অনুবাদক সাহিত্যিক বাসুদেব দাস মুখোমুখি কবি কথাশ্রমিক গোবিন্দ ধর

অনুবাদক সাহিত্যিক বাসুদেব দাস 
মুখোমুখি 
কবি কথাশ্রমিক গোবিন্দ ধর 


অনুবাদক সাহিত্যিক বাসুদেব দাস 
মুখোমুখি 
কবি কথাশ্রমিক গোবিন্দ ধর 


১৯৫৮ সনে অসমের নগাঁও জেলার যমুনামুখে বাসুদেব দাসের জন্ম হয়।শৈশব কেটেছে গুয়াহাটি শহরে। ১৯৮২ সনে গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্য ও ভাষা তত্ত্বে এম এ করেন। আজ পর্যন্ত অসমিয়া অনূদিত গল্পের সংখ্যা চারশো পঞ্চাশটির ও বেশি।NEINAD এর পক্ষ থেকে অসমিয়া ভাষা-সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের জন্য Distinguished Life Membership এর দ্বারা সম্মানিত করা হয়।
প্রকাশিত বই বাইশটি।তিনি গল্প ছাড়া অসমিয়া কবিতা, উপন্যাস ও প্রবন্ধও নিয়মিত অনুবাদ করে থাকেন।

গোবিন্দ :(১)
আপনার বেড়ে ওঠা?

বাসুদেব দাস :
১)আমার জন্ম অসমের যমুনা মুখে।তবে পাঁচ বছর বয়সেই ওখান কার পাট চুকিয়ে বাবা মায়ের সাথে গুয়াহাটি চলে আসি।আমি শৈশব থেকেই খেলাধুলা করতে পারিনি,বা বলা যায় কেউ আমায় খেলায় নিত না।তাই বইকেই আমার জীবনের অন্যতম সঙ্গী বা বন্ধু হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম।আজও বইয়ের সঙ্গে সেই বন্ধু ত্ব চলছে।বরং তা বেড়েছে বই কমেনি।

গোবিন্দ :(২)
কবে হাতেখড়ি সাহিত্যে?

বাসুদেব দাস :
২)আমি তখন নবম শ্রেণির ছাত্র।বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্ৰাম ।মুজিবরের নামে অনুপ্রাণিত।সেই সময় একটা প্রবন্ধ লিখে ফেলি।'বিদ্রোহী পূর্ববাংলার সবারে করি আহ্বান'।প্রবন্ধটি গুয়াহাটি তে 'উদ্দীপনা'নামে একটি ম‍্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছিল।এরপর সময় প্রবাহ  পত্রিকায় নিয়মিত লেখা লিখি করি।

গোবিন্দ :(৩)
আপনি কি সরাসরি অনুবাদকর্মেই এসছেন?না গল্প কবিতা দিয়ে শুরু?

বাসুদেব দাস :
৩)না।গোটা চারেক মৌলিক গল্প লিখেছি ,সেগুলি বিভিন্ন ম‍্যাগাজিনে প্রকাশিত ও হয়েছে।তবে অনুবাদের আগে আমি বাংলাসাহিত‍্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে, দেশ ভাগ ও বাংলাসাহিত‍্যে তার প্রভাব নিয়ে বেশ কিছু লেখালিখি করেছি।আমার প্রথম বই 'চিন্তা ভাবনা'মৌলিক প্রবন্ধে র বই।আমি মূলতঃ হোমেন বরগোহাঞি পড়ে অসমিয়া সাহিত্যের অনুবাদে আগ্ৰহী হয়ে উঠি।ছাত্র জীবনে অনুবাদের মাধ্যমে বিশ্বসাহিত্যের নিয়মিত পাঠক হলেও অসমিয়া সাহিত্যের সঙ্গে তখন কোনো রকম যোগাযোগই ছিল না।

গোবিন্দ :(৪)
আপনার মৌলিক সাহিত্য কর্ম বিষয়ে বিস্তৃত জানবো?

