অণুগল্প ||মন্মথ দেব
অণুগল্প ||মন্মথ দেব
গোঁফ ঠোঁট দাঁত কিতাবা এবং মাক্স-
গোঁফের আমি গোঁফের তুমি,গোঁফ দিয়ে যায় চেনা- এই কথাগুলি অনেক জায়গায় অনেকের লেখাতে পড়েছি বটে কিন্তু এর মর্মার্থ খুব যে বুঝেছি তা বলতে পারছি না।তবে গোঁফ দিয়ে যে চেনা যায় তা ঠিক বটে।রঘুডাকাত তো বটেই অন্যান্য ডাকাতদেরও by default ইয়া বড় গোঁফ জোড়া must।সুতরাং ডাকাতগিরি করব আর গোঁফ থাকবে না সে হবেনা।গোঁফ দেখেই তো ভয়ে আধমরা হয়ে যাবে।বাকি কাজ অর্থাৎ লুটপাট মোটামুটি সহজ।
গোঁফে ডাকাতের জন্মগত অধিকার হলেও অন্যরা কেউ রাখতে পারবে না এমন কোন আইন সম্ভবতঃ দেশে বিদেশে কোথাও নেই।
দুইটি গোঁফ ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছে।স্তালিনকে স্তালিন করে তুলেছে একজোড়া পুরুষ্ট গোঁফ।কিন্তু ছোট একটুখানি গোঁফ ঠিক nozal septum এর নীচে হিটলারকে হিট করে তুলেছ।এমন গোঁফ রাখার রহস্য স্বয়ং হিটলার এবং তস্য নরসুন্দর ছাড়া কেউ জানে বলে মনে হয় না।বলা ভাল কারো জানার সাহস ছিল না।
যাই হোক গোঁফ নিয়ে যাদের সম্পর্কে কিছু বলা যায় না তা'হল মহিলাবৃন্দ।পণ্ডিতেরা বলেন এই পৃথিবীতে যা কিছু হয়েছে তার অর্ধেক করেছে নর অর্ধেক করেছে নারী।কিন্তু গোঁফো নারী! নরের পলায়ন ছাড়া গতি নাস্তি। সুতরাং এক্ষেত্রে অবদান শূন্য।
যে ক্ষেত্রে অবদান আছে তা হল ঠোঁট ও দন্ত। নারী ঠোঁট নিয়ে কবিরা আজও এই কোভিড সময়েও কবিতা লেখেন।লিপস্টিক বিজ্ঞাপনে নারী ঠোঁটই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।নর ঠোঁটের অবদান এক্ষেত্রে শূন্য।লিপস্টিক চর্চিত নর ঠোঁট নারী হেসে লুটোপুটি হয়ে পলায়নে বাধ্য।
দন্ত বিষয়ে অবশ্য সেরকম বলা যায় না।এক্ষেত্রে অবদান সমান অর্থাৎ অর্ধেক নর অর্ধেক তার নারী।দন্ত মার্জনী বিজ্ঞাপনে চকচকে ঝকঝকে নিখুঁত দাঁত দেখানোই নিয়ম।এবং তা দেখাতে হবে হাসির সাথে।মনে আছে কলগেটের হাসি! সেই থেকে কেউ পুরো দাঁত দেখিয়ে হেসে উঠলে বলা হয় কলগেট মার্কা হাসি।
আমার এক অভিজ্ঞতার কথা না বলে পারছি না।এক অপরিচিত কার্ফু কবলিত এবং অঝোর ধারায় বৃষ্টি পতিত শহরে আমি এক নবাগত তিনদিন ধরে হোটেল বন্দি। কাতর অনুরোধে এক সহৃদয় মহাজন আমাকে এক মেসে ঠাঁই করে দিয়েছেন।বিকেলের শেষ দিক।মেসবাড়ির বারান্দায় বেঞ্চে বসে আছি একাকি।আবাসিকেরা বোধ হয় কোথাও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন।আঁধার ঘনিয়ে আসছে।বৃষ্টির জল প্রায় বারান্দায় উঠে উঠে ভাব।বিষন্ন মনকে আরো গাঢ় করছে চারিদিক থেকে আসা ব্যাঙের ডাক।ঘোতঘাত্ ডাকে আমি কোণব্যাঙের মত কোণঠাসা হয়ে আছি।এই ডাককে আমি কিছুতেই 'ডাকিছে দাদুরি'বলতে পারব না।বলতে পারি,ঘন্টা আমার ব্যাঙের ডাক!এরই মধ্যে দু'একজন চলে আসছেন।আমাকে দেখে বিস্ময় ফুটে উঠছে,এ দুর্যোগে এই নরযোগ কেমন করে হল!
