অণুগল্প
রাজকুমার সরকার
অণুগল্প
রাজকুমার সরকার
মাতাল
হাসির অণুগল্প
আরে ভোঁসড়িওয়ালা হোশ মে রহো ....
পানু দরজা খুলে দেখে এক মাতাল নালিতে পড়ে আছে আর আজেবাজে বকছে।
ও নালি থেকে ওঠার অনেক চেষ্টা করছে এবং বার-বার বিফল হয়ে যাচ্ছে।
পানু বললো- হাতটা ধরো আমার।তোমায় টেনে উঠিয়ে দেবো।
---- আরে ভোঁসড়িওয়ালা রুকো না।ম্যায় অপনে হি উঠ যায়েঙ্গে ......
পানি মে ত্যারনা জানতাম হুঁ। ইয়ে তো বহুত ছোটা নদী হ্যায় .....
নেতা
করালীপ্রসাদ রায়।বাড়ি রামপুর, জেলা- ধানবাদ। বললেন একদিন-রাজবাবু, আপনি এবারে ভোটে দাড়ান। আপনার পরিচিতি একটা হয়েছে। একটা ছাপ ছেড়েছেন সমাজে আপনি।অনেক মানুষ আপনাকে ভালোবাসেন।
রাজবাবুর উত্তর- করালীবাবু আমি মিথ্যা বলতে শিখিনি।
লড়াই
হাসির অণুগল্প
ভবতোষের স্বভাবটি একদম লড়াকু গোছের। একটু ঝগড়াঝাঁটি না করলে তাঁর ফাঁকা ফাঁকা লাগে।মনে হয় দিনটিই বেকার হয়ে গেল। লড়াই মানে মুখে মুখে বাকযুদ্ধ তা নয়; একেবারেই হাতাহাতি, পাটসাপাটসি। যাকে বলে জবড়াজবড়ি; না হলে লড়াই এর মজা কোথায় ?
সেদিন হঠাৎই রেগে ইঁড়কে এসেছিল মহীপালকে মারার জন্য .....
মহিপাল উপস্থিত বুদ্ধি এপ্লাই করেছে সঙ্গে সঙ্গেই।
সে ভবতোষকে বলে --- আই ব্যাটা চলে আই .....
আই আই ....
আমি তো এখন করোনা পজিটিভ।
নিমেষেই ভবতোষের গরমী ফুস্
সিনেমা
হাসির পরমাণু গল্প
আজকাল যা যুগ পড়লো এখন পরিবারের সাথে সিনেমা দেখাও চলে না। নবনীবাবু'র মুখে কথাটি শুনে সুধাকর বলে উঠলো কেন?
--- আর বলবেন না ন্যাংটোমির সীমানা ছাড়িয়ে গেছে।
আজেবাজে দৃশ্য; গান। অশ্লীল; ছ্যা ছ্যা .......
তার থেকে একেলা দেখেই আনন্দ।
সুধাকর -- তাহলে আপনি পরিবারকে ভালোবাসেন না।
সবাই একসাথে আনন্দ করা দরকার।
আমি তাই করি।
যখন উল্টোপাল্টা দৃশ্যপট ভেসে উঠে পর্দায় ; আমি তখন চোখ বুজে দিই ।
বুধন সিং
বুধন সিং এলাকার ত্রাস। এক নামে সবাই চেনে।যখন রাস্তা দিয়ে চেলা চামুণ্ডা নিয়ে বের হয় তখন এলাকাবাসী জড়সড় হয়ে থাকে।কেউ মুখ ফুটে কিছু বলার সাহস পায় না।সমানে চলছে গুণ্ডারাজ যশপুরে।বাড়ির বাচ্চারা রাত্রে না ঘুমোলে মায়েরা বলে ঘুমিয়ে পড়; বুধন আসছে।বাচ্চারা ভয়েই ঘুমিয়ে পড়ে।
এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটলো মাসখানেক আগে।রাস্তা দিয়ে দলবল নিয়ে মিছিল করে যাচ্ছিল বুধন সিং।মাঝপথে গাড়ি খারাপ।থমকে যায় ব্যস্ত নগরী,জনবহুল পথ।গাড়ি চলাচল বন্ধ।কার সাধ্য এই পথ দিয়ে পেরোবার?
তাপসবাবু সাংবাদিক।'বাঙালিবাবু' বলে পরিচিত। জলে-জঙ্গলে, ঝোপে -ঝাড়ে যেখানে সেখানে তাঁর অবাধ বিচরণ।গুনগুন করে একটা রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে গাইতে চলেছেন বাইক নিয়ে। যেতে যেতে দেখলেন, বুধন সিং রাস্তা জ্যাম করে দাঁড়িয়ে।বাইক থেকে নেমে তাপসবাবু একটু মাথা ঝুঁকিয়ে
বললেন, বড়ে ভাই নমস্কার।ক্যায়া হুয়া?
বাঙালিবাবুর একটি নমস্কারেই ঘায়েল এলাকার ত্রাস।পিঠ থাপড়ে বললো, কাঁহা যা রহে হো বাঙালিদাদা?
