কী লিখি কেন লিখি
শ্যামল কান্তি দে
কী লিখি কেন লিখি
শ্যামল কান্তি দে
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন , "কবি চিত্তের গভীর অনুভুতি যখন ভাষায় প্রকাশ হয় তখন কবিতা তৈরি হয়"" ৷ ঠিক এই কথাটা যদি আমি আমার মতো করে বলতে চাই তবে হবে , আমার মনের ভাব কে প্রকাশ যখন করতে চাই তখনই কিছু লেখা তৈরী হয় ,আর এই লেখাটার আকার কি হবে তা কী লিখলাম তার উপর ৷ তবেই আমার মনে হয় কী লিখি কেন লিখি এই কী আর কেন এর উত্তর কোন লেখার মধ্যেই প্রকাশ পায় ৷ আমি যদি আমার .নিজের কথা বলতে চাই তবে লেখালেখি শুরুর প্রথম দিকে যেতে হয় ৷ সনটা হবে ১৯৭৯ আমি স্কুলে পড়ি ৷তখন প্রায় সব স্কুলেই
খুব সাহিত্য চর্চা হত ,পাঠ হত একজনের লেখা নিয়ে অন্যরা আলোচনাও করত ৷লেখালেখির মধ্যে দিয়ে একটা মিলন সেতু তৈরি হত ৷এখন এই ডিজিটাল সময়ে এই ব্যাপার খুব একটা হয়ে উঠেনা ৷কেন হয়ে উঠেনা এর উত্তর জন কেন্দ্রীক অধিকার ৷ যাই হোক তখন স্কুলে দেওয়াল পত্রিকা প্রকাশ হত আর এর মধ্যে আমরা আমাদের লেখা কবিতা ছড়া গল্প যে যা পাড়ি হাতে লিখে প্রকাশ করতাম অবশ্যই আমাদের শিক্ষক শিক্ষিকা সেই লেখা গুলো ঠিক ঠাক করে দিতেন তারপর প্রকাশ হত ৷ছোট বেলায় দেওয়াল পত্রিকা তে লিখেছেন এমন অনেক লেখক লেখিকা আজ প্রতিষ্টিত ৷
আমার প্রকাশিত লেখা সহপাঠীরা পড়ে যখন বলতো, ভাল লিখেছিস, তখনই মনে এক অজানা আনন্দ ঢেউ তুলত ৷ শুরু করি আর একটা লেখা ৷ এবার প্রকাশ হলে শিক্ষিক মহাশয় যদি বলতেন ভাল লিখেছিস লিখে যা তখন কি আনন্দ ৷ এখনও কানে বাজে সেই কথা গুলো ৷আবার আর একটা লেখা শুরু করি ৷এইভাবেই আমার লেখালেখি শুরু ৷ হয়ত এখন অনেক লেখক লেখিকা
আছেন ,লেখালেখির শুরুটা অনেকটা আমার মতই ৷
সেই সময়ে মনে একটা আবদার থাকত সবসময় কখন লেখাটা অন্যকে শোনাব ৷এই আবদার এখনও মনে চাপা রেখে লিখে চলেছি ৷ভাল খারাপ যাচাই করি না শুধু অন্য একজনকে প্রথমে শোনাই তিনি ভালো বল্লেই খুশি হই ৷ খারাপ বল্লে আবার লেখার চেষ্টা
করি ৷ আমার মনে হয় সব লেখক লেখিকাই হয়ত এমন একজনকে খুঁজেন প্রথম লেখা পড়ার জন্য যিনি লেখক লেখিকার প্রেরণা প্রেম এগিয়ে চলার মন্ত্র অথবা উপন্যাসের চরিত্র ৷ হয়ত কেউ পান কেউ পান না ৷ যারাই পেয়েছেন আজ প্রতিষ্টিত তাঁরা ৷ যাই হোক , এইভাবেই দেওয়াল পত্রিকায় লেখার হাতেখড়ি, তারপর থেকে এখনো লিখি ৷লেখা যে আমার ধ্যান জ্ঞান হাসি আনন্দ বেদনার একমাত্র আশ্রয়স্থল।
প্রথম দিকের লেখা গুলো প্রকৃতি , প্রেম , বিরহ ,ভালবাসা ,আকাশ ,নদী এই সব নিয়েই লেখা হত বেশি ৷ এর পর চোখে পরে সমাজ চিত্র , লেখি সমাজ নিয়ে ৷ আর সমাজ নিয়ে লেখা শুরু হতেই কলমটা যেন নিজের আয়ত্তের বাইরে চলে যেতে
শুরু করে ৷ ইচ্ছা না হলেও অনেক লেখা তৈরি হয়ে যায় ৷আর তখনই শুরু হয় একটা বাঁক ৷ সমাজের বিভিন্ন দিক উঠে আসে লেখাতে রাজনীতি ,যন্রনা
,ঝগড়া সব সব উঠে আসে লেখাতে ৷এর পর শুর হয় চাকরি জীবন অন্য এক লক্ষ ৷ তবে লেখা চলতে থাকে ৷ শিক্ষকতার কাজ করি চা বাগান শ্রমিকদের ছেলেমেয়েদের জন্য ৷
তাদের সাথে মিশতে থাকি ৷তাদের সুখ দঃখ নিজের চোখে দেখি ৷ তাদের কথা গুলো আমাকে নতুন প্রেরণা দিল আমার লেখাতে ৷ এই চা বাগান শ্রমিকরা বিভিন্ন রাজ্য থেকে এসে আমাদের ত্রিপুরাতে একসাথে বসবাস করতে শুরু করেন ৷ তাদের আলাদা আলাদা মাতৃভাষা ৷কিন্ত সবাই একসাথে থাকতে গেলে একটা ভাষায় কথা বলতে হবে তাই তারা নিজেরা ত্রিপুরাতে একটা ভাষা তৈরি করে যা পরবর্তী সময় ত্রিপুরাতে নামকরন হয় ছিলোমিলো ৷এই ছিলোমিলো ভাষাটা কেউর মাতৃভাষা ছিল না প্রথমে এটা অর্জিত ভাষা ৷ বর্তমানে ত্রিপুরার অনেকের মাতৃভাষা হয়ে উঠে এই ছিলোমিলো ভাষা ৷ আমাকে খুব বেশি করে উৎসাহ দিতে শুরু করে এই প্রাণের ভাষাটা ৷ আমি আরো বেশি করে ওদের ভাষাটাকে আপন ভাবতে শুরু করি ৷ তাদের জীবন জীবিকা ,
চলন ,প্রতিবাদ এই সব নিয়ে লিখতে শুরু করি ৷ সেই চা বাগান শ্রমিকদের কথা নিয়ে ছিলোমিলো ভাষাতেই লিখে চলেছি আজও ৷
0 মন্তব্যসমূহ