কবির পঞ্চাশ






কবি,কথাকার,শ্রদ্ধেয় গোবিন্দ ধরের ৫০ তম 
জন্মদিনে কবিকে বিশেষ উপহার সরূপ আজকের এই পাতা, বাংলাভাষা.স্রোত পরিবারের পক্ষ থেকে কবিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা রইলো 

গোবিন্দ ধরের সংক্ষিপ্ত জীবন 
গোবিন্দ ধর 
পিতা: স্বর্গীয় দক্ষিণা রঞ্জন ধর 
মাতা: স্বর্গীয়া সুষমারাণী ধর 
জন্ম: ৩০শে জুলাই ১৯৭১ 
জন্মস্থান :অফিশটিলা,ধর্মনগর,উত্তর ত্রিপুরা  
বর্তমান ঠিকানা : হালাই মুড়া,কুমারঘাট 
স্কুল:রাতাছড়া দ্বাদশশ্রেণি বিদ্যালয়।বর্তমান হাজিবাড়ি দ্বাদশশ্রেণি বিদ্যালয় 
পেশা:শিক্ষকতা 
প্রথম শিক্ষক জীবন:উত্তর রাতাছড়া উচ্চ বুনিয়াদি বিদ্যালয়  
ছদ্মনাম:চৈতন্য ফকির  

সম্পাদিত কাগজ:
স্রোত 
স্রোত.f
স্রোত.কম
কবিতাঘর
কুসুম
বাংলাভাষা
বইবাড়ি
অন্যপাঠ
উৎসব সমাচার
ভাষাচর্চা 

সদস্য
ত্রিপুরা রবীন্দ্র পরিষদ 
সুতপাঃ
উত্তর পূর্বাঞ্চ উত্তর লীয় প্রকাশনা সংসদ:কার্যকরী
দেও-মনু সাহিত্য মঞ্চ:কার্যকরী 
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা চর্চা সমন্বয় পরিষদ:কেন্দ্রীয় কমিটি,
ত্রিপুরা পাবলিশার্স গিল্ড
শ্রীহট্টীয় সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ 

সম্পাদক
স্রোতস্বিনী সাংস্কৃতিক সংস্থা 
মহামায়া নাট্য সংস্থা 
স্রোত:সম্পাদক
স্রোত পরিবার
স্রোত বন্ধু দল
স্রোত.com:
উৎসব সমাচার
বাংলাভাষা
বঙ্গীয় সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ
কুমারঘাট শাখা
ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন গিল্ড

উপদেশক
দোলনা
কুসুম
কবিতাঘর
গ্রাফিপ্রিন্ট

কর্ণধার
বইবাড়ি
স্রোত.f.
অন্যপাঠ

সংগ্রাহক
ত্রিপুরার পুঁথি-পাণ্ডুলিপি গবেষণা কেন্দ্র:
উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন গবেষণা ও চর্চা কেন্দ্র:
বাংলা সাহিত্যে কবির অবদান 
প্রথম প্রকাশ
কবিতা ১৯৯১ (দৈনিক সংবাদ)
জলঘর২০০৭(কবিতা সংকলন)
 
কবিতা সংকলন:
জলঘর
সূর্যসেন লেন
দ্রোহববীজ পুঁতে রাখি,একা
মনসুনমাছি
শ্রীচরণেষু বাবা
আনোয়ারা নামের মেয়েটি 
দেওনদীসমগ্র
আষাঢ়ের দিনলিপি

যৌথ কবিতা সংকলন:
মেঘ বৃষ্টি রোদ
গোপন জোছনা
তামাদি হয়নি যে ভালোবাসা
কখনো পাহাড় কখনো নদী
এই সময়ের বত্রিশ জন কবির কবিতা
আঞ্চলিক ভাষার কবিতা
শেখড়ের ধ্বনি
কবিতা :২০০১/২০০২/২০০৩/২০০৯/২০১০
সমকালীন পনেরজন কবির কবিতা
ত্রিপুরার আবৃত্তির কবিতা

ছড়া সংকলন:
থইথই ছড়া
তোমার উনিশ আমার একুশ
এই শতাব্দীর ছড়া (যৌথ্য)

প্রবন্ধ ও গবেষণা:
শ্রীহট্টীয় লৌকিক সংস্কৃতি ও শব্দকোষ
আত্মক্ষর
ত্রিপুরার লিটল ম্যাগাজিন
ত্রিপুরার সাহিত্যকোষ
ত্রিপুরার লেখক অভিধান
কুমারঘাটের ইতিবৃত্ত ও তথ্যপুঞ্জী
কুমারঘাটেরর স্থান নাম
ত্রিপুরার লিটল ম্যাগাজিন শিশুসাহিত্য ও অন্যান্য 
আলোকিত বিজয় রায়

বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রবন্ধ :
নৃপেন্দ্রলাল দাশ স্মারকগ্রন্থ 
হাবীবুল্লাহ সিরাজী সংবর্ধনাগ্রন্থ
ভূপতিভূষণ বর্মা সংবর্ধনাগ্রন্থ

ছদ্মনামে
সময়ের গোল্লাছুট

সম্পাদিত বই
শতবর্ষের আলোকে সমর সেন:ফিরে দেখা
হিমাদ্রি দেব রচনা সমগ্র
ত্রিপুরার প্রথম কবিতাপত্র জোনাকি সমগ্র
অনন্য অনিল সরকার
জননেতা দশরথ দেব:জীবন ও সংগ্রাম
কথাসাহিত্যিক শ্যামল ভট্টাচার্য
সমকালীন ত্রিপুরার পাঁচজন কবি সাহিত্যিক
পীযুষ রাউত উজ্জল উদ্ধার
বিকাশ জীবন(হাজিরা কামলা থেকে লেখাকর্মী)
কথাসাহিত্যে শ্যামল বৈদ্য
বাংলাসাহিত্যের অহংকার কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন 
সম্মান ও পুরস্কার:
কুমারঘাট নগর পঞ্চায়েত:২০০১
অণির্বান দেশবার্তা:২০১০
উত্তরণ :২০১২
প্রাণেরকথা:২০১৫
বিজয়া:২০১৬
বহ্নিশিখা সম্মান:২০১৭
কথাশিল্প(পশ্চিমবঙ্গ):২০১৭
সৃষ্টিলোক:২০১৭
ক্রিয়েটিভ :২০১২
ষষ্ট  উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলন(আসাম):২০১৬
বিশ্ব কবিমঞ্চ, আগরতলা শাখা সম্মান:২০১৭
সমভূমি সাহিত্য সম্মান:২০১৮
উত্তরবঙ্গ সাহিত্য সম্মান(পশ্চিমবঙ্গ) :২০১৮
শব্দকোষ সাহিত্য সম্মান:২০১৮
মণিহার সাহিত্য সম্মান:২০১৯
উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মান(আসাম):২০১৯
আন্তর্জাতিক ভাষাচর্চা সম্মান(আাসাম):২০১৯
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা সম্মান(আসাম):২০১৯
মাতৃভাষা সম্মান স্মারক (উধারবন্দ,আসাম):২০১৯
বিশ্বনাথ দে স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার(সুতপা,ঝাড়খণ্ড):২০১৯
প্রয়াসী সম্মান:২০১৯

স্মারক সম্মাননা সংখ্যা 
ক্রিয়েটিভ :২০১২
মনুতট:২০১৮
বাংলাদেশে সম্মান ও পুরস্কার 
বিশ্ব কবিমঞ্চ একুশে পদক:২০১৬
কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ স্মৃতি পুরস্কার :২০১৬
বাংলাদেশ বুকক্লাব সম্মান:২০১৭
দক্ষিণ এশিয়া সাহিত্য সম্মান :২০১৭
বজ্রকথা সাহিত্য সম্নান:২০১৭
চট্রগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র সম্মান:২০১৭
সাহিত্য একাডেমি ব্রাহ্মণবাড়ি সাহিত্য সম্মান:২০১৭
কন্ঠসাধন সম্মান:২০১৭
বরমা বৈশাখী মেলা সম্মান:১৪২৪
উষসী সাহিত্য -সংস্কৃতি পর্ষদ সম্মান :২০১৮
সিলেট বইমেলা অতিথি সম্মান :২০১৮
জয়বাংলা ইয়থ এয়ার্ড:২০১৯
বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় কবিতা
অনলাইন
পাতা প্রকাশ 
মুগ্ধতা 
সিলেট ভিউ 
সিলেট নেট 
প্রথম আলো

