কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন গোবিন্দ ধর

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন

গোবিন্দ ধর

কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪জুন ১৯৪৭।রাজশাহী শহরে।পৈতৃক নিবাস বর্তমান লক্ষীপুর জেলার গাজীরপাড়া গ্রাম।পিতা এ কে মোশাররফ হোসেন রাজশাহী রেশমশিল্প কর্পোরেশন -এর পরুচালক ছিলেন।

সেলিনা হোসেনের লেখার জগৎ বাংলাদেশের মানুষ, তার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। বেশ কয়েকটি উপন্যাসে বাংলার লোক-পূরাণের উজ্জ্বল চরিত্রসমুহকে নতুনভাবে তুলে আনেন।তাঁর উপন্যাসে প্রতিফলিত হয় সমকালের সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব -সংকটের সামগ্রিকতা।বাঙালির অহঙ্কার ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযোদ্ধের প্রসঙ্গ তাঁর লেখায় নতুন মাত্রা অর্জন করে।জীবনের গভীর উপলব্ধির প্রকাশকে তিনি শুধু কঢথাসাহিত্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন না, শানিত ও শক্তিশালী গদ্যের নির্মানে প্রবন্ধের আকারেও উপস্থাপন করেন।নির্ভীক তাঁর কন্ঠ-কথাসাহিত্য,প্রবন্ধ এবং ছোট গল্পও।

১৯৬৪ সালে রাজশাহীতে উচ্চামাধ্যমিক পড়ার সময় বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নশিপ স্বর্গপদক পান।১৯৬৯ সালে প্রবন্ধের জন্য পান ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক।১৯৮০ সালে উপন্যাসের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার,১৯৮১সালে "মগ্নচৈতন্যে শিস"উপন্যাসের জন্য আলাওল পুরস্কার, ১৯৮২ সালে অগ্রনী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, ১৯৮৭ সালে "পোকামাকড়ের ঘরবসতি"উপন্যাসের জন্য কমর মশতরী পুরস্কার, ১৯৯৪ সালে "অনন্য " ও "অলক্ত"পুরস্কার, ১৯৯৮ সালে জেবুড্রেসা ও মহবুবুল্লাহ ইন্সটিটিউট প্রদত্ত সাহিত্য পুরস্কার ও স্বর্ণ পদক সাহিত্য সাধনায় স্বীকৃতি।এছাড়া ১৯৯৪-৯৫ সালে তিনি ত্রয়ী উপন্যাস "গায়ত্রী সন্ধ্যা "রচনার জন্য ফোর্ড ফাউন্ডেশন ফেলোশিপ পেয়েছিলেন।২০০৬ সালে লাভ করেন দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্যে রামকৃষ্ণ জয়দয়াল হারমোনি অ্যাওয়ার্ডস, দিল্লি।

২০০৯ সালে পেয়েছেন একুশে পদক এবং ২০১০ সালে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা থেকে ডক্টর অব্ লিটারেচার (Honoris Causa)ডিগ্রি লাভ করেন।একই বছর গায়ত্রী সন্ধ্যা উপন্যাসের জন্য ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানিং এ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট প্রবর্তিত রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার লাভ করেন।সাহিত্য অকাদেমী, দিল্লি থেকে ২০১১সালে প্রেমচাঁদ ফেলোশিপ লাভ করেন।

ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি, কন্নড়, রুশ,ফরাসি, ফিনিস,পানিেরিয়ান,উর্দু,মালায়লাম,আরবি প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়েছে তাঁর গল্প,উপন্যাস।

পশ্চিম বঙ্গের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর "যাপিত জীবন"এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে "নিরুত্তর ঘন্টাধ্বনি"উপন্যাসব পাঠ্যসূচীভুক্ত।

২০১৭সালে স্রোত উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় কথাসাহিত্যি উৎসবে তিনি ছিলেন প্রধান অতিথি। তাঁকে স্রোত সাহিত্য সম্মানে সম্মানিত করা হয়।

