একগুচ্ছ কবিতা
কাজী নিনারা বেগম
একগুচ্ছ কবিতা
কাজী নিনারা বেগম
আর্তনাদ
এক টুকরো স্বপ্নের আশায় ঘড়ির কাঁটার
বিপরীত দিকে অপেক্ষায় মৃয়মান দিন গোলো।।
পৃথিবীর কঠিন দিন গুলো দুই গুন বেশি,োোো০য়োয়
সমগ্র বিশ্ব যেন অপক্ষার বন্দি ফ্রেমে।।
অসিম দীগন্তে রামধনু গুলো ফিকে আজ!
অজস্র তারা জ্বলে ওঠেছে স্মৃতির পাতায় এক অদৃশ্য মাতাল হাওয়া ।।
অপর্যাপ্ত দহনের বিধেঁ থাকবে হৃদয় স্পর্শে,,
একদিন উড়ে যাবে অচিন পাখি!
যাবে উড়ে অসিম দীগন্তে।।
বেদনার নানা স্মৃতিতে পৃষ্ঠা উল্টে পাল্টে বলে যাচ্ছে সবাই,,
কিতা ব্যেমার আইলা রেব দুনিয়ার মাটি!
হকল মরিয়া ছাপ।।
মায়ে ছৈরানা পূয়ারে,,
বাপে ছৈরানা মাইরে,,
বৈনে ছৈরানা ভাইরে,,
খালিকৈন রেব খালি দূরই থাকতা।।
মর মাথা বায় কোনতা হামার না ?
খালি কৈন হাত দৈতাম সাদা টে্ল্কা পানি দি!
আর গরুর খোপা লাখান, থুতাত লাগাইতাম,,
অতা কিতা বেমার?
মানুষ ঘর থাকতা,,
আর হায়মান জীব হকলে ঘরবার থাকতা।।
কোনতা অইতনা মর উপরেদি মৈ জারা মূই কিতা কৈতাম!
হকলে খালি ঠে্ঙগে উপরে ঠেঙগ তূলি কারফিউ বাড়ারা।।
অটা কেনে মাতৈননা গাছ কাটতানা, পুরকি মাটি দি বন করতনা ,গাছ লাগাইতা।।
গাছ লাগাইলে গাছ তনে একতা পাইন , মনত অয় অক্সিজেন,,
আর অতাদি দুনিয়ার মাইনসে বাছিবায়।।
আপনাইনতে তেরে কৈয়ার মিনতাইয়া গাছ লাগাইন,,
আর হকলের জান বাচাইন।।
দিনটি ছিল উনিশে মে
বরাকের শিলচর মাতৃভাষার কাল জয়ি দীপ্ত আহবান।।
একাদশ শহিদের তাজা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষা ।।
সেই দিনটি ছিল উনিশে মে,,
বরাকের বাঙালী জাতির বিষাদ রক্ত ক্ষরিত ইতিহাস।।
করেছিল হায়বানরা গুলি বিদ্ব,,
একাদশ দশ তরুণ তরুনী!
তাজা রক্তে শিউরে উঠেছিল শিলচরে রেলষ্টেশন।।
মূছেগেছে সেই তাজা রক্ত,,
দূর নীলিমায় স্বপনে রক্ত ক্ষরিত ।।
উনিশে মে বয়স আজ একষট্টি বছর,,
হায়রে গনতন্ত্র মুখোশ পড়া আমার স্বদেশ।।
আমার গচ্ছিত ভালো বাসা ও প্রেম সকল সভায়,,
এক সূলালীত শ্রদ্ধার্ঘ্য শহিদের জন্য আমৃত্যু ঋণি।
কাজী নিনারা বেগম
এক শান্ত বিকালে হাটছি একা একা,,
এক অদৃশ্য স্মৃতি বহন করে।।
জীবন আকা বাকা পথে বড়ই ক্লান্ত,,
চল্লিশ উর্দে আমি হাটছি একা।।
একে একে সব, স্বজন হারানোর শোকে,,
আমার দূচোখ যেন মমির মত শান্ত।।
প্রিয় জনের লাশ কাঁধে নিয়ে হাটছি বিলক্ষণ,,
কাতর কন্ঠে পাঠ করছি সেই বিদায়ী গান।।
ওরা কারা
ওরা কারা বার বার হেটে চলেছে!
