লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের সহযোদ্ধা
সংরক্ষক ও কবি সন্দীপ দত্ত
মুখোমুখি
কবি গোবিন্দ ধর
পরিচিতি
সন্দীপ দত্ত। তিনিই এদেশে প্রথম সূচনা করেন ‘লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণা কেন্দ্র’টি। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার একেবারে শুরুর দিকের অরিজিনাল সংকলন থেকে শুরু করে দেশলাই বাক্সের আদলের লিটল ম্যাগাজিন, কী নেই তাঁর সংগ্রহে।সন্দীপ দত্তের সঙ্গে কথোপকথনে আমি, ২০১৭
১৯৭২ সালে একদিন ন্যাশানাল লাইব্রেরিতে গিয়ে তিনি দেখেন বহু পুরানো লিটল ম্যাগাজিন জোড়ো করা রয়েছে। দেখে উৎসাহিত হন কিন্তু, কর্তৃপক্ষ বলেন যে সেগুলো রাখা হবে না। তারপর, ১৯৭২-এ পার্ট টু পরীক্ষা দেওয়ার পর বাড়িতেই ৬৫০টি পত্রিকা নিয়ে একটি প্রদর্শনী করেন। সন্দীপবাবু নিজে একটি কাগজ শুরু করেন ১৯৭০ সালে। তাঁর কথায়, “সব লিটল ম্যাগাজিন সেই সময় আমি কিনতে পারতাম না। সেই সময় মানে, স্টুডেন্ট লাইফে পয়সা বাঁচিয়ে যতটুকু পারতাম কিনতাম। এইভাবে কিনতে কিনতেই একটা ভালোবাসা জন্মে যায়। ন্যাশনাল লাইব্রেরির ঐ ঘটনাটা আমায় আরও এগিয়ে দেয়। ভাবলাম যে ন্যাশনাল লাইব্রেরির যদি এমন অবস্থা হয়, তার একটা কাউন্টার এসট্যাব্লিশম্যান্ট (Counter Establishment) আমি ছোট করে আমার বাড়িতেই করতে পারি! প্রদর্শনী করতে গিয়ে আমার কাছে কিছু পত্রিকা জমেছিল, এইভাবেই শুরু বলা যায়। এইসব চিন্তারই ফসল এই লাইব্রেরি।”
যেমন দেখি আমি
লিটল ম্যাগাজিন সাহিত্যের বাতিঘর।আমি যেমন দেখি একটি লিটল ম্যাগাজিনকে তার কয়েকটি সূত্র এখানে দিলাম।আমার ভাবনাও চূড়ান্ত তাও ১০০%শতাংশ মানি না।
আমি আমার স্রোতকে আমার মতো করেই এগিয়ে নিতে কাজ করি।যখন যা করা প্রয়োজন মনে করি তেমনই চেষ্টা করি।সব সময় আমার চাওয়াকে রূপ দিতে পেরেছি তাও মনে করি না।
লিটল ম্যাগাজিন ক্রমাগত একটি সৎ সাহিত্য ভাবনার আন্দোলন।কাজ করতে করতে মনে হয় অনেক কিছুই করার আছে।অনেক কুছুই করা সহজ নয়।অনেক কাজ করা দরকার।হয়তো সময় সুযোগ সর্বপরি বিষয় ভিত্তিক কাজগুলো সময় মতো আসে বা তখন সময়ের কাজটি সময়ে শেষ করা সহজ নয়।লেখকের সৌজন্য সংখ্যাটি নিশ্চয়ই লেখককে পাঠানো প্রয়োজন।লিটল ম্যাগাজিনে বিষয় ভিত্তিক লেখার পুনর্মুদ্রণ করাও লাগে।এটাও কোন অনৈতিক নয়।লিটল ম্যাগাজিন প্রথাগত প্রতিষ্ঠান নয় কিন্ত প্রতিষ্ঠানই।হয়তো বড় হাউসের মতো নয়।কিন্তু তার একটি স্বচ্ছ উচ্চ লক্ষ থাকবেই।
লিটল ম্যাগাজিন হর্স পাওয়ার।
লিটল মানে ছোট নয়।লিটল ম্যাগাজিন একটি বারুদঘর।বাতিঘর।আমাদের প্রথাগত ভাবনার বাইরে এক আন্দোলন।হয়তো তা সমবেতও হতে পারে।এককও হতে পারে। হতে পারে বড় সাইজ কিংবা এক পাতারও।
লিটল ম্যাগাজিনের থাকবে বুক উঁচু করা এক সহাগ স্বপ্ন। বুকের পায়রাকে খোপ খুলে উড়িয়ে দিতে হয় লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদককে।
নিচে এমনই কিছু সংক্ষেপকরণ করলাম।
প্রশ্ন :১
লিটল ম্যাগাজিন আপনার প্রাণ। লিটল ম্যাগাজিনকে কেন্দ্র করেই আপনার হয়ে ওঠা।আপনার শুরুর গল্পগুলো বলবেন প্লীজ?
