চান্দের কপাল:অমলকান্তি চন্দ
শেষ বয়সে ঠাম্মা বোবা হয়ে গেলেন
আপনজন কেউ বোবা হয়ে গেলে,কিছুটা
অঙ্গভঙ্গির সাহারা নেন সকলে
এই ধরুণ স্নানের বেলা গড়িয়ে যাচ্ছে
পাত পাতা আছে,খানিকটা নুন চাই তাঁর…
একদিন ঠাম্মার শরীরটা খুব খরাপ করেছে
উনি কিছু বলতে পারছেন না
শুধু শব্দ করছেন, হাভাতে মুখে, শব্দগুলো
উড়ছে, মেঘের ভেতর বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, চোখের
ভেতর
ঠাম্মা কাঁপছেন...
এবয়সেতো ভয় পেলে চলে না
হাড়ের জোড়ায় বাত রোগটা কেমন জাঁকিয়ে
বসেছে,চোখে ছানি পড়ছে
দিনটা কেমন ঝাপসা লাগছে ঠিক রাতের মতো,
দাদু কবেই মারা গেছেন, কতদিন চাঁদের টিপ পরা
হয় না কপালে
কপাল প্রশস্ত হচ্ছে,ঠাম্মা বলেন চান্দের কপাল..
ঠাম্মা কিছু ভাবছেন
যদি বলি মৃত্যুর কথা,সজাগ মগজে নানান
বাকবিতণ্ডার কথা,জীবনে ফেলে আসা কোনো
কালবৈশাখীর কথা,কোনো তুমুল সংঘর্ষের কথা
না না সবকিছু আমার আন্দাজে বলা…
আন্দাজ করে সবকিছু কি বলা যায় ?
চড়ুই সংসারের ভেতরের কথা কিংবা ঘাটবাঁধা
পুকুরের জলে মাছেদের বিচরণ ক্ষেত্র,তার
দৈর্ঘ্য,তার প্রস্থ
কেমন গতিতে ছুটছে তারা..
ঠাম্মা বলতেন যায় দিন ভালা যায়
তিনি অপেক্ষা করেন
কিছুটা উত্তাপের জন্য,কাঠ কুড়োন সকলে
কিছুটা ভ্রমের জন্য অনুশোচনা করেন সকলে
কিছুটা লোভের জন্য চুরি করেন সকলে
কিছুটা ভালোবাসার জন্য জীবন বিলিয়ে দেন
সকলে
এই যে প্রচ্ছন্ন লালসার ভেতর দাঁড়িয়ে, চলছিল
কাষ্ঠযজ্ঞ
আবির আলপনায় নির্ধারিত গণ্ডির ভেতর
দুর্বা বির্সজন,খানিকটা মধু
আম্রমুকুল আর সবরির গায়ে কালসিটে দাগ
দীর্ঘ ছায়াপথ পেরিয়ে গেলে
মনে পড়ে সব….
পান চিবোচ্ছিলেন ঠাম্মা
সোনালী খয়েরের গায়ে ধানপাকা রোদ
রোদের ভেতর আগুন
দাঁত বার করে হাসেন, এতদিন আমরা হাসি গিলে
খেতাম
ভাত গিলে খেতাম
চুমো গিলে খেতাম
ঠাম্মাকে গিলে খাব বলে,কাল থেকে উপবাস..
উপবাস করলে ব্রত হয়
শব্দের সিঁড়ি বেয়ে পাঁচালির কাছে
গুপ্ত মন্ত্রের কথা,শিরিষের সুরেলা শিসে
খাঁচায় বন্দী যে পাখিটি উড়ে যেতে চায়
পিতার কাছে
ঠাম্মা অপেক্ষা করেন,নিজেকে সামলে রাখেন
অতি আঙ্খকা থেকে….
0 মন্তব্যসমূহ