ধুলো মলিন পৃথিবীতে,,
অজস্র ভালোবাসা সপনে,,
অকৃত্রিম ভালোবাসার পসরা সাজিয়ে সৃষ্টি ক্যানভাসে।।
হেটে চলেছে বারবার ওরা কারা?
আজন্ম ঋনি হয়ে চলেছে,,
সভ্যতা ইতিহাস কাছে পরাজিত হয়ে।
বারবার হেটে চলেছে ওরা কারা?
সাতরাঙা রাম ধনুকের মতো
জীবন কে বাজী রেখে,,
দুটো ডাল ভাতের আশায়। আগুনে পা ভিজিয়ে রক্তের পিচ্ছিল পথে ,,
ধারালো ছুরির ডকে দুপারেখে রেখে।।
বারবার হেটে চলেছে ওরা কারা?
আধার
রাত্রির কাছে মুখ লুকিয়ে থাকবে কতক্ষণ
আগ্নিগিরির অন্ধকারের মধ্যেই জীবন প্রদীপ ।
লাভা প্রাণশক্তি তুমি বাহিরে খোলস নিষ্ঠুর লতাপাতা শাখা প্রশাখা মারছে উঁকি তব মস্তকে।
নির্বাক হয়ে নিস্তেজ আছো কেন ?তোমার বক্ষ বিদীর্ণ একটি অগ্নিশিখা অতিথির প্রশংসা আর আর--অত্যাচার সহ্য করে বর্তমানে আছো ।আমৃত্যু আধমরা এত কিছুর পরেও স্পন্দন ও সতেজতা নিষ্ক্রিয় কেন?সুপ্ত বাসনা তুমি ,মানবতা বিবেকের কামবাসনা তুমি ,
আজ উত্তপ্ত প্রাণশক্তি নিয়ে উজ্জীবিত হও তুমি।
ও বাইছং ফাইদিফা
ফুলে ফলে শস্য শ্যামলা অরন্য ঘেরা মায়াবী আলিঙ্গনে জড়িয়ে আছে!
চিরসবুজ অনুভূতি ও অনুভবে হিল্লোলে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মিস্র্ সংস্কৃতির,,
প্রতি নিয়ত ঐতিহ্য বাহি কৃষ্টি সংস্কৃতি বয়ে চলেছে ।।
বহতা নদীর জলে প্রবাহিত,, চোখের কোণে এক রঙিলা নতুন প্রকৃতির ,,
সুর লহরী সরল প্রতিমা যেন ত্রিপুরা।।
মিস্র্ সংস্কৃতির পাহাড়ি বাঙালি বুনেযাচ্ছে,,
শতাব্দীর পর শতাব্দী উৎসব এর স্বর্নালী দিনগুলি।।
নিজ নিজ জনজাতির কৃষ্টি সংস্কৃতি স্বতন্ত্র ভাবে,,
বাঙালি আর উপজাতি চিরকাল ছিল সাথি চিরকাল ভাই বলে ডাকবে।
সংঙাই বিজূ, হুজাগিরি, গড়িয়াপুজা, কেরপুজা বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ নিত্যনতুন ভাবে ,,
ধবল মেঘ মালার টাপুর বৃষ্টি ছন্দে ছন্দে পালন করে আসছে।।
রাতের আঁধারে ন্যায় ঐতিহ্য কে বয়ে নিয়ে চলছে,, গতানুগতিক ধারার মধ্যে ত্রিপুরার জনজাতির কৃষ্টি সংস্কৃতি অকৃত্রিম ভালোবাসা মিস্র সংস্কৃতির ধারক বাহক।।
ত্রিপুরাবাসির ঐতিহ্য বাহি রিসা ত্রিপুরার সংস্কৃতি,,
শত ঘাত প্রতিঘাতে পর সুদৃঢ় ভাতৃত্বের বন্ধনে দাঁড়িয়ে আছো,,
ত্রিপুরার সংস্কৃতি মিলে মিশে একাকার।।
শহীদের ত্যাগ
যখনি শৈবাল চোখে শিশির বিন্দু প্রথম পড়ল ঝড়ে,,
সেই অবধি আমার মায়ের ভাষা সারা বিশ্বের মানুষের কাছে।
বাংলা ভাষা সমুন্নত বাঙালি জাতির চেতনার কথা!
