চারখানি রুটি আর চাঁদের আলো // শক্তি দত্ত রায়


পেট ভরেনি ফাগুয়ার

সোমারি বুঝেছিল, জোয়ান মরদটার ক্ষুধা মিটে নাই।

আরো কটা চাপাটি তার চাই

বুক শক্ত করে চোখের জল লুকিয়ে চাপাটি গুলো সামলেছিল।

নিজের পেটেও ক্ষুধা খুব

মাথার ওপর কাঠফাটা রোদ পায়ের তলায় তেতে ওঠা বালু।

দলটা হাঁটছিল তেষ্টার জল ছাড়া

একটুখানি আচার চারখানি রুটি পেটে পুরে ঘরের পানে দুর্গম পথে।

সোমারি রুটি লুকিয়ে রেখেছিল

গুপ্তধনের মতো, যখের ধনের মতো, ছানা দুটো তো সকালে চাইবেই।

কচিপেটে ক্ষুধা নিয়ে কি করে চলবেক

লক্ষ্মীছাড়া গাঁও, দুঃখী মেয়ে মরদ তবু ওরাই মা বাপ ওদের ও মা বাপ আছে।

পাও চলে না, ঘুমে চোখ বুজে আসে

চারিদিকে ঘাস আগাছা, রেললাইনের ওপর হা ক্লান্ত শরীর ছুঁড়ে ঘুমিয়ে পড়ে সব।

লকডাউন। গাড়ি আসবেক নাই

গাড়ি তো না ওদের ভাগ্য, নির্দয় দৈব হুড়মুড় করে ছুটে আসছে, পেটে খুব ক্ষুধা।

হা ক্লান্ত হতভাগ্য মানুষগুলো ঘুম ওধাও

চাঁদের রাতে অন্ধকারের মধ্যে চেঁচায়, এ ওকে ডাকে, মেয়েরা ডুকরে কাঁদে।

ফাগুয়ার গামছা ওই দেখা যায় লালে হলুদ

চাঁদের আলোয় লুটিয়ে পড়ে আছে শুখা চাপাটি, চোখের জলে মেখেছিল সোমারি,পোকা গুলো বেছে নিয়েছিল যত্নে

ছানা দুটো? ছানা দুটো কোথায় গেল, হতভাগ্যের বুকের ধন হতভাগীর নাড়ি ছেড়া ।

চাঁদের আলোয় গড়িয়ে কাঁদে রুটি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