এ কে এম আব্দুল্লাহ এর একগুচ্ছ কবিতা


এ কে এম আব্দুল্লাহ, জন্ম : ২৬ মার্চ, সিলেট। বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী। প্রকাশিত গ্রন্থ---
কবিতা : সচেতনা, মাটির মাচায় দÐিত প্রজাপতি, যে শহরে হারিয়ে ফেলেছি করোটি, ইমেইল বডিতে সময়ের অনুবাদ। গল্প : টি-ব্রেকের গল্প। উপন্যাস : ক্ষুধা ও সৌন্দর্য। সম্পাদনা : অণুগল্প সংকলন ‘শব্দবিন্দু’। সম্পাদক : ড্যাশ— ওয়েবম্যাগ। পুরস্কার : কবিতায় গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ড, ড. শ্যাম সুন্দর মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, ভারত। বোলপুর, শান্তিনিকেতন সৎসঙ্গ পাঠাগার কর্তৃক কবিতায় সম্মাননা ও অ্যাওয়ার্ড।

এ কে এম আব্দুল্লাহর একগুচ্ছ কবিতা

১।
আমাদের নিজস্ব চাঁদ

জোছনায় ভিজে যবযবা রাতের ছাদে, তোমার খোঁপায় গুঁজে দেবো নিশিগন্ধা। আর অবাক চোখে নির্বাক চেয়ে দেখবে আমাদের নিজস্ব চাঁদ। আমরা ভুলে যাবো এই আগুনের শহর। 
আমরা জন্ম দেবো একটি বিশুদ্ধ মাঠ। আর আমাদের আকাশে তারার মতো বিন্দু বিন্দু শিশিরতা মাড়িয়ে হেঁটে যাবে ভবিষ্যৎ। 
এরপর, জোছনায় দেহ কাপানো স্নান শেষে; ভোরের আল ধরে আগামীরা আসবে। আর আমরা ঘরের দাওয়ায় জমে থাকা শেওলা সরিয়ে; খুলে দেবো বুকের সবুজ পথ। 
২।
জলের থিসিস 

বুকের এই জায়গাটায় স্পর্শ করো না। এখানে পাথরের আগুন। যে আগুন নেমে এসেছে পাহাড়ের ধার থেকে। আমার সম্মুখে এখন কালারফুল সমুদ্র। তার ঢেউ থেকে বেরিয়ে আসছে, ডলফিনের শিক্ষিত ঘাই। আমরা শিক্ষিত ডলফিন নই। আমরা মানুষ।
স্বর্ণকেশি যে মেয়েটি ডলফিনকে শিক্ষিত করে তুলছে, তার পিচ্ছিল স্পর্শে এখন তারা কাঁপছে। ডলফিন আর মেয়েটি এখন পানির জন্য কাতরাচ্ছে।
আসুন, আমরা শামিয়ানা টাঙাই, আর জল নিয়ে একটি রোমান্টিক থিসিস লিখি। 
৩।
কাগজের চোখ ও নীল পেরেক 

মাঝে মাঝে কয়েক পঙ্ক্তি ভালোবাসা--- এটিএম থেকে উঠে আসে আমার বুকপকেটে। আর তুমি জড়িয়ে রাখো আমাকে--- তোমার বুকের উত্তাপমেশিনে। 
যেখানে, দেয়াল হিটারের উষ্ণতাবিলীন হয়ে যায়। আর আমাদের মুখ থেকে ঝরে পড়া লালায়--- উড়তে থাকে নতুন নোটের গন্ধ।
এরপর টেবিলের ওপর রাখা চেকবই থেকে ওঠে আসে লক্ষ লক্ষ মৌমাছি। আমাদের ঘিরে ধরে ফুলের মতো। আমারা লাল-হলুদ আর গোলাপি হতে থাকি।
এভাবে রাত শেষ হয়ে যায়। আর চামড়ার ভাঁজ করা পকেটকোষে পড়ে থাকে--- মেয়াদ উত্তীর্ণ কিছু পুরুকাগজের ফলক। 

৪।
আমাদের গল্প

তোমার ঠোঁটের লালে ডুবে যাচ্ছে পৃথিবী এবং চুমোর গন্ধ। লালার ভেতরে নেমে যাচ্ছে পৃথিবীর সিঁিিড় পাতালের দিকে। যেভাবে  পাহাড় থেকে নেমে গেছে আদমের পদচিহ্ন।
সেখান থেকে হয়তো আমরা আবার শুরু করব আমাদের গল্প। 
এখানে অনেকেই আসে। কথা বলে--- অপারেশন টোয়লাইট, হিটব্যাক কিংবা অপারেশন ম্যাক্সিমাসসহ নানা বিষয় নিয়ে। 
কলসি কাকে যুবতীরাও আসে। কিরণমালা শাড়ির আঁচল কোমরে প্যাচিয়েÑ ডুবে যাওয়া সিঁড়িতে দাঁড়ায়। জল ভরে। তারা নিজেদের মধ্যে কথা-বার্তা বলে। আমাদের চারপাশে জলের ঢেউ সে কথাবার্তা লিখে রাখে তাদের বুকডায়েরিতে।  
এভাবে একদিন পৃথিবী ব্যর্থতার আঁচল গুটিয়ে ঢুকে পড়ে পুরোনো খাপের ভেতর।
তারপর, গাছের গুঁড়িতে যেভাবে গজিয়ে ওঠে নতুন গাছ; আমরাও সেভাবে গজিয়ে উঠি জলের ভেতর থেকে। সঙ্গে নিয়ে এক পৃথিবী নতুন গল্প। 
৫।
কালো ভ্রমর

ব্রেসিয়ারের গোল্ডেন হুকে আটকে গেছে যে কালো ভ্রমর; এখন সে ঘামের সমুদ্রে সাঁতার কাটে।
এক নিঃশ্বাসে ডুবে থাকতে পারে যুগের পর যুগ। এভাবে থাকতে থাকতে করোটির ভেতর থেকে কেউ খুলে নিয়ে গেলে ফিউজ--- দৈনিক বাল্ব নিভে যায়।
চোখের সম্মুখে নেমে আসে কালো পর্দা।
আকাশ ভেঙে ঝরে পড়া নূপুরের ঝলকে কারও বুকে হয় জলবিলাস। এই ফাঁকে কেউ কেউ কান পেতে শোনে, মাথার ভেতর নির্বোধ পোকার ধামাইল। আর কারও কারও চোখ জুড়ে নেমে আসে অশ্রæবিলাস। এরপর, কেউ কেউ মাথাটা সবজির মতো ভরে নিয়ে যায় বাজারি ব্যাগে। আর একদল মানুষ ডাইনিং টেবিলে বসে সারা রাত সেদ্ধ করে সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ... 
৬।
জললিপি 

বাবার চোখ থেকে ভেসে গেলে খোয়াবগুলো; বেড়িবাঁধের চ‚ড়ায় বসে মা জলের কুলায় সময়ের কঙ্কর কুড়ান। আর, হাঁটু ভেঙে আমরা জলের ছাদে তুলে রাখি ভেঙে যাওয়া সংসার। কেউ কেউ জলের নীরব  গায়ে অঙ্কিত করেন আমাদের মুখচ্ছবি। তারপর, পকেটে ভরে প্রদর্শনী সূচি; সহাস্যে খুলে দেন রাতের দরজা। 
আর, আমরা মানুষ থেকে পণ্য হতে থাকি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