প্রতিদিন বাংলাভাষা.স্রোত /ত্রিপুরার কয়েকটি কবিতা সংকলনের আলোচনা সংখ্যা /১৭:১২:২০২০



ত্রিপুরার কয়েকটি কবিতা সংকলন 


ত্রিপুরার কবি --- ২

'' পাথর নও নারী : আত্মদহনের স্বরলিপি '

আলোচনা: রঞ্জম রায়

কবি : সুতপা রায় 
প্রকাশক : স্রোত ,উনকোটি ,ত্রিপুরা 
প্রকাশকাল : সেপ্টেম্বর ,২০১৮
প্রচ্ছদ শিল্পী : শুভদীপ সেনশর্মা 
বিনিময় : ৪০ টাকা ।
..........................................................................

ত্রিপুরা রাজ্যের বাংলা কবিতা চর্চার ইতিহাসে মেয়েদের লেখালেখির কালপর্বটি একেবারেই অর্বাচীন নয় ।মহারাজা বীরচন্দ্র মানিক্যের প্রথমা কন্যা অনঙ্গমোহিনী দেবী ,যাঁর জন্ম ১৮৬৪ সালে ।তিনি 'কণিকা' , 'শোকগাথা ' এবং ' প্রীতি' শীর্ষক তিনটি কাব্য লিখেছিলেন ।( তথ্যঋণ : ত্রিপুরার বাংলা কবিতায় মহিলা কবিদের পদচারণা , চিরশ্রী দেবনাথ ) সেদিক থেকে গত শতক জুড়ে বাংলা কবিতায় ত্রিপুরার 'মহিলা কবি'রা তাঁদের সৃজনপ্রতিভার যে স্বাক্ষর রেখেছেন ,বর্তমান দশকের দুই দশক ব্যাপীও সেইধারা সমানভাবে বহমান ।সাম্প্রতিক বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে ত্রিপুরার উল্লেখযোগ্য মহিলা কবি হিসেবে যাঁদের নাম করতে হয় ,তাঁদের মধ্যে সুনীতি দেবনাথ ,মণিকা বড়ুয়া ,কাকলী গঙ্গোপাধ্যায় ,স্বাতী ইন্দু ,বিধাত্রী দাম ,শান্তশ্রী মজুমদার ,তন্দ্রা মজুমদার ,জয়া গোয়ালা ,শিউলি শর্মা ,সুস্মিতা চৌধুরী ,প্রীতি আচার্য ,পদ্মশ্রী মজুমদার ,মণিকা চক্রবর্তী ,সন্ধ্যা দেবনাথ ,তমা বর্মণ ,সুমিতা ধর বসুঠাকুর ,মৌসুমী মন্ডল দেবনাথ ,মধুমিতা নাথ ,পায়েল দেব ,মন্দিরা লস্কর ,রিয়া দেবী ,দেবাশ্রিতা চৌধুরী ,স্বপ্না নাথ ,অর্পিতা আচার্য ,কাকলী গুপ্ত ,সুমনা রায় ,রীতা শিব,সোনালী রায় বাগচী ,চন্দ্রিমা শিরকার ,সুমিতা বর্ধন ,চিরশ্রী দেবনাথ প্রমুখের সঙ্গে যাঁর কথা বলতে হয় তিনি হলেন কবি সুতপা রায় ।