সহজ সরল মাটির মায়া টানে বিস্মিত হই।।
অরণ্য পাহাড়ের মায়াবী আলিঙ্গনে জড়িয়ে আছে আমার মাতৃভাষা,,
প্রভাত ফেরী নগ্ন পায়ে, শোকের মাতম রক্ত পলাশে।।
বাংলা ভাষার মন্ত্র দীক্ষা জাতিকে করেছে বীরত্ব,,
শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের ২১শে ফেব্রুয়ারি।।
যে মায়ের ভাষা নিবিড় অন্ত প্রাণ,,,
অনিন্দ্য এই রূপের দেশে যে প্রথম অপরূপ ভাষার নামে এই আমার মাতৃভাষা।। ছেলেরা মা বলে ডাকবে!
কেন চুপ থাকবে?
মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে প্রস্তুত হাজার বার।।
পুষ্প ভরা জীবন হল রণাঙ্গন রফিক জব্বার সালাম দিল তাজা রক্ত,,
জাতি হল আজ অভিশাপ মুক্ত।।
আমরা আজন্ম পেলাম বাংলা ভাষা ,,
হলাম মাতৃভাষার রূপকার।
মাতৃভাষা তুমি আমার অহংকার,, আমার ঐতিহ্য ।
মানবতা
কুয়াশায় চাদর বিছিয়ে কচি ঘাসের মাথায় শিউলি ভালো বেসে,,
শিশিরের গায়ে দেয় চুমু।।
বয়ে যায় হিমেল সমিরনে মনোরম আবেশে,,
প্রকৃতি গায় গান তালে তালে।।
সুদূরে মিলায় সবুজ ফসলের মাঠ খানি,,
সবুজ আর সোনালী মিশে একাকার।।
সূর্যের কিরণে ঝিকিমিকি সোনালী রোদের ঝিলিকে!
স্নিগ্ধতায় দুচোখের খুশিতে,, রাতের জোছনায় আকাশে,,
"জোনাকির সাথে"
নিঃশ্বাসে নেই উন্মুক্ত বাতাসে।।
হাজারো স্বপ্নের সাজিয়েছি তোমায়,,
সবুজ অরন্যে ঘেরা পাহাড়ি রাজ্য ত্রিপুরা!
ঋতু বৈচিত্র্যের সুন্দর লীলা ভূমি।।
আমার জন্ম ভূমি তোমায় ভালোবাসি,,
চোখের পাতায় মনের ক্যানভাসে খুঁজেছি এক ফ্রেমে।।
হায়রে ইতিহাস হায়রে স্বাধীনতা অস্তিত্ব হায়রে দেশপ্রেম,,
প্রতি দিন খবরে কাগজে অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ।।
খাবলে খাচ্ছে মায়ের বুকের রক্ত,,
এটাই বলছে বিশ্ব সম্পৃতি,,
লোক দেখানো মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস । ।
দেশ প্রেমের মান চিত্র বন্দি ফ্রেম নাই হল,,
এখনো মনেহয় নিদারুণ সংকটজনক দেশ প্রেমের ওস্বাধীনতার কাহিনী ।।
নিগুঢ় কান্না অসহায় বুকের চাপা বেদনার চাদর,,
এখনো আমাদের দেশের হায়নার ক্ষুধা ও শকুনের ক্ষুধা নিবারণের জন্য খুঁজে ফিরে শিকার। ।
একশ আটত্রিশ কোটি লোকের মানবিকতা বিবেক বন্দী কাগজে কলমে,,
আজব দেশের আজব মানুষ আমরা!
জীর্ণ পাঁজর বুকের হাঁড়ে জ্বলছে আগুন এর হাহাকার।।
জীবাশ্মের সৌরভ
আমি কি জীবাষ্ম ?
এটাই কি জীবন
জীবিত মাটির মায়া না মিছে কায়া কখনো লাল কখনো কালো নাকি ?