উত্তর :১
সেতো শৈশবের কথা।আর দশটা বাঙালি সন্তানের মতোই হাতে খড়ি হয়েছিল সারদাদেবীর সামনে মাটির দোয়াতে ভরে রাখা আলতা-কালিতে খাগের কলম চুবিয়ে কাঁপা হাতে পুরুতমশাইয়ের হাত ধরে।সে তো কলমপুজো।লেখার উদবোধন প্রস্তাবনা।আসল হস্তাক্ষরের রেওয়াজ তো মায়ের হাত ধরে।অ আ ই ঈ--A B C D।
কৈশোরে আমি গোগ্রাসে গল্পের বই গিলতাম।মামাবাড়িতে রুশ অনুবাদের দাদুর দস্তানা এই সব বইটই।বাবা দেবসাহিত্য কুটির থেকে হার্ড বাইন্ডিং মনোবীণা,শ্যামলী,বেণুবীণা এইসব নামের মোটাসোটা পুজাবার্ষিকী এনে দিতেন।একসময় কবিতাও লেখা শুরু হয়ে যায়।মা আমার পড়ার বইয়ের খাতার আড়ালে কবিতা লেখার প্রয়াস টের পেয়েছে একদা।ক্লাস সেভেনে চীন ডারত যুদ্ধ যখন চলছিল,স্বদেশপ্রেমের কবিতা লিখি।সেই শুরু।সেসব খাতা আছে আজও।
পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে চলতে থাকে গল্পর বই সহ নানা বই পড়া।স্কুলের ম্যাগাজিনে লেখা দিই।ছাপা হয় গল্প ও কবিতা।ক্লাস নাইনে লেখা প্রথম মুদ্রিত কবিতা ছাপা হয়েছিল আমাদের পাড়ার কালীপুজোর সুভেনিরে।১৯৬৯এ পাড়ার দুর্গাপুজোর চাঁদা চাইতে গিয়ে আলাপ হয় দেবকুমার বসুর সঙ্গে।সে এক অন্য অভিজ্ঞতা।আমরা রসিদ কাটছি।বিশ্বজ্ঞান,২টাকা।৯/৩টেমার লেনের ওই নামের ছোট্ট বইয়ের দোকান থেকে মোটাসোটা চেহারার এক ব্যক্তি পাড়ার বয়ঃসন্ধিকালের ছেলেদের মুখের সামনে বলে দেন আমি তো চাঁদা দিই না,তখন আমরা রীতিমতো ক্রোধান্বিত।সেই মুহূর্তে আর একটি বাক্য উচ্চারিত হলো ভদ্রলোকের কন্ঠে তোমাদের মধ্যে কে কবিতা লেখ?আমি চাঁদা দিই না আর তোমাদের মধ্যে কে কবিতা লেখ এই দুটি বাক্যের মধ্যে কোন সমন্বয় খুঁজে পেলাম না কিছুতেই।আমাদের কেউ আমাকে দেখিয়ে বলল ও কবিতা লেখে।ভদ্রলোক পকেট থেকে দুটাকা বের করে বললেন ওর অনারে চাঁদা দিলাম।এই লোকটিই দেবকুমার বসু-দেবুদা।এঁর কথা বলতেই হয়।উনি যেতে বলেছিলেন।একদিন গেলাম।কলেজে পড়ছি তখন।গিয়ে দেখি চারদিকে বইয়ের মধ্যে তিনি বসে আছেন।আমাকে স্বাগত জানিয়ে আমার হাতে তুশে দিলেন দর্শক পত্রিকা।ওই ঘরে নামী লেখকদের ভীড়।যাদের লেখা ছাপার অক্ষরে দেখি তাদের এত কাছ থেকে দেখছি।শক্তি চট্টোপাধ্যায়,সমরেশ বসু,কবিতা সিংহ,তারাপদ রায়,দিনে দিনে দেখতে থাকি অপার বিস্ময়ে শক্তি সামন্ত,অবন্তী সান্যাল.দেবব্রত মুখোপাধ্যায় অমিতাভ দাশগুপ্ত -..লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকরাও আসেন নানা প্রান্ত থেকে।আমার প্রথম লিটল ম্যাগাজিন কেনা দৈনিক কবিতা ১৯৬৬ সালের ২৫বৈশাখ জোড়াসাঁকো থেকে।দেবুদার ওখানে সম্পাদকদের সঙ্গে পরিচয় হলো।কবিতাও ছাপা হতে লাগল নানা পত্রিকায়।এমন একটা কাগজ করলে হয় না?