---- "প্রেস"
ঠিক হ্যায় দাদা।যাইয়ে।কুছ জরুরত পড়নে পরে এগো কল কর দিজিয়েগা।
চরৈবেতি
প্রতিদিন মনের বন্ধ দরজা খুলি ।মেখে নিই সোনা রোদ।
গাছগুলোকে জল দিই
গাছেদের সাথে দু'দণ্ড কথা বলি ......
ঝাপসানো চোখে উঁকি মেরে দেখে নিই জীবন কত ছন্দময়। আকাশের দিকে চাইতেই চোখে পড়ে পাখীদের আনাগোনা।নীল আকাশের কাছে শপথ নিই আরও এগিয়ে চলার .....
রাস্তার রঙ বদল
প্রতিদিন রাস্তাটি নিজের রঙ বদল করে।মানুষগুলো হয় গিরগিটি।
এক একটা পাথর ; স্তম্ভ।
মুখ দেখা যায় ভাঙা আয়নায়,
বোবা কান্না ........
একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে দাঁড়কাক।কা ...কা ... করে।
কেউ কান দেয় না।
রাস্তাটি রঙ বদলে করে প্রতিদিন।সকালে এক রঙ।বিকেলে আর এক রঙ .....
প্রতিদিন চলে শুধু রঙের খেলা।
নীরব কথারা
মুখ খুললেই অহংকারী হয়ে যাব;তাই নীরব থাকি।
আমার নীরব কথারা গন্ধ ছড়ায় ......
সব কাজই তো তোমাদের,
আমি কেউ না।আমি পথেই খুঁজে নিই পথচলার রসদ।
শুধু ভালোবাসার একটি মাদুলি আমার জীর্ণ ঝুলিতে .....
তোমাদের এক মুষ্টি চালেই আমি খিচুড়ি বানিয়ে বেঁচে থাকতে পারি .....
লক্ষ্যপথ
দলে দলে আসে
দলে দলে ছেড়ে চলে যায়
আমি লক্ষ্যে অবিচল।
পনেরো বছর ধরে ছাতা
হাতে নিয়ে .....
ভেসে আসে কানে অনেক কথারা; আকাশে বাতাসে ....
অজানা তির বিঁধে আমার কোমল বুকে।
ছিন্নভিন্ন করে আমার খেলাঘর।
আমি সংসারী হয়েও ভবঘুরে
লক্ষ্যপথে অনেক বাধা
দৃঢ় অঙ্গীকার .....
সদর্পে এগিয়ে নিয়ে যাব আমার ভাষা মা' কে
আমার বাংলাভাষা হৃদয়জুড়ে......
জীবনকথা
"মৃত্যু" তুই চোখ রাঙাবি না বলে দিলাম।ভালো হবে না।তুই এখন আসিস্ না ...
পরে আসবি।তুই বড় বেহায়া।আমি জানি তুই আসবি; পরে আয়।
"শান্তি" তুই এখানে বসে থাক্ তোকে বড় ভালোবাসি ......
তোকে ছাড়া আর কাউকেই ভালোবাসতে মনই করে না আমার।তুই আমার আসল প্রেম।
"অহংকার" তোকে দেখলেই আমার রাগ হয়।তোকে দু'চোখে দেখতে পারি না আমি .......
"উগ্রতা" তুই এলেই আমার গায়ে জ্বর আসে; তাই তোকে ঘৃণা করি।তুই এলেই লন্ডভন্ড হয়ে যায় জীবন।
"টাকা" তুই বড় অভিমানী, একটুতেই তোর অভিমান। অভিমান কেন করিস্ আমার সাথে?
আমি তোর কি ক্ষতি করেছি?
"সততা" তোকে নিয়েই ঘর করি; তোকে নিয়েই জয়ের স্বপ্ন দেখি .......
যুগটা বেইমানদের
ছেলেটার মা - বাবা ছোটতেই মারা গেছিল।মানুষ করেছিল কমলাখুড়ি।
কমলাখুড়ির এখন অনেক বয়স।নিরানব্বই। অদ্ভুত। এখনও যষ্টি হাতে চলা ফেরা করে।
যে ছেলেটিকে কোলে পিঠে মানুষ করেছিল সে ছেলেটি মস্ত বড় হয়েছে।বিরাটনগর ব্লকের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার।
কমলাখুড়ির জীর্ণ বাড়ি।খড়ের।জল পড়ে বর্ষায় .....
গ্রামের সকলের পাকা বাড়ি হয়েছে সরকারী স্কীমে।
নজরে পড়েনি অফিসারের....
কমলাখুড়িকে জিজ্ঞেস করলাম তুমি নাকি একটি ছেলেকে কোলে পিঠে মানুষ করেছিলেন সে ছেলেটিকে বলো, একটা তোমার ঘর করে দিতে ....
কমলাখুড়ির কাঁপা কাঁপা গলায় বলে -- মানুষ করেছি ও বড় হয়েছে।আমি মানুষ না করলে ছেলেটা যে মারা যেত।তা তো আর চোখে দেখা যায় না তাই মানুষ করেছি মানুষ হয়ে।সে তো আমাকে ভুলে যাবেই।জানতাম। আসলে যুগটা যে বেইমানদের .......
0 মন্তব্যসমূহ