কথাসাহিত্যিক শ্যামল বৈদ্যমুখোমুখি গোবিন্দ ধর

কথাসাহিত্যিক শ্যামল বৈদ্য
মুখোমুখি 
গোবিন্দ ধর 



কথাসাহিত্যিক শ্যামল বৈদ্য
মুখোমুখি 
গোবিন্দ ধর 


বাংলা সাহিত্যের সাম্প্রতিক মুখ কথাসাহিত্যিক শ্যামল বৈদ্য মহোদয়, আপনি কবিতা দিয়ে শুরু করলেও ত্রিপুরার কথাসাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন। আপনার ‘বুনো গাঙের চর’ ‘উজানভাটি’, ‘ইতরবিম্ব’, ‘চাকমা দুহিতা’, ‘জন্মবদল’ আমাদেরকে ঋদ্ধ করেছে। আপনি পেশায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। বিগত তিন দশক ধরে লেখালেখির সাথে যুক্ত। আপনার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৪টি। তার মাঝে আছে নাটক,কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ এবং ছোটগল্প। 'পরাপর' গল্পগ্রন্থের জন্য ২০১৫ সালে ত্রিপুরা সরকারের 'সলিলকৃষ্ণ দেববর্মন স্মৃতি পুরস্কার’ -এ ভূষিত আপনি। 'অবয়ব' নাটকের জন্য পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ গ্রুপ থিয়েটারের পক্ষ থেকে 'কালীপ্রসাদ চক্রবর্তী স্মৃতি পুরস্কার '। আপনার সর্বশেষ সম্পাদিত গ্রন্থ 'ত্রিপুরার সাম্প্রতিক ছোটগল্প 'এ বছর স্রোত প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। আপনি স্বপ্ন দেখেন হিংসা-বিদ্বেষ মুক্ত সুন্দর বিশ্ব। বিশ্বাস করেন ভালোবাসাই হবে জীবনের জীয়নকাঠি। ত্রিপুরার তরুণ তুর্কী সব্যসাচী লেখক শ্যামল বৈদ্য মহোদয় আপনার হাতে দক্ষিণারঞ্জন ধর স্মৃতি স্রোত পুরস্কার তুলে দিতে পারার আনন্দ আমাদের উত্তাপ।

প্রশ্ন: আপনার বেড়ে ওঠা কমলপুর। মিশ্র সংস্কৃতির আবহে কেটেছে শৈশব। ইতিহাস সাক্ষী পাঙাল জনগোষ্ঠীর ক্ষুদ্র অংশ, ধলাইপারের ঘাঁটি অঞ্চলে তাঁদের বসবাস। একদিকে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী, অন্যদিকে জনজাতি, চা শ্রমিকদের বসবাস কমলপুরে। সব মিলে আপনার  বেড়ে ওঠা কেমন ছিল?
উত্তর:আমার ছোটবেলা কেটেছে গ্রামে। ধলাই নদীর পাড়ে হারেরখোলা গ্রামে আমার পৈত্রিক ভিটে এখনও আছে। পুবদিকে লংতরাই, সূর্য ওঠে পাহাড়ের বুক চিরে। পশ্চিমে আঠারোমুড়া, আর তার মাঝের উপত্যকা হল কমলপুর। মায়াবী পলির উপর পায়ের ছাপ ফেলে আমরা এগিয়ে যেতাম নদীতে। এত দুরন্ত ছিলাম যে, প্রায় প্রতিদিন বাবা মারধর করতেন। পড়াশোনা খুব একটা ভাল লাগত না। স্বপ্ন ছিল চোর-ডাকাত হওয়ার। বাবার শাসনে ইচ্ছেগুলি বর্জন করতে হয়েছে। আজকাল বাচ্চাদের এত পড়তে দেখে খারাপ লাগে। ওরা জীবন দেখবে কী করে? পাঙ্গাল, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি, চা-বাগান শ্রমিক, ত্রিপুরার জনজাতি সবাই ছিল। তাঁদের সঙ্গে হেসে খেলেই বড় হয়েছি। চা-বাগান শ্রমিক এবং মৈথৈ মণিপুরি এবং পাঙ্গাল আমাদের গ্রামেই ছিল। সবাই মিলেমিশে ছিলাম বলেই হয়তো আমার নিজেকে বাঙালি কম মনে হয়। এখনও ফিলিংস্টা আছে। 