বিগত শতকের নয়ের দশক থেকেই কবিতা চর্চার মধ্যদিয়ে ত্রিপুরার কবিতার জগতে নিজেকে পরিচিত করে তুলতে পেরেছেন সুতপা ।তাঁর প্রথম কাব্য ' দহনের দিনগুলি '(২০০৪) থেকেই তিনি নিজেকে চিনিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন । এবিষয়ে বইটির পরিচায়িকায় যথার্থই লেখা হয়েছিল ,
'....সময় যখন জ্বলছে এখানে -ওখানে এই কবির দহন তখন কবিতায় ।তাঁর দহনের আলোকে ভূ-ভারতের অন্তর-বাহিরের জাগ্রত কুরুক্ষেত্র প্রতীয়মান হয় ।গান্ধারী খুলে ফেলেন দৃষ্টির আবরণ ,চোখ মেলে দেখে ফেলেন -- আগুন নিজেই কেমন পুড়ছে ।'
সুতপার দ্বিতীয় কাব্য 'নদীর নাম বেহুলা '(২০১১)-তেও কবি নিজেকে চিনিয়ে দিয়েছেন ।আত্মপ্রচার বিমুখ এই কবির তৃতীয় কাব্য 'পাথর নও নারী ' (২০১৮) কাব্যের কবিতাগুলিতেও আমরা একজন সংবেদনশীল কবির আত্মদহন ও তাঁর কালের যাপিত জীবনের বিচিত্র অভিমুখ লক্ষ্য করি ।একদিকে রোমান্টিকতার সুরতরঙ্গ যেমন রয়েছে ,তেমনি একজন সমাজ সচেতন নারীর চোখে তাঁর সমকালের কঠোর-কঠিন বাস্তবতার বিচ্ছিন্ন কয়েকটি চিত্রের কোলাজ কবি অঙ্কন করেছেন । 

ত্রিপুরার রাজবংশের কাহিনী অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন তাঁর 'স্বপ্নলব্ধ উপন্যাস 'রাজর্ষি '(১৮৮৭)--যেটিকে পরে ' বিসর্জন ' নামে নাট্যরূপ দিয়েছিলেন ।সেখানে তিনি মন্দিরের মৃন্ময় প্রতিমাকে বিসর্জন দিয়েছিলেন রাজপুরোহিত রঘুপতির হাত দিয়ে । সুতপার কবিতাতেও সেই মৃন্ময় দেবতার অক্ষমতার কথা শোনা যায় আলোচ্য কাব্যের শীর্ষনাম কবিতায় ।কবি লিখেছেন ,
' মন্দিরে পাথরের দেবতাকে 
বলে কী লাভ 
মন খারাপের কথা 
কোনো সমর্পণে তীব্র বিশ্বাসটি 
আর নেই 
নিবেদনে পাথর আরো কঠিন হয়ে ওঠে ।'
সেজন্যে কবি দেবী নয় ,মানবীর কাছেই বলেছেন নিজের অন্তরের কথা ।এবং তার মধ্যদিয়েই ব্যক্ত হয়েছে কবির অন্তর্গত 'নারীসত্তা'টি ।প্রসঙ্গত তিনি বলেছেন ,
' ...তোমাকে বলি ,তাই 
ফিরে পাই কুসুমিত 
কোমল সৌরভ 
কালের ভগ্নাংশ হলেও 
নিজের মধ্যে একটি সত্তাকে 
আবিষ্কার করি 
তোমাকেই বলি তার কথা ।'
( পাথর নও নারী )

