একগুচ্ছ কবিতা সংগীতা গুপ্ত

একগুচ্ছ কবিতা 
সংগীতা গুপ্ত 


একগুচ্ছ কবিতা 
সংগীতা গুপ্ত 

পরিচিতি 

 সংগীতা গুপ্ত আগরতলা কৃষ্ণনগর এলাকার বাসিন্দা ।হলিক্রস বিদ্যালয়ে বাংলা শিক্ষিকা পদে নিযুক্ত ।গত পাঁচ বছর ধরে তাঁর প্রাণের মধ্যে, পরের প্রাণের মধ্যে আর প্রকৃতির প্রাণের মধ্যে কবিতার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করার চেষ্টা করে চলেন।মহিলা কাব্য মঞ্চের একজন সক্রিয় সদস্যা। বাংলাভাষা. স্রোত  - সাহিত্য পত্রিকার পাশে থাকার সুযোগ পেয়ে তিনি গর্বিত ।



কবিতা:শব্দ

তোমাকে নিয়ে আমার  ঘর বাঁধার কত স্বপ্ন ।
স্তব্ধতার গভীরে কখনো হারাই  
কখনো পুষ্পবর্ষণের ন্যায় নির্গত স্ফুলিঙ্গ ।                     
অদৃশ্য সুতোয় গাঁথা তোমার মালা।                                    আঁকড়ে ধরে জড়িয়েছি শরীরে হৃদয়ে ।                    বহুদিন ভিক্ষাপাত্র হাতে গেছি তোমারই সম্মুখে ।
রিক্ত আমি পূর্ণতার স্বাদ পেতে চাই তোমারি আশ্রয়ে । জমিয়ে রাখা কান্নার দাগ ভালোবাসার খিদায় ক্ষতবিক্ষত ।
সব অনুশোচনার সমাপ্তি তোমার শীতল স্পর্শে।

সাজানো সন্ধ্যা


অস্তাচল সূর্যের রক্ত মেঘস্তূপের ছায়ায়
অনন্ত সৌন্দর্যের অধিকারী কালো সন্ধ্যা
সান্ধ্য রাগ-রাগিনীর সুরের মূর্ছনায় স্নাত সন্ধ্যারাগ।
 হীরার অলঙ্কারের মত ধ্রুবতারার নিশ্চুপ দৃষ্টি উপলব্ধিতে ,
অনুভবের তোমার প্রবেশ ।

রাগে অনুরাগে বিরাগে

রোদনভরা এ বসন্তে তোমারই সংগীত
স্বপনে জাগরণে বাজে।                       
আকাশ বাতাস দুঃখে ভারি সুরের  গহনে 
খুঁজে পাই শান্তির বাণী।
জীবনযন্ত্রণায় তোমার স্পর্শ পাই,
 অন্ধকারে  নির্জনে নিভৃতে
তোমার কথাকে  পেতে চাই।
রাগে অনুরাগে বিরাগে
তুমিই পরমাশ্রয়।



নিস্তব্ধ নিঝুম দুপুর
খড়তাপে দগ্ধ হৃদয়
অবশ মন খুঁজে বেড়ায় পূর্ণতা।
ঐ শোন দামামা!
মৃত্যুর মিছিলে সামিল হতে আহ্বান ।
জন্মভূমি আজ মৃত্যু ঢেউয়ে আবর্তিত
অবুঝ মন তখনো শূন্যস্থানের পূর্ণতার সন্ধানে 
কল্পনার আকাশে সোনার স্বপ্নের জাল বুননের কাল শেষ ।
মানুষে মানুষে ছড়ে বিভীষিকা,
দিশেহারা রহস্যময় এই জীবনপথ ,অবাধ্য মনে তখনো জীবনউৎসে ফেরার তাগিদ

আমি 


দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো অতিক্রমকারিনী এক নারী।
জীবনের দুই প্রান্তে জন্ম আর মৃত্যু। 
মাঝে একটু খানি চোখ মেলে চাওয়া 
জীবনে চোখ রাঙানোকে বদলে দিয়ে 
অসম্ভবের সম্ভব প্রয়াসে 
টানা পথ চলা । 
সঙ্গীহীন খোলা দরজা - নিঃসঙ্গতা নির্জনতা 
অস্বীকার করে 
তীব্র ভালোবাসা ও আত্মবিশ্বাসে হলুদ গোলাপ হাতে
খিলখিল হাসি।
জীবনযুদ্ধে জয়ী আমি সেই  নারী ।

