(স্রোত ফাইনাল পেডে দিন)
অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ
প্রতি
মহাশয়/মহাশয়া
আপনি জেনে আনন্দিত হবেন স্রোত সাহিত্য পত্রিকা ও প্রকাশনার তিরিশ বছর পূর্ত্তি উপলক্ষে ত্রিপুরায় প্রথমবারের মতো ত্রিপুরা বাংলাদেশ বইমেলা :২০২৩ আয়োজন করেছে স্রোত সাহিত্য পত্রিকা ও প্রকাশনা। আগামী ৬/৭ অক্টোবর ২০২৩ আগরতলা প্রেসক্লাবের ত্রিতলে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন পর্বে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আপনার উপস্থিতির সম্মতি চাই।আপনার সম্মতি পেলে ত্রিপুরার প্রকাশনা আন্দোলন এক উজ্জ্বল ইতিহাস রচনা করবো বিশ্বাস রাখি।
আমাদের ত্রিপুরা বাংলাদেশ বইমেলা :২০২৩ শুভ উদ্বোধনের সময় বিকেল ৫টা।
প্রসঙ্গক্রমে আপনার অবগতির জন্য বিনীতভাবে জানাই, ত্রিপুরার লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলন থেকে প্রকাশনা জগতে এক বিশেষ সংযোজন স্রোত সাহিত্য পত্রিকা ও প্রকাশনা। স্রোতস্বিনী থেকে যখন স্রোত সাহিত্য পত্রিকা হলো তখন থেকেই স্রোত একটি প্রকাশনাও।১৯৯৮ সালে স্রোতস্বিনী যখন বন্ধ হয় হয় তখনই স্রোত সাহিত্য পত্রিকার আত্মপ্রকাশ, যদিও স্রোত প্রকাশনা বই প্রকাশ শুরু করেছে ২০০১ সালে। প্রথম বই উত্তর পূর্বাঞ্চলের চল্লিশজন কবির কবিতা সংকলন:মেঘ বৃষ্টি রোদ প্রকাশের মধ্যে দিয়ে।আমরা আবগত আছি ত্রিপুরায় প্রকাশনা শিল্পের সৃষ্টির নেপথ্যের কাহিনী লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনই।
এই প্রসঙ্গে স্মরণযোগ্য অবদান রেখেছেন প্রকাশনা মঞ্চ। ত্রিপুরা সরকারের সোসাইটি রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত সংস্থা প্রকাশনা মঞ্চ।
স্রোত ত্রিপুরা প্রকাশনা মঞ্চ এর সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করে ২০১৮ সাল থেকে।একঝাঁক প্রকাশক তখন প্রকাশনা মঞ্চের সাথে যুক্ত হওয়ায় ত্রিপুরার প্রকাশনা আন্দোলনের ইতিহাস চর্চায় নতুন মোড় নেয়। সে সময় অন্যপাঠ,বইবাড়ি, মনু থেকে ফেণি, সুবোধ,প্রবাহ প্রকাশন,বহ্নিশিখা পাবলিকেশন, মঙ্গলদীপ,অন্যভূমি, প্রকাশপর্ণা,আরো অনেকেই যুক্ত হয়ে ত্রিপুরার প্রকাশনা আন্দোলন বেগবান করেছেন।
ত্রিপুরায় যে সকল প্রকাশনা বর্তমানে দাপিয়ে ত্রিপুরার গ্রন্থ আন্দোলনের শরীর তাদের প্রায় সকলের সম্মিলিত এবং সতন্ত্র প্রকাশনা ভাবনার ফসলই আজকের এই নতুন নতুন লেখক লেখালেখিতে আগমনের মূল মন্ত্র।
দীর্ঘ দিন ত্রিপুরার লেখালেখির জগৎকে প্রায় কোণঠাসায় রেখে মুষ্টিমেয় কয়েকজনের বইপত্রই প্রকাশিত হতো ত্রিপুরায়।তারপর এই ভাবনাকে পেছনে ফেলে সর্ব প্রথম উল্লেখযোগ্যভাবে ত্রিপুরার তরুণদের লেখালেখিকে গ্রন্থাকারে প্রকাশের পদক্ষেপ নিলো স্রোত প্রকাশনা।
স্রোত প্রকাশনারও সকল বই গুণগতভাবে পাঠকের চাহিদা পূরণে সমর্থ হয়েছে সে গল্প সত্য নয় কোন কোন ক্ষেত্রে। এই জায়গায় আরো তীক্ষ্ণতা প্রয়োজন।নতুনদেরকে অগ্রাধিকার দিতে অপ্রয়োজনীয়
একটি প্রকাশনা কিংবা লিটল ম্যাগাজিন শুধু শুধু কিছু লেখা সংকলিত করে পাঠকের নিকট হাজির করা নয়।
পাঠকের চাহিদা ও পাঠক তৈরী করতেও পত্রিকা ও প্রকাশনার ভূমিকা অবশ্য কাজ।
