গৌতম চট্টোপাধ্যায়: বোহেমিয়ান
_____________
গৌতম চট্টোপাধ্যায়
__________________
তোমার সেই শহরে...
আমলকী'টির ডালে...
ফুরফুরে বেশ হাওয়া...
পড়ছে সন্ধ্যে ঝরে,
আর আমার বাঁচতে চাওয়া...,,
তুমি টের নাইবা পেলে
সেই মূর্ছনা - গীত...
আমার শহরে কালক্রমে
এখন ভীষণ শীত!!!
প্রশ্ন ভারী কামুক,
বিস্ময় রাত জাগুক,
বিরাম যতি নাই...
শব্দ হ'য়ে থৈ-জলেতে
ভাসতে আমি চাই!!!
আমার জীবন তোমার
প্রেমে ছন্নছাড়া...
যাযাবরের মরীচিকা
শান্ত, সর্বহারা!!!
তবুও আমি জানি,
না মানো, আমি মানি,
আকাশের ওই উল্টোদিকে
চলাই আমার রীত....
ক্রমে- ঠেলা জীবনেতে
এখন ভীষণ শীত!!!
স্বপ্ন, গভীর আকাশ..
মুঠোয় আমি জেদী,
এই একটু জীবন বাকি..
মেলবো তবু ডানা..
চীৎকার'টা ঠোঁটের ফাঁকে
হবে গগনভেদী...!!!
তোমার রংবাহারী প্রেমে
উন্মত্ত আছি,
ক'টা'ই বা দিন বাকী?!!
আগেও ছিলাম, এখনো
এক বোহেমিয়ান পাখি!!!
গৌতম চট্টোপাধ্যায়: শুধু তুই..…
_________
গৌতম চট্টোপাধ্যায়
_________________
চল্ চলে যাই হাতটা ধরে ওই মাঠেতে...
ভালো আমি বাসিই তোকে জানিস বটে,
তবে কীসের দূর্ভাবনা! এই নিরাশা!
ঠোঁট ফোলানো গলির ফাঁকে ওই কোণা'তে....!!!
ফুলগুলো সব ছড়িয়ে দেব তোর আঁচলে. …
মালা'টা তুই বানিয়ে নিবি ভোর বেলাতে
আসছি আমি তোর জন্য সূর্য নিয়ে
চুল সরিয়ে বসিয়ে দেব ওই কপালে...!!!
তুই ছাড়া কী প্রেম হয়'রে বল্ কবিতায়...
সময়, জীবন, বুঝি না তো, জটিলতা,
তোর আঁচলে মাথা রেখে সারা জীবন...
নিকোটিনের গন্ধ দেব চোখের পাতায়..!!!
চল্ চলে যাই মাঠ পেরিয়ে ও-ই ওদিকে...
ভালোবাসা তোর শরীরের আঁকেবাঁকে,
মাতাল হ'য়ে সেই নেশাতে ধর্ না আঙুল
ভুল যদি হয় গুনবো না তো ভুলের মাশুল...!!!
চল্ নিয়ে নিই গীতা আমি, তুই নে কোরান
করবো আমি পূজা, তুই দে না আজান.....
গৌতম চট্টোপাধ্যায়: আমি ও একটি ডাকবাক্স
______________________
গৌতম চট্টোপাধ্যায়
___________________
খানাখন্দে ভরা রাস্তার মোড়ে
একটা রং ওঠা ডাকবাক্স,
মুখে তালা এঁটে
ঠায় দাঁড়িয়ে আছে
চৈত্রের ঝরে যাওয়া চোখ মেলে.....!
মনে হলো আরে এ তো "আমিই"!
অস্তমিত সূর্যের রঙে মিশে যেতে যেতে
অবলীলায় নেমে আসা নিরালম্ব অন্ধকারে
গোপনে এক চিঠি হাতড়ায় ....
পাঁজরে পাঁজরে লেগে থাকা
ভালোবাসা খোঁজে....
রাতভর তাকে বুকে আঁকড়ে থাকার
ভ্রমিত স্বপ্নে পার হয় এক দিশাহীন রাত....!