বৃষ্টির সুবাস

ভারি বৃষ্টির দাপটে গাছ গুলো জড়সড়। 
তোমার আদরের কাছে আত্মসমর্পণের মতো 
প্রকৃতির তান্ডবে বৃক্ষেরা মেতে ওঠে । তান্ডব লীলা শেষে  মাটিতে লুটিয়ে পড়ে হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা কে ফিরে পাবার আকুলতায়।

আবার এসেছে আষাঢ়
বৃষ্টির সুবাস বাতাসে বাতাসে।নূতন মেঘের আনাগোনা
মনে যেন নূতন আশার সঞ্চার
না বলা অনেক কথার অপেক্ষায় সারা প্রহর কাটে ।
[13/06, 7:56 pm] সংগীতা গুপ্ত Sangita Gupta: রূপকথা // সংগিতা গুপ্ত

পরিচিত রূপকথার রুপোলি আলোর 
ঠিকানা জানিনা,
স্মৃতির অতল গহ্বরে দমবন্ধ অবস্থা
হাসি - কান্নার মিশ্রিত ভাবের নেই কোন ওষুধ , 
বিরহ নদী নির্দ্বিধায় বয়ে যায়,
বুকে কাব্য কবিতা, 
চোখে শ্রাবণ ধারা, 
হৃদয়ের অন্তস্থলের গীতল,
মায়ের কোলের একান্ত কাছে
বাবার নিবিড় সান্নিধ্যে,
বিরাগিনীর কান্না ছুঁতেই পারল না,
সে প্রেমিক নয় !


নৌকা 
              
মন আর আমি আজ বড় একা               
আকাশ গাঙে পাল তোলা নৌকা 
পায়ে পায়ে মন এগিয়ে চলে
পৌছানোর মন্ত্র জানা নেই

 সে এক অজানা দেশ  
 ওখানে নক্ষত্র আলো দেয়।
 মন তার আপন গতিতে ছুটে।
আমি আজও বড় একা।
সেই আগুন আর নেই আমার বুকে।

ছাইচাপা আগুন অশ্রু জলে ধুয়ে যায়।
ভাবতে ভাবতে মনে পড়ে পুরো মানুষটাকে ।
পথের ধুলোয়, ঘাসে, রোদে,ভালোবাসায়, মায়ায়,জড়িয়ে থাকার মধ্যে।
বিরস বদনে তার চলে যাওয়া।
শুধু দরজাটুকু খোলা রইল।


স্বাধীনতা 

আমরা স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক ।
শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজের পরাজয় যে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়েছিল, 
পরাধীনতার আধাঁরের পথ অতিক্রম করে শত শত জীবনের বিনিময়ে জেগে 
উঠেছে সোনালী ভোর ।
স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যে
মানুষ ফিরে পেয়েছে সজীবতা ।
দিনের শুরু রামধনু রঙে রঞ্জিত, 
ভোরের স্নিগ্ধতায় কৃষকের 
মুখে হাসি, 
জ্যোৎস্নায় প্লাবিত সবুজ অরন্য।
মনের দৈন্যতাকে দূর করে
মানবতাবাদ কে আশ্রয় করে
স্বাধীনতাদিবসের দিনের উদযাপন ই হোক জীবনের জয়গান।


এখনো চোখে জল আসে 

সহসা শ্রাবণের ঘনঘটা 
সূর্য হারায় তার দৃষ্টি 
মেঘ আঁচল ঘিরে নেয় আকাশ 
বিশ্ব জুড়ে কোভিড এর অতর্কিত আক্রমণকে উপেক্ষা  করে নিরন্ন মানুষেরা ছোট ছোট আশা কে সম্বল করে এক নিশ্চল সময়ের মুখোমুখি  দাঁড়ায়।
পরিস্থিতির রোষদৃষ্টি মুহূর্তের মধ্যে ঝাঁঝরা করে দেয় তাদের পাঁজর কে।
আত্মবিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব আর  লড়াই দেখে ,
আজও চোখে জল আসে ।
সর্বভূকদের দাপটে ভীত ও সন্ত্রস্ত মনে  ঘরে ফেরার তাগিদ সবার ।
আজ আর ক্রোধ নেই,  
আগামী দিনের প্রত্যাশা ই
ক্ষুধা নিবারণ করবে তাদের,
আমাকে ভাবায় ,  মৃত্যুর মিছিল নয়
সান্ত্বনার পতাকা উড়ুক প্রজন্মের পর প্রজন্মের হাতে ।


