কবি, শিক্ষক এবং সীমান্তের ডাক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক প্রাবন্ধিক সঞ্জয় দেবনাথের ত্রিপুরায় সাহিত্য ভ্রমণ ও সম্মাননা প্রদান গোবিন্দ ধর

কবি, শিক্ষক এবং সীমান্তের ডাক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক প্রাবন্ধিক সঞ্জয় দেবনাথের ত্রিপুরায় সাহিত্য ভ্রমণ ও সম্মাননা প্রদান 

গোবিন্দ ধর 

এক.
কবি ও সম্পাদক সঞ্জয় দেবনাথ মহোদয়ের ত্রিপুরায় সাহিত্য ভ্রমণকে স্বাগতম 
বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় একবাক্যে যিনি জনকল্যাণমুখী মানুষ,শিক্ষক, কবি, প্রাবন্ধিক এবং সীমান্তের ডাক কাগজের সম্পাদক সঞ্জয় দেবনাথকে চেনেন না এমন কেউ নেই। 
ভারত থেকে কেউ চাতলা বর্ডার ক্রস করলে চাতলা চা বাগান ধরে সামনে হাঁটুন বা অটো রিস্কোয় চড়ুন বাগানের চা পাতা কুঁড়ানো মেয়েটিকেও জিজ্ঞেস করুন কবি সঞ্জয়ের কথা সেও বলে দেবে কুলাউড়ার সঞ্জয়। 
এমন এক বন্ধুজন প্রিয়জন গতকাল শমসের নগর ভানুগাছ রেলস্টেশন ধরে আখাউড়া নামেন তখন বিকেল চারটে।ভারতীয় ইমিগ্রেশন বিভাগের কাজকর্ম সেরে আখাউড়া যখন তিনি পৌঁছলেন তখন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা তারপর বটতলার এক হোটেলে একা একা থেকে যেতে হয়েছে একজন কবিকে।এ এক পরিতাপের বিষয়। কিন্তু আমি অপারগ। 
বাড়িতে বিশেষত সন্তানের অসুখ হলে খুব খারাপ হয়ে যায় মন।এই অবস্থায় কবি সঞ্জয় দেবনাথের একাকিত্বে আমি নিরুপায় ছিলাম।কিচ্ছু করতে পারিনি তাঁর জন্য। 
না সঙ্গ দিতে পেরেছি না সঙ্গী পাঠাতে পেরেছি। 
এই আত্মগ্লানি আমাকে গিলে খাচ্ছে। 
কুলাউড়া আমার সাতপুরুষের বসবাসের ভূমি।
আমরা পৃথিবীর বহুপথ ঘুরঘুর করতে করতে বাংলাদেশের কুলাউড়া উপজেলার কটারকোণা মিঞারপাড়ায় দীর্ঘ সাতপুরুষের বসবাস শেষে বড় রায়টের সময় আমার বাবা তাঁর বাবা দেবেন্দ্রনাথ ধরের হাত ধরে চলে আসেন বগলে ছেঁড়া মানচিত্র নিয়ে। সে বেদনার ইতিকথা ইতিপূর্বে বহুবার বহু জায়গায় বলেছি।বারংবার বলে ভারাক্রান্ত হতে আর চাই না।