বাসুদেব দাস :
৪)আমি আগের প্রশ্নের উত্তরে বলেছি গোটা চারেক মৌলিক গল্প ছাড়া মৌলিক লেখা লিখি বলতে যা বোঝায় তা লিখিনি।তবে তিন বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়কে নিয়ে আমার বেশ কিছু লেখা রয়েছে।ভারতের স্বাধীনতা সংগ্ৰাম নিয়ে ছোটদের জন্য দীর্ঘকাল সময় প্রবাহের পাতায় লিখেছি।'ভারতের স্বাধীনতা সংগ্ৰামে নারী' শীর্ষক আমার একটি বইও রয়েছে।তাছাড়া আমার আর একটি প্রিয় বিষয় হল দেশভাগ ও সাহিত্যে তার প্রতি ফলন।এই নিয়ে পড়াশোনা/লেখালিখি করতে আমি এখনও ভালো বাসি।

গোবিন্দ :(৫)
অনুবাদক হিসেবে আপনার কাজগুলো সম্পর্কে আমাদেরকে বিস্তৃত বলুন।

বাসুদেব দাস :
৫)হোমেন বরগোহাঞির গল্প উপন্যাস বিশেষ করে প্রবন্ধ পড়ে আমি চমকে উঠেছিলাম।মনে হয়েছিল এই জিনিসই আমি যেন চাইছি লাম,যা আমার মনকে একটা উঁচু সুরে বেঁধে দেবে, প্রতি নিয়ত এগিয়ে যাবার পথে অনুপ্রাণিত করবে।তখনই ভেবে নিই অসমিয়া সাহিত্যের সঙ্গে আমার নিবিড় সংযোগ গড়ে তুলতে হবে।আমার এই আনন্দের অংশীদার করে তুলতে হবে বাংলার বৃহত্তর পাঠক সমাজকে।আর তার জন্য একটিই পথ রয়েছে, সেটা হল অনুবাদ।

গোবিন্দ :(৬)
অনুবাদক হিসেবে আপনার প্রাপ্তি?

বাসুদেব দাস :
৬)জীবন শুরু করে ছিলাম একেবারে শূন্য থেকে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা কালীন আসা যাওয়ার পঞ্চাশ পয়সা বাসভাড়াও যোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হত।তবু হার মানি নি।বইয়ের প্রতি ভালোবাসা আমাকে অপরিসীম শক্তি জুগিয়েছিল।সারা জীবন আশেপাশের লোকের চোখে অবহেলার ছবিই দেখতে পেয়েছি।একটা বিশেষ সম্প্রদায়ে জন্ম নিয়ে যেন অপরাধ করেছি।সেই আমাকে যখন অসমের অগণিত জনগন, লেখক সাহিত্যিক ,কবি,গল্পকার ,ঔপন্যাসিক একেবারে হৃদয়ের মাঝখানটিতে বসিয়ে দিল সেই মুহূর্তে আমার মনে হল আমার আর কিছু চাই না, আমি সব পেয়েছির দেশে পৌঁছে গেছি।এই ভালোবাসা র ই বর্হিপ্রকাশ ঘটে আমাকে অসম সাহিত্য সভার অধিবেশনে আমন্ত্রণে,অরুণাচল লিটারে রি ফেসটিভেলের আমন্ত্রণে,শিবসাগর গ্ৰন্থমেলা উদ্বোধনের আমন্ত্রণে।

গোবিন্দ :(৭)
অনুবাদক হিসেবে কোন কাজটি করে আপনি সবচেয়ে বেশি আনন্দিত?

বাসুদেব দাস :
৭)হোমেন বরগোহাঞির প্রবন্ধ জীবন সাধনা, প্রজ্ঞার সাধনা ,এবং বইয়ের সঙ্গে কথাবার্তা অনুবাদ করে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছি।প্রবন্ধগুলি পড়ে আমাকে অনেকে ফোন করে জানিয়েছেন যে বরগোহাঞির  প্রবন্ধ তাদের নিরানন্দ জীবনে    নতুন করে বাঁচার আশা জুগিয়েছে।এভাবেই জেহিরুল হোসেনের গল্প এবং বীরেশ্বর বরুয়ার কবিতা আমাকে আপ্লুত করেছে।

গোবিন্দ :(৮)
এই সময়ে অসমিয়া অনুবাদক হিসেবে আপনার বিকল্প নেই। বিষয়টি কেমন লাগে?