চোখে ঘুম নেই 

এখন রাত একটা 
করুণ সুরে আমার পোষ্য ডাকে 
অজানা এক ভয়ে গুটিয়ে আছি 
যাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচি
তার নাম ভালোবাসা 
কাঙালের মত খুঁজেছি তোমাকে 
অনেক কিছু হারিয়েছি
কিন্তু তোমাকে হারাতে চাই নি 
দুঃখে যাকে ধরে বাঁচতে চেয়েছি
তার নাম ভালবাসা 
দুঃখ আজ অনেকটা দূরে 
বিষন্নতা কাটিয়ে উঠেছি 
কষ্ট আজ ছেড়ে চলে গেছে 
মনের আঙিনা ছেড়ে চলে গেল বিপর্যয়
পারব কি শুধু আনন্দ কে নিয়ে থাকতে! 
না মনের কোণে কোথাও যেন দুঃখ গভীর ক্ষত রেখে গেছে 
এখন রাত একটা


অস্তিত্ব 
      

এই তো সেদিন 
সীতারা পরীক্ষা দিত সতীত্বের ,
পতিব্রতা স্ত্রীর অস্তিত্ব ছিল বিপন্ন ।
 আজ ও অস্তিত্ব বজায় রাখার লড়াই চলছে ।
অজানা আশঙ্কা, বিভীষিকাময় জীবন, 
জীবনের প্রতি তীব্র ভালবাসা, বাঁচবার অদম্য ইচ্ছা, 
দরজার আড়াল থেকে মৃত্যুর উঁকি, 
শহর জুড়ে ঘুরে বেড়ায় মৃত্যুদানব।
সকাল সন্ধ্যা সবার মধ্যে 
অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদ ।

সময় মাঝরাত


আকাশের চাঁদ আমার সব অনুভূতির সাক্ষী ।
এই অন্ধকারে আমি কখনো আসিনি ।
ভালোবাসা ও ছুরি বসায় ভালোবাসার বুকে ।
দুঃখে প্রেম মরে না, প্রেম আশ্রয় দেয়।
চাঁদের আলো আনে উপচে পড়া সুখ ।
ভেঙে টুকরো টুকরো হই, ঘুরে ফিরে ছুটে আসি, 
দেখে যাই তোমায় ।
আকাশময় অনুজ্জ্বল আলো কে মনে মনে মেখে নিই ।
মাঝরাতে তোমাতে চাই ঠাঁই, 
স্বপ্নের ভেতরে যে মরুভূমি! 
জীবনের নিশ্চয়তা আনে সেই মাঝরাতের চাঁদের আলো ।

জীবন  যে রকম


জীবনের চাকা ঘুরছে, 
 জীবনের মানে বদলে যাচ্ছে, 
বুকে স্বপ্নের আকর,
স্পর্শের প্রতীক্ষায় উন্মুখ, 
একটি প্রাসাদ তৈরির বাসনা, 
ইষ্টক প্রস্তরে নয়,
হৃদয় দিয়ে ।
বিবেক  সততা আর ভালোবাসার ইমারত গড়ার সুপ্ত ইচ্ছা ।
ইচ্ছাগুলো কখনো জেগে ওঠে  
জীবনের আঙিনায়।
আবার কখনো হতাশার শূন্যে ভাসে, 
কেউ কোনদিন জানলো না বুঝল না ব্যর্থতার গ্লানি, 
বদলে যাওয়া জীবনকে স্বাগত জানাই আগামী দিনে ।




স্বপ্ন 
               
(1)
তোমাকে অনেক কথা বলার ছিল,
সেই সময় তুমি আর দিলে না !
তোমার আমার ভাষা ছিল না, 
অথচ দিন রাত কথা চলে ।
নির্বাক প্রেমের তুমি ইতি টানলে।
(2)
তোমার  কথার যাদুতে দিশাহারা মন,
মিষ্টি মধুর চাপা হাসি, 
তীক্ষ্ণ দৃষ্টির তেজে
তীরবিদ্ধ হৃদয়ে মেলে ধরি
নীরব দৃষ্টি । 
(3)
অতীতের পাতা খুলে দেখি, 
তোমার অফুরন্ত ভালোবাসা ই 
আমার অমূল্য সম্পদ ।
এখন দেখছি, 
কেউ কাউকে ভালোবাসে স্বার্থের জন্য, 
কেউ কাউকে ভালোবাসে ভালোবাসা র জন্য, 
কেউ ভালবাসার আচরণের ভিতর এক পরিতৃপ্তির ধোঁয়া ছাড়া র নেশা য় মেতে ওঠে ।
(4)