তিনি ২০১৮ ডি লিট উপাধিতে ভূষিত হোন।


ব্যক্তিগত যোগাযোগ 

ও শুভেচ্ছা কথা

-----------------------

তাঁকে উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় কথাসাহিত্য উৎসব:২০১৭ এর অতিথি হিসেবে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ করতে তাঁর শ্যামলীস্থিত বাসায় যাই।তিনি সাড়া দিয়ে আমার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।এসম্পর্কে তাঁর অনুভব তিনি কিখিত ভাবে আমাকে জানিয়েছিলেন।তাঁর অনুভবই আমি হুবহু তুলে দিলে দিলাম:

"ভারতের ত্রিপুরার কবি গোবিন্দ ধরের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয় ২০১৭ সালের ১০ই এপ্রিল। আমার ডাইরি থেকে তারিখটি পাই।সেদিন গোবিন্দ ধর শ্যামলীর বাসায় এসেছিল।সঙ্গে ছিল ত্রিপুরার আরো একজন কবি অভীককুমার দে আর চট্টগ্রামের আবৃত্তি শিল্পী প্রবীর পাল।ঘরোয়া পরিবেশে জমে উঠেছিলো আড্ডা।সঙ্গত কারণেই আড্ডার জোয়ার ছিলো মাতৃভাষার টানে।দেশ ভিন্ন হলেও ভাষা এক।একই ভাষার শিল্প সাহিত্যের টানে জমে উঠেছিল প্রাণের উচ্ছাস।


কবি গোবিন্দ ধরের সাহিত্যপত্র ও প্রকাশনা সংস্থার নাম 'স্রোত'।এই সংগঠনের পক্ষে ওরা একটি সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করবে।আমাকে নিমন্ত্রণ করার জন্য ওরা এসছে।সব সময় ফোনে বা ইমেলে নিমন্ত্রণ পাই।গোবিন্দ ধর নিজে আমার বাড়িতে এসেছে।খুবই ভালোলাগলো।সাহিত্য সম্মেলন আমার লেখক সত্ত্বার টান।অস্থিত্বের অংশ বলে মনে করি।সঙ্গে সঙ্গে যাবো বলে কথা দিলাম।ওরা আমাকে প্রণাম করলো।


স্রোত 


আয়োজিত 


কথা সাহিত্য উৎসব:২০১৭


১১ই জুন:২০১৭


রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন,আগরতলা।


বিকেল:৩টা -রাত:৯টা।


জুন মাসের ১০ তারিখ আমি আনোয়ার এবং কথাসাহিত্যিক নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর একসঙ্গে ট্রেনে করে আগরতলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি।লেখক জাহাঙ্গীরের সঙ্গে আমার প্রথমে দেখা হয় টেকনাফে।সেই সময়ে টেকনাফে আমার,"পোকা মাকড়ের ঘরবসতি"উপন্যাসের "সিনেমা সুটিং" হচ্ছিল।চলচ্চিত্র পরিচালক আখতারুজ্জামান সরকারি অনুদানে সিনেমা বানাচ্ছিলেনন।শিল্পী ছিলেন কবিতা,আলমগীর,খালেদ খানসহ অনেকে।তাঁরা আমাকে সুটিং দেখার জন্য টেকনাফে নিয়ে গেছিলেন। লেখক জাহাঙ্গীর তখন সরকারি চাকুরি সূত্রে টেকনাফে দায়িত্ব পালন করছিলেন।তিনি ছিলেন সহকারী কমিশনার,ভূমি।সময় তখন ১৯৯৬সালের মাঝামাঝি। তিনি তখন টেকনাফের রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প নয়াপাড়া দেখাশোনা করতেন।রোহিঙ্গাদের উদ্বাস্তু হয়ে বাংলাদেশে আসার খবর তখন ঢাকায় বসে দৈনিক পত্রিকায় পড়তাম।ইচ্ছা ছিল রোহিঙ্গাদের শরনার্থী জীবন নিয়ে একটি উপন্যাস লিখব।সিনেমার সুটিং দেখার অবসরে সময়ে রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে দেংতে যাই।