একজন বয়স্ক লোক ঘরে ঢুকে গিয়ে আবার বেরিয়ে আমাকে পুচ্ তাচ্ করতে লাগলেন বিশুদ্ধ বাংলাভাষায়।ক্রমাৎ অন্যরাও যোগ দিলেন।কেউ আবার অসমিয়া কেউবা ইংরেজী। তারা সব ভেবে নিয়েছিলেন আমি নীল বর্ণ জাতীয় কিছু ।পরে তারা আবিষ্কার করল যে আমি বিশুদ্ধ
' কিতাবা সম্প্রদায়'।সুতরাং আসেন বসেন পরিবর্তিত হল আউকা বউকায়।কাছের মানুষ হওয়ায় হাঁফ ছেড়ে বাচলাম।
কিন্তু যার জন্য এ ঘটনার অবতারণা তা' হল দন্ত।
সেই ভদ্রলোক যিনি আমাকে কি বা পরিচয় নিচ্ছিলেন কথার ফাঁকে উণার দাঁত দেখে সেই দুর্যোগেও বিমোহিত হয়েছিলাম।সেই বয়সে এমন নিখুঁত সফেদ ঝকমকে দাঁত আমি দেখিনি।মনে মনে কুর্নিশ করে দিয়েছি কয়েকবার।
এদিকে হল কি, রাতে পরিশ্রান্ত সত্ত্বেও বিশেষ ঘুম হয়নি। ঘরের ভিতরেও পাশের বেড থেকে নাসিকা গর্জন। তা প্রায় দাদুরি ঘোত্ ঘাত্।কোথাও নবাগত হলে একটা জিনিষ এই যে আপনাকে যৎপরোনাস্তি obligated হতেই হবে।যেমন বিয়ের কনেকে লাজুক হতেই হয় মনে রাগ আর অশান্তি থাকলেও।ছঠ্পট্ বিছানায় এ সত্য আবিষ্কার করলাম যে মনের রাগ অশান্তি বশে রাখার উত্তম উপায় হল ঘন ঘন নবাগত হওয়া। ত'হলেই দুয়ারে মুক্তি। দুয়ারে আজকাল কত কিছু পাওয়া যায়!
সকালে বারান্দায় বেরিয়ে দেখি সফেদ দাঁতের মালিক দাড়িয়ে।দেখে বিস্মিত হলাম।দেখি গাল ঠোঁট সব ভিতরে ঢুকে আছে।হাতে একপাটি দাঁতকে ব্রাশ দিয়ে ঘসছেন।আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বললেন বানানো দাঁত তো।পরিস্কার করছি। আমি একটু থতমত খেয়ে গেলাম।এমন অভিজ্ঞতা প্রথম।
মনে পড়ল তথাগতের কথা।উণার সংসার ত্যাগের জন্য দায়িতো এক বৃদ্ধের লোল চর্ম আর জরা জীর্ণ দেহ।কই, দাঁতের কথা তো কিছু নেই!মনে জোর পেলাম।সেই জোরেই এতদিন চলছিল।
কিন্তু জোরের জোর এখন ঢেউয়ে ঢেউয়ে ধাক্কা খাচ্ছে। ইতিহাসে বিখ্যাত বা কুখ্যাত অনেক নেতা এই পৃথিবীকে জয় করে পদানত করতে চেয়েছে।কেউ সার্বিক ভাবে সফল হয়নি।কিন্তু মাক্স রুপ একটু বস্ত্রখণ্ড সমগ্র পৃথিবীকে পদানত করে নিয়েছে।বলা যায় অনেক যুগ পেরিয়ে আমরা মাক্স যুগে এসে পড়েছি।
অনেকে অনেক কথার মাঝে বলেন - রাজা,তুমি ন্যাংটো কেন? তোমার কাপড় কই? কেন বলেন কে জানে! বোধ হয় middle stump উপড়ে ফেলার জন্য। খেয়াল নেই রাজার কাপড় উঠে গেছে মুখে।রাজায় প্রজায় কোন ভেদ নেই।লজ্যায় ঘৃনায় সবার কাপড় এখন মুখে। দর্প চূর্ণ।