প্রশ্ন: আপনি প্রথম কখন লেখালেখিতে আসেন? 
উত্তর: ক্লাশ এইটে। এর পেছনে মজার ঘটনা আছে। আগেও বলেছি, আবার বলছি। আমাদের স্কুলে বেশ বড় লাইব্রেরি ছিল। একবার বড় বন্যায় সম্ভবত আশি সালে সব ডুবে যায়। লাইব্রেরির নিচের দুটো রেক ডুবে জলে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা স্কুলে শরণার্থী হয়েছিল। স্কুল খুললে আমরা তিনজনের ওপর দায়িত্ব পড়ে খারাপ বই বেছে ফেলে দেওয়ার। দুষ্ট বন্ধুদের পরামর্শে কিছু ভাল বইও ফেলে দিয়েছিলাম। তার পর আমি সব ভুলে গেছি। একদিন এক বন্ধু এসে আট-দশটা বই আমাকে দিয়ে গেল। এর বেশিরভাগ ছিল গোয়েন্দা গল্প। একটা বইয়ের নাম এখনও মনে আছে, ‘বোম্বেটে দ্বীপ’। বইগুলি পড়ে আমার লেখার আগ্রহ জন্মে। তখন কিছু লিখেওছিলাম, তবে যা হয় – এর আর অস্তিত্ব নেই। তবে সিরিয়াসলি লিখতে শুরু করি কলেজে সেকেন্ড ইয়ার থেকে, মানে নাইনটি – নাইনটিওয়ান থেকে।

প্রশ্ন:ছোটবেলার বেড়া ওঠা গ্রামের বিশেষ কোন স্মৃতি? 
উত্তর:স্মৃতির ঝাঁপি খুললে অনেক সময় লাগবে। আজ লীলামাসির একটা ঘটনা বলি। আমাদের ছেলেদের বড় দল। সব বাড়ি থেকে চুরি করে খেতে পারতাম, কিন্তু লীলামাসিদের বাড়িতে সম্ভব হত না। মাথায় বুদ্ধি এল, মাসিকে ভূতের ভয় দেখাব। ওদের পেয়ারা পেকেছে কিন্তু খেতে পারছি না। এক রাতে পাড়ায় কীর্তন, সবাই গেছে। লীলামাসি বাড়িতে একা। আমরা সবাই ভূত সেজে হানা দিলাম। গাছ থেকে পেয়ারা চুরির শুরু হল। শব্দ পেয়ে মাসি বেরিয়েই দেখে উঠোনে একদল ভূত নাচছে। মাসি ‘গ-গ-গ’ শব্দ করে দরজায় পড়ে অজ্ঞান। এ বার চুরি করব কী, মাসিকে জল-ফল দিয়ে জ্ঞান ফিরালাম। জ্ঞান ফিরলে মাসি চোখ বড় করে বলে, ভূত! আমি বলি, কোথায় ভূত, খেদিয়ে বিদেয় করেছি। আমরা আছি তুমি ভয় পেও না। ছিলাম ওবাড়িতেই, তবে পেয়ারা খুব একটা ছিল না।  

প্রশ্ন: আপনি তো কবিতা দিয়েই লেখায় আসেন। কাব্য সংকলনও আছে। কেন কবিতাকে বাদ দিলেন?
উত্তর: বাদ দেইনি তো। আমি কবিতা লিখি এখনও। তবে খুব কম। আসলে কবিতাযাপন আমার আর হয় না। 

প্রশ্ন: তার পর নাটকের জীবন।প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নৃপেন চক্রবর্তী ‘লংতরাই আমার ঘর’ উপন্যাসকে নাট্যরূপ দিলেন। পেলেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রুপ থিয়েটারের পক্ষে কালীপ্রসাদ চক্রবর্তী স্মৃতি পুরস্কার। তারপর নাটক থেকে সরে গেলেন? অঙ্কটা কোথায়?
উত্তর: হ্যাঁ নাটকে ছিলাম, আছি, থাকব। চার-পাঁচ বছর পর পুরোদমে নাটকে ফিরব। কলকাতার কুশীলব থেকে অনুরোধ এসেছিল, ‘লংতরাই আমার ঘর’ উপন্যাসকে নাট্যরূপ দেওয়ার। আমি রাজি হইনি প্রথম, কিন্তু ওনারা বার বার অনুরোধ করেন। কাজটা করার পর বুঝতে পারি, এই নাটক ওরা করতে পারবেন না। পরে ওঁরাও সেটাই জানিয়েছিলেন। ‘কালীপ্রসাদ চক্রবর্তী স্মৃতি পুরস্কার’ দিয়েছিল গ্রুপ থিয়েটার ‘অবয়ব’ নাটকের জন্য। নাটকের জন্য মঞ্চ এবং পরিবেশ দরকার। আমার নিজের হাতে তৈরি দল আছে, এখন করছি না বটে, তবে নাটক তো করবই। 

