একগুচ্ছ কবিতা || প্রগতি খীসা

একগুচ্ছ কবিতা 
প্রগতি খীসা




কবি প্রগতি খীসার জন্ম ৫ মার্চ ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দ। লেখালেখি স্কুল থেকে। তাঁর লেখালেখির বিষয় প্রকৃতি ও সংস্কৃতি এবং জীবনের ধুসর পদাবলি। কবি ২০১৯ সাল হতে থাইরয়েড ক্যান্সার রোগের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছেন। কবি ইতোমধ্যে ভারতের চেন্নাই এপোলো হাসপাতালে থাইরয়েড ক্যান্সার অস্ত্রোপচার করেছেন দুই বার। 
আমরা কবির দীর্ঘায়ু ও রোগমুক্ত জীবন কামনা করি।



ভালোবাসা ও মুক্তবাকের সীমারেখা।

মানুষে মানুষে অনন্ত ভালোবাসা, বিশ্বাস ও পরমত সহিঞ্চুতা যখন হারিয়ে যায়
সেখানে অাক্রোশ স্রোতের দুষ্টুমিতে হারিয়ে যায় শ্রদ্ধা অার ভালোবাসার বহতা নদী
ভাটা পড়ে অাত্মদর্শনের মূল্যবোধ
ন্যায়- ন্যায্যতা হয়ে যায় বড্ড্ অসহায়।
শিশির বিন্দুগুলো ঘাসের ডগায় পড়েনা
মাঘের শীতলা রাতটি হয়ে উঠে ভ্যাপসা গরম
ঝুরঝুর করে ঝর্ণাধারার মতো
অাকাশ হতে অাগুনের ফুলকিমালা ঝড়ে
মূহুর্তে লালচে হয়ে পড়ে মানুষে মানুষে
ভালোবাসা ও মুক্তবাকের  সীমারেখা
এ কেমন দিনকাল চলছে এখন?
মহামানবেরা বলে ওহে মানব!
সমস্ত রণসাজ অন্তর হতে উচ্ছেদ করো
মানবে মানবে বিলিয়ে দাও প্রেম সুধা
মাতৃত্ব হৃদয় নিসর্গের মতো হও নিরঅহংকার
শিমুলফুলের মতো উদার হয়ে বিলিয়ে দাও
শুদ্ধতম হৃদয়ের পরাগরেণু
বহুজন সুখের জন্য, বহু জনের হিতের জন্য
কামনা বাসনায় জ্বেলে রাখো মানুষে মানুষে
কোচপানার সংবাহন বিন্দুর প্রজ্জ্বলিত চেরাগ।


মরিচায় জংধরা তালা

ঐ যে কবিতাটি পড়েছি এতক্ষণ
সেই কবিতার চাদরে লুকিয়ে অাছে
শতবছরের পূরণো মরিচায় জংধরা
 ডাস্টবিন হতে তুলে অানা কোন তালা।
ঐ যে জংধরা তালাটি উপুড় হয়ে পড়ে অাছে
কবিতার শব্দের ভাঁজে ভাঁজে
সমকালের চাবি চিৎকার করে বলে
অাহা! অামি এখন পথহারা পথিক
অার কবি তুমি অাছো এন্টার্কটিকা মহাদেশে
জানি না কবে হবে কবির সদম্ভ অাগমন?
কোন এক ঘন প্লাবিত জোছনার রাতে।
যারা বলেছিল এ কবিতা ঐ কবিতায়
শব্দমালায় কিংবা পঙক্তিমালার ঠোঁটে
লেগে অাছে কবিতারসের উচ্ছ্বাসতা
সাহিত্য সমকাল বলে  না জানি তারা
কত দিব্যি মিথ্যে বলেছিল সেদিন?
পূরনো জংধরা শব্দের অন্দর মহলে
অাধুনিক কবিতা সাহিত্যের ঢেউ এসে
ফিরে গেছে বার বার অচিনপূরে
তবুও কোন এক সৌভাগ্য রজনী পেরিয়ে
অামি এখন অনেক অনেক বড় কবি।
০১-০৭-২০২০


