♥#ব্যাকরণের_বিন্দুবিসর্গ♥
(২৬)♦যুক্তবর্ণের দুষ্টামি♦মানবর্দ্ধন পাল
কয়েকটি যুক্তবর্ণ দুষ্টের সেরা সহজে যায় না চেনা থাকে বাঁকাত্যাড়া
খুব পাজি কিম্ভুত চেহারা তাদের
উচ্চারণ অস্বাভাবিক, ঘটে হেরফের।
---- বেশ-কয়েকটি দুষ্টু যুক্তবর্ণ আছে। মুখোশ পরে থাকে। চেহারা পাল্টে ফেলে। রং মেখে সঙ সাজে-- নকল গোঁফ-দাড়ি লাগায়। এর ভেতরে কোন্-কোন্ বর্ণ মুখ লুকিয়ে আছে তা সহজে চেনা যায় না। আমাদের চোখকে ফাঁকি দেয়-- দৃষ্টিশক্তির সঙ্গে প্রতারণা করে। এই যুক্তবর্ণগুলো, বলা যায় পাজি-- একেবারে পাজির পা-ঝাড়া! এদের দুষ্টামির ক্রিয়াকাণ্ডগুলো একটু জেনে নেওয়া দরকার।
একথা বলে দাদুভাই আজ শুরু করলেন ব্যাকরণের বৈঠকখানা।
---- দাদুভাই, তুমি কি গত আসরের অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণের কথা বলছ?
ঐশীর কৌতূহলী জিজ্ঞাসা।
---- একদম ঠিক ধরেছ তুমি। এই যুক্তবর্ণগুলো আমাদের দৃষ্টিভ্রম করে-- দিশেহারা করে ফেলে। চাঁদনী রাতে পথে দড়ি পড়ে থাকলে হঠাৎ আমাদের কাছে যেমন সাপ বলে মনে হয়, তেমনই ভুল দেখি! এমন ভুল শুধু দেখাতে নয় উচ্চারণেও হয়। আজ এসম্পর্কেই ছিটেফোঁটা গল্পগুজব করব।
---- আমাদের স্কুলেও দেখেছি বাংলা ক্লাসে সুধীরস্যার কোনও গদ্য বা পদ্য পড়তে বললে কতজন আটকে যায়, তোতলায় কিংবা ভুলভাল পড়ে তার ইয়ত্তা নেই! -- একথা বলে হিয়া ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাল। এরপর দাদুভাই বলতে শুরু করলেন।
---- স্বচ্ছ যুক্তবর্ণগুলো সবাই আমরা সহজেই চিনি। ঝামেলা বাঁধায় অর্ধস্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ। সেগুলোকেই আমরা দুষ্টু ও পাজি বলেছি। চেহারা পরিবর্তন করে, উচ্চারণ পাল্টিয়ে এরা প্রতারণা এবং জালিয়াতিও করে। তাই সেগুলোই বুঝে নেওয়া দরকার।
★ ক্+ক = ক্ক
এই যুক্তবর্ণের নাম ক-য়ে ক। দুবার উচ্চারণ করতে হয়। যেমন : মক্কা (মক্ কা), ধাক্কা (ধাক্ কা), চিক্কণ (চিক্ কন)।
★ ক্+ব-ফলা = ক্ব
এই যুক্তবর্ণটির উচ্চারণ ক্ক-য়ের মতই। অর্থাৎ এখানেও ক দুবার উচ্চারিত হবে। আমরা ব্যঞ্জনবর্ণের গল্প করার সময় দুটি ব-য়ের কথা বলেছি। একটি বর্গীয় ব-- এটি বর্ণমালায় আছে। আরেকটি অন্তস্থ ব। এটি বর্ণমালায় নেই কিন্তু বানানে আছে। বর্গীয় ব এবং অন্তস্থ ব দুটোই অন্য ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
যুক্তবর্ণে এদুটোর চেহারা একইরকম।
---- তাহলে কোন্ ব যুক্ত হল তা চিনব কেমন করে? -- ঐশীর যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন।