আলাপ হয় লেখক নূরুদ্দিন জসহাঙ্গীরের সঙ্গে।রোহিঙ্গা বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু জানতে পারি।তাদের প্রতিদিনের ক্যাম্প জীবনযাপনের অনেককিছু দেখার সুযোগ হয়।একজন লেখকের  দৃষ্টি দিয়ে ক্যাম্পে দিনযাপন তিনি সেভাবে দেখছিলেন তা আমার কাছে যন্যরকম দেখা মনে হয়েছিল।ট্রেনে এই বিষয়ে অনেক কথা হয়।তিনি আমাকে তাঁর উপন্যাস "উদ্বাস্তু "দেন।এটাই হলো সাহিত্য সম্মেলনের ভিন্ন মাত্রা।লেখকের সঙ্গে লেখকের আন্তরিক যোগাযোগ যেভাবে কবি গোবিন্দ ধরকেও এই সূত্রে দেখতে পাই অন্তরঙ্গ আলোকে।


আগরতলায় গিয়ে অনেক লেখকের সঙ্গে দেখা হয়।যোগাযোগ হয়।ভালোবাসার জায়গা তৈরী হয়।কলকাতা থেকে এসেছিলেন কথাসাহিত্যিক রামকুমার মুখোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল কলকাতায়। কলকাতার সাহিত্য আকাদেমীর মুখ্য প্রধান থাকার সময় তাঁর আমন্ত্রণে একটি সেমিনারে গিয়েছিলাম।দিল্লির পাঞ্জাবি ভাষার কথাসাহিত্যিক অজিত কৌরের আয়েজিত সার্ক লেখক সম্মেলনে দেখা হয়েছিল রামকুমার মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে।তিনি ঢাকাতেও এসেছিলেন। এভাবে সাহিত্য সম্মেলন পরিচয়ের সূত্রটি ধরে রাখে। সাহিত্যই মুখ্য বিষয় হয়ে জেগে থাকে হৃদয় মাঝারে। পাশে থাকেন পাঠক সমাজ।


আর একজন প্রিয় কবির সঙ্গে দেখা হয়।তিনি চন্দ্রকান্ত মুড়াসিং।ককবরক ভাষার কবি।আমি তাঁর কবিতা বাংলা অনুবাদে পড়েছি।তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়ার আগেই তাঁর কবিতা আমাকে মুগ্ধ করেছিল।দেখা হওয়ার পরে ভাবলাম ধন্য"উত্তর পূর্ব কথাসাহিত্য উৎসব-১৭"।এভাবেই সাহিত্য সম্মেলন বা উৎসব যাই বলি না কেন সব লেখকেরই প্রাণের টান থাকে এখানে।এভাবে আগরতলা সাহিত্য উৎসব মিলন মেলা হয়ে উঠেছিল। গভীর আনন্দে ডুবে গিয়েছিলাম গভীর স্রোতে।


নির্ধারিত দিনের নির্ধারিত সময়ে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের ২নং মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন করেন গৌতম বসু,উপাচার্য মহারাজা  বীরবিক্রম বিশ্ববিদ্যালয়। সম্মানিত অতিথি ছিকেন মেঘালয়ের কবি ও সাহিত্যিক  স্ট্রীমলেট ডখার।ছিলেন বাংলাদেশের লেখক নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর। ছিলপন কলকাতার কথাসাহিত্যিক রামকুমার মুখোপাধ্যায় এবং কবি চন্দ্রকান্ত মুড়াসিং।নেপালসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা লেখকদের এই মিলনমেলা ছিল আমাদের প্রাণের উৎসব।


