে নূতন দিনের;
নূতন স্বপ্ন নূতন মনের,
রঙবেরঙের পাখনা মেলে
তোমায় নিতে এল। gsd
[01/11, 8:49 am] GOBINDA DHAR: টুকরো টুকরো কার্তিক
দেবাশিস মুখোপাধ্যায়
৭.
ব্রিজের তলায় অন্ধকার নিয়ে হাঁটছি
হিমেল গায়ে কোনো জোনাকি নেই
গাছেদের কথায় অবিশ্বাস টাঙানো
শ্মশানের দৃষ্টি গাঁজাড়ুর মতো রক্তাক্ত
ধোঁয়া নিয়ে যাচ্ছে কাউকে অনেক দূরে
৮.
কেদারার ভিতর ঢুকে যাচ্ছে বারান্দার আরাম
সংগীতের রাগ টেনে নিয়ে যাচ্ছে পুরনোয়
কাগজের গা বেয়ে নেমে এসেছে
আপেল বাগানের রক্ত
নভেম্বরের কষ্ট বুকের কাছে পড়তে পারছি না
[01/11, 10:55 am] GOBINDA DHAR: আর কতকাল দিবে
মৃত্তিকা চাকমা
আমার নাম! হ্যাঁ নাম
তবে কেন দিবে তুমি?
দিলে, আমি ট্রাইবেল; জানিস-
এ কতদিন বহন করতে হলো যন্রনার দগদ্ধে-
বাচনিক নির্যাতন ঢোগ গেলা যায় না
অন্তরে মুখে প্রাণে এবং দেহে।
এবার আরোপে উপজাতি!
হ্যঁ উপ-টা কার?
কি অমানবিক নির্যাতন,
দেখুনতো-
পৃথিবীব মানব সভ্যতা;
তামছা খেলে কাগজে কলমে পাওন্টেন পেন, কালিতে লেপায়-
উপ-জাতি উপ- জাতি উপ-জাতি!
এবার!
এবার কি?
হ্যাঁ এবার আরো ভয়াবহ,
নিজের দৃশ্যমান,
পৃথিবীর মাঝে
যারা মুকুটহীন তারা অনুর অনু
তাই;হাক ডাকে ঢোল পেটায় ওরা সবখানে-
খুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
আর কতকাল দিবে তুই নাম বদলী?
-------------------------------------
[01/11, 11:40 am] GOBINDA DHAR: যখন মুখামুখী বসি দুজনে
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
_অপর্ণা সিনহা।
যখন মুখামুখী বসি দুজনে,
অনেক অভিমান, অভিযোগের ঢালি সাজিয়ে,
তুমি অজুহাত দেখাও যুক্তি দেখাও!
তর্ক হয়, বিতর্ক হয় মাঝে মাঝে ভালোবাসাও!
দুজনের অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে, কত আবদার, নালিশ শুনি দুজনেই ।
পরিবার নিয়ে, পিতা মাতা নিয়ে তর্ক উঠে,
তুমি কত সহজে বলো,'আজো চিনলে না আমাকে?'
সত্যিই তো চিনি না আমি
এত দিনে যে নিজের নাম জানতে পারিনি
নিজেকে চিনতে পারিনি
মাত্র কিছু দিনে তোমাকে চিনব কি করে বলো?
কত বলিষ্ঠ কন্ঠে তুমি বলো ,'আই হেট ক্রিটিসিজম!'
সন্দেহ তোমার পছন্দ নয় চিৎকার করে বলেছ বহুবার!
আমি বলতে পারি না ,আই হেট মাই সেল্ফ!
বাবাকে ভালোবাসি প্রচন্ড
মায়ের এত কষ্টের পড়ও উনি আমার হিরো
ঠিক তোমার মতোই তাই
তোমার বার বার ছেড়ে দেওয়ার হুমকির পরও
বলতে পারিনি
যাও!আই হেট হউ
যখন কখনও মুখামুখী বসি দুজনে
অনেক অপেক্ষার পড়ও বলতে পারি কই
ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি
শুধু দূরত্বই বাড়ে দুজনের
কুল কিনারা পাই খুঁজে যখন ইচ্ছে হই
ইচ্ছেই তো হই!বলতে পারি কই
ছুঁয়ে দেখ একবার এই হাত, বুকের ভিতরে সুনামি
কী করে ডুবাতে চায় তোমার সকল অস্তিত্ব
বলতে পারি কই,আগুনের কাছে এসো না
জ্বলে উঠবে সৃষ্টি!এই সৃষ্টিছাড়া স্বপ্ন
একদিন মরণ ডেকে আনবে।
মুখামুখী হলে অন্য কিছু হয় না তা নয়
মাঝে মাঝে দীর্ঘ চুম্বন ,কখনও চুল বিলিকাটা
আবার কখনও সকল ভালোবাসা শিকেয় তুলে
তুমুল যুদ্ধে মাতি,শুধু দজনে
শাসন শোষণ চলতে থাকে,চলতে থাকে অত্যাচার
একেকবার তুমি সহ্য করো তো একেকবার আমি
বিশ্বাস নিয়ে যখন কথা উঠে
তুমি কেমন নিষ্ঠুর হয়ে উঠো
চোখের চাহনিতে ঘৃনা ঠিকরে বেড়ুই তখন
এড়িয়ে যেতে চাও,যাওও অনেক দূরে
অচেনা লাগে তখন চেনা জানা শরিরের গন্ধ তখন
অচেনা লাগে তোমার স্পর্শ কেমন যেন অবহেলিত চাহনি
আমি অপেক্ষা করি চুপচাপ
দিন যায় রাত যায় সে পরিচিত সুরের গান আর বাজে না
আমি তখন আর পতিব্রতা থাকি না
তৃষ্ণা তখন হিংস্র হয়ে যায়
সিঁদুরে প্রচন্ড এলার্জি
শাখায় পলারে চর্ম রোগ ছড়ায়
আমি তখন বড়ো গলায় কথা বলি
বোরখায় আগুণ দিয়ে শীতের রাত্র কাটায়
শুধু প্রতিধ্বণি আসে কানে জীবন কোনও খেলা নয়
মানুষ কোনও সস্তা পশুর দেহ নয়
এর একটা মেরুদন্ড থাকে যেটাই কোনও ফারাক নেই
তোমাতে আমাতে ! রক্তেও নেই
যখন মুখামুখী বসি কখনও সখনও
তোমার জিলের ধারে যাওয়া হয় না আর
তাই বিরক্তই হউ,আমি বুঝি
তবু ঐ শক্ত কাধে মাথা রেখে ধাতব মূর্তির মত পড়ে থাকি
বৃষ্টি নামলেও সরি না সরতেও দিই না তোমায়
তুমি তখন চেইনস্মুকিং করতে থাকো
আমার চুলে সিগারেটের স্মেল এরপর কয়েকদিন থাকে
আমি ইচ্ছে করেই শেম্পু করি না
স্কুলে হাটে বাজারে সকলকে এড়িয়ে চলি সে কদিন
সে আমার একার অনুভবের বিষয়
তুমি বুঝবে কী করে যখন মুখামুখী হই
কেন কাঁদি?কেন অভিযোগ করি ?কেন চরিত্রের কথা তুলি
আমি সে কদিন কেনই বা পরিব্রতা থাকি না
অসভ্য বলি,বাদর বলি,খামচি ,চুলে টান
সবই করি ,যখন মরণের কথা বলো
যখন রাত গভীর হলে ঘুমের মাঝে তোমার কথায়
বিলিতি ইংলিশ মদের গন্ধ পাই আমি পতিব্রতা থাকি না
বদেরও বদ বলে তিরষ্কার করি!