ছাপা অক্ষরে 
তাপসী
যুগভেরী
কবিমঞ্চ
ভোরের আলো
উত্তর ভাবনা
কন্ঠসাধন পত্র
দেশ প্রসঙ্গ
সবুজের জয়যাত্রা
ভাটিয়াল
ময়মনিসংহের ‘স্বতন্ত্র’ পত্রিকায়(নদী সংখ্যা) 
বঙ্গ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শতবার্ষিকী স্মারকগ্রন্থ 

ভারতের পত্র পত্রিকায় কবিতা 
অনলাইন 
বাংলাভাষা.স্রোত
মমনস্রোত
মমনভূমি
বাংলা সাহিত্য.কম

ছাপা অক্ষরে
মনু থেকে ফেনী 
সমভূমি
অ আ ক খ 
পাখী সব করে রব 
বিজয়া 
মনুটত
সুরভি
উষ্মেষ
প্রজন্মচত্তর
জলজ
দৌপাতা
কবির সৃষ্টিতে জীবন
কবিতা আবৃত্তি যারা করলেন
মহুয়া দাস
প্রবীর পাল
গৌতম ভট্টাচার্য 
বেলায়েত হোসেন 
সংঘমিত্রা চক্রবর্তী 
রূপশ্রী চক্রবর্তী
আবু নাছের মানিক 
পিনাকপাণি দেব
সংহিতা সিংহ 
সুমিতা বর্ধন
সুতপা রায়
ইন্দ্রাণী চক্রবর্তী 
জয়িতা দেব
মানসী কীর্তনী
পদ্মশ্রী মজুমদার 
বৈশম্পয়ান চক্রবর্তী 
বিদিশা সরকার
অনিন্দিতা দেবনাথ 
নির্মাল্য চক্রবর্তী
অনিন্দিতা মোদক
বি এন হারিস
অপাংশু দেবনাথ 
রুমী দেব
বিজন বোস

গোবিন্দ ধরের কথায় সুর দিলেন
পদ্মশ্রী মজুমদার 
জয়ন্তকুমার ঘোষ
গীতশ্রী ভৌমিক 
শাশ্বতী বানার্জী
দোলা বানার্জী

প্রতিকৃতি  করেন
বিদ্যুৎজিৎ চক্রবর্তী 
উমা মজুমদার
শৌভিক পণ্ডিত 
গৌরব ধর 
মিলনকান্তি দত্ত 
শুভদীপ সেনশর্মা
ইসলাম গনি হিমন
আইয়ুব আল আমিন 
প্রশান্ত সরকার

বিভিন্ন ভাষায় কবির রচনা 
বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী অনুবাদ 
অর্চনা সিংহ
ককবরক অনুবাদ 
কুঞৃজবিহারী দেববর্মা
সুধন্য ত্রিপুরা
বুধুরাই দেববর্মা
প্রদ্যুৎ দেববর্মা
মৈথেয়ী মণিপুরী অনুবাদ
বিজয়লক্ষ্মী সিনহা
মগ অনুবাদ 
ক্রাইরী মগ চৌধুরী 
অসমীয়া অনুবাদ
সবিতা দেবনাথ 
চাকমা অনুবাদ 
মৃত্তিকা চাকমা
ইংরেজি অনুবাদ
আব্দুল আলিম 
নীলমনি দে
পদ্মশ্রী মজুমদার 
হিন্দি অনুবাদ 
সুমিতা ধরবসু ঠাকুর
শাশ্বতী দেব


ত্রিপুরার নানান তথ্য, প্রকাশিত বই, লিটল ম্যাগাজিন থেকে কবিকে নিয়ে লেখা কিছু কবির কথা  ও আলোচনা 

কবির জন্মদিন : অর্ধেক জীবনকথা
তুষারকান্তি সাহা
একজন পুরোদস্তুর সংসারী মানুষ। পেশায় শিক্ষক । অন্তরের তাগিদে লেখালিখির সূত্রপাত। দরাজ হাতে লেখেন। সেই হাত দুটি দিয়ে সম্পাদনার কাজ করেন। নিয়মিত বের করেন লিটল ম্যাগাজিন "স্রোত " এবং আরও বেশ কয়েকটি সাহিত্যের কাগজ।এসবকে কেন্দ্র করেই গড়ে তুলেছেন এক‌টি প্রকাশনা সংস্থাও ।কেবল নিজ রাজ্য ত্রিপুরারই নয়, উত্তর-পূর্বঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তসহ বহির্বঙ্গে বসবাসকারী কবি -সাহিত্যিকদের সৃজনশীল কাজকর্মে গুরুত্ব দিয়ে অসংখ্য বইপত্রও প্রকাশ করেছেন। মায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র  বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত লেখক কবিদের রচনাদি  প্রকাশেও  বাড়িয়ে দিয়েছেন হাত।
  তাঁর সঙ্গে যখনই যেখানে দেখা হয় ঘুরে ফিরে উঠে আসে লেখালেখি ও প্রকাশনা বিষয়ক আলোচনা।
  এহেন কবি -সম্পাদক -প্রকাশক হলেন কুমারঘাটের গোবিন্দ ধর। এবছর কঠিন কোভিদ সময়ে ৩০ জুলাই,২০২০ তিনি অর্ধশতবর্ষের আঙিনায় প্রবেশ করছেন। প্রতিটি মানুষ  বিশেষত সৃজনশীল কাজকর্মে  জড়িত ব্যক্তির কাছে জীবনের পঞ্চাশটি বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা,  এই সময়ের মধ্যেই একজন মানুষের যাবতীয় স্বপ্ন, আশা- আকাঙ্ক্ষা আর প্রতিষ্ঠার অর্ধেকের বেশি সফলতা পায়। প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রে তো ৭০-৮০% ফলবতী হওয়া পরিলক্ষিত হয়।
  সে যা হোক,বন্ধুবর গোবিন্দ ধর ত্রিপুরার ফেনি, মনু,দেওনদী থেকে অসমের কুঁশিয়ারা,বরাক ও ব্রহ্মপুত্র হয়ে দুই বাংলার গঙ্গা -পদ্মায় ভেসে কবিতা আহরণ করেছেন। মানুষ, পৃথিবী, প্রকৃতির পাশাপাশি নদী তাঁর বুকের ভেতর উথল -পাতাল বইতে থাকে। তাঁর কলম তখন রূপ নেয় বৈঠায়।...
   গোবিন্দর সাহিত্যসত্তা বৈচিত্রে ভরপুর। ৮টি কাব্যগ্রন্থের পাশাপাশি দুটি ছড়া র বই ,নয়টি প্রবন্ধ ও গবেষণা সংকলন যা মূলত নিজ রাজ্যকে কেন্দ্র করে রচনা করেছেন। এবং সেখানে ই থেমে না থেকে প্রায় ডজনখানেক বইও সম্পাদনা করেছেন যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিমাদ্রি দাব রচনা সমগ্র, বাংলাসাহিত্যের অহংকার কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এবং ত্রিপুরার প্রথম কবিতাপত্র জোনাকি সমগ্র ইত্যাদি।এতসব কাজকর্ম করেও তিনি সঠিক হাতে হাল ধরে আছেন।নিজের সম্পাদিত পত্রিকার বিশেষ সংখ্যাও চালিয়ে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বের করছেন আন্তর্জালিক দৈনিক সাহিত্যপত্র।
  উল্লেখিত কাজকর্ম বিগত আড়াই দশকের ফসল।এটা জানার পর স্বাভাবিকভাবেই তেমন এক‌টি মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা বেড়ে যায়। বিশেষত কুমারঘাটের মতো একটি প্রান্তিক অঞ্চলে থেকে তিনি তাঁর সাহিত্যসাধনা ও সংস্কৃতিচর্চা যেভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন তা যে-কোনো ব্যক্তির কাছে শ্লাঘার বিষয়।আর সে -কারণেই এই অর্ধেক জীবনে তিনি বিভিন্ন স্তরে পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন অসংখ্য।
  প্রচন্ডভাবে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এমন কবির সুবর্ণজয়ন্তী জন্মবর্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। তাঁর সৃ‌ষ্টিশীল কর্মকান্ড বাংলাসাহিত্যে স্থায়ী প্রতিষ্ঠা পাক, এই কামনা। 


