হারাধন বৈরাগীর একগুচ্ছ কবিতা

হারাধন বৈরাগী



পেশায় শিক্ষক। কবিতা গল্প ও গদ্যে সাবলীল বিচরণ।হাসমতি ত্রিপুরা, হৃদি চম্প্রেঙ খুমপুই পাড়ায়, ব্যতিক্রমী কাব্যগ্রন্থ।খুমপুই থেকে সিকামনুকতাই ত্রিপুরার জনজাতিজীবনের আদিহৃদিমালা একটি ব্যতিক্রমী গদ্যগ্রন্থ।সমকালীন ত্রিপুরার পনেরজন কবির কবিতা । নির্বাচিত ত্রিপুরার তরুণ কবিদের কবিতা(যৌথসংকলন)।অণুগল্প-৫৪জন গল্পকারের ২১৬টি অণুগল্প ।হৃদয় থেকে রাইমা  একটি প্রকাশিতব্য উপন্যাসপম জঙ্গলের কুহকময় হৃদিকথা। নিয়মিত লিখে চলেছেন এপার ওপার বেপারের সমসাময়িক বিবিধ পত্রসাহিত্য ও লিটলম‍্যাগাজিনে।অসম্ভব জঙ্গলআউলিয়া। ভালোবাসা-জঙ্গল - জনজাতিজীবন-জুমজীবন-জীবনের জুম।স্রোত প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত বইগুলো দিয়েই হারাধন বৈরাগীর পরিচয়ের গণ্ডি বাংলাসাহিত্যে ক্রমশ উন্মিলীত হয়ে চলেছে।পরিচয় ক্রমশ বাংলা সাহিত্যে উন্মোচিত হয়ে চলছে।


হারাধন বৈরাগী

জোসনা

পাহাড়ে হেমন্ত নেমে আসছে ক্রমশ
নদীর বুকে আর বর্ষার তছরুপ নেই
অন্ধকার নেই যেন তেমন কোথাও
চড়ায় মাথা তুলছে ধীরে--কাশফুল

তবু কেন টের পাই জোসনা যেন
ভাইরাল হয়ে তেড়ে আসছে
উজানের দিকে!


পাখি

পাহাড়ের কৌমার্য্যে ডুবে আছে চোখ
ঋতুমতী জুমখেত পাক খেয়ে
নদী বয়ে যায় উপত্যকায়
হাওয়ার পাখনায় ফসলের কাঁপন
হজাগিরী যেনো কোমর দোলায়।
স্বেদসিক্ত শরীর থেকে বুঝি 
উড়ে যায় ঝাঁক ঝাঁক বনমালী 
বুনোফুলে চোখ মেলে বনলতা
খুমপুই ফোটে স্মৃতির ধূসরে--

একটু বৃষ্টি যদি আসে এই বেহাগে।


ম্যাকমোহন লাইন

ম্যাকমোহন লাইনে পারদ ক্রমশ‌ই চড়ছে
চড়েই চলেছে
কখনও ধপ করে জ্বলেও ওঠছে

এদিকে কামেঙের নীল জলেও 
ভালবাসার অন্ধবেহাগ জলখেলি 
বিছুটিও লাগে সহসা বাতাসে

রাতের চোখের তারায় চকিতে 
চিলিক দিয়ে উঠে তুষার উল্ফ

ভালবাসা থেকে ঘনীভূত স্বদেশপ্রেম
ঘোরলাগা হিমাঙ্কের তরুণ তরুণী 
তাওয়াঙের মাটিতে ছড়ানো ছিটানো
রিঙ্কোস্টাইলাইস জাইগেন্টিয়া যেন!

যশোবন্তগড় অধূপকাষ্ট 
সেলাপাস নোরাফলস
প্রেমের অবোধ হোমাগ্নি 

পরিযায়ী এলে বুকের মাঝে বুদবুদ 

ম্যাকমোহন লাইন, প্রাচীর ও পাথর
মর্মে কত গাঁথা কত লেখা কত হোম 
অজানাই থেকে গেছে কে জানে!

তবু সীমানার পারদ আজও চড়ছে
চড়েই চলেছে।


অনলাইন

দু'জনেই অনলাইন পিঠোপিঠি লেগে
কে আছে কার লাইনে মন-মুকুর মেলে
কার বাস কার মাঝে কে খবর রাখে


হাথরস

চুম্বকের মেরু কখনও 
১৮০‌ডিগ্রি ঘুরে যেতে পারে
এ বিবেকানন্দ বিলক্ষণ জানতেন
আর জানতেন বলেই কি
হাথরসের যুবক ষ্টেশনমাস্টারকে
শিষ্য করার আগে নিধান দিয়েছিলেন 
প্রকাশ্যে ভিক্ষা করতে!

আর সদর্পে বলেছিলেন
হে বীর সাহস অবলম্বন কর 
বল চণ্ডাল ভারতবাসী ---আমার ভাই।

তিনি কি জানতেন হাথরসের শেকড়ে
সুপ্ত আছে অনারকিলার-ডিএন‌এ!


করোনাকাল

আগে স্কুল কামাইকরা ছিল ফাঁকি
এখন স্কুল কামাইকরা-  মনযোগী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