লাথি মারলে যেদিন আমার বিশ্বাসে সেদিনও
নিয়েছিলাম বুকের ঐ গন্ধ মন ভরে
তুমি টের পাওনি! সেদিন তুমি অন্য জগতে
তবু অভিযোগ,অবহেলা, অবিশ্বাস মিলে
যে নুনা নদী বয়ছে তার দুই তীরে মাঝে মাঝে
দাঁড়ায় আজও দুজনে যদি মুখামুখী বসি !
[01/11, 11:41 am] GOBINDA DHAR: পূজার দিনে
**********************************
-অপর্ণা সিনহা
চন্ডীদের বাড়িতে আজ, মন খারাপের পালা,
জামা নেই,জুতো নেই,আমার যত জ্বালা!
খুকু খুকী গাল ফুলিয়ে,ধরেছে যে বায়না;
রাঙা মামার আনতে হবে, কালো কাচের আয়না।
ঘুম ভাঙে না সূর্য্যি মামার, ভোর করেছে রাগ,
বাছুর গেলো ধানি ক্ষেতে কৃষক চাচা বাগ।
শৈলতে পচা বন্ধ বেড়ুই,গতর খাটে রঙ্গা,
ঘাম শরীরে ঝাঁপ দিল তাই ত্রাহি ত্রাহি গঙ্গা!
কেন যে তার ঘুম আসে না, আমার মতই আজ?
তোমার সুখে ময়ূরপক্ষী, আমার মাথায় বাজ!
[01/11, 4:02 pm] GOBINDA DHAR: সোনালী চক্রবর্তী
ব্যাস কাশী
পরাস্ত শিরস্ত্রাণের মত রোজ ধীরে শেষ নৌকাটিও অন্ধকারে মিশে যায়,
সেখানে নোঙর পড়ে,
যে পাড়ে সূর্যোদয় হয় না কখনো,
নাগরিক সম্বোধন তাকে ব্যাসের পরিচয়ে জানে।
এক টুকরো মাটির লোভে,
চতুস্পদী শর্ত জেনে,
কিছু মানুষের মত দেখতে জীব উনুন বানায়,
আর মাঝের দৈব ধারাকে উপেক্ষা করে অপলক চেয়ে থাকে মনিকর্ণিকার অনন্ত আগুনের দিকে।
যার দেশ নেই, তার শুধু অন্নের প্রত্যাশা থাকে।
আর চিতা থেকে চুরি করে আনা আগুনের স্বপ্নের সামনে দাঁড়িয়ে অন্নপূর্ণার চোখ জটার আড়াল খোঁজে।
[01/11, 4:27 pm] GOBINDA DHAR: প্রশ্ন
----
কমলিকা মজুমদার
যে ছেলেটা সব হারিয়ে
জেহাদি খাতার রোলকলে
বুক-পাজরে বাঁধে বোমা,
হঠাৎ পৃথিবী কেঁপে উঠলে
সেও কি ছুটে বেড়িয়ে পড়ে
আগ্নেয়াস্ত্র ছুঁড়ে ফেলে এক
খোলা আকাশের খোঁজে?
[01/11, 4:28 pm] GOBINDA DHAR: দহনকালের কড়চা
জয়নাল আবেদীন শিবু
গৃহকাল বড়োই ভারী হয়ে উঠছে
কতো আর আটকে রাখা যায় জীবন
একটু বাতাস না হয় ভরে দাও বেলুনে
বেলুনটা উড়তে দাও- উড্ডয়নেই
তার সৌন্দর্য- সুন্দর ছাড়া বাঁচে না মানুষ;
ভরা বর্ষায় কতজনই নৌকা চড়ে
নিরুদ্দেশে যেতে চায়- আমাদের আজ
যাওয়া হয় না কোথাও- দুঃসহ বন্দী জীবন
ভুলে গেছি নদীপথ, নগরকৃষি- ছিড়ে গেছে পাল।
প্রতিদিনের পরিচিত মুখগুলো আর
আলোর চিহ্ন নিয়ে আস না
ফিতেয় বন্দীঘরে রক্তের উত্তাপে
দেহ পোড়ে। এমন নিদারুণ দাহ
আর কী-ই বা হতে পারে!
##
নিভে যাচ্ছে সবটুকু আলো
আজ একে একে সব ক'টি দ্বারে তালা ঝুলানো
মৃত্যুফাঁদে আটকে গেছে পা। অথচ এমন তো কথা ছিলো না- বর্ষায় ভরে ওঠা পুকুরের জলে
পাতি হাঁসের সাঁতার কাটা বাধাহীন সময়,
খুব সহজেই যেনো বদলে গেলো- সেই ফেলে আসা
উদ্দাম শৈশব, তিলে তিলে জমে ওঠা আদর,
সবুজের ছোঁয়া, দিগন্তে মিশে যাওয়া রঙধনুর বর্ণালী রং,
আদরমাখা ভালোবাসা, পাখির ডানায় ওড়া স্বপ্ন,
প্রজাপতির প্রেম, তোমার মধুর শাসন-
কেমন দ্রুত সব বদলে গেলো! বিদ্যুতের তার ছিড়ে নিভে গেছে যেনো সব আলো, ভাটা পরা উচ্ছ্বাস;
ধ্বংসের মুখোমুখি আজ- ডানা মেলে উড়ে যাবো,
শক্তি কোথায়?
