কোঁদল. (ছোট গল্প) রীতা ঘোষ
কেউ বলে কুঁদুলে বাড়ি, কেউ বলে মাতালের বাড়ি। অবশ্যই আড়ালে বলে। মাতালকে যদিও সামনাসামনি মাতাল বলা যায়, কুঁদুলে শাশুড়ি - বৌয়ের সামনে এই শব্দটি উচ্চারণ করার মতো বুকের পাটা কারো নেই। প্রতিবেশীরা বলে - ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই শাশুড়ি বৌ মনে মনে ঠাকুরের নাম নেবার পরিবর্তে কে কাকে কীভাবে জব্দ করবে, এই ফন্দি আঁটতে থাকে। আর বাপ ব্যাটা অর্থাৎ বৃন্দাবন সাহা ও জেষ্ঠ পুত্র শঙ্কর - এদের খেল শুরু হয় রাত ঘনালে।
বৃন্দাবন সাহা যৌবন বয়সে কায়িক পরিশ্রমে ভালোই রুজি রোজগার করতো। কিন্তু মা ষষ্ঠির অশেষ কৃপায় পরিবারের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেতেই লাগলো। সচ্ছল ভাবে চলার উপায় ছিল না। এর মাঝে একটু আধটু রঙিন পানীয়ের প্রতি আসক্তি ছিল।
মা ষষ্ঠির বরদান নেওয়া বন্ধ হলো প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে সরকারি উদ্যোগে পুরুষদের নির্বীজ করানোর পর। বৃন্দাবন প্রথমে ভয়ে যেতেই চায়না হাসপাতালে। ওর মতো অনেকেই আছে, যারা ভয় পায়। এলাকার পঞ্চায়েত মেম্বার একদিন পাড়ায় ছোট্ট মিটিং করে এই বিষয়ে পুরুষ দের বুঝিয়ে বললো। একজন চিকিৎসকও উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসকের কথায় সবাই ভরসা পেলো।
বৃন্দাবনের চার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, তিনছেলে, বড় ছেলে শঙ্কর এখন মাত্র বাড়িতে থাকে। ছোট দুটো ক্লাস নাইন টেন অব্দি পড়াশোনা করে, বাড়ির এই পরিবেশ সহ্য করতে না পেরে বাড়ি থেকে পালালো। ওদের বয়েস কম হলেও বাড়ির এই অস্থির পরিবেশ ওরা সহ্য করতে পারছিলনা। ওদের মনে শিক্ষার ছোঁয়া, আধুনিকতার ছোঁয়া। ওদের বাবা এক মাতাল, বড়দাও এক মাতাল। মা এবং বৌদির কলহের দাপটে বাড়িতে তিষ্ঠোনো কঠিন। এই পরিবেশের পরিবর্তন ওরা চেষ্টা করেও বদলাতে না পেরে দু ভাই অবন ও পবন বাড়ি থেকে পালালো। দিদিরা পারতপক্ষে এই বাড়িতে আসেনা।