কাব্যের 'দুঃসময় 'নামের তিনটি কবিতা যেন কবি চেতনার ট্রিলজি ।ক্লেদাক্ত বাস্তবের পটভূমি থেকে নিজেকে এক ইউটোপিয়ায় উপনীত করেছেন ।পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী মাংসলোভী মানুষ নামক ক্লীবের প্রতি নিজের তীব্র ঘৃণা ও প্রতিবাদ ব্যক্ত হয়েছে 'দুঃসময় (১)' কবিতার শুরুতেই ,
' যে পথ দিয়ে হেঁটে যাই 
ক্লীবদেহগুলো হাঁটে পিছু পিছু 
ওরা বৃক্ষ লতা-গুল্ম নয় ,
যারা অবিরাম ছোঁড়ে তাদের 
শরীরের দুর্গন্ধ 
প্রতিটি প্রশ্বাসে ছিটিয়ে যায় 
বিষাক্ত জীবাণু ।'
এই দূষিত দৃশ্যের মুখোমুখি হতে হয় প্রায় প্রতিটি নারীকেই ।এসব জেনে বুঝেই নারীকে পথ চলতে হয় ।কবির কথাতেই রয়েছে সেই বার্তা ,
' শত প্রতিরোধে গড়ে তোলা 
কোনো শরীর 
এড়িয়ে যেতে পারে না এই দূষণ 
আমি হেঁটে যাই 
পিছু পিছু হাঁটে ক্লীবদেহগুলো 
যাদের কোনো যোগাযোগ নেই 
ফুল পাখি আর বাঁশীর সুরে ।'
এমন একটা দুঃসময়ে দাঁড়িয়ে কবি স্পষ্টতই বুঝেছেন 'একটুখানি শক্ত করতে হবে মুঠো '।সেইসঙ্গে তিনি স্বপ্ন দেখেছেন বিস্ফোরণের পরে 'নতুন ইতিহাস ' গড়ে উঠবে যাতে থাকবে 'মেঘমুক্ত আকাশ আর অকুণ্ঠ ভালোবাসা '।তবে কবি জানেন ,এই কথাগুলো বলা যত সহজ বাস্তবটা ততোটাই কঠিন ।তার দৃষ্টান্ত খুঁজতে অনেক দূরে যাবার প্রয়োজন নেই ।চেনাবৃত্তেই অজস্র জীবন নষ্ট হয়ে গেছে ।প্রসঙ্গত কবি লেখেন ,
' কতগুলো জীবন হারিয়ে গেল 
এরই মধ্যে 
কত অপমান বেনোজলের মতো 
ঢুকে পড়ল ঘরের ভেতর 

মাকে বুঝি আর বাঁচানো গেল না ।'
-দুঃসময় (২)
এতো শুধু ব্যক্তিকেন্দ্রিক ভাবনা নয় ,এরমধ্যে এক নৈর্ব্যক্তিকতার যন্ত্রণার সুর শোনা যায় ।এই দুঃসময়ে কবি তো জেগেই ছিলেন ।'চন্দন জলে করিয়েছি স্নান '।প্রহরে প্রহরে পুষ্প বিল্বপত্রে দিয়েছেন অঞ্জলি আর পরমাণ্ণ সাজিয়েছেন চরম সংযমে যা একেবারেই স্বভাবসিদ্ধ ।কিন্তু শেষপর্যন্ত কবি বুঝেছেন ,
' কোথায় বুদ্ধ ,কোথায় সত্য 
কোথায় শিব ,অথবা অনুভবী প্রাণ 
বটের তলায় পাথরের দেবতার থান ।'
-- দুঃসময় (৩) 