দো-আঁশলা জীবনের পথে প্রতিক্ষণে জাগতিক লেনদেনের হিসাব চুকিয়ে সুপ্ত দিনপঞ্জীর পুরানো পাতায়
সেঁটে আছে বেদনার কাজল হয়ে
সুপ্ত বাসনা ,
রুমালের সৌরভ বেদনার চাদর গায়ে গড়াগড়ি মেঝেতে
দিবারাত্রি যায় বন্ধ হয়ে কার্পেটের পাশে।
ভূর ভুর করা নরমাংসের সৌরভ ,
রাত্রিদিন বরফের টুকরা ,বারুদ মিশানু জীবনের পোঁড়া গন্ধ প্রাত্যহিক গতির শীলতা।
অতৃপ্ত ভালোবাসা
পথ হারিয়েছ পথিক
মরিচা দেখে,,
নদি তুমি গতি হারিয়েছ
চোরা বালি দেখে,,
নীড় হারিয়েছ পাখি
একেলা আকাশে উড়ে,,
ঘর হারিয়েছ রমনীর অশ্রু ভেজা নয়নে।।
"শয়নে স্বপনে"
অসহায়ত্ব নিঃসঙ্গতা ভরা চাঁদনি রাতে,,
আজ, মরা পাতা গুলো ঝরাপাতা হয়ে এলো।।
আমার মোহন বাঁশি বেসুরা হয়ে গেল,,
আমার শৃঙ্খলে বন্ধনে মুক্তি দিলাম প্রিয়।।
"এটাই বলবো একা ছিলাম "!
"একাই থাকবো অনন্তকাল"!
সেই তুমি
সবুজ শ্যামল জোয়ার ভাটায়,
মৃদু হাসি তোমার পানের বাটায়।
সাগর সঙ্গমে তুমি ,
ঢেউয়ে তুমি সমুদ্রস্নানে তুমি,
কৃষ্ণ চূড়ায় সংলাপে তুমি ,
শিউলি ফুলের পাপড়ির আবডালে লুকিয়ে আছ তুমি,
শরতের আকাশে বাতাসে ভেসে আছো সেই তুমি
কৃষানীর স্বস্থিসুখে, ধানের গোলায় তুমি,
রোদের সোনালী আলোর ঝিলিক তুমি,
গায়ের নিঝুম মাঠে গোধূলি প্রভা তুমি,
বক পাখি উড়ানি ভাদ্রে তুমি,
উদাসী মেঘের ভেলায় ভেসে নীল দিগন্তে তুমি,
তুমি আমার তুমি আমার,
হৃদয়ে বেঁধে ছিলে নীড় হারা পাখি তুমি
সুবর্না তুমি বেঁধে ছিলে কল্পনার সেতু বন্ধন
তোমার রুপের মহিমা তুমি
তোমার রুপের নাই গো শেষ।
হায়বান
যতই তোমরা সুপুরুষ নিজেকে ভাব আদৌও কি তোমরা সুপুরুষ?
যতই ভালো সাজ,যাবেনা তোমাদের পিশাচ এর চোখ
তোমাদের নরখাদক ধর্ষকের চোখ।
যতই মাখো আতর সুগন্ধি, যাবেনা গায়ে ধর্ষণের গন্ধ।।
যতই মাখো সুরমা কাজল,
রয়ে যাবে সেই পিশাচ এর চোখে লোলুপ দৃষ্টি।
চিহ্নিত হবে তোমরা সমাজের দালাল সাঙ্ঘাত পশু অধম,,
আজি হবে পশুর থুতুর যোগ্য
মানুষ নও তোমরা ঘৃণিত শয়তান।
তোমরা যে পাপী; কেড়েছ মায়ের সভ্রম, বোনের ইজ্জত
বরণ করেছ তোমাদের পশু বৃত্তি।
নারীকে নিয়ে মত্ত হয়ে করেছ যৌনতা হানির উল্লাস। দজ্জাল হায়বান," দজ্জাল হায়বান"
ধিক্কার তোমাদের নর পিশাচদের দল।।
"শুধু ধিক্কার ধিক্কার ধিক্কার"।
আমার যন্ত্রনা
তোমাদের স্মৃতিশক্তি কি বিলুপ্ত হয়ে গেছে ?
আমাকে ভুলে গেছো ?