ফেলে আসা মুহূর্তগুলি লুকিয়ে কাঁদে, 
ছদ্মবেশী প্রেমিক তুমি, 
স্বপ্নগুলো সরে যায়,
মনের ঘরের আনাচে কানাচে খুঁজি, 
দেখি তারা ও লুকিয়ে কাঁদে 
সারা দিন রাত।
(5)
জানতে চাইলে কি কথা ছিল বলার,
গিরগিটি তুমি! 
ভালবাসার বুকে ছুরি বসিয়ে তুমি ক্ষান্ত হওনি।
অন্ধকারকে উৎসর্গ করলাম ভালোবাসা ।
তোমার আগমনে আমার ধন্যবাদ ।


চাঁদের আলো 

দুঃসময়ে মানুষ বড়ো বেশি 
অসহায় আর নিঃসঙ্গ বোধ করে ---একা হয়ে যায়
কিংবা একা থাকতে ই চায়।
আত্মীয়স্বজন,প্রতিবেশীরা সহানুভূতি তে কর্তব্য পালন করে যায়।
দুঃসময় সে যেন নিজেই নিঃসঙ্গ, 
সে একা একা আসে 
আবার একা একাই চলে যায়
একদিন ।
রেখে যায় কিছু স্মৃতি, 
তারপর আবার ও মনের
আঙিনায় ছড়িয়ে পড়ে চাঁদের আলো ।


চোখ দুটো বুজে আসছে

চোখ দুটো বুজে আসছে, 
গভীর রাত, কোথাও দরজা খোলা নেই ।
রাতের নীরবতা কে অনুভব করতে,  জৌলুসহীন মনের দরজা খুলে দিলাম ।
এ যেন এক অদ্ভুত পরিতৃপ্তি !
অব্যক্ত বেদনার নীরব কথা হবে,
ভাষা নেই , শুধু কথা চলে মনে মনে ।
অপলক দৃষ্টিতে তোমায় দেখি,
বিপন্ন জীবনে কথা বিনিময় চলে, 
নিয়তির চরম আঘাতে  বিপর্যস্ত হৃদয়ে সহানুভূতির স্বস্তির হাসি।
নিশীথ স্বপ্নের ছায়ায় বুনি কল্পনার জাল, 
চোখ দুটো বুজে আসছে ,
সাড়া দিলাম নিশ্চিন্ত নিদ্রার হাতছানিতে ।


বিশ্বাস 

সুখের সন্ধানে হাটতে হাটতে 
এক দুঃখ থেকে আরেক দুঃখ, 
এক শোক থেকে আরেক শোক।
সুখকে আঁকড়ে ধরব,আর তোমাকে তাড়াব !
দুঃখ তোমাকে তাড়িয়ে দেব না ।
ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে তোমাকে স্বাগত।
দুঃখ তোমাকে অস্বীকার করব না ।
বরং তোমাকে সাথী করে ই হাটব।
দুঃখ ,তোমাকেও ভালোবাসব।
তোমাকে জয় করব,
এই বিশ্বাসে নিজেকে আশ্বস্ত করবো,
তোমার হাতে হাত রেখে ই একদিন সুখের খোঁজ পাব।



চাঁদের আলো 

দুঃসময়ে মানুষ বড়ো বেশি 
অসহায় আর নিঃসঙ্গ বোধ করে ---একা হয়ে যায়
কিংবা একা থাকতে ই চায়।
আত্মীয়স্বজন,প্রতিবেশীরা সহানুভূতি তে কর্তব্য পালন করে যায়।
দুঃসময় সে যেন নিজেই নিঃসঙ্গ, 
সে একা একা আসে 
আবার একা একাই চলে যায়
একদিন ।
রেখে যায় কিছু স্মৃতি, 
তারপর আবার ও মনের
আঙিনায় ছড়িয়ে পড়ে চাঁদের আলো ।