উৎসবে বাংলাদেশের জনপ্রিয় আবৃত্তি শিল্পী প্রবীর পাল তিনটি সিডিতে আবৃত্তি করেছে কবি গোবিন্দ ধর ও কবি পদ্মশ্রী মজুমদারের কবিতা।এই তিনটি সিডির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।এটিও ছিল অনুষ্ঠানের আর একটি দিক।আগের দিন কবিতা পাঠের আসর বসেছিল ভগৎ সিং যুব আবাসের অডিটোরিয়াম হলে।সেই অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার দিলীপ দাস, কল্যাণ গুপ্ত,কৃত্তিবাস চক্রবর্তী,কাকলী গঙ্গোপাধ্যায়, পদ্মশ্রী মজুমদার,অপাংশু দেবনাথ, অভীককুমার দে,শঙ্খ  সেনগুপ্ত,রতন আচার্য, রিয়া দেবী,সরু কাবিয়া,ফাল্গুনী চক্রবর্তী,স্ট্রীমলেট ডখার মৃণালকান্তি দেবনাথ,মণীষা পাল চৌধিরী থেকে শুরু করে অনেকেই ছিলেন।


সেদিনের অনুষ্ঠান পরবর্তী অধ্যায়ের শিরোনাম ছিল"কথাসাহিত্যের কথকতা ও আজকের সময়"।বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিশিষ্ট জনেরা।শিরোনামগুলো বিস্তৃত পরিসরের ছিল।খুব ভাল লেগেছে এই আলোচনা অনুষ্ঠানটি।অনেককিছু জানার সুযোগ হয়েছে।এখানে শিরোনামগুলো উল্লেখ করছি-নেপালের কথাসাহিত্য, মেঘালয়ের কথাসাহিত্য আসামের কথাসাহিত্য, ত্রিপুরার কথাসাহিত্য, অনুগল্প পাঠ,আর ছিল আন্তর্জালে সাহিত্য। সব মিলে এই"উত্তর পূর্ব কথাসাহিত্য উৎসব-১৭"আমার জানার পরিধি বাড়িয়েছে।বন্ধনের আবেগ সঞ্চারিত করেছে। সাহিত্য মানবজীবনের পাটাতনে আলোর তৃষ্ণা দেখিয়েছে।আগরতলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে আমার।প্রতিবারই আন্তরিক ছোঁয়ায় স্নাত হয়ে ফিরেছি। এমন অনুভবের পাশাপাশি এবার গোবিন্দ ধর আমাকে ত্রিপুরার পাঠকের সামনে পৌঁছে দেখার জন্য আমার একটি গল্পগ্রন্থ প্রকাশের আগ্রহ দেখিয়েছে। এ আমার লেখকের পাঠকের কাছে যাওয়ার আনন্দ।


গোবিন্দ ও পদ্মশ্রী দুজনেই কবি।তাদেরকে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।"


ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন গিল্ড

-----------------------------------------
ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন গিল্ড আয়োজন করছে লিটল ম্যাগাজিন উৎসব।তাঁকে আমন্ত্রণ জানাই। তিনি কথাও দিলেন আসবেন।আমাদের উৎসব সংখ্যা 'লিটল ম্যাগাজিন বার্তা'য় তাঁর শুভেচ্ছা বার্তা যথা সময়ে আসে।কি পরম মমতায় তিনি ত্রিপুরার কবি সাহিত্যিক সাহিত্যকে দেখেন তাঁর কলম থেকেই তুলে ধরলাম:


""প্রতি
গোবিন্দ ধর
সম্পাদক
ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন গিল্ড-এর সদস্য সদস্যাবৃন্দ



আমি জেনে আনন্দিত, ত্রিপুরায় প্রথমবারের মতো লিটল ম্যাগাজিন উৎসব:২০১৮ কুমারঘাটে আগামী ২৩:০৯:২০১৮ সকাল ০৯টা থেকে বিকেল ০৫টা পর্যন্ত সারাদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে।