শঙ্করের দুটো ছেলে, সৈকত ও সাগর। শঙ্কর অটো ভ্যান চালায়, রুজি রোজগার মোটামুটি ভালোই। কিন্তু হলে কি হবে, নেশার কবলে যে বন্দি হয়ে আছে। ভালো মানুষেরা কতো বোঝায় - 'ওরে শঙ্কর, নিজেকে বদলাতে চেষ্টা কর। ছোট ভাই দুটোকে দেখে তো শিখতে পারিস। ওরাতো শুনলাম গৌহাটিতে চাকরি করছে নাকি? তুইও তো ভালোই রোজগার করিস। নিজ ছেলে গুলোর কথা ভাববিনা? আগের দিনতো নেই যে কোনমতে দিন আনি দিন খাই করেই চলবে। বাচ্চা গুলোকে পড়াশোনা শেখাতে হবে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবেতো। সময় থাকতে সতর্ক হতে হবে। '
দিনের বেলা শঙ্কর একদম ভালো মানুষ। কথায় সায় দিয়ে বলে - 'ঠিকই বলেছো, ছেলে দের ঠিক মতো মানুষ করতে হবে। নাহলে ভাই দুটোর মতো বাড়ি থেকে পালাবে।'
বৃন্দাবনের বয়স হয়েছে, এখন কাজকর্ম তেমন কিছু করেনা, আবার বসেও থাকেনা। হাট বারে বাজারে গিয়ে কম দামে কাঁচা সব্জি কিনে পাইকারি দের কাছে একটু বেশি দামে বিক্রি করে।যা পায়, এতে তার হাত খরচ চলে যায়। সংসার খরচ শঙ্করই চালায় বেশির ভাগটা। তাই বৃন্দাবনের নেশার প্রতি আসক্তি আরোও বেড়ে গেছে।
শঙ্কর খুব শপথ নেয় মনে মনে আর মদ্যপান করবেনা বলে, কিন্তু নিশা দেবীর আগমন হলেই মনের শপথ মনের ভেতর ঘুমিয়ে পড়ে।
অবন ও পবন দু ভাই-ই বিয়ে করে সংসারি হয়েছে। রাগ করে বাড়িতে আসেনা।
বিয়ে করার সময় বাড়িতে খবর দিয়েছিল, কেউ যায়নি। লজ্জায়, না ক্ষোভে ওরাই বলতে পারবে। ছেলেদের আগমন বার্তা শোনে বৃন্দাবন মনে মনে প্রমাদ গোনে। কারণ ওরা এসে দেখবে ওদের বাপের কোন পরিবর্তন হয়নি, ওদের দাদারও কোন পরিবর্তন নেই, এটা লজ্জার ব্যাপার। শঙ্করকে শাসন করবেকি, নিজেকেই তো বশ করতে পারছেনা। দুই পুত্রবধূ নতুন আসছে শ্বশুর বাড়িতে, এরাই কি বলবে। নাঃ, আজ থেকে সন্ধ্যের পর বাড়ি থেকেই বেরোবে না। দেখি কোন ব্যাটা ওকে শুঁড়ি খানায় নিয়ে যায়।
শঙ্করের মা ভাবছে, যাক্ ক'টা দিন শান্তিতে থাকা যাবে। শঙ্করের বউ মলিনা যা ঝগড়াটে! ওরা আসলে মুখটা যদি কদিন বন্ধ রাখে।
মলিনা মনে মনে ভাবছে, দেওর গুলো ওর স্বামীর মতো হাড় বজ্জাত নয়। বাড়ি থেকে চলে গিয়ে ওরা রক্ষে পেয়েছে। শ্বশুরটাতো মেনী মুখো, সারাদিন ভালো মানুষ। শাশুড়ি যে সারাদিন চোপা নাড়ে, মুখে টু আওয়াজটিও নেই। সন্ধ্যের পর রাজা সাজে। শ্বশুরের গুনবতী পত্নী কোন মুখে আবার বড় বড় কথা বলে। নিজের স্বামী এক মাতাল, গুণধর পুত্রও এক মাতাল। জীবনটা শেষ হয়ে গেলো ওদের পাল্লায় পরে। রাত পোহালেই শুরু হোলো গলাবাজি। ঝগড়াটে এক নম্বরের। দেখতে দেখতে, শোনতে শোনতে কতোই আর চুপ থাকা যায়। এখন নিজের দোষ না দেখে মলিনাকে বলে ঝগড়াটে বউ। দেওররা বাড়ি এলে এর একটা হেস্ত নেস্ত করতে হবে। কেজানে ওদের বউরা কেমন।