নিছক রোমান্টিকতা জাত নয় ,সংবেদনশীল কবি তাঁর নিজের মতো করেই চলতে চলতে 'একা ' হয়ে যান ।সেই একাকীত্ব কবি সুতপাকে 'গ্রাস ' করেছে নিয়ত ।ইউটোপিয়া -রূপ 'মায়ানগরী'তে উপনীত হয়ে কবি দেখেন ,বিছানায় গালে হাত একা শুয়ে থাকা মেয়েটির চোখ দুটো 'প্রেমের উপন্যাসে ' নেই ; বরং সে যেন ' জাল বিছানো চলমান পুঁথি সঙ্গে নিয়েই ভাসে '।কিম্বা একা 'কিশোরের রাতজাগা চোখ ল্যাপটপে খোঁজে চাঁদ '।ঠিক তখনি 'জোছনারা এসে বিষ ঢেলে যায় খোলা জানালায় '।সেই নিঃসঙ্গ মুহূর্ত এসে টেনে নিয়ে যায় মায়ানগরীতে ।সেখানকার 'বৃক্ষ যেন বৃক্ষ নয় ,'ফুল ,সে তো ফুল নয় '।কোথাও তার সুবাস নেই ,নেই ছায়া ; কেবলই পড়ে আছে 'মায়া' ।তখনি নিঃসঙ্গ কবি বলেন ,
'দুঃখ সুখের দোলায় দোলানো 
নেই কোনো ভাগিদারি 
বাজে না শাঁখ ,উলুধ্বনি 
ধুনুচির নাচে নেই কারো দেখা 
একা ,একা ,ভয়ানক একা ।'
( মায়ানগরী )
এরই অনুষঙ্গে 'অনিশ্চিত ' কবিতায় কবি লিখেছেন ,
' সূর্যাস্তে জন্ম নেওয়া ভাবনাগুলো 
লীন হয় গভীর রাতের দীর্ঘশ্বাসে 
ঘরময় পড়ে থাকে 
অর্থহীন কলহের স্তূপ 
কে যেন গর্জে ওঠে 
'চুপ ' একদম চুপ ।'
বাক্যহীন সময়ে দীর্ঘরাতের প্রতীক্ষার শেষে 'ভোরের প্রসারিত হাত ' পেতে চেয়েছেন কবি ।আর তাই তিনি একাকীত্বকে দূরে সরিয়ে সমভাবনার সত্তাকে আহ্বান জানিয়েছেন 'গল্প ' করতে চেয়ে ।
' এসো গল্প করি 
ছুটির দিনে 
লালিত রসনার 
এসো ,গল্পে গল্পে ভেসে যাই মেঘ মুলুকে 
দুঃখ ছাপিয়ে ত্রিকাল ভাসিয়ে 
ঝড়ুক ,ঝড়ুক ,ঝড়ুক গল্পধারা ।'
( এসো গল্প করি )
এ 'গল্প ' রূপকথা নয় ,নয় 'চুপ কথা'ও -- এ গল্প ব্যর্থতার পরিণতি নয় ,নয় সাফল্যের অহমিকা ।বরং 'টুপটাপ বৃষ্টিতে সবুজের নৃত্য উল্লাস ', এ গল্প 'সৃষ্টি মগ্নতার '।গল্প পিয়াসী কবি আবার নস্টালজিয়ার পথে খুঁজে ফেরেন সেই মানুষটিকে ,যাকে তিনি চোখে দেখেন নি ।সেই মানুষটিও একা ।তার সম্পর্কে কবি অকপটে লিখেছেন ,
' যে মানুষ 
বিপদে আপদে উত্সবে আনন্দে 
আমাকে শেখায় জীবনের পাঠ 
মখমলে ঢাকে রুক্ষ চলার পথ 
অন্তরে আজন্ম বিদ্যমান 
সেই একাকী মানুষ ,
যার জন্য আমার কোনো আবেগ নেই 
স্মৃতি রোমন্থনে সে-ই এগিয়ে দেয় 
পুরনো অ্যালবাম ।'
( সেই মানুষটি )
এই মানুষকে উদ্দেশ্য করেই 'তোমাকে কী করে ভুলি '
কবিতায় বলেছেন ,
' যদি বলি ,আমায় রৌদ্র এনে দাও 
অগ্নিবাণে বিদ্ধ করে ,দগ্ধ করে রোদ 
যদি বলি ,চাই রুক্ষ মাঠে বর্ষার জল 
বানভাসিতে মানুষ কাঁদে ,নষ্ট ফসল ....

মন ভালো করা এই ক'টা দিন 
তোমাকে কী করে ভুলি ।'
এই ভাবনাতো ব্যক্তি নির্বিশেষের ।আবার জন্মদাত্রীর মতো মাতৃভাষার প্রতি কবি সুতপার যে অনুরাগ 'জড়িয়ে থাকি মা'কে ' কবিতায় ব্যক্ত হয়েছে সেটা যেকোনো বাংলাভাষী সংবেদনশীল মানুষের আত্মকথন ।কবি যখন লেখেন ,
' কার রক্তে ভিজলো বর্ণ 
কার হল জয় 
সূর্যসেনা ভাইবোনেরা সবাই মৃত্যুঞ্জয় 
১৯, ১৯, মে মাস এলেই 
বরাক নদীর জল 
বাংলা মায়ের চোখের মতো 
দুঃখে ছলাৎছল 
তাই সে মায়ের সন্তানেরা 
বুকে আগুন আঁকে 
তোমার মতো আমরাও যে 
জড়িয়ে থাকি মাকে ।'
এই অনুভবের সঙ্গে সমস্ত বাংলা ভাষাভাষী শুধু নয় ,পৃথিবীর যেকোনো ভাষাভাষীর মানুষ একাত্মতা অনুভব করে অনায়াসে ।