ত্রিপুরার মহকুমা শহর কুমারঘাট। এখানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কবি ও সম্পাদক গোবিন্দ ধরের মাধ্যমে আমি সম্যক জানি।এখানে দেও নদী প্রবাহিত।এই দেওনদীকে নিয়ে পদ্মশ্রী মজুমদার কবিতা লিখেছে।তার বই "দেও"।গোবিন্দের পত্নী কথাকার পদ্মশ্রী মজুমদার।পদ্মশ্রী এই দেওনদীকে নিয়ে একটি উপন্যাসও লিখেছে।উপন্যাসের নাম"দেওনদীর জল"।ইদানিং গোবিন্দ ধরও লিখেছে "দেওনদীসমগ্র"কবিতা সংকলন।একটি কবিতার সিডিও পদ্মশ্রীর"দেও"চট্টগ্রামের আবৃত্তি শিল্পী প্রবীর পাল করেছে।সব মিলে কুমারঘাট আমার এক স্বপ্নের জায়গা।


শুনেছি কুমারঘাট ঊনকোটি জেলায় অবস্থিত। ঊনকোটির শৈব ভাস্কর্য প্রকৃতির কোলে এক অপরূপ সৌন্দর্যে ভ্রমণ পিয়াসী মানুষের কাছে অপূর্ব জায়গা।


সে জন্যও কুমারঘাটের প্রতি আমার টান অনুভব হয়।


প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এবার যোগ হলো কুমারঘাটে "ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন উৎসব:২০১৮"।


শুনেছি কুমারঘাটে গোবিন্দ ধর "স্রোত"  থেকে পর পর চারবার "কুমারঘাট উৎসব পালন করে এই অঞ্চলের সাহিত্যে হইচই করে দিয়েছে।এবার আরো এক ধাপ এগিয়ে লিটল ম্যাগাজিন উৎসব উদযাপন সাহিত্য প্রেমিক হিসেবে আমাকেও মুগ্ধ করেছে।


লিটল ম্যাগাজিন সাহিত্যের বাতিঘর।


এই উৎসবে আমি আমন্ত্রিত থেকেও আসতে পারিনি।আমি নিজে এই সময় খুব ব্যস্ত। পাশাপাশি শরীরও বয়সের ভারে কিছুটা ক্লান্ত।


আবার দিল্লী যাওয়ারও আমন্ত্রণ আছে।সব মিলে লিটল ম্যাগাজিনের তরফে কোন আমন্ত্রণে আসতে না পারার বেদনা আমাকে যন্ত্রণা দেয়।


আমি গোবিন্দের মাধ্যমে জেনেছি এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কুমারঘাট থেকে বিশ(২০)টি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হবে।প্রকাশিত হবে,"লিটল ম্যাগাজিন বার্তা"ও।


আমি সশরীরে উপস্থিত হতে পারিনি।এই অনুষ্ঠানের শুভ কামনা করি।অনুষ্ঠানের সাথে যুক্ত সকল লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক ও সহযোদ্ধাদের প্রতি আমার প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানাই।


ইতি
সেলিনা হোসেন।
শ্যামলী,ঢাকা,বাংলাদেশ।
২২:০৮:২০১৮""


নির্বাচিত পঁচিশটি শ্রেষ্ঠ ছোটগল্প 

ও রজতজয়ন্তীবর্ষ স্রোত

--------------------------------------------

তিনি সেই সময় শারীরিক কারণে আসতে পারেননি।কিন্তু তাঁর প্রাণ পড়ে রইলো মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিজড়িত ত্রিপুরারায়।তাঁর আবার প্টাণঢালা আবেগমিশ্রিত কন্ঠ স্রোতের জন্যে।এসব স্মৃতি কি করে ভুলি।আম পাঠকের অবগতির জন্য এই আবেগ হুবহু তুলে ধরাই শ্রেয় মনে করি।তাই :