কত কথা.. কত শব্দ.. কত সম্পর্ক..
কত মাধুর্য... কত টানাপোড়েন ছিল ..!
নিরানন্দেও একটা আনন্দ ছিল..!
আজকে কী তবে সব অশীতিপর, অনাদৃত, উপেক্ষিত বৃদ্ধের চোখের মতো
শুধু ঘোলাটে -সংঘর্ষ!!??
গৌতম চট্টোপাধ্যায়: সময়,ভালোবাসায় নেই নীলাঞ্জনা...
==============
গৌতম চট্টোপাধ্যায়
_________________
সময়, আর ভালোবাসায় নেই নীলাঞ্জনা..
জানো, ঘৃণা কত স্বাভাবিক হয়ে গেছে এখানে..!!! চারপাশে ছায়ারা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর..
তুমি এ ছায়ায় কায়া মেলাবে কী করে!!!
পারবেনা নীলাঞ্জনা!!
তোমার তো মৃত্যু সেই কবেই হয়ে গেছে!!!
ভালো আছো, ওখানেই থাকো।
আপাদমস্তক ভদ্রলোকের গিলে করা
পাঞ্জাবির নিচে ফেঁসে যাওয়া গাঁট দেখে
কী করবে তুমি!!!
সহ্য করতে পারবে না নীলাঞ্জনা!
জানো! আজ সকালে অভিধানে অনেক শব্দ খুঁজে পাইনি..., "অভিমান", "আবেগ","
" মন কেমন করা", "লজ্জা করে" আরো কত শব্দ! তোমার উঠোনের পেছনের দরজায়
তুমি যেসব শব্দ লিখতে কোনো কালে
কবেই যে ডুব মেরেছে
তোমার পুকুরে স্নান করার মত!
টের পাই নি জানো!
তোমার চোখে চোখ পড়তেই
আমার হন্ হন্ চলা মনে আছে!
আমি দেখছি নীলাঞ্জনা..
অনেক শব্দ হন্ হন্ হাঁটার বদলে প্রাণপণ ছুটছে..
উঠে এসো নীলাঞ্জনা, এক ছুট্ লাগাই...
ক্রমে অপসৃয়মান শব্দের পেছনে...!!!
==========------------
গৌতম চট্টোপাধ্যায়: পাগলামি
________________
গৌতম চট্টোপাধ্যায়
===============
কিছু লেখো নাজনীন...
একটা কবিতাই লেখো!
ক্ষতি কি? আকাশ, মেঘ, প্রেম নাই বা থাকল!
বিরহ -বিষাদে আজ কেউ কাঁদে না.., জানো!
ক্ষোভে -বিক্ষোভে, ঘৃণায় তো দেশ ভরে গেছে!
চলো না, কিছু পাগলামি করি, কবিতা লিখি..
সাহিত্যে থাকতে মানা নেই প্রিয়,
আজ কিছু পাগলের বড় প্রয়োজন...
জ্বরে গা পুড়লেই ক্ষতি কী?
এ ঘৃণার জ্বর বহুদিনে সারবে নাজনীন!
এসো, মোড়ের ওই চা - দোকানে
শেষ সম্বল পাঁচ টাকা দিয়ে
এক পেয়ালা চা'য়ে দুজনেই চুমুক লাগাই!
এসো না নাজনীন,
পয়সা নাই বা থাকলো পকেটে!
পেয়ালা' টা যত্নে রেখো ….
দেখবে এসো পাগলামি আর কবিতা!!!
গৌতম চট্টোপাধ্যায়: "অনন্যা"
~~~~~~~
গৌতম চট্টোপাধ্যায়
~~~~~~~~~~
সকালের চা-কাগজ বা সন্ধ্যের সংবাদ-দূরদর্শন
সামনের আকাশ আর দূরের বাতাস..
পাহাড় -টিলায় ছোট বড় গর্ত বা আমার বুকের ভেতর
ছেঁড়াফুল;টুকরো কাগজ বা পোখরাণ-ঘাস...!