বাসুদেব দাস :
৮)না, না।এটা ঠিক নয়।আমার মতো অনেকেই অসমিয়া থেকে অনুবাদ করছেন।কেউ কেউ খুব ভালো কাজ করছেন।আমি জানি আমার অনুবাদ এখনও পূর্ণতা লাভ করেনি।তবে পূর্ণতার পথে সর্বশক্তি নিয়ে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করছি।


গোবিন্দ :(৯)
অনুবাদকাজের বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছেন?

বাসুদেব দাস :
৯)স্বীকৃতি বললে যদি পুরস্কার বোঝায় তা পাইনি।তবে অসংখ্য মানুষের প্রাণভরা ভালোবাসা পেয়েছি। আমার কাছে হাজার পুরস্কারের চেয়েও মানুষের ভালোবাসার দাম অনেক বেশি।তাছাড়া আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমার যদি যোগ্যতা থাকে তাহলে আমাকে পুরস্কারের পেছনে ছুটতে হবেনা, পুরস্কারই আমার পেছনে ছুটবে।

গোবিন্দ :(১০)
আপনার অনুবাদকৃত গ্রন্থসংখ্যা বাইশটি।নামগুলো বলুন।

বাসুদেব দাস :
১০)চিন্তা ভাবনা,ভারতের স্বাধীনতা সংগ্ৰামে নারী, আমাদের বিষ্ণু প্রসাদ রাভা-এই তিনটি মৌলিক বই ।বাকি উনিশটি অনুবাদ গ্ৰন্থ যথাক্রমে নির্বাচিত অসমিয়া ছোটগল্ল, মৎস্য গন্ধা, জীবন সাধনা, বইয়ের সঙ্গে কথা বার্তা, মহারাষ্ট্রীয় নবজাগরণ,আত্মানুসন্ধান,দুর্দিনের দস্তাবেজ,কটন কলেজ,বিরিঞ্চি রাভার পঞ্চাশটি কবিতা, প্রাণজিৎ বরার পঞ্চাশ টি কবিতা, গঙ্গামোহন মিলির পঞ্চাশটি কবিতা, টোপ,মনোজ গোস্বামীর গল্প সংকলন,জেহিরুল হোসেনের গল্প সংকলন।

গোবিন্দ :(১১)
অসমিয়া ছাড়া আর কোন ভাষা থেকে অনুবাদ করেন?

বাসুদেব দাস :
১১)ইংরেজির মাধ্যমে স্পেনিস গল্পের বাংলা অনুবাদ,হিন্দির মাধ্যমে তেলেগু ,উড়িয়া, কাশ্মীরী গল্পের বাংলা অনুবাদ করেছি।


গোবিন্দ :(১২)
আসামেরই আপনি একজন।তো কলকাতা আপনাকে কী দিলো? কেন এই সিদ্ধান্ত?

বাসুদেব দাস :
১২)আমি অসমের একথা ঠিক।তবে আমি যদি অসমে বসে অনুবাদের কাজ করতাম  তাহলে আজ যে বিপুল সাড়া পাচ্ছি সেটা পেতাম না।কলকাতা আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে।অজস্ত্র ম‍্যাগাজিনে লেখার /অনুবাদ করার সুযোগ করে দিয়েছে।এখানকার বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে বক্তৃতা করার সুযোগ দিয়েছে।খুব বিনীত ভাবে বলছি কলকাতা আমাকে একজন অনুবাদক হয়ে উঠতে সাহায‍্য করেছে।এখানে এসেই আমি  ফরাসি এবং স্পেনিস ভাষা শেখার  সুযোগ পেয়েছি।কলকাতা আমার স্বপ্নের শহর,আবেগের শহর।এর ঋণ আমি কোনো দিন শোধ করতে পারব না।


গোবিন্দ :(১৩)
আপনার সাহিত্য যাপনে কোন আক্ষেপ?

