বাংলা নববর্ষ
আমার কথা হলো বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পঁচা পানির ভাত আর ভুনা ইলিশ কে চালু করেছিল l সম্রাট আকবর তো নয় l এই রেসিপি কে দিলো কোন পাগল ?
নাম জানতে চাই )
আমার এক বন্ধু এই মহামারীতে পরশুদিন কুইনসে নিজেদের বাসার মধ্যে একটা নবর্বষের পাটি করেছিলো l যদিও কোনোবন্ধু বান্ধব আসেনি কোরোনাকালের জন্য l শুধু পাশের বাসার এক আমেরিকান গ্রীক দম্পতিকে দাওয়ায় দিয়েছিলো l
তারা আসার পর তাদের নিয়ে আমার বন্ধু ও তার স্ত্রী বসে ডাইনিং টেবিলে বাংলা শুভ নববর্ষ করতে বসে l
পাশের বাড়ীর পড়শীর নাম কালাহান ও তার স্ত্রীর নাম
জেনিফার l কালাহান ও জেনিফার কে টেবিলের সিরামিকের বড় পাত্র হতে চামচ দিয়ে তাদের দুজনের পেলেটে পানি সহ বাসিভাত ঢেলে দেয় l আরেক প্লেট হতে ভুনা ইলিশ মাছ দুটুকরা করে দেয় দুজন গেস্ট কে
l আরেকটা বাটিতে পোড়া শুকনা মরিস কালাহান বাসিভাত খেতে শুরু করতে বলে উঠলো এটা কি ধরনের সুপ l আমার বন্ধু বললো সুপ নয় আমরা সুস্বাধু বাসি ভাত বাংলা নববর্ষে খাওয়াদাওয়া করি l
কালাহান বললো এতো বিশ্রী গন্ধ খাওয়া হাইজেনিক নয় l আমি খেতে পারবোনা দুঃখিত ফ্রেন্ড l আমার মুখে দিয়ে ঢুকবেনা l কালাহানের স্ত্রী একই কথা বললো আমার বন্ধুকে l ভুনা ইলিশ প্লেটে দেওয়ার পর কালাহান তার স্ত্রী খুব মজা করে খেলো lখুব সুস্বাধু হয়েছে বললো দুজনে l কালাহান বললো পঁচা পানি দেওয়া পঁচা ভাত কেন বানিয়েছো দোস্ত ?
এটা কোন খাবার হলো ! আমার বন্ধু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো ও লজ্জায় পড়ে গেলো l তোমাদের নুতুন বাংলা বছরে এই ধরনের পঁচা হাইজেনিক নয় বিষাক্ত খাওয়া কারো পরিবেশন করা উচিত নয় l আমি বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টে বেশ কয়েকবার খেয়েছি বিরানী পোলাউ খেয়েছি এই বাসি ভাতের আইটেম খুঁজে পাইনি l
নুতুন বছরে তোমরা এই বাসি ভাত খাওয়া বন্ধ করো অতি সত্বর lযদি এই পঁচা পানি মেলানো বাসি ভাত খেয়ে একদিন পুরো বাঙালী জাতি হয়তো অসুস্থ হয়ে যাবে আগামীতে l
মনে রেখো আমার কথা l
কল্পনা বিলাসী
আমি গত বছর আগে গ্রীন ভিলেজে এক রেস্টুরেন্টে খাচ্ছিলাম পাশে আরেকজন আমেরিকান ব্যাবসায়ী বসে খাচ্ছিলো সেই ব্যবসায়ীর সাথে গল্প শুরু হলো l আমি আমেরিকান ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তোমার জীবনে কি চাও ?
আমাকে সে বলেছিলো আমি এখন একটা দামী এলাকাতে থাকি আমার বাড়ী আছে একটা স্পোর্টস মার্সিডিস ও ইতালিয়ান আল্ফ়া রোমারিও স্পোর্টস কার আছে এতে সে সুখী নয় l আরো অনেক কিছু চায় আমি প্রশ্ন করে ছিলাম সেগুলো কি কি ?