বিশ্বাস 

সুখের সন্ধানে হাটতে হাটতে 
এক দুঃখ থেকে আরেক দুঃখ, 
এক শোক থেকে আরেক শোক।
সুখকে আঁকড়ে ধরব,আর তোমাকে তাড়াব !
দুঃখ তোমাকে তাড়িয়ে দেব না ।
ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে তোমাকে স্বাগত।
দুঃখ তোমাকে অস্বীকার করব না ।
বরং তোমাকে সাথী করে ই হাটব।
দুঃখ ,তোমাকেও ভালোবাসব।
তোমাকে জয় করব,
এই বিশ্বাসে নিজেকে আশ্বস্ত করবো,
তোমার হাতে হাত রেখে ই একদিন সুখের খোঁজ পাব।

অপেক্ষা 

যখন খুব বেশি প্রয়োজন ছিল 
তখন তুমি দূরে কোথাও 
বিষণ্ণ মনে তোমাকে ছুঁয়ে দেখার অস্থিরতায়
সুর -তাল- ছন্দের পতন ঘটল।
গোলাপ হাতে বরণের অপেক্ষা 
তুমি কিন্তু মুখ ফিরিয়ে নিলে, 
হেরে যেতে যেতে একটি ক্ষুদ্র 
বিন্দু আলো 

পলকহীন ভেজা চোখে বেঁচে
থাকার ক্ষীণ আশা জাগিয়ে দিল।
বহুদিনের উপেক্ষিত একাকীত্ব তাকে ঘিরে ই খিলখিল হাসির ধ্বনি তে মুখরিত নিশ্চুপ সন্ধ্যা।
একা আমি, আমার ই সাথে 
উত্তরণের  পথের পথিক ।


জীবন ঝড়

তোমার সাথে কেন যে আমার এত অভিমান, 
তুমিই আমার বিষন্নতার কারণ।
ভেঙে পড়ছে ভালোবাসার মজবুত দেয়াল।
বিক্ষুব্ধ হৃদয় বন্দরে টুকরো টুকরো অভিমান আছড়ে পড়ল।
জীবনঝড়ে ভারসাম্য হারিয়ে দু-মুহূর্ত বসিনি নীরবে 
চাইনি তোমাকে কাছে পেতে, 
সব ভুলে অবিশ্বাসে আর্তনাদে
ভরে তুলি জ্যোৎস্নার সন্ধ্যাকে।
তোমাকে আঘাত করার শপথ  নিই ,
ফেলে আসা অতীতের রূপকথার গভীরে পিচ্ছিল মন 
আমার আশ্রয় খুঁজে ।


আমার  আমি 


আমার আমি কখনো উদাসী, 
কখনো ভাবনার আবর্তে বিচরণশীল ।
কখনো আমি প্রকৃতির অবারিত সৌন্দর্যের গভীরে ডুবে যাই, 
কখনো কোথাও যায় উদাস হৃদয়,
পড়ে থাকে ধরণী ।অবোধ মন কখনো কেঁদে মরে, 


আপন মন আমি বুঝতে নারি, 
মনের মত করে খুঁজি আমি, 
সে কি আছে এই ভুবনে? 
দিবসের বিদায়ে আকাশের তারা ফুটে 
আমার আমি কেবলই খুঁজি, 
চাঁদের আলোয় মিষ্টি হাসি ।


 
মাতৃভাষা 

মাতৃভাষা বাংলা 
আমাদের হৃদয়বীণায় দেয় দোলা।
মাতৃদুগ্ধসম মাতৃভাষা, 
তারি সাথে মাতৃভূমির আত্মার আত্মীয়তা।
বিনা মাতৃভাষা পুরে না গো আশা।
মাতৃভাষার স্বীকৃতি তে চারদিকে রক্তপাত, সন্ত্রাস আর সংঘর্ষ, 
প্রতিবাদ, প্রতিরোধের আগুন তখন তীব্র ।
পুলিশের লাঠি চার্জ ও নিপীড়নে শহীদের রক্তে রাঙা হয় ঢাকার রাজপথ ।
 রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই বলে শ্লোগান ওঠে, 
উত্তপ্ত মানুষের কন্ঠে ।
বরকত,সালাউদ্দিন, জব্বার দের মাতৃভাষা প্রীতি,
বাংলা ভাষা কে দিয়েছে পরমস্বীকৃতি ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