আজ প্রতিবেশীরা একটু অবাক হয়। কী ব্যাপার, কোঁদল বাড়ি আজ যেনো চুপচাপ! পাখ পাখালি যেনো নিশ্চিন্ত মনে ওদের বাড়ির সীমানায় বসে গান গাইছে! ব্যতিক্রমী চিত্র। শঙ্করের মা অথবা ওর বউয়ের অসুখ বিসুখ হলো নাকি? পরের বাড়ি নিয়ে কৌতূহলী প্রতিবেশীর অভাব নেই। নেকুর মা বার কয়েক গেটের বাইরে থেকে উঁকি ঝুঁকি দিয়েও কিচ্ছু বুঝতে পারলোনা। তাজ্জব ব্যাপার! শাশুড়ি - বৌয়ে চুপচাপ কাজ করে যাচ্ছে। একজন উঠোন ঝাঁট দিচ্ছে তো আরেক জন ঘর ঝাঁট দিচ্ছে, একজন বাসন মাজছে তো আরেক জন চায়ের জল চাপিয়েছে।
বৃন্দাবন মোড়াতে বসে বিড়ি ফুঁকছে।আজকের এই ভিন্ন চিত্র দেখে কৌতূহল আরো বেড়ে গেলো। বাঁশের গেট খোলে নেকুর মা ভেতরে প্রবেশ করে - 'ওগো শঙ্করের মা, তোমাদের বাড়িতে আজ কোন অনুষ্ঠান আছে নাকি? শাশুড়ি - বৌ মিলে সকাল থেকে কাজ করেই যাচ্ছো চুপচাপ।'
নেকুর মাকে ওরা সমীহ করে। বামুন বাড়ির গিন্নী, গৃহকর্তাও শিক্ষিত মানুষ। অন্য কেউ হলে শঙ্করের মা খরখর করে ভালো করে শুনিয়ে দিতো। শঙ্করের মা হাসি মুখে বেড়িয়ে আসে -' আজ যে আমার ছেলে বৌরা আসছে গো। দুপুরের মধ্যেই এসে পৌঁছুবে। কতোদিন পর ছেলে গুলো বাড়ি ফিরছে, কে জানে আবার চলে যায় নাকি। তিন ছেলেই যদি বাড়িতে থাকে, বাড়িটা কেমন ভরাট হয়ে থাকবে। এখন দেখছো তো বাড়ির পরিবেশ। বড় বৌটার চোপার ধারে কাক পক্ষিটি তিষ্ঠোতে পারেনা।'
নেকুর মা সুযোগ পেলো-' তোমার ছেলে গুলো কি সাধে বাড়ি ছেড়েছে? সত্যি কথা বললেতো হাঁড়ি মুখ বানিয়ে রাখবে। বাপটা যেমোন, তোমার শঙ্করটাও তেমনি। বাপের কথা বাদ দিলাম, শঙ্করতো এ যুগের হাল চাল দেখছে। সে বুঝেনা নেশা করলে সংসার উচ্ছন্নে যায়? ওর দুটি ছেলে যখন বড় হয়ে দেখবে দাদু আর বাবার এই অবস্থা, আমার তো মনে হয় ওরাও বাড়ি থেকে পালাবে। শঙ্কর ছোট ভাই গুলোকে দেখেও তো শিখতে পারে। আর বৌকে দোষ দিচ্ছ কেনো, সংসার করতে এসেছে স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে ঘর সংসার করবে বলে। চোখের সামনে দেখেছে দেওর দুটো বাড়ির এই পরিবেশের জন্য ঘর ছেড়েছে। তা অবন, পবনরা এখন কি করছে, বাড়িতে টাকা পয়সা পাঠায়?'