একটা বন্ধি জীবন- যেখানে অহর্নিশ রক্তক্ষরণ
মুক্তির উন্মাদনায়; কোথায় আছো সখি- তার জন্য
নিয়ে আসো খালিমাঠে ভেসে যাওয়া
বাতাসের স্বাধীনতা
##
সীতার অন্ধভক্তি
আমি তোমাকে হতে বলিনি
গৌরী, ভৈরবী কিংবা সাবিত্রী, পার্বতী
তুমি হও-
দেবযানী, চিত্রাঙ্গদা।
অন্যায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় তুমি হবে
দুর্নিবার।
সাম্যবাদের পক্ষে মুখ থাকবে
মুখরিত, দ্রোহী ও জলন্ত অনির্বাণ।
সীতার অন্ধভক্তি আমার কাছে বেমানান!
###
[01/11, 4:43 pm] GOBINDA DHAR: কেউ কোথাও নেই .......
ভ্রমের ঘরে পড়ে আছে কিছু লাবারিশ স্বপ্নেরা ,
জ্যোৎস্নার আলো , পাখিদের সুর , বাঁকা চাঁদ ।
একরাশ অন্ধকার হৃদয়ের পথে .....
শব্দহীন জীবন কল্পনার কবরে রাখে সদ্য ফোঁটা গোলাপ -
বিমর্ষ আকাশ
কুয়াশার পাখায় রাখে তার চোখ
তখন ভোরের সোনালী রোদ পান করে নীল সুরা
পৃথিবীর বুকে অর্ধেক ছায়া ,
হৃদয়ের তখন চাওয়া
চির পরিচিত একটি লাল বিছানার মাঝে হিম ঘুমের.......
.
.
. " চাওয়া "
© ** শিল্পী চৌধুরী **
.
.
[01/11, 4:59 pm] GOBINDA DHAR: মেঘালয়
কল্লোল চৌধুরী
অর্গল খুলে দিলে সোহাগী হাওয়া
মেঘে মেঘে বকসাদা পাহাড়
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গের মতো
নির্বাক বিস্ময়ে তুমি -----
নিচে লোভা নদীর খরস্রোতা জল
তোমাকেও টেনে নিতে পারে !
পাহাড়ের গায়ে ধুনুচিতুলা মেঘেদের কাছে
মানুষ জড়ো হয় রঙিন পতাকা নিয়ে বেডেনক্লাম উৎসবে
।
বেডেনক্লাম : খাসিয়াদের ভূত, প্রেত তাড়ানোর, মহামারী থেকে মুক্তি পাওয়ার উৎসব
[01/11, 5:01 pm] GOBINDA DHAR: করোটি
কল্লোল চৌধুরী
মহামিলনের তীর্থে
আতসবাজি নিয়ে
কেন করো দহন
কেনইবা দিতে চাও
ফুলের তোড়ার সাথে
সাপের বিষ ছোবল ?
এটাই কী তোমাদের জীবনধারা ?
এতো বেবুঝ তোমারা
তোমাদের করোটির নির্যাস
কারা করেছে চুরি ?
কপিরাইট@কল্লোল চৌধুরী
[01/11, 5:05 pm] GOBINDA DHAR: পাশিঘাট, ফেব্রুয়ারি ২০১৯
কল্লোল চৌধুরী
এখানে নেই রঙবেরঙের ফুলের বাহার
তবে আছে গাছগাছালিতে পাখিদের কলকাকলি
শণে ছাওয়া ট্যুরিস্টদের কটেজে
যখন পূর্ণিমার চাঁদ জ্যোৎস্না ফেলে
উপরের আকাশে চরতে থাকা মেঘ
দীপ্তিচ্ছটায় নিয়ে যায় অন্যভূবনে।
অদূরে কুলকুল বয়ে চলা
তিব্বত-জাত সিয়াং নদী
যার শিলপাথর ঘর্ষিত
ফেনায়িত শোভা বিমল আনন্দে দেয় ভরে
পাশে থাকা কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়
হাতছানি দিয়ে ডাকে।
কাকভোরে সিয়াং নদীতীরে
স্নান সারে দলবেঁধে গ্রামীণ রমণীরা।
কপিরাইট@কল্লোল চৌধুরী
[01/11, 7:35 pm] GOBINDA DHAR: ইভকণা
পরিতোষ হালদার
কোথাও পতন হবে, নইলে এতো ফড়িং উড়ছে কেন...
