বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি 
প্রাবন্ধিক দেবব্রত দেবরায় মুখোমুখি কবি গোবিন্দ ধর 



বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি 
প্রাবন্ধিক দেবব্রত দেবরায় মুখোমুখি কবি গোবিন্দ ধর 

প্রশ্ন:১
আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি লিখুন।

উত্তর :১
আমার পরিচিত মোটামুটি তোমার জানাই আছে ।
সবমিলিয়ে চল্লিশটি গ্রন্থ রয়েছে আমার । আমার লেখা ও সম্পাদনায়। গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে দেশ বিদেশের চারটি প্রকাশনা সংস্থা থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন  , দর্শন  এবং সাধনা নিয়ে চারটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে । 
স্বামী বিবেকানন্দের সার্ধশতবর্ষে আমার দুটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আমার লেখা দুটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে এবং আমার সম্পাদনায় একখানি আন্তর্জাতিক স্মারকগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে ।
ত্রিপুরার কমিউনিস্ট আন্দোলনের প্রবাদপ্রতিম জননেতা নৃপেন চক্রবর্তীর জীবনী গ্রন্থ একটিই প্রকাশিত হয়েছে এবং সেটি আমার লেখা । 
এইভাবেই চল্লিশটি গ্রন্থ রয়েছে আমার ।

প্রশ্ন :২
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরার ভূমিকা বলুন?

উত্তর :২
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরার ভূমিকা ছিল সর্বাত্মক । ত্রিপুরার বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রায় নব্বই শতাংশেরই পৃর্ব পুরুষের বাসস্থান ছিল আজকের বাংলাদেশে । সেই জন্য এই যুদ্ধে যতরকমের সহযোগিতা প্রয়োজন তা করেছে ত্রিপুরার জনগণ ।
বিশেষ করে ত্রিপুরার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্রলাল সিংহ সেই সময়কার রাজ্য সরকারকে পাশে নিয়ে এই মুক্তিযুদ্ধে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন । যেহেতু ভারত সরকার প্রথম থেকেই ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছেন । সেহেতু ত্রিপুরা সরকারও প্রথম থেকেই সবধরণের সহযোগিতা করেছে । 
বিশেষ করে  লক্ষ লক্ষ শরণার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করা  , খাদ্যের ব্যবস্থা করা থেকে সবধরণের সহযোগিতা করেছে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকার ।

দেশ ভাগের বিপর্যয় মাথায় নিয়ে রাতের অন্ধকারে পৃর্ব পুরুষের ভিটে মাটি ছেড়ে আমার বাবা এবং মা দুটো সন্তানকে নিয়ে আর পাঁচ জনের মতোই বাংলাদেশের হবিগঞ্জের হায়পুর গ্রাম থেকে  কমলপুর মহকুমায় এসে উঠেছিলেন । অভাব অনটন থাকলেও বাড়ির সাঙ্গীতিক পরিবেশ সাহিত্য সংস্কৃতির বিকাশের পক্ষে অনুকূল ছিল । আমার পিতা মাতার সাহিত্য অনুরাগ, শিল্প সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ আমাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল ।

প্রশ্ন :৩
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন চলছে।এই সময় চর্চা হওয়া খুব স্বাভাবিক সেই সময় তাঁর নিরলস পরিশ্রম সাধনা এবং আত্মত্যাগ তিতিক্ষা।বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন?

প্রশ্ন :৩
গণপ্রজাতনন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ উদযাপন বর্ষে আপনার অনুভব জানবো?

উত্তর :৩
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম তথা মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরার অবদান  ছিল অপরিসীম । উনিশশো একাত্তর সালের সেই উত্তাল দিনগুলোতে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা ছিল এই মুক্তিযুদ্ধের সমর রাজধানী।বলা চলে এই মুক্তিযুদ্ধের প্রায় আশি ভাগই পরিচালিত হয় আমাদের ত্রিপুরা থেকে । সেদিন ত্রিপুরার জনসংখ্যা যা ছিল তার থেকে বেশি সংখ্যক শরণার্থী ত্রিপুরায় আশ্রয় নিয়েছিলেন । এককথায় বলা চলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমগ্র ত্রিপুরাবাসীই যেন এই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। 
এছাড়াও  ভারতীয় সামরিক বাহিনী ত্রিপুরাকে কেন্দ্র করেই সেদিন সেই ঐতিহাসিক যুদ্ধ সেদিন পরিচালনা করেছিল ।