কলেজে পড়ার সময় পেয়েছিলাম ড. গৌরমোহন মুখোপাধ্যায়কে।তাঁর কাছে পড়তে যেতাম।তাঁর কথা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নানা স্মৃতিকথায় আছে।আড্ডার মধ্যমণি ছিলেন গৌরদা।।
স্যার পড়াশোনার মধ্যে বিশ্বসাহিত্যর বিস্তৃত অঙ্গন তুলে ধরতেন।উৎসাহ পেলাম তাঁর কাছে পত্রিকার জন্য।বেরলো পত্রপুট(ডিসেম্বর ১৯৭০)।পত্রিকা করতে গিয়ে লিটল ম্যাগাজিন জগৎ সম্পর্কে ধারণা হলো।
প্রশ্ন :২
লিটল ম্যাগাজিন সাহিত্যের বাতিঘর।এমন কোন লেখকের লেখক হয়ে ওঠার নেপথ্যের কাহিনী নেই তিনি লিটল ম্যাগাজিনের সাথে যুক্ত ছিলেন না।যদিও স্রোত আন্তর্জাতিক লিটল ম্যাগাজিন উৎসবে আপনাদের উপস্থিতিতেই বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত কবি অসীম সাহা তাঁর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন:' তিনি মূল ধারার লেখক। তাঁকে আমরা কেন আমন্ত্রণ করলাম।"অথচ সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাওয়ার জন্য আমাদের রাজ্যের কবি রামেশ্বর ভট্টাচার্য মহোদয়কে দিয়ে আমায় প্রস্তাব দিলপন।তারপরই আমি আমন্ত্রণ পাঠিয়েছিলাম।তারপরের ঘটনা আপনার জানা।সুতরাং মূলধারা বহির্ভূত কি লিটল ম্যাগাজিন হয়? বিষয়টি বলুন প্লীজ?
উত্তর :২
মূলধারার লেখক, লিটল ম্যাগাজিনের লেখক এরকম ব্যাপারটা নয়।লেখক এভাবে লেখেন না।আসল কথাটা হলো বাণিজ্যিক পণ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক লেখালেখি লিটল ম্যাগাজিন লেখকসত্তার সঙ্গে মেলে না।সেখানেই ফারাকটা।তথাকথিত জনপ্রিয়তার বিপরীতে থাকেন লিটল ম্যাগাজিনের লেখক।অমিয়ভূষণ মজুমদার বা উদয়ন ঘোষ,সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় তো বাণিজ্যিক ও লিটল ম্যাগাজিনে নিয়মিত লিখেছেন।তাতে তাঁদের লিটল ম্যাগাজিনসত্তা ক্ষুণ্ণ হয়নি।আবার সুবিমল মিশ্রর মতো লেখক যখন লিটল ম্যাগাজিন ছাড়া অন্য কোথাও এক অক্ষরও লেখেন না,তাতে তাঁর লেখক সত্তা ক্ষুণ্ণ হয় না একচুলও।আসল কথাটা হচ্ছে তিনি তাঁর লিখনসত্তাকে বিকিয়ে দিচ্ছেন কিনা।বড়,প্রতিষ্ঠানের হাউস জার্নালে লেখা দিতে গিয়ে তিনি তাঁর দুঃসাহসিক লেখালেখি থেকে সরে জনপ্রিয় ও বাণিজ্যিক ধারায় লিখছেন কিনা।আমার ব্যক্তিগত মত হলো আমি একজন লেখককে লেখক হিসেবেই দেখতে আগ্রহী।লিটল ম্যাগাজিন তাঁর লেখাই ছাপে যাঁর লেখায় স্পর্ধা আছে।নতুন ভাবনা আছে।রীতি পাল্টানোর মেজাজ আছে।
প্রশ্ন :৩
লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ নিশ্চয়ই স্পর্ধা ও উচ্চতার প্রকাশ।
উত্তর :৩
লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশের পেছনে আছে অনিবার্য স্বাধীনসত্তা।তার কণ্ঠস্বর নিজস্ব ও ব্যতিক্রমী।
প্রশ্ন :৪
লিটল ম্যাগাজিন সাহিত্যের বাতিঘর।নাকি হর্সপাপওয়ার?