তোমার না-আসা পত্র বা আমার ঊষ্ণ-নিঃশ্বাস
তোমার শরীরী-গন্ধ বা রঙিন পানীয়ের উচ্ছাস...
তোমার আকাশে বৃষ্টি বা আমার আর্দ্র -চোখ
তোমার ঐচ্ছিক ভাবনা বা আমার দীর্ঘশ্বাস...!
আমার অলস চিন্তা বা ব্যস্ততায় তুমি ব্যস্ত
ভাষাহীন -ভাষা চোখ বা তোমার শৈল্পিক দৃষ্টি
রিরংসু করে না মন তোমার বা বিস্রস্ত...
আমার উন্মুক্ত ইচ্ছে করা উদ্দাম অনাসৃষ্টি...!
তোমার বাঁধভাঙা প্লাবন প্লাবিত করে না কোনো হৃদয়
বা তোমার স্বাদ স্বাদিষ্ঠ নয় কেমনে বলি..!
সবুজ ঘাসের ওপর পড়ে থাকা নুন মাখা আধা- লঙ্কা; বুকখোলা বাদাম বা তোমার কথার ফুল;তুমি কথাকলি..!
তুমি যে অপরূপা মনে..উড়ে যাওয়া দূর দিগন্তে এক ফিনিক্স নশ্বর...
তুমি যে ইমনকল্যাণ আমার অরণ্য- রোদনে.. কল্যাণসুন্দর..আমার ইশ্বর !!!
গৌতম চট্টোপাধ্যায়: "বিষণ্ণ ওয়ার্ড"
____________
গৌতম চট্টোপাধ্যায়
__________________
বিষণ্ণ এক হাসপাতালে
মরচে খাটে বুড়ো,
পাশে গিয়ে শুধোই আমি
' নাম কি তোমার খুড়ো'?
বললো কেশে একটু হেসে
'জয় শ্রীরাম বাউরী',
'নামটা তোমার সময় গুণে
আচ্ছা খাসা মাইরি'!
'তো দেখছি একাই ক'দিন থেকে
বসে বসে কাশছেন!
মায়ের আমার শরীর খারাপ
ওই ওয়ার্ডে আছেন।
তা হয়েছে কি আপনার
একটু খুলে বলুন?
হাঁপিয়ে গেছেন বলে কথা
ধরছি শুয়ে পড়ুন '....
' বৌ'টা মোলো ছেলেগুলো
গেল নিজের মত,
আমার কথা নাইবা বলি
একটু ব্যক্তিগত!
ব্যাংকে আছে, ব্লকে আছে,
একটা আছে রেলে,
তিনখানা বউ, তিনটে নাতি,
তিনটে আমার ছেলে '!
'তা'লে তো নেই চিন্তা
তো এখানে কি করছেন'?
' নামটা কি গো ছেলে তোমার?
বলি 'আকাশ সেন'।
'খেতিবাড়ি করে করে
মানুষ করা ছেলে,
তিনটে বৌ তিন দিকে তে
দিতো আমায় ঠেলে!
ইক্ষু তুমি দেখেছো কী?
ইক্ষু পেষা কলে,
বুঝবে ওরাও আমার মত
পাক্কা আমি মলে'!
কেশে কেশে রক্তমুখে
বললো বুড়ো শেষে,
'বাকি জীবন এখানেতেই
কাটবো অবশেষে'!
একটা আপেল এগিয়ে দিয়ে
বলি 'এটা খান,
কথা বলি একটা আমি
যদি শুনতে চান!
বিকেলেতে যাব বাড়ী
যদিবা মা যান,
চলুন দেখি আমার সাথে
আপনি যদি চান '!
বললো 'না থাক্' উড়িয়ে দিয়ে
মুখে বসা মাছি,
'চায় না যেতে মনটা কোথাও
এখানে বেশ আছি '!
ভাঙছে বেড়া সম্পর্কের
কেমন তালে তালে...
শ্মশানেতে কেউ বসে নেই
একাই চিতা জ্বলে!!!