শঙ্করের মা এতো কথা শোনেও কোনো প্রতিবাদ করেনা বা বিরক্ত হয়না। সবই তো সত্যি কথা। সে নিজেও স্বামীর ঘর করতে এসেছিলো শান্তিতে সংসার করবে বলে। কি শান্তি পেলো? স্বামী এক মাতাল, শঙ্করটাও বাপের পথ অনুসরণ করলো।
নেকুর মা মোড়াতে বসে চারদিকে চোখ বোলাচ্ছে। কী শান্ত পরিবেশ, কেনো যে ওরা মিছিমিছি বিবাদ করে।
শঙ্করের মা বলে-'অনেক দিন পর ঘরে শান্তি এসছেগো। আমার মতোই আমার বৌটা মনের অশান্তিতে ভোগে। অবন, পবন গৌহাটিতে বড় রেস্টুরেন্টে চাকরি করে। মাঝে মাঝে টাকা পাঠায়। ওরা টাকা না পাঠালে আরো সমস্যা হতো।
ছেলে গুলো যদি আরো পড়াশোনা করতে পারতো, হয়তো সরকারি চাকরি পেতে পারতো। আমার তো এই জন্যেই ভাবনা, আমার নাতি দুটো না ওদের বাপের মতো হয়।'
মলিনা ঘর থেকে পানের বাটা আনে-' জেঠিমা, পান খাও।'
নেকুর মা পানের খিলি বানাতে বানাতে বলে-' ভালো নেশা সংসারে উন্নতি আনে, খারাপ নেশা সংসারের সর্বনাশ ডেকে আনে। তোমার অবন, পবন সংসারের উন্নতি চেয়েছিল, নিজেরা সুন্দর ভদ্র ভাবে থাকতে চেয়েছিল। ওই নেশাতেই ওরা বাড়ি ছেড়েছিল। দেখা যাক্ ছোট ভাই গুলোকে দেখে শঙ্করের কোনো পরিবর্তন হয় কিনা।'
শঙ্করের মা বলে -' সত্যি বলেছো দিদি, শঙ্করটার যদি পরিবর্তন হয় তো সংসারটা টিকবে। অবন পবন আর কতোদিন এই সংসারে টাকা ঢালবে বলো। ওরাও বিয়ে করেছে, দু দিন বাদে সংসার বড় হবে। আমি মা হয়েও লজ্জিত ছেলেদের কাছে, মুখ ফোটে বলতে পারিনি-তোরা বাড়ি আয়। এটা যে কতো বড় লজ্জার। বৌরা এসে এই পরিস্থিতি দেখবে, কী লজ্জা কী লজ্জা! মেয়ে জামাইরাও আসেনা।তোমার নকুল বাড়ির বড় ছেলে, কী সুন্দর সংসারটা সাজিয়ে গুছিয়ে রেখেছে। সবই আমার কপাল গো।'
নেকুর মা বলে -' কপালের দোষ দিওনা, তোমরা শাশুড়ি - বৌ মিলে রাত পোহালেই এতো চেল্লাচেল্লি শুরু করো, সত্যি কথা শুনতে তোমাদের ভালো লাগবেনা জানি। নাতি গুলোতো বড় হচ্ছে, ওদের কথাও ভাবো। ভালো কথা, সেদিন সাংঘাতিক একটা কথা শুনলাম গো, অনাদির ছেলেটাকে চেনোতো? বড় ক্লাসে পড়ে। কথায় বলেনা-অভাবে স্বভাব নষ্ট, স্বভাবে অভাব আসে। বাপের তো পয়সার অভাব নেই। সেই ছেলে নাকি ড্রাগের নেশা ধরেছে, শুনলাম পুলিশে ধরে নিয়ে গেছে। এই বয়সেই নেশা শুরু করলো!'
মলিনা ঘরে কাজ করতে থাকলেও ওদের সব কথাই কানে যাচ্ছিলো, বলে-' তাহলেই বুঝোন আমার ছেলে গুলোর কী অবস্থা হবে। ওরা যা দেখবে, তাই শিখবে। এই কথা গুলো বলতে গেলেই আমি খারাপ, আমি ঝগড়াটে!'
এই সময় শঙ্করের ছেলেরা স্কুল থেকে বাড়ি ফেরে । সৈকত চেঁচিয়ে মা'কে বলে -' মা কাল পরীক্ষার ফিস দিতে হবে। ক'দিন ধরেই বলছি, দিচ্ছনা কেন? আমি বাদে সবাই জমা দিয়েছে।'
মলিনা চেঁচিয়ে বলে - 'তোর বাবাকে গিয়ে বল। আমি কি রোজগার করি নাকি আমাকে বলছিস।'
সৈকত বোঝে তার বাবাযে নেশা করে, এটাও বোঝে বাবার কারণেই সংসারে অভাব। সহপাঠীদের সে বাড়িতে আসার কথা বলেনা, বাড়িতে সারাদিন ঝগড়া ঝাঁটি লেগেই আছে। ওর দাদু আর বাবাকে অনেকে মাতাল বলে এটাও সে জানে। পথের পাশে মাদক বিরোধী বিজ্ঞাপন সে পড়েছে। লেখা আছে -' কোন রকমের নেশা থেকে সাবধান, মাদক সেবন ব্যাক্তি ও পরিবার এবং সমাজের সর্বনাশ ডেকে আনে।' বাবার কি নজরে পরেনা ঐ বিজ্ঞাপন গুলো?