সেই পূর্ব পুরুষের দেশ থেকে কেউ এলে তাঁকে সঙ্গ না দিতে পারলে আত্মবিলাপ হয়।মরমে ক্ষরণ হয়। 
কবি আজ ভোর ১০টা৪৫ মি এর ট্রেনে কুমারঘাট আসবেন।শুধুমাত্র আমাদের সাথে একটু সময় দেবেন বলে।কুমারঘাটের কবি সাহিত্যিকদের সাথে মিলে যাবেন পরিচিত হয়ে যাবেন সে জন্য। আমরা তাঁকে স্বাগত জানাতে চাই।
কুমারঘাট বাসী কবি সাহিত্যিকদের নিকট সরাসরি আমন্ত্রণ পৌঁছে দেওয়া আমার পারিবারিক কারণে অসম্ভব। আমার বাসায় মিলিত হওয়াও অসম্ভব। সুতরাং আমি অনুরোধ জানিয়েছিলাম সুবোধ সম্পাদক কবি শিল্পী শাশ্বতী দাস মহোদয়াকে একটু বসার জন্য। 
তিনি রাজী হয়েছেন।তিনিও অভিশপ্ত রথের বিদ্যুৎপৃষ্টজনদের আর্তনাদে এখনো মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ঘরবন্দী। 
তাঁর এই মানসিক একাকিত্ব বোধ ঘুচিয়ে দেওয়ার সময় সুযোগ হয়নি আমার পারিবারিক অসুস্থতার জন্য। 
তাই আজ ১লা জুলাই ২০২৩ কবি শাশ্বতী দাসের বাসায় সন্ধ্যা ৬টায় কুমারঘাটের সকল কবি সাহিত্যিক উপস্থিত থেকে কবি সঞ্জয় দেবনাথের ত্রিপুরায় সাহিত্য ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য শাশ্বতী দাসের পক্ষে সবাইকে আমন্ত্রণ রইলো। 
আসুন কবি সঞ্জয় দেবনাথ মহোদয়ের জন্য একটু সময় আমরা মিলিত হই।আড্ডা দিই।পরিচিত হই।কবির সাথে কথা বলি।
কবিকে সম্মাননা জানানো হবে এতেও অংশ নিই সকলে।
কুমারঘাটের সকল মানুষ এখনো উল্টোরথের বিদ্যুৎ লেগে ঝলসে যাওয়া মানুষের মুখগুলোর কথা ভুলতে পারছি না কেউ-ই।
আসুন তাদের আত্মার স্মৃতির উদ্দেশ্যে আমরা একটু সময় নীরবতায় শ্রদ্ধায় সময় কাটাই।
আগামীদিনের পৃথিবীতে এমন আর কোনো অঘটন না ঘটুক তার জন্য আমরা আরো সচেতন হই।
আসুন কুমারঘাট রবীন্দ্রপল্লী কবি শাশ্বতী দাসের বাসায় ঠিক সন্ধ্যা ৬টায়।
সকলের আমন্ত্রণ রইলো।
সকলের সহযোগিতা ও উপস্থিতি আমরা চাই।

