প্রতিদিন বাংলাভাষা. স্রোত
পরিচয়হীনতা
নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর
আমাকে সে আমার মায়ের নাম জিজ্ঞেস করলে
আমি নিশ্চুপ থাকলাম;
আমার পিতার নাম জানতে চাইলে আমি জবাব দিতে পারলাম না;
তখন সে আমাকে বলল, পরিচয়হীন কাউকে আমি ভালোবাসি না।
আমার মনে পড়ল, আমার মায়ের নাম আমি জানতাম না
আমার পিতা তার নাম ধরে কখনো ডাকে নি;
আমাকে পিতার নাম বলতে হতো যখন
শৈশবের দিনগুলোতে কেউ কেউ জিজ্ঞেস করত, আমি কার পোলা?
মনে পড়ে, আমার স্কুল সনদেও পিতার নাম লেখা ছিল;
গ্রাম ছেড়ে আসার পর পাশ দেয়া অবধি পিতার নাম লেখা প্রেরকের মানি অর্ডারের জন্য আমাকে প্রতীক্ষা করে থাকতে হতো।
পাশ করার পর আমি পিতার নাম বলা থেকে নিস্তার পাই;
আমার নিজের পরিচয়েই আমি মহাদেশ পাড়ি দিতে পারি;
আমাকে তখন থেকে বিশ্ববাসীও চিনতে শুরু করে
আমি তার পর বিশ্ব নাগরিক হয়ে যাই।
যা চেয়েছি সবই অর্জন করেছি আমি অনায়াসে
আমি খুব মেধাবী ছিলাম সকলেই জানেন;
শৈশবে যা যা মুখস্থ করেছিলাম আজও সব মনে আছে;
কেবল পিতার নামটাই আজ শত চেষ্টাতেও মনে করতে পারছি না;
আর মায়ের নাম তো কখনো জানার ইচ্ছাও হয় নি।
0 মন্তব্যসমূহ