সকালের জন্য আমার নেই কোন অপেক্ষা 

বন্ধু  আমার
 এখন আর সকালের জন্য অপেক্ষা নেই আমার
কারণটা  কী জানো বন্ধু?
আমি অসুস্থ হবার পর রাত্রি তার নিঃসীম অন্ধকার পেরিয়ে
কখনো ফিরে আসেনি আমার কাছে স্বস্তির আনন্দঘন সকাল
দুঃখেরি রাত্রি যেন শেষ হতে চাই না আর।
তবে হ্যাঁ বন্ধু
সোনালী সূর্য আভা সকালের জন্য অপেক্ষা করি রোজ
প্রতীক্ষিত সকাল যেন জীবনের নতুন আলাপন
অতৃপ্ত জীবন বাসনা
দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণাময় অভাব যেন এখন অশরীরীর উৎপাত
তাই সূর্যোদয়ের জন্য আমার নেই কোন আরাধনা 
রাত শুধু রাত, রাতেরই নির্ঘুম মানসিক উৎপাতের দহন
অতএব, হে ঈশ্বর
তোমার সকালের জন্য আমার আর নেই কোন অপেক্ষা। 
২১-০৬-২০২১

মালতিলতা

আজ মধ্য দুপুরে  মালতী লতার দোলে
কে যেন জানান দিয়ে গেলো 
তুমি নেই! মৃত্যুের বাতাস ছুঁয়ে গেছে কপোলে
তোমার প্রেম এসে থমকে দাঁড়ালো
হঠাৎ স্তব্দ করে দিল পৃথিবী নামের এই বিচিত্র
থিয়েটার।
কাঙ্খিত আলোর গতি 
সরিয়ে গেলো বহুদূরে
এসে গেলো জীবন পরিক্রমার
অমাবস্যার রাত
নিমিষে অন্ধকারে ছেঁয়ে গেলো চারদিক
অতঃপর প্রেমময় ধরিত্রী
এখন কেবলি অন্ধকার।

ঝর্ণা

ঐ দুর পাহাড়ের ঝর্ণাগুলো
বড় উদ্বেগে ছিলো এতদিন
তাই সহসা ঘনবর্ষা হলো আগুয়ান
অস্থির চিত্তে দোলায়
আকাশ ভাঙলো নামলো বৃষ্টি
গিট্টোখুলে কারা ঢেলে দিলো
বৃষ্টি অবিরাম
অবশেষে একগাল হাঁসি উপহার দিয়ে
ঋতুমতি যৌবন ফিরে পেলো 
আমার প্রিয় পাহাড়ের ঝর্ণাগুলো
এবার চলো ঘুরে আসি
আমার প্রিয় পাহাড় কন্যা
ঝর্ণার গৃহ হতে।

কবির প্রেম

কে যেন বলেছিলেন মনে নেই, ' কবি মাত্রই চাষাবাদ করেন অবলা কোন দুঃখ
জানি না কবির কীসের সেই দুঃখ? কে যেন চুপিচুপি বলে দুঃখটা কেবল কবিদের প্রাপ্য
কারণ সৃষ্টির যাতনা, অপ্রাপ্তিতার বেদনা, মানবিকতা হৃদয়ের অগোছালো স্পৃহা
সবখানেই কবির দুঃখ অতএব দুঃখতেই ভরা কবিরই  জীবন
অথচ কী দুঃখ আমার আমিতো কোন দিনই ভাবিনি সে সবের কথা
তাই আমার কোন দুঃখ নেই এই ঝড়োমেঘের হাওয়া দিনে।
এই মেঘ-পাহাড়ের দেশে ঝড়োমেঘ হাওয়া খেতে খেতে
রেংখ্যং নদীর উজান বেয়ে ধুপশীল ঝর্ণা ঘেঁষে হাঁটতে হাঁটতে 
যাকে এক পড়ন্ত বিকেলে  খুব কাছে থেকে প্রেম নিবেদন করেছিল 
সে নষ্টালজিয়া কথা মনে পড়লে এখনো  মনে ভেসে ওঠে একগাদা বাদামী প্রেম।

