মাসুদ পথিক এর কবিতা


সোনামুখি ধান @ মাসুদ পথিক

খবর এলো, সন্ধ্যার দিকেই। সোনামুখি মারা গেছে। সো, ঘুম এলো না সারারাত। বস্তির কুকুরগুলো তাড়া করলো। ঘুমকে রুটির মতো ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ছুঁড়ে দিলাম। আর নিরাপদে বাড়ি পৌঁছুলাম। 

বাড়িতে ঢুকেই শুনি নিরবতার ভেতর কিছু শব্দ, কোরান ও কান্নার।
উঠানে খাটিয়ায় সোনামুখির লাশ। পাশেই বসে আছে ছোট দুটি ভাই, আমন ও আউশ। তাদের চোখ ফুলে গেছে নির্ঘুম, কান্নায়। বাবা নেই বহুকাল। মা-ও অন্ধ, বোরো খাতুন।

আমি বাড়ি পৌঁছুতেই, গ্রামের ইরি সরদার হাক দিলেন, বড় পোলা আইসা গেছে, এখন লাশের কবরের ব্যবস্থা হোক।
সরদারের সঙ্গে কিছু চেলা মিনিক্যাট-ও হলো সরব।
সুখবর আছে, আজ আমাগর বংশদ্ভূত কমলা হ্যারিস আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট হইছে। বাজারে যাওনের তাড়া আছে।

সূর্য উদিত হচ্ছে,  ধীরে। উঠানে সোনামুখির লাশ। কাক এসে ঠুকরে খাচ্ছে, চোখ। ধানমাঠের বাবুই ও চড়ুই, অদূরে বসে দেখছে, মনখারাপ।

আমাদের প্রিয় ছোট নদী বিষখালি, আমার কাঁধে হাত রেখে বললো, সময় বদলাইছে চাষা।
সবাইকেই একদিন চলে যেতে হবে, যতোই থাকুক বাণিজ্য বাসনা।

তারপর, বহুবহু কাল ধরে পিঁপড়েরা আমারও শরীর ও জিনের দানা বয়ে নিয়ে, গর্তের ভেতর গড়ে চলেছে খাদ্য সম্ভার। ফিরে আসছে বর্ষা।
আমিও ফিরে এসেছি শাহবাগের বস্তিতে, চাকরি নিয়েছি রাইস কুকারের শো রুমে।


ধানফুল প্যারাডক্স 


তথাপি তথাপি ধানফুল আমি
তোমার দিকে যেতে যেতে যেতে বাতাসের নীলঠোঁটে 
ঝুলে থাকি

তুমি পালকগুলো চুলের খোপায় গুঁজে 
উড়ে যাও, পরাগায়নের কাম'নায়

আর মাঠে চাষারা কাম করে, খুব কাম করে
বাবুইপাখির হেজিমনি ছিঁড়ে ছিঁড়ে

আমি ফুল, ঝরে পড়ি, পড়ি
প্রেগন্যান্ট ধানের প্রসবকালীন ব্যথা মেখে
তুমি ধাই হয়ে এসো কালে কালে দাদনের ঝুড়ি কাঁধে

বিকজ, আমার গন্তব্যের পথে পথে ভিনদেশি আগাছায়
প্রেম ও মায়া'বী ফল, মরমী ভ্যালুজের আকার 

ফলে, আকারে বিকারে আমি, নাম মাত্র মূল্যে
আমি বিক্রি হই, হাতে হাতে অতএব__প্রেমও এক শস্যের বেসাতি 
যৌনতায় চাপখাওয়া প্যারাডক্স




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