---- এটি চেনা তেমন কঠিন নয়। বিদেশিদের বোঝানো শক্ত হলেও আমরা যারা বাংলাভাষী বাঙালি তারা সহজেই দুটি ব-য়ের পার্থক্য চিনে নিতে পারি। সহজ কথায়-- যুক্তবর্ণে ব-ফলা থাকলে তা যদি স্বাধীনভাবে উচ্চারিত হয় তবে বুঝতে হবে তা বর্গীয় ব যুক্ত আছে। যেমন : ডিম্ব (ডিম্ বো), কম্বল (কম্ বোল্), উদ্বেল (উৎবেল্), উদ্বেগ (উদ্ বেগ্), উদ্বৃত্ত (উদ্ ব্রিৎতো) ইত্যাদি।
কিন্তু যুক্তবর্ণে ব-ফলা যদি স্বাধীনভাবে উচ্চারিত না-হয়ে সঙ্গী বর্ণটিকে দুই বার উচ্চারণ করায় তবে বুঝতে হবে তা অন্তস্থ ব। অর্থাৎ অন্তস্থ ব নিজে উচ্চারিত হয় না কিন্তু বন্ধু-বর্ণটি দ্বিত্ব হয়। অর্থাৎ অক্সিজেনের মত-- নিজে জ্বলে না কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে। যেমন : অশ্ব (অশ্ শো), বিশ্ব (বিশ্ শো), বিশ্বাস (বিশ্ শাশ্), বিদ্বান (বিদ্ দান্), বিদ্বেষ (বিদ্ দেশ্)। কিন্তু এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, শব্দের শুরুতে ব-ফলা যুক্ত থাকলে তা উচ্চারিত হয় না। যেমন : দ্বেষ (দেশ্), দ্বিতীয় (দিতিয়ো), দ্বিত্ব (দিত্ তো)। আরও একটি কথা মনে রাখতে হবে। অন্তস্থ ব অল্পপ্রাণ ধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হলে তা দ্বিত্ব হয়। যেমন : পক্ব (পক্ কো), নিক্বণ (নিক্ কন্)। কিন্তু মহাপ্রাণ ধ্বনির সঙ্গে অন্তস্থ ব যুক্ত হলে প্রথম সেই ধ্বনির অল্পপ্রাণ পরে মহাপ্রাণ ধ্বনির উচ্চারণ হবে। যেমন : বিধ্বস্ত (বিদ্ ধস্ তো), উলুধ্বনি (উলুদ্ ধোনি)। দেখা গেল যে, মহাপ্রাণ ধ্বনি ধ-এর সঙ্গে অন্তস্থ ব যুক্ত থাকায় উচ্চারণ অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ (দ্ ধ) হয়েছে।
★ ক+ষ = ক্ষ
এই যুক্তবর্ণটির উচ্চারণ মূলত ছিল ক্ ষ। সংস্কৃত ও হিন্দি ভাষায় এখনও এই উচ্চারণ বজায় আছে-- শিক্ ষক্ (শিক্ষক), অক্ ষয় (অক্ষয়)। কিন্তু বাংলায় এই যুক্তবর্ণকে বলে-- খিয়ো। শব্দের শুরুতে থাকলে এর উচ্চারণ খ-- ক্ষয় (খয়্), ক্ষতি (খোতি), ক্ষণ (খ্ন)। কিন্তু শব্দের মাঝে ক্ষ থাকলে এর উচ্চারণ কখ-- অক্ষর (অক্ খর্), রক্ষা (রোক্ খা), রাক্ষস (রাক্ খস্)।
★ হ্+ম = হ্ম
এই যুক্তবর্ণটির নাম হ-য়ে ম। এর আকৃতি অনেকটা ক্ষ (খিয়ো)-এর মত। এদুটো যুক্তবর্ণের চেহারায় খুব মিল বলে অনেকেই গুলিয়ে ফেলে। তাই বহুজন 'ব্রাহ্মণবাড়িয়া' লিখতে 'ব্রাক্ষণবাড়িয়া' (ব্রাক্ খোন্ বাড়িয়া) লেখেন। এর উচ্চারণও বেশ অভিনব ও মজাদার! বর্ণগুলো ধারাবাহিকভাবে উচ্চারণ করলে বলতে হয় ব্রাহ্ মোন্ বাড়িয়া। কিন্তু তা নয়। এর শুদ্ধ উচ্চারণ 'ব্রাম্ হোন্ বাড়িয়া'। এর মানে হ ও ম বর্ণবিপর্যের মাধ্যমে উল্টে যায়-- আগে ম পরে হ উচ্চারিত হয়। যুক্তবর্ণ অনেকেই টিকমত চিনে না বলে অনেক মজার ঘটনা ঘটে।
ধর্মক্লাসে এক ছাত্রকে শিক্ষক জিজ্ঞেস করলেন-- অগ্নিদেবতার নাম কী? ছাত্রের জবাব-- ব্রহ্মা। শিক্ষক আবার প্রশ্ন করলেন-- বানান কর। ছাত্রের উত্তর-- লিখে দিই স্যার!