বাসুদেব দাস :
১৩)না।কোনো আক্ষেপ নেই।

গোবিন্দ :(১৪)
আপনার বিশেষ প্রাপ্তি?

বাসুদেব দাস :
১৪)অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা।প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় গড়ে উঠা,তাদের ভালো বাসায় আপ্লুত হওয়া।

গোবিন্দ :(১৫)
কোন বিশেষ স্মৃতি যা কোথাও বলেননি?

বাসুদেব দাস :
১৫)না,সেরকম কিছু এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না।

গোবিন্দ :(১৬)একজন সফল অনুবাদকের অনুবাদকড়মে লেগে থাকা অবস্থায় মনে হয় যে নিজস্ব জীবনযাপনে বিঘ্ন ঘটছে?

বাসুদেব দাস :
১৬)অনুবাদ আমার জীবনের সঙ্গে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে।পরিবারের সবাই আমার এই কাজকে মন থেকে মেনে নিয়েছে।পরিবারের কাছ থেকে আমার প্রতিটি কাজেই পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছি।

গোবিন্দ :(১৭)
অনুবাদ করতে কোথাও থমকে যেতে হয়েছিলো?

বাসুদেব দাস :
১৭)না।সেরকম অবস্থার কখনও সম্মুখীন হই নি ।তবে অনেক সময় একান্ত আপন জনের ,শ্রদ্ধেয় জনের,কাছের বন্ধুদের অসূয়া পূর্ণ মনোভাব আমাকে আহত করেছে।কিন্তু এতে কাজ আরও ভালো ভাবে করার সঙ্কল্প গ্ৰহণে আমাকে উৎসাহিত করেছে।

গোবিন্দ :(১৮)
আপনি যখন অনুবাদ করেন ভাবানুবাদের চেষ্টা করেন না অনুবাদ?

বাসুদেব দাস :
১৮)ভাবানুবাদ।তবে মূলের প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে আমি যেমন চেষ্টা করি,তেমনই অনুবাদ যেন মৌলিকতার স্বাদ দিতে পারে সেদিকে ও সহচেতন থাকি।
অনুবাদের ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন ভীষণ মূল্যবান। সেটা হল অনুবাদের ক্ষেত্রে কাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত?উৎস ভাষা,লক্ষ্য ভাষা,লেখক,অনুবাদক না পাঠক কে? ওমর খৈয়ামের অনুবাদক ছিলেন ফিটজারেলদ।এতদিন পর্যন্ত আমরা জেনে এসেছি ওমর খৈয়ামের একজন শ্রেষ্ঠ অনুবাদক হিসেবে ফিটজারেলদের কোনো রকম জুড়ি ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা সূত্রে আমরা অনেকেই জানি যে ওমর খৈয়ামের অনুবাদ করতে গিয়ে তিনি কবির প্রতি খুব একটা সুবিচার করেন নি,অনেক জায়গাতেই তিনি মূলের চেয়ে স্বীয় ক্ল্পনাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনুবাদ হয়তো জনপ্রিয় হয়েছে,কিন্তু মূল কবিতার বিকৃ্তি ঘটেছে। 

গোবিন্দ :(১৯)কবিতা গল্প উপন্যাস আপনার অনুবাদকৃত এক বিশাল সাহিত্যসাম্রজ্যের একজন রাজা।কোন বিষয়টি অনুবাদ করতে পরিশ্রম বেশি মনে হয়?