সেই কালো অধ্যায় 2019 এর।
এইতো সেদিন আমাকে নিয়ে কত হইচই ,
দিনের-পর-দিন খবরের কাগজে বিনোদন !প্রতিবাদ আন্দোলন,মৌন মিছিল ,
রাজ পথে হেটে ছিলে তোমরা ।
আমি ভবানীপুরের 14 বছরের সেই মেয়েটি,
আমায় খুবলে খেয়েছে নরখাদকরা।
সিঙ্গুরের হতদরিদ্র বাবা মায়ের অভাগা সন্তান ,
জীবন্ত পুড়িয়ে লাশ বানিয়ে ছিলো।
দিল্লির নির্ভয়া আমি .
চলতি বাসে মানুষরূপী মাংসাশী করেছিলে আমায় গণধর্ষণ ,
৬ বছরের রুপা আমি ,
কামলালসায় হয়নি আমার ও রেহাই।
আমি সেই কলেজছাত্রী কামদুনির ,
আমি সেই হায়দ্রাবাদের গণধর্ষিতা অগ্নিদগ্ধ মহিলা ডাক্তার প্রিয়াঙ্কা ,
আকাশ ফাটিয়ে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করেছিলাম ।
আমি সেই বর্তমান সমাজের প্রতিচ্ছবি
যেখানে নিরাপত্তাহীন নারী জাতি আমরা প্রতিদিন প্রতিক্ষণে শত শত নারী নির্যাতিত
আমায় কি চিনতে পেরেছ ?
যদি না ভুলে যাও তাহলে প্রতিবাদ করো !
মুক্তি দাও অবহিত নির্যাতিত নারীদের।
ভুলে যেও না আমায়......
আমার হৃদয়ে ত্রিপুরা
আকাশে আলোয় গৌধুলীর লালে লাল,,
নদীর পাড়ে ছায়া ঘেরা পথ।।
এক সময় সন্ধ্যা নেমে আসে, জ্বলে উঠেছে প্রদীপের আলো ,,
কোথাও ভেসে আসছে মন্দিরের শঙ্খধ্বনি।।
আবার ভেসে আসছে সীমান্তঘেঁষা বাংলার মসজিদের আওয়াজ ।।
এই মুহূর্তে সূর্য দেব বেজায় ব্যস্ত ,,
পৃথিবীর উল্টোদিকে আলো ফেলতে হবে ।।
প্রকৃতির এক রুপসী নগরে হাতির দল নেমে আসতো,,
একদা শহরের বুকে বৈনারী মালঞ্চ নিবাসে ফুল পুষ্পিত।।
অমরাবতী রূপকথার রাজ্যে,,
রাজকন্যা লাল পরী নীল পরী।।
নাগকেশর কাঁঠালের বাগানে নাম না জানা পাখির কুজনে,,,
ত্রিপুরার প্রকৃতিতে হারিয়ে যাওয়ার হাত ছানি।।
অনায়াসে লুকিয়ে থাকা ঘন অরন্য,,
পাহাড়ের মায়াবী আলিঙ্গনে ত্রিপুরা।।
এক কম কোটি উনকোটি দেবতার রঘুনন্দন পাহাড়ে ,,
দেবাদিদেব ছিলেন মহাদেব ব্যাতিত ছিল না কেহ নিদ্রাভঙ্গ ।।
সব দেবতা ছিল ঘুমন্ত,,
অনন্ত কাল ধরে সব দেবতা পাথর হয়েগিয়েছিল ,,
বিষ্ণু দেবের অভিশাপে!
আজও ঊনকোটি শৈব তীর্থ স্থানে আখ্যায়িত।।
ঐতিহ্যের মিছিল বুকে নিয়ে,,
"ত্রিপুরা ক্যাসল" আজ ও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড ।
শেওলার খাঁজ
ঢালু পাহাড়ি উপত্যকায় জন্মানো শেওলা,,
হোঁচট খেয়ে থমকে গেলাম আমি !
গড়িয়ে চললো রুক্ষ কঠিন পাথর।।
ভেবেছিল একটু ভালোবাসার উষ্ণ উত্তাপ সত্যিই কি আদর পাব কি?
"পাথরটি পথভ্রষ্ট" পাহাড়ি উপত্যকায় শেওলার খাঁজ পাথর ভাবল!!
