আহমেদ জামািলের অণুগল্প





আহমেদ জামিল

লেখক  কবি ও
 গল্পকার  আমেরিকা  প্রবাসী
 জন্ম ঢাকা l




বাংলা নববর্ষ

আমার কথা হলো  বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে  পঁচা পানির  ভাত আর ভুনা  ইলিশ কে চালু করেছিল l সম্রাট আকবর তো নয় l এই রেসিপি কে দিলো কোন পাগল ?
 নাম জানতে চাই )
আমার এক  বন্ধু এই মহামারীতে পরশুদিন কুইনসে  নিজেদের বাসার মধ্যে একটা নবর্বষের পাটি করেছিলো l যদিও কোনোবন্ধু বান্ধব আসেনি কোরোনাকালের জন্য  l শুধু পাশের বাসার এক আমেরিকান গ্রীক  দম্পতিকে দাওয়ায় দিয়েছিলো l
তারা আসার পর তাদের নিয়ে আমার বন্ধু ও তার স্ত্রী বসে  ডাইনিং টেবিলে  বাংলা শুভ নববর্ষ করতে বসে l
পাশের বাড়ীর পড়শীর নাম কালাহান ও তার স্ত্রীর নাম 
জেনিফার l কালাহান ও জেনিফার কে টেবিলের সিরামিকের বড় পাত্র হতে চামচ দিয়ে তাদের দুজনের পেলেটে পানি সহ বাসিভাত ঢেলে দেয় l আরেক প্লেট হতে ভুনা  ইলিশ মাছ দুটুকরা করে দেয় দুজন গেস্ট কে
 l আরেকটা বাটিতে পোড়া  শুকনা মরিস কালাহান বাসিভাত খেতে শুরু করতে বলে উঠলো এটা কি ধরনের সুপ l আমার বন্ধু বললো সুপ নয় আমরা সুস্বাধু বাসি ভাত বাংলা নববর্ষে   খাওয়াদাওয়া করি l
কালাহান বললো এতো বিশ্রী গন্ধ খাওয়া হাইজেনিক নয় l আমি খেতে পারবোনা দুঃখিত ফ্রেন্ড l আমার মুখে দিয়ে ঢুকবেনা l কালাহানের স্ত্রী একই কথা বললো  আমার বন্ধুকে l ভুনা   ইলিশ প্লেটে দেওয়ার পর কালাহান তার স্ত্রী খুব মজা করে খেলো lখুব সুস্বাধু হয়েছে বললো দুজনে l কালাহান বললো পঁচা পানি দেওয়া পঁচা ভাত কেন বানিয়েছো দোস্ত ?
এটা কোন খাবার হলো ! আমার বন্ধু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো ও লজ্জায় পড়ে গেলো l তোমাদের নুতুন বাংলা  বছরে এই ধরনের পঁচা হাইজেনিক নয়  বিষাক্ত খাওয়া কারো পরিবেশন করা উচিত নয় l আমি বাংলাদেশী  রেস্টুরেন্টে বেশ কয়েকবার খেয়েছি বিরানী  পোলাউ খেয়েছি এই বাসি ভাতের আইটেম খুঁজে পাইনি l
 নুতুন বছরে তোমরা এই বাসি  ভাত খাওয়া বন্ধ করো অতি সত্বর lযদি এই পঁচা  পানি মেলানো বাসি ভাত খেয়ে একদিন পুরো বাঙালী জাতি হয়তো   অসুস্থ হয়ে যাবে আগামীতে l
মনে রেখো আমার কথা l