উত্তর :৩
বাংলাভাষা রাষ্ট্র তথা বাঙালি জাতি সত্বার রাষ্ট্র  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহান স্থপতি হাজার বছরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের কাজ আমরা আগরতলা তথা ত্রিপুরায় শুরু করেছিলাম  দুই হাজার উনিশ সালের  ফেব্রুয়ারি মাস থেকে । প্রথমেই আমরা আমাদের রাজ্যের একশো জন গুণী ব্যক্তিত্বকে নিয়ে গঠন করেছিলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি  ,  ত্রিপুরা  । ঐ কমিটির উদ্যোগে ঐ বছরের দশ মার্চ  দেশ বিদেশের বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রায় পন্চাশ জন লেখক  কবি শিল্পী সাহিত্যিকদের আগরতলায় আমন্ত্রণ করে  এনে আগরতলার সুকান্ত একাডেমীতে একটি ঐতিহাসিক শ্রদ্ধান্জলি নিবেদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম । আগরতলার হাজার হাজার মানুষের উজ্জ্বল উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানটি  ঐতিহাসিক হয়ে উঠেছিল । ঐতিহাসিক ঐ অনুষ্ঠানেই আমরা ঘোষণা করেছিলাম যে বঙ্গবন্ধু স্মরণে  একটি আন্তর্জাতিক স্মারকগ্রন্থও আমরা প্রকাশ করবো ।
সেই ঘোষণাকে মান্যতা দিয়ে আমরা দেশ বিদেশের দুশো জন লেখক কবি শিল্পী সাহিত্যিক সাংবাদিক এবং রাজনীতিবিদদের লেখা সংগ্রহ করে আমরা আগরতলায় প্রকাশ করি "বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী আন্তর্জাতিক স্মারকগ্রন্থ "।
ঐতিহাসিক এই স্মারকগ্রন্থ নিয়ে আমরা ভারত থেকে প্রায় ষাট জন লেখক কবি শিল্পী সাহিত্যিক ঢাকায় যাই । দু হাজার উনিশ সালের এগারো অক্টোবর  ছিল সেই  স্মরণীয় দিন । ঢাকার জাতীয় যাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে হাজার হাজার  মানুষের উজ্জ্বল উপস্থিতি এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটি সুসম্পন্ন হয় ।
অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম উপদেষ্টা ড , গওহর রিজভী । উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সর্বজনশ্রদ্ধেয়  জাতীয় অধ্যাপক প্রয়াত আনিসুজ্জামান । অনুষ্ঠানে  বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবি লেখক শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত ছিলেন ।

প্রশ্ন:৪
মুক্তিযুদ্ধের কোন বিশেষ স্মৃতি?

উত্তর :৪
মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স মাত্র এগারো বছর । আমি কমলপুরের কলাছড়ি গ্রাম থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঠন পাঠন শেষ করে ষষ্ঠ শ্রেণীতে  সবেমাত্র ভর্তি হয়েছি কমলপুর শহরে অবস্থিত কমলপুর সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে । আমার স্পষ্ট মনে আছে কমলপুর স্কুলে অনেকগুলো বাঙ্কার কাটা হয়েছিল । যুদ্ধ শুরু হলে কীভাবে বাঙ্কারে ঢুকে পড়তে হবে এই ব্যাপারে শিক্ষকবৃন্দ আমাদেরকে প্রশিক্ষণ দেন ।
এদিকে আমাদের বাড়িতে ভারতীয় সেনা বাহিনীর থাকার ব্যবস্থা হয় । কলাছড়ি গ্রামের পুরো বাড়িটাই একটা ক্যাম্প এ পরিনত হয় । আমরা বেশ কয়েক মাস আর বাড়িতে থাকতে পারলাম না । আমাদের ছোট ছোট তিন ভাই বোনকে পাঠিয়ে দেয়া হলো ধর্মনগরের কাছে মাছমারাতে । মাছমারাতে আমার বড়ো দিদির শ্বশুর বাড়ি । সেখানে কিছুদিন থেকে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয় কাঞ্চনপুরে । সেখানেই আমার ভগ্নিপতি প্রয়াত অখিল দেব কো অপারেটিভ এ কাজ করতেন । 
যুদ্ধ শেষ হলে আমরা যখন বাড়িতে ফিরে এলাম তখন আমরা নিজেদের বাড়িই চিনতে পারছিলাম না । অনেক দিন মিলিটারি থাকাতে আমাদের ঘরে মিলিটারির গন্ধ রয়ে গিয়েছিল অনেক দিন । আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ পুরো গ্রামেই ছিল শরণার্থী ।

প্রশ্ন :৫
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন চলছে।এই সময় চর্চা হওয়া খুব স্বাভাবিক সেই সময় তাঁর নিরলস পরিশ্রম সাধনা এবং আত্মত্যাগ তিতিক্ষা।বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন?