গৌতম চট্টোপাধ্যায়: বেড়া ভাঙো... সময়ের তালে (১)
_____________________________
গৌতম চট্টোপাধ্যায়
________________
প্ল্যাটফর্মের ওই কোণা তে
একটা মেয়ে বসে,
এদিক ওদিক খুঁজছে কিছু
চোখের কোণায় চষে....,
বড্ড করুন মুখটা যে তার
ডাগর দুটো চোখ,
কাঁধে চাপা ছোট্ট ঝোলায়
জীবন ভরের শোক..
এরই ফাঁকে ট্রেন আসে যায়
কালো কোটের টিটি,
হাই আর হ্যালো যায় আসে যায়
খিলখিলিয়ে নটি...( naughty)
ঝুপ করে ঠিক নামল আঁধার
দুঃখ নামা সুখে,
ওই মেয়েটা একাই বসে
নাই ঠিকানা মুখে...
একটা মুড়ির ঠোঙা আমি
বাড়িয়ে দিয়ে ওকে,
আস্তে করে বললাম, "এই
দেখছি না তোর মা'কে"!
কি বুঝলো সে'ইবা জানে
মন দিয়ে খায় মুড়ি,
ফ্রকটাও বেশ ভালোই ছেঁড়া
হাতেতে নেই চুড়ি..
এরই মাঝে এসে গেল
বাড়ি যাবার ট্রেন,
ওকে আমি দিলেম আমার
কার্ডের "আকাশ সেন"..
পরের দিনই সাত সকালে
বলল পুলিশ," চেনেন?
ওর কাছেতে পাওয়া গেছে
কার্ডের আকাশ সেন"...!
আমি বললাম," হ্যাঁ বলুন
কি করতে পারি"?
নাম বলল হাসপাতালের
আসুন তাড়াতাড়ি..!
রক্ত মাখা নগ্ন শরীর
এক চাদরে ঢাকা….
চোখে, মুখে, বুকের ভাঁজে
নির্যাতনের রেখা...
এই মেয়ে তুই আয় না উঠে
চল নিয়ে যাই বাড়ি..
পারলাম না কাল বলতে তোকে
সময় মহামারী..!
শেষবারের এই দেখা টুকুই
শুনবি না আর? "আসি"...
একটা রাতেই এই তাজা ফুল
করলো কে'রে বাসী"!!?
হবো কবে অন্ধ আমি
অন্ধ হবে পুরুষ...!?
মানুষ খুঁজে খুব পাওয়া ভার
মান আছে না হুঁশ...!!!
হোক্ না তবে ছারখার সব
পারবি যত জ্বাল…..
মোমবাতি আর ফুল চাই না,
হাজারখানেক মশাল....
গৌতম চট্টোপাধ্যায়: বেড়া ভাঙো... সময়ের তালে (২)
=======__====---=======
গৌতম চট্টোপাধ্যায়
_________________
খুঁজছি তোমায় এখানে সেখানে
পার্কে আর ফুলবাগানে...,
এখান থেকে এই একটু আগে
চুড়ি দুলের সেই দোকানে!
রিনিঝিনি হাসি..ভাষা হীন চোখ
মুখ দেখা সেই আয়না...,
কোথাও তো নেই... আছো কোথায়
শুনি নিয়ে গেছে হায়েনা!
আকাশ মুখ, জবাফুল চোখ
রক্ত ছেঁড়া আঁচলে...,
রাতের রজনীগন্ধা তো ছিলে
ভোরেতেই কেন ঝরে গেলে!
খুঁজবো আমি কোথায় তোমায়
বাগানে না কোনো স্বর্গে...,
শুকনো গাঁদার মালা হাতে আমি
দাঁড়ায়ে দুয়ারে মর্গে!
মারবোই আমি মারবো ওদের
ঠিক জেনো তুমি ঠিক...,
নপুংসক যদি না করি ওদের
তো জীবন আমার ধিক্!
গৌতম চট্টোপাধ্যায়: বেড়া ভাঙো.. সময়ের তালে..(৩)
___________________________
গৌতম চট্টোপাধ্যায়
_________________
কুকুরের মতো জীবন আমার
যদি বা কখনো হতো,
উদাসীন চোখে জেগে শুয়ে থাকা
লেজ কুঁইকুঁই ভৃত্য!