ত্রিপুরার সাহিত্য আন্দোলনে এমন প্রকাশনাও আছেন সারা বছর পাঠকের নিকট যান।পাঠকের চাওয়াকে রুচিশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে আগামীর ভাবনায় জারিত হোন।আবার এমনও আছেন পাঠকের চাহিদাকে গুরুত্ব না দিয়েও বই প্রকাশের শরীক।
ত্রিপুরা একটি ছোট রাজ্য।লোকসংখ্যা মাত্র ৩৭ লক্ষ। এক শতাংশ লোকও পাঠক নয়।এরকম একটি রাজ্যে ৫০টিরও উপর প্রকাশনা সংস্থা বই প্রকাশ করেন।আমরা চাই আর ৫০টি বা তারও বেশি প্রকাশনা সংস্থা আসুন ত্রিপুরার বইপত্র প্রাশনায়।লেখালেখিতে আসুন তরুণেরা।আরো আরো পাঠক তৈরীতে লেখক সম্পাদক ও প্রকাশকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাঠক সংখ্যা বাড়ুক।
ত্রিপুরার প্রকাশনা থেকে প্রতি বছর প্রায় ৫০০ বই এখন প্রকাশ হয়।সে তুলনায় পাঠক কোথায়?সরকারের কেনাকাটা মানে কিন্তু পাঠক সংখ্যা নয়।যদিও কেনাকাটা তুলনায় খুবই নগন্য। একজন প্রকাশক সৃষ্টি হতে উদ্যোম লাগে।ঠিকে থাকতে চাই পাঠক।আর এই মূল জায়গাটাই ত্রিপুরায় এখনো গড়ে ওঠেনি।
অথচ এ রাজ্যে পাঠক তৈরী করতে বইমেলায় ক্রেতাদের ডিসকাউন্ট প্রকাশক ও সরকার উভয় তরফেই দেওয়া হতো একসময়।যা ভূ-ভারতে নেই।যদিও এখন শুধু প্রকাশকরা ডিসকাউন্ট দেন।ডিসকাউন্টও আসলে পাঠক তৈরীর চাবিকাঠি নয়।মূল চাবিকাটি তৈরী হয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চেতনার বিকাশ হলেই। যা আমরা দাবি করি আমাদের গুণগত ও চেতনাগত মান অনেক উপরে কিন্ত পাঠকের চাহিদাকে মান্যতা দিলে এ বিষয়টি বড় খটোমটো মনে হয়।যদিও সামাজিক বিভিন্ন মাধ্যমের যোগাযোগ ও বিনোদনের নানা বিষয়ও পাঠকের চাহিদাকে বিপথে পরিচালন করছে।তবুও বই বই বই-ই একমাত্র প্রকৃত চেতনাসমৃদ্ধ মানব সম্পদ তৈরীর প্রধান অস্ত্র এ কথাটি আরো ব্যাপক প্রচারের আঙ্গিনায় নিতে হবে।
ত্রিপুরার প্রকাশনা আন্দোলনে স্রোত একটি ক্রমাগত প্রচেষ্টার নাম।স্রোত প্রকাশনা যে সকল পুরস্কার অর্জন:
(১)বৃষ্টিজল :হিমাদ্রি দেব এর কাব্য সংকলন প্রকাশের জন্য কবি সুকান্ত পুরস্কার :২০০৮
(২)লোদ্রভার কাছাকাছি :শ্যামল ভট্টাচার্যের উপন্যাসের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সাহিত্য একাডেমি সম্মান :২০১০
(৩)অন্য ভাষায় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার :২০১৪ সালে গীতাঞ্জলি চাকমা ভাষায় অনুবাদের জন্য লাভ করেছে।
(৫)বাউল মলিকিউলস এর জন্য শুভ্রশংকর দাশ পান বনানী পুরস্কার :২০১৫
(৬)শ্রেষ্ঠ (২য়)মণ্ডপ সজ্জা আগরতলা বইমেলা :২০১৭
(৭)শ্রেষ্ঠ (৩য়)মণ্ডপ সজ্জা আগরতলা বইমেলা :২০১৮
(৮)মানবী বিদ্যার আলোকে এক ভিন্ন মাত্রিক পাঠ:সেবিকা ধর এর বইটি শ্রেষ্ঠ প্রকাশনা পুরস্কার :২০১৯
সকল পাঠকের ভালোবাসা আমাদের পথ চলার প্রেরণা।
এই ভাবনাকে ত্রিপুরার বই পাঠকের নিকট নিয়ে যেতেই আমাদের ত্রিপুরা বাংলাদেশ বইমেলা :২০২৩ আয়োজনের প্রয়াস।
উক্ত অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে আপনার সম্মতি পেলে গৌরবান্বিত হবে প্রকাশনা আন্দোলন।
ধন্যবাদান্তে
(গোবিন্দ ধর
সম্পাদক
স্রোত +স্বাক্ষর এর স্ক্যান)
0 মন্তব্যসমূহ