মনু, ফেনী কিংবা বাংলার সন্তান
ঝর্ণা মনি
বাংলাদেশে তখন মুক্তিযুদ্ধের দামামা। জীবনমরণ যুদ্ধ। হয় পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে দেশমাতৃকাকে শত্রু মুক্ত করা, নতুবা পাকিস্তানি হায়েনাদের হাতে জীবন বিসর্জন করা। একাত্তরে বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতার লড়াই করছে, রক্তগঙ্গা দিকে দিকে, রক্তাক্ত ওইসময়ের ৩০ জুলাই সীমানার কাঁটাতারের ওপারে ত্রিপুরার ধর্মনগরে জন্ম একজন বাংলাপ্রেমীর। যার অস্থিমজ্জায় মিশে আছে বাংলা। যার ধ্যান বাংলা, নদী, মাটি আর মানুষ। এক পা দু’পা করে আজ তিনি পঞ্চাশে। বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে জ্যামিতিক হারে বেড়েছে বাংলার প্রতি ভালোবাসা। তাই তো তিনি বাংলায় লিখেন, বাংলার জন্য লেখেন। তার কথামালাগুলো নদীর স্রোতের মতোই ফল্গুধারায় বহমান। নিজেকে মনে করেন নদীর সন্তান। নদীর সুখ দুখের মতোই গদ্যে কিংবা পদ্যে তুলে আনেন জীবনের নির্যাস। 

তিনি গোবিন্দ ধর। পিতা দক্ষিণারঞ্জন ধর। পঞ্চাশে পা রাখা গোবিন্দ ধর শতায়ু হোন। দু’হাত উজাড় করে লিখুন। 

শুভ জন্মদিন মনু, ফেনী কিংবা বাংলার সন্তান।


স্বজন আমার:কবি গোবিন্দ ধর
অপাংশু দেবনাথ 
এই তো আবার শুরু করলে নতুন করে চিঠি লেখা। তুমি আমাকেই প্রথম চিঠি লিখেছিলে কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে এতোটা দিন আমার নজর এড়িয়ে গেছে।মনে আছে তোমার?  স্রোত তখনও সিল্সক্রিনে ছাপা হচ্ছিলো।  তুমি আমার প্রকাশিত কবিতাসহ স্রোত পাঠাতে।সেদিনও শান্তিদা দিয়ে গেছেন বাড়ি।স্পষ্ট মনে আছে পকেটে করে নিয়ে গেছি হাসপাতালে।কবি তপন দেবনাথ একটু সুস্থ হলে তাতে পড়ে শুনাবো।কিন্তু তা আর হলোনা। চোখের জলে স্রোত আমার বেদনার স্রোতে ভেসে যায়।তারপর সব ইতিহাস।
সময় গড়িয়ে যায় তবু ভূত এসে মাথার ভেতর নাড়া দিয়ে যায়।আমিও তার তালে নড়ে উঠি। আবার নিজেকে সামলে নিয়ে হাঁটতে থাকি।
এই যে হাঁটার কথা বললাম।তা তোমার হয়তো মনে আছে কবে থে তোমার সাথে হেঁটে যাচ্ছি। আমি স্বভাবতই ভুলে যাই। মানুষও তাই ভাবে
তবু কি যেন ভেতরে ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়।
তোমার সাথে আত্মার সম্পর্ক যেমন অনুভব করি তেমনি দ্বন্দ্বে কাটিয়েছি তোমার সাথেই খুব বেশী
এইসব বিবাদ বিষম্বাদের কথা বলতে আজ আত্মার এই ক্ষরা মরসুমে চিঠি লিখছিনা তোমাকে। চিঠিতো লিখিনা বহুদিন।এখন ডাকপিওন শান্তিদা আর আসেনা বাড়ি।দেখা হলে মুচকি হেসে চলে যান।তার যাওয়া ও আসাতে আমার কিছু যায় আসেনা। শুধু মনে পড়ে কত কত প্রিয় মানুষেরা তোমার মতো চিঠি লিখতো।  এখন আরা ওরা কেউ চিঠি লেখেনা কেবল হাওয়ায় হাওয়ায় কেউ কেউ কথা বলেন শুধু নিজেরই প্রয়োজনে। এতো যে প্রযুক্তি চারিদিকে, তার চেও অবাক হই মানুষগুলো কেমন যেন বদলে গেছে। এই বদলে যাচ্ছে বলেই সুখে আছে ওরা।বদলাতে পারিনি আমি।আর পারিনি বলেই এই মধ্যরাতে সবাই যখন দরোজায় খিল দিয়ে ঘুমাচ্ছে তখন আমি এক উদভ্রান্ত বাউলের মতো তোমাকে চিঠি লিখছি। মনের ভেতর জমে থাকা অসুখের ডালি খুলে লিখছি
হয়তো তুমিও ঘুমাচ্ছো।ঘুমাও।ঘুম ভাংলে দেখতে পাবে এই মধ্যরাতে অসমাপ্ত শব্দলিপি।এইসব শব্দেরা আমাদের জাগিয়ে রাখে।জেগে থাকি অকারণ।আসলে অভ্যাসের দোষে জেগে থাকা।কোনো মানে নেই নিজেকে কষ্ট দেবার। তুমিও তো আর কম জাগোনা?  কবিতার জন্য জেগে থাকো বুঝি। আমি বুঝতে পানি নিজের নামে যা লিখতে পারোনা তা চৈতন্য ফকির ছদ্ম নামে লিখো।জানো এ যাবৎ কোনো ছদ্মনাম নিতে পারিনি আমি।তবে কেউ কেউ ভুবন বলে যাকে অথচ আমি বাউল বলে ভাবি নিজেকে। আর কেনো যেন মনে হয় আমি এক চিরন্তন শব্দবাহক মাত্র।এর বাইরে কোনো পরিচয় নেই আমার। জানি তুমি ভাবছো এসব লিখছি কেনো তোমাকে?  কি ন্তু কাকে বলি এসব ভঙ্গুর বেদনার কথা।কথার পীঠে কথার জাল বুনতে বুনতে ভুলে গেছি শুক্রবার ভেঙে গলে মিশে গেছে শণিবারের অন্ধকারের ভেতর। তোমার ধারণা সঠিক নয় প্রিয় কেমনা ভুটান যাইনি আমি
তবে সিকিম থেকে দার্জিলিং। ওখান থেকে মিরিক হয়ে ফিরে আসি নেপালের সীমান্ত বাজার ছুঁয়ে।  কোনোদিন সময় হলে চলো মিনিকে রাত কাটাতে যাবো। আর যদি তোমার সময় না হয় আমি একা হলেও যাবো।মিরিকে রাত্রি কাটাবো। 
অনেক কথা কথায় কথায় লিখে ফেললাম।তপনের বইয়ের প্রুফ অনেকটাই শেষ।আর আমার শৈশবের কথা বেশ কিছু এপিসোডে লিখেছিলাম।হয়তো কোনোদিন ছাপা হবে নাও হতে পারে কে পড়বে আমার ব্যর্থ জীবনের শব্দলিপি।তবু তোমার ভাবনার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা রইলো আমার।
সামনে লিটিল ম্যাগাজিন উৎসব করছো। বিরাট কাজ।বলো কোনো কাজে এলে ভালো লাগবে আমারও। 
তোমার চিঠির উত্তর লিখতে লিখতে রাত অনেক হলো। এখন ১.৫০ রাত। বহুদিন পর প্রাণ খুলে ঠিঠি লিখলাম। পদ্মশ্রীর উপন্যাসের কতদূর।এবার প্রকাশ হবে নিশ্চই।  গৈরিকার দোলনা কবে প্রকাশ হচ্ছে। তাকে আমার আদর দিও। গৌরবদের বলো ঘুরে যেতে আমাদের এখানে।
ভালো থেকো।আর হ্যাঁ তোমার ক'টা বই বের হচ্ছে এবার?
শুভরাত্রি জেনো স্বজন আমার।     
        