#----------
ঘাসে ঘাসে শিশির ও সয়ম্বর; চলো―শরীর খুলে আসি।
অপার স্তন থেকে জন্ম নেবে ছায়াপথ।
#----------
খণ্ডিত আপেলে অজস্র ইভকণা, তুমি তার আদিআদি সই।
কি করে ফেরাবে তারে, যে তুমি নিজেই তুমি।
#----------
বাতাসে এত পাখি, এত পাখি; কোথায় থেমে আছে স্রোত।
সবগুলো দরজায় রেলের আগাম হুইসেল।
#----------
কথা ছিল তুমুল অলোর, লাল কোন বর্ণের পাশে জলপাই বন।
আজ হলোমিতি, দুজনার এক ছায়া। তৃতীয় বিম্বে আমরাও বর্ষধারা।
[01/11, 7:53 pm] GOBINDA DHAR: স্বপ্ন গীত
অরূপম মাইতি
//
একটু একটু করে ফিকে হতে শুরু করেছে, নীল/
পাট ভাঙা ধুতির মত মড়মড়ে আকাশ/
শাড়ির খুঁট দিয়ে বৌয়ের চোখ মুছে দিলাম/
আর কেন অভিমান! এই তো বেশ আছি!/
ভাইরাস ঘরে বন্দি করে দিয়েছে.../
শুক্তো, ডাল, ছোট রাগ, দুঃখ আর/
আমাদের মেয়ে - এই নিয়ে দিব্যি কাটছে/
সারা দিন দুষ্টুমি করে একটু আগে ঘুমোল/
এবার চোখ বুজে হাসবে আর স্বপ্ন দেখবে/
//
এভাবে দিন যদি যায়, যাক না – বেশ তো চলছে/
রোঁয়া রোঁয়া বালিশ-ফাটা তুলোয় চড়ে বৃষ্টিকণা ঘুরছে/
চারদিক কত শান্ত, সমাহিত – খুব ভাল লাগছে/
রোজ একটু একটু করে স্বপ্ন বুনি, আমরা দুজনে/
লকডাউনে মেয়েটা উঠে এলো বাদামি ব-দ্বীপ থেকে/
ভেবেছি বাতাস থেকে সুর খুঁটে খুঁটে নিয়ে/
আমাদের স্বপ্নের বুকে একটা একটা করে বসাবো/
আর কিছু স্বপ্ন তুলে রেখে দেবো মেয়ের জন্য/
বিকেল পড়ে এলো - আমি এবার বেহালা নিয়ে বসি/
//
১৫ নন্দীপাড়া লেন, রামরাজাতলা, হাওড়া,
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত – ৭১১১০৪
চলভাষঃ +৯১-৯৪৩৩০২৬৩৩৮ এবং +৯১-৯৮৩০০৬৫২৬৪ (W)
ইমেলঃ maityarupam@gmail.com
[02/11, 8:05 am] GOBINDA DHAR: মানুষ হত্যার অগ্নিউৎসব
সাকিল মাসুদ
যেদিন জুয়েলের মৃত্যু হলো
সেদিন রক্ত মাংসের জ্বালানিতে
এই উপত্যকায় মানুষ হত্যার অগ্নিউৎসব হয়েছিলো
সেদিন মুয়াজ্জিনের আজান দেয়া মাইকে
হাইয়্যা আলাসসালা, হাইয়্যাল আলাল ফালা
উচ্চারণের বদলে উচ্চারিত হয়েছিলো-
এসো মানুষ পিটিয়ে হত্যা করি
এসো মানুষ পুড়িয়ে মারি...
জুয়েলের মৃত্যু যন্ত্রণা হৃদয় স্পর্শ করার বদলে
সহস্র সীমার মস্তিস্কে আনন্দ দিয়েছিলো বলে
আমরা অমন একটি নিষ্পাপ-আল্লাহভক্ত মানুষের
করুণ মৃত্যুর কথা জানলাম
আমরা জানলাম
এই মৃত্যু উৎসবে উচ্চারিত হয়েছিলো
আল্লাহ শব্দেরই একটি স্লোগান-
'নারায়ে তাকবির, আল্লাহুআকবর
ইসলামের শত্রুরা হুশিয়ার সাবধান...'
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের কারণ আরো আরো
সাংবাদিকের ক্যামেরার ফ্লাসে
টিভির রঙিন পর্দায় পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ হলে
হয়তো আমরা
আরো আরো অনেক কিছু জানতে পারতাম
আমরা জানতে পারতাম
শান্তির কথা বলে অশান্তি বাড়িয়ে তুলছে কারা
ক্যান বর্ববরতার কাছে নত হয়ে যাচ্ছে মানুষ
ক্যান জুয়েলের মৃত্যুশোক বিলিন হয়ে যাচ্ছে
একটি স্বাপ্নিকবিশ্বাসে
---------
ছুঁড়তে হলে ।। সুব্রত দেব
ছুঁড়তে হয় যদি, নিজের দিকেই ছোঁড়ো।
উত্তরে দক্ষিণে পুবে পশ্চিমে
খুঁজে বেড়াবার কী দরকার ?
শত্রু তো তোমার ভেতরেই।
আজন্ম ভেতরেই থাকে ঘাপটি মেরে।
ছুঁড়তে হলে তাই
নিজের দিকেই ছোঁড়ো।
নিজের দিকেই ছুঁড়ে মারো
ছোটো-বড়ো যত ঢিল।
গোবিন্দ, তোমার কথামত উপরের কবিতাটা পাঠালাম।
শুভেচ্ছা সহ
সুব্রত দেব -9831139892.
সাম্যহীন// শ্যামোৎপল বিশ্বাস।
পুজোর গন্ধ একসময় ম্লান হয়ে যেতে থাকে,
তীব্র হয়ে উঠতে থাকে শাড়ির কাপড়ের দোকানের ব্যালেন্সটা।
দিনের পর দিন গ্রীষ্ম বাড়ায় তার রোদের তাপ,
ছাড়াতে পারে হেমন্ত শীত বসন্ত এমনকি ছয়ঋতু।
জানি ব্যালেন্স কথার অর্থ রয়ে যাওয়া,
থেকে যাবে প্রজন্মের ঘাড়ে। কারণ আমরা শেখাচ্ছি না,
ব্যালেন্সের আরেক অর্থ
ভারসাম্য।
02-11-2020
লজ্জাসন্তান // শ্যামোৎপল বিশ্বাস।
খুব ভাল,সত্যিই এভাবে যদি থাকা যায়।
কি মজা, মিষ্টি রোদ থেকেও নেই।
পেলব জোৎস্না, থেকেও নেই।
স্বপ্নজাহাজ, থেকেও নেই। মেঘ তাকে আড়াল করেছে।
ফিনফিনে সাদা শাড়ী উড়ছে হাওয়ায়।
মনে আছে তো,কেকা আওয়াজ ঢাকা পড়েছিল লজ্জাপিতার আগমনে।
01-11-2020
ব্যাধির কাব্য
যোগমায়া গোস্বামী
বছরঘুরে আসো মাগো তুমি শরৎকালে
এবার এসে পড়লে তুমি ব্যাধির কবলে।
শত বাধার মাঝেও মা বরে নিলাম তোমায়
আশীষ দিও অধমজনে করুণার ধারায়।
করোনা ব্যাধি কেড়ে নিলো কতশত প্রাণ
বধ করে মা করোনাকে , দাওহে পরিত্রাণ।
ম্লান মুখেতেই কেটেছে পূজোর চারটি দিন
মুশলধারে বৃষ্টি ছিল,বাজেনি খুশির বীণ।
এবার মাগো বিজয়াতে করিনি কোলাকুলি
করিনি তোমার চরণ স্পর্শ,নিইনি পদধূলি।
বিশ্ববাসী তোমার কাছে করছে মাথা নত
ধনী গরীব,উঁচু নীচু,মোড়ল মাতব্বর যত।
বিনয় করি কড়জোড়ে তোমার চরণ ধরি
সঙ্কটে মা রক্ষা করো, মুছাও রোদনবারি।
প্রেম /সংঘমিত্রা চক্রবর্তী
মারাত্মক জড়িবুটি বানিয়েছ তাবিজ কবজ
বশীকরণের তাগা লাল সুতো দিয়েছ পরিয়ে
আর কী কী বাকি আছে ঝাড়ফুঁক সেও প্রতিদিন
তবু কেন মনে হয় ভালবাসা কমে যাচ্ছে রোজ !
