অপর্ণা সিনহার কবিতা

অপর্ণা সিনহা দুটি কবিতা 


যখন মুখামুখী বসি দুজনে

যখন মুখামুখী বসি দুজনে,
অনেক অভিমান, অভিযোগের ঢালি সাজিয়ে,
তুমি অজুহাত দেখাও যুক্তি দেখাও!
তর্ক হয়, বিতর্ক হয় মাঝে মাঝে ভালোবাসাও!
দুজনের অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে, কত আবদার, নালিশ শুনি দুজনেই ।
পরিবার নিয়ে, পিতা মাতা নিয়ে তর্ক উঠে,
তুমি কত সহজে বলো,'আজো চিনলে না আমাকে?'
সত্যিই তো চিনি না আমি
এত দিনে যে নিজের নাম জানতে পারিনি
নিজেকে চিনতে পারিনি
মাত্র কিছু দিনে তোমাকে চিনব কি করে বলো?
কত বলিষ্ঠ কন্ঠে তুমি বলো ,'আই হেট ক্রিটিসিজম!'
সন্দেহ তোমার পছন্দ নয় চিৎকার করে বলেছ বহুবার!
আমি বলতে পারি না ,আই হেট মাই সেল্ফ!
বাবাকে ভালোবাসি প্রচন্ড
মায়ের এত কষ্টের পড়ও উনি আমার হিরো
ঠিক তোমার মতোই তাই 
তোমার বার বার ছেড়ে দেওয়ার হুমকির পরও
বলতে পারিনি 
যাও!আই হেট হউ
যখন কখনও মুখামুখী বসি দুজনে
অনেক অপেক্ষার পড়ও বলতে পারি কই
ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি
শুধু দূরত্বই বাড়ে দুজনের
কুল কিনারা পাই খুঁজে যখন ইচ্ছে হই 
ইচ্ছেই তো হই!বলতে পারি কই
ছুঁয়ে দেখ একবার এই হাত, বুকের ভিতরে সুনামি
কী করে ডুবাতে চায় তোমার সকল অস্তিত্ব
বলতে পারি কই,আগুনের কাছে এসো না
জ্বলে উঠবে সৃষ্টি!এই সৃষ্টিছাড়া স্বপ্ন
একদিন মরণ ডেকে আনবে।
মুখামুখী হলে অন্য কিছু হয় না তা নয়
মাঝে মাঝে দীর্ঘ চুম্বন ,কখনও চুল বিলিকাটা
আবার কখনও সকল ভালোবাসা শিকেয় তুলে
তুমুল যুদ্ধে মাতি,শুধু দজনে
শাসন শোষণ  চলতে থাকে,চলতে থাকে অত্যাচার
একেকবার তুমি সহ্য করো তো একেকবার আমি
বিশ্বাস নিয়ে যখন কথা উঠে 
তুমি কেমন নিষ্ঠুর হয়ে উঠো
চোখের চাহনিতে ঘৃনা ঠিকরে বেড়ুই তখন
এড়িয়ে যেতে চাও,যাওও অনেক দূরে
অচেনা লাগে তখন চেনা জানা শরিরের গন্ধ তখন
অচেনা লাগে তোমার স্পর্শ কেমন যেন অবহেলিত চাহনি
আমি অপেক্ষা করি চুপচাপ
দিন যায় রাত যায় সে পরিচিত সুরের গান আর বাজে না
আমি তখন আর পতিব্রতা থাকি না
তৃষ্ণা তখন হিংস্র হয়ে যায়
সিঁদুরে প্রচন্ড এলার্জি 
শাখায় পলারে চর্ম রোগ ছড়ায়
আমি তখন বড়ো গলায় কথা বলি
বোরখায় আগুণ দিয়ে শীতের রাত্র কাটায়
শুধু প্রতিধ্বণি আসে কানে জীবন কোনও খেলা নয়
মানুষ কোনও সস্তা পশুর দেহ নয়
এর একটা মেরুদন্ড থাকে যেটাই কোনও ফারাক নেই 
তোমাতে আমাতে ! রক্তেও নেই
যখন মুখামুখী বসি কখনও সখনও
তোমার জিলের ধারে যাওয়া হয় না আর
তাই বিরক্তই হউ,আমি বুঝি
তবু ঐ শক্ত কাধে মাথা রেখে ধাতব মূর্তির মত পড়ে থাকি
বৃষ্টি নামলেও সরি না সরতেও দিই না তোমায়
তুমি তখন চেইনস্মুকিং করতে থাকো
আমার চুলে সিগারেটের স্মেল এরপর কয়েকদিন থাকে
আমি ইচ্ছে করেই শেম্পু করি না 
স্কুলে হাটে বাজারে সকলকে এড়িয়ে চলি সে কদিন
সে আমার একার অনুভবের বিষয়
তুমি বুঝবে কী করে যখন মুখামুখী হই
কেন কাঁদি?কেন অভিযোগ করি ?কেন চরিত্রের কথা তুলি
আমি সে কদিন কেনই বা পরিব্রতা থাকি না
অসভ্য বলি,বাদর বলি,খামচি ,চুলে টান
সবই করি ,যখন মরণের কথা বলো
যখন রাত গভীর হলে ঘুমের মাঝে তোমার কথায়
বিলিতি ইংলিশ মদের গন্ধ পাই আমি পতিব্রতা থাকি না
বদেরও বদ বলে তিরষ্কার করি!
লাথি মারলে যেদিন আমার বিশ্বাসে সেদিনও
নিয়েছিলাম বুকের ঐ গন্ধ মন ভরে
তুমি টের পাওনি! সেদিন তুমি অন্য জগতে
তবু অভিযোগ,অবহেলা, অবিশ্বাস মিলে
যে নুনা নদী বয়ছে তার দুই তীরে মাঝে মাঝে
দাঁড়ায় আজও দুজনে যদি মুখামুখী বসি !



পূজার দিনে


চন্ডীদের বাড়িতে আজ, মন খারাপের পালা,
জামা নেই,জুতো নেই,আমার যত জ্বালা!
খুকু খুকী গাল ফুলিয়ে,ধরেছে যে বায়না;
রাঙা মামার আনতে হবে, কালো কাচের আয়না।
ঘুম ভাঙে না সূর্য্যি মামার, ভোর করেছে রাগ,
বাছুর গেলো ধানি ক্ষেতে কৃষক চাচা বাগ।
শৈলতে পচা বন্ধ বেড়ুই,গতর খাটে রঙ্গা,
ঘাম শরীরে ঝাঁপ দিল তাই ত্রাহি ত্রাহি গঙ্গা!
কেন যে তার ঘুম আসে না, আমার মতই আজ?
তোমার সুখে ময়ূরপক্ষী, আমার মাথায় বাজ!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