প্রতিদিন বাংলাভাষা ডট স্রোত / শিক্ষক আন্দোলন সংখ্যা /১৫:১২:২০২০

প্রতিদিন বাংলাভাষা.স্রোত
শিক্ষক আন্দোলন সংখ্যা 
১৫:১২:২০২০

কথাবিশ্ব 

যে কোনো আন্দোলন দরকার দাবী আদায়ের জন্য। কারো প্রয়োজন না হলে নিশ্চিত আন্দোলন করার মতো পরিস্থিতি হয় না।
নেহাৎ আর কোন পথ যখন খোলা থাকে না তখনই আন্দোলন। আর শিক্ষক যখন আন্দোলন করেন তখন নৈতিক দায়িত্ব সে আন্দোলনে সমর্থন জানানো।কবি সাহিত্যিকও তখন পিছপা হোন না।আন্দোলন যখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে হয় তখন প্রতিটি মানুষই সে আন্দোলনের পাশে আসেন।সমাজে শিক্ষক এই চাকুরী শুধু পেশা নয়।এরা ভবিষ্যৎ মানব সভ্যতাকে আলোকিত করার এক এবং অভিন্ন এক যাত্রা পথে হাঁটেন।আইন আইনের পথে চলুক।সে দায়িত্বে আইন রক্ষক আছেন।আমরা শুধু এই আন্দোলনের পাশে সজাগ আছি।শিক্ষকরা যতক্ষণ তাঁদের দাবী আদায়ে এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।তারপরেও যখনই শিক্ষকরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে থেকে দাবী আদায়ে সক্রিয় হবেন আমরাও থাকবো সাথে।

চাকুরি ফিরিয়ে দেওয়া হোক ১০৩২৩ শিক্ষকের 
অশোকানন্দ রায়বর্ধন

দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছি । চাকরির শেষ বছর শিক্ষা আধিকারিকের দায়িত্বেও ছিলাম । সিইটিই, ডি এল এডসহ বহু ইনসার্ভিস ট্রেনিং প্রোগ্রাম করেছি শিক্ষকদের নিয়ে । রাজ‍্যের গোটা শিক্ষাপ্রবাহ সচল রেখেছিলেন যে শিক্ষকরা তাদের অধিকাংশই আজকের ১০৩২৩ । চাকুরির সুবাদে দক্ষিণের কমপক্ষে হাজার দুয়েক জনকে আমি চিনি । পাঁচশো জনের মতো শিক্ষকের হাঁড়ির হাল জানি আমি পরিবারের সদস‍্যের মতো ।সিলেটি ডিটান আছে, 'ভাঙ খাইলা শিবে, আর নিশা ধরল বলদর' । নিয়োগকর্তার বেনিয়ম বা গাফিলতিতে কোমায় পাঠিয়ে দেওয়া হল ১০৩২৩কে । প্রায় পঞ্চাশ হাজার স্বপ্নভগ্ন মানুষের প্রতিনিধিরা আজ হাজির হয়েছিলেন সিটি সেন্টারের সামনে । শুধু সামনের প‍্যাভেলিয়ন নয় , সিটি সেন্টারের সামনের লন, ওঠার সিঁড়ি সর্বত্রই ছিল একঝাঁক মলিন মুখের জটলা । তাঁদের হারানো চাকরি নিয়ে বহু আইন-আদালত, অনুনয়-বিনয়, রাজনীতি, আশার বাণী অতীত হয়ে গেছে । ব‍্যক্তিগত কাজে আগরতলা ছিলাম আজ ।  দীর্ঘদিনের পেশাগত সম্পর্কের টানে এড়াতে পারিনি সিটি সেন্টারের রাস্তা । পথ যাদের সান্ত্বনা আজ তাদের একপলক দেখার জন‍্যে এগিয়ে গিয়েছিলাম প‍্যাভেলিয়নের সামনে । যাদের কাছ থেকে কাজ আদায়ের জন‍্যে হম্বিতম্বি করেছি একদিন, তাদের চোখ এড়ানোর জন‍্যে মুখাবরণ বেঁধে । বহাল তবিয়তে আছেন অধিকর্তাসহ অন‍্যান‍্যরা । তাঁরা কেউ একবারও বলছেননা স্কুলের দায়িত্ব, মিড-ডে মিল, স্কুলঘর সাফাই, বাউন্ডারি ওয়াল, দালানঘর বানানো সহ সমস্ত অফিসের কাজ করেছিলেন এই ১০৩২৩ নিষ্ঠার সঙ্গে । মুখে কুলুপ তাঁদের । এত অপচিকীর্ষা ওপরতলার লোকগুলোর ।
কবে যে সমাধান হবে এই সমস‍্যার । আবার হাসি ফুটবে এই অসহায় মানুষগুলো মুখে ।