নেকুর মা পান চিবুতে চিবুতে মলিনাকে বলে - 'বৌ, ওকে বকছো কেনো, ওর ভালো মন্দ বোঝার বয়স হয়েছে নাকি? ছোটদের ঠিক রাখতে হলে বড়ো দের ঠিক থাকতে হয়।'
জেঠিমা অর্থাৎ নেকুর মা উপস্থিত থাকায় মলিনার একটু কথা বলার সাহস হয়েছে। নাহলে এই দজ্জাল শাশুড়ির সামনে সত্যি কথা বললেও দোষ ধরতে আসে। সে বাইরে আসে-'এটা কে কাকে বোঝাবে? বাচ্চা দুটো যা দেখছে তাই শিখবে।'
সৈকত কাকু দের গল্প অনেক শোনেছে।কাকুরা যখন চলে যায়, তখন সে খুব ছোট। তাই ওদের কথা স্মরণে আসেনা। সাহস করে মায়ের কাছে আসে-'মা, কাকুরা এলে থাকবে গো? না আবার চলে যাবে?'
শঙ্করের মা জবাব দেয় -' নিজের বাড়িতে আসছে, যদি মনে করে থাকবে তো ভালোই।'
মলিনা ফোঁস করে ওঠে - 'ওদের দাদার 'রাতের রাজার' চেহারা দেখলে হয়তো রাত পেরোতেই পালাবে। এরপর সঙ্গে আসছে ওদের স্ত্রীরা। আর সবচেয়ে বড়ো গুরুদেব তো, ঐ যে মোড়ায় বসে কী নিশ্চিন্তে বিড়ি ফুঁকছে। ওরা আসুক, দেখুক। লজ্জায় আমি বাবার বাড়ির কাউকে আসতে দিইনা। কী জ্বালা নিয়ে যে আমি সংসার করছি আমিই জানি।'
নেকুর মা আরেক খিলি পান মুখে পুরে বলে -' নেশা যে মানুষের কী সর্বনাশ করে। জায়গা জমি বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হয় কেউ কেউ। ঐ বুড়ো টার কথা বাদ দিলাম, শঙ্করটাতো অবুঝ নয়, ছোট ভাই গুলোকে দেখে শিখতে পারেনা?বউ, তুমি শক্ত হতে পারোনা?'
-' আমি শক্ত হবো? কে আমাকে শক্ত হতে দিচ্ছে! কিছু বলতে গেলেই তো মুখের উপর পাঁচ কথা শুনিয়ে দেয়। লোকে বলে ঝগড়াটের বাড়ি। কিন্তু ঝগড়ার কারণ টা কেউ জানতে আসে, না দেখতে আসে? জেঠিমা, তুমি এসে দেখলে সব, তাই কিছুটা বুঝতে পারছো।ছেলে গুলোর কথা ভাবি, ওদের কীভাবে মানুষ করবো এই পরিবেশে।'
সৈকত মায়ের আঁচল ধরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলো। স্কুলে মিড্ ডে মিল খেয়ে এসেছে, পেট ভর্তি। কাকু কাকিমনিরা আজ বাড়ি আসবে বলে মনে খুব আনন্দ। সে হটাৎ বলে ওঠে -' মা, কাকুরা যদি আবার চলে যায়, আমিও ওদের সঙ্গে চলে যাবো। এখানে আমার ভালো লাগেনা।'
নেকুর মা বলে - 'দেখেছো শঙ্করের মা, তোমার নাতিটা যা বুঝতে পারে, তোমরা বড় হয়েও তা বুঝনা। সে ছোট হলেও বুঝে এই পরিবেশে সুস্থ থাকা যায়না। ওই বাপ ব্যাটার নেশার কারণে একে একে সবাই গৃহত্যাগী হবে। তোমরা নিজেরা বিবাদ না করে, দেখো চেষ্টা করে ওদের নেশা মুক্ত করতে পারো কিনা।'
0 মন্তব্যসমূহ