আরেকটি ঘটনা--
ট্রেনভ্রমণের সময় পাশে বসে-থাকা এক তরুণের সঙ্গে পরিচয়ের পর এক ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন-- তোমার বাড়ি কোথায়? তরুণ বলল-- ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ভদ্রলোক আবার বললেন-- বানানটা কী? তরুণের উত্তর-- আমরা এখন ঢাকায় থাকি।
এরকম হ্ল (হ+ল)-এর ক্ষেত্রেও হয়। এর নাম হ-য়ে ল। যেমন : আহ্লাদ (আহ্ লাদ্ নয়, আল্ হাদ্), প্রহ্লাদ (প্রহ্ লাদ নয়, প্রল্ হাদ্)। উচ্চারণে যুক্তবর্ণ উল্টে যায়।
★ হ+ব = হ্ব
এই যুক্তবর্ণটির নাম হ-য়ে ব। এর উচ্চারণ বিচিত্র। যেমন : আহ্বান, বিহ্বল। এ শব্দ দুটির মূল উচ্চারণ-- আহ্ওয়ান্ ও বিহ্ওয়ল্। বাংলায় কেউ এর উচ্চারণ করেন-- আহবান, আব্- ভান্, আহব্বান এবং বিব্বল, বিহব্বল। কিন্তু বাংলায় এর সঠিক উচ্চারণ-- আওভান্ ও বিউভল্।
★ ম বর্ণটি বিভিন্ন বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করে।
* ক+ম = ক্ম।
এই যুক্তবর্ণটির নাম ক-য়ে ম। সংস্কৃত ও হিন্দি ভাষায় এর উচ্চারণ ঠিকঠাক থাকে-- রুক্মিণী (রুক্ মিনি)। কিন্তু বাংলায় ক্ম হয়ে যায়-- ক্ক বা ক্কঁ। তাই রুক্মিণী হয় রুক্কিনি বা রুক্কিঁনি। বানানে নাসিক্যধ্বনি 'ম' থাকায় উচ্চারণ নাকী হয় তাই চন্দ্রবিন্দু (ঁ) থাকছে।
* ত+ম = ত্ম।
এই যুক্তবর্ণটির নাম ত-য়ে ম। এটির আদি উচ্চারণে 'ম' সুস্পষ্ট। সংস্কৃত ও হিন্দি ভাষায় এখনও তা বজায় আছে-- আত্মা (আৎমা), মহাত্মা (মহাৎমা)। কিন্তু বাংলায় উচ্চারণ আলাদা-- আত্তাঁ, মহাত্তাঁ। নাকী উচ্চারণের জন্য ম-য়ের বদলে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) থাকছে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, ত্ম-য়ের সঙ্গে 'ত্ন' (ত+ন) যেন গুলিয়ে না-যায়। 'রত্ন ও যত্ন'-এর যুক্তবর্ণের শব্দের সঙ্গে 'আত্ম' শব্দের যুক্তবর্ণের চেহারায় কিছুটা মিল থাকলেও তারা কিন্তু আত্মীয় নয়।
* শ ষ স-- তিনটি শ-য়ের সঙ্গে ম মিলেও যুক্তবর্ণ হতে পারে। যেমন : শ+ম = শ্ম, ষ+ম = ষ্ম, স+ম = স্ম। বাংলায় এই যুক্তবর্ণগুলো 'শঁ' উচ্চারণ হয়। যেমন : শ্মশান (শঁশান), ভস্ম (ভশ্ঁশো), অকস্মাৎ (অকশ্ঁশাৎ)। এখানেও 'ম' অনুচ্চারিত থাকে বলে নাকী উচ্চারণে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) হয়। ঠিক এই রকম পদ্ম (দ+ম)। এর উচ্চারণ পোদ্ দোঁ। কিন্তু 'পদ্য' (দ+য) উচ্চারণ নাকী নয়-- পোদ্ দো।