আব্দুল আলিম 
কোন্ সে অপরাধে

দুঃখে,কষ্টে, হতাশায়, অপমানে সর্বোপরি অর্থাভাবে থেমে যাচ্ছে একেকজন শিক্ষকের প্রাণবায়ু। যদিও তাদের এখন শিক্ষক হিসেবে মানতে নারাজ এই সমাজের অধিকাংশ মানুষ। তারা এখন কারো কারোর কাছে "অযোগ্য", "পাপের বোঝা"। যদিও সবকিছু ছাপিয়ে তাদের পেছনে একটা নম্বর পড়ে গেছে, তারা "১০৩২৩"। আজকাল এই নম্বরটিই এখন ব্যান্ড। তবে অনেকেই জানেনা, এই নম্বর যারা বহন করে চলছেন তাদের প্রতিদিনের জীবন কতটা দুঃসহ। কতটা অবর্ণনীয় যন্ত্রনায় তাদের জীবন অতিবাহিত হয়। যারা দীর্ঘ দশবছর অন্যের ছেলেমেয়েদের মানুষ করার কাজে ব্রতী ছিলেন, আজকাল তাদের ছেলেমেয়েরা থাকছে অভুক্ত । একজন অভিভাবক হিসেবে যা অনেকেই সহ্য করতে পারছেন না। ফলতঃ এক এক করে প্রতিদিনই লম্বা হচ্ছে লাশের সারি। একদিন হয়তো সবাই চলে যাবে না ফেরার দেশে। শুধু থেকে যাবে তার মানসিক বা আর্থিক অভাবে জর্জরিত পরিবার। আর থেকে যাবে একটাই করুণ জিজ্ঞাসা "কী অপরাধ ছিলো আমাদের"?

অবস্হান আন্দোলনরত ছাঁটাই  শিক্ষকদের পাশে গভর্নমেন্ট পেনশনার্স এসোসিয়েশন ত্রিপুরা

যৌথ আন্দোলন কমিটির নেতৃত্বে অবস্হান আন্দোলনরত ছাঁটাই শিক্ষকদের (১০৩২৩) প্রতি সংহতি জানিয়েছে গভর্নমেন্ট পেনশনার্স এসোসিয়েশন ত্রিপুরা।
আজ দুপুরে জি পি এ টি'র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ প্যারাডাইস চৌমূহনীর  অবস্হানস্হলে গিয়ে  ছাঁটাই শিক্ষকদের পুনর্বহালের দাবির প্রতি তাঁদের সমর্থন জানান ও সরকারের প্রতি এ সম্পর্কে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান। তাঁরা জি পি এ টি'র পক্ষ থেকে আন্দোলন তহবিলে দশ হাজার টাকা প্রদান করে আন্দোলনের সাফল্য কামনা করেন।


একবার পাশে দাঁড়ান 
অপাংশু দেবনাথ  

এই শীতে ওরা রাত কাটায় মাটিতে শুয়ে,
অনেকেই ঘর ছেড়েছেন বহুদিন হলো।
জন্মদার মুখ দেখেনি কতটা দিন
কতদিন চুমু খায়নি সন্তানের মুখে।
কেউবা কোলের শিশু নিয়ে প্রহর গুণে শিশিরের চাদর গায়ে।

দিন গড়িয়ে পড়ে ভুল ও মিহি প্রতিশ্রুতির অন্তরালে।
উজ্জ্বল চোখগুলো কেমন নিস্প্রভ হয় নির্ঘুম প্রহরে,
এ শহর ঘুমিয়ে গেলে জেগে থাকে ওরা ফুটপাথে।