কল্পনা বিলাসী


আমি গত  বছর আগে গ্রীন ভিলেজে এক রেস্টুরেন্টে  খাচ্ছিলাম  পাশে আরেকজন আমেরিকান ব্যাবসায়ী বসে খাচ্ছিলো সেই ব্যবসায়ীর সাথে গল্প শুরু  হলো l আমি আমেরিকান  ব্যবসায়ীকে   জিজ্ঞেস করেছিলাম তোমার  জীবনে  কি চাও ?
আমাকে সে  বলেছিলো আমি এখন একটা দামী এলাকাতে থাকি আমার  বাড়ী আছে  একটা  স্পোর্টস মার্সিডিস ও  ইতালিয়ান আল্ফ়া রোমারিও স্পোর্টস কার আছে এতে সে সুখী নয় l আরো অনেক কিছু চায় আমি প্রশ্ন করে ছিলাম সেগুলো কি কি ?
তার প্রতি উত্তরে বলেছিলো এখন যে বাড়িতে বসবাস করে তাতে ছয়টি রুম আছে l সে   তিরিশ রুমের একটা বাড়ী (পনোরো  একর) জায়গাসহ বাড়ি কিনতে চায় বাগান সুইমিং পুল স্পেনিশ ঘোড়া সহ ওই বাড়িতে সব মেহগনি কাঠের  ফার্নিচার হতে হবে l বড়   জিমনিসিয়াম থাকতে হবে  সার্ভেন্ট কোয়ার্টার থাকতে হবে lআমার  ডাইনিং   রুমে কম করে ও হলে  পঞ্চাশ   জন মানুষ বসতে পারে পুরোনো দামি পেইন্টগুলি কিনে লাগাব ডাইনিং  রুমের দেওয়ালে l একটা ডান্স রুম বা পাটি হল থাকবে l একশত জনের জায়গা হতে হবে  সেই হল রুমে  l ছাদে হেলিকপ্টার  থাকবে যখন যখন  চড়ে যে কোনো শহরে যেতে পারি l আমার ছাদে নামতে পারবো l
বাড়িতে লিফ্ট ও এলিভেটর   থাকতে হবে একটা ছোট হলরুম থাকতে হবে, সেখানেই পাটি হবে ছুটির দিনে l ছোট  প্রাইভেট প্লেনের রানওয়ে থাকতে হবে বাড়ির পেছনে lআমি বললাম আমার খাওয়া শেষ l আমি যাবো আমার সময় হয়ে গেছে আমার যেতে হবে বন্ধু  আমি- বললাম  l আমেরিকান ভদ্রলোকটি বললো আমার স্বপ্নের পাঁচ  ভাগ বলেছি ..আরো 95%ভাগ রয়ে গেছে তুমি পুরোটা শুনে যাও lপরে শুনবো বলে আমি দ্রুত হেঁটে বাইরে বেরিয়ে এলাম l
আমেরিকান ভদ্রলোকটি চিৎকার করে আমার পেছন হতে ডেকে যাচ্ছে আমাকে আমার পুরো কথা শুনে যাও  !!.
(সত্যি কাহিনী )