অতিজীবিত এক প্যাশনেট্
মিলনকান্তি দত্ত 
নদীর শরীরে লাগা উচাটনের মতোই কবির অনুভব-আনন্দ-নিরানন্দ -নি-আশার তারশ্বর যখন আমাদের কানে লাগে,তখন আমরা চমকে উঠি এ-রকম নিখাদ উচ্চারণে ---'শরীর তৃপ্তি হোটেল নয়'--- --- কামনার কালীদহে ডুবে যে অনুভূতিগুলির আমগ্ন উচ্চারণ তা কবির জীবন ও যাপনের ধারাপাত। জীবন ও জমিনের গর্ভকোষে প্রোথিত দ্রোহবীজের অঙ্কুর-কথা। মূলত, স্বীকারোক্তির মতো সংগোপন, নাজুক নয়।এ-রাজ্যের তরুণ কবিদের মধ্যে গোবিন্দ ধরকে তর্জনী নির্দেশ করা যায় এ-ভাবেই।
কবিতা লেখা, পুস্তক প্রকাশনা,সাময়িকী সম্পাদনা সহ বিচিত্রবিধ সৃজনকাণ্ডে কবি গোবিন্দ ধর অতিজীবিত এক প্যাশনেট্!
                         

উত্তর-পূর্ব লিটল ম্যাগাজিন সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের সংগ্রহক গোবিন্দ ধর
আ. জাহিদ রুদ্র
এক বইয়ের পাঠক সম্পর্কে সাবধান ---হুমায়ুন আজাদ

লিটল ম্যাগাজিনকে কাল্ট বলবো, নাকি প‍্যশন? সেই গণতন্ত্র যে কারোর কথা মানেনা, আপোষহীন, স্বতন্ত্রভাবাদর্শে কমার্শিয়াল চিন্তার বিপরীতে এক মুক্ত মঞ্চ। লিটল ম্যাগাজিনের লেখাগুলো আমাদের আদর্শ শেখায় না,বরং জীবনকে তুলে ধরে, যা যাপনের অর্থ বুঝায়। লিটল কেন বলি? কারণ এখানে যেসব সম্পাদকেরা কাজ করেন যাঁরা খুঁজে আনেন সেসব লেখক, যাঁদের কেউ চেনে না, সেইসব বিষয় যা নিয়ে কাজ হয়নি। বিজ্ঞাপনের সংস্কৃতি থেকে অনেক দূরে সরে নিজের পকেট খালি করে পত্রিকা চালান লিটল ম্যাগাজিন কর্মীরা। সাহিত্য চর্চার সঙ্গে সঙ্গে দেশের জনজীবনকে ঘনিষ্ঠ ভাবে জানার সুযোগ করে দেয় লিটল ম্যাগাজিন। লিটল ম্যাগাজিন এর হাত ধরেই সাহিত্যে আধুনিকতার আবির্ভাব ঘটেছে। সাহিত্যে যত ধরণের আন্দোলন হয়েছে, যে আন্দোলন কে বলা যায় সাহিত্যের প্রাণশক্তি, তা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের মাধ্যমে।

১৯৯৫ সাল থেকে সেই সাহিত্য আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে আছেন আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ত্রিপুরা রাজ্যের, যিনি আমাদের কাছে কবি, কথাশ্রমিক,প্রকাশক হিসেবে পরিচিত গোবিন্দ ধর। কিন্তু আজ আম‍রা এই শব্দ চাষির অন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করবো--- " উত্তর-পূর্ব লিটলম্যাগ সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের" সংগ্রহক গোবিন্দ ধর হিসেবে। উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন বইয়ের সাথে অকৃত্রিম ভালোবাসা। সম্ভবত বাবার বই প্রীতি ও পাঠ অভ‍্যাস গবেষক গোবিন্দ ধরকে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে আর পিছপা দিতে হয় নি। ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের তিনি পুরাধা সৈনিক। যার অক্লান্ত পরিশ্রম ও কর্মপ্রতিভার দ্বারা এক মহতী উদ‍্যোগের দ্বারা প্রকাশ পায় ১০ জুন ২০১৮ তারিখে ঊনিশটি লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকদের নিয়ে যা " ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন গিল্ড "। গোবিন্দ ধর শুধু কবি,প্রাবন্ধিক নন তার মধ্যে রয়েছে সাহিত্য গবেষণার দারুণ স্পৃহা। যার ফলস্বরূপ লিটল ম‍্যাগ আন্দোলনে নিজেকে জড়িয়ে সাহিত‍্যে সুপ্ত থাকা অনুরাগ সাহিত্য বেলাভূমিতে বহিঃপ্রকাশ করেছেন নিজ হাতে। ত্রিপুরা থেকে শুরু করে গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চল তথা সুদূর বাংলাদেশেও চালিয়ে যাচ্ছেন এই মিলন।

শব্দ শ্রমিক গোবিন্দ ধরের স্রোতস্বিনী সাংস্কৃতিক সংস্থা গঠনের দিনই অর্থাৎ ১৯৯৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তারিখে এই লিটল ম্যাগ সংগ্রহশালাও গঠিত হয়। তখন এই সংগ্রহশালায় ছিল উনার বাবার জমানো বই। বই-পত্র যা ছিল সব পুরোনো। কয়েকটা সন্দেশ, সোভিয়েত দেশের বই তা দিয়ে লাল ফিতা কেটে যাত্রা শুরু হয় 'উত্তর পূর্ব লিটল ম্যাগাজিন সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র। সাহিত্যে শৈল্পিক রুচির খুবই প্রয়োজন। যা যথাযথ বিদ‍্যমান গোবিন্দ ধরের কাছে। উনার বাড়ি রাতাছড়া হলেও সারা ত্রিপুরা বইমেলা থেকে প্রকাশিত প্রায় সব বই কিনে আনতেন। ভালো মন্দ বিচার করে নয়, ত্রিপুরার প্রকাশিত বই এটাই তাঁর লোভ মোহ আর টান টান উত্তেজনা।পাঠক হিসেবে ও যে কতটা প্রগাঢ় ভালোবাসা বই এর প্রতি তা জানতে পারি যখন মেলাতে বসেই পড়তেন নেশার টানে। সংগ্রহ শালার জন্য কি কিনেন নি। পাঁচ টাকা দশটাকা থেকে শুরু করে অন্ধকারে প্রণামের ইচ্ছে হয় সবই কিনলেন বই মেলা থেকে। সন্তোষ রায়ের নদী মাতৃক, স্বরূপের ভিটামিন শুভেন চৌধুরীর বই আদি। ধর্মনগরের সন্তোষ দা'র নয়া পাড়ার ভাড়া বাড়ির প্রযত্ন আড্ডা থেকে আরও বই কিনে আনেন। ২০০৩ সালে সংগ্রহশালা কিছু দিনের জন্য কৈলাসহরের বৌলাপাশায় স্থানান্তরিত হয়। অল্প কিছু দিনের মাঝেই কুমারঘাট বর্তমান হালাইমুড়ায় নিয়ে আসেন। এখন এই বিপুল পরিমাণ বইয়ের সংসার "উদ্দিপ্ত গ্রন্থাগার থেকে সংগ্রহশালা তারপর নাম দিলেন "উত্তর-পূর্ব লিটল ম্যাগাজিন সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র"।

ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের এক দীর্ঘ ইতিহাস। তা জানতে পারি গোবিন্দ ধর সম্পাদিত 'ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন' বইটি পড়ে। গোবিন্দ দা'র এক সাক্ষাৎকারে জানতে পারি রবি, শ্রীভূমি পত্রিকা থেকে শুরু করে ৬০-৭০ দশকের উল্লেখযোগ্য পত্রিকা তথা বর্তমান পর্যন্ত সংগ্রহ করে আসছেন। আরও জানা যায় রবি পত্রিকা কে কেন্দ্র করে ত্রিপুরা সাহিত্য চর্চায় মোড় এসেছিল। বর্তমানে কুমারঘাট লিটল ম্যাগাজিন এর কেন্দ্র। কারণ এখান থেকেই প্রকাশিত হয় স্রোত, কবিতাঘর,দোলনা, সৃষ্টিলোক,মনূতট,সমকাল,বইবাড়ি, জয়িতা স্রোত.f, স্রোত.com,এখন সময়,তুলিকা,বাংলাভাষা, ঊনকোটি, অন‍্যভূমি,অন‍্যপাঠ,পারমিতা, কাব‍্যমুখ,উৎসব সমাচার, শ‍্যামালিমা,প্রয়াসী,। তাঁর অক্লান্ত সাহিত্য শ্রমই তাঁকে পরিচিতির আলোকে সারা বাংলা সাহিত্যের পাঠক গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে। 

ত্রিপুরার কুমারঘাটের শব্দ শ্রমিক গোবিন্দ ধর বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর এই উদ‍্যমশীল মনোভাব আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সোপান। এই শব্দ চাষীর বাংলা ভাষার প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালবাসা  এই প্রজন্মের অক্সিজেন। তাঁর এই গবেষণাকে লালা সেলাম।




উত্তর পূর্বের সাহিত্যের অন্যপাঠ স্রোত
সেলিনা হোসেন
স্রোত ও কবি গোবিন্দ ধরের সাথে  পরিচয় আমার শ্যামলীর বাসায়।কথাসাহিত্যিক  পদ্মশ্রী মজুমদারের সাথে পরিচয় আগরতলায় উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় কথাসাহিত্য উৎসবে ১৭ সালে।
তখনই দেখি স্রোতের ক্যাপশনে লেখা:
"যে ভাষায় কথা বলে নদী
পাখি গান গায়
কালস্রোত লেখা হয় পাতায় পাতায়।"
গোবিন্দ ধর থেকে জানলাম স্রোত সম্পর্কে। 
ত্রিপুরার প্রত্যন্ত গ্রাম রাজধর মানিক্যের স্মৃতি বিজড়িত রাতাছড়া থেকে ত্রিপুরার লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলন ও প্রকাশনার জগতে এক উল্লেখযোগ্য নাম "স্রোত "।গোবিন্দ বললো,ইতিমধ্যে তিমিরবরণ চাকমা অনুদিত চাকমা ভাষায়"গীতঞ্জলী" ও সেবিকা ধরের "মানবীবিদ্যার আলোকে নারী এক ভিন্নমাত্রিক পাঠ" প্রকাশের জন্য পর পর দু'বার ত্রিপুরা সরকারের শ্রেষ্ট প্রকাশনা পুরস্কার সহ শ্যামল ভট্টাচার্যের উপন্যাস "লোদ্রভার কাছাকাছি" পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হয় স্রোত।
সে এও বললো,"আমরা বই ছাপি, শুধু তা নয়,বই ছেপে প্রকাশ করি উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাহিত্য সৌন্দর্য।"

স্রোত পরিবারের আরো দু'টি প্রকাশনা:বইবাড়ি ও অন্যপাঠ।লেখকদের ভালোবাসায় ঋদ্ধ স্রোত।রজতজয়ন্তী বর্ষে আমিও শুভেচ্ছা জানাই।স্রোত ও গোবিন্দ ধর পরিচিত হোক বাংলাসাহিত্যের চিরায়াত ভূগোলে।


সুপ্রিয় গোবিন্দ ধর 
মঞ্জু দাস
সুপ্রিয় গোবিন্দ ধর। ব্যক্তিগত পরিচয়ের আগে থেকেই তাঁর 'স্রোত'প্রকাশনার সঙ্গে এবং তাঁর সাহিত্য কর্মের সঙ্গে আমার পরিচয়। অনেক বছর আগের কথা। আগরতলা বইমেলায়'স্রোত'-এর ছোটো স্টল। তারপর বৃহদায়তন স্টল । সময় এগিয়ে যায়। ধীরে ধীরে 'স্রোত'প্রকাশনার বৃহৎ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমার পরিচয়ের পরিসর বিস্তারিত হয়েছে।এই অবসরে তাঁর সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পরিচিত হয়ে চমৎকৃত ও মুগ্ধ হয়েছি।
তিনি একাধারে কবি, সম্পাদক,সংগঠক, প্রকাশক, সংগঠক, সঙ্গীত রচনাকার, নাট্যকার, গবেষক। অজস্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। নিজেকে সৃজনকর্মে ও প্রকাশনা কর্মে নিরলস নিমগ্ন রেখেছেন। ত্রিপুরার প্রকাশনার ভুবনকে মহিম করে তুলেছেন দৃপ্ত যৌবনের প্রখরতায়।

গোবিন্দ ধরকে জানার জন্য 'জলঘর','দ্রোহবীজ পুঁতে রাখি,একা'(কবিতা গ্রন্থ)র ভিতর দিয়ে ক্রমশ পাঠ জারি রাখতে হয়' শ্রীহট্টীয় লৌকিক সংস্কৃতি ও শব্দকোষ'(গবেষণা);'আত্মক্ষর','কেন লিখি'(গদ্য) ইত্যাদি।একক  ও যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে বহু গ্রন্থ।
তাঁর সৃজনশীল ব্যক্তিত্বকে খুব সংক্ষেপে  বলা যায়, তিনি পাঠকপ্রিয়তা অর্জনে সফল। পাঠকের সঙ্গে আত্মীয়তা বোধে জারিত। ব্যক্তি গোবিন্দ ধর স্বল্প ও মিষ্টভাষী,অনুচ্চকণ্ঠ অথচ স্পর্ধার অভাব নেই। প্রথাবিরোধী এবং সুচেতনাঋদ্ধ কবি গোবিন্দ ধরের সর্বপ্রকার সাফল্য ও হিত কামনা করি।



প্রথমবার কবি গোবিন্দ ধর সহ ভারতীয় তিন কবি ও সাহিত্যব্যক্তিত্ব বাংলাদেশে সম্মানিত
বিল্লাল হোসেন
শিল্প- সাহিত্য- সংস্কৃতি কোন সীমানা মানে না, মানে না প্রতিবন্ধকতা, মানে না পৃথকীকরণ, তা পৃথিবীর বুকে বারবার প্রমাণিত। ৯ এপ্রিল২০১৭ ইং রবিবার বিকাল ৫ টায় বাংলাদেশ বুক ক্লাবের উদ্দ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় 'বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০১৭ । এই বিষয়কে সামনে রেখে সুপ্রীমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের শহীদ শফিউল রহমান মিলনায়তনে  অনুষ্ঠিত হয় 'বাংলাদেশ- ভারত সংস্কৃতি বিনিময় অনুষ্ঠান'। এই অনুষ্ঠান মঞ্চে রাজ্যের বিশিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব একই সঙ্গে প্রকাশক লেখক প্রাবন্ধিক ও কবি গোবিন্দ ধর- কে সম্মানিত করে স্মারক তুলে দেওয়া হয়। ১১ এপ্রিল ২০১৭ইং মঙ্গলবার রংপুরের পীরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয় 'দক্ষিণ এশিয়া সাহিত্য-  সংস্কৃতি বিষয়ক সম্মেলন ২০১৭। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রকাশক ও কবি গোবিন্দ ধর- কে প্রকাশনার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় সম্মানিত করে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
১২এপ্রিল২০১৭,বুধবার রংপুরস্থিত পীরগঞ্জের ভীমশহরে ''বজ্রকথা" আয়োজিত 'এসোসিয়েশন ফর সাউথ এশিয়ান কালচার এন্ড লিটরেচার দক্ষিণ এশিয়ার কবি, লেখক, গবেষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ছাত্র- ছাত্রিদের মিলন মেলা' অনুষ্ঠিত হয় ভীমশহর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে আগত ব্যক্তিত্বদের অসংখ্য মানুষ ফুলের শুভেচ্ছা ও শুভেচ্ছা স্লোগানে অভ্যর্থনা জানায় এবং শুভাকাঙ্খীদের জনঢলে পদযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। রাজ্যের বিশিষ্ট  প্রকাশক ও কবি গোবিন্দ ধর, তরুণ কবি অভীক কুমার দে- অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হয়। রাজ্যের কবিদ্বয় মঞ্চে দীর্ঘ বক্তব্য প্রদান করেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরমাণু বিজ্ঞানী কবি ডঃ জসীম উদ্দিন।
১৪ এপ্রিল২০১৭ ইং শুক্রবার 'বরমা বৈশাখী মেলা উদযাপন পরিষদ' আয়োজিত হয় 'বরমা বৈশাখী মেলা-২০১৭'। বরমা ত্রাহি মেনকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বরমা উন্নতমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।
চট্টগ্রাম ইতিহাস গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি গবেষণার পক্ষথেকে 
প্রকাশক ও কবি গোবিন্দ ধর, ত্রিপুরা, ভারত,
কবি অভীক কুমার দে, ত্রিপুরা, ভারত,
কবি ফাল্গুনী চক্রবর্তী, মেঘালয়, ভারত- কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।
১৫এপ্রিল ২০১৭ইং, শনিবার কুমিল্লার চান্দিনায় ডাকবাংলা অডিটরিয়ামে কন্ঠসাধন আবৃত্তি পর্ষদ আয়োজিত 'কন্ঠসাধন নবম বছর পূর্তি ও বর্ষবরণ উৎসব ২০১৭ অনুষ্ঠানে প্রকাশক ও কবি গোবিন্দ ধর- কে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
১৬এপ্রিল ২০১৭ইং, রবিবার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষাচত্বর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সাহিত্য একাডেমি আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী '৩১তম বৈশাখী উৎসব ১৪২৪' অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিন। আলোচনা বিষয়ক অনুষ্ঠানে রাজ্য থেকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন প্রকাশক ও কবি গোবিন্দ ধর ও কবি অভীক কুমার দে। "বাংলা উপন্যাসে তিতাস ও পরবর্তী জেলে জীবন" বিষয়ক অনুষ্ঠানে কবিদ্বয় অংশগ্রহণ করেন। সঙ্গীতানুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন শিল্পী মায়া রায় ও পারিজাত দেব।
বাংলাদেশের উষ্ণ সম্মাননা প্রদান রাজ্যের সাহিত্য চর্চার অগ্রগতি হলো।