#
কেন দেখি যত সব আজেবাজে ভোরের স্বপ্ন
দেখি তুমি অন্য হাতে হাত রেখে খুনসুটি করো
সে মুহূর্তে মনে হয় মরো তুমি , মরো মরো মরো
হিংসার আগুন জ্বলে নিভে যায় আবার কখন !
#
ঘুম ভেঙে রোজ ভাবি আমি তো পাগল হয়ে যাবো
মনপ্রাণ বিলিয়েছি একফোঁটা রাখিনি নিজের
খালি সব , শুন্য সব বোকামির শেষ যেন নেই
পুরনো মেজাজ খুঁজি ফিরে পেলে প্রেম ছিঁড়ে খাবো !
#
বুঝবে তখন তুমি রোজ রোজ অবহেলা করা
আমার কবিতা থাক শ্রমিকের নুন , ঘামে ভরা !
মাটির নিকট ভূমিষ্ট লেখাগুলো
সনাতন চৈতন্য
চরিত্র শব্দের ভেতর শুধু তুলসীপাতা থাকে এমন নয়।
আপেক্ষিক তত্ত্বের নিহিত শক্তির নিকট
মানুষের তৈরী কিছু মনুবাদ অথবা আরো পিচ্ছিল সরীসৃপ কিছু মতবাদ ছাড়া আর কি।
তাতেই লাফালাফি শেয়ালের টগবগে কৌতূহল।
সকল যন্ত্রণা কিছু আবেগ থেকে উৎলে উঠে
মিশে যায় তরঙ্গে।
তরঙ্গ মিলে যায় অসীমান্তে।
সীমান্ত অতিক্রম করে এক-একটি ধাপ নামলে উঠলে
পা পিছলে না পড়া হাতির পায়ের সংখ্যা শূন্য।
এমন মাটির নিকট ভূমিষ্ট লেখাগুলো
জীবনচক্রের সংকট মোচন কিংবা রাগ মোচনের অন্তিমকালেও
উঠে যেতে পারে পরিকার জল।
জলের আপাত এই নিম্নগতিই চমকে উঠে বিদ্যুৎ
চলকে উঠে বিশল্যকরণী।
লাগাতর ভুল বলতে বলতে
ভুল শব্দের প্রতিশব্দ হয়তো শুদ্ধতর হয়ে যায় গড্ডালিকায়।
মাটির নিকট নিজস্ব ভুল রেখে
ভূমিষ্ট পতাকা বুকে রাখি।
বুকের কার্ণিশে সামান্য চড়ুই
অবিরত কোশল কিচিরমিচির শব্দ চরিত্রপুরাণ লেখে।
কারো চরিত্রই তুলসীপাতা নয়।
সুচতুর সকল শব্দের মতো এটাও
আপেক্ষিক এক সমীকরণ মাত্র।
তথাপি অদূরেই সাইনবোর্ড টাঙিয়ে বুড়োটা বুড়োরা
লেখে জেলাসি উপাখ্যান।
বুড়োদের রতিবেগ যদিও ভীমরতি বলে মাফ শব্দ আরোপ করা আছে
তাও বুড়োশালিকের ঘাঢ় থেকে একদিন
উত্তোরীয় কেড়ে নিতে
আসছে নতুন ধারাপাত।
০২:১১:২০২০
রাত:০৮টা ৫০মি
কুমারঘাট।
লক্ষ্মী
বাপ্পাদিত্য দে
(লক্ষ্মী নন্দী স্মরণে
মেঘ দিয়ে সাজিয়ে রেখেছি লক্ষ্মী
স্নেহমাখা পথ,
সে পথেই ফিরিয়ে আনবে তোকে পরাক্রমশালী পক্ষীরাজ।
মেটাফর নয়। মেলোড্রামাও নয়।
আমাকে ভাবায় বন্ধু অদৃশ্য শত্রুর কালজয়ী কাজ।
আগামীর ইতিহাস দেখে নয়,
সভ্যতার সাম্প্রতিক সংকট দেখে
তোর কবিতাই শুনবে লক্ষ্মী
পৃথিবীর অভিষেকে।
একেকটা শব্দকথা বসে গেছে
সজল মেঘের ছায়ায়
পাগলপারা কবির অপেক্ষায়।
রুদ্ধশ্বাস কাচঘরে একভার ভয় নিয়ে বসে আছি আমি আর তোর সব সখা,
প্রকৃতির দেওয়া ক্ষয়কে জয় করে
ফিরে এসে মেলে ধর শান্তির পতাকা।
যেভাবে মঞ্চের অন্ধকার ফুঁড়ে স্পটলাইটে স্পষ্ট হত তোর নিজস্ব উপত্যকা
ভয়ের বদলে জয়ের স্বপ্ন দেখা সূর্যদয়
যে কলমের ছোঁয়ায় শব্দ আওড়ায়
তার জন্য অপেক্ষা করছে অতিথির অভিনয়।
অনেক তো হ'ল, আমাদের হাতে যতসব উপেক্ষা আর অবঙ্গার তরি
সমস্ত বৃত্ত জুড়ে খেলা করে আমাদের তৈরি করা আশাবরী।
সেই আশার আলো আরো দৃঢ় হোক,
'করোনা' শিরোনামে বাঁধা হোক জীবনের আটঘাট
প্রবহমান বহুস্বর অপেক্ষায়, পক্ষীরাজও তৈরি। রাজকীয় বেশে ফিরে আয় লক্ষ্মী কবিতা সম্রাট।
ভানু পুরকায়স্থ
কার্ত্তিকের এই চন্দ্রীমাতে
কার্ত্তিকের এই চন্দ্রীমাতে শিউলি ফোটা রাতে
আসতে যদি আবার তুমি ঠিক আগেকার মতো
ইচ্ছেমতো গপ্প হতো আবার তোমার সাথে
হাসি খুশির মুক্তারাশি ঝরতো অবিরত।