একদিন এক শ্রেণিকক্ষ থেকে আরেক পাঠগৃহে, 
জীবনের পাঠ দিতে দিতে আজ ক্লান্ত এইসব শিক্ষাশ্রমিকেরা।
অসংখ্য সন্তানের ভার বহন করে অপারগ আজ,
নিজেরই রক্তকান্না মুছে দিতে নয়নে নয়নে।

একবার পাশে দাঁড়ান,
একবার কাছে গিয়ে জানতে চান
এখন কেমন আছে ওরা।
কতটা ঘোলাটে জল বয়ে যাচ্ছে তাদের বুকের ভেতর।
কতদিন জ্বলেনি উদভ্রান্ত-উনুন

একবার সহৃদয় স্পর্শ রেখে জানুন,
কি করে নদীতে প্লাবন বইবে আবার।

যতই দূরে থাকি কিংবা 
কাছাকাছি 
সুব্রত দেব


এ-সংগ্রামে  আমিও তোমার 
পাশেই আছি ।

পাশেই আছি, থাকবো তোমার 
আশেপাশেই
হাত বাড়ালেই পাবে আমায়
অনায়াসেই  ।

শূন্যগর্ভ  প্রতিশ্রুতি 
এ নয় কোনো,
এ- কথাটা মাথায় রেখেই
স্বপ্ন বোনো  ।

স্বপ্ন বোনো শিক্ষাদাতা,
বাঁচলে তুমি
আমরা -তারা বাঁচবে সারা
ত্রিপুর ভূমি ।

শীতের রাতে যে তোমাকে 
বসায় পথে
দুদিন বাদেই চরবে ঘুঘু
তার ভিটেতে ।

কাটবে আঁধার বাধা দেবার
নাটের গুরু
প্রাণ বাঁচাতে দল বেঁধে সব
ছুটতে শুরু 
করবে তাতে বিন্দুমাত্র 
সন্দেহ নেই 
এই ছবি তো হাতে পাবে
একতাতেই ।

৯ ডিসেম্বর ২০২০

বিদ্যালয়
চৈতন্য ফকির


বিদ্যালয় আমাদের মেধা বিকাশের হাসপাতাল।আমার বাবা মা অথবা ইতিহাস সচেতন ঠাকুরদা দেবেন্দ্রনাথ বড় রায়টের সময় দেশ ছেড়ে ছেঁড়া মানচিত্র বগলে করে চাতলার বর্ডার ক্রস করে দুচোখ বরাবর হাঁটতে হাঁটতে চলে আসেন ইন্ডিয়ায়।ঠাকুরদার স্বপ্নে গড়া বিদ্যালয় মিঁয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ তিরিশ বছর শিক্ষকতা করে দেশভাগ আটকাতে পারেননি। 
ঠাকুমার মুক্তিযুদ্ধের স্পিহা তাও ফেলে দিয়ে এলেন ভারতে।লিগেসিডাটা নেই বলে আমি তাদের তৃতীয় পান্ডব মহাভারত থেকে ছিঁটকে পড়া স্কুল ছুট বালকের মতো বর্ণমালা জানি না।
বিদ্যালয় আমায় অক্ষর কেড়ে নিতে চায়। আমি  বাহান্ন হই।একষট্টি হই।একাত্তর হই।সাতচল্লিশ হই।আমি সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে নিহত স্পাইনবৃক্ষ।দেশ পাহারাদার সৈনিক।আমার শরীর শুধু বুলেট খেয়ে শহীদ হতেই জন্ম।বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা নিলাম দেশসেবার।দেশ কোথায় শুধুই নষ্ট ভূগোলের সীমানায় রক্ত ছাড়া?
বংশবৃক্ষের শাখাপ্রশাখা জুড়ে আমিও 
নদীর দিকে দূরন্ত গতিতে ছুটছি।

০৬:০৫:২০১৯
সকাল:১০:৩০মি
রাজেন্দ্রনগর।

ব্যকরন
পদ্মশ্রী মজুমদার 


ওরাও গুরু
কখনও স্নেহ করেছেন
কখনও শাসন
কখনও শিখিয়েছেন ব্যকরণ
নিপাতনে সিদ্ধ কাকে বলে।
ওরাই আজ খোলা আকাশের নীচে খুঁজে চলেছেন জীবনের ব্যকরণ।