উত্তর :৪
লিটল ম্যাগাজিন সজীবতার সবুজ বাতিঘর।প্রবল অগ্নিপথের মধ্য দিয়ে তার যাত্রা।দুর্বার শক্তিতে তার এগিয়ে চলা।
প্রশ্ন :৫
লিটল ম্যাগাজিনের অর্থাভাব একটি বিষয় সব নয়।এক্ষেত্রে একঝাঁক পাঠকই ভরসা হতে পারে?
উত্তর :৫
অর্থ তার চলার পথের অন্যতম পাথেয়।অনর্থের ভুরিভোজে সে আমন্ত্রণ জানায় না পাঠককে।পাঠককে সে খোঁজে।পাঠকের সে দাসত্ব করে না।পাঠককে দীক্ষিত করে।পাঠক তৈরি করাও তার কাজ।
প্রশ্ন:৬
জন্মিলে মরতে হবে এটাই চূড়ন্ত মনে করি না।যদিও এ মতও সত্য?
উত্তর :৬
লিটল ম্যাগাজিনের সূচনা,পথ চলা,উত্তরণ,বিকাশ সব কিছুই নির্ভরশীল পত্রিকা সম্পাদক প্রকাশকের স্বনির্ভর শক্তিতে।ধৈর্য বিশ্বাস ধারাবাহিকতা সম্পাদকের সঞ্জীবনী মন্ত্র। যন্ত্রের মতো চালিয়ে যাওয়া একটি লিটল ম্যাগাজিনের আদর্শ হতে পারে না।একটি কাগজ ১০বছর চলতে পারে আবার পঞ্চাশ পেরিয়ে।আয়ু দিয়ে নয় একটি লিটল ম্যাগাজিনের মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার ছাপাই আইটেম নয়,তার কাজ দিয়ে।
প্রশ্ন :৭
সম্পাদক লেখকের নিকট টাকা চাওয়াটা অপরাধ।কেউ বা কোন গোষ্ঠী নির্ভর লিটল মযাগাজিনের সমবেত প্রচেষ্টা থাকাটা অনৈতিক নয়।কিন্তু এর বিপরীত কর্মকাণ্তও হচ্ছে?
উত্তর :৭
লিটল ম্যাগাজিন কাজটি আসলে ক্লিচ্ছসাধন।সততার আদর্শে তার পথ চলা।যেখানেই বিনিময় যোগের প্রশ্ন এসে পড়ল,সেখানেই ঘটল আত্মিক বিপর্যয়।লেখকের লেখা ছাপার জন্যে বরং সম্পাদকেরই লেখককে তাঁর সাম্মানিক(অর্থমূল্যেই হোক বা সামগ্রী উপহারেই হোক)দেওয়া উচিত।
প্রশ্ন:৮
বড় সাইজ হলেই তা "লিটল ম্যাগাজিন নয় প্রতিষ্ঠান "এমন ধারনায় আমি বিশ্বাস করি না।আপনি কি ভাবেন?