আবার আমরা পায়রা হতাম নীল আকাশের বুকে
হরেক রকম খেলায় খেলায় কাটিয়ে দিতাম বেলা
হাসির স্রোতে আনন্দ জল আসতো নেমে চোখে
সূর্য যেতো অস্তাচলে থামতইনা খেলা।
হায়রে সাধের সে দিন গুলো আসতো যদি ফিরে
আবার আমরা দামাল হতাম সুরমা নদীর তীরে।
অনিতা ভট্টাচার্য
কেন যে আজ মনটা এক অদ্ভুৎ শূণ্যতায় পরিপূর্ণ ৷
জীবনের সব মানে আজ অর্থহীণ ৷
আকাশটা ও যেন আঁধারে ঢাকা ৷
রাহুগ্রাস করে নিয়েছে চন্দ্রমাকে ৷
সব আলো আজ আঁধারের কাছে হার মেনে নিয়েছে ৷
নিঃসীম শূণ্যতার চাদর
আমাদের পূজো কথা
কলমে-সপ্তশ্রী কর্মকার
ললাটের লাল বিন্দিতে সাঁজাবো তোকে
যেন যাদুর অহর্নিশে বাঁধা।
নয়নের কাজল তুলিতে এঁকে
বলব সারাবেলার গল্প কথা।
মনের রূপকথার ঘরে বাঁধবো তোরে
যেন নাম ধরে কেউ না ডাকতে পারে।
উপহারে দিবে যখন পছন্দের মণিকর্নিকা,
হৃদয়ের মাধুরী মিশিয়ে দেবো মুখে হর্ষণ কণা।
বাসন্তী সাজে সাঁজবো নিজে রূপে অপসরা,
পরনে থাকবে কারুকৃত গয়না তুমার মনকাড়া।
ভোরের খোঁপায় জড়াবো শরৎের পদ্ম,
আর রাঙাবো দু-পা আলতা নুপুরে।
সোহাগের পরাগে সাজিয়ে নিজেকে
দেবো সঁপে শিউলির ঘ্রাণে জুড়ে তুমার প্রাণে।
হে প্রিয়, অষ্টমীর অঞ্জলিতে দেবো আশা ঢেলে
মায়ের চরণে যেন সুখে শান্তিতে থাকি দু-জনে।
নারী
কাজী নিনারা বেগম
মহান ঈশ্বর ভিত আছেন নারীতে নতুন কিছু নয়,
পদ্মা নাভিতে ভ্রমরের খেলা উৎস মূখে গঙ্গোত্রীর জলোচ্ছ্বাস।।
রক্তিম দ্বীপ্তশিখা দৃষ্টির গভীরে দেখে ঈশ্বরের হৃদয় কম্পিত,
নারীকে নিয়ে ট্রয়ের যুদ্ধ ,আর কুরুক্ষেএে তৈরি মহাভারত ।
নারীর জলছবি এঁকেছেন তিনি অসিম কবি ,
অপার ক্ষমতশালী নারী অধমৃতা প্রানহীনার ছবি ।
খতবিক্ষত কাঙ্গালী অধমৃতা,
পড়ে আছে রাস্তার পাশে ,
দহনে প্রজ্বলিত মাতৃভূণ অলিতে গলিতে।
নগ্ন হচ্ছে ভ্রষ্ট হচ্ছে নারীবিনোদন বিপণন ,
তুমি কি দাঁড়াবে পাশে ভালো বেসে।
মৃদু হেসে শোনাবে কি আর একবার লালিত আশ্বাস বানী,,
সেই চিরন্তন সত্য বুলি জ্বলে পুড়ে খাক হয় সোনা হয়ে উঠবে সে ঈশ্বরীয় নারী ।
দীর্ঘশ্বাস
রঞ্জিত সিংহ রঞ্জু
চতুর্দিকে বিপন্নতা
ভিখারির বেশে মৃত্যুর কাছে হাত পেতেছে
মানব সভ্যতা
ঈশ্বর, আল্লাহ্ যীশু ঘুমিয়ে আছে গির্জায়
দেবালয়ে মসজিদে
দীর্ঘদিন বিশ্রাম নেবে পৃথিবী আজ মহানন্দে
আবার দেখা হবে করোনা শেষে
যদি বেঁচে থাকি
বৃথা সময় কেটে গেছে জীবনের অঙ্ক কষে
বরঞ্চ এখন একটি নতুন পৃথিবীর ছবি আঁকি ।
অন্তরে অনুভবে
রমজান বিন মোজাম্মেল ( বাংলাদেশ )
আনমনে নির্জনে বসে ভাবি,
দর্পনে এ আমি কাকে দেখছি?
সহসায় উম্মুক্ত হয় বিহঙ্গকাল।
তাবৎপৃথিবী ব্যস্ত দেহের বর্নীল রহস্যে
প্রতিরাতে মানুষ আতুরঘরে যায়
ভোড়ের সাথে জন্মদেয় জমজ আমি’র
শুরু হয় হৈ-চৈ, সঙ্ঘাত, বিদ্ধেষ আর সহিংসতার রক্তপোড়া গন্ধ!
আকস্মিক দম বন্ধ করে মরার আগে একবার মরার স্বাধ নিয়ে দেখি
এতো আমি নই, নয় কিছুই আমার
এতোকাল এতোকাছে ‘আমি আর আমার অস্তিত্ব মিছে
আমি বলতে আমার আজ অচেনা সবই।
জেনে গেছি পলকে বোধের আলোকে
দেহের আমি আমার তো নই,
শুধু অন্তরে অনুভবে
সবটুকু ‘আমি’- সবটুকু সে
আমি শুধু তার, সে শুধু আমার
আত্নায় আর অয়বয়ে।
লজ্জা// রমজান বিন মোজাম্মেল
রক্তে কেনা দেশটা যখন
প্রতারকের ফাঁদে
শহীদানদের অাত্মা তখন
মর্ম ব্যথায় কাঁদে !