ব্যর্থতা
চিরশ্রী দেবনাথ 

আমি খুব সাধারণ একজন মানুয
ভয়ে ভয়ে থাকি, আমাকে কেন বলো লিখতে 
যত সব গণতান্ত্রিক কথা
এসব লিখতে আমি আসিনি, মেরুদণ্ড জন্ম থেকে ঝোঁকা
 আসলে কবি নই, দুর্বল মেয়ে, রাজনীতি বুঝি, 
যা কিছু আঁধার লিখেছি, তাতে ফুটে ওঠে কিছু কিছু দেশ 
বড় একা সে, মনখারাপের এইসব দিনে
তাকে ঢেকে রেখেছি আমার নরম গোলাপি চাদরে
এটুকুই পারি আমি
মিছিলে যাইনি কোনদিন, বন্যাত্রাণেও না
 লেখার পাত্র থেকে উড়ে যাচ্ছে শুধু ব্যথার আকুতি।

১০৩২৩
বিপ্লব উরাং 

১০৩২৩ কি লাগে হামি নাই জানি-
হামি জানি হামার বেটা মাষ্টর ছিল। 
চাকরি চলে গেল-
ঘরে চুলা জ্বলছে নাই
চখে হামার পানি ঝড়ছে।

পানি ঝড়ে ছিল ঐ দিন
যেই দিন হামার বেটা অফার পাইল।
বেটাকে হামি বুকে আকড়াই ধরে ছিলম
ঐ পানি ছিল খুশির।

আইজ পানি ঝড়ছে হরদম-
নাতি হামার দুধের জনে কানদছে
বাবুয়ার বাপ-দাওয়াই নাই পাইয়ে
মরতে বসেছে।
চখে হামার পানি ঝড়ছে।
এই পানি দুখের।

চখের পানি আইজ আগুন হছে
বেটা হামার লড়াই করছে-
হকের জনে-চাকরির জনে।

আইজ হামি খালি বাবুয়ার মা নাই লাগি
হামি--হাজার মাষ্টরের মা।
গলা ফাটায় চিল্লাব-
সরকার বাহাদুর তুই
চাকরি দিবি কি নাই দিবি বল-
নাহলে  হাজার মা রাস্তায় লামবেক।

হক কেমনে ছিনায় লিতে লাগে-
ফুলমনি জানে।
আর চখের পানি নাই ঝড়বেক।
পানি এখন -আগুন হবেক।

১০৩২৩ শিক্ষক 
গোবিন্দ ধর 


সামনের লোকটি আগুন নিয়ে খেলছে
আপনি সারা জীবন আগুনের ব্যবহার শেখাতে 
শেখাতে এক অগ্নিপিণ্ড। 

সময় এখন আগুনের গোলা।
সকলেই নীরবতা পালন করে করে চুপ।
সব দেখছেন খাচ্ছেন দাচ্ছেন।

আপনি শুধু সময়ের নিকট নিজেকে সপে না দিয়ে
আগুনের ব্যবহার শিখিয়ে যান।

এই সময় আগুনের ব্যবহার ঠিকঠাক না জানা লোক
যে কোন জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে আনন্দে হাততালি দিলে
আপনি সামনে এসে তার ব্যবহার শিখিয়ে দিন।

০৩:০৯:২০২০
দুপুর:০৩:৩৩মি
কুমারঘাট।

শিক্ষক শিক্ষার্থী কবি
হারাধন বৈরাগী 


শিক্ষককে ছোঁয়া হলে
শিক্ষার্থীকে ছোঁয়া হয়
শিক্ষার্থীকে ছোঁয়া হলে 
দেশকে ছোঁয়া হয়।

শিক্ষার্থী শিক্ষকের চোখ
শিক্ষার্থী শিক্ষকের আলো
শিক্ষক শিক্ষার্থীর পরিপূরক
শিক্ষার্থী শিক্ষকের---।

শিক্ষার্থীর আলোয় শিক্ষক আলোকিত
শিক্ষকের আলোয় শিক্ষার্থী--
শিক্ষার্থীর আলোয় দেশ--

শিক্ষকের সম্মানে শিক্ষার্থী গর্বিত
শিক্ষকের সম্মানে শিক্ষার্থী আলোকিত
শিক্ষকের সম্মানে দেশ‌ সম্মানিত।

