ক.বি.তা
খেলা
হারাধন বৈরাগী
চারপাশে এত খেলা আর কলা
খেলোয়াড় আর কলার মালিক-মালকিন।
কেরায়া!কেরায়ায় মাঠ ঘাট ছয়লাপ।
ক্লিক ক্লিক ক্লিক,ভাইরাল ভাইরাল
ধাঁধিয়ে উঠছে গ্যালারির চোখ।
উন্মত্ত হয়ে উঠছে দর্শক
কোচেরা মঞ্চ থেকে হাতে তুলে দেখাচ্ছে
কাঁচকলা,চাম্পাকলা,রামকলা,চিনিকলা
কেউবা এক দাপ এগিয়ে দেখাচ্ছে
বাংলাদেশের হরিৎবরণ মেহেরসাগর কলা।
এই থেকে খেলোয়াড়েরাও ভীষণ উদ্দিপ্ত
অর্গাজম!অর্গাজম!
মুখোমুখি অর্গাজমের শিকার ও শিকারি!
এ কোন দোষের নয়
দর্শকেরা তো সর্বদাই কলালোভাতুরা
খেলোয়াড়েরা তাদের থেকে দম নিতেই পারে।
কলার বিনিময়ে সব কিছু দিতেই পারে গেলারি
পূন্যার্থীরাও তো
সর্বদাই ফিরতি রথের কলা খেতে চায়।
কলাপ্রবণ পতাকার হয়ে ইটপাটকেল নিয়ে
প্রিয় খেলোয়াড়ের আলখাল্লা জড়িয়ে
উন্মাদনায় ঝাঁপিয়ে পড়তেই পারে।
কেউ বা রামের পাছায় তালি দিতে গিয়ে
রহিমের পাছায় তালি দিতেই পারে
কেউ বা রহিমের পাছায় খামচা দিতে গিয়ে
শ্যামের পাছায় খামচা দিতেই পারে
এ কোন দোষের কিছু নয়
দর্শক গ্যালারিতে এমন অনেক কিছু হয়
এ দোষের কিছু নয়!দোষের কিছু নয়।
গ্যালারিতে কোন নিয়ম থাকে না।
যা খুশি চলতেই পারে
বাদাম থেকে বুট ছুড়াছুড়ি চলতেই পারে
ইচ্ছা হলে কেউ কারোর পোঁদে
আঙ্গুল দিতেই পারে।
যে যেভাবে খুশি মাস্কও পড়তে পারে।
কেউ ইচ্ছা করলে নাগা হয়ে নাচতেও পারে
এ কোন দোষের নয়,গেলারিতে
এ কোন দোষের নয়।
আসল কথা হল কলা খাওয়া।
যে যেভাবে পারে খাক না
খেলোয়াড়কে উদ্দিপিত করেই হোক
জগন্নাথকে খুশি করে কিংবা পাণ্ডাদের পোঁদে মালিশ করেই হোক
যে যেভাবে পারে খাক না ।
এই থেকে খেলোয়াড়েরা আরও
একধাপ এগিয়ে যেতেই পারে
যার যেভাবে খুশি গোল হাসিলের
পায়তারা ভাঁজতেই পারে।
কেউ কেউ বাজিমাত করতে
ল্যাং মারামারি থেকে কনুই মারামারি
করতেই পারে।
রেফারিরাও মাঝেমধ্যে হয়ে উঠুক পক্ষদুষ্ট
হোক না।
এই থেকে কদলী
উল্লাসে ফেটে পড়তেই পারে
চেঁচিয়ে ওঠে বলতেই পারে
এবার তবে খেলা হবে
এ কোন দোষের নয়
গ্যালারিটা কারো বাপদাদার নয়।
এই থেকে চিরঞ্জীবি কবিদের
মনে হতেই পারে দার্শনিক
মনে হতেই পারে পাবলো নেরুদা।
বুদ্ধিজীবীদেরও মনে হতেই পারে বুদ্ধ
মনে হতেই পারে চে গোয়েবারা।
এমন মরশুম এলে যে কেউ
চিনিচাম্পাকলা রোপণ করতেই পারে
লাফিয়ে ওঠে চেঁচিয়ে বলতেই পারে
এবার তবে খেলা হোক।
এও কোন দোষের নয়
গ্যালারিতে কবি বুদ্ধিজীবী, দার্শনিক
বলে সাধারণত কিছু থাকে না।
গ্যালারির কোন জাতপাত হয় না
গ্যালারিতে সকলেই দর্শক।
আর এই থেকে কেবল একদল গবেট মুর্খ
গ্যালারিকে জাত ভেবে আঁকড়ে ধরতেই পারে বাপঠাকুরদাদার আমলের কলার ছড়ায়।
এও কি কোন দোষের,মোটেই নয়
মুর্খরাই তো সর্বাপেক্ষা আবেগপ্রবণ স্মৃতিকাতর-ভিটিকাতর হয়।
হারাধন বৈরাগীর "খেলা" কবিতাটি নিয়ে দু'চার কথা
গোবিন্দ ধর
"চারপাশে এত খেলা আর কলা..."
সুন্দর হয়েছে। কবিতাটি গভীর অর্থবহ।তাৎপর্যপূর্ণ।আপনার নিজস্ব স্টাইল থেকে কবিতাটি ব্যতিক্রম।হয়তো আপনার জঙ্গল মাদকতা থেকে উত্তীর্ণ হওয়া অথবা জঙ্গলের সাথে আপনি নেই। কবিতারশরীরও তাই সময়ের ভাষার অভিঘাত।সময়কে মোচড় দিয়ে এনেছেন খেলার রূপকথায়। সেই উত্তঙ্গ পাহাড় নেই তো কি কবিতায় কখন কিরকম ভাষা শব্দে অববাহিকার চিত্রপট ধরা দেবে তা কিছুটা কবি জানেন কিছুটা সময়ই ঠিক করে বলে কবিও সব জানেন না।কবির নিকট অলৌকিক একটি লাইন অবচেতন মূহুর্তে কিঞ্চিৎ দলিতমথিত হয়ে ধরা দেয়।সেই লাইন ধরেই একেকটি কবিতার জন্মদিন। এখানেই কবির ভাষা স্বতন্ত্র হয়।আপনিও স্বতন্ত্র স্বতঃস্ফূর্ত এক উচ্চারণ ত্রিপুরার বাংলা কবিতায়।
১৮:০৮:২০২১
0 মন্তব্যসমূহ