প্রসঙ্গ: বইপুত্র গোবিন্দ ধর, দেওনদী এবং কবি চৈতন্য ফকির :
দেবব্রত সেন ( বাংলাদেশ )
যুগে যুগে  লিটল ম্যাগাজিন কিংবা ছোট কাগজ বিশ্ব সাহিত্যের অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। খ্যাতিমান এবং সৃজনশীল অনেক লেখক সাহিত্যিক এ লিট্ল ম্যাগাজিন এর কল্যাণে পৃথিবীবাসীকে তাঁদের নৈবদ্য নিবেদন করেছেন। প্রতিশ্রুতিবান এবং সৃজনশীল লেখক তৈরিতে ছোট কাগজের কোন বিকল্প আজ পর্যন্ত খুঁজে পাইনি। এমনি ধারার একজন মানুষের দেখা পেয়েছি এ পৃথিবীর পথে, তিনি বইপুত্র গোবিন্দ ধর। সেবার তিনি যখন চট্টগ্রাম এলেন তখন চট্টগ্রামের লিট্ল ম্যাগাজিন সংগ্রাহক শ্রদ্ধেয় কমলেশ দাশগুপ্ত আমাকে প্রথম শুনিয়েছিলেন তাঁর কথা। ছোট কাগজের প্রতি আমার দুর্বলতার কথা তিনি জানতেন। ছোট কাগজ করতে গিয়ে নানা ঘাত প্রতিঘাত এবং আর্থিক অনটনে বিপর্যস্ত হয়ে বারবার বিফল হয়েছি। তাই কমলেশদার কাছে তাঁর কথা শুনে আমি তাঁর সাথে যোগাযোগ করার উদ্যোগ নিই এবং একসময় ফোনে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। জানতে পারলাম তিনি শুধু ছোট কাগজ সম্পাদকই নন রীতিমতো একজন সংগ্রাহক এবং অনেক ছোট কাগজের সম্পাদকের নির্ভরতার স্থান। সেই থেকে তাঁর প্রতি আমার অন্যরকম এক ভালোবাসা অনুভব করতে থাকি।


একবার তিনি বাংলাদেশে আসবেন জানালেন। আমিও চাইছিলাম তাঁর সাথে যেন আমার দেখা হয়। সে কথা জানলামও তাঁকে। কুমিল্লা এবং ঢাকা কবিতা পরিক্রমা শেষে ফিরে যাবেন। যাওয়ার পথে তিনি এলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া। চট্টগ্রাম আমার জন্মস্থান হলেও কর্মসূত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আমার অবস্থান। প্রিয়ভাজন অভীক কুমার দের কথায় 'ভাতের জন্য'। তখন পর্যন্ত আমি গোবিন্দ ধরকে দেখিনি। অপেক্ষা করছি স্টেশনে। শীতের রাত, সেদিন যেন শীতের আমেজ টা একটু বেশিই ছিল। অবশেষে তিনি এলেন। সাথে দুই বন্ধু অভীক কুমার দে এবং অপাংশু দেবনাথ। অন্যরকম একটি রাত। সকালের জলখাবারের টেবিলে  এসে যোগ দিলেন পরম শ্রদ্ধা ভাজন জয়দুল হোসেন যিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য এবং সংস্কৃতি অঙ্গনে সূর্যের ন্যায় আলো দিয়ে যাচ্ছেন। গল্প আড্ডায় মেতেছিল শীতের সকালটা।    

এরপর অনেকবার দেখা হয়েছে গোবিন্দ ধরের সাথে, পরিচিত হতে পেরেছি তাঁর সৃষ্টি এবং স্বপ্নের সাথে। 

 উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন বইয়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। সম্ভবত পিতার বইপ্রীতি এবং পাঠ অভ্যাস থেকে তাঁর ভেতরেও তৈরি হয় সাহিত্যের প্রতি ভালবাসা। সেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ চৈতন্য ফকির এর 'দেওনদী '। 

" কবিতা আমার কাছে সাবলীলভাবে ধরা দেয়, আমার কবিতায় বুদ্ধির কোনো চকমকি নেই। হৃদয়ের গহন থেকে ঠিক যে রকম আসে আমি তাকে খুব একটা কাটাছেঁড়া করিনা। আমিও চাই আমার কবিতা সহজ সরল হোক।  কঠিন কঠিন শব্দ চয়ন আর মায়াজাল ছেদ করে সাধারণ পাঠকের কবিতায় পৌঁছাতে না পারার অপবাদ থেকে উত্তরণ চাই। এরকম চাওয়াটাই আমার স্বকীয়তা "- এমন কথা যিনি বলতে পারেন তিনি গোবিন্দ ধর। ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সর্বোপরি মানুষের প্রতি যে ভালোবাসা তাঁর বুকে দেখেছি তা আমাকে সদা অনুপ্রাণিত করে।

ত্রিপুরার কুমারঘাটের কোন এক প্রত্যন্ত গাঁ থেকে উঠে এসেছেন দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে। দারিদ্র্য তাঁকে থামাতে পারেনি, চষে বেড়াচ্ছেন দেশ বিদেশ শব্দের সন্ধানে ভালোবাসার টানে।গোবিন্দ ধর শুধু ছোট কাগজ স্রোত এর সম্পাদকই নন  তিনি কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক এবং প্রকাশক। তাঁর শ্রীহট্টীয় লৌকিক সংস্কৃতি ও শব্দকোষ ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহায়ক বাংলা ব‌ই হিসেবে বিশেষ স্থান পেয়েছে। তাঁর সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ ত্রিপুরা রাজ‍্যের সীমা ছাড়িয়ে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রেখা অতিক্রম করে নিয়ে গেছে বাংলাদেশের বৃহত্তর পাঠকের প্রতিটি হৃদয়ে। কবি গোবিন্দ ধরের এই উদ‍্যমশীল মনোভাব আমাদেরকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সাহস যোগায়। তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। কতো অগনিত তারাকে উজ্জ্বল আলোকে নিয়ে যেতে কত স্বপ্ন দেখেন তিনি। তাঁর একান্ত আন্তরিকতায় আমরাও আরো আরও সামনে এগিয়ে যেতে সাহস পা‌ই। যিনি নিজেকে একজন পরিশ্রমী কৃষক কিংবা শ্রমিকের মতো মনে করতে পারেন সেই শব্দ শ্রমিকের প্রতি আমার অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা। তিনি ভালো থাকুন সবসময় সৃজনে ভালোবাসায় শ্রদ্ধায় মমতায় এ আমার ঐকান্তিক প্রার্থনা। 