🙉
প্রবঞ্চকের অাগ্রাসনে কেমন
স্বাধীন স্বপ্নেরা হারে
সবুজের বুকে নড়বড়ে লাল
ন্যায্য প্রশ্নের ভারে!
🙉
মুখোশধারীরা অামাদের অাচরণে
দুঃখী না হয়েছে ধন্য
তাই বুঝি দুঃখিনী মা ভিক্ষা করে
ভাত-কাপড়ের জন্য !
🙉
ইতিহাসের শরীর জুড়ে
অাজ কলঙ্কের সজ্জা
চেতনাকে তাড়িয়ে বেড়ায়
নিদারুণ সেই লজ্জা !
অ আ ক খ কেড়ে নিলে
রুমা সরকার
কবিতা থেকে শব্দ কেড়ে নিলে আমি বরকত হব
গান থেকে সুর কেড়ে নিলে আমি সালাম হব
নাটক থেকে সংলাপ কেড়ে নিলে আমি শফি হব
গল্প থেকে কথা কেড়ে নিলে আমি রফিক হব।
চিত্রকলার থেকে জয়নুল কেড়ে নিলে আমি জব্বার হব
মাটির গন্ধ থেকে লালন কেড়ে নিলে আমি বাউল হব
রবীন্দ্রনাথ কেড়ে নিলে পদ্মা-যমুনা-মেঘনার ঘূর্ণি হব
প্রকৃতি থেকে জীবনানন্দ কেড়ে নিলে আমি বৈশাখী ঝড় হব।
ইতিহাস থেকে চেতনা কেড়ে নিলে প্রীতিলতা
ওয়াদ্দেদার হব
সত্তা থেকে বাঙালি কেড়ে নিলে আমি সূর্যসেন হব
রাষ্ট্রভাষা থেকে বাংলা কেড়ে নিলে আমি বায়ান্ন হব
পতাকা থেকে লাল-সবুজ কেড়ে নিলে আমি মুক্তিযুদ্ধ হব।
দেশ থেকে অসাম্প্রদায়িকতা কেড়ে নিলে আমি মুজিব হব
বর্ণমালা থেকে অ আ ক খ কেড়ে নিলে
আমি প্রফুল্ল চাকী
আমি ক্ষুদিরাম
আমি নূর হোসেন হব।
আমি কমলা বলছি
কল্লোল চৌধুরী
জন্মেছিলাম এই ভূবনে
ফুলে ফুলে ভরা প্রকৃতির কোলে
দোয়েল কোয়েলের কলতানে
মা বাবা তোমরা রাগ করোনা
আমাকে যেতে হবে প্রতিবাদে প্রতিরোধে
শহরের রেলষ্টেশনের পাশে ভাষা জননীর ডাকে আমাকে যেতে হবে সবার সাথে
এ যে মরণপণ সংগ্রাম
''মরণ রে তুঁহুঁ মম শ্যাম সমান"
যদিও মরে যাই
আমার রুধির গড়িয়ে পড়বে বরাকের জলে
আর আমি হবো যে ধন্য
বিশ্বের প্রথম মহিলা শহিদ হয়ে
কপিরাইট @ কল্লোল চৌধুরী
বিকাশ সরকার
ব্ৰাত্য কবিতার চর
সেইসব কবিতা, আকাশে ওড়ে তারা,
প্ৰজাপতিদের কাছে কত ঋণ
তাহারা আপন হবে কি আমার?
আত্মীয়স্বজন হবে কোনোদিন?
সকালের দিকে মিষ্টি থাকে সেইসব
দুপুরের দিকে তারা হয়ে ওঠে তাড়ি
উপমার গাছপালাময় জঙ্গলের দিকে
যেন এক ছমছমে কবিতার বাড়ি
আসলে অলীক খামার সেটা, জানি
পুকুরপাড়ে বসে চাল ধোয় মধুদিদিমা
আসলে নেমে আসছে কী রক্তপায়ী নীল
নামছে মেঘ আর রক্তারক্তি বাতাসের কিমা
নেমে আসে কালো-কালো যত বকগুলি
ডানায় ডানায় খেলে কত ঘন অন্ধকার
তবু রাত হতে দেরি আছে এই অরণ্যের
এখন ফুটেছে উঠে নদীতীরে হলুদের পাড়
সেখানে বিকেল ঠেঁটে নিয়ে নেমে আসে
কবিতার সবুজাভ দিকভ্ৰষ্ট কত কবুতর
নিশীথ আসে, কবিতাজোনাকিগুলি আলোকিত
করে রাখে একা এক বাবুইয়ের ঘর
আমি এক ছুতোরের ছেলে, কবিতা লিখেছি বলে
অনেকেই দিব্য রেগে টং
তারা বিস্তর অভিশাপ দেয়, বলেছে জোকার
বলে আমি যেন গেঁয়ো এক সঙ
‘কলম ধরেছ কেন বাছা, সিধা ঠোকো
জংধরা বাঁকানো পেরেক'
এইসব বলে তারা শিকে বেঁধে, কাবাব বানাবে বলে
ছুড়ে দেয় আগুনের সেঁক
আমি চুপ করে থাকি, বসে থাকি মধুবনীতীরে
বিবিক্ত একটি খিন্ন রাবারবাগানে
পাথরে ঘুমিয়ে থাকি, তারপর ফের জাগি
দলছুট দুখি সব পাখিদের গানে
কুল ও ডুমুর খসে পড়ে জলে
নদী আমাকে ধরে ছন্দ শেখায়
তারপর বেতফল খসে পড়ে
নদী আজ ঘাড় ধরে আমাকে ডোবায়
ডুবে যাই, ডুবে থাকি এই এক পাহাড়িয়া ঝোরা
সবুজ শেওলা দাঁতে খুঁটে খেলা করে মাছ
জলের অনেক নীচে যেন আরও কত বন
আরও কত শোকাকুল চিরহরিৎ গাছ
গাছের ভিতরে গাছ, কোটরে গহিনবাড়ি
যেন এক ছন্দোবদ্ধ কুহকের বাট
