রেলযাত্রী রবীন্দ্রনাথ ( ২য় পর্ব) মীনাক্ষী ভট্টাচার্য
‘ জীবনস্মৃতি’ তে পেয়ে যাই রবীন্দ্রনাথের প্রথম রেল চড়ার বিবরণ। জীবনের প্রথম রেলযাত্রাতেই ঘটেছিল একটি বিশেষ ঘটনা। বয়স যখন এগারো পেরিয়ে ন’ মাস
—তখন বালক রবীন্দ্রনাথ প্রথম রেলযাত্রী। সঙ্গী ছিলেন পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। রেলযাত্রীর বয়স বারো বছরের নীচে হলে হাফ টিকিট কাটার সুযোগ ছিল।
কোনো একটা বড়ো স্টেশনে গাড়ি থামলে টিকিট পরীক্ষক এসে টিকিট দেখতে চাইলে দেবেন্দ্রনাথ জোব্বা থেকে বের করে দুটো টিকিট দেখালেন— একটি ফুল টিকিট এবং একটি হাফ টিকিট । বালক রবির দিকে তাকিয়ে সন্দেহ হওয়ায় চেকার নীচে নেমে গিয়ে আরেকজনকে পাঠালেন।
তিনি এসেও বারবার রবীন্দ্রনাথের দিকে কিছুক্ষণ সন্দিগ্ধনেত্রে তাকিয়ে চলে গেলেন। তারপর কামরায় স্বয়ং স্টেশনমাস্টার এসে উপস্থিত হয়ে দেবেন্দ্রনাথকে জিজ্ঞাসা করলেন—“ এই ছেলেটির বয়স কি বারো বছরের অধিক নহে?”
দেবেন্দ্রনাথ—“ না।”
স্টেশনমাস্টার —“ ইহার জন্য পুরা ভাড়া দিতে হইবে।”
এমন কথা শোনামাত্র দেবেন্দ্রনাথ রাগে অপমানে অসম্মানে দপ্ করে জ্বলে উঠলেন।মুহূর্তমাত্র দেরী না
করে তখনই বাক্স থেকে বের করে গোটা একখানা নোট টিকিট পরীক্ষকের হাতে দিলেন। ভাডার টাকা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট টাকা ফেরত দিলে সে টাকা দেবেন্দ্রনাথ কামরার জানালার বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন। বালক রবীন্দ্রনাথের ছিল বাড়ন্ত গডন সুস্বাস্থ্য। সুদর্শন, দীর্ঘদেহী বলিষ্ঠ বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা। সদ্য উপনয়ণ হয়েছে- গায়ত্রীমন্ত্রে দীক্ষাপ্রাপ্ত বালকের উজ্জ্বল আনন। তার উপরে রেলযাত্রাপর্বে মাথার উপরে চড়েছে একখানা জমকালো জড়িদার উঁচু টুপি। ফলে রবীন্দ্রনাথকে আরও লম্বা আরও বড়সড় লাগছে। তাই হয়তো টিকিট পরীক্ষক কোনোভাবেই তাঁকে অনুর্দ্ধ বারো বলে মেনে নিতে পারেন নি।
( চলবে।)
0 মন্তব্যসমূহ