কবি  ও প্রকাশক গোবিন্দ ধর 
আলমগীর  মাসুদ
সমাজ ও পৃথিবীকে দিয়ে যান নিজের সকল সৃষ্টি, এমন মানুষ খোঁজলে খুব কমই পাওয়া যাবে সমাজঘরে। আর এই কমের মাঝেই আমরা গোবিন্দ ধর নামের বড়ো একজনকে খুঁজে পেয়েছি। হ্যাঁ গোবিন্দ ধর। তিনি একজন কবি ও প্রকাশক। আর যে গুণটি তাঁর মাঝে বিদ্যমান, তিনি নিজেকে সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে জানেন। আর এই জানাটাও কিন্তু একজন সৃষ্টিশীল মানুষের আবিষ্কারের জ্ঞান ফল বলা যায়।

কবি গোবিন্দ ধর নিজের জন্য যা করেন, তারচেয়েও বেশি ভাবেন সমাজ এবং মানুষের জন্য। আর মানুষের কাছ থেকে যা আশা করেন, তা শুধু ভালোবাসাটা। হ্যাঁ, কবি গোবিন্দ ধরকে ভালোবাসার কাঙাল কবি বললে একটুও ভুল হবে না। কারণ পৃথিবীর ঘরে সৃষ্টির পথে টিকে যাওয়া মানুষগুলো তো কেবল ভালোবাসাই খোঁজে। সেদিক থেকে বলবো, প্রিয় গোবিন্দ ধর সঠিক পথেই আছেন।

কবিতা বলি কিংবা প্রকাশনা, দুটোতেই তিনি সমান জনপ্রিয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবেও নিজেকে তৈরি করতে বেশ সক্ষম হয়েছেন। তাই দক্ষ হাতে 'স্রোত' সম্পাদনা করে পেয়েছেন খ্যাতি। আমরাও কামনা করছি, প্রিয় গোবিন্দ ধরের সকল সৃষ্টি জিইয়ে থাকুক শিল্পের সত্যঘরে।


একটি পাহাড়ি ছলছলে নদীর নাম "স্রোত" 
রাজীব মজুমদার 

"স্রোত" বললে চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি জোয়ার - একটি বেগবান বৈভব রাশির উজ্জ্বল বয়ে চলা। কান পাতলে শুনা যায় কৃষ্টির সশব্দ ডাক, বাতাসে আঁচ লাগে অমায়িক মাটির গন্ধ । 
একটি প্রকাশনা যখন প্রকৃতপক্ষে প্রকৃতির মতো পাহাড়ি ত্রিপুরার বুকে উৎপন্ন হয়ে স্বতঃস্ফূর্ত ঢেউ নিয়ে নানান চড়াই উতরাই পার করে বাংলা সাহিত্যের একটি উজ্জ্বল নাম হয়ে ওঠে, ত্রিপুরা সাহিত্যের কৈশোর দশায় সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য এক বিজ্ঞতম পাঠাভ্যাসের উৎকৃষ্ট মঞ্চ গড়ে তুলে, তখন বলার অপেক্ষা রাখে না, এই স্রোত বহু - বহুদূর গড়াবে। 
ত্রিপুরায় এ অবধি অনেক ছোট বড়ো প্রকাশনী নিজ নিজ আয়োজনে নানা উচ্চতা তৈরি করেছে l "স্রোত" এই কারণে এদের মধ্যে ব্যতিক্রম - লেখা নির্বাচন - গঠনগত দৃষ্টিভঙ্গি - শিল্পবোধ সব মিলিয়ে পাঠকবর্গের অন্তরপ্রিয় হয়ে ওঠেছে l ত্রিপুরার প্রকাশনার জগতে পূর্বের পুরাতনী ভঙ্গিকে পেছনে ফেলে 'স্রোত' নতুন এক চমক তৈরি করেছে নিঃসন্দেহে l
প্রতিষ্ঠিত লেখকবর্গের পাশাপাশি 'স্রোত' তরুণ লেখকদের যেভাবে মধ্যগতিতে নিয়ে আসছে, স্বীকার করতেই হবে এই নদীর গভীরতা অনেক বেশি। 
শুভকামনা জানাই, অগণিত পাঠকের হৃদয়ে হৃদয়ে প্রবাহিত হয়ে ত্রিপুরার সাহিত্যকে ভাষা নির্বিশেষে একাকার করে অবিরাম  'স্রোত'  ভারতীয় সাহিত্য সমুদ্রের বুকে উন্নীত হোক। 

পরিশেষে, 'স্রোত' পরিবার সুন্দর ও সফল হবে, এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

বাংলা ভাষা .স্রোত নিবেদিত কবিকে আজকের দিনের উপহার

কিছু কথা কবির প্রতি
রূপন মজুমদার (সম্পাদক )

আপনাকে নিয়ে লেখার মতো আমার কিছুই নাই, কারন সমুদ্রকে নিয়ে কোনো ভাবেই লেখা সম্ভব নয়, সমুদ্র নিজেই সহস্র কোটী উপন্যাস।

শুধু এত টুকুন লিখতে পারি সাহিত্যের জীবনে আপনার এত স্নেহ কখনোই ভুলতে পারবো না। কবি শ্রদ্ধেয় বিজন বোসের হাত ধরেই প্রথম স্রোতকে চেনা। এই যেন আমার জীবনে সব থেকে বড় উপহার।

আজ আপনার জন্মদিন 
ঘুটি ঘুটি পায়ে ৪৯ টা বছর আপনার কেটে গেলো আগামী কালের সূর্যদয়ে এক নতুন পথচলা শুরু আপনার, অতীতের সব খারাপ স্মৃতি ধুয়ে যাক, শ্রাবণের পবিত্র বারিধারায়, বাকি জীবন হয়ে উঠুক, আরো আরো সুন্দর, 

আপনার ভালো থাকা আমার চোখে ঘুম।
প্রনাম রইলো আজকের দিনে আপনার পবিত্র চরণে।


প্রিয়জন
মৃধা আলাউদ্দিন
(উৎসর্গ : প্রিয় কবি ও সম্পাদক গোবিন্দ ধর)

স্রোতে সাথে ভাসতে ভাসতে চলে যাই
নদী থেকে নদীতে দূর দিগন্তে 
আগরতলা, বিলোনিয়া, উদয়পুর... রাতাছড়ায়।

কুড়াই মণি-মানিক্য, মালা গাঁথি রোদের মালা।

আড্ডা দেই মোয়াজ্জেম আলির বাসায়।
জরি, জোছনা ও কবিতার আড্ডা;
এবং একদিন মনের অলকানন্দা থেকে বেজে ওঠে 
অ আ ক খ গ ঘ ঙ... রোদের পান্ডুলিপি 
এই ব্রজবনে, বৃষ্টির শহরে রাতাছড়ায়।



হে গোবিন্দ ভজন বিহারী 
সঞ্জীব দে

রাজধর মানিক্যের স্মৃতি যাঁর বুকে 
দেও'র চঞ্চলতা, পুর্বপূরুষের ঘ্রাণ যার হৃদয়ে জুড়ে 
সে অনিবার্য সমুদ্রগামী, 

  তর তর পাল উড়িয়ে -----
পথে পথে কত ঝড় তুফান ভারী 
চড়াই উতরাই স্থির মনে
  সামলে তরী লক্ষে অবিচল ---
 আরো দূরন্তগামী  -----স্রোতের ভিতর স্রোত! 