তার পরে মায়াখাল, জোনাকিপাহাড়
তারপর আমাদের সাপ্তাহিক হাট
রায়খুড়ি হাটে বসে স্বপ্ন বিক্ৰি করে
মদ বেচে কানা খলিফার মেয়ে
তখন একটি নধর শীতল সাপ
উঠছে উঠছে তার সসপ্যান বেয়ে
আসলে জাগিনি; পাথরেই পড়ে আছি
আদতে আমি তো এক পাথরপ্ৰতিম
নাকি ঠিকঠাক পাথরও নয় এইসব
রাবারবাগানজুড়ে লক্ষ লক্ষ সাপেদের হিম
কুণ্ডলীপাকানো শীত, যেন নড়েচড়ে
আমি রক্তরসমজ্জায় ঠিক টের পাই
যেন বিধবা যৌনতা, রায়কাকিমার
যেন বেরিয়ে আসবে কত খুড়তুতো ভাই
আসলে গান গায়নি কোনো পাখি
ঠুকরে চলেছে শুধু ডিমভরা শীত
আমিই ভেবেছি শুধু চারপাশে গিটারসেতার
কী মধুর মৃত সব পাখিসংগীত
জাগিনি জাগিনি; জাগলেই কারা যেন
চেঁচিয়ে বলবে দেখো ‘জোকার জোকার'
অতএব আরেকটু দিব্য শীতঘুম হোক
আরেকটু স্বপ্ন আর জোনাকিপাহাড়
ততক্ষণে বাঁকানো কবিতাগুলি সোজা করি
বংশগত হাতুড়ির ঘা মেরে মেরে
আরেকটি জ্বলন্ত স্বপ্নের দিকে চলে যাই
জীৰ্ণ ক্লিষ্ট সব পুরাতন স্বপ্নগুলি ছেড়ে
স্বপ্নদালানের সেই পরাবাস্তবের ছাদ
যেখানে নেমেছে কত উদ্ভিন্নযৌবনা তারা
ছাদেই ঘুমোব কিছুদিন চুপিচুপি
স্তন থেকে খসে যত আছে বিষময় পারা
সে এক বিস্ময় বলা চলে, মায়াবিজোছনা
অন্ধকারে প্ৰেতিনীরা কোলাহল করে
সুস্তনী তারা, সুনিতম্বিনী, চকচকে ঠেঁট
এ ওর মাথাটি কেটে সেঁটে দেয় ধড়ে
এ ওর স্তন নিয়ে কাড়াকাড়ি করে
কেটে আনে এ ওর লবণাক্ত ভুরু�
তখন নিখাদ ঘুম আসে কুয়াশার মতো
এইবার জীবনের আরেকটি স্বপ্ন হবে শুরু�
‘জাগিনি জাগিনি; হে প্ৰিয় অধ্যাপকগণ'
তবু তারা অকারণ টীকা লিখে চলে
কঠিন সমস্ত ভাষ্য লেখে ঘৰ্মকবিতার
বিমার দালালকে ঘরে আসতে বলে
ট্ৰাংকভরা থিসিসপেপারগুলি নিয়ে
তারা চড়ে বসে অপাৰ্থিব ট্ৰেনে
ঘুমের ভিতর, বহুবার, আস্ত রেলগাড়ি
আমি থামিয়েছি চেনখানা মাঝপথে টেনে
তারপর গগঁ্যা ও গখের সাথে চলে গেছি
ধ্যানমগ্ন গুমফার অতিনীল সামচি পাহাড়ে
চষেছি পপির খেত, ফড়িঙের পিঠে চেপে
চলে গেছি জঙ্গলমাখানো এক মরণের পাড়ে
রেতি বনে র্যাবোঁর পায়ের ক্ষতে
দেখেছি মলম লাগায় তাঁর হাবসি রক্ষিতা
জটদানদীর পাড়ে নগ্ন অ্যালেন
খুঁচিয়ে চলেছে বাঁশে কবিতার চিতা
আমি মায়ের আঙুল ধরে চলে যাই
ঢাল বেয়ে আদিমপ্ৰবৃত্তিময় পেটকাটি মেলা
ঘুমের সাগরতীরে ভাসাই ভাসাই
শুধু অশিক্ষিত স্বপ্নমাখা রহস্যের ভেলা
জাগিনি, মাননীয় হে অধ্যাপক; তবে ঘুমিয়ে রয়েছি
সমস্ত শীতে তাও এতটুকু সারসত্য নয়
রয়েছি পরাবাস্তবে, কিছুটা কোমায় যেন
চারদিকে জীবনের ভীতিগ্ৰস্ত জয়-পরাজয়
নিজেই নিজের শিরা টিপে দেখি
যেন সাপের শীতল রক্ত ছোটাছুটি করে
অনেক পরে স্পন্দন পাই, তারপর ফের চুপ
স্তব্ধতা ছেয়ে আছে হৃদয়ের গভীর ভিতরে
শুধুই স্বপ্নময় সব, রায়খুড়ি, হাট,
খলিফার ডাঁশা মেয়ে, হাঁড়িয়াবাজার
সাপের ফণায় পা ঝুলিয়ে আনমনে বসি
গন্ধ পাই কড়া এক হৃদিপদ্ম মারিজুয়ানার
সে কোন বনবিটে ঢুকেছি বাতাসের সাথে
খসেছে কবিতার পুরুষ্টু সবুজ যত পাতা
মেঘ ছুঁয়ে আছে শ্ৰেষ্ঠ সব কবিতার গাছ
শুধু অন্ধকারে কেঁদে মরে রুলটানা খাতা
যত ফুল ঝরে পড়ে, সেসব পঙক্তিমাত্ৰ
যেন আরও কত তরতাজা নিষাদ-অক্ষর
উড়ছে পাখির দল মেঘেরোদেজলে
ভিজে আছে মায়াচুম্বী কবিতার ঘর
জীবনমুখর বৃষ্টি নামে পাতার ওপর
ছন্দ-অনুপ্ৰাস নামে অন্ধকার খাতার ওপর
বেনো জল সরে গেলে প্ৰতীকের খেতখানি জাগে
যেন জেগে উঠছে ব্ৰাত্য এক কবিতার চর
0 মন্তব্যসমূহ