কী লিখি কেন লিখি মাধুরী লোধ

কী লিখি কেন লিখি 
মাধুরী লোধ 

কী লিখি কেন লিখি 
মাধুরী লোধ 


লিখি লিখছি লিখে যাবো। লেখার জগতে প্রবেশ করি মেয়েবেলায় ।কী লিখে ছিলাম মনে নেই ।সে সময় ইস্কুলের বইপত্র ঠিকমতো কিনে দিতে পারতেন না ।লেখা গুলো একটা ডায়েরী বা খেরো খাতা  থাকলে লেখালেখির ইতিহাস অন্য কথা বলতো ।

শিক্ষক গোপালমণি দাস ও শিক্ষক কবি দেবাশীষ চক্রবর্তী আমাকে লিখতে উৎসাহ দিতেন । শিক্ষক প্রেম রঞ্জন স্যার ও গনেশ মিত্র স্যার এর কাছে আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা । সমাজ সেবী পরেশ চক্রবর্তী আমাকে লিখতে উৎসাহ দিতেন । প্রফেসর রবীন্দ্র দত্ত , শিক্ষক রবীন্দ্র মজুমদার, রাখাল চক্রবর্তী,ভূপাল চক্রবর্তী, প্রবীর চক্রবর্তী ,শিবুরঞ্জন পাটারী উৎসাহিত করতেন ।
প্রাইভেট পড়ার ক্ষমতা ছিলো না ।বিনে পয়সায় অংক করাতেন শিক্ষক পরিমল সরকার ও ইংরেজী পড়াতেন বিষ্ণু চক্রবর্তী মহাশয় লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছি বড়দি শিউলি লোধ ও মা রেনুকনা লোধ এর কাছ থেকে । দিদির লাইব্রেরী কার্ড ছিলো । মায়ের জন্য উপন্যাস ও গল্পের বই আনতেন ।শরৎ রচনাবলী, রবীন্দ্র রচনাবলী , শঙ্কর এর 
বই বা অন্য বই । নৌকা ডুবি পড়তে পড়তে কতোদিন লুকিয়ে কেঁদেছি মনে নেই। যা মনে আছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর গৃহদাহ, সন্ন্যসিনী, বিপ্রদাশ দেবদাস । আমার ক্লাস সিক্স থেকে বান্ধবী পিন্টু ভট্টাচার্য আর আমি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বই পড়তাম । লাইব্রেরী কার্ড হবার পরে দুজনের মধ্যে কে কতো বই শেষ করতে পারি প্রতিযোগিতা । আমাদের বাড়িতে সে সময় কারেন্ট ছিলো না । দুটো হ্যারিক্যন ছিলো ।একটা জ্বলতো মাটির ওয়াল ঘরে ।বেয়ার ঘরে আমি কুপীর আলো তে পড়তাম নিশিরাত অবধি । বাবা শাসন করতেন ।মা বলতেন চোখ নষ্ট হবে । তারপরও পড়ার নেশা কোন বাধা বাধা হয়নি ।
পিন্টু আমাকে ডাকতো ডালি বলে ,আমি ওকে ডাকতাম ফুলি ।সে সখ্যতা পড়ন্ত বেলায় ও অটুট । আমাদের উপর নানাহ ঝড় ঝাপটা গেছে আমরা এখনোও রয়ে গেছি প্রানের বন্ধু ।
ঐ সময় যতো ঘটনা দেখেছিলাম আমি কিছু কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে লিখে দিয়েছি আমার লেখালেখি তে। কবিতা গল্প উপন্যাস বা অন কোন লেখায় ।
মা বসবার পিড়িতে কাঠ কয়লা দিয়ে লেখা শিখিয়েছেন ।সে পিড়ি দিনে কয়েকবার ধুতেন , কখনো বিরক্ত হননি ।আর বলতেন যারা পড়তে ভালবাসে তাঁরা লিখতে ও পারে । লেখালেখি কোন কঠিন কাজ নয় । আমার মা নক্সী কাঁথা বুনতেন, রুমাল, বালিশের ওষার বা টেবিল ঢাকনীতে চমৎকার সুচ সুতোয় ফুল তুলতেন । ফুলের সাথে থাকতো পাখি , গাছপালা, শঙ্খ, রাধাকৃষ্ণ,শিব দূর্গা বা দেব দেবীর ফটো । সাথে থাকতো চুটকি বা ছড়া। একজন পাঠক বা লেখক কে অনুপ্রেরণা দেবার জন্য যথেষ্ট ।
সে সময় লেখক হবার মতো দুঃসাহস আমি দেখাতে পেরেছি তা আমার সুভাগ্য ও মা সরস্বতী র সহায়তার জন্য ।যে কোন কাজ বা টিউশনি আমি করতাম পড়ার খরচ খাতা কলম জোগাড় এর জন্য । মাঠের কাজ ,কানি ছড়া তোকানো,ঘুঁটে গোবর তোকানো এতে হতো বাড়তি আয় । শ্রমজীবী ও নিম্নবিত্ত পরিবারের আয়ের বাধা কোন উৎস থাকে না ।খড়কুটো ধরে বাঁচতে হয় । আমাদের ও সে দশা ছিলো । তবুও পড়া বা লেখা চালিয়ে গেছি ।মা বাবা না জানলে ও পরে জেনেছিলেন । বাবার আপত্তি ছিলো এতে ইনকাম হয় না ।মা সাপোর্ট করেছিলেন , কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর ছন্ন ছাড়া দশায় ও আমি লেখা লেখি নামক কাজ চালিয়ে গেছি ।
এই মাত্র লিখলাম । লেখালেখি আমার শখ ও নেশা ।ইনকাম যা হোক না কেন পরিচিতি বাড়ে ।
সমাজে দশের দেশের ভালো মানুষ হয়ে বাস করার আনন্দ পাওয়া যায় ।
আমার নয়টি ব ই হয়েছে । দুটো কবিতা স্্কলন, তিনটি উপন্যাস,চারটি গল্প সংকলন । লেখিকা তকমা পেয়ে আমি মনে প্রাণে খুব খুশি । আমার দাদা দিদি ভাই বোন রা আমাকে নিয়ে গর্ব করে । ছেলে খুশি মহাখুশি ।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