"শুভ অপরাহ্ন। শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাই মঞ্চ ও মিলনায়তনে উপস্থিত সুধীবৃন্দকে। এমন একটি অনুষ্ঠানে আসার প্রস্তুতি নিয়েও আসতে পারলাম না। মন খারাপ হয়েছে বললে শুধুই বলা হবে। কষ্টদায়ক অনুভবকে শান্ত করা যাবে না।

‘স্রোত’ পঁচিশ বছরের জন্মদিনে পৌঁছেছে। এখন ‘স্রোত’ শুধু সাহিত্য পত্রিকা নয়, শিল্প-সাহিত্যের ঠিকানা হিসেবে নিজের গৌরব অর্জন করেছে। দীর্ঘ পঁচিশের পথযাত্রায় উত্থান পতন চড়াই উৎরাই অতিক্রম করেছে। আমি এই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে যাওয়াকে আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা জানাই। অভিনন্দিত করি।

আমার ভিসা থাকা সত্বেও ২৫ শে মে ত্রিপুরায় স্রোতের এই গৌরবময় রজতজয়ন্তী প্রকাশনা উৎসবে আসতে পারিনি। বয়স হয়েছে। একা দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া আমার শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে অসুবিধাজনক। সঙ্গী ছিলো তরুণ গবেষক অপূর্ব শর্মা। শেষ মুহূর্তের চেষ্টা থাকা সত্বেও তার ভিসা পাওয়া হলো না। তাই এরকম এক আবেগঘণ  অনুষ্ঠানে আসতে পারলাম না।

স্রোত এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কথাসাহিত্যিক শ্যামল বৈদ্যকে দক্ষিণারঞ্জন ধর স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করবে।বই প্রদর্শনী, শ্রোতাদেরকে বই প্রদান, বই প্রকাশসহ স্রোত সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিবার চল্লিশের উপর শাখার সভাপতি ও সম্পাদকদের সম্মাননা স্নারক তুলে দেওয়ার মতো নানা কর্মকান্ডের এই আয়োজন সফল হবে এই বিশ্বাস আমার আছে। কথাসাহিত্যিক শ্যামল বৈদ্যকে অভিনন্দন জানাই।"

এরকমই না আসতে পারায় তিনি অকপটে স্বীকার করেন ও আমাকে তাঁর অকমপন স্নেহমাখা ওরশ জানান।


পরিশেষে বলি ‘স্রোত’ আমাকে নিয়ে একটি কাজ করছে। পাশাপাশি আমার নির্বাচিত পঁচিশটি শ্রেষ্ঠ ছোটগল্প প্রকাশ করবে সেজন্যেও ‘স্রোত’-এর সম্পাদক ও সহযোগী গুণিজনদের আমার ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা জানাই।"


স্রোত রজতজয়ন্তী বর্ষ সংখ্যা 

-----------------------------------------
তিনি বারবার আমার ডাকে এপারে আসতে চান এক পরম স্নেহের পরশে আমাকে জড়িয়ে রেখেছেন তিনি।

স্রোতের রজতজয়ন্তী বর্ষ স্মরণ সংখ্যায় তাঁর ঝরণা কলম তাই লেখে:

‘স্রোত’ লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদক কবি গোবিন্দধরের সাথে  পরিচয় আমার শ্যামলীর বাসায়। ঢাকায় আসার পরে গোবিন্দ কয়েকজনকে নিয়ে আমার বাসায় এসেছিল আগরতলায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান যাওয়ার নিমন্ত্রণ জানানোর জন্য। আমি গোবিন্দধর আয়োজিত অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সময় ছিল 1917 সাল। কথাসাহিত্যিক  পদ্মশ্রী মজুমদারের সাথে পরিচয়হয়েছিল আগরতলায় উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় কথাসাহিত্য উৎসবে।