বাসুদেব দাস :
১৯)আমি গল্প,উপন্যাস, প্রবন্ধ এবং প্রচুর কবিতা অনুবাদ করেছি।অনেকে বলেন নিজে কবি না হলে কবিতার ভালো অনুবাদ করা যায় না।কথাটা মনে হয় আংশিক সত্য।আমার মনে হয়,ব‍্যপারটা ভালোবাসার বা অনুভূতির।তবে কবিতার অনুবাদ যে অপেক্ষাকৃত কঠিন সেই বিষয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই।

গোবিন্দ :(২০)আগামীদিনের কাজ কি?যা করতে চান অথচ এখনো হয়ে ওঠেনি?
বাসুদেব দাস :

২০)অনেক গুলি পরিকল্পনা রয়েছে।অসমের পঞ্চাশ জন মহিলা লেখিকার পঞ্চাশ টি ছোট গল্পের বাংলা অনুবাদ নিয়ে একটি সংকলন করব।৮০% কাজ হয়ে আছে ।এখন একজন পাবলিশারের অপেক্ষায় আছি।অসমিয়া ভাষার শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধগুলি অনুবাদ করে নিয়ে একটি সংকলন করব।অসমিয়া কবিতার অনুবাদের একটি ই-বুক সিরিজ করব।প্রতিটি ব ইয়ে ছয়জন কবির ১০টি করে মোট ৬০ টি কবিতা থাকবে।আপাতত এই ধরনের ১০টি ই-বুক করব।প্রথম ই-বুক আপলোডে দেওয়া হয়েছে।


গোবিন্দ :(২১)
ধারাবাহিক এই কাজের প্রেরণা কোথায়?
বাসুদেব দাস :
২১)প্রেরণার উৎস অসমের অগণিত সাহিত্য প্রেমী জনগণ।আমি সাহিত্যের ছাত্র।দৃঢ়তার সঙ্গে বিশ্বাস করি পৃথিবীতে একমাত্র সাহিত্যই পারে মানুষের মধ্যে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপন করতে।

গোবিন্দ :(২২)
আপনার অনুবাদকৃত সাহিত্য সম্ভারে দেশভাগ আন্দোলন নিয়ে কি কাজb আছে?

বাসুদেব দাস :
২২)সম্প্রতি কান্তার ভূষণ নন্দী সম্পাদিত যাপন কথায় দেশভাগ বিশেষ সংখ্যায় দেশভাগ নিয়ে লেখা একটি অসাধারণ অসমিয়া  গল্প অনুবাদ করেছি ।সৈয়দ আব্দুল মালিকের 'বীভৎস বেদনা'।ওতে 'অসমিয়া ছোট গল্পে দেশভাগ 'শীর্ষক আমার একটি প্রবন্ধ ও রয়েছে।এছাড়া 'অন্য দেশ'শারদীয়া সংখ্যায় 'দেশভাগ ও অসমিয়া কথা সাহিত্য'নামে একটি প্রবন্ধ ও বেরিয়েছিল।


গোবিন্দ :(২৩)
রচনার উৎকর্ষতা বিবেচনা করে অনুবাদ করেন না ভাষাকে অন্য ভাষার পাঠকের নিকট পরিচিত করাই মুখ্য?
বাসুদেব দাস :
২৩)দুটো দিকেই লক্ষ্য রাখতে হয়।অন‍্য ভাষার পাঠকদের কাছে উৎস ভাষার সম্পদকে তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে তার উৎকর্ষতার দিকে ও লক্ষ্য রাখতে হয়।কাজটা যেন কোনো মতেই দায়সারা গোছের না হয়।তারমধ্যে যেন শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার ছোঁয়া থাকে।


গোবিন্দ :(২৪)
সাহিত্যে রাজনীতি আছে।অনুবাদকের সাথে এমন কোন রাজনৈতিক ঘটনা ঘটে যা কাজে অনীহা জাগায়?
বাসুদেব দাস :
২৪)আমি সাধারণত এই ব‍্যপারটা এড়িয়ে চলি।আমি সবসময় একটা কথা মনে রাখি সাহিত্যের ছাত্র হিসেবে আমার কাজ অনুবাদের মাধ্যমে মানুষে মানুষে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলা।রাজনীতি ছাড়া তো আজকের যুগে বাঁচা সম্ভব নয়।তবে আমার সচেতন প্রয়াস থাকে রাজনীতি যেন আমাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট না করে।

গোবিন্দ :(২৫)
আমি আনন্দিত।দীর্ঘ সময় দিলেন।আপনাকে ধন্যবাদ।

বাসুদেব দাস :
২৫)আমি ও আনন্দিত।আমার মতো একজন সাধারণ অনুবাদক কে এই সুযোগ দেবার জন্য।ভালো থাকবেন।নমস্কার।