আমরা অনেক কিছু জানি।সমুদ্রের একশ মাইল গভীরে কয়টা লাল বালি কয়টা সাদা বালি আছে,দুরের নক্ষত্রের করোনার নামে ভাইরাসের নাম দিতে পারি,কোন কোনায় কে ফিসফাস করছে তাও জানি।কিন্তু জানি না কোথা থেকে কেমন করে ভাইরাস এল! সেটা কি রাজনৈতিক না কূটনৈতিক অজ্ঞতা কে জানে! করোনায় যদি আক্রান্ত হতে পারি তবে কে দায়ি সেটা জানব না কেন? কিছু করতে না পারি অন্তত গরছি দিয়ে দু এক ঘা দেওয়া যেত।
কিন্তু কিছু করার নেই।খালি মুখ ঢাকতে পারি।যে গোঁফ নিয়ে ঠোঁট নিয়ে দাঁত নিয়ে কেউ গর্ব করতো তা মাক্সে ঢাকা পড়ে গেছে।সবাইকে দেখে মনে হয় যেন চিনি উহারে।
অনুশোচণা
সে অনেকদিন আগের কথা।কর্ম জীবনে প্রবেশের পূর্বে প্রশিক্ষণ পর্ব চলছে।তারই অঙ্গ হিসাবে নিউ বঙাইগাও থেকে আমরা কয়েকজন ট্রেনে করে ব্যান্ডেল স্টেশনে নেমেছি।সেখান থেকে যাব আমরা আসানসোল।ঘন্টা খানেক পরে ট্রেন এল।একটা কামরাতে আমরা অনেক কসরৎ করে উঠেছি।দেখি কামরাখানি লোকে লোকারণ্য। পা রাখার জায়গা নেই।কেউ হাঁটুর কেউ কনুইয়ের গুঁতো দিচ্ছে। ওদিকে মাথায় মাথায়ও ঠোকাঠুকি হচ্ছে। ক্লান্ত দেহ মন।দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে বেগকে আসন করে মানুষের পায়ের নীচে বসে পড়লাম।
কিন্তু তাতেও নিস্তার নেই।একের পর এক হকার পান বিড়ি,লজেন্স,বাদাম নিয়ে আমার মাথাকে ক্রস করে আসা যাওয়া করতে লাগল আর তাদের লাভের গুড় আমাকে পিঁপড়ে ভেবে মাথায় ঠাসঠুস দিয়ে যেতে লাগল।অতিষ্ঠ হয়ে উঠলাম।আমারই বয়সের একটি ছেলেকে দেখলাম আমার মাথা ডিঙিয়ে দু'বার যাওয়া আসা করল।তৃতীয়বারের সময় আমার মনে দুষ্ট বুদ্ধি জেগে উঠল।মনস্ক হয়ে আনমনের ভান করে সে আমার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় উঠে দাড়ালাম।ওর বুকের মাঝে ধরা ছিল বাদামের ডালাটা।আমার মাথা লেগে পুরোটা পড়ে গেল নীচে।ছেলেটা আমার দিকে করুণ চোখে তাকাল।মনে হল সব হারানোর ব্যাথা চোখে লেগে আছে।মনটা খুব দমে গেল।নীচে থেকে বাদাম কুড়োনোর চেষ্টা বৃথা।সমবেদনা জানিয়ে তাকে কিছু মূল্য দিতে গেলাম যদিও সেসময় আমার কাছেও দেওয়ারত বেশী ছিল না।সে আমাকে অবাক করে বলেছিল,তুমি তো ইচ্ছে করে ফেলে দাওনি,এরকম হয়,তুমি মন খারাপ করো না।চোখে জল এসে গিয়েছিল।নিজেকে কিছুতেই ক্ষমা করতে পারছিলাম না।
সেই ছেলেটির কথা এখনো মাঝে মধ্যে মনে জাগে আর আমার মনস্ক হয়ে আনমনের ভানটা খুব অনুশোচনা দেয়।তখন থেকে মনে মনে প্রার্থনা করতাম ছেলেটি ব্যবসা করে যেন খুব খুব বড় হয়,অর যেন অনেক টাকা হয়।
মন্দের ভাল
ভাল আর মন্দ দুটোই আপেক্ষিক শব্দ।এই দুয়ের লড়াই সীমান্তে সীমাবদ্ধ রেখেও বলা যায় -
ভাল মানুষের লক্ষণ কি?লক্ষণ এই যে তিনি খারাপের মধ্যেও ভাল খুঁজে বেড়ান।মন্দের মাঝে আনন্দকে খুঁজে পান।
কেউ হয়তো নিরানন্দ হেতু বলে দিল, হারামজাদা!