গোবিন্দ-পদ্মশ্রী সাহিত্যের পরিবার। দুজনের মগ্নতায় ভরে থাকে সাহিত্যের ভুবন। এ বিষয়টি টের পেয়ে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম।

সেই উৎসবে দেখেছিলাম ‘স্রোত’ পত্রিকার ক্যাপশন। লেখা ছিল :

"যে ভাষায় কথা বলে নদী
পাখি গান গায়
কালস্রোত লেখা হয় পাতায় পাতায়।"

গোবিন্দ ধর থেকে জানলাম ‘স্রোত’ লিটল ম্যাগাজিন সম্পর্কে। হাতে পেলাম কপি।

ত্রিপুরার প্রত্যন্ত গ্রাম রাজধর মানিক্যের স্মৃতিবিজড়িত রাতাছড়া থেকে ত্রিপুরার লিটলম্যাগাজিন আন্দোলন ও প্রকাশনার জগতে একউল্লেখযোগ্য নাম "স্রোত "।গোবিন্দবললো,ইতিমধ্যে তিমিরবরণ চাকমা অনুদিতচাকমা ভাষায়"গীতঞ্জলী" ও সেবিকা ধরের"মানবীবিদ্যার আলোকে 

নারী এক ভিন্নমাত্রিকপাঠ" প্রকাশের জন্য পর পর দু'বার ত্রিপুরাসরকারের শ্রেষ্ঠ 

প্রকাশনা পুরস্কারসহ শ্যামলভট্টাচার্যের 

উপন্যাস "লোদ্রভার কাছাকাছি"পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক বাংলা একাডেমিপুরস্কারে ভূষিত হয় ‘স্রোত’।

সে আরও বললো,"আমরা বই ছাপি, শুধু তানয়,বই ছেপে প্রকাশ করি উত্তর পূর্বাঞ্চলেরসাহিত্য সৌন্দর্য।" গোবিন্দ ধরের এমন কথায় আমি মুগ্ধ হই। অনুপ্রাণিত হই। উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাহিত্য সৌন্দর্য বিশ্বজুড়ে বাংলাভাষী পাঠকের কাছে পৌঁছে যাক এই প্রত্যাশা করি। এভাবেই সাহিত্যের সেতুবন্ধন তৈরি হয়। সাহিত্য সীমান্ত অতিক্রম করে।

‘স্রোত’ পরিবারের আরো দু'টি প্রকাশনা:বইবাড়ি ওঅন্যপাঠ।লেখকদের ভালোবাসায় ঋদ্ধ স্রোত।রজতজয়ন্তী বর্ষে আমিও শুভেচ্ছা 
জানাই।স্রোত ও গোবিন্দ ধর পরিচিত হোক 
বাংলাসাহিত্যের চিরায়ত ভূগোলে।"

স্রোত প্রকাশনা তাই সেলিনা হোসেন মহোদয়াকে শ্রদ্ধা জানাই।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন আমার সাহিত্য জীবনের পরতে পরতে এমনভাবে জড়িয়ে যাবেন আমিও ভাবতে পারিনি।সেদিনে শ্যামলিতে  তাঁর পাইলট মেয়ের এয়ার ড্রাইভের কথা বলতে বলতে তাঁর চোখের ভেতরের আরেক চোখ ছলছল করে উঠলে আমি সাহিত্যিক সেলিনা আপার ভেতরের এক মায়ের কান্নার ধ্বনিকে কাঁটাতার ডিঙিয়ে সমস্ত মায়ের কান্নার প্রতিধ্বনি হিসেবে বুঝি।মনে মনে তাঁর মহত্বকে শ্রদ্ধা জানাই। মুখে গল্প অন্যদিকে প্রবাহিত করি।রাত বাড়ে।আমি অপূর্ব শর্মা ও গোপালচন্দ্র দাস তখন উঠে ঢাকার হোটেলে চলে আসি।




১৩:১২:২০১৯
সন্ধ্যা :০৬:৪০মি
কুমারঘাট।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