তার প্রতি উত্তরে বলেছিলো এখন যে বাড়িতে বসবাস করে তাতে ছয়টি রুম আছে l সে তিরিশ রুমের একটা বাড়ী (পনোরো একর) জায়গাসহ বাড়ি কিনতে চায় বাগান সুইমিং পুল স্পেনিশ ঘোড়া সহ ওই বাড়িতে সব মেহগনি কাঠের ফার্নিচার হতে হবে l বড় জিমনিসিয়াম থাকতে হবে সার্ভেন্ট কোয়ার্টার থাকতে হবে lআমার ডাইনিং রুমে কম করে ও হলে পঞ্চাশ জন মানুষ বসতে পারে পুরোনো দামি পেইন্টগুলি কিনে লাগাব ডাইনিং রুমের দেওয়ালে l একটা ডান্স রুম বা পাটি হল থাকবে l একশত জনের জায়গা হতে হবে সেই হল রুমে l ছাদে হেলিকপ্টার থাকবে যখন যখন চড়ে যে কোনো শহরে যেতে পারি l আমার ছাদে নামতে পারবো l
বাড়িতে লিফ্ট ও এলিভেটর থাকতে হবে একটা ছোট হলরুম থাকতে হবে, সেখানেই পাটি হবে ছুটির দিনে l ছোট প্রাইভেট প্লেনের রানওয়ে থাকতে হবে বাড়ির পেছনে lআমি বললাম আমার খাওয়া শেষ l আমি যাবো আমার সময় হয়ে গেছে আমার যেতে হবে বন্ধু আমি- বললাম l আমেরিকান ভদ্রলোকটি বললো আমার স্বপ্নের পাঁচ ভাগ বলেছি ..আরো 95%ভাগ রয়ে গেছে তুমি পুরোটা শুনে যাও lপরে শুনবো বলে আমি দ্রুত হেঁটে বাইরে বেরিয়ে এলাম l
আমেরিকান ভদ্রলোকটি চিৎকার করে আমার পেছন হতে ডেকে যাচ্ছে আমাকে আমার পুরো কথা শুনে যাও !!.
(সত্যি কাহিনী )
চন্দ্রকান্তের কিছু গল্প
রোজ কলমের পেঁচে ছুরির ধারের মতো লিখিতে পারিত চন্দ্রকান্ত l চন্দ্রকান্ত পুরো মফস্বল টাউনের সাপ্তাহিক" নগরবার্তা" কাগজে মানুষের দুঃখ কষ্টগুলি লেখিয়া দিনের পর দিন বিখ্যাত হইয়া উঠিয়া ছিলো l ইহাতে চন্দ্রকান্ত সবার কাছ হইতে বাহবা পাইতে ছিল l চন্দ্রকান্ত হেমেন সেনের কালোবাজারি ব্যবসা নিয়ে বেশ কয়েকবার নগরবার্তায় লিখিয়া ছিল, তাহাকে অনেক বার হেমেন সেনের ম্যানেজার,বীরেন ব্যানাজী সাবধান করিয়াছিল l যাতে ভবিষতে হেমেনবাবুর ব্যবসা নিয়ে নগরবার্তায় খবর কাগজে না লিখে l চন্দ্রকান্ত মনে মনে একটু ভীতু হইয়া পড়িয়াছিল l কিন্তু অন্যদিকে চন্দ্রকান্তের শত্রূ বাড়িতে ছিল , (মফরসল টাউনে ও গ্রামে হেমেন সেনের গুন্ডাবাহিনীর খবর সবাই জানিত ) কিছু খারাপ লোকের খারাপ কাজকর্ম বিরুদ্ধে লিখিতো, তাহারা এক জোট হইয়া ষড়যন্ত্র করিতে লাগিলো l চন্দ্রকান্তের দুই মেয়ে দশম ও নবম শ্রেণীতে প্রীতি ও সুশীলা পড়িত l