কবি সুতপা তাঁর মননশীল কবিসত্তা দিয়ে ,সমাজ সচেতন ভাবনার তুলিতে এঁকে যান কাল থেকে কালান্তরের যাপনকথা ।তাঁর কলমে উঠে আসে টুকরো টুকরো 'কালচিত্র ' ।'কবি ' শীর্ষক কবিতায় তারই খণ্ডরূপ এরকম ,
' অ-সুখ দূরীকরণ 
সত্যানুসন্ধানে 
কাঁকড়ের বদলে চালে 
মিশে যাওয়া বর্জ্য প্লাস্টিক 
বিশুদ্ধ ,নির্মল বিশ্ব নির্মাণ 
অভিমান ,অভিযান ।'
কিম্বা 'কবিতার জন্যে ' কবিতার শেষে তিনি সমভাবাপন্নকে বলেন ,
' ফুল আর ফলবতী বৃক্ষ শিশু 
রোপণ করে গড়তে চাই 
নিশ্চিত নিঃশ্বাস 
তুমিও হবে যার অংশীদার ।'
জীবনের যা কিছু স্বপ্ন ,ইচ্ছে পূরণার্থে কবি পরজন্ম চেয়েছেন ।'পরজন্ম ' কবিতার অন্তিমে সেই ইচ্ছাকে ব্যক্ত করে জানিয়েছেন ,
' ঋতু সন্ধির রোগশোক থেকে 
চোখ ফেরাতে শিশিরে কুসুমে ,
ফিরে আসতে সুরে ও সংগীতে 
হে শারদা ,
হে নাদতনু 
হে মা বসুন্ধরা 
আরো এক পরজন্ম চাই 
আরো এক মৃত্তিকা শরীর ।'
এরই লক্ষ্যে কবি বদলে যাওয়া সময়ের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে 'বদলে যাওয়া মানুষগুলোকে ' শুধু দেখেন নি ,তাদের সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করেছেন ,নিজেকে চিনতে চেয়েছেন ,চেনার 'পন্থা ' খুঁজে পেয়েছেন এবং গড়ে তুলতে চেয়েছেন সম্পর্কের সেতু ।প্রসঙ্গত কবি কাব্যের প্রথম কবিতাতেই লিখেছেন ,
' মিছিলে মেলায় খেলায় 
আমি কোনো স্বতন্ত্র মানুষ নই ....

আমি সাধারণ ,আপনি অসামান্য 
নিজেই নিজের কাছে অস্পষ্ট 
একে অন্যকে চিনে ফেলা 
সোজা কাজ নয় 
দূরত্ব আর রহস্য এভাবেই 
ঘনীভূত হয় ।'
এই 'ঘনীভূত ' রহস্যময় যাপনের কথাই কবি নিজস্ব স্বরলিপির সাহায্যে ব্যক্ত করেছেন ।সেই স্বরলিপির ভাষাও তাঁর ভাবনার মতোই সহজ সাবলীল ।বইটির পরিচায়িকায় কবির সেই জীবনদর্শন সূক্ষ্ম রেখার মধ্য দিয়ে ধরা পড়েছে ,
' ... সব দায়িত্ব কর্তব্য পালনের পরেও প্রতিদিন কবিতায় থাকেন কোনো না কোনো ভাবে এবং মাটি মানুষের মধ্যে থেকে সুখ দুঃখে জড়ানো জীবনকে ছুঁয়েই বাঁচেন তিনি ।'
এখানেই কবি সুতপার নিজস্বতা এবং এই সূত্রেই তাঁর কবিতা হয়ে উঠেছে তাঁর আত্মদহনের স্বরলিপি ।

@ নির্বোধের ডায়রি থেকে ।
০৭-০৯-২০২০

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