য-ফলার (্য) উচ্চারণেও একটু ঝামেলা আছে। সহজ করে বললে, শব্দের সামনের বর্ণে য-ফলা থাকলে সাধারণত 'এ' উচ্চারিত হয়-- ব্যয় (বেয়্), ব্যক্তি (বেক্ তি)। মাঝে থাকলে য-ফলা যে-বর্ণের সঙ্গে থাকে তা দ্বিত্ব, মানে দুবার উচ্চারিত হয়-- বাক্য (বাক্ কো), অব্যয় (অব্ বয়)।
এবার কয়েকটি যুক্তবর্ণ ও তার উচ্চারণ দেখাই, যা অনেকের অচেনা বা অল্প চেনা এবং সাধারণত ভুল হয়।
* জ+ঞ = জ্ঞ। এর উচ্চারণ গ্ গ্যঁ বা গ্যঁ-- অজ্ঞ, বিজ্ঞ, জ্ঞান, বিজ্ঞান।
* ঞ+জ = ঞ্জ। এর উচ্চারণ ন্ জ-- অঞ্জন, রঞ্জিত।
* ঞ+ঝ = ঞ্ঝ। উচ্চারণ ন্ ঝ-- ঝঞ্ঝা, ঝঞ্ঝাট।
* ঞ+চ = ঞ্চ। উচ্চারণ ন্ চ-- অঞ্চল, চঞ্চল।
* ঞ+ছ = ঞ্ছ। উচ্চারণ ন্ ছ-- লাঞ্ছনা, বাঞ্ছনীয়।
* ট+ট = ট্ট। উচ্চারণ দ্বিত্ব-- কুট্টাপাড়া, টাট্টুঘোড়া, চট্টগ্রাম। এই যুক্তবর্ণটি অনেকে চেনে না বলে সর্বত্র ট-য়ে র-ফলা দেয়। ফলে চট্টগ্রাম হয়ে যায় 'চট্রগ্রাম'।
* ট+র = ট্র। উচ্চারণ tro । ট্রাক, ট্রেন,
ট্রাম।
* ষ+ণ = ষ্ণ। উচ্চারণ ষ্ ণ-- বিষ্ণু, কৃষ্ণ, তৃষ্ণা। এই যুক্তবর্ণটি বড় প্রতারক। চেহারা দেখলে মনে হয় ঞ স্বরবর্ণের বেহালাব্যাগটি সে পিঠে ঝুলিয়ে রেখেছে। এজন্য আমরা ভুল করে অনেকেই বলি এটা মূর্ধন্য-ষ-এর সঙ্গে ঞ সংযুক্ত। এরকম আরও আছে।
* ত+র = ত্র। স্বরবর্ণ এ-এর ওপর মাত্রা দিলেই হয়-- পত্র, ত্রাণ, মিত্র। ত+র+উ = ত্রু। যেন ত-য়ে র-ফলার মধ্যে শিং গজিয়েছে-- ওপর দিকে বাঁকানো-- শত্রু, ত্রুটি। অন্য যুক্তবর্ণে এই শিং নিচের দিকে বাঁকানো থাকে। যেমন : ক+র = ক্র-- বক্র, শুক্র, ক্রয়।
* স্বরবর্ণ ও-এর মত যুক্তবর্ণও আছে।
ও-এর ওপর মাত্রা দিলেই হয় ত+ত= ত্ত-- মত্ত, বিত্ত, চিত্ত। আবার ত্ত-এর মধ্যে নিচের দিকে বাঁকানো শিং গজালে হয়ে যায় ক+ত = ক্ত-- শক্ত, ভক্ত, সিক্ত। এই যুক্তবর্ণগুলো দুষ্টের শিরোমনি লঙ্কার রাজা। এদের চেনা মুশকিল-- বোঝা দায়। কোনটা মুখ আর কোনটা মুখোশ তা নির্ণয় করা বেশ ঝামেলা। বিশেষত ছোটদের ও নবীন ভাষা-শিক্ষার্থীদের প্রতারণা ও জালিয়াতি করতে এরা ওস্তাদ!