২৮:০৫:২০২১

বাসুদেব দাস মহোদয়ের সংযোজন

ত্ৰিপুরার স্রোত প্রকাশন থেকে নিরুপমা বরগোহাঞির 'একজন বুড়ো মানুষ'বইটি খুব শীঘ্রই আমার অনুবাদে বের হতে চলেছে।আশা করি বাংলার পাঠক সমাজ বইটিকে সাদরে গ্ৰহণ করবে।


লেখক পরিচিতি
১৯৩২ সনে নিরুপমা বরগোহাঞি গুয়াহাটি শহরে জন্মগ্ৰহন করেন। 'অভিযাত্রী' উপন্যাসের জন্য ১৯৯৬ সনে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।ইংরেজি ও অসমিয়া সাহিত্যে এম.এ।এই মানবতাবাদী লেখিকার একুশটি উপন্যাস এবং দশটি গল্প সংকলন প্রকাশিত হয়েছে।এ ছাড়া সাংবাদিকতা,অনুবাদ গ্ৰন্থ,ভ্রমণ কাহিনি এবং আত্মজীবনী মূলক রচনাও প্রকাশিত হয়েছে।অসমিয়া তথা ভারতীয় সাহিত্যে বিশাল অবদানের জন্য ১৯৮৭ সনে বাঙ্গালোরের শাশ্বতী পুরস্কারে সম্মানিত হন।

 'একজন বুড়ো মানুষ'   উপন্যাসটি  বিজয় ভরালী নামে একজন অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধকে  কেন্দ্র  করে রচিত।রক্ষণশীল পরিবারের যুবক তথাকথিত নিচুকুলের মেয়েকে বিয়ে করায় বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ হয়।একমাত্র পুত্রকে জন্ম দিতে গিয়ে স্ত্রী মৃত্যুর মুখোমুখি হয়।পুত্র সঞ্জয় ইঞ্জিনিয়ার।গ্ৰন্থপিপাসু বিজয় ভরালী কেন্সারে আক্রান্ত হন।বিজয় ভরালীর নিঃসঙ্গ জীবনের বেদনা আমাদের মনকে বিষণ্ণ করে তোলে।লেখকের অনুভূতি শীল হৃদয় উপন্যাস টিকে একটি ভিন্ন মাত্রা দান করেছে।





খুব শীঘ্রই ত্রিপুরার স্রোত প্রকাশন থেকে চল্লিশ জন অসমিয়া গল্পকারের ছোট গল্পের বাংলা অনুবাদ নিয়ে একটি সংকলন বের হচ্ছে ।আমি আশা করব এই সংকলন অসম এবং বাংলার মধ্যে নতুন করে ভ্রাতৃত্ব বোধ জাগিয়ে তুলবে।


খুব শীঘ্রই ত্রিপুরার স্রোত সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করবেন চল্লিশ জন অসমিয়া গল্পকারের ছোট গল্পের বাংলা অনুবাদ নিয়ে একটি সংকলন বের হচ্ছে ।আমি আশা করব স্রোত এর সম্পাদিত সংখ্যাটি অসম এবং বাংলার মধ্যে নতুন করে ভ্রাতৃত্ব বোধ জাগিয়ে তুলবে।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

3 মন্তব্যসমূহ

  1. পড়লাম, সমৃদ্ধ হলাম। ভালো লাগল। অসমিয়া সাহিত্যকে কেবল অসমের বাঙালিই সবচাইতে ভালো বাংলা ভাষাতে অনুবাদ করে বাকি বিশ্বে পৌঁছুতে পারেন। বাসুদেব দাস এর নজির। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অসমে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য চর্চার পরিসর কমে গিয়ে সেই দিকটাতেই সবচাইতে বেশি ক্ষতি করছে। অসমিয়া লেখক সাহিত্যিকেরা পশ্চিমবঙ্গীয়দের নিয়ে যতটা আগ্রহী (বাসুদেব দা অসমের মানুষ, বাংলাতে প্রবাসী কথাটা মনে রেখেই বলছি) ততটা নন অসমের কাউকে নিয়ে। নইলে কি তথাগত রায়ের মতো লোক, যাকে বাঙালিই মনে রাখবে না তাঁকে নিয়ে আসা হয় গুয়াহাটি বইমেলা উন্মোচনে? যিনি অসমের বাঙালিকে ভাষা ছেড়ে দেবার প্রস্তাব দেন?