হে গোবিন্দ ভজনবিহারী 
 খোলা হৃদয়ের স্রোতে মিলনবসন্ত বিলাসী! 
এই বিলাস দায়বদ্ধতার! শুদ্ধতার! সততার! 

হে কান্ডারী! পঞ্চাশটি গ্রীষ্ম শুধু তাপদাহ নয়! 
দৃঢ়হৃদয়ের -- ত্যাগ ও ধৈর্যের সমাহার!  
মৃত্যুকে খুন করে মৃত্যুঞ্জয়ের নিরলস যাত্রা ! 

নিজেকে প্রমান করার নিরলস প্রক্রিয়াই  
যেহেতু জীবন!
 অব্যর্থ সংগ্রামে পঞ্চাশটি গ্রীষ্মের তাপ 
সৃজন উৎসবে বসন্ত পল্লবে মুকুলিত হবেই --
সবুজে সবুজে ভরে উঠবে-ই
পৌঁছে যাবে অনন্তদিগন্তব্যপী হাসনাহানার ঘ্রাণ। 

স্রোত - মাঝির রক্তে রক্তে গড়ে ওঠা 
  সৃজনবীনা সত্যের সন্মূখে বাজবে 
আবহমান বাংলার জমিন ছাড়িয়ে বিশ্বচরাচর!




মহাশয়ের প্রতি আমাদর  একরাশ শ্রদ্ধা জানিয়ে আজকের কবিতা—
আপনার অবদান আমাদের থাকবে মনে
চিত্তরঞ্জন দেবভূতি

যাঁর লেখনী দিয়ে মুক্তোর মতো শব্দ ও ভাবনা বের হয়,
লেখক,কবি ও সম্পাদক—গোবিন্দ ধর সেই নাম!
আজ আপনার জন্ম দিনে,
আমরা হাজার প্রণাম জানালাম৷
বাংলা ভাষার জন্য কত অবদান,
প্রিয় পাঠক সমাজ জানে,
সমগ্র উত্তর পূর্ব ভারত
আর বাংলাদেশে,
আপনার নাম ছড়িয়ে আছে নানা অবদানে৷

আপনার মনে এতো ভালোবাসা,
আমাদের মনে জেগে ওঠে আশা,
কত কাজ করে চিহ্ন রেখে গেলেন ,নিয়ে বাংলা ভাষা৷
ভালো থাকুন কবি,সুস্হ থাকুন,
 এই প্রার্থনা করি ঈশ্বরের কাছে,
প্রবাহমান নদীর মতো জীবন ছুটে চলুক—
কর্মময় জীবন সত্য,বাদবাকী তো সব মিছে৷



জীবন স্রোত
গোপাল দে
অন্দ্ধের যষ্ঠি তুমি 
ঊষার দিবাকর।
সাহিত‍্যের তুমি পথপ্রদর্শক
পূর্ণিমার শশাকর।।
নতুনের ডাকে সাহিত‍্য রচনা
নতুনের জয়গান।
নতুনের পথের দিশারী তুমি
কর নতুনের আহ্বান।।
জীবনস্রোতে ভাসাইলে গা
দিলে নতুন জীবন।
চিরকাল রাখবে মনে
বাংলার বিশ্বভুবন।।
সাহিত‍্যের পূজারী তুমি
স্রোতের কর্ণধার।
জন্মদিনে শ্রদ্ধা ছাড়া 
কি আছে দেবার।।


কবি  গোবিন্দ ধর 
সংগীতা গুপ্ত 
তোমার সম্মুখে ঊর্ধ্বাকাশে আননখানি তুলে ধরেছ, রক্তিম আভায় আলোকিত ভোরের রবি,
উন্নত উদার চিত্তে নিজেকে মেলে ধরে ,
তোমার কীর্তিতে হয়েছো তুমি দীপ্তিমান।
সৃষ্টির অলঙ্কারের মধুর শিঞ্জনে
অন্তরে অন্তরে আনন্দলহরী তুলে হয়েছ তুমি মহান। নাও,তুমি আমার আনন্দ প্রণাম ।



দাদার জন্মদিনে
যোগমায়া গোস্বামী।
জন্মদিনে তোমায় দাদা ছোট্ট উপহার
ছন্দে ছন্দে কাব্য কথায় প্রণমি বার বার।।

হাসি মুখে সারাজীবন মোদের পাশে থেকো 
মনের মণিকোঠায় মোদের ধরে শুধু রেখো।।

দাদা তুমি সুখে থেকো - এই কামনাই করি
হাসি খুশি আনন্দেতে সাজুক জীবনতরী ।।

বছর ঘুরে আসে যেন দিনটি ফিরে ফিরে 
তোমায় নিয়ে করবো মজা খাবো পেটপুরে।।

 দাদা আমার সহজ সরল পরকে করে আপন
 মায়ার ডোরে বেঁধে রাখা এমনি দাদার মন।।

জীবন তোমার উঠুক সেজে দূর হোক ভয়
নীতির পথে থাকবে অটুট হবেই তোমার জয়।।

এই মিনতি প্রভু ওগো তোমার শ্রীচরনে
দাও ছড়িয়ে খুশীর আলো দাদার জীবনে।।




অন্ আর কেঅ কোলাকুলি করেনা
বিজন বোস
দিনদুপরেই ডর ,
কেঅ কারোমুই চায় না
দেইখলেঅ কতা কয় না ।
না , এই ডর হেই ডর -ন
রাস্তাত হিগিনের ডর আইজকাল নাই
ত ডর , মানুষ দেইখলেই  ডর।

যে সখীরে দিনে তিনবার ন-দেইখলে
হরানখান কেমন কেমন কইরতো
অন্   অনলাইনে  কয় 'ঘরে থাক '।

একদিন সমাজ ভুলি 
মানুষ মানুষেরওুন  দূরে  সরি যারগইবুলি
কত দুখ্খ কইরতো,
ঘৃণা কইরতো ' মুখোশ'-রে  ।

আইজকাল মুখোশের বরঅ কদর!
দেখা অইলে অন্ আর কেঅ কোলাকুলি করেনা ....



অন্তরের পাখি 
রুবেল হোসেন

লুপ্ত বীজকে বিকশিত করা
তুমিই মহান পুরুষ, 
সাত সাগরে ডুব দেওয়ালে
ছিলনা মোর হুঁশ। 
পাখির গানে কোকিল কন্ঠে 
করলে শুধু ধোঁয়া, 
বছর ঘুরে ফিরে আসা 
জন্মদিনের ছোঁয়া। 

আজ না হয় জন্মদিন 
ভরে উঠুক অন্তর, 
আমার মনে স্পন্দন হয়ে 
থাকবে নিরন্তর।
ছাড়বো না আমি কোনো মতেই 
রাখবো আমার বুকে, 
প্রতিদিন জন্ম তোমার 
নব নব রূপে।


জন্মদিন 
পরিমল দাস 

মহান কবি কথা সাহিত্যিক, 
শ্রী গোবিন্দ ধর
শুভ জন্ম দিনে তোমাকে জানাই, 
বুক ভরা ভালোবাসা। 
"বাংলা ভাষা কে "সমৃদ্ধ করেছ, 
তোমার লেখনি দিয়ে, 
তাই তো আজ "বাংলা স্রোত ",
মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে। 
আজ দেখতে দেখতে 50 বছর, 
পার করে এলে, 
তোমার লেখা বেঁচে থাকবে, 
"বাংলা ভাষা "-র পেজে। 
বাংলা ভাষার পাথুরে ভুমিতে, 
করিলে যে সিনচন, 
তোমার অবদান মনে রাখবে, 
বাংলার পাঠক গন। 
আজীবন তুমি বিলিয়ে দিয়েছ নিজেকে, 
সাহিত্যের মাঝে, 
আজ ও তাই "বাংলা ভাষা "আছে, 
মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে।



বাংলাদেশ থেকে শিমুল পারভীন ভিডিও শুভেচ্ছা

শুভেচ্ছা বার্তা কবির প্রতি



দিল্লি থেকে কবি জয়শ্রী রায় ভিডিও শুভেচ্ছা বার্তা 


শুভেচ্ছা বার্তা  কবির প্রতি

            ❤❤ ধন্যবাদ ❤❤

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