সবুজ শ্যামলিমায় রুক্ষ কঠিন বুকে চাপা বেদনা,,
আবার শুরু হল গড়িয়ে চলা অনন্ত কাল ধরে।।
পাথরটি তার বুকে গহীন অন্তরালে একটি বেদনা দীর্ঘনিঃশ্বাস ,,
গড়িয়ে চলা এক ভালোবাসার শেওলা।
অতীত
যাত্রা হোক শুরু গহীন অন্তর থেকে ,,
যেখানে একরাশ ফজিল রেখে।
মাটিচাপা পড়ে ছিলাম আমি প্রথম শ্রাবণীতে,,
গন্তব্যহীন পথে তুমি কি আমায় চিনতে পেরেছো!
ফর্মা থেকে বের করে দাও তোমার অনিন্দ্যসুন্দর রুপ।।
তোমার হৃদয়ে রক্তাক্ত প্রেম ভালোবাসায় আমারি বুকে,,
বিদ্ধ করেছে বুলেট।।
আবার জেগে উঠেছে দিবানিশিথে!
এক অভিন্ন অভিনেতা তুমি!
বদলে দিয়েছো ক্যালেন্ডারের দিনগুলো ।।
এক অবান্তর মহিমা হীন মৃত্যুর স্রোত ,,
জীবন কে ক্যানভাসে খুঁজেছ কম্প্রোমাইজ গিভ অ্যান্ড টেক পলিসিতে।
লহমা
আমি উড়ব শীতের পাখায় ভর করে,,
শিশির ভেজা গাঁদা ফুলের পাপড়ির আবডালে লুকিয়ে আছ তূমি,,
গাথব মালা , সূর্যের আড়ালে , রোদেলা আকাশের এক মুঠো সোনালী স্বপ্নের ঠিকানায়।। জীবন গনিতের হিসেবে বিয়োগ ছাড়া,,
আজ আর কিছু নেই!
সকল সমিকরনে ফল আজ শুন্য,,
ভরসা আর বিশ্বাসে সন্মান রয়ে গেল অশরিরি উধাও।।
নিয়তির নির্মম পরিহাস পরিত্যক্তা আমি!
এলোমেলো এক গোছগাছ শর্তহীন ভালো বাসা,,
এক লহমায় অন্ধকারে ডুবেছি আমি।।
সম্পর্কে টানাপোড়ন এসিড দগ্ধিত আমি,,
আজ প্রতিজ্ঞা করছি!
এমন রুপকথা লিখবনা বার বার।।
রক্ত করবি
আমি বেঁচে আছি আকাশে বাতাসে
তোমার স্মৃতি বিজড়িত হয়ে।
কোথায় তুমি আকাশে অপরাজিতা ?
নীল দিগন্তে আরো নীল হয়ে ,
উড়িতে চাই সেই আকাশে পাখনা মেলে।
তোমার রুপের গাঢ় বিষন্নতায় শুকিয়ে যায় পদ্ম,
দেখা যাচ্ছে বিশালক্ষীর বহুদিনের নীরবতা ।
যেখানে দম্ভিক ভালোবাসা ,
সেখানে প্রকাশ পায় হতাশা ।
যেখানেএকদিন চন্দ্রমালার কাঁকন বাজিত,
আহঃ! কি কোন দিন বাজিবে আর ?
তোমারি অমর নাম জয় গৌরবে ,
মরনেতে চিরন্তন সত্য লেখা রবে ।
মরন হলেও তোমায় খুঁজে পাই সমাধিতে,
তোমারি জীবন যেন কাহিনীর মত ।
হে বিজয়ী বীর চির জয়ের ব্রত তুমি,
তোমার জয় ধূপখোলা মাঠের দিকে ছুটল ।
মরনেতই যেন সুখ !