রুটি ছুঁড়ে দিতে কখনো বা তুমি
মাটিতে ঢালতে মাড়,
চেটে চেটে খেয়ে ঘোঁৎঘোঁৎ করা
জীবনে সত্য সার!
এদিক ওদিক দিগ্বিদিকে
দৌড়তাম দিশাহীন,
পাতা চাটা এক অনাহুত আমি
সংঘর্ষ ডাষ্টবিন!
ভাঙো ডাষ্টবিন, ডাষ্টবিন ভাঙো
ছুটে যাব সেই ঘরে,
খেয়ে যাব সব যেখানে টেবিলে
খাবার থরে থরে!
সামনে রাস্তা ওপারেই যাব
দেখবো না বাঁয়ে দাঁয়ে,
লরীর নীচে চাপা পড়া ভালো
ঝরুক রক্ত চুঁয়ে!
গৌতম চট্টোপাধ্যায়: বেড়া ভাঙো.. সময়ের তালে.. (৪)
__________=_____________
গৌতম চট্টোপাধ্যায়
__________________
জবাব দেবে জবাবদিহি
কে সত্য কে মিথ্যে...
জবাব দেবে এ দেশ আমার
কে মুখোশে, কে নেপথ্যে. …..!
দূর্গন্ধ আর জমাট রক্তে
উড়ছে উড়ুক মাছি. …
" ওরা" এলে ঝট্ বলে দিও
এই বেশ ভালো আছি...!
ঝরছে রক্ত ফাটছে বোমা...
কেউ অজ্ঞান কেউ বা কোমা.…
উড়ছে চাল আর চুলো….,
যত পারো এই হাওয়াতে
মেশাও বিষের ধূলো....!
ভাঙবোই বেড়া সময় করে
করবো না তো ক্ষমা...
শক্ত মুঠির বিক্ষোভটা
এই পাঁজরে জমা.....!
মানখুর্দ থেকে খোলা চিঠি
গৌতম চট্টোপাধ্যায়
~~~~~
আমার অনেক ভালোবাসার মা, বাবা ও ভাইকে,
~~~~~~~~~~~~
মা, ভালোবাসা তোমার আঁচল থেকে হারালো কখন জানিনা তবু কিছু প্রশ্ন তো থেকেই যায়..
মা, তুমিও তো নারী
আমি তো তোমারই মেয়ে
মা,যার সাথে আমৃত্যু সঙ্গমে তোমার নিরুত্তাপ সায়
সে তো আমার নয়..
মা, আমায় শুধু দু'মুঠো খেতে দিও
একটু বড় হ'তে দাও
একটু পড়ে নিই
মা, মানখুর্দ থেকে আমি তোমাকে
মুম্বাই নিয়ে যাব বলিনি বলো..
কুচিকুচি কোরে উড়িয়ে দেওয়া ফুল পাপড়িতে
কত ছোপ ছোপ রক্ত দেখেছো..
লাল হ'য়ে যাওয়া টিস্যু পেপারে ভর্তি ডাষ্টবিন দেখেছো...
যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাওয়া রাত-যোনিতে
উদোম করা ন্যাংটো নাচ দেখেছো..
কিম্বা গোলাপ রাঙা স্তনবৃন্তে অসময় রক্ত..
দোমড়ানো মোচড়ানো প্রশ্নচিহ্ন আর
রক্ত-বিন্দুর বিস্ময়কর চিহ্ন
থমকে দাঁড়ায় না "মা" পূর্ণচ্ছেদে..
ম্যানফোর্স গেলা ষাটোর্ধের শিরাওঠা পুরুষাঙ্গ
ক্রমিক রক্ত বিন্দুর সারি দেখেছো..
মা, তুমি নিরুত্তর কেন..
মা,এদেশে গরীবের বরাদ্দ ঘর,খাবার,পড়া
একী শোনা কোন আষাঢ়ে গল্প...