দুই.
কবি, শিক্ষক এবং সীমান্তের ডাক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক প্রাবন্ধিক সঞ্জয় দেবনাথের ত্রিপুরায় সাহিত্য ভ্রমণ ও সম্মাননা প্রদান 

উল্টোরথের তড়িতাহত কুমারঘাটের লোকজনের প্রতি সমবেত স্মৃতিচারণ ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে আজকের স্রোত সাহিত্য উৎসব :২০২৩ এর সূচনা হয়।সূচনায় নিহতদের পরিবারবর্গেরও শুভকামনা জানিয়ে সুবোধ সাহিত্য পত্রিকা ও প্রকাশনা সংস্থার সম্পাদক স্মৃতিচারণ করেন।বিদ্যুৎপৃষ্ট রথের সামনেই ছিলেন সেদিন  কবি ও সংগীতশিল্পী শাশ্বতী দাস। তিনি দীর্ঘ সময় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন।শাশ্বতী দাস মহোদয়ার স্মৃতিচারণে আমরাও আবারও ঘটনার বিমর্ষতা অনুভব করে শোকাহত চিত্তে স্মরণ বললাম। 
কবি ও সম্পাদক সঞ্জয় দেবনাথ মহোদয়ের হাতে সুবোধ দাস সাহিত্য সম্মান :২০২৩ ও স্রোত সাহিত্য সম্মান :২০২৩ তুলে দেওয়া হলো।
কবি সঞ্জয় দেবনাথ মহোদয়ও আমাদের হাতে তাঁর সম্পাদিত সীমান্তের ডাক সাহিত্য পত্রিকা ঈদ সংখ্যা তুলে দিলেন।
কুমারঘাটের রবীন্দ্রপল্লী কবি শাশ্বতী দাসের বাসায় ছোট অথচ এক প্রাণবন্ত আড্ডা ও আলোচনায় এই সম্মাননা পর্ব ছিলো। কবি, শিক্ষক ও সম্পাদক সঞ্জয় দেবনাথ মহোদয় একজন প্রাবন্ধিকও।
বাংলাদেশের কুলাউড়া উপজেলায় তাঁর পৈতৃক নিবাস হলেও সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বাক্ষর ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের কাঁটাতার পেরিয়ে ত্রিপুরা কলকাতা ও আসামের করিমগঞ্জ, শিলচরেও তিনি পরিচিতি লাভ করেছেন।
তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করে দীর্ঘ আলোকপাত করা হয়।তিনিও বাংলাদেশের মানুষের সহজ সরলতায় আমাদেরকে আপ্লুত করেন।
ত্রিপুরায় তাঁর সাহিত্য ভ্রমণকে স্মরণে রাখার জন্য আমরা তাঁকে সুবোধ ও স্রোত সম্মাননায় ভূষিত করতে পেরে নিজেরাই গৌরবান্বিত। 
সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কথা  ও পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর নিরলস প্রতিবাদ, তাঁর কবিতাকে দিয়েছে অন্যরকম মাত্রা।
তিনি স্বপ্ন দেখেন একদিন সমস্ত সম্পদ সকল মানুষের নিকট সমবন্টন হবে।
সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠিত হোক সমাজের প্রতিটি অক্ষরেখায় এই তাঁর বুকে লালিত।বুকের পায়রাগুলো তাই কাঁটাতার পেরিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে উড়ে আসে কুমারঘাট শহরের পিছিয়ে পড়া এক পাড়া হালাইমুড়ায়ও।
আমরা তাঁর দীর্ঘ জীবন কামনা করে আজকের আয়োজনের সমাপ্তি করি।
মনে আরো সাধ অনেক কিন্তু সাধ্যে কি আর সময় ধরে রাখা সম্ভব? 
তবুও এই স্মৃতি বুকে রাখবো আমরা পরস্পর পরস্পরের কাছে। আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি ও সম্পাদক অনিতা ভট্টাচার্য, কবি ও স্রোত প্রকাশক সুমিতা পাল ধর এবং শিল্পী গৌরব ধর এবং কবি  স্নেহান্বিতা দাস।
তিন.



স্রোত সাহিত্য সংস্কৃতি পরিবার কুলাউড়া উপজেলা শাখা
কুলাউড়া, মৌলভীবাজার 
 কার্যালয়: মনিহার ম্যানশন, স্টেশন চৌমুহনী, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার। 
মোবাইল: +৮৮০১৭১৬৩২৮১৭৮ (সভাপতি), +৮৮০১৭১৪৭০৫৭১৮ (সম্পাদক),
+৮৮০১৭১৭০২০৮৯৩ (সাহিত্য সম্পাদক) 
Email: sanjayjana2010@gmail
--------------------------------
মূখ্য উপদেষ্টা:   এ এফ এম ফৌজি চৌধুরী। 
মূখ্য সম্পাদক:  সঞ্জয় দেবনাথ।
সভাপতি:   ভানু পুরকায়স্থ। 
মুখপত্র সম্পাদক:   অজয় চন্দ্র দেব।
সাহিত্য সম্পাদক:   শহীদুল ইসলাম তনয়।
সঙ্গীত সম্পাদক:  মূর্ছনা রানী দেবী।
নৃত্য সম্পাদক:  ফাতেমা জান্নাত।
কোষাধ্যক্ষ:   একেএম জাবের।
প্রচার সম্পাদক:  শাকির আহমদ।