চন্দ্রকান্তের  কিছু গল্প

   রোজ  কলমের পেঁচে ছুরির ধারের মতো লিখিতে পারিত চন্দ্রকান্ত l চন্দ্রকান্ত পুরো মফস্বল টাউনের  সাপ্তাহিক" নগরবার্তা"  কাগজে   মানুষের দুঃখ কষ্টগুলি লেখিয়া দিনের পর দিন বিখ্যাত হইয়া উঠিয়া ছিলো  l ইহাতে চন্দ্রকান্ত সবার কাছ হইতে বাহবা পাইতে ছিল l চন্দ্রকান্ত  হেমেন সেনের কালোবাজারি ব্যবসা নিয়ে বেশ কয়েকবার নগরবার্তায় লিখিয়া ছিল, তাহাকে অনেক বার হেমেন সেনের ম্যানেজার,বীরেন ব্যানাজী  সাবধান করিয়াছিল l যাতে ভবিষতে হেমেনবাবুর ব্যবসা নিয়ে নগরবার্তায় খবর কাগজে না লিখে l চন্দ্রকান্ত  মনে মনে একটু ভীতু হইয়া পড়িয়াছিল l কিন্তু অন্যদিকে চন্দ্রকান্তের  শত্রূ বাড়িতে ছিল , (মফরসল টাউনে ও গ্রামে হেমেন সেনের গুন্ডাবাহিনীর খবর সবাই জানিত )  কিছু খারাপ লোকের খারাপ কাজকর্ম  বিরুদ্ধে লিখিতো, তাহারা এক জোট হইয়া ষড়যন্ত্র করিতে লাগিলো l চন্দ্রকান্তের দুই মেয়ে   দশম ও নবম শ্রেণীতে  প্রীতি ও সুশীলা পড়িত l
 গ্রামের দুষ্টগ্রহ কালোবাজারি  হেমেন সেন  কি ভাবে প্রীতি কে আটকাইয়া  বা বন্দী করিয়া চন্দ্রকান্তের ধারালো লেখা চিরতরে বন্ধ করিয়া স্মশানে আগুনে পুড়াইয়া দেওয়া যায় ,তাহা নিয়া  চক্রান্ত করিতেছিল l  একশত  বছর শান্তিপুরে যে শান্তি বিরাজ করিতে ছিলো, সেই   শান্তিপুর কে অশান্তিপুর বানাইতে   দলবদ্ধ হইয়া হেমেন সেন  রাতদিন ভাবিয়া ও কুল কিনারা পাইতে ছিলোনা l  এক রাত্রিতে হেমন সেনের ছোট ভাই দুর্জয় সেন  মাঘ মাসের   নির্জন পূর্ণিমার রাতে চন্দ্রকান্তের কুটিরে আসিল  ,দুর্জয় সেন বড় ভাই হেমেন সেনের একদম উল্টো ছিলো l সে  রোজ সকালে উঠিয়া  রামায়ণ পাঠ করিত ,মফরসল টাউনের সবার বিপদআপদে টাকা পয়সা দিয়া সাহায্যে করিত l শান্তিপুরে মরফসল টাউনের জনক্ষণ  তাহাকে গরীবের বন্ধু বলিত l সে গত রাতে তার ভাই হেমেন সেনের চক্রান্তের কথা তাহার চাকরানী সরলার   মুখে শুনিয়া ভাবনায় পড়িয়া গেলো l চন্দ্রকান্ত সাদাসিধা মানুষ স্ত্রী সীতা দুই মেয়ে প্রীতি ও  সুশীলা নিয়ে সুখে দিনগুলি কাটাইতেছে l এই সরল মানুষটির উপর  অত্যাচার নামিয়া আসিবে বড় ভাই হেমেনদার গুন্ডা বাহিনীর হাতে ,তাহলেতো চন্দ্রকান্ত প্রীতি কে হারাইবার দুঃখে কষ্টে মরিয়া ভুত হইয়া যাইবে l তাহার পাশে না দাঁড়াইলে স্বয়ং ভগবান  রাগ হইবে, দূর্জয়ের উপর l শেষ পর্যন্ত খুলিয়া বলিল, বড়দার  চক্রান্তের সব কথা ,চন্দ্রকান্ত শুনিয়া ছোট শিশুর মতো কাঁদিতে লাগিল l দুর্জয়  সেন চন্দ্রকান্ত কে বলিল,   তোমার জন্য আমি একটা  চাকরী কলিকাতায় একটা নামকরা দৈনিক  খবরের কাগজে বলিয়া কহিয়া রাজী করিয়াছি 1 তুমি যদি রাজী থাকো আগামী সোমবার যাত্ৰা  করিবে  ,শামবাজরে একটা  ঘর ঠিক করিয়াছি আমি, তোমার    মাইনা প্রায় দ্বিগুণ ,এখন তোমার মতামত কি ?  আমার জন্মভূমি ছাড়িয়া যাইতে কষ্ট হইতেছে , আমার সংসার রক্ষা করা আমার দায়িত্ব, আপনি আমার জীবনে  স্বয়ং দেবতার   রূপে আবির্ভাব হইয়া  আমার ও আমার পরিবার কে শনির বলয় হইতে  বাঁচাতে আপনার মনে মহামানবের মতো করুণা হইয়াছে l আমি আপনাকে কি বলিয়া ধন্যবাদ দিবো, তাহা ভাষায়  প্রকাশ  করিতে পারিতেছিনা l  ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুক, ইহাই আমার শুভ কামনা বিধাতার কাছে l 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