প্রশ্ন:নাট্যচর্চার পাশাপাশি আপনি গল্পে আবির্ভাব ঘটালেন? নাকি নাটক থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতেই গল্পে এলেন?
উত্তর:গল্প লেখার আগেই আমি উপন্যাস লিখতে শুরু করি। তার পর ছোটগল্প। আমার প্রথম গল্প ‘ফালতু’ ছেপেছিল ‘ভাষা’ সাহিত্যপত্রে। অনুকরণ অনুসরণ করেই শুরু। সে অর্থে গুরু ছিলেন না। আমি একলব্য হতে চাই, দলিত তো। পরে আমার নিজস্ব ঘরনা তৈরি হয়েছে। এখন কভিড নিয়ে গল্প লিখছি। সময়কে ধরে রাখার জন্যই এই কাজ। নাটক থেকে সরে যাবার প্রশ্নই ওঠে না। 

প্রশ্ন: 'পরাপর' গল্প সংকলনের জন্য পেলেন সলিলকৃষ্ণ দেববর্মণ স্মৃতি পুরস্কার ২০১৫ সালে। তার পর গল্প নিয়ে চলছে ক্রমাগত পরীক্ষা নিরীক্ষা। ত্রিপুরার গল্পবিশ্বে যাদের অবদান আছে তাদের মধ্যে তুলনামূলক একটি সমীক্ষা করতে বললে পর্যবেক্ষণটি কেমন হবে আলোকপাত করুন? 
উত্তর: তুলনামূলক আলোচনা কী করব! দুই জায়েন্ট কলকাতা এবং ঢাকার সঙ্গে তুলনা করে লাভ নেই। ওদের পরিসর অনেক বড়! এইটুকু বলব, আমাদের কথাসাহিত্য নিয়ে এখন কাজ হচ্ছে। শুধু ত্রিপুরায় নয়, আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গেও হচ্ছে। তবে সে অর্থে তুলনা না-করলেও আমি চাইব আমাদের নিজস্বতা তৈরি হোক। পাঠক যেন পড়ে বুঝতে পারে এটা ত্রিপুরার গল্প। সত্তর-আশির দশকে ভীষ্মদেব ভট্টাচার্য, বিমল চৌধুরী, বিমল সিংহরা আমাদের সাহিত্যকে উজ্জ্বল করেছেন। সেই ধারা ধরে রেখেছেন দেবব্রত দেব, কিশোররঞ্জন দে, মানস দেববর্মা-সহ আরও অনেকে। তার পরেও অনেকেই ভাল কাজ করেছেন এবং করছেন। আমাদের ছোটগল্প এখন যুবক, সামনে আরও ভাল জায়গায় যাবে বলেই আমার বিশ্বাস। আমাদের মতো বরাক উপত্যকাও গল্পে এগিয়েছে দারুণ ভাবে। আগামীতে পাঠক উত্তর-পূর্বের দিকে চোখ ফেরালে অবাক হওয়ার কিছু নেই। 

প্রশ্ন: আপনার গল্প দলিতদের কথা, যন্ত্রণা, বেড়ে ওঠার গল্প এসেছে। আবার দেশভাগ, ত্রিপুরার ভ্রাতৃঘাতী ক্ষতও। বিষদে বলুন।
উত্তর:আমি দলিত অংশের মানুষ এবং তাড়া খাওয়া রিফিউজি ঘরের সন্তান – এ সব ছাড়া কী লিখব। আমার বেঁচে থাকা এবং সংলগ্নতাই তো আসবে আমার সাহিত্যে। যা আমি নই, যা দেখিনি তা লিখব কেন? তবে সব কিছু তো শৈল্পিক পর্যায়ে যায় না, তার জন্য দরকার মুনশিয়ানা। আমি সেটা পেরেছি বলেই আমার গল্প পাশের বাড়ির বা নিজ বাড়ির গল্প হলেও পাঠক পড়ছেন। দাঙ্গা নিয়ে এ বার উপন্যাস লিখেছি। 