    উত্তরমুছুন
  2. আপনাকে ধন্যবাদ। সুচিন্তিত মতামত দেবার জন্য। ভাষা চিরকালই সমৃদ্ধ হয় অপর ভাষার সাথে বন্ধুত্বে।মিশ্রণে।প্রায় প্রতিটি ভাষা পাশ্ববর্তী মিশ্র জনগোষ্ঠীর ভাষার সাথে বন্ধুত্বেই নিজেকে আরো শক্তিশালী করার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে অতীতেও হয়েছে হচ্ছে হবে তথাপি আমাদের অনেকেরই ভাবনা নিজ ভাষাই বিশ্বে এক নম্বর সারযুক্ত বাকী জনগোষ্ঠীর ভাষা তেমন উৎকৃষ্ট নয় এমন ধারণা পোষণ কেউ কেউ করি করি করেন। এটাও আসলে নিজেদের সংকীর্ণতা তেমনি অসমিয়া ভাষাকে বহির্বিশ্বের বাংলাভাষী পাঠকের নিকট পৌঁছাতে পারেন বাঙালি(অসমের বাঙালীরাই।কারণ অসমে বসবাসহেতু অসমিয়া ভাষা তাদের নিকট প্রকৃত অর্থ জানা)রা যাদের একসাথো অসমিয়া ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা আছে।অনুবাদের দক্ষতা আছে।আমার জানা মতো আপনিও একজন অনুবাদক। আপনি ইন্দিরা অভারব্রীজ অনুবাদও করেছেন।পাশাপাশি আরো অনুবাদকাজে যুক্তও আছেন।তাছাড়া অসমিয়ার সাথে শ্রীহট্টীয় লৌকিক ভাষার পারস্পরিক সৌহার্দ্য নিয়ে আপনার মূল্যবাণ গবেষণাও আছে।আমিও বিশ্বাস করি শুধু পশ্চিমবঙ্গবাসীই অসমিয়াকে বহির্বিশ্বে সম্মানজনকভাবে অনুবাদ করলেও অসমবাসী বাঙালিরাই প্রকৃতপক্ষে প্রকৃত(মূল)অনুবাদ করতে পারেন।একটি ভাষাকে যত রকমভাবে অনুবাদ কর্মের মাধ্যমে পাঠকের নিকট(অন্যভাষার পাঠক)নিয়ে যাওয়া যায় ততই ভাষার সাহিত্য সংস্কৃতি লৌকিকতার সাথে অন্যভাষাদের আত্মীক যোগাযোগ হয়।ভাষা তখন সমৃদ্ধ হয়।পাঠক উপকৃত হোন।পরস্পরের প্রতি আত্মীক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাংলাভাষী হয়েও বাঙালির সব থেকে ক্ষতি করেও কেউ কেউ রাজনৈতিক কারণে হয়ে যান শ্রেষ্ঠতম। এইরকম হয় একমাত্র পরস্পর পরস্পরকে সমৃদ্ধ না করে যত বেশি করে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া যায় ততই তো দূড়বল করে দেওয়া সহজ।রাজনৈতিক মুনাফা বোধ হয় এরকমই কিন্তু সাহিত্য মুনাফা তো সেরকম নয়।তাহলে অসমের বইমেলার প্রকৃত উদ্বোদক হতেই পারেন একজন অনুবাদক যিনি উভয় ভাষার প্রতি দরদী। কিন্তু না আমাদের রাজনৈতিক চিন্তা চেতনা যতটা গভীর ততটা ভাষাকেন্দ্রীক দরদ নয় হয়তো।তাও আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করতে পারি একদিন সকল ভাষার আরো আত্মীক সম্পর্ক সুন্দর হবে।পরস্পর পরস্পরের প্রতি আত্মীক সম্পর্ক গড়ে উঠবে।