৪৮ বছরে এই আমি

চার দশ আট বছর এই-ই- আমি
ভালোবাসা বিলিয়ে দিয়েছি 
এই পৃথিবীর চারপাশে
 স্বপ্নের যোগান দিয়েছি
ছায়াপথ হয়ে বিষুব রেখা পর্যন্ত
অথচ এই পৃথিবীর বুকে
অশ্রু ফেলার জন্য দেয়নি 
একমুঠো বালুও
যা শুষে নিতে পারতো আমার অশ্রুফোঁটাগুলো
তাই অশ্রুবিন্দুগুলো ক্রমাগত
জমাট বাঁধছে বারবার।
ওরে দজ্জাল শোন
আমি আর এই  কারোর  কাছে নতজানু হয়ে
চাইবো না শ্মশানের সাড়ে তিনহাত মাটি
এই পৃথিবীর মানুষ জানে
জন্ম যখন নিয়েছি মরতেই হবে একদিন
অতএব, কারোর কৃপা নয়
ভাগ্যের বিধাতা নিশ্চয়ই দিবেন
ইন্দ্রজালের জটলা খোলার সমাধান।


 আমি তোমাকে ভালোবাসি

ফাওনের  বাতাসের ঢেউয়ে নাচন ধরছে প্রকৃতির
অচিরেই আগমন হবে আমার প্রিয় পাহাড়ে বিজু পাখির
এতোদিন ঘোমটা মুড়ে থাকা ভূপূজো ফুলগুলো বের হয়ে আসবে ফুঁরফুঁরে মেজাজে
নাকশা ফুলে ফুলে আগমন ঘটবে ভোমরা অতিথিদের
আমার গ্রামের বুক ছিঁড়ে বয়ে যাওয়া প্রিয় দুরখেয়া খাল শুকিয়ে পা ভিজবে না
মাঠগুলো ভরে সোনালী রঙের সরিষার ফুলে ফুলে
আমার প্রিয় জুম্মবি রাঙা খাদি বুকে টেনে ফসল ফলিয়ে অপেক্ষায় থাকবে
কবে আসবে সেই প্রিয় শিল্পী, গায়ক ও কবির দল
খালের দ্বারে দ্বারে দাঁড়ানো কাশফুলেরা আলিঙ্গন জানাবে সেদিন সে হে কবি তোমায়।
নীলাকাশের চোখ থেকে রাধামন- ধনপুদির 
ভালোবাসার মিথের গল্প ঝড়ে পড়বে সেদিন
কবিতা  ও গানগুলো পরিণত হবে ভালোবাসা
আবেদনের কোন অষ্টাদশী জুম যুবতীর প্রেমের এসএমএস
এমনতর এসএমএস পেয়ে আমার প্রিয় জুমের একুশে যুবক 
প্রেমের মুড়মুড় শব্দে ভেঙে ফেলবে নুতন দুয়ার খোলার সমস্ত লকআপ।
প্রেমে প্রেমে ভরে উঠবে দূ'জন দূ'জনার মন
পাহাড়ের কচি কচি আম পাতা আর ত'শাকের ডগাগুলো হবে প্রেমের স্বাক্ষী 
মেনমেনি মৌচাকের পোকাগুলো কামড় দিয়ে শাস্তি দেবে না কোন বেঈমান প্রেমিককে
জুম যুবতীর হাতের ছোঁয়ায় শান্ত হবে অশান্ত জুম যুবকের মন
কোচপানার শব্দাক্রান্ত হবে না কো জুম যুবক-যুবতীর হৃদয়ে
সেদিন কেউ আর তোমাকে ছেড়ে ভিনদেশে কিংবা ভিন সমাজে তোমাকে ফেলে যাবে না
হে জুম যুবক! তোমাকে আর ফেলতে হবে না কোচপানা নথিচাপা দীর্ঘশ্বাস। 
শুধু মন থেকে, হৃদয় উজাড় করে আমার প্রিয় জুম যুবতীকে বলো 
মুই তরে কোচপাঙ, মুই তরে কোচপাঙ।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