পরিচিতি
ডঃ মৌটুসী দেব,পল্লী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে পিএইচডি, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত।
ডঃ দেব ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রামীণ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে স্নাতকোত্তর (২০০৭) সম্পন্ন করেছেন (প্রথম শ্রেণীতে প্রথম, স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত)। বর্তমানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে ত্রিপুরার জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির রাজ্য পরামর্শদাতা হিসেবে নিযুক্ত আছেন।
তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন এবং বিভিন্ন জার্নালে লিঙ্গ ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন এবং ত্রিপুরা সরকারের ত্রিপুরা উপজাতি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে সম্পাদিত বই, 1. ত্রিপুরায় পারিবারিক সহিংসতা: পাখির চোখের দৃষ্টি — জয়ন্ত চৌধুরী এবং মৌটুসী দেব
2. আশা: গ্রামীণ ভারতে স্বাস্থ্য যোগাযোগ/প্রচারের জন্য আশার নতুন আলো : মৌটুসী দেব এবং জয়ন্ত চৌধুরী
3. ইমিগ্রান্ট ট্রাইবস অব ত্রিপুরা
ভিল, ওরাং, মুন্ডা, সাঁওতাল:-ডঃ মৌটুসী দেব, প্রকাশক- ট্রাইবাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ত্রিপুরা সরকার এরকম অনেকগুলো বই প্রকাশ করেছেন।
চল্লিশে এসে অরিন্দম সেন মনে করছিলেন, তার জীবনের সব রঙ যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। অফিস, সংসার, দায়িত্ব—সব মিলে এক যান্ত্রিক জীবন।
রাতের বেলা একা বসে জানলার ধারে তিনি প্রায়ই ভাবতেন—
“এটাই কি তবে বাকি জীবন? কোনো স্বপ্ন নেই, কোনো আলো নেই?”
অন্যদিকে, আগরতলার মেয়েটি মেঘলা দত্ত।
ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল গায়িকা হবার, কিন্তু সংসারের ঘেরাটোপে তা ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যায়। মনের ভেতর জমতে থাকে অপূর্ণতা আর একাকিত্ব।
কবিতা ছিল তার একমাত্র আশ্রয়।
ফেসবুকের এক কবিতার গ্রুপে অরিন্দমের সঙ্গে প্রথম দেখা।
প্রথমে সাধারণ মন্তব্য, পরে ইনবক্স। আর তারপরে—অদ্ভুত এক বোঝাপড়া।
মাঝরাতে অরিন্দম লিখত—
“জীবনটা কখনও কখনও এত ফাঁকা লাগে, যেন ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়েও আমি একা।”
মেঘলা উত্তর দিত—
“তুমি একা নও অরিন্দম, আমি আছি। আমি তোমাকে বুঝি।”
এই ‘বুঝে নেওয়া’-র ভেতরেই প্রেম জন্ম নিল।
তারা কখনও দেখা করেনি, তবুও একে অপরকে হৃদয়ের গভীর থেকে চিনতে শুরু করল।
একদিন মেঘলা জানালেন—
“অরিন্দম, ডাক্তার বলেছে আমার শরীরে ক্যানসার হয়েছে।”
মুহূর্তে যেন অরিন্দমের পৃথিবী ভেঙে গেল।
মোবাইল স্ক্রিনের ওপারে তিনি শুধু কেঁদে ফেললেন, অথচ শব্দ করে কিছু বলতে পারলেন না।
মেঘলা লিখল—
“আমরা তো একসাথে থাকতে পারব না জানি। কিন্তু বিশ্বাস করো, যতদিন বেঁচে থাকব, তোমার প্রেমে বাঁচব।”
অরিন্দম লিখল—
“মেঘলা, তুমি যদি একদিন না থাকো, আমি বেঁচে থেকেও বেঁচে থাকব না।”
চিকিৎসার ফাঁকে, কেমোথেরাপির যন্ত্রণার মধ্যেও মেঘলা প্রতিদিন অরিন্দমকে লিখত।
কখনও কবিতা—
“তুমি যদি ছুঁয়ে না দাও,
তবুও তোমার ভালোবাসা ছুঁয়ে যায়
আমার প্রতিটি শিরা-উপশিরায়।”
অরিন্দম পড়ে সারা রাত ঘুমোতে পারত না।
সে চাইত অন্তত একবার মেঘলাকে চোখে দেখতে, কিন্তু সমাজ, সংসার, দূরত্ব সবকিছুই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
ধীরে ধীরে মেঘলার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে লাগল।
অনেক সময় উত্তর দিতে পারত না।
তবুও একদিন শেষ শক্তি দিয়ে লিখল—
“অরিন্দম, যদি কোনোদিন আমার নাম স্ক্রিনে আর না জ্বলে ওঠে, তবে ভেবো না আমি নেই। আমি আছি—তোমার প্রতিটি নিশ্বাসে, প্রতিটি কবিতার ছন্দে।”
সেই ছিল মেঘলার শেষ মেসেজ।
আজও অরিন্দম ফেসবুকে লগইন করে মাঝেমাঝে মেঘলার প্রোফাইল ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে।
চোখ ভিজে আসে।
তিনি ফিসফিস করে বলেন—
“তুমি তো সত্যিই অদেখা প্রেমের আলো, মেঘলা। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দেখা।”
0 মন্তব্যসমূহ