যার মন সর্বানন্দ তিনি কি করেন?
তিনি হারামজাদা শুনে 'হা' হয়ে থাকেন না।তিনি হা কে বাদ দেন।
-বলেন, তুমি আমাকে রাম জাদা বলেছো?
হিন্দি আর বাংলা দিয়ে রাম নাম বেশী বেশী বলতে বলছ!আহা!কি ভাল মানুষগো তুমি!
যে হারামজাদা বলেছে,সে হয়তো মনে মনে বলছে,এ কোন্ ট্যারার পাল্লায় পড়লাম,কি শুনতে কি শুনল! এর তো ঝগড়া করার ক্ষমতাও নাই।এর দ্বারা কিচ্ছুটি হবে না। দুর, চলে যাওয়াই ভাল।
বস্তুতঃ এ জন্যই আমাদের ভারতীয় সংস্কৃতিতে এসেছে 'পরমহংস' শব্দ যা মন্দের মধ্য থেকে ভালকে খুঁজে নেওয়ার গুণ বুঝায়। হাঁস কিচরে থাকলেও তার গায়ে কিচরে লাগে না।প্রয়োজনীয় বস্তু নিয়ে অপ্রয়োজনীয় কিচর ঝেড়ে ফেলে।
হংসদের বহিরঙ্গের গুন মুনষ্যদেহে নেই।তাই কিচর ঝেড়ে ফেলতে তার লাগে অনুশীলন,অভ্যাস, সাধনা।সেই সাধনার একটি অংশ হল মৌন ব্রত। মৌন না থাকতে পারলেও শাস্ত্রে বলা আছে -
শতং বদ,মা লিখ।
শতং লিখ,মা ছাপো।
তার পর বোধ হয় আছে,শতং ছাপো মা distribute করো। কিন্তু শুনছে কে?কিছু কিছু তো আছেই শতং হাচায় মিছায় চেপে distribute করবেই।ফলতঃ দরবার।
এই দরবার থেকে রক্ষা পেতেই মৌন ব্রতের ধারণা।আগের আগের দিনেও মাক্স রুপ একখানি বস্ত্র খণ্ড বা পর্ণ দ্বারা আপণ মুখ আবদ্ধ করে রাখতেন যাতে শতং বদের মাধ্যমে কুকথা বেরিয়ে না পড়ে এবং শিষ্যদের কাছে ভাল ভাল কথা বলার জন্য energy ধরে রাখতে পারেন। উপনিষদের প্রতিটি পর্বের আলোচনার প্রথমে থাকে শান্তি পাঠ যেখানে বলা হয়েছে-
ওঁ ভদ্রং কর্ণেভিঃ শৃণূয়াম দেবা ভদ্রং
পশ্যেমাক্ষভির্যজত্রাঃ।
আমি যেন কর্ণে ভাল শব্দ শুনি,চক্ষে ভাল জিনিষ দেখি।চালাকির দ্বারা যেন কার্যোদ্ধার না করি।
কালক্রমে কি হল?