তোমার জীবন দিলে হাসি মুখে ,
একথা কখনো যেন কুহকাছন্ন না থাকি।
সীমাহীন সীমান্ত
কি করে ভুলবো তোমায়,
এক সাগর রক্তের স্রোত ভাসিয়েছ।
বিসর্জন দিয়ে ছিলে আত্মিয় পরিজন,
হাহাকার করে উঠলো দেহের শিরায় শিরায় ধাবমান রক্ত।
স্বাধীনতা মোর চেতনার আঁচল,
কবিতার কল্পনার কোন নতুন প্রজন্মের জন্য এই পৃথিবী।
স্বাধীনতা অস্তিত্বকে ভালোবাসার বর্ণমালার
ইচ্ছে আঁচল এক বর্ণহীন কাহিনী।
ইতিহাস সত্য অবিরত,মিলে মিশে এখন নতুন শিল্প,
সেই স্মৃতি বিজড়িত মাঝখানে চিরদিন তুমি।
সেতুর ব্যনজনা পাল্টে গেলো চোখ,
দোদুল্যমান অবস্থায় আমার সেই যে অনুভব।
সেতু বন্ধন শরীরি অবয়ব চিহ্নিত দেশ আজ মহাসংকটে,
মায়ের জন্ম ভূমি আজ অসিমান্তিক কাঁটা তারের চেতনার দীর্ঘ নিঃশ্বাস।
এই ডালাপালার কোথাও সরলতা কোথাও প্রতাখানের বয়ান,
তবুও আশা রাখি আমার ভরত হবে জগত সভায় মহান।
অভিমান
জীবনের গলি থেকে রাজপথে চলেছি
এটা নীরব নিস্তব্ধ,এক অচেনা,
পথে উদাসী মন চলেছে নিরন।
তোমাকে নিয়ে লিখছি কত কবিতা,
আজ তুমি নেই জীবনটাই বৃথা।
স্বপ্নের খোঁজে পথ চলে
মান অভিমানে গিয়েছি ভুলে ,
সেই সব রোদ্দুর দিন পেড়িয়ে এসেছি
পিছে ফেলা ইচ্ছের আঁচল দিয়ে বাঁধা ।
কতটা রঙ্গীন ঘুড়ি ,বন্ধ কপাট,
খিল দিয়ছি তুলে আমার অভিমান কে ভুলে ।
একটি সকালে ধাক্কা দিচ্ছিল দরজায়,
পাথরটি জেগে উঠে ধীরে ধীরে ,
আড়মোড়া ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে দরজাটি দিলো খুলে ।
নরম রোদ শরীরের ভেতর ঢুকে পরে ,
আকাশ মাটির এভাবে আলিঙ্গন হলো
বসুন্ধরা বলে আমাদের এই মায়া,
আর মায়া তাকে বলছে এই ভালবাসাই মিত্রতা।
ঠিকানা
জোৎস্ন্যা ভরা শেষ রাত্রি মুছে যায় ,
ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় শেষ ঘুমিয়ে উঠেছে রবি।
কিন্তু , সে যে উঠে না আর।
সুদীর্ঘ নিশ্বাসে ডুবে যায় অনন্ত নিখিল,
নবীন উত্তরনেরপথে ভুল হয়ে যায় ভালোবাসা ,
দীর্ঘ রাত্রি যন্ত্রনায় কেহ থাকেনা পাশে ।
অন্তিম পদচারণায় একা সে পথিক ,
ধরনির বুকে মাথা গুঁজে একান্ত আশ্রয়ের।
অসহ্য বেদনা ,আত্ম দহনে পুড়ে ছাই ক্ষতবিক্ষত দেহ ,
আজ কাতর কান্না ছাপিয়ে উচ্চারিত হয় ।
প্রকৃতির অমোঘ যন্ত্র নাসিকার জানালায় ,
নিখিলের যাওয়া অসস্তিবোধ হয়ে গেল,
দেহ খাঁচা ছেড়ে মন কোথায় কে জানে,
রাত্রির কুয়াশা মুছিয়ে দিয়ে ,আসছে নতুন ভোর ,
সে তো জানেনা আসন্ন ভবিষ্যৎ
কোন নিশ্চিত ঠি কানায় ।
সীমাহীন সীমান্ত
কি করে ভুলবো তোমায়,
এক সাগর রক্তের স্রোত ভাসিয়েছ।
বিসর্জন দিয়ে ছিলে আত্মিয় পরিজন,
হাহাকার করে উঠলো দেহের শিরায় শিরায় ধাবমান রক্ত।
স্বাধীনতা মোর চেতনার আঁচল,
কবিতার কল্পনার কোন নতুন প্রজন্মের জন্য এই পৃথিবী।
