শাড়ি // পদ্মশ্রী মজুমদার


শাড়ি

পদ্মশ্রী মজুমদার

এদেশে তুলোর অভাব নেই।অভাব নেই টেক্সটাইল কেম্পানীরও।প্রতিটি মেশিন থেকে অকৃপন ধারায় বেরিয়ে আসে শাড়ি।ঢেকে দিতে চায় এ দেশের অনাবৃত মাটি।
 বৌটার দুইটা শাড়ি।একটা পরে।আরেকটা ধুয়ে দেয়।আবার সেটা পরে।অন্যটা ধুয়ে দেয়।এভাবেই চলছে।তার কোনো নালিশ নেই এই নিয়ে।এভাবেই চলবে।সে জানে।মানুষটা ইটভাটার শ্রমিক। সকালে যায়।রাতে মাতাল হয়ে আসে।বউয়ের শাড়ি আছে কি নেই সেটা তখন কোনো বিষয় নয়।একটাই সন্তান।ভাগ্যিস ছেলে।কাপড়ের তেমন প্রয়োজন নেই।
  শ্রাবন বড় নিষ্টুর মাস। শাড়ি শুকোয় না।দু'দিন একটানা বৃষ্টি। দুটো শাড়িই ভেজা।জ্বর গায়ে ভেজা শাড়ি পরা যায় না।তাই শায়া ব্লাউজ আর গামছা_এই সম্বল।শ্রাবনে সাপেদের মৃত্যু নেই।এ মাস সাপেদের মাস।পরিচিত লোক।ভাটারই শ্রমিক কেউটে হয়ে আসে ঘরে।বাধা দিতে গেলে বলে _"শাড়ি পরিসনি।সে কি আমার দোষ। "ছোবলে ছোবলে সারা শরীর বিষাক্ত করে ফিরে যায় কেউটে।রাতে ফিরে সব শুনে মানুষ-টাও বলে_"শাড়ি পরিস নি কেন?"
*   *   *    *    *     *     *
পরদিন সব খবরের কাগজ আর ম্যাগাজিনের ফ্যাশানের পাতা জুড়ে টিনা আম্বানীর মনিমুক্তো খচিত শাড়ির ছবি।দাম চল্লিশ লাখ।

১৭/১১/২০১৬

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