প্রশ্ন: আপনি উপন্যাসে বিশেষ করে কথাসাহিত্যের উল্লেখযোগ্য জায়গায় চলে এলেন।এই হয়ে ওঠা কী ভেতর থেকে তাগিদ অনুভব করে? না লেখক হিসেব একজন গল্পকারকে পরীক্ষা নিরীক্ষার পাশাপাশি উপন্যাসেও হাত রপ্ত করা প্রয়োজন?
উত্তর:ঔপন্যাসিক হতে গেলে গল্প আগে লিখতে হয়, এমন থিওরি আমার জানা নেই। অনেকে বলেন বটে, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি না এবং আমার ক্ষেত্রে তা হয়নি। আগেই বলেছি, আমি প্রথম উপন্যাস লিখি, তার পর গল্প। আমি সর্বত্র ছুটেছি রিলিফ পেতে। এখন মনে হয় সেটা পেয়েছি। উপন্যাস নিয়ে ডুবে থাকতেই ভাল লাগে। তাগিদ অনেক আগেই অনুভব করেছিলাম। যখন ‘ওরা বিদেশি, ওদের তাড়িয়ে দাও’ কেউ কেউ বলে, তখন অভিমান হত। কে দেশি কে বিদেশি – ইতিহাস না-জেনেই অনেকে বলে। ওদের ইতিহাস জানাতেই ‘বুনোগাঙের চর’ লেখা। যারা আমাদের বিদেশি বলে তারাও কি ভূমিপুত্র? কে কোত্থেকে এসেছে আমি জানি।

প্রশ্ন: আপনার উপন্যাসগুলোর নাম বলুন।
উত্তর: বুনোগাঙের চর, ইতরবিম্ব, উজানভাটি, জন্মবদল, চাঁদ-চকোরী, চাকমাদুহিতা, লালামাটির শিকারি। অপ্রকাশিত উপন্যাসের নাম এখানে দিলাম না। 

প্রশ্ন: যাত্রাপথের নানাক বাঁক ত্রিপুরার সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে স্বাক্ষর রাখছেন আপনি। এই পথের স্বাক্ষরগুলোতে আপনি কিসে সাবলীল? 
উত্তর: আমি বাঁক চিহ্নিত করছি মাত্র। আমাদের সাহিত্যে যা উপেক্ষিত ছিল তাকে সবার সামনে উপস্থাপন করছি। এ সব বিষয় সাহিত্য হতে পারে সেটাই অনেকে ভাবতে পারেননি, বা গুরুত্ব দেননি। নাট্যকাররা দিয়েছেন, যেমন ‘দেবো না তিতুন’ বা ‘ধর্মগোলা’-র মতো নাটক ত্রিপুরায় হয়েছে। কিন্তু উপন্যাস আপনি খুঁজে পাবেন না। আমি গর্ত খুঁড়ে বের করছি না, সাদা চোখে যা দেখা যায় তাই লিখছি। 
প্রশ্ন: ‘লালমাটির শিকারি' উপন্যাসের বিষয়ে আপনার বক্তব্য শুনবো।
উত্তর: ত্রিপুরার জনজাতি জীবনের বৈচিত্র্য ধরা আছে উপন্যাসে। পাহাড়ের ভিন্নভিন্ন সুর, ভিন্নভিন্ন পথের অনুসারীদের দেখা মেলে। একমাত্র বনতুলা নামক অশীতিপর শিকারির জীবনে কোনও নতুনত্ব নেই। পাহাড়ের চিরায়ত সংস্কার তার মজ্জায়। মানুষকে ভালবেসে কী করে উজাড় করে দিতে হয়, এই বৃদ্ধকে না-পড়লে বোঝা যায় না। পাহাড়ের অন্তরের অন্তঃস্তল থেকে ওঠা বেদনার কাহিনি। আছে ত্রিপুরীদের শিকারের দারুণ সব বর্ণনা। পাহাড়ি-বাঙালির সম্পর্কের টানাপোড়েন, যা নিয়ে বেঁচে আছি আমরা। 

প্রশ্ন: ত্রিপুরার সাম্প্রতিক ছোটগল্প সম্পাদনা করে আপনার কেমন লাগছিল। সংকলনের গল্পগুলো কি সময় উৎরাতে পারবে?
উত্তর:সম্পাদনা খুব কঠিন কাজ। আমার ভাল লাগে না। স্রোত প্রকাশনার অনুরোধে কাজটা করতে হয়েছে। বেশ কিছু ভাল গল্প সংকলিত হয়েছে এই গ্রন্থে। পাঠকের ভাল লাগবে বলেই মনে হয়। 