স্বাধীনতা অস্তিত্বকে ভালোবাসার বর্ণমালার
ইচ্ছে আঁচল এক বর্ণহীন কাহিনী।
ইতিহাস সত্য অবিরত,মিলে মিশে এখন নতুন শিল্প,
সেই স্মৃতি বিজড়িত মাঝখানে চিরদিন তুমি।
সেতুর ব্যনজনা পাল্টে গেলো চোখ,
দোদুল্যমান অবস্থায় আমার সেই যে অনুভব।
সেতু বন্ধন শরীরি অবয়ব চিহ্নিত দেশ আজ মহাসংকটে,
মায়ের জন্ম ভূমি আজ অসিমান্তিক কাঁটা তারের চেতনার দীর্ঘ নিঃশ্বাস।
এই ডালাপালার কোথাও সরলতা কোথাও প্রতাখানের বয়ান,
তবুও আশা রাখি আমার ভরত হবে জগত সভায় মহান।
অভিমান
জীবনের গলি থেকে রাজপথে চলেছি
এটা নীরব নিস্তব্ধ,এক অচেনা,
পথে উদাসী মন চলেছে নিরন।
তোমাকে নিয়ে লিখছি কত কবিতা,
আজ তুমি নেই জীবনটাই বৃথা।
স্বপ্নের খোঁজে পথ চলে
মান অভিমানে গিয়েছি ভুলে ,
সেই সব রোদ্দুর দিন পেড়িয়ে এসেছি
পিছে ফেলা ইচ্ছের আঁচল দিয়ে বাঁধা ।
কতটা রঙ্গীন ঘুড়ি ,বন্ধ কপাট,
খিল দিয়ছি তুলে আমার অভিমান কে ভুলে ।
একটি সকালে ধাক্কা দিচ্ছিল দরজায়,
পাথরটি জেগে উঠে ধীরে ধীরে ,
আড়মোড়া ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে দরজাটি দিলো খুলে ।
নরম রোদ শরীরের ভেতর ঢুকে পরে ,
আকাশ মাটির এভাবে আলিঙ্গন হলো
বসুন্ধরা বলে আমাদের এই মায়া,
আর মায়া তাকে বলছে এই ভালবাসাই মিত্রতা।
রক্ত করবি
আমি বেঁচে আছি আকাশে বাতাসে
তোমার স্মৃতি বিজড়িত হয়ে।
কোথায় তুমি আকাশে অপরাজিতা ?
নীল দিগন্তে আরো নীল হয়ে ,
উড়িতে চাই সেই আকাশে পাখনা মেলে।
তোমার রুপের গাঢ় বিষন্নতায় শুকিয়ে যায় পদ্ম,
দেখা যাচ্ছে বিশালক্ষীর বহুদিনের নীরবতা ।
যেখানে দম্ভিক ভালোবাসা ,
সেখানে প্রকাশ পায় হতাশা ।
যেখানেএকদিন চন্দ্রমালার কাঁকন বাজিত,
আহঃ! কি কোন দিন বাজিবে আর ?
তোমারি অমর নাম জয় গৌরবে ,
মরনেতে চিরন্তন সত্য লেখা রবে ।
মরন হলেও তোমায় খুঁজে পাই সমাধিতে,
তোমারি জীবন যেন কাহিনীর মত ।
হে বিজয়ী বীর চির জয়ের ব্রত তুমি,
তোমার জয় ধূপখোলা মাঠের দিকে ছুটল ।
মরনেতই যেন সুখ !
তোমার জীবন দিলে হাসি মুখে ,
একথা কখনো যেন কুহকাছন্ন না থাকি।
কী লিখি কেন লিখি
আমার লিখতে ভালো লাগে। কারণ জীবনের সব প্রশ্ন এর উত্তর নেই। হৃদয় এর সুপ্ত ইচ্ছে গুলি যেন কলমের আচড়ানিতে। কবিতা হয়ে যায়। না বলা কথা গুলো কলমের আচড়ানিতে সাদা কাগজে ভর্তি হয়ে বর্নের সমাহার সৃষ্টি হয় কবিতা। একমাত্র সাহিত্য এনে দিতে মানবিক মুল্যবোধ।আমি কবিতা লিখি আমি কাজি নিনারা বেগম। আমার বাবা কাজি মুস্তাফা রহমান ও মাতা জোহরা বেগম। আমি একজন হাউস ওয়াইফ। আমি মনের খেয়ালে লিখি। আমার অবসরের হৃদয়ের স্পন্দন কবিতা লিখা । কাব্য সৃষ্টি করতে আমি আগ্রহী
0 মন্তব্যসমূহ