উত্তর :৮
কাগজের পূর্ণাঙ্গতা নির্ভর করে তার কাজের ব্যাপ্তির ওপর।লিটল ম্যাগাজিনের চরিত্র পৃষ্ঠা মেপে নয়,তার কাজের পরিধি দিয়ে হওয়া উচিত।।বড় ছোট মাপ দিয়ে নয়,ইঞ্চি মেপে নয়.ওজন বাটখারায় নয়,দেখতে হবে ছশো পৃষ্ঠা ভুষি মালে ঠাসা না কী বিজ্ঞাপনে ভরাট?দেখতে হবে কাজটা কি করছে।সেটাই আসল কথা।
প্রশ্ন :৯
লিটল ম্যাগাজিন নিশ্চয়ই নবীনদের প্রকাশ মাধ্যম।
উত্তর :৯
অবশ্যই নবীন লেখককে পরিচয় করিয়ে দেওয়া লিটল ম্যাগাজিনের কাজ।নতুন লেখকের দুঃসাহসিক লেখা প্রকাশ করাটাই সম্পাদকের কাজ।নতুন লেখকের হাত পাকানোর শ্লেট-পেন্সিল নয় লিটল ম্যাগাজিন।
প্রশ্ন :১০
লিটল ম্যাগাজিনে প্রবীনদের লেখার জায়গা নয় তা বিশ্বাস করি না।আপনি বলেন?
উত্তর :১০
কৃত্তিবাস পত্রিকা যখন বের হয়,তখন তারা ঠিক করেছিল,এটা হবে তরুণ কবিদের মুখপত্র।প্রবীণদের প্রবন্ধ ছাপবে।কবিতা নয়।লিটল ম্যাগাজিন ব্যক্তি বা গোষ্ঠিনির্ভর।সাধারণত সমকালের তরুণ লেখকরাই লিটল ম্যাগাজিনে লিখে থাকেন।এরকম কোন বাঁধাধরা নিয়ম নেই।
প্রশ্ন :১১
লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকের নিজস্ব এক ভাবনা থাকবে।বলুন?
উত্তর :১১
অবশ্যই সম্পাদকীয় থাকা উচিত।
প্রশ্ন :১২
নবীন লেখকে পরিচিত করিয়ে দেওয়া লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদকের দায়িত্ব।নবীনরা তারপর ঐ সম্পাদক ও ঐ লিটল ম্যাগাজিনকে অবহেলা করে তোয়াক্কা না করাটা আত্মপর হয়ে যাওয়ার সামিল।কি বলেন?
উত্তর :১২
এরকম হয়ে থাকে।উচিত নয়।
প্রশ্ন :১৩
একটি সাংগঠনিক কমিটি কি সারা ভারতব্যাপী হওয়া জরুরী
উত্তর :১৩
হওয়া উচিত নয়।
প্রশ্ন :১৪
লিটল ম্যাগাজিনের অন লাইন ভার্সন থাকতে পারে।প্রিন্ট ভার্সনও হওয়া চাই।অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা এখন কালিমাটি থেকে স্রোত আরো কত কত লিটল ম্যাগাজিনের ঠিকানা?
উত্তর :১৪
অনলাইন ম্যাগাজিন লিটল ম্যাগাজিন নয়।বিকল্প মাধ্যম মাত্র।
প্রশ্ন :১৫
সম্পাদনা, কবিতা লেখা ছাড়া আপনার কাজকর্ম নিয়ে বলুন?
উত্তর :১৫
আমার প্রথম সম্পাদিত পত্রিকা 'পত্রপুট'।পরবর্তীতে হার্দ্য,লিটল ম্যাগাজিনের খোঁজ খবর(যৌথ সম্পাদনা),উজ্জ্বল উদ্ধার ও Little Magazine : News & views.
আমার প্রথম কবিতার বই বেরোয় ১৯৭৪এ।কবিতা ছাড়াও আমার সবচেয়ে পছন্দ তথ্যসমৃদ্ধ কিছু গবেষণামূলক কাজ করা।এধরনের বই লিখেছি,লিখছিও।মুক্ত গদ্যলেখা।আর অবশ্যই লিটল ম্যাগাজিন বিষয় লেখালেখি।
ক্লাস ফাইভ থেকেই লিখতে আরম্ভ করি।মূলত কবিতা।ভ্রমণ কাহিনীও লিখেছি।এই লেখালেখি চলতেই থাকে।এখনো সে সব লেখার খাতাগুলি সযত্নে সংরক্ষিত(কোন মানে হয় !)।
পরে তো দেখছি উপন্যাস গল্প ফিচার প্রবন্ধ সবেরই পান্ডুলিপি আছে।তবে লিখেছি যত ছেপেছি সে তুলনায় কম।
আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার সময় থেকে এই কথোপকথনের জন্য সময় দিলপন।আবারও কখনো সময় পেলে নিশ্চয়ই আমরা আলাপচারিতায় মগ্ন হবো বিশ্বাস করি।
০৯:০৭:২০২১
0 মন্তব্যসমূহ