প্রশ্ন: তরুণদের নিয়ে আপনি আশাবাদী নিশ্চয়ই। কিন্তু পিঠ চাপড়ানোর একটা রেওয়াজ চলছে। এতে সাহিত্যের লাভক্ষতি কি তেমন হচ্ছে? 
উত্তর: তরুণরাই তো পথ দেখাবে। পিঠ চাপাড়ানো তো থাকবেই। এক পাঠক তার বন্ধুর গ্রন্থ কত অসামান্য সৃষ্টি তার বর্ণনা দিচ্ছেন সোশাল মিডিয়ায়। এখন কথা হল, যিনি এই বর্ণনা করছেন তার যোগ্যতা কতটুকু? তিনি কোনও গ্রন্থের আলোচনা করার মতো যথেষ্ট যোগ্য কি না সেই মাপ জানতে হবে।এই অসভ্যতাটা থাকবেই। এ সব নিয়েই চলতে হবে। আমি যেমন কবিতা নিয়ে ভাল- খারাপ বলি না। ভাল লাগার কথা বলি বটে, কিন্তু আগে আর কিছু বলি না। 

প্রশ্ন: প্রায় সকল প্রকাশক লেখক যখন পাঠক শূন্যতা টের পান, তখন কেউ কেউ একেকটি মেলায় কোনও কোনও বইয়ের দ্বিতীয়-তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশ হওয়ার বিজ্ঞাপন দেন।এটা তা হলে পাঠকশূন্যতা নয়? নাকি অন্য কোন জাদুবলে একজন লেখক পাঠকপ্রিয় হয়ে ওঠেন? কিংবা একজন প্রকাশক পাঠকের চাহিদা সত্যি সত্যি অগ্রিম ধরে নিতে পারেন?
উত্তর:বই প্রোডাক্ট হলে এর বিপণন নিয়ে প্রকাশককে ভাবতেই হবে। কোনও গ্রন্থ পাঠকপ্রিয়তা পেতে হলে লেখক এবং প্রকাশক উভয়কে ভাবতে হবে। প্রকাশকরা কিছুটা অগ্রিম ভাবেন। একজন প্রকাশক লেখক বিমল চক্রবর্তীকে একটা কাজ দিয়েছেন আজ চার বছর হল। আমি জানি বলেই কথাটা বললাম। আমার সঙ্গে যারা কাজ করেন তাঁরা অগ্রিমই বলেন। কোনও কোনও বইয়ের ভাল বিক্রি হয়। কেন হয় সেটা বলা মুশকিল। আমার একটা উপন্যাসও খুব বিক্রি হয়েছে। কেন হয় সেটা বুঝতে হবে।  

প্রশ্ন:আবহমান বাংলাসাহিত্যে আপনার জনপ্রিয়তা আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে। ‘চাকমা দুহিতা’ বাংলাদেশের চট্টগ্রামে শুনেছি ৪০০ কপি বিক্রি হয়েছে। আগরতলা বইমেলায়ও রেকর্ড বিক্রি। জাদুকাঠি কোথায় নিহিত?
উত্তর: হতে পারে, বেশিও হতে পারে। কবি মৃত্তিকা চাকমা লিখলেন, দাদা, তাড়াতাড়ি বই পাঠান, না হলে আমি মার খাবো। শুধু আগরতলা, চট্টগ্রাম নয় – বইটির বিক্রি কলকাতায়ও হয়েছে।জাদুকাঠি কোথায় আমিও জানি না। তবে ধূসর ট্রিলজিও আগরতলা ভাল বিক্রি হয়েছে। এতটা আমিও আশা করিনি।

প্রশ্ন: ত্রিপুরায় এখন উপন্যাস লেখার হুড়াহুড়ি শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে আপনার অবদান প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভাবে আছে বইকী। আপনি কী মনে করেন?
উত্তর: যা দেখছি তাতে আমার অবদান না-থাকলেই সুবিধে। দয়া করে আরও খেটে লিখুন, আরও সময় নিয়ে লিখুন। কাহিনি লেখা আর উপন্যাস লেখা এক নয়। আর কত বলব! বের হোক আরও আরও সার্থক উপন্যাস, তা হলে আমি খুশি হব। আমার অবদান পরোক্ষে যদি কিছু থাকে তা হলে তো ভালোই।

২১:০৫:২০২১

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