কী লিখি কেন লিখি ফাল্গুনী চক্রবর্তী

কী লিখি কেন লিখি 
ফাল্গুনী চক্রবর্তী 



কী লিখি কেন লিখি 
ফাল্গুনী চক্রবর্তী 

প্রকৃতির শিমুল সাজে ,ঝর্ণা'র  জীবনমুখী গানে ,নদীর বাইপাসে, হু হু বাতাসের শীতল ছোঁয়ায়, সবুজ ধানখেতের উপর সোনালী রোদের বুজে আসায় ,চাঁদনীর রুপোলী সাজে ,মানবের প্রতি মানবের চিরন্তন আকর্ষণে কলমের এক অসাধারণ ভূমিকা কখন কিভাবে  নিজের অজান্তেই তৈরী হয়ে যায়, জানি না।  এই  যাত্রায় সফলতা অসফলতার সিঁড়ি টপকে ওঠা নামার কোন অঙ্ক নেই। সৃষ্টির জয়নাদ কোথাও না বাজলেও  মনের চিলেকোঠার এই  পরম প্রাপ্তিসুখ বৃষ্টি ধারায় ভিজিয়ে যায়। 
   খ্যাতনামা  বৈজ্ঞানিক নিউটন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির পরিপ্রেক্ষিতে বলেছিলেন পৃথিবীর প্রতিটি বস্তু অন্য বস্তুকে ঠিক একই গতিতে আকর্ষণ করে যেখানে দুয়েরই কেন্দ্র বিন্দুর অবস্থান , সেভাবেই হতে পারে তাদের বিচ্ছেদও।
    একদিন এই আবিষ্কার চমকে দিয়েছিল পৃথিবীর জনমানবের  দৃষ্টি।তাই এদিক থেকে বিচার করলে  লেখার উদ্দেশ্য কে বিজ্ঞান অভিসারী বলা চলে কি?
  এই যে লিখতে লিখতে হারিয়ে যাওয়া কখনও গ্রীকের প্যাগাডোয়,  কখনও বা মিসিসিপির বুকে কখনও চীনের গ্রেট ওয়াল কখনও সুইজারল্যাণ্ডের ঝর্ণায় সবই অজানা এখানে কলম যেন ঠিক ব্যাকরণের কর্তা কারক হয়ে উঠে আর যে লিখছে সে কর্ম কারকের ভূমিকা টুকু পালন করে মাত্র। 
    তখন একজন লেখক বা কবির সবচেয়ে সক্রিয় থাকে চেতনার স্তরীভূত প্রক্রিয়া এবং বাস্তবের রঙ্গোলি।  তাই কি লিখি যেখানে দর্শন আমায় নিয়ে যায়। এই দর্শন কিন্ত যুগ্ম শব্দ।এক দর্শন হল দর্শন শাস্ত্র আর অন্য দর্শন বেড়িয়ে আসা কিন্ত অদ্ভুত এই দুয়েরই বন্ধন। 
   কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন
                  "কবিতার জন্য জন্ম 
                    কবিতার জন্য আসা" 
এমন অসাধারণ পংক্তি কবিতা নিয়ে শুধুমাত্র একজন কবিতা  পিপাসুই লিখতে পারেন না লিখতে পারেন তিনিই যিনি  কবিতাকে নিজের চেতনায় যাপন করেছেন  আর এই যাপনের গভীরতায় প্রকাশ  পায় 
প্রকৃতপক্ষে একজন লেখক, কবি, উপন্যাসিকের লেখনীর দলিল। 
   আমি যাপন করতে ভালবাসি। যেভাবে গালিব ভালবেসে ছিলেন চিরতরে চলে যাওয়াকে তাই তো লিখতে পেরেছিলেন :
                  বাল বিখরাকে টুটি কবরো পে জব কোই মেহজবীন রোতী হ্যাঁয় তো মুঝকো অকসর খয়াল আতা হ্যাঁয় কি মওত কিতনী হসীন হ্যাঁয়"
   আমি ভালবাসি রঙিন ফুলকে খোঁপায় গুঁজে নিতে।আমি ভালবাসি জীবনের সুরকে চাঁদের পাহাড়ে নিয়ে যেতে। জানা অজানা অসংখ্য চিঠি আর মেইলে সময়ের মোহর সাজিয়ে নিতে।
  এতে কঠিন করে  লেখার তো কিছু নেই,ঠিক রবিঠাকুরের শেষের কবিতার দুটি লাইন পরশ পাথরের মত ছুঁয়ে যায়।  যেমন "For the god sake hold your tongue and let me love "
                                        ফাল্গুনী চক্রবর্তী
                                        15 মে 2021

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