গ্রামের দুষ্টগ্রহ কালোবাজারি হেমেন সেন কি ভাবে প্রীতি কে আটকাইয়া বা বন্দী করিয়া চন্দ্রকান্তের ধারালো লেখা চিরতরে বন্ধ করিয়া স্মশানে আগুনে পুড়াইয়া দেওয়া যায় ,তাহা নিয়া চক্রান্ত করিতেছিল l একশত বছর শান্তিপুরে যে শান্তি বিরাজ করিতে ছিলো, সেই শান্তিপুর কে অশান্তিপুর বানাইতে দলবদ্ধ হইয়া হেমেন সেন রাতদিন ভাবিয়া ও কুল কিনারা পাইতে ছিলোনা l এক রাত্রিতে হেমন সেনের ছোট ভাই দুর্জয় সেন মাঘ মাসের নির্জন পূর্ণিমার রাতে চন্দ্রকান্তের কুটিরে আসিল ,দুর্জয় সেন বড় ভাই হেমেন সেনের একদম উল্টো ছিলো l সে রোজ সকালে উঠিয়া রামায়ণ পাঠ করিত ,মফরসল টাউনের সবার বিপদআপদে টাকা পয়সা দিয়া সাহায্যে করিত l শান্তিপুরে মরফসল টাউনের জনক্ষণ তাহাকে গরীবের বন্ধু বলিত l সে গত রাতে তার ভাই হেমেন সেনের চক্রান্তের কথা তাহার চাকরানী সরলার মুখে শুনিয়া ভাবনায় পড়িয়া গেলো l চন্দ্রকান্ত সাদাসিধা মানুষ স্ত্রী সীতা দুই মেয়ে প্রীতি ও সুশীলা নিয়ে সুখে দিনগুলি কাটাইতেছে l এই সরল মানুষটির উপর অত্যাচার নামিয়া আসিবে বড় ভাই হেমেনদার গুন্ডা বাহিনীর হাতে ,তাহলেতো চন্দ্রকান্ত প্রীতি কে হারাইবার দুঃখে কষ্টে মরিয়া ভুত হইয়া যাইবে l তাহার পাশে না দাঁড়াইলে স্বয়ং ভগবান রাগ হইবে, দূর্জয়ের উপর l শেষ পর্যন্ত খুলিয়া বলিল, বড়দার চক্রান্তের সব কথা ,চন্দ্রকান্ত শুনিয়া ছোট শিশুর মতো কাঁদিতে লাগিল l দুর্জয় সেন চন্দ্রকান্ত কে বলিল, তোমার জন্য আমি একটা চাকরী কলিকাতায় একটা নামকরা দৈনিক খবরের কাগজে বলিয়া কহিয়া রাজী করিয়াছি 1 তুমি যদি রাজী থাকো আগামী সোমবার যাত্ৰা করিবে ,শামবাজরে একটা ঘর ঠিক করিয়াছি আমি, তোমার মাইনা প্রায় দ্বিগুণ ,এখন তোমার মতামত কি ? আমার জন্মভূমি ছাড়িয়া যাইতে কষ্ট হইতেছে , আমার সংসার রক্ষা করা আমার দায়িত্ব, আপনি আমার জীবনে স্বয়ং দেবতার রূপে আবির্ভাব হইয়া আমার ও আমার পরিবার কে শনির বলয় হইতে বাঁচাতে আপনার মনে মহামানবের মতো করুণা হইয়াছে l আমি আপনাকে কি বলিয়া ধন্যবাদ দিবো, তাহা ভাষায় প্রকাশ করিতে পারিতেছিনা l ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুক, ইহাই আমার শুভ কামনা বিধাতার কাছে l

0 মন্তব্যসমূহ