প্রশ্ন :৬
কমলপুর মহকুমার গঠনেরও ১০০ বছর।সেই সময় মুক্তিযুদ্ধে কমলপুরের ভূমিকা অস্বীকার করা সহজ নয়।যদি বিস্তৃত বলেন?


উত্তর :৬
কমলপুর মহকুমা  আমাদের রাজ্যের একটি বর্ধিষ্ণু অঞ্চল । কমলপুর মহকুমার ঐ পাড়েই রয়েছে বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গল অঞ্চল । একাত্তরের যুদ্ধের সময় মূলত বৃহত্তর  শ্রীমঙ্গল অঞ্চলের ব্যাপক অংশের মানুষ এসে আশ্রয় নেন কমলপুর মহকুমায় ।  সরাসরি এই মহকুমা থেকে ভারতীয় সেনা বাহিনী যুদ্ধ পরিচালনা করেছে । ফলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর টার্গেট ছিল কমলপুর । কমলপুরের অনেক স্থানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ছোড়া শেল এসে পড়েছিল । এই শেলের আঘাতে বেশ কয়েক হতাহতও হয়েছেন । কমলপুরের একজন বিশিষ্ট  নাগরিক তলাপাত্রবাবু এই শেলের আঘাতে নিহত হয়েছেন । ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েছিলো আমাদের কমলপুর এবং কমলপুরের জনগণ ।

প্রশ্ন :৭
সারা পৃথিবী আলোড়িত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা।অথচ বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত আছে।মতান্তর আছে।আপনি কেমন দেখেন এই ষড়যন্ত্র মামলাকে

উত্তর:৭
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন এবং সংগ্রামের সঙ্গে আমাদের রাজ্যও  জড়িয়ে আছে নানাভাবে  ।  বঙ্গবন্ধু উনিশশো তেষটি সালে আগরতলায়  এসেছিলেন । তিনি মূলত শ্রীমঙ্গল থেকে খোয়াই নদী পেরিয়ে ত্রিপুরার খোয়াই মহকুমা হয়ে আগরতলায়  এসে তৎকালীন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী শচীন সিংহের সঙ্গে দেখা করেছিলেন । পরবর্তীকালে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী এই সূত্র ধরেই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে একটি  মামলা দায়ের করে । এই মামলাটিই বিশ্ব বিখ্যাত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হিসেবে খ্যাত । এই মামলায় জয়ী হয়েই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন । এখন আর আমরা এই মামলাটিকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বলিনা । আমরা বলি আগরতলা মামলা । বঙ্গবন্ধু কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করেননি ।  তিনি শুধু বাংলাদেশের মুক্তি চেয়েছেন ।


প্রশ্ন :৮
আপনার পরিবারের সাথে কোন স্মৃতি জড়িত আছে কিনা?

উত্তর:৮
যদিও আগেও কথাগুলো বলেছি তবুও বলি:
আমাদের বাড়িতে ভারতীয় সেনা বাহিনীর থাকার ব্যবস্থা হয় । কলাছড়ি গ্রামের পুরো বাড়িটাই একটা ক্যাম্প এ পরিনত হয় । আমরা বেশ কয়েক মাস আর বাড়িতে থাকতে পারলাম না । আমাদের ছোট ছোট তিন ভাই বোনকে পাঠিয়ে দেয়া হলো ধর্মনগরের কাছে মাছমারাতে । মাছমারাতে আমার বড়ো দিদির শ্বশুর বাড়ি । সেখানে কিছুদিন থেকে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয় কাঞ্চনপুরে । সেখানেই আমার ভগ্নিপতি প্রয়াত অখিল দেব কো অপারেটিভ এ কাজ করতেন । 
যুদ্ধ শেষ হলে আমরা যখন বাড়িতে ফিরে এলাম তখন আমরা নিজেদের বাড়িই চিনতে পারছিলাম না । অনেক দিন মিলিটারি থাকাতে আমাদের ঘরে মিলিটারির গন্ধ রয়ে গিয়েছিল অনেক দিন । আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ পুরো গ্রামেই ছিল শরণার্থী ।

প্রশ্ন:৯
বঙ্গবন্ধুর উপর আপনার একটি বই আছে।বইটি নিয়ে আলোকপাত করবেন?