মৌনব্রত দ্বারা নিজের মধ্যে energy ধরে রাখার কথা আমরা ভুলে গেছি।তাই করোনা এসে আমাদেরকে মুখে মাক্স লাগিয়ে মৌন হতে বলছে।তাই পাড়ায় কোলাহল নাই, তর্ক বিতর্ক নাই।চারিদিকে শান্তি। করোনার শতেক খারাপের মধ্যেও একটা ভাল হল মৌনতা।
করোনা সবাইকে পজিটিভ করায়।করোনারও পজিটিভ দিক আমরা খুঁজে পেয়েছি আমাদের পরম্পরাগত ধারণার জন্য। মন্দের মাঝে ভাল খোঁজা!
জীবন থেকে নেওয়া
সে বহুদিন আগের কথা।এক যুবক চেষ্টা করতে করতে সাত রাজার ধন এক মানিক মানে একটা সরকারী চাকরি পেয়ে গেল।অফিস শহরেই।খুশিতে ডগ মগ হয়ে join করতে এল।আর সমস্যার শুরু হল তখন থেকে।ঘর খুঁজে পাওয়া মুশকিল।অনেক ঘরের মালিক প্রায় character certificate তলব করার মত মত প্রকাশ করল।যুবকের এমন অভিজ্ঞতা ছিল না।শেষ পযন্ত রাস্তার অপর পাশে ব্যবস্থা হল।যুবক জল গড়িয়ে খেতে পারে না বলা মায়ের পুত্র। রান্নার মাসি তাই বহাল।
মাসি stove এ রান্না করে থালায় ভাত বেড়ে দিয়ে যায়।একদিন যাবার সময় মাসি বলে দিয়ে গেল,আগুনের বাক্স বাড়ন্ত। মাসি খুব সনাতন সংস্কৃতির মহিলা।কোন কিছু নাই বলে না।তাতে নাকি গৃহস্থদের অকল্যাণ হয়।কিন্তু যুবক ভাবল ভাত বেড়ে দিয়ে গেছে।শীতের দিন।যুবক খুশী হয়ে
স্নানের জন্য গরম জল করতে গেল,যেটা সে শিখে নিয়েছে বেশ কসরত্ করে।
কিন্তু গিয় দেখল,আগুনের বাক্সে একটাও কাঠি নেই।যুবকের মাথায় বুদ্ধি খেলে গেল।সে তৎক্ষণাৎ একটা ট্রাউজার আর শার্ট গলিয়ে রাস্তার অপর পাশের দোকান থেকে দেশলাই আনতে গেল তুরন্ত্ গতিতে।কিন্তু দুরন্ত গতির এক সাইকেল এসে তাকে ঢুস্ মেরে দোকানের সামনে লাড্ডুর মত ফেলে দিল।আচম্বিতে ঘটে যাওয়া ঘটনায় দোকানদার সহ আরো কয়েকজনক ধরাধরি করে কিছু দুরে ডাক্তারখানায় নিয়ে গেল।উরু হাঁটু ছড়ে গিয়ে রক্ত ঝড়ছে ।
ডাক্তার ওষুধ লিখে ব্যান্ডেজ করে দিতে বললেন। সহকারীরা ট্রাউজার খোলার কথা বলে নিজেরাই টানাটানি করতে লাগল।সংকটের মধ্যে থাকা যুবকের আরো মহাসংকটকাল ধেয়ে আসল। সে প্রাণপণে কোমরের কাছে ট্রাউজারখানা খিচকে ধরে থাকল।সহকারীর একজন কয়েকদিন আগে দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ নাটকে দুঃশাসনের ভূমিকায় অভিনয় করে এসেছে।তার যোশ্ দেখার মত।যুবক কাতর কন্ঠ বলল,তোমরা আমাকে রেহাই দাও,রক্ত ঝড়ছে,ঝড়ুক। তাড়া হেতু যাব আর আসব ভেবে অন্তর্বাস পড়ে আসিনি।কানে ধরছি,এমন ভুল আর জীবনে করব না।
(সত্যি এরকম ঘটেছিল।আমার নয়।)
0 মন্তব্যসমূহ