তুমি ভাইকে আমায় নিয়ে যেতে কেন পাঠালে
আমি তো রঙ মেখে উদোম হয়ে এখনো
জাঙঘ মোটা লোকেদের সাথে শুতে শিখিনি
এই ঘিঞ্জি গলির ফ্যাকাশে হওয়া যোনিদের মতো...
শরমে মরমে সন্ধ্যা মুখ নিয়ে বসে থাকা....
ভাইয়ের কামুক চোখ
আমাকে চাটলো কেন মা...
মা, আমি পাগল হইনি এখনো
আমি আর মরবো না "মা"..
আমার নরম কচি হাতে
দেখো কেমন দড়ি পাকাচ্ছি...
তোমরা তৈরী হও "মা"
বাবা আর ভাইকেও আসতে বোলো
ফাঁসিকাঠের পাটাতন আমি নিজেই সরাবো বলে
আর কখ্খনো মুখ লুকোবো না তোমার আঁচলে....
ভারতের আদালতে প্রাণভরে হাসবো
তোমরা কেউ দেখতে পাবে না "মা"...
~~~~~~~
গৌতম চট্টোপাধ্যায়: একটি মাছরাঙা' র গদ্য
----------------------
জলের ধারে মাছরাঙা'টি ঠায় দাঁড়িয়ে..
নোংরা -সবুজ জলাজমি করছে বমি..,
দমবন্ধ- বিষন্নতায় আকাশ দেখে..,
কে যে কখন জল দেবে, চোখ-মুখ ধোয়াবে!
মাছরাঙা'টির কষ্ট খানিক অবাক করা..,
বাঁচার তাগিদ সংঘর্ষ একপায়ে ঠায়...,
জনাকয়েক সে পুকুরের পাঁক তুলে যায়..
মাছরাঙা'টির দিন যে কাটে অনুশোচনায়!
কে করে যে হিসেবে নিকেশ কার বয়ে যায়..,
অনুশোচনা, আফসোসে কার কী আসে যায়!
মাছরাঙা'টির ইচ্ছেগুলো তবুও জমাট...,
তপ্ত রোদে জল শুকিয়ে খটখটে মাঠ..,
ইচ্ছেগুলো ঝরা পালক আপনি খসে...,
শুকিয়ে যাওয়া ওই পুকুরে ঠোকর মারে!
স্বপ্নগুলো আজ কেন সব বিকলাঙ্গ..,
আকাঙ্খা'রও হাতছানি'টা রামধনু যে..,
বিরামহীন - দুর্দিন'টাও ঠিক পিছু ধায়..,
অনুতাপ বা আফসোসে কার কী আসে যায়!
উড়লো খানিক মাছরাঙা'টি মাঝ- বিকেলে..,
দমকা হাওয়ায় পড়লো হঠাৎ মুখ থুবড়ে,
চোখের কোণে অনুশোচনা'র দু' ফোঁটা জল..,
পড়লো ঝরে জলাভূমি'র পাশের ঢালে!
কে করে তার হিসেব- নিকেশ, কার কী যে দায়..,
আফসোস বা অনুতাপে! কার কী আসে যায়!!!
জন্ম ৭ ই অগাস্ট। ইংরেজি ও রাজনীতি শাস্ত্রে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম. এ। সাহিত্য সেবা সেই উচ্চমাধ্যমিক স্কুল ম্যাগাজিনে লেখা থেকে শুরু। একসময় " মৌরীফুল " নামক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তিনশোর ওপর পত্র পত্রিকায় লিখেছেন। " আমি শুধু ভালোবাসা নই " "সোনালিকা ও সোনালিকা" নামক দুটি কাব্য সংকলন কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত। " সময়, ভালোবাসায় নেই নীলাঞ্জনা" কবিতা সংকলন প্রকাশের পথে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ কবিতায় দু'বার ওনার কবিতা বহু বিখ্যাত কবি ও লেখকদের মধ্যে ঠাঁই করে নিয়েছে।
1 মন্তব্যসমূহ
অনেক ভালোবাসা শ্রদ্ধা জড়িয়ে দাদা
উত্তরমুছুন