উত্তর :৯
বঙ্গবন্ধু জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে আমি খুব ছোট বেলা থেকেই ভাবতাম । ক্রমশঃ যখন বড়ো হয়েছি তখন বুঝতে পারি যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো এতো বড়ো দেশপ্রেমিক জননেতা পৃথিবীতে বিরল । তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনা  , ধর্মনিরপক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি এবং শোষন মুক্ত সমাজ গঠনের স্বপ্ন আমাকে খুবই আকর্ষণ করে । শুরু করলাম বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নিবিড়ভাবে পড়াশোনা । তারপরেই তাঁকে নিয়ে গ্রন্থ লেখা শুরু করি । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে আমার দুটো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে  ।  দুহাজার পনেরো এবং ষোল সালে এই দুটি গ্রন্থ প্রকাশ করে ঢাকার পারিজাত প্রকাশনী ।  গ্রন্থ দুটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল আগরতলার সুকান্ত একাডেমীতে । অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতনন্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাহেব । প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার । এই দুটো গ্রন্থ সারা বাংলাদেশে খুবই  পাঠকপ্রিয়তা লাভ করেছিল । যার ফলে গ্রন্থ দুটির বেশ কয়েকটি সংস্করণও প্রকাশিত 
হয় ।
এই দুটি গ্রন্থ প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় """বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী আন্তর্জাতিক স্মারকগ্রন্থ"""
ঐতিহাসিক এই স্মারকগ্রন্থ নিয়ে সমগ্র বাংলাদেশেএকটা আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছিল । এর মূল কারণ হলো বাংলাদেশের জনগণ এবং বাংলাদেশ সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকীতে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করার আগেই আমরা ত্রিপুরা থেকে এই ধরনের একটি  বৃহৎ আকারের গুরুত্বপূর্ণ স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করতে সমর্থ হয়েছি । এটা আমাদের কাছে আত্মশ্লাঘা এবং আত্ম গৌরবের বিষয়

প্রশ্ন:১০
বঙ্গবন্ধুর শতবছর আগরতলায় উদযাপনের আপনিই মূল কারিগর। প্রাপ্তি বা অপ্রাপ্তি বিষয়ে বলুন।

উত্তরঃ১০
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আমরা সবার আগেই আগরতলায় ব্যাপক উদ্যোগ এবং কর্মসূচি গ্রহণ করেছি ।  বাংলাদেশের জনগণ এবং বাংলাদেশ সরকার কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করার আগেই আমরা বিদেশের মাটিতে দাড়িয়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করি । এই ঘটনায়   বাংলাদেশের জনগণ সত্যিই চমকে উঠেন । বিশেষ করে আমরা যখন আগরতলা থেকে সবার আগে বঙ্গবন্ধু স্মরনে আন্তর্জাতিক স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করি তখন সত্যি সত্যিই বাংলাদেশের লেখক কবি শিল্পী সাহিত্যিক সাংবাদিক সহ অসংখ্য গুণী মানুষ এগিয়ে আসেন এবং আমাদের কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন । একদিকে আগরতলার  অনুষ্ঠানে যেমন বাংলাদেশের  প্রায় পন্চাশ জন লেখক কবি শিল্পী সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবী অংশ নেন  তেমনি  ঢাকায় এই আন্তর্জাতিক স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের সমস্ত ব্যয়ভার বহন করার জন্য এগিয়ে আসেন । আমাদের ঢাকার বন্ধুরা প্রায় দশ লক্ষ টাকা খরচ করে এই আন্তর্জাতিক স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটি সুচারুরূপে সুসম্পন্ন করেন । পরবর্তী কালে এই স্মারকগ্রন্থ নিয়ে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি  জেলায় ছোট খাটো অনেক অনুষ্ঠান হয় ।
বর্তমানে আগরতলা থেকে খুব বৃহৎ পরিসরে প্রকাশিত হচ্ছে """গণপ্রজাতনন্রী বাংলাদেশের সুমহান  স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ আন্তর্জাতিক স্মারকগ্রন্থ """"
ইতিমধ্যে পৃথিবীর প্রায় দুশো জন গুণী মানুষ এই আন্তর্জাতিক স্মারকগ্রন্থের জন্য লেখা পাঠিয়ে দিয়েছেন । এই আন্তর্জাতিক স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটিও  ঢাকায় করার জন্য ইতিমধ্যেই আমাদের কাছে আমন্ত্রণ এসে গেছে ।
বর্তমান করোনা পরিস্থিতি শেষ হলেই এই আন্তর্জাতিক স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটি ঢাকায়  খুব সুন্দর ভাবে করতে পারবো বলে  আমার বিশ্বাস ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