সম্মানিত সদস্য:  শফিকুল হাসান সোহেল, এস আলম সুমন, মোক্তাদির হোসেন, কামরুল হাসান, নাজমুল বারী সোহেল, আহমেদ কবীর রাসেল, এনামুল আলম, শ্রাবণী দেবনাথ।

কুলাউড়া উপজেলা শাখা
গঠনঃ ১০/০৬/২০১৯


সীমান্তের ডাক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক কবি ও প্রাবন্ধিক সঞ্জয় দেবনাথ মহোদয়ের সাহিত্য ভ্রমণ 

গোবিন্দ ধর 

সীমান্তের ডাক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক কবি ও প্রাবন্ধিক সঞ্জয় দেবনাথ মহোদয়ের সাহিত্য ভ্রমণের পুরো সফর সঙ্গী থাকার কথা ছিলো।কথা রাখতে না পারার আফসোস জমিয়ে রাখলে বুকে চাপ বাড়ে।তাই অকপটে স্বীকার করলাম অপারগতা। পারিনি কথা মতো সময় দিতে। অনুসূচনা রইলো।
আপনার সাথে যতটুকু সময় দিতে আমি পূর্ণ হতে পারতাম ততটুকু দেওয়া আদৌ সম্ভব হয়নি সে জন্য নিজেই নিজের কাছে প্রতিমুহূর্তে অনুসূচনাবোধে ক্ষরিত হচ্ছি।যে মানুষ মানুষের কাছে নতজানু মানুষের কথা বলে মানুষের গান গায় সে মানুষ অন্যকে মহৎ বলায় শিক্ষিত সেই মানুষদের মধ্যে সঞ্জয় দেবনাথ একজন বিরল মানুষ।আপনি কবিও।প্রাবন্ধিক এবং শিক্ষক। পাশাপাশি আমাদের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভি.পি.সিং-এর প্রক্তিকৃতি এঁকে পাঠিয়েছিলেন  তিনও যখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তখন।প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এক মাস পর আপনার ঠিকানায় যখন চিঠি পৌঁছে সারা কুলাউড়া বাংলাদেশের মানুষ আপনাকে চোখের দেখা দেখতে ভিড় জমিয়ে ছিলেন।
অথচ প্রাতিষ্ঠানিক চিত্রকলায় আপনার কোনো ডিগ্রি নেই। নিছক ভালোবাসায় ছোটবেলা থেকে আপনি আঁকাআকিকে নেশায় নিয়েছেন। 
পেশায় শিক্ষক কিন্তু রাজনৈতিক মতাদর্শে আপনি বাম আদর্শে বিশ্বাসী। মানুষকে আপনি মানুষ দেখেন আমার মতোই। 
এই জায়গায় কবি শিক্ষক প্রাবন্ধিক এবং সীমান্তের ডাক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক সঞ্জয় দেবনাথ ও গোবিন্দ ধরকে এক পাতে রাখা সম্ভব হলেও আপনি আপনার কবিতায় শাণিত করেছেন মানুষের কথামালা। তীক্ষ্ণ করেছেন কলমের বাঁক।
আপনি বারবার আসুন।আমি আমাদের পরিবার, স্রোত সাহিত্য পরিবার, সুবোধ সাহিত্য পত্রিকা ও প্রকাশনার সম্পাদক কবি সংগীতশিল্পী শাশ্বতী দাস এবং অন্যভূমি সাহিত্য পত্রিকা ও প্রকাশনার সম্পাদক কবি ও সংগীতশিল্পী অনিতা ভট্টাচার্য মহোদয়ারা অপেক্ষায় থাকবো।
আপনার দীর্ঘ জীবন সুস্থভাবেই মানুষের কথা বলবে এই বিশ্বাস রাখি।

০৩:০৭:২০২৩


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