শিক্ষক ছাড়া শিক্ষার্থী অব্যক্ত
শিক্ষক ছাড়া দেশ অপাংক্তেয়।

দেশের মুখ দেখতে হলে শিক্ষককে দেখতে হবে
দেশের মুখ দেখতে হলে শিক্ষার্থীকে দেখতে হবে
দেশের মুখ দেখতে হলে শিক্ষকের সম্মান চাই।

শিক্ষক জনতার কাছে হাত পাতলে 
শিক্ষার্থীও হাত পাতে জনতার কাছে
দেশ‌ও হাতপাতে দেশের কাছে।

জান্নাত কিংবা জাহান্নাম
বলে কোথাও কিছু নেই
আমরাই আমাদের জান্নাত 
আমরাই আমাদের জাহান্নাম।

ফুটপাতে শিক্ষক শুয়ে থাকলে
দেশ‌ও শুয়ে থাকে ফুটপাতে
ফুটপাতে শুয়ে থাকলে 
দেশ আর দেশ থাকে না
জাহান্নাম হয়ে যায়।

সামনের লোকটি 
আগুন জ্বালিয়ে যায়
পেছনের লোকটি চেঁচাতে থাকে
বোবা হয়ে থাকে কবি।

পেছনের লোকটি সামনে চলে যায়
ঘন্টা বাজাতে থাকে--
ফুটপাত হয়ে ওঠে মুখ।

সামনের লোকটি পেছনে পড়ে
চেঁচিয়ে ওঠে
কবিতা কবিকে নাড়াতে থাকে--

ফোটতে থাকে ফুটপাত
ফোটতে থাকে পাঠশালা
ফোটতে থাকে বর্ণমালা---

পুড়তে থাকে মুখদেশ!

১০৩২৩
বাপী ভট্টাচার্য

চাকরি গেল জীবন যায়
পেটের খাদ‍্য কে যোগায়।


ওরা ফুটপাতে আজ
যোগমায়া গোস্বামী

দিবা নিশি ফুটপাতে খোলা আকাশতলে
ভগ্ন হৃদয়ে আছো কারপানেতে চেয়ে?
কারো কিছু কি আর এলো গেলো তাতে?
বিন্দুমাত্র আচঁড় কাটে না কারো বুকে।

ক্ষুধার্ত স্বজন আছে পথ চেয়ে ,
অভুক্ত শিশু দুগ্ধ পান তরে করিছে ক্রন্দন,
নিষ্টুর সমাজ বড়ো নির্লজ্জ হয়েছে আজ
অথচ তোমরা লড়েই চলেছো প্রাণেপণ।

সমাজগড়ার কারিগর তোমরা ভুলে গেছে ওরা
তাইতো তিরস্কারে  দিচ্ছে তার প্রতিদান। 
বজ্রের মতো উঠো গর্জে এবার  ,
পায় যদি এ আওয়াজ বিধাতার কান।

লড়াই 
আব্দুল হালিম 


কনকনে শীত, একবুক ব্যথা, 
ঘুমহীন আঁখিদ্বয়।
বাঁচার দাবিতে দশহাজার প্রাণ 
ফুটপাতে পড়ে রয়!

মানবতা
আব্দুল আলিম 

দীর্ঘ দশবছর ত্রিপুরা রাজ্যের হাজার হাজার ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত তৈরী করার মহান শিক্ষকতার পেশায় যুক্ত ছিলাম। আর আজ নিজেদের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় শীতের তীব্রতাকে শরীরে জড়িয়ে শুয়ে আছি পথে! 

সময় এখন
আব্দুল আলিম 

লড়াই ছাড়া মিলবে কিছু
যারাই ভাবে অন্ধ তারা।
সামনে এসেই ভাঙতে হবে
বাঁধার প্রাচীর,লৌহকারা।

সবাই মিলে ঘরের বাইরে
আসতে হবে পেটের টানে।
যাক ভেসে আজ অশুভরা
উল্কা গতির হড়কা বানে।

এগিয়ে গেলে মিলবে কিছু
সাহস কার,যে করবে মানা!
সময় এখন মুখের ভাষায়
ঝড়-তুফানের ছন্দ টানা।
--------------------------------
০২-১১-২০২০

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