শ্যামল চৌধুরী :স্মরণীয় মুক্তিযোদ্ধা || স্বপনকুমার ভট্টাচার্য

শ্যামল চৌধুরী :স্মরণীয় মুক্তিযোদ্ধা

স্বপনকুমার ভট্টাচার্য 

"গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার "মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা" প্রাপক শ্যামল চৌধুরী আজ সকালে আগরতলায় আই,এল,এস, হাসপাতালে পরলোকগমন করেছেন। মৃত্যুকালে পত্নী ও একমাত্র পুত্র রাজ্যের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী সহ বহু আত্মীয় পরিজন রেখে গেছেন। তাঁর বিদেহী আত্মার সদগতি কামনা করি এবং পরিবার পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।তিনি পরলোকে যান ২৪ শে মার্চ ২০২৪।
শ্যামল চৌধুরী ছাত্র জীবনে চট্টগ্রামে বাংলা ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন। পরবর্তী সময়ে উদয়পুরে এসে বসতি স্থাপন করেন এবং তদানীন্তন বিশিষ্ট কমিউনিস্ট নেতা সুনীল কৃষ্ণ দাশের নেতৃত্বে সি,পি, আই,দলে যোগ দেন। দলের কৃষক ফ্রন্টের নেতা হিসেবে উদয়পুর মহকুমার পূর্ব গোকুলপুরে ভূমিহীনদের জন্য জমি দখল করার আন্দোলনে যোগ দেন। পরে অবশ্য তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গ ত্যাগ করে কংগ্রেস রাজনীতিতে অংশ নেন। শেষ বয়সে রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করে লেখালেখি ও সামাজিক কাজে অংশ নেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় কৃষক ফ্রন্টের নেতা হিসেবে শ্যামল চৌধুরী উদয়পুরে শরনার্থীদের ত্রাণের কাজে এবং মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে মিছিল, সভা ইত্যাদিতে অংশ নেন। তিনি সাম্প্রতিক রাজনীতি ও সমাজনীতি নিয়ে বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। তাঁর কবিতা সংকলনও রয়েছে। ২০১৩ সালের ১ লা অক্টোবর ঢাকা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা গ্রহণ করেন। আমিও ঐ দিনই এই সম্মাননা গ্রহণ করেছিলাম। আমরা কলকাতা ও ঢাকায় একই সঙ্গে ছিলাম। ত্রিপুরার প্রথম দৈনিক পত্রিকা জাগরণ'এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রয়াত জিতেন্দ্র চন্দ্র পালের নেতৃত্বে পরিবেশ দূষণ মুক্ত ত্রিপুরা ও ঐতিহ্য রক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করে গেছেন। শ্যামল চৌধুরী'র প্রয়ানের সঙ্গে সঙ্গে একটি আধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। আমি অগ্রজপ্রতিম দাদাকে হারালাম। সত্তরের দশকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও সি,পি, আই, দলের জোট ছিল। সেই সুবাদে বহু আন্দোলনে একসাথে অংশ নিয়েছি। তাঁকে বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানাই। ওপারে ভাল থাকুন শ্যামলদা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