পশ্চিমবঙ্গের একজন অন্যতম উচ্চারিত কবি রুমুন চক্রবর্তী। তাঁর একগুচ্ছ কবিতা পড়ুন।
যাচ্ঞা
#
কিছু কথা বলার ছিল তোমার
কিছু তো আমারও ছিল বলার,
ভেবে ছিলাম ঠিকই খুঁজে পাবো
একটা কারণ একসাথে পথ চলার।
জীবনভোর তা খোঁজাই হল সার
বাঁধন দেওয়াই রইল মনের দুয়ার
জানি আমি তুমিও এমন ভাবো
একা বাঁচার খুব আছে কি দরকার!
যত দূরেই থাকো না আজ আমার
আঁকছি ছবি মনে শুধুই তোমার
এই পৃথিবী যেদিন ছেড়ে যাবো
সেদিনও ভয় থাকবে হারাবার।
তুই তো জানিস না
#
যে বেসেছে ভালো তোকে অপার আকুল
ভুলে গেলে তাকে দিতে হবেই মাশুল
ঝিলিমিলি দেয় যারা তোর আশেপাশে
শুধিয়ে দেখিস তাদের কেন ভালোবাসে
কি দেখেছে তারা তোর চোখের তারায়
কতটা জেনেছে তোর কিসে কী হারায়
কতদিন তুলে রেখে মুখের খাবার
খালি পেটে তারা দিন করেছে কাবার
বুঝেছে কি কেন আসে জল তোর চোখে
কোন্ অপমানে ভাত তুলে নিস মুখে
কেন লেখে কলম তোর এ হাহাকার
মুখ চেপে কথা কাড়ে কোন্ মনোভার
ঘুমের ভেতর ঘুম খেলে লুকোচুরি
স্বজন সুজন মারে তোর বুকে ছুরি
চুপকথা লিখে চলে তোর ইতিহাস
একা আমি চুপিচুপি পড়ি বারোমাস
কতজনে কতকিছু বলেছে আড়ালে
তুই নাকি আমাকেও বেঁধেছিস ছলে
মানতে চায় না মাথা, মন তো অবুঝ
হারায় জীবন তাই বাঁচার সবুজ
কখনও করিনি দাবী কিছু হাত পেতে
শুধু চাই শেষ শ্বাসে হাত ছুঁয়ে যেতে।
অনুভব
#
নিজের মতো দেখছ দুনিয়াটা
সত্যি-মিথ্যের ফারাক মুছে ফেলে,
তাই বুঝি আজ ঠকিয়ে প্রেমের খেলায়
ভাবছ তুমি বিরাট জিতে গেলে।
আমি বলি, চশমা খুলে দেখো
আসল-নকল পড়বে চোখে ধরা,
ভাবছ যা তা এক্কেবারেই ভুল
তোমার মুখই আসল মুখোশ পরা।
ভালোবাসার ব্যাপার করে যে জন
তার হৃদয়ের কি জানি কী দাম,
এই ব্যবসায় আমি বড়ই কাঁচা
শিকড়
#
সমাজ সাক্ষী রেখে, শুভলগ্নে
হৃদয় ভাগ হল ভিন্নরূপী দুই গোলার্ধে।
দ্রাঘিমার ওপরের অংশে
নতুন অনুর্বর মাটি ও প্রতিকূল পরিবেশে
অঙ্কুরোদ্গম নতুন জীবনবীজের।
কিঞ্চিৎ প্রেমের প্রত্যাশায় প্রতিনিয়ত
অসম পরিবেশে মাটি আঁকড়ানোর লড়াই।
অকৃপণ ভালোবাসা ও ত্যাগের বিনিময়ে
প্রাপ্তি সীমাহীন তিরস্কার।
তবু আশাবাদী চারা ক্রমে পরিনত এক মহীরুহে।
আশ্বাসী ঘন ছায়া,
সুগভীর পুরনো কোটর,
সুনিশ্চিত আশ্রয় বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের।
বহমান সময়নদী ক্রমাগত পাড় ভাঙে জীবনের।
বয়েসের হিংস্র থাবায় নতজানু হয়
অপারগ জরাগ্রস্ত শরীর।
ব্যস্ত নবীন ঝুরি ভুলে যায় মূলের প্রয়োজন...
খুঁজে নেয় নিজস্ব মাটি, জল, আলো।
অবহেলিত, পরিত্যক্ত স্থবির
বসে থাকে আসন্ন মৃত্যুর দুয়ারে।
তবু জীবনের লক্ষণ বাঁচিয়ে রাখে শরীরের আনাচকানাচ।
মৃতবৎ কান্ডে আজও
কান পেতে শোনা যায় ক্ষীণ স্পন্দন
শিকড়ের সেই গভীরতায়;
যা প্রোথিত আজীবন বিপরীত গোলার্ধে,
মা-বাবার স্নেহের মৃত্তিকায়।
0 মন্তব্যসমূহ