ভুল বানান যেমন দোষের তেমনই ভুল উচ্চারণও দোষ। তা অনেক সময় শুধু হাস্যকর নয়-- অপমানজনকও হয়ে দাঁড়ায়। এসম্পর্কে আমার একটি গল্প মনে পড়েছে। তাই আজ তোমাদের একটি মজার গল্প বলে আসর শেষ করব।
গল্পের কথা শুনে সবাই গা-ঝাড়া দিয়ে যুৎ করে বসল।
মহাকবি কালিদাসের নাম নিশ্চয়ই তোমরা শুনেছ। তিনি নাকি প্রথম জীবনে খুব বোকা ছিলেন। সুন্দরী রাজকন্যার সঙ্গে বিয়ে হল ভ্যাবলা কালিদাসের। একদিন দুজনে বসে আছেন। বাইরে কী যেন ডেকে উঠল।
নববধূ জানতে চাইল-- কো রৌতি? মানে কী ডাকছে?
কালিদাস বললেন-- উষ্টঃ। মানে উট।
(র-ফলা বাদ দিয়ে বলেছেন)।
রাজকন্যা অবাক হয়ে বলল-- কিমিতি, কিমিতি। অর্থাৎ কী বললে, কী বললে?
কালিদাস সংশোধন করে স্ত্রীকে উত্তর দিলেন-- উট্রঃ। (এবার র-ফলা যোগ হলেও বাদ গেল ষ)।
অবশেষে ক্ষুব্ধ হয়ে নববধূ সংস্কৃত ভাষায় যা বলল তার অর্থ :
-- হায়রে কপাল, 'উষ্ট্রঃ' বলতে যে একবার র বাদ দেয় আরেকবার ষ বাদ দেয় তার হাতেই পড়ল আমার মত শিক্ষিত-সুন্দরী!
এ-গল্পের কাহিনি নয়; সারকথাটিই আমরা গ্রহণ করব। ঠিকমত উচ্চারণ আমাদের করতেই হবে। দ্রুত কথা বললেও যাতে বর্ণ ছুটে না-যায় বা কথা অস্পষ্ট না-হয়-- সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য দেহের ব্যায়ামের মত মুখেরও ব্যায়াম আছে। তাই শিশুকালে খেলার ছলে না-জেনেই আমরা মুখের ব্যায়াম করেছি। তোমরা এখনও তা কর। বন্ধু ও খেলার সাথিদের সঙ্গে দ্রুত উচ্চারণের প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে বারবার বল : "কাঁচা গাব পাকা গাব", "পাখি পাকা পেঁপে খায়" এবং "জলে চুন তাজা, তেলে চুল তাজা।
একথা শুনে সবাই হাসতে-হাসতে, বলতে-বলতে বাসায় ফিরল।
0 মন্তব্যসমূহ