    উত্তরমুছুন
  3. আপনাকে ধন্যবাদ। সুচিন্তিত মতামত দেবার জন্য। ভাষা চিরকালই সমৃদ্ধ হয় অপর ভাষার সাথে বন্ধুত্বে।মিশ্রণে।প্রায় প্রতিটি ভাষা পাশ্ববর্তী মিশ্র জনগোষ্ঠীর ভাষার সাথে বন্ধুত্বেই নিজেকে আরো শক্তিশালী করার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে অতীতেও হয়েছে হচ্ছে হবে তথাপি আমাদের অনেকেরই ভাবনা নিজ ভাষাই বিশ্বে এক নম্বর সারযুক্ত বাকী জনগোষ্ঠীর ভাষা তেমন উৎকৃষ্ট নয় এমন ধারণা পোষণ কেউ কেউ করি করি করেন। এটাও আসলে নিজেদের সংকীর্ণতা তেমনি অসমিয়া ভাষাকে বহির্বিশ্বের বাংলাভাষী পাঠকের নিকট পৌঁছাতে পারেন বাঙালি(অসমের বাঙালীরাই।কারণ অসমে বসবাসহেতু অসমিয়া ভাষা তাদের নিকট প্রকৃত অর্থ জানা)রা যাদের একসাথো অসমিয়া ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা আছে।অনুবাদের দক্ষতা আছে।আমার জানা মতো আপনিও একজন অনুবাদক। আপনি ইন্দিরা অভারব্রীজ অনুবাদও করেছেন।পাশাপাশি আরো অনুবাদকাজে যুক্তও আছেন।তাছাড়া অসমিয়ার সাথে শ্রীহট্টীয় লৌকিক ভাষার পারস্পরিক সৌহার্দ্য নিয়ে আপনার মূল্যবাণ গবেষণাও আছে।আমিও বিশ্বাস করি শুধু পশ্চিমবঙ্গবাসীই অসমিয়াকে বহির্বিশ্বে সম্মানজনকভাবে অনুবাদ করলেও অসমবাসী বাঙালিরাই প্রকৃতপক্ষে প্রকৃত(মূল)অনুবাদ করতে পারেন।একটি ভাষাকে যত রকমভাবে অনুবাদ কর্মের মাধ্যমে পাঠকের নিকট(অন্যভাষার পাঠক)নিয়ে যাওয়া যায় ততই ভাষার সাহিত্য সংস্কৃতি লৌকিকতার সাথে অন্যভাষাদের আত্মীক যোগাযোগ হয়।ভাষা তখন সমৃদ্ধ হয়।পাঠক উপকৃত হোন।পরস্পরের প্রতি আত্মীক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাংলাভাষী হয়েও বাঙালির সব থেকে ক্ষতি করেও কেউ কেউ রাজনৈতিক কারণে হয়ে যান শ্রেষ্ঠতম। এইরকম হয় একমাত্র পরস্পর পরস্পরকে সমৃদ্ধ না করে যত বেশি করে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া যায় ততই তো দূড়বল করে দেওয়া সহজ।রাজনৈতিক মুনাফা বোধ হয় এরকমই কিন্তু সাহিত্য মুনাফা তো সেরকম নয়।তাহলে অসমের বইমেলার প্রকৃত উদ্বোদক হতেই পারেন একজন অনুবাদক যিনি উভয় ভাষার প্রতি দরদী। কিন্তু না আমাদের রাজনৈতিক চিন্তা চেতনা যতটা গভীর ততটা ভাষাকেন্দ্রীক দরদ নয় হয়তো।তাও আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করতে পারি একদিন সকল ভাষার আরো আত্মীক সম্পর্ক সুন্দর হবে।পরস্পর পরস্পরের প্রতি আত্মীক সম্পর্ক গড়ে উঠবে।

    উত্